টপিকঃ যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-১
যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-২
যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৩
যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৪

আগের পর্বের কিছু অংশ..
হঠাত মাথায় একটা ভোঁতা যন্ত্রণা হতে থাকে নুয়ানের। এমপ্যাথিক চ্যানেলে কিছু তথ্য পাঠাতে থাকে সিমিত। তাল তাল ধোঁয়াশা কেটে গিয়ে কিছু চলমান ছবি, তথ্য দ্রুতবেগে চলে যেতে থাকে...সবটা ঠিক বোধগম্য হয় না। তবে, ফেরিন ফ্যারিহাডকে ঠিকই চিনতে পারে। এই লোকটা একই সাথে বিখ্যাত এবং কুখ্যাত!
   বিস্ময়ে, প্রচণ্ড আঘাতে অনেকক্ষণ কিছুই বলতে পারলো না নুয়ান। শেষে অস্পষ্ট বিড়বিড় করে,
   ফ্যারিহাডকে কোথায় পাওয়া যাবে? 

১০১২ যেলড
রেন সমুদ্র, যেলড্রন

==========================================================================
   রেন নামেই সমুদ্র; আসলে এটা একটা মহাসমুদ্র এবং পুরোটা একটাই। বিশাল গ্রহ যেলড্রনের মোট আয়তনের নব্বই ভাগই রেন সমুদ্র। প্রায় ৫.২ কিউযলাম(২১) –এর এই বিশাল সমুদ্রে ভাসমান বাকী ১০ শতাংশে বসতিস্থাপনকারী যেলড্রিয়ানদের আবাস। তবে, আজব ব্যাপার হলোঃ রহস্যময় তরল এই রেনই যেলড্রনের আদিবাসী! এ নিয়ে অবশ্য প্রাণ-বিশেষজ্ঞদের মাঝে প্রচুর বিতর্ক আছে – অনেকেই রেনদের একটা স্বতন্ত্র প্রাণ বলতে নারাজ। তবে, অধিকাংশের ধারণাঃ রেনরা মধ্য বুদ্ধিমত্তার। যদিও অনেক স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড এদের মাঝে দেখা যায় না, তবুও এদের অস্তিত্ব ঠিকই বোঝা যায়! রেনুইট(২২) একেকটা ক্ষুদ্রতম রেন প্যাকেট; এককভাবে এদের সাড়া পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এরা এক ধরণের চেতনার বহিঃপ্রকাশ করে; যেমন, স্রোতের দিক-রাশি –এর পরিবর্তন থেকে পথ নির্দেশের ইশারা পাওয়া যায়, কিংবা ঘুর্ণন থেকে ক্রোধ ইত্যাদি বুঝতে পারা যায় ইত্যাদি। তবে, রেনদের খুব কমই রাগতে দেখা যায়! বরং রেন –এ ডুব দিলে নিরবিচ্ছিন্ন দমকি হাসি শোনার মত এক প্রকারের অশরীরী অনুভূতির উল্লেখ পাওয়া যায় একীভূত যেলড্রিয়ান বিশ্ব-কোষে! রেনরা স্বাভাবিক বিচারে পরম বন্ধুত্বপূর্ণ।
   রেনরা শত্রু-মিত্র তেমন একটা বোঝে না; সবাইকে প্রায় নির্বিবাদে আশ্রয় এবং প্রবেশাধিকার দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও সাইকো-ফিজিসিস্ট ফেরিন ফ্যারিহাডের উপর সামান্য হলেও এদের পক্ষপাতিত্ব আছে। কেন? কারণ ফ্যারিহাডই এদের চেতনার বিষয়টাকে প্রথম স্বীকৃতি দেন এবং যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যান। সম্ভবত তাঁর থেকে ভালো আর কেউ রেনদের বোঝে না। এই অনন্য বন্ধুত্বই একবার ফেরিন ফ্যারিহাডকে ভয়ংকর বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দেয়। প্রায় ১৫০ যেলড আগে ফেরার হওয়ার জন্য রেন –এর থেকে চমতকার উপায় বের করা ফ্যারিহাডের পক্ষে আদতেই সম্ভব ছিলো না!
   ফ্যারিহাডকে রেনদের থেকে আলাদা করা সাধারণ যেলড্রিয়ান প্রযুক্তিতে সম্ভব না। উচ্চ-যেলডিরা অবিরত নানান কসরত করে যাচ্ছে, কিন্তু ফলাফল – শূন্য! কারণ ফ্যারিহাডও অধিকাংশ সময় একটা সাধারণ রেনুইট –এর মতই আচরণ করেন, যদিও কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। নিজেকে বাঁচাবার জন্যই এমনটি করতে হয়েছে। প্রায় ৫.২ কিউযলামের বিশাল আধারে একটা ক্ষুদ্র(বিশেষায়িত) রেনুইটকে খোঁজার মত যন্ত্রণা আর কিছুতে হওয়ার কথা না!
   রেনুইট-ফ্যারিহাড একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রায় অধিকাংশ সময় নিম্ন-যেলড্রিয়ানের আশে-পাশেই কাটান(গোপনীয়)। এখনও তাই করছিলেন। হঠাত একটা রেন-পোর্টার(২৩) –এ তাঁর মনোযোগ নিবদ্ধ হয়ে যায়। রেন-পোর্টারের যাত্রীদের তিনি ভালোই চেনেন......

নুয়ানের মিনিম স্পেস, নিম্ন-যেলড্রন

   এক প্রকার জোর করেই সিমিতকে রাজী করিয়েছে নুয়ান। এমপ্যাথিক চ্যানেলে যে তথ্য দিয়েছে সিমিত, সেটা ঠিক হজম করতে পারে নি নুয়ান! এই ঝামেলার একটাই উপায় – ফেরিন ফ্যারিহাডকে খুঁজে বের করা। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব? সবাই জানে ফ্যারিহাড উচ্চ-যেলডিদের টপ-সিক্রেট কিছু প্রযুক্তি চুরি(!) করে রেন –এর কোথাও আত্ম-গোপন করে আছেন! যদিও এটা ঠিক বিশ্বাস হয় না নুয়ানের। কিন্তু জনশ্রুতি ঐরকমই! 
   যেহেতু সিমিত দাবী করছে সে একটা গোপন এসাইনমেন্ট –এ আছে, সে নিশ্চয়ই ফ্যারিহাডের অবস্থান জেনে থাকবে। কিন্তু সিমিত এ বিষয়ে চূড়ান্ত অপারগতা জানায়...সম্ভবত সেও ঠিক জানে না রেন –এ কীভাবে, কোথায় ফ্যারিহাড আছেন। শুধু নাকি কালে-ভদ্রে এমপ্যাথিক চ্যানেলে অতি দুর্বোধ্য (সাধারণের কাছে) কিছু নির্দেশ, অনুরোধ করেন। নুয়ান প্রচণ্ড হতাশ হয়ে পড়ে। সিমিতের কাছে নুয়ানের এই হতাশ হয়ে পড়াটা একেবারেই নতুন কিছু। কখনোই এ অবস্থায় আগে দেখেনি! মায়ার মত একটা অপাংক্তেয়(!) অনুভূতিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। শেষে চেষ্টা করতে রাজী হয়ে যায়, কিন্তু সাফল্যের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না! নুয়ান এতেই খুশী হয় – কিছু না কিছু দিয়ে শুরু করাটাই বড় কথা। কিন্তু সমস্যা হলোঃ একটা বিশেষ ধরণের রেন-পোর্টার সংগ্রহ করা। ফ্লোট-পোর্টার রেন -এ কাজ করবে না!
   প্রয়োজনীয় রেন-পোর্টারটা রেন-সমুদ্রের অনেক গভীরে অনায়াসে যেতে পারে – এমন হতে হবে। শুধুমাত্র গবেষণার জন্য এ ধরণের রেন-পোর্টার বানানো হয়, যা অনেক ব্যয়বহুল। তাই খরচ বাঁচাতে ওরা নিজেরাই ক্ষুদ্রাকৃতির একটা সংস্করণ বানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এখন যন্ত্রাংশ যোগাড় করার পালা।   

বায়ানের মেকানো স্পেস, নিম্ন-যেলড্রিয়ান

   বায়ান ব্লিৎসের মেকানো স্পেস –এ ওরা যখন পৌঁছালো, তখন সেখানে অন্তত চারটা রিনহির সাথে বায়ান আবিষ্কৃত হলো! একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা!  বায়ানকে নুয়ানের ভালো বন্ধু বলা যায় এবং যাবতীয় দুষ্প্রাপ্য প্রযুক্তির যোগানদাতা। বায়ানের সব ভালো, কিন্তু ঐ একটাই দোষ – চরিত্রটা বড়ই তরল! অবশ্য ইদানীং নিম্ন-যেলডিদের সবাই কম-বেশি এই সমস্যায় আক্রান্ত! উচ্চ-যেলড্রিয়ান বিনোদিনী রিনহিরা প্রতিদিনই ব্যাপক হারে নিম্ন-যেলড্রিয়ান সমাজের শিরায় শিরায় ভোগ-বিলাসের মায়াজাল বিস্তার করে চলেছে। রিনহিরা অসামান্য সুন্দরী, উদ্ভিন্ন যৌবনা; এদের পাল্লায় পড়লে সহজে নিস্তার নাই! উচ্চ-যেলড্রিয়ানরা শুধু তাদের এই একটা সেবা নিম্ন-যেলড্রিয়ানে অবাধে প্রবেশ করতে দিয়েছে। এতে স্পষ্ট কূটচাল থাকলেও সেটা সাধারণ নিম্ন-যেলডিরা বুঝলে তো! এই উদ্দাম ভোগের বাসনা তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে দিন দিন ভোঁতা করে ফেলছে... বিশ্লেষণী চিন্তার বদলে কেবল সহজলভ্য স্থূল আনন্দ জায়গা পাকাপোক্ত করে নিচ্ছে... স্পষ্ট অশনি সংকেত!!
   এই ফূর্তির সময় নুয়ানদের দেখে বায়ান একটু বিরক্ত হলেও মুখে কিছু বলে না। নুয়ান যে ক্ষ্যাপাটে সেটা তার বিচিত্র সব জিনিসের আবদারের বহর দেখলেই বোঝা যায়। প্রতিবারই কিছু না কিছু অসম্ভব বায়না নিয়ে হাজির হয়। কিন্তু মূল্যটা সে নগদেই পরিশোধ করে এবং কোনো দরদাম করে না। এরকম গ্রাহক হাতছাড়া কেউই করতে চাইবে না। বায়ানের মত খাঁটি ব্যবসায়ী তো নয়-ই!
   আরে, নুয়ান নাকি! অনেকদিন পর। সে যাক, সমস্যা কী? এবার কী চাই? দ্রুত কাজের কথায় চলে আসে। ব্যবসায় সে ঐরকমই – ফালতু কথা বেশি বলতে চায় না!
   বায়ান, হ্যাঁ, অনেকদিন পর। (ইঙ্গিতে...) ভালোই আছো দেখছি! আমার একটা রেন-পোর্টার দরকার জরুরী ভিত্তিতে। সাধারণ প্রমোদ ধরণের কিছু নয়; রেনের গভীরে যাওয়ার মত ক্ষমতা সম্পন্ন। গবেষণার কাজে...বোঝোই তো!
   ওসব জেনে আমার কাজ নাই, নুয়ান! যা খুশী তা-ই করো। কিন্তু এ তো অনেক ব্যয়বহুল হবে,  এবং সহজে পাওয়াও যায় না। বিস্মিত হয় বায়ান!
   তাহলে আর তোমার কাছে আসা কেন? না পারলে বলো – না! নুয়ান অধৈর্য হয়ে যায়।
   আরে চটছো কেন, না বললাম কখন? কোন নকশা এনেছো? ছোটখাট একটা করে দেয়া যেতে পারে, অনেক দাম পড়বে কিন্তু!
   দাম নিয়ে ভাবার দরকার নাই। মূল্য- সাশ্রয়ী করার জন্য আমরা নিজেরাই একটা খসড়া নকশা করেছি। এই যে সিমিত তোমাকে দেখিয়ে দেবে।
   সিমিত আর কী দেখাবে, স্বয়ং সিমিতকেই বায়ান খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকলো। এ যে অনায়াসে পাঁচ-দশটা রিনহির সৌন্দর্যের সমতুল্য! নিখুঁত গড়া প্রতিটা বাঁকে-ভাঁজে বায়ানের অভিজ্ঞ শিকারী চোখ দ্রুত জরিপ চালায়। কিন্তু চিন্তাটা ঠিক অশ্লীলতায় গড়াতে গিয়েও গড়ায় না – সিমিত যে নুয়ানের সঙ্গী হয়ে এসেছে! মনে হচ্ছে নুয়ানের ঘনিষ্ঠ। সিমিত সম্ভবত এমপ্যাথি প্রয়োগ করে বায়ানের মনোভাবটা বুঝতে পেরে একটা অদ্ভুত কৌতুকে হাসতে থাকে। বায়ানও যেন আঁঠার মত লেগে থাকে।
   ব্যাপারটা ভালোলাগেনা নুয়ানের! এক ধরণের জ্বলুনি হতে থাকে। কেন, সিমিতের জন্য কেন এরকম লাগছে? হিসাব মতে তো মেকি সব কিছুকে নুয়ানের ঘৃণা করার কথা! তা না হয়ে সিমিতের জন্য নারীলোভি বায়ানের উপর ঈর্ষা জন্মাচ্ছে? কী আজব সব কাণ্ড ঘটছে!
   সিমিত সংক্ষেপে দক্ষতার সাথে নকশাটা বুঝিয়ে দেয়। সব দেখে শুনে নানাবিধ বিশ্লেষণের পর বায়ান রায় দিলো –
   তোমাদের নকশাটা ঠিকই আছে তবে আরেকটু ছোট করতে হবে। মিনিম স্পেস নিয়ম মেনে খামোখা বাড়তি জায়গা রাখার কোনো মানে নাই। তাছাড়া এটা খরচও কমাবে ইত্যাদি ইত্যাদি...
   কত পড়বে, পরিষ্কার করে বলো? নুয়ান তাড়া দেয়।
   হুম, কমপক্ষে, ৩২ য্রাটান( ২৪)। নির্বিকার ভঙ্গীতে বলে বায়ান। 
   চমকে গেলেও নুয়ানকে রাজী হতে হয়। যে সংকটে পড়েছে, সেটার কাছে এই বিনিময়মূল্য আসলে কিছু না। তবে সিমিতের দিকে খানিকটা বিষ-দৃষ্টি নিক্ষেপ করে যেটার মানে করলে দাঁড়ায় – তোমার জন্যই আমার ৩২ য্রাটান খরচ হয়ে যাচ্ছে!
   এভাবে তাকিয়ো না, নুয়ান! তুমি –ই এটা চেয়েছো! সিমিত ঝেঁঝে ওঠে।

   টানা পাঁচ ঘন্টা কাজের পর যে রেন-পোর্টারটা সিমিতদের হাতে এলো, সেটা দেখে চোখ কপালে উঠে গেলো! মিনিম স্পেস তত্ত্বের চূড়ান্ত প্রয়োগ বলা যায়। সিলিন্ডার আকৃতির শুধু দু’জন ধারণের জায়গা নিয়ে প্রস্তুত হয়েছে। পরপর আঁটসাঁট দু’টি আসন – চারপাশে নৃসিয়ামের(২৫) স্বচ্ছ কঠিন দেয়ালে বিভিন্ন কন্ট্রোল...নেভিগেশনাল গীয়ার...রেন চিহ্ন-ভাষা উদ্ঘাটক ইত্যাদি নানান কিছুর সমাহার।
   এটা কী বানালে, বায়ান? এত চাপাচাপি কেন, দুই জন ধরবো তো? 
   ধরবে, ধরবে... মুচকি হাসে বায়ান। কেন, বেশ কাছাকাছি হয়েই যেতে পারবে...চোখ টিপে দেয় বায়ান। নুয়ান অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।
   তোমার মাথা! রিনহিদের সাথে থেকে থেকে তুমি অধঃপাতে যাচ্ছো!
   পছন্দ না হলেও কিচ্ছু করার নেই, নুয়ান! ৩২ য্রাটান রিনহিদের ইতোমধ্যে দিয়ে ফেলেছি – ফেরত দিতে পারবো না। তাছাড়া এটা নৃসিয়ামের তৈরী যেটা স্বল্প পাল্লায় স্থিতিস্থাপক (ইলাস্টিক)। কিছুটা ব্যাস অনায়াসে বাড়িয়ে নিতে পারবে। এখন বিদায় হও তো। অনেক জ্বালিয়েছো...
   নুয়ান যা বোঝার বুঝে নেয়। একে চাপ দিয়ে লাভ নাই। অবশ্য বায়ানের উপর ভরসা করা যায়।  নতুন রেন-পোর্টারটা নিয়ে ওরা দু’জন বেড়িয়ে পড়ে। যাওয়ার আগে অকস্মাৎ সিমিতকে আলিঙ্গন করে কানে কানে বলে, ‘ আমি মেকা -১১৪৪৮৮, পাগলটার যত্ন নিও। দেখা হলে ফেরিনকে আমার সম্মান জানিও’
   একে তো আলিঙ্গন, তার উপর আবার কানে কানে হেসে কথা বলা...নুয়ানের অসহ্য হয়ে যায়। এক ঝটকায় অভদ্রের মত সিমিতকে ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁটতে থাকে। যেতে যেতে সিমিত বিস্ময়ে বায়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে। একটা অতি সূক্ষ্ম পরিকল্পনার ছাঁচ ধীরে ধীরে কি স্পষ্ট হয়ে ওঠে!
   ভ্রমণ আনন্দদায়ক হোক নুয়ান এবং......সিমিত! বায়ান ব্লিৎস উচ্চস্বরে হেঁকে উঠে।
 
=========================================================================
শব্দ-কোষঃ
২১. কিউযলামঃ কাল্পনিক, রেন সমুদ্রের আয়তনের একক। ১ কিউযলাম = ১.০e১০ কোটি কিউবিক একক।
২২. রেনুইটঃ কাল্পনিক, রেনদের ক্ষুদ্রতম একক গাঠনিক সত্তা। সাধারণভাবে প্রায় নিষ্ক্রিয় ভাব দেখায়!
২৩. রেন-পোর্টারঃ কাল্পনিক, রেন সাগরে গভীরে যাবার জন্য বিশেষভাবে তৈরী গবেষণা বাহন। উচ্চ-যেলডিদের করায়ত্ত।
২৪. য্রাটানঃ কাল্পনিক, যেলড্রিয়ান বিনিময় মাধ্যম। এক য্রাটান ১০ যেলড্রিয়ান দিনের সমতুল্য গড় জীবনযাত্রার মূল্য।
২৫. নৃসিয়ামঃ ১০০৬ –তম মৌল। অসাধারণ কাঠিন্যের জন্য বিখ্যাত। রেন-তরলের ভীষণ চাপও সহ্য করতে সক্ষম। স্বল্প পাল্লায় শর্তসাপেক্ষে স্থিতিস্থাপক হিসেবে কাজ করানো যায়।

চলবে....

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (১৬-১০-২০১২ ১৮:৪৫)

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

পরে পড়বো। এক তৃতায়াংশ পড়লাম। বাসায় গিয়ে বাকিটা শেষ করবো নে।
পড়লুম। সিমিত= ৪*রিনিহা সৌন্দর্য্য। হে হে হে। একেবারে লাইনে আছেন মশাই lol স্থিতিস্থাপকতা জাতীয় বাংলা ফিজিক্সটার্মের ইংরেজী শব্দগুলোই আমার কাছে অপেক্ষাকৃত সহজ লাগে। অনেকটা বিভবের মত। দাতমুখ খুলে পড়ে বিভব লিখতে, বলতে এবং বুঝতে। ভোল্টেজ বললেই ল্যাঠা চুকে যায় cool
* সন্মাননার কারণে লেখা মানষিক বানানটা মানসিক হবে। ধ্যেত!!

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন linx_freak (১৫-১০-২০১২ ২১:৩২)

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

আমি পড়ে ফেললাম  big_smile।যত ব্যস্ততা থাকুক আপনার নতুন পর্বে সাথে সাথে ঢুঁ মারা চাই। ভাল লাগলো  thumbs_up

জ্ঞান হোক উম্মুক্ত

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

সিমিত= ৪*রিনিহা সৌন্দর্য্য। হে হে হে। একেবারে লাইনে আছেন মশাই lol স্থিতিস্থাপকতা জাতীয় বাংলা ফিজিক্সটার্মের ইংরেজী শব্দগুলোই আমার কাছে অপেক্ষাকৃত সহজ লাগে। অনেকটা বিভবের মত। দাতমুখ খুলে পড়ে বিভব লিখতে, বলতে এবং বুঝতে। ভোল্টেজ বললেই ল্যাঠা চুকে যায় cool

হুম..ঐ ইয়ে..সুন্দর কিছুতে আমি বড় বেশি দুর্বল... blushing  হ্যাঁ, ভাই ইংরাজী শব্দটাই বেশি সহজ; এখন থেকে ইংরাজী টার্ম বেশি দেয়ার চেষ্টা করবো।

linx_freak লিখেছেন:

আমি পড়ে ফেললাম  big_smile।যত ব্যস্ততা থাকুক আপনার নতুন পর্বে সাথে সাথে ঢুঁ মারা চাই। ভাল লাগলো  thumbs_up

ধন্যবাদ ভাই। এরকম একজন ভক্ত থাকা যেকোনো লেখকের স্বপ্ন!!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

নিখুঁত গড়া প্রতিটা বাঁকে-ভাঁজে বায়ানের অভিজ্ঞ শিকারী চোখ দ্রুত জরিপ চালায়। কিন্তু চিন্তাটা ঠিক অশ্লীলতায় গড়াতে গিয়েও গড়ায় না

অবশেষে ফোরামিয় বাধা ডিঙ্গাতে চলেছেন।লেখা দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলুক। আপনার লেখা কাহিনী পড়লে টার্ন বেসড স্ট্র্যাটেজি গেম খেলার অনুভূতি পাই।পদে পদে উত্তেজনা।আমিও তা-ছে-কা'র সাথে একমত কিছু ফিজিক্সের টার্মের বাংলা না করাই ভালো।আপনার লেখার শেষে থাকা নির্ঘন্ট পড়ে পড়ে ভোকাবুলারি বেড়ে গেছে অনকখানি। thumbs_up

hit like thunder and disappear like smoke

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফায়ারফক্স (১৭-১০-২০১২ ১০:৫৪)

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

দেখাযাক একদিন ভুল ত্রুটি গুলো নিয়ে একটা সমালোচনা লিখব খন।
কিন্তু আইডি ব্যানের ভয় থেকে মুক্তি দেওয়া সাপেক্ষে lol lol lol

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

আচ্ছা উদাসীন ভাই সত্যি করে কন তো এইটা লেখতে কয় দিন লাগে ?

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

ফায়ারফক্স লিখেছেন:

দেখাযাক একদিন ভুল ত্রুটি গুলো নিয়ে একটা সমালোচনা লিখব খন।
কিন্তু আইডি ব্যানের ভয় থেকে মুক্তি দেওয়া সাপেক্ষে lol lol lol


ভাই, সমালোচনা করা ততটাই সহজ, যতটা কঠিন এ ধরনের একটা সাইফাই লেখা। কাজেই আলোচনা করেন। কোনটা ভালো লেগেছে, কোনটা খারাপ লেগেছে সেটা বলেন। কিন্তু সমালোচনা করবেন না দয়া করে। আমাদের দেশে সমালোচকদের সংখ্যা ইদানিং আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, গল্প-উপন্যাস এমন একটা বিভাগ যেখানে কোন গল্পের জন্যে সমালোচনার দরকার নেই। গঠনমূলক আলোচনা হতে পারে অবশ্য।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

@m0N লিখেছেন:

আপনার লেখা কাহিনী পড়লে টার্ন বেসড স্ট্র্যাটেজি গেম খেলার অনুভূতি পাই।পদে পদে উত্তেজনা।

ধন্যবাদ আমন ভাই! আরো আসছে... smile

ফায়ারফক্স লিখেছেন:

দেখাযাক একদিন ভুল ত্রুটি গুলো নিয়ে একটা সমালোচনা লিখব খন।
কিন্তু আইডি ব্যানের ভয় থেকে মুক্তি দেওয়া সাপেক্ষে lol lol lol

হা হা হা..সমালোচনার জন্য ব্যন করার মত মানুষ আমি নই মনে হয়.. সে যাক, এটা আমার প্রথম সাই-ফাই - ভুল-ত্রুটি থাকা খুবই সম্ভব! যে কোন গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই  smile

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

আচ্ছা উদাসীন ভাই সত্যি করে কন তো এইটা লেখতে কয় দিন লাগে ?

ঠিক বুঝিনি কী বলতে চেয়েছেন। তবে, একেকটা এই দৈর্ঘ্যের পর্ব লিখতে গড়ে দু'দিন তো লাগেই...আমি একটু চুজি কিনা...যা খুশি তা-ই লিখতে পারি না... sad
@কাউয়া ভাই, যথার্থ বলেছেন! একজন সাই-ফাই লেখক হিসেবে আপনি একেকটা পর্বের পেছনে পরিশ্রমটা বুঝতে পেরেছেন। কী যে যন্ত্রণা - লেখার বিষয়গুলো, চরিত্র, কাল্পনিক ঘটনাগুলো একে অপরের সাথে কমপ্যাটিবল হচ্ছে কিনা দেখাটা খুবই জরুরী এ ক্ষেত্রে। সেখানে উটকো সমালোচনার কোনো স্থান নেই আসলে। তবে, গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই উপকারী।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

হম , মজা পেলাম  hehe , পরের পরব কবে পাবো  big_smile

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

কাউয়া ভাই দিলেনতো মুড অফ করে!!!

আমি সমালোচনা বলতে রিভিউ/ কমেন্ট বুঝাইছি।  যান গঠন মুলক সমালোচনা করব  kidding kidding kidding

http://i.imgur.com/KUceG.jpg sad sad

১২

Re: যেলড্রিয়ান প্রহেলিকা পর্ব-৫

উদাসীন লিখেছেন:

@কাউয়া ভাই, যথার্থ বলেছেন! একজন সাই-ফাই লেখক হিসেবে আপনি একেকটা পর্বের পেছনে পরিশ্রমটা বুঝতে পেরেছেন। কী যে যন্ত্রণা - লেখার বিষয়গুলো, চরিত্র, কাল্পনিক ঘটনাগুলো একে অপরের সাথে কমপ্যাটিবল হচ্ছে কিনা দেখাটা খুবই জরুরী এ ক্ষেত্রে। সেখানে উটকো সমালোচনার কোনো স্থান নেই আসলে। তবে, গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই উপকারী।

সহমত। জীবনে এতো সাইফাই পড়েছি কিন্তু লেখার সময় তার ৫% ও আনতে পারিনি  crying। আমার যাচ্ছেতাই লেখাটি লিখতে টানা ৬+ ঘণ্টা সময় লেগেছিল  ghusi

জ্ঞান হোক উম্মুক্ত