২১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (০৯-১০-২০১২ ১৪:০১)

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

শামীম লিখেছেন:

হোমিওতে রোগ সারাতে প্লাসিবো ইফেক্ট কাজ করে - এটা একটা ভুল হাইপোথিসিস। 

শামীম লিখেছেন:

যারা প্লাসিবো বলে নিশ্চিত তাঁরা নিজেরাই চেম্বার খুলে বসেন না কেন; কোনো রোগী আসলে মনোযোগ দিয়ে ৩০ মিনিট না, বরং ১০০ মিনিট কথা শুনুন (বুঝেন বা না-ই বুঝেন তাতে কি!), তারপর লেবুর শরবত কিংবা রুহ আফজা কিংবা অদ্ভুদ কোনো পানীয় বা খাবার ঔষধ বলে খাইয়ে ভিজিট নিয়ে বিদায় করেন।

আমি বোধহয় বুঝাইতে পারিনি। আমার অবস্থানটা পরিষ্কার করি-
হোমিওকাজ করে কি না তোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানি না। তবে কেউ বিশ্বাস করে কোন কিছু গ্রহণ করলে তার কাজে লাগে। যে কোন চিকিৎসায় প্লাসিবো ইফেক্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই অষুধ যদি একজন সাধারণ ডাক্তার দেয় আর  নামকরা ডাক্তার। দেখবেন রুগীর উপর প্রভাবে অনেক পার্থক্য।

আর ব্যক্তিগত ভাবে হোমপ্যাথি ব্যবহার করি কি না?
গত কয়েক বছরে সেভাবে ডাক্তারের কাছে যাওয়াই হয় নি। তবে আগে যেতাম। আমি হোমপ্যাথিতে বিশ্বাস করি।

ঢাবি তে সম্ভবত হোমপ্যাথি সাবজেক্ট আছে।

তবে সব জায়গার মত এখানেও ভন্ড আছে।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

২২

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

আরণ্যক লিখেছেন:

যে কোন চিকিৎসায় প্লাসিবো ইফেক্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই অষুধ যদি একজন সাধারণ ডাক্তার দেয় আর  নামকরা ডাক্তার। দেখবেন রুগীর উপর প্রভাবে অনেক পার্থক্য।

শামীম লিখেছেন:

আমার বাচ্চার সাথে ডাক্তার কথা বলে নাই। সে ঔষধও খাইতে চায় নাই। ঘুমের মধ্যে মুখে মিষ্টি গ্লোবিউলসে দেয়া ঔষধ দেয়া হয়েছিলো। প্রতিবারই অব্যর্থ। তবে ভুল ঔষধ দিলে তো সারার প্রশ্নই উঠে না। প্লাসিবো কেমনে হল?

এ বিষয়ে কি মন্তব্য ? tongue

সারিম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৩

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

সারিম লিখেছেন:

এ বিষয়ে কি মন্তব্য ?

ভাল ডাক্তার তো অবশ্যই ভাল ট্রিটমেন্ট করবে। তাতে রুগীও ভাল হবে। কিন্তু রোগ নিরাময়ে প্লাসিবো ইফেক্ট এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠার তো কথা না। এখানে কিছু আছে। পড়ে দেখতে পারেন।

আর প্লাসিবো ছাড়া কেউ সুস্থও হবে না। তাও বলিনি।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

২৪

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

আরণ্যক লিখেছেন:

তবে কেউ বিশ্বাস করে কোন কিছু গ্রহণ করলে তার কাজে লাগে।

একথাটি একেবারেই সত্য ! এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখা পাবার আপেক্ষায় রইলাম।  smile

২৫

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের শাখা হিসেবে হোমিওপ্যাথির স্বীকৃতি নাই। যদিও আয়ুর্বেদিক কিংবা ইউনানির এগুলোর পর্যন্ত স্বীকৃতি আছে। হোমিওপ্যাথিকওলারা এখন পর্যন্ত তাদের ওষুধের শক্তিমত্তার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দেন, তা সাধারণ রসায়নের সূত্রের বিপরীত।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কীভাবে কাজ করে? বড়দের না হয় প্লাসিবো ইফেক্টে কাজ করে কিন্তু শিশুদের? একবার একজনের কাছে শুনেছিলাম, অনেক সময় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা প্রথাগত ওষুধের বদলে র ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার করেন, যা অ্যালোপ্যাথিক ওষুধে ব্যবহৃত হয়- সত্যাসত্য জানা নেই। তবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃতি না পাওয়া সত্ত্বেও কিংবা রসায়নের বিপরীতে স্রোতে অবস্থান করা সত্ত্বেও শিশুদের ওপর এর প্রভাব কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে বিশদ জানতে আগ্রহী।

...এটুকু মনে পড়ে, একসময় চলতিপত্র নামক একটি রাজনৈতিক ম্যাগাজিনে ফ র আল হাসান বা ফ র মাহমুদ হাসান নামক এক ব্যক্তি হোমিওপ্যাথ চিকিৎসাকে আক্রমণ করে বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। হোমিওপ্যাথ কলেজের অনেক শিক্ষক তখন পাল্টা যুক্তি দিয়েছিলেন, কিন্তু ফ র ... হাসান সাহেবের সামনে কেউ দাড়াতে পারেন নি।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

২৬

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

ফ র আল হাসান  যাই বলুক ভাই হোমিও তে কাজ হয় সেটাই হল আসল কথা।

২৭

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

ফায়ারফক্স লিখেছেন:
ফায়ারফক্স লিখেছেন:

কিন্তু যখন দেখি হোমিওপ‌্যাথি ডায়াবেটিকস, হেপাটাইটিস বি, সি ক্যন্সারের মতন রোগের চিকিৎসা করছে তখন মনে খটকা লাগে আসলেই হোমিওপ‌্যাথি র এই দাবি কতটুকু সত্যি হতে পারে?

@শিপলু ভাই   আমি এটা বলি নাই, আমি নিজেও হোমিওএর উপকার পেয়েছি

আপনার যদি মনে হয় কথাটা আপনাকে বলছি তাহলে দয়া করে যে আসলে লিখেছে তাকে রিডাইরেক্ট করে দিন। big_smile


আমি হোমিও প্যাথির পক্ষেও নই বিপক্ষেও নই। নিজে কখনও হোমিও চিকিৎসা মনোযোগ দিয়ে করিনি। তাই ফলাফল পেয়েছি কি না জানিও না। এই থ্রেডের অবস্থাটা হয়ত এমন হয়ে গেছে এখন যে কথা বললেই সবাই প্রত্যেকটা লাইন খুটিয়ে খুটিয়ে দেখবে আর ভাববে আমি কি হোমিওর পক্ষে না বিপক্ষে। তাই প্রথমেই বলব আমার লেখা পড়ার আগে এরকম চিন্তা বাদ দিন। আমি যা লিখছি তা কিছু ফ্যাক্ট। এগুলো ভেবে আপনি হয়ত সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন না। কিন্তু তার মানে এই নয় আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন যে আমি হোমিওর পক্ষে বা বিপক্ষে। আমি বেশ কিছু ব্যাপার দেখেছি তাই বলছি।


১। আমরা সবাই জানি ইসমিপ্রাজল খেলে গ্যাস কমে যায়। আপনি কি আসলেই জানেন কেন কমে? মানে কিভাবে কিভাবে ইসমিপ্রাজল গ্যাস কমতে সাহাজ্য করে। ইসমিপ্রাজল অতি জটিল যৌগ। আমি এটার ডিসেকশন করতে পারব না। কিন্তু এন্টাসিডও তো একই কাজ করে। এন্টাসিডে আছে OH- আয়ন। যারা কেমিস্ট্রি জানে তারা বুঝবে। এটা খুব সহসাই গ্যাস কমিয়ে দেয়। পাকস্থলিতে যে গ্যাস জমে তা পানিতে দ্রবিভুত হয়ে এসিড তৈরী করে। এসিডে H+ আয়ন OH- এর সাথে মিলে পানি হয়। ফলাফল গ্যাস কমে পানি হয়ে গেল। প্রত্যেকটা ঔষুধই এভাবে কাজ করে। একেকটার প্রসেস একেক রকম। কিন্তু আদতে সবই রাসায়নিক বিক্রিয়া। আপনার শরীরে যখন আয়রের ঘাটতি দেখা দেয় তখন এলোপ্যাথি ডাক্তারেররা আপনাকে বিভিন্য রকমের আয়রন ট্যবলেট বা আয়রন ওয়ালা সিরাপ খেতে দিবে। এর মাঝে প্রায় সময়ই ফেরাস সালফেট পাওয়া যায়। ফেরাস সালফেট খেলে শরীর তা ভেঙে আয়রন নিয়ে নেয়। হোমিও প্যাথিতে আপনারা হয়ত দেখেছেন বিভিন্ন সাদা সাদা বড়ি কিছু শিশিতে ভরা থাকে। কিন্তু আমি দেখেছি, হোমিও প্যাথি ডাক্তার মুখে বলেদিচ্ছে "আপনি Nitric Acid আর AURUM MURIATICUM NATRONATUM খান"। একেবারে পরিচিত না হলে এরকম সাজেশন আপনাকে দিবে না কেউ। হোমিও প্যাথি ডাক্তার এমনিতেই পরিচিত হয়। কিন্তু এই এমনি পরিচয়ে আপনি এরকম ইন্সট্রাকশন পাবেন না। যদি ফ্যামিলিতে কেউ থাকে তাহলে পাবেন। এখন গুগলে যদি ঘাটেন ঐ দুটো উপাদান কি করে শরীরের তাহলে বুঝে যাবেন কেন খেতে বলেছে।  অনেকসময় হোমিও প্যাথি ডাক্তারেরা ঠিক শরীরে যা দরকার তার কেমিক্যাল নাম বলেন। আমি এরকম একাধিক নাম শুনেছি। শুনে মনে হয়েছে, এগুলো শুনে প্রথমেই টেস্টটিউবের কথা মনে হয়। ঔষুধের শিশির কথা মনে পড়ে না। আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে এলোপ্যাথিতে এন্টাসিড খেলে গ্যাস কমে আপনর এটাও বিশ্বাস করা উচিৎ AURUM MURIATICUM NATRONATUM খেলে মেয়েদের ডিম্বাশয়ের কিছু স্পেশ্যাল প্রবলেম কমে যায়। এলোপ্যাথিকে আপনি বলছেন বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত। তার মানে আপনি বিজ্ঞানের প্রসেসকে বিশ্বাস করেন। AURUM MURIATICUM NATRONATUM যে বৈজ্ঞানিক ভাবেই কাজ করছে তা আপনি ঘাটাঘাটি করলেই বুঝতে পারবেন।

২। অনেক ঔষুধ কেনার পর দেখবেন যে তারা লিখে রেখেছে "এই ঔষুধ খেলে হাঁচি কাশি হতে পারে, অনেকেরই এরকম হয়"।  ঔষুধের লিফলেট গুলো পড়া আমার অভ্যাস। তাই জানি। এই ধরণের লেখা মোটামুটি সব ঔষুধেই পাবেন। তারা কি সব কিছু পরীক্ষা করছে। না। তারা পরীক্ষা করছে এই ঔষুধটা কোন স্পেশাল রোগ সারাবে। এটাই উদ্দেশ্য। এরপর জুড়ে দিবে "গবেষনায় দেখা গেছে এটা খেলে শ্বাসকষ্ট  হয় অনেকের"। এই গবেষনাটা কিভাবে করেছে তারা। ১০০০ বা ১০০ জন রোগীকে (এই নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত) তারা এই ঔষুধ খাইয়েছে তারপর নোট করেছে কয়জনের শ্বাসকষ্ট হয়। এরপর রিপোর্ট করছে "গবেষনায় দেখা গেছে এটা খেলে শ্বাসকষ্ট হয় অনেকের"। তার যদি একটা স্ট্যাটিসটিক্স এর জন্য একটা ডিসিশন নিতে পারে যে শ্বাসকষ্ট এই ঔষুধের একটা পার্শপ্রতিক্রিয়া তাহলে এরকম বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে অনেক হোমিও ঔষুধকে যে বলা হচ্ছে "এটা কাজ করে" তা কেন একসেপ্টেড হবে না।

৩। বাংলাদেশর এলোপ্যাথি ডাক্তাররা ৯৯.৯৯% ই ফাঁকিবাজ। এরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফাঁকি দিয়ে এসছে। এরা কখনই জানে না রোগ কি। এদের ফাঁকির স্টাইলটা এরকম। মেডিকেল কলেজে উঠে দিন রাত মুখস্থ করেছে যাতে পাশ মার্কস(সম্ভবত ৬০%) থাকে‌। তারপর মেডিকেল ইউনিতে ভর্তি হয়ে নিজের সুপারভাইজারকে তেল দিয়ে চলেছে। এই ভাবে সে হয়ত বাহিরে গিয়েছে নিজের টাকার জোড়ে (টাকার জোড়ে যাওটা মোটও দোষের কিছু না) এবং একটা দুটা ডিগ্রি নিয়ে এসছে। এরপর কোন চেম্বারে বসে স্যার হয়ে গেছেন। রোগীরা বলে "স্যার কখন আসবে", এসিসটেন্ট বলে "স্যার এখন নামাজ পড়বেন"। খালি স্যার স্যার। পারলে মানুষ মাথা নুইয়ে সেজদা করে। তখন সেই ডাক্তার হয়ে যায় "আপনি ডাক্তার না আমি ডাক্তার?" বা "আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন?" টাইপের কথা বলা প্রভাবশালী মানুষ। এদের চিকিৎসায় ভাবই থাকে। কোন মেধা থাকে না। এরা না শোনে রোগীদের কথা না বলে রোগীদের সাথে কথা। পুরো ডাক্তারী লাইফের জ্ঞান দিয়ে এরা যদি একটা বইও লিখে আমি শিউর তা ১০০০ পাতা পেরোবে না। এই ডাক্তারদের কাছে থাকলে আপনি আসলে এলোপ্যাথিতে কোন উপকারই পাবেন না। এরপর হোমিওপ্যাথির ডাক্তারের কাছে গেলে মধুর কথা শুনলে আপনি উপকার না পান কোন দিন তাকে বার চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে খারাপ কিছুু বলতেই পারবেন না। কিন্তু আপনি যদি উন্নত দেশগুলোতে থাকতেন তখন দেখতেন এলোপ্যাথি আসলেই ওয়ান্ডার। অবশ্য সেখানকার হোমিওপ্যাথিও ওয়ান্ডার। কারণ তারা ফাঁকিবাজি করেনি।

৪। উপরে বললাম কিভাবে বাংলাদেশে এলোপ্যাথি ডাক্তাররা পড়াশুনা করে। খেয়াল করবেন সবাই শুধু টেস্ট দেয়। টেস্ট দেয়া অবশ্যই উচিৎ। ডাক্তার নিশ্চয়ই হাতড়িয়ে চিকিৎসা করবে না। মানে তারা তো আর হাতুড়ে ডাক্তার না। এবার বলি টেস্ট নিয়ে। আমাদের দেশে যারা টেস্ট করে তারাও ফাঁকিবাজ। টেস্টে সবচেয়ে সহজ ফাকি হল, "সব কিছু নরমাল" টাইপের রিপোর্ট দেয়া। তাতে কোন ঝামেলা নেই। আপনি যদি টেস্ট করতে যান কোন ডায়গনস্টিক সেন্টারে তাহলে দেখবেন এরা কি করে। রোগীর সুবিধার জন্য পুরো এক্সরে মেশিন ঘোরানোর সিস্টেম আছে। কিন্তু যে এক্সেরে করবে সে ঘুরাবে রোগীকে। কাইত, চিৎ করে একেবারে নাজেহাল। (উত্তরার ল্যাবএইডে আবার প্রায়ই এক্সরে মেশিন ঘোরায় smile )। ১৫-২০ হাজার টাকা দিয়ে আপনি করবেন সিটি স্ক্যান। আপনাকে ২-৩টা স্ন্যাপশন নিয়ে রিপোর্ট দিয়ে দিবে।  আল্ট্রা সাউন্ড করাবেন, খুব বেশি হলে তিনবার আপনার পেটের উপর দিয়ে হাত ঘুরাবে (এপোলোতে অনেকবার ঘুরাতে দেখেছি যদিও) তারপর রিপোর্ট লেখা শুরু। এরকম করে তারা টেস্ট করে এরপর রিপোর্ট দেয় নরম্যাল। ডাক্তার দেখে সবকিছু ঠিক আছে। সে রোগ ধরতে পারে না। এরপরও রোগী সুস্থ হয় না। তখন তারা যায় আয়ুর্বেদ হোমিয়ওর কাছে।

৫। হোমিওপ্যাথির ডাক্তারগুলো (সবাই না) খুবই ফ্রড টাইপের। ১০০ টাকার ঔষুধ থেকে ১ ফোটা নিয়ে একটা ছোট্ট ঔষুধের শিশি দেবে। দাম নেবে ১০০ টাকা। ইনফিনিট লাভ। এরা কখনই প্রেসক্রিপশন দেবে না। পরিচিত হলে মুখে একটা দুটা নাম বলতে পারে। আর শিশির গায়ে কোন নাম থাকে না কারণ আসল শিশি আপনাকে দেয় নি। সেখান থেকে সামান্য নিয়ে দ্রবন তৈরী করে আপনাকে দিয়েছে। যারা ফ্রড হোমিও ডাক্তার তারা আয়ুর্বেদ, কবিরাজি সবই করে। এরাই বড় বড় ব্যানারে লিখে রাখে "এখানে সকল রোগের চিকিৎসা হয়"।  তাদের কাছে গেলে শুনবেন অনেক দামি দামি ঔষুধের কাহিনি। এবং সব কিছুই আনবিলিভেবলি কার্যকর।

এই বিচ্ছিন্ন ফ্যাক্টগুলো পড়ার পর এখনও যদি কোন ডিসিশন নেবার ইচ্ছা থাকে তাহলে বলি, যেভাবে রোগ সারে তাই করুন না। পদ্ধতির কি নাম তা দিয়ে কি হবে। তবে একটু চালাক হোন, কেউ হঠাৎ বিশাল টাকা চেয়ে বসল (ঔষুধের দাম বা অপারেশন)। তখন "এই ডাক্তার ভুল করছে", "নাহ আমার এই রোগ হয় নি", "এই চিকিৎসা পদ্ধতি ভাল না" ইত্যাদি না ভেবে টাকার সাথে চিকিৎসার জাস্টিফিকেশন করুন। মাথা ঠান্ডা রাখুন। কম্পেয়ার করুন। আপনার সমস্যা মিটে যাবে। আপনিই সব। কোন উপাদান কি করে গুগলে একটু সার্চ করলেই পাওয়া যায়। আর গাছগাছড়ার ঔষুধ বেশ ভাল জিনিষ। কাশের জন্য থানকুনি পাতা, লেবু, মধু, প্রস্রাব/পায়খানা পরিস্কারের জন্য ক্র্যানবেরির জুস, বেলের সরবত ইত্যাদি কিছু জিনিষ মনে রাখা ভাল। এগুলো এসব অনেক ভাল কাজ করে।

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

২৮

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে প্রায়ই যেতাম। আমার বন্ধু পড়ত ওখানে। সেই সুবাদে, আমার হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার বন্ধুর সংখ্যা অনেক। তাদের কাছে সামুর লিংক দিতেই সবাই তীব্র প্রতিবাদ জানাল। বলল, যা লিখেছে সেটা নাকি অজ্ঞতা থেকে লিখেছে। তারা সঠিক জিনিষটা জানাতে চায়। বাট, সামুতে একাউন্ট খুলে কেউ সাথে সাথে কমেন্ট করতে পারছে না। আমার মনে হয়, একটা সিদ্ধান্তে না এসে ওদের কথাও শোনা দরকার।

হুজুর কইছে, "কোরআন শরীফে আছে- তোমরা নামাজ থেকে বিরত থাক।" আমি তাই নামাজ পড়ি না। হুজুর যদি ইচ্ছা করে "অপবিত্র অবস্থায়" শব্দ দুটো বাদ দেয়, তার জন্য তো আমি দায়ী না।

২৯

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

বাংলারমাটি লিখেছেন:

বাট, সামুতে একাউন্ট খুলে কেউ সাথে সাথে কমেন্ট করতে পারছে না। আমার মনে হয়, একটা সিদ্ধান্তে না এসে ওদের কথাও শোনা দরকার।

প্রজন্মেতো করা যায় smile তাদেরকে প্রজন্মে আমন্ত্রণ জানান আমরা তাদের বক্তব্য জানি।  whats_the_matter

৩০

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

ডা: জাকারিয়া খান মানিক লিখেছেন:

একটি গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই। একলোক তার ছেলেকে বিয়ে করাল। মেয়েটি ছিল বেশ খাটো। গ্রামের বউ কাজ কর্ম তো করতেই হবে। একদিন শাশুড়ি বলল “বউমা এক গ্লাস পানি দিতে পারবা?” বউমা  তরি ঘড়ি পানি আনতে  কলসের কাছে গেল। পানি ঢালতে গিয়ে তার নাক ফুল পরে গেল কলসের মধ্যে । ব্যাস নাক ফুল  খুঁজতে শুরু করল বউমা। দেরি দেখে শাশুড়ি ডাকতে  শুরু করল বউমা, “পানি কি দিবা?” বউমা বলে,  “আম্মা পানি তো দেব কিন্তু কলসের মধ্যে আমার নাক ফুল পরে গেছে খুঁজে পাইনা তো।” শাশুড়ি বলে দেখ কলসের তলানি তে পরে আছে । বউমা বলে, আম্মা- পামু ক্যামনে কলসের তো তলানি নাই। শাশুড়ি হাসতে হাসতে  বলল পাইবি ক্যামনে, “তোমার  হাত হইছে আধা হাত, এক হাত কলসের তলানি তুই ক্যামনে পাইবি?” প্রিয় নিশাচর- আপনার লেখার জন্য ধন্যবাদ । হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে আপনি কি লিখবেন?আপনার তো আধা হাত, এক হাতের খবর কি লিখবেন? আপনি কি জানেন, দেশে কয়টি কলেজ আছে যেখানে হোমিও পরানো হয়? মাত্র ৪৪ টি(!) যেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত হোমিওপ্যাথিক বোর্ডের মাধ্যমে ডিপ্লোমা (চার বসর মেয়াদি) ডিগ্রী প্রদান করা হয় । তিনটি  কলেজ আছে যেখানে পেশা গত স্নাতক (৫ বসর শেষে এক বসর ইন্টার্ন) ডিগ্রী প্রদান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রেজিস্ট্রেশন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একটি পুর্নাঙ্গ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ আছে মিরপুর ১৪ নম্বর এ ২৫০ সিটের হাসপাতাল সহ। লাল সালুর গল্প দিয়ে সেস করছি আপনার কথায় মনে পরল সেই  ভণ্ড মজিদের কথা, যে কি না হাসপাতালে গিয়ে নার্স কে ডাক্তার মনে করে তার রোগীর ভাল সেবার জন্য অনেক কাকুতি মিনতি করেছিল।আসলে রতনে রতন চেনে না হলে কি আর আপনি কোন না কোন ভণ্ড ডাক্তার (আপনার কাছে জা হয়ত উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন জার শুধু ম্যাটে রিয়া মেদিকায় ধারনা থাকলেই চলে) এর পাল্লায় পরেছিলেন ।প্লিজ ওয়েলকাম মিরপুর ১৪ নাম্বার, ঢাকা ১২০৬।
সরকারী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
ফোন ৯০০১১৫০ কলেজ, ৮৮১২১৩৪
পরিচালক হোমিও, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
০১৭৫৮৬০০৭৮৮, ০১১৯০৬০০৭৮৮, ০১৯১৬৬০০৭৮৮
ডাঃ মানিক
প্রভাষক (অনা) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ,
স হ ম ক যে আপনাকে স্বাগত জানাবে।

এইটা আমার বন্ধুর বক্তব্য। ঔষধ নিয়ে পরে জানাবে বলেছে।

হুজুর কইছে, "কোরআন শরীফে আছে- তোমরা নামাজ থেকে বিরত থাক।" আমি তাই নামাজ পড়ি না। হুজুর যদি ইচ্ছা করে "অপবিত্র অবস্থায়" শব্দ দুটো বাদ দেয়, তার জন্য তো আমি দায়ী না।

৩১

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

ঠেলা দিলাম
দেখি এর সাথে আরও কিছু যোগ হয় কি না!!!

(রিসেন্ট এক ডাক্তারের সিরিয়াল নিতে হয়েছে তাও ১ মাস পরের, একজনের রিকোয়েস্টে )

৩২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শরীফ আহম্মেদ (৩১-০৫-২০১৩ ০৩:৩৩)

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

ফায়ারফক্স লিখেছেন:

(রিসেন্ট এক ডাক্তারের সিরিয়াল নিতে হয়েছে তাও ১ মাস পরের, একজনের রিকোয়েস্টে )

১ মাসের সিরিয়াল খাইছেরে  hairpull

৩৩

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

এনারা মনে হয় ভাব নেবার জন্য বা দাম বাড়ানোর জন্য সঙ্গে সঙ্গেই সিরিয়াল দেয় না,
অবশ্য বড় ডাক্তারের মত এনাদেরও দালাল আছে দেখলাম। উনি ২/৩ দিনে সিরিয়াল নিয়ে দিবেন।
কিন্তু আমি যার সিরিয়াল নিলাম তিনি সিরিয়াস রোগী না বিধায় বেশী টাকা খরচ করে (ঘুষ দিয়ে) সিরিয়ান আগিয়ে নেই নি
কিন্তু এই দালাল ডাক্তারের নিজের কিনা কে জানে?? সিরিয়াল অবশ্য করছিলেন একজন মহিলা জুনিয়র ডাক্তার
উনিই কি টাকা খান??  পরে আমার চাচা চৌধুরীর ব্রেইন ফ্লাস ব্যাকে গেলো .........  নাথিং ইজ ইমপসিবল

[ ফ্লাস ব্যাকঃ
আগে ভাবতাম মহিলা অফিসার/কর্মকর্তা/কর্মচারী ঘুষ খান না কিন্তু একবার মোবাইল হারানোয় জিডি করতে হয়েছিল ( তখন গেরামিন কেনার কাগজ/জিডি ছাড়া সিম দিত না) অনেক্ষণ অফিসারের রুমে বসে আছি, তো তিনি পেপার পড়ছেন হাবিজাবি কাগজ দেখছেন, দেশের উন্নতিতে পুলিশের ভুমিকার প্রসংশা করছেন কিন্তু সই করতেছেন না জিডিতে
একজন পাশ থেকে বলল ম্যাডাম তো এভাবে সই করেন না। ওই ভাবে করবেন (বলে আমাকে তর্জনী মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলীর সমন্বয়ে কিছু গননার  ইশারা করলেন)  টাকা আমি হাতে হাতে দিতে চাইলাম উনি নিবেন না।
আরেকজনকে দিতে চাইলাম তাও দেওয়া যাবে না। উনি টেবিলের তলা দিয়েই নিবেন। চিন্তা করেন আমি নিজেই লজ্জায় লাল
পরে চিন্তা করলাম আমার ইমিডিয়েট কাগজ দরকার যা থাকে কপালে.........]

এই টেবিলের তলা দিয়ে নেওয়া নিয়ে শিপলু ভাইয়ের একটি জোকস আছে মনে হয়......  লিংক মনে নেই
সবচেয়ে মজার জোকস হলো জিডি করে ফিরে আসার পর পাশের রুমের বড় ভাই বললেন ওনার কাছে জিডি তৈরীর সব মালামাল আছে, থানার সিল প্যাড। পুলিশি কাজ তাই গোপন রাখেন, আর মোবাইল কোম্পানী এগুলো কখনো জাচাই করে না, তাই এতে কোনো অসুবিধা নাই। আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছিলাম না।

কাউকে যদি বলেন বিনা পয়সায় সিরিয়াল দিয়ে পাসপোর্ট করা যায় সে তখন আন ইজি ফিল করে......
যদি বলেন ১০,০০০ টাকা দেন সব কাজ আমি করব আপনি শুধু ২ দিন পাসপোর্ট অফিসে যাবেন, ফরম ফিলাপ আর সই করবেন একদিন ছবি তুলে আসবেন, আর একদিন নিয়ে আসবেন। সে নিশ্চিন্ত হবে ও অনেক কমফোর্ট ফিল করবে।
চিন্তা করেন সে কিন্তু পাসপোর্ট অফিস গেলই, ফরম ফিলাপ ও করল ছবিও তুলে আসল আবার পাসপোর্ট ওঠাতেও গেলো (সব কাজ নিজেই করল)
কিন্তু এক্সট্রা টাকা চাওয়াতে সে কনফিডেন্স পেল যে কাজ হবে।
আমাদের মানসিকতাই এমন হয়েছে এখন

৩৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন amilee.2008 (২৬-০৭-২০১৩ ০০:৩২)

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

আমি পর পর কিছু উদাহরন ও যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করবো

আরণ্যক লিখেছেন:

ওষুধে কাজ না হলেও কেউ যদি বিশ্বাস করে খায় তাহলে কাজ হবেই।।

ডাক্তারবাবু গন... ১০ দিনের বাচ্চা থেকে শুরু করে ১-২ বছরের বাচ্চাদের কি ভাবে ওষুধ দিয়ে তাদের কে সুস্থ করেন??? thinking thinking
তাদের তো বিশ্বাস-অবিশ্বাস বিষয়টাই তো ডেভালপ করেনি। shame shame
আমার এখানে ১ কোয়াক ডাক্তার আছেন তিনি হোমিওপ্যাথিক পশুচিকিৎসক হিসাবে বেশ নামযশ আছে(গরু, ছাগল)। thumbs_up thumbs_up
তারা তো আর ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে ব্যা-ব্যা করে না, বা তারা ডাক্তারের সংগে ৩০-৪০ মিনিট গল্প করে না, কিন্তু তারা সুস্থ হয়। হতে পারে ওই সব পশুদের ডাক্তারের প্রতি প্রচন্ড বিশ্বাস আছে তাইনা? lol2 lol2

আরণ্যক লিখেছেন:

প্লাসিবো ইফেক্ট।

১০ দিনের বাচ্চা থেকে শুরু করে ১-২ বছরের বাচ্চাদের কি ভাবে প্লাসিবো ইফেক্ট হয়? thinking thinking
প্রশ্নটা আপনাকেই করলাম @আরণ্যক

invarbrass লিখেছেন:

এ্যাভোগেড্রো পৃন্সিপল-এর বিরুদ্ধেই যায়

ব্যাতিক্রম-ই পৃথিবীর নিয়ম।।
আরো কত নিয়মের যে নিয়ম ভংগ হয় আশাকরি আপ্নি আমার থেকে ভালো জানেন, big_smile big_smile
উদাহরন দিই ১টা,-- প্রায় সব প্রানীর বিবরতন হলো্‌, আর ভাই আরশোলা কোটি কোতি বছর ধরে, কোন পাপের সাজা পাচ্ছে, যে একই রকম রয়ে গেল? thinking thinking
বাকি প্রশ্নের উত্তর এতক্ষনে পেয়ে গেছেন আশাকরি ।।

শিপলু লিখেছেন:

যতদুর জানি এখন হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা একই জায়গায় হয় ... ... ...  ভাবে সাবে পুরো ইবনে সিনা আমলের মহৌষধ।

ভাই এটা ১০০% বুজরুকি। এসব থেকে সাবধান থাকবেন । confused confused

মামুন.pb লিখেছেন:

শুনেছি হোমিওপ্যাথি ও এলিপ্যাথি এই নামকরন নাকি হ্যানিম্যান দিয়েছিলেন

১০০% ঠিক শুনেছেন ভাই।। dancing

বাকি কিছু উত্তর ও আমার মতামত পরের দিন দেবো

প্রজন্ম ফোরাম

৩৫

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

একবার পায়ের পাতায় ধাক্কা লেগে ব্যাথা। এক সপ্তাহ ধরে ভুগলাম। বাপজান হোমিও অষুধ এনে খাওয়ালো। যেই লাউ সেই কদু।

কানের ব্যাথাতেও সেইম কাহিনী। অবশ্য আমার কানের সমস্যা ছোটবেলা থেকেই।

কথা হল....এত জনের বেলায় যে জিনিস কাজ করল(ইভেন পশু-পাখি)...তাহলে আমার বেলাতে কাজ করেনি কেন...আমি কি তাইলে সেলেস্টিয়াল বিয়িং টাইপ কিছু?  roll

"Monsters are merely those which cross a certain line. Customs, laws, justice, taboos--They cross those lines, fully aware that they exist."

৩৬

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

কোরাকোরা লিখেছেন:

হোমিও টপিকে মুরগি পাইলেন কই???? 

আর কইয়েন না, আজাইরার মুরগি এইখানে চলে আসছিল কেমনে যেন, ঠান্ডা লেগে যা তা অবস্থা, বিকেল থেকেই ভূলভাল করতেছি আর মাথা খাটাইতে পারতেছি না, আজ কাজকাম বাদ দিয়ে বসে আছি এজন্য  sad

৩৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন amilee.2008 (২৬-০৭-২০১৩ ০১:১৭)

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

কোরাকোরা লিখেছেন:

একবার পায়ের পাতায় ধাক্কা লেগে ব্যাথা। এক সপ্তাহ ধরে ভুগলাম। বাপজান হোমিও অষুধ এনে খাওয়ালো। যেই লাউ সেই কদু।............
আমি কি তাইলে সেলেস্টিয়াল বিয়িং টাইপ কিছু
?

আপনি ডাক্তার বাবু যে ভাবে বলে দিয়েছিলেন ঠিক সে নিয়মে ওশধ খাওয়ার পরও, আপনার সমস্যার সমাধান না হয়, তাহ্লে অবশ্যই আপনাকে ঠিক ওষধ দেওয়া হয় নি  tongue_smile tongue_smile

প্রজন্ম ফোরাম

৩৮

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

amilee.2008 লিখেছেন:

অবশ্যই আপনাকে ঠিক ওষধ দেওয়া হয় নি  tongue_smile tongue_smile

পানিও দিতে পারে, ঠিক নেই। তবে দুটো দুজায়গার ঘটনা।
অবশ্য পায়ের পাতার ব্যাথার সময়ে যে ওষুধ দেয়া হয়েছিল তাতে অনেক কিছু লেখা ছিল গায়ে,কি লেখা ছিল তা অবশ্য বলতে পারব না, ছোটবেলায় এতকিছু পড়ার আগ্রহ ছিল না।

মূল সমস্যা হল, বাংলাদেশের বেশীরভাগ জায়গাতেই হোমিও/আয়ূর্বেদের নামে এরকম উল্টা-পাল্টা ভূয়া ওষুধ দেয়া হয়। এরকম হলে কি আর হোমিও চিকিৎসার প্রতি আস্থা থাকবে? (যেমন আমার এখন নেই)




আবার, কেমিস্ট্রির লোকেদের কাছে বেশীরভাগ সময়ই বলতে শুনি হোমিও ওষুধে আসলে কিছুই দেয়া হয় না, যাস্ট স্পিরিট আর পানি। তবে কেমিস্ট্রি নিয়ে আমার জ্ঞ্যান শূণ্যের কোঠায়, তাই অফ যাই। ব্যাপারখানা তারাই ভাল বুঝিয়ে বলতে পারবেন।

"Monsters are merely those which cross a certain line. Customs, laws, justice, taboos--They cross those lines, fully aware that they exist."

৩৯

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

কেমিস্ট্রির লোকরা যাই বলুন না কেন, তাদের কে হাতে গরম প্রমান দিতে পারলে আর তারা কি চাইবেন?
ওরে বাবা ওটাতে সত্যি যদি কিছু না থাকতো, তবে কেনো এলোপ্যাথ ডাক্তারাই রোগীদের কে হোমিওপ্যাথি ডাক্তার দের কাছে রেফার করতো(ভারতে) @ কোরাকোরা

প্রজন্ম ফোরাম

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

৪০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শামীম (২৬-০৭-২০১৩ ১৩:২৯)

Re: বিষয়ঃ হোমিওপ‌্যাথি ____ ঔষুধ না কি ফাকি?

আমার বাসায় তিনটা হোমিও ঔষধ সবসময় থাকতো, থাকে।

১। Calendula Q - ক্যালেন্ডুলা হল গাঁদা ফুলের নাম; Q হল পাওয়ার - এটা মাদার টিংচার বা শূণ্য পাওয়ার (অর্থাৎ ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি)। হোমিওপ্যাথিতে সাধারণত সকল ঔষধেরই Q (মাদার), 6, 30, 200, 1M (M=১০০০), 10M, 50M, CM পাওয়া যায়।
নাম শুনে নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন এটা কিসের ঔষধ হতে পারে .... ... জ্বি এটা কেটে ছড়ে গেলে সেখানে দেয়া হয় (খাওয়া না কিন্তু, সরাসরি চামড়ায় প্রয়োগ)। গাঁদা ফুলের পাতার রস দিয়ে কাঁটা ছেড়া সারানোর ব্যাপারটা অনেক আগে থেকেই জানতাম। তবে স্পিরিট মেশানো বলে একটু জ্বলবে। কিন্তু এটা একটা ম্যাজিক ঔষধ।

আমার বউএর নাক দিয়ে রক্ত পড়তো। নাকে সুড়সুড়ি অনুভুতি হলে টিসু পেপার দিয়ে নাকের ভেতর পরিষ্কার করলে সেটাতে দুই-এক ফোটা রক্ত লেগে থাকতো। তখন জাপানে থাকি। নিয়মিত ENT বিশেষজ্ঞের চেম্বারে যেতে হয়, উনি বিভিন্ন ঔষধ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ডোজ কমিয়ে বাড়িয়ে দিলেন। দেড় মাস পরেও এতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়নি তবে ঐ ঔষধ খেলে ঘুম পেত। এরপর ফাইনাল পদ্ধতি হিসেবে নাকের ভেতরে ওয়েল্ডিং করে রক্তনালীর ফুটা বন্ধ করলেন -- ওয়েল্ডিং মানে একটা প্লায়ার্সের মত যন্ত্র দিয়ে ঐ ক্ষতটা চিপে বন্ধ করে দিলেন। বউএর চেয়ে আমার জাপানি ভাষার দক্ষতা ভাল ছিল জন্য সব সময় অনুবাদক হিসেবে ওর সাথে আমাকে থাকতে হত, তাই আমার চোখের সামনের সব হত। চিপা দিয়ে বন্ধ করার সময় চামড়া পোড়ার গন্ধ পেয়েছিলাম। যা হোক সেই চিকিৎসাতে সম্ভবত ৩ কি ৪ দিন, বড়জোর এক সপ্তাহ রক্ত পড়া বন্ধ ছিল। তারপর আরেকদিন হাঁচি দেয়ার পর আবার সেই রক্ত পড়া। এবার আমি একটু বিরক্তই হলাম। বললাম নাকে ক্যালেন্ডুলা দাও। আঙ্গুলের ডগায় এক ফোটা দিয়ে ভিজিয়ে সেটা নাকের ভেতরে লাগানো হল। পরদিন থেকেই সমস্যা ভাল ---- নাকের রক্ত পড়ার সমস্যা এরপর গত ৭ বছরে এখনও হয়নি।

বাসায় কেটে গেলে, ছড়ে গেলে ক্যালেন্ডুলা ছাড়া কিছুই ব্যবহার করতে হয় না। বেশি বড় কাটা হলে, সেটাকে ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে, সেই ব্যান্ডেজের উপরে এক-দুই ফোটা করে ক্যালেন্ডুলা দেয়া হয় -- এতে ব্যান্ডেজ ভিজে সোক করে একটু একটু করে ক্যালেন্ডুলা জায়গাতে লাগে --- একটু জ্বলে, কিন্তু দ্রুত এবং কোনো রকম ইনফেকশন না হয়ে ক্ষত শুকিয়ে যায়।

হোমিও ওষুধের দোকানে গিয়ে বলতে হবে ক্যালেন্ডুলা মাদার টিংচার দেন। আমি সাধারণত এক আউন্সের বোতলে কিনে রাখি -- সম্ভবত ৩০ টাকা দাম। বেশি কিনে রেখে লাভ নাই -- কারন বিশেষত ঠিকভাবে টাইট করে না লাগালে স্পিরিট উড়ে যায় - শুকিয়ে যায়।

কিছু ক্ষত আছে, যেমন চুলকাতে চুলকাতে পায়ের কিছু জায়গা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় -- তখন কিছু পরিমান পমেডের (জেলি) মধ্যে কয়েক ফোটা ক্যালেন্ডুলা দিয়ে সেটা আঙ্গুল দিয়ে ভালভাবে খচাখচি করে মিশিয়ে তারপর সেই ক্রিম বা পমেড ক্ষতস্থানে দেই। এতে জ্বলেও কম, কিন্তু দারুন কাজ হয়। গরমে বেশি হাঁটাহাঁটি করলে এমন এমন জায়গায় ছড়ে যায় যা কাউকে বলা যায় না, ক্যালেন্ডুলা জিন্দাবাদ। আবার আমার মেয়ে ডায়াপারে টয়লেট করে ফেলেছিলো একবার ঘুমের মধ্যে -- আমরা টের পেতে পেতে অন্তত আধাঘন্টা পার হয়ে গেছে। ডাক্তার বলেছিলো পায়খানা একটু এসিডিক হওয়াতে ওগুলো লাগলে চামড়া ছড়ে যায়, জ্বলে। গামলায় হালকা গরম পানিতে ১৫-২০ ফোঁটা ক্যালেন্ডুলা দিয়ে মেয়েকে দুয়েকবার বসিয়ে রাখি -- এতেই দ্রুত সেরে যায়।

২। Arnica Mont. Q, 30 - আর্নিকা মাদার টিংচার এবং থার্টি - মাদার টিংচার সলুশন আকারে এক আউন্সের বোতলে, আর পাওয়ারেরটা গ্লোবিউলসে (সাদা সাদা চিনির গুল্লিতে) এক ড্রাম (ড্রাম = কড়ে আঙ্গুল সাইজের বোতল)।  দাম এক আউন্সের ৩০ টাকার মত, এক ড্রামের দাম ম্যাক্সিমাম ১২ টাকা হতে পারে (সব দেশী)। বিদেশি বোরিক এন্ড ট্যাফেল (বিটি) কোম্পানির ঔষধ কেনা জরুরী না -- ওগুলোর দাম বেশি। শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্থান, জার্মানি, আমেরিকা -- এরকম বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতকৃত ঔষধ আছে (বিটি)। জার্মানি আর আমেরিকাতে হোমিও ঔষধ তৈরী হয় -- এটা জেনেও মানুষ ভাবে হোমিও দেশি সস্তা একটা পদ্ধতি মাত্র!

আর্নিকা হল আঘাতের ঔষধ। ব্যাথা পেয়ে ফুলে নীল হয়ে গেছে -- দিনে ৩/৪ বার ওখানে আর্নিকা লাগাই (এক্সটার্নাল, মানে চামড়াতে ... খাওয়া নহে)। কিছু জায়গায় ব্যান্ডেজ বা তুলা দিয়ে ব্যান্ড এইড লাগিয়ে সেই তুলাতে মাঝে মাঝে দুই এক ফোটা আর্নিকা মাদার টিংচার ঢালি। বেশ কার্যকর ঔষধ। অন্তত জাপান থেকে আনা স্পোর্টসম্যানদের জন্য আঘাতে লাগানো প্যাড-ব্যান্ডেজের চাইতে দ্রুত কাজ করে।

আঘাত সারা নিয়ে একটা মজার অভিজ্ঞতা হল, কিছু কিছু ব্যাথা শরীরে দৌড়াদৌড়ি করে। আগে হয়তো বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় ছিলো, আর্নিকা দেয়ার পর দেখা গেল সেটা পাশের জোড়ায় চলে গেছে। আবার সেখানে ঔষধ।

৩। Cantharis Q -- পুড়ে গেলে ক্ষতস্থানে দেয়ার জন্য। এটা নিয়ে বেশি অভিজ্ঞতা নাই। তবে দুয়েকবার হাতে গরম ছ্যাকা বা তেল পড়ার পর দিয়ে দ্রুত আরোগ্য পেয়েছি।

এছাড়াও বাসাতে প্রচুর ঔষধ আছে। কারণ সমস্যা হলে ডাক্তার চাচাকে (আপন চাচা, নিজেকে হাতুড়ে ডাক্তার বলে দাবী করেন) ফোন দেই, তখন উনি ঔষধ বলে দেন। সাথে না থাকলে সমস্যা -- কারণ হয়তো রাত ১২টায় সমস্যা হয়েছে, ইমিডিয়েটলি ঔষধ দিলে ভাল হয়। গত কয়েক সপ্তাহে জ্বর টাইপের জিনিষগুলো এভাবেই ট্যাকল দেয়া হল।

আমার পিচ্চির একবার ভীষন জ্বর + স্টোমাক আপসেট হল। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এন্টিবায়োটিক দিয়েছেন -- বাচ্চাদের এন্টিবায়োটিক সিরাপ। কিন্তু সেই জিনিষ ওর মুখের কাছে নেয়া যায় না। গন্ধ নাকে গেলেই ওয়াক ওয়াক করে বমি, এ কথা শুনে ব্র্যান্ড পাল্টিয়ে দিয়েছে - তাতেও লাভ হয় নাই। তাই সকলে মিলে ওকে চেপে ধরে খাওয়াই -- খুবই মর্মস্পর্শী ব্যাপার। রাতে পেটে গ্যাস, ঢেকুর ইত্যাদি। এরকম ঘটনা কয়েক মাসের ব্যবধানে আরেকবার হল। সেবার একরাতে ওর এই কান্না, বিশেষত বার বার ঔষধ বমি করে করে বিছানা, আমার কোল, শরীর ভাসানো সহ্য করতে না পেরে চাচাকে ফোন দিলাম (রাত সাড়ে ১২ টায়)। উনি যেই ঔষধ বললেন সেটা অনেক আগেই ওনার সাজেশন অনুযায়ী কিনে রাখা ছিল (শুধু ওটা না সম্ভাব্য আরো কয়েকটা ঔষধ কেনা ছিল)। সেই ঔষধ (ইপিকাক ৬) খাওয়ানোর ১০ মিনিটের মধ্যে বাচ্চা শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। পরদিন খাওয়ার রুচি আসলো, ঘ্যান ঘ্যান প্যান প্যান বন্ধ -- শরীর দূর্বল, কিন্তু দুষ্টামী আগের মতই - অর্থাৎ শরীরে হিলিং প্রসেস শুরু।

মজার ব্যাপারটা হল কিছুদিন আগে। আমার বাচ্চা গাড়িতে উঠলেই বমি করে - যথারীতি প্রিয় বাবার গা-কাপড় ভাসায়। গাড়িতে সেজন্য সবসময় কাঁথা মজুদ রাখা হয় - বমি ভাব আসলেই মুখের সামনে কাঁথা বিছিয়ে ধরা হয়। ওতে বমি করলে সোক করে নেয়, ফলে অন্য জায়গাগুলো রক্ষা পায়। ব্যাপার হল, একদিন এরকম বমি করার সময় খেয়াল করলাম, ওর এক পর্যায়ে গ্যাস ঢেকুর উঠে। এটা দেখে মাথায় ঝিলিক দিল যে ও যখন অসুস্থ ছিল তখন এন্টিবায়োটিক খাওয়ানোর সময়েও এরকম গন্ধ ঢেকুর উঠতো। এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে পরদিন আরেক জায়গায় যাওয়ার সময় ওকে ইপিকাক ৬ খাওয়ায় রওনা দিলাম --- ম্যাজিক, ভাই ম্যাজিক। পুরা রাস্তায় কোনো বমি ভাব হয়নি। এরপর কৌতুহলী হয়ে Ipecac দিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখি এই নামে একটা সিরাপ, বমি হওয়ানোর ঔষধ হিসেবে, ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত এলোপ্যাথিতেই ফার্স্ট এইড বক্সে থাকতো। কেউ বিষাক্ত কিছু খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হলে বমি করিয়ে সেটা বের করানোর জন্য এটা খাওয়ানো হত। পরবর্তীতে আরো গবেষনায় কিছু খারাপ দিক পাওয়াতে এটা বাদ দেয়া হয়। এটা আদার মত একরকম বিশেষ মূল থেকে তৈরী। ফোন করে চাচাকে (কুড়িগ্রামে দাদাবাড়িতে থাকেন উনি) জানালাম। উনি মেটেরিয়া মেডিকা দেখে আরও নিশ্চিত হলেন। পরবর্তী ঘটনা হল, তখন বাড়িতে আমার ছোট ভাই বেড়াতে গিয়েছিল। ওর তিন পিচ্চি'রও গাড়িতে উঠলেই বমির অভ্যাস। আসার সময় ওদের তিনজনকেই ইপিকাক খাওয়ানো হয়েছে কয়েক ঘন্টা পর পর -- কুড়িগ্রাম টু ঢাকা - পুরা রাস্তায় কেউই বমি করেনি। এখন তাই ৪র্থ ঔষধ হিসেবে Ipecac 6, 30 সবসময় সাথে থাকে।

অনেক লম্বা লেখা হয়ে গেল। আমি এখানে ৪টা ঔষধের নাম লিখেছি। ইংরেজি নামগুলো দিয়ে গুগল করলে আরো অনেক তথ্য জানতে পারবেন।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত