টপিকঃ আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

অবশেষে মাথাভাঙ্গাঃ
সামনের গাড়ির ড্রাইভারকে চড়-থাপ্পর মেরে দাদাদের জানে একটু শান্তি আসলো। তারা এসে আবার বাসে চেপে বসলো। বাস ছাড়লো। এবার ড্রাইভার সাহেব আর কোথাও থামলো না। মাথাভাঙ্গাতে এসে তবেই গাড়ি থামলো। আমি গাড়ি থামার সাথে সাথে ছিটকে বের হয়ে আসলাম। পাবলিককে জিজ্ঞেস করলাম কুচবিহারের গাড়ির ব্যাপারে। পাবলিক আবারও আরেক সুপার সার্ভিসের কথা আমাকে বললো। আমি সাবধানে জিজ্ঞেস করলাম যে সুপার সার্ভিস ছাড়া অন্য কোন সার্ভিস আছে কিনা। তারা জানালো যে সুমো সার্ভিস আছে এবং সেটা রাস্তার অন্য পাশেই। এ কথা শুনে গলা শুকিয়ে গেলো। সুপার থেকে সুমো পালোয়ান! আল্লাহ জানে এবার কি অপেক্ষা করছে। রাস্তার অন্যপাড়ে গিয়ে দেখি জিপ সার্ভিস রয়েছে যেটাকে ওরা সুমো বলে জিপের ব্র্যান্ড-নেম অনুযায়ী। অপেক্ষা না করে ছাড়বো ছাড়বো করছে এমন একটা সুমোতে চেপে বসলাম আর তার আগে উপরের ক্যারিয়ারে ব্যাকপ্যাকটা ছুড়ে মারলাম। সুমোতে বসতে হলো আমাদের লেগুনার সিটগুলোর মত সাইড হয়ে। এ ধরনের সিটে বসলেই কেন জানি খুব অস্বস্তি লাগে। তারউপর সুমোর লিকলিকে শরীরের হাড়গিলে ড্রাইভারটা ড্রাইভ করা শুরু করলো লেগুনার ড্রাইভারগুলোর মতন।  গা গুলায় বমি লাগা শুরু করলো। কোনমতে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করতে থাকলাম, আর মনে মনে প্রার্থনা করতে থাকলাম যেনো এই হরিবল জার্নিটা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়।

কুচবিহারঃ
প্রায় ঘন্টা দুয়েক পরে কুচবিহার পৌছে গেলাম। দুপুর প্রায় সোয়া দুইটা বাজে। গাড়ি থেকে নেমে দাড়ালাম। গা তখনো গুলাচ্ছে। পেট খালি। এখান থেকে আমার আসামের ধুবরী জেলার বাস ধরতে হবে। কিন্তু তার আগে কিছু খাওয়া দরকার। একটা রিক্সা ডাক দিয়ে বাস টার্মিনালের আশেপাশের ভালো কোন রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেতে বললাম। রিক্সা চলছে। বেশ কিছুক্ষণ চলার পরে দেখি একটা বড় লনওয়ালা প্রাসাদের সামনে এসে থামলো।
-    নামুন। রাজবাড়ি চলে এসেচে।
ব্যাটার কথা শুনে মেজাজটা গেলো খিচড়ে। বললাম,
-    এই, তুমি ফাইজলামী করো আমার সাথে? তামাশা করো? তোমারে বললাম রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেতে আর তুমি নিয়ে আসছো রাজবাড়িতে!
-    কি বলচেন এসব? আমি কেন আপনার সাথে ফাজলামো করবো? আপনিইতো বললেন যে রাজবাড়ি চলো।
-    কানের চিকিৎসা করাও। রেস্টুরেন্ট আর রাজবাড়ি কখনোই একরকম লাগেনা শুনতে। এখন বাস টার্মিনালের পাশে কোন রেস্টুরেন্টে নিয়ে চলো। রেস্টুরেন্ট, ঢাবা, হোটেল, খাওয়ার জায়গা, ইনন, সরাইখানা। বুঝতে পারছো?
-    জ্বী। প্রথমে রাজবাড়ি না বলে রেস্টুরেন্ট বললেইতো হতো।
-    হ, বাপ। ভুল হইছে। এখন চল। তাড়াতাড়ি চল। 
টার্মিনালের উল্টো দিকের এক রেস্টুরেন্টে আসলাম অবশেষে। ভিতরে ঢুকে ভাত, ডাল, শাক আর মাছ দিয়ে খেয়ে নিলাম কোনমতে। তারপরও দেখি কেমন জানি লাগতেছে। বুঝলাম যে বর্ডারে খাওয়া লুচি আর সবজি কোন কারণে পেটে প্রচুর গ্যাস উৎপন্ন করেছে। গ্যাস রিলিজ করার জন্যে একটা ফার্মেসীতে ঢুকলাম এন্টাসিড কেনার জন্যে।
-    ভাই, এন্টাসিড হবে?
-    কিসের সিড?
-    এন্টাসিড।
-    নাহ। হবে না।
-    এটাতো খুব কমন ওষুধ। আচ্ছা, অক্সিকোন হবে?
-    অক্সিজেন??!!
-    (কাঁদো কাঁদো হয়ে) নারে ভাই। আপনাদের এখানে গ্যাস হলে চুষে খাওয়া ট্যাবলেটকে কি নামে ডাকে আমি জানিনা। দয়া করে সেটা দেন, প্লিজ।
-    গ্যাস্টিকের ওষুধ চাচ্চেন বলবেনতো।
ওষুধ হাতে পাবার সাথে সাথে সেটা মুখে চালান করে দিয়ে লোকটাকে শুকরিয়া বলে বেরিয়ে আসলাম। মিনিট পাচেকের মধ্যে কয়েকটা বড় বড় ঢেকুর ছেড়ে দারুন স্বস্তি বোধ করলাম।

অতঃপর ধুবরীর বাসঃ
টার্মিনাল ছিলো দুটো। একটা সরকারী এবং একটা বেসরকারী। সরকারীটাতে প্রথমে গেলাম আসামের গাড়ি ধরতে। এগুলোর চেহারাসুরত ভালো না হলেও সার্ভিস দারুণ। আগে একবার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু বিধিবাম। দিনের একমাত্র সরকারী বাসটা ছেড়ে গিয়েছে ঘন্টাখানেক আগে। বাধ্য হয়ে বেসরকারী টার্মিনাল থেকে ধুবরীর একটা বাসে চেপে বসলাম। বড় বাসটা মোটামুটি খালি। যে দুই-একজন প্যাসেঞ্জার আছে তাদের মুখে ধুবরীর আঞ্চলিক ভাষা শুনে মূহুর্তেই বিল্লী থেকে শের বনে গেলাম। পাশের সিটের লোক আমার সাথে আলাপ শুরু করলো,
-    (আমার ব্যাকপ্যাক দেখিয়ে)কুটি থেকি আসছেন? দিল্লী?
-    না, ঢাকা।
-    তাই নাকি? কোথায় যাবেন? (ভাষা চেঞ্জ)
-    আঙ্কেল মুই এটিকার ভাষা মোটামুটি কবার পাং। 
-    হয় নাকি? খুব ভাল লাগিল শুনিয়া। ধুবরীত কায় আছে?
-    মোর মামা, খালা সব ধুবরীত।
-    হয় নাকি? ধুবরীত কুটি বাড়ি?
-    বিদ্যাপাড়া।
-    মোর বাড়ি ঝগড়ার পাড়ত।
লোকটার সাথে বেশ ভালো খাতির হয়ে গেলো। মাঝখানে ইফতারীর সময় দেখি লোকটা নেমে কিছু ছোলা-মুড়ি কিনে নিয়ে আসলো। আমিও ভাগ পেয়েছিলাম। সন্ধ্যার পরে গাড়ি গোলগঞ্জ পৌছালো। এ জায়গায় মাঝে মাঝে বাংলাদেশী নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। আমি তাড়াতাড়ি ডিজুস বের করলাম। দেখি নেটওয়ার্ক পাচ্ছে। বাসায় ফোন দিয়ে আশ্বস্ত করলাম যে আমি প্রায় পৌছে গিয়েছি এবং টেনশন করে যেন মামাদের ফোন দিয়ে আমার আসার ব্যাপারে কিছু জানানো না হয়।

এর প্রায় পৌনে এক ঘন্টা পরে ধুবরীতে এসে নামলাম। একটা রিক্সা নিয়ে সোজা নানীবাড়ি। নানীবাড়ির বাইরে একটু দূরে রিক্সা থেকে নেমে দেখি, নিচে মেজো মামা আর এক কাজিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। আমাকে খেয়াল করে নাই। আমি হঠাত তাদের সামনে গিয়ে বিশাল এক সালাম দিলাম। আমার কাজিন দেখি খুব বেশি অবাক হয়ে, ডাঙ্গায় তোলা কাতল মাছের মত মুখ করে কিছু একটা বলার চেষ্টা করছে। মেজো মামা কিছু বললো না। শুধু দুই হাত বাড়িয়ে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আর বললো, “আগে থেকে বললেতো তোকে বর্ডার থেকে নিয়ে আসতে পারতাম। ”

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

চমৎকার। কে বলে ছবি ছাড়া ভ্রমন কাহিনী ভাল লাগে না। অসাধারণ হয়েছে।  thumbs_up

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

মুই মনে হচ্চে এইটিকার লেখা বেশ ভালং হইচে। বাংলাদেশে হইলে রিক্সাআলার বয়রার নিচং একটা দাবড়া লাগাং তাং । পেটে গ্যাস শুনং আনন্দ হলং  big_smile

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

আসামের ধুবরীর ভাষার সাথে রংপুর অঞ্চলের ভাষার অনেক মিল আছে দেখছি  surprised যদিও ওরা ওটাকে গোয়ালপারিয়া ভাষা বলে থাকে, আমার কাছে তো কোনো পার্থক্যই লাগে না অল্প দু'একটি অমিল ছাড়া। যাহোক, আপনার বর্ণনার সাথে সাথে মনে হয় আমরাও ধুবরী ঘুরে এলাম smile বেশ উপভোগ্য লেখা! রস মিশিয়ে বলতে পারাটা একটা বিরাট গুণ!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

আপনার ভ্রমণ কাহিনী গুলো আমার খুবই ভাল লাগে, আসাম যাত্রাও অনেক ভাল লেগেছে smile

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

Valo hoiche.

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

দারুন লাগচে। সেভেনে পড়ার সময় একবার গেছিলাম কোলকাতা।
কিছু ছবি দিলে আরো ভাল লাগত।

Allah is a better planner... so whenever u'r plan fails, cheer up... Allah has a better plan for you

Shahanur79'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

দারুন thumbs_up আরও ভ্রমন কাহিনী চাই big_smile

One can steal ideas, but no one can steal execution or passion. - Tim Ferriss

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

ভালো লাগলো।কিছু ছবি শেয়ার করলে ভালো হতো

ভাবতে ভীষন অবাক লাগে............নেই আমি আর আগের মত

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (২৯-০৯-২০১২ ২২:১৫)

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

আরণ্যক লিখেছেন:

চমৎকার। কে বলে ছবি ছাড়া ভ্রমন কাহিনী ভাল লাগে না। অসাধারণ হয়েছে।  thumbs_up


অনেক ধন্যবাদ।

ফারহান খান লিখেছেন:

মুই মনে হচ্চে এইটিকার লেখা বেশ ভালং হইচে। বাংলাদেশে হইলে রিক্সাআলার বয়রার নিচং একটা দাবড়া লাগাং তাং । পেটে গ্যাস শুনং আনন্দ হলং  big_smile

ভারত হলেও বিদেশতোরে ভাই। চুহা হয়ে থাকা লাগে। থাপ্পড়তো অনেক দূর কি বাত।

উদাসীন লিখেছেন:

আসামের ধুবরীর ভাষার সাথে রংপুর অঞ্চলের ভাষার অনেক মিল আছে দেখছি  surprised যদিও ওরা ওটাকে গোয়ালপারিয়া ভাষা বলে থাকে, আমার কাছে তো কোনো পার্থক্যই লাগে না অল্প দু'একটি অমিল ছাড়া। যাহোক, আপনার বর্ণনার সাথে সাথে মনে হয় আমরাও ধুবরী ঘুরে এলাম smile বেশ উপভোগ্য লেখা! রস মিশিয়ে বলতে পারাটা একটা বিরাট গুণ!

একদম একইরকম। তবে অসমীয়া ভাষা পুরাই আলাদা। এ ভাষা নিয়ে ভাষা বিভ্রাট  নামক একখানা সিরিজ লিখেছিলাম প্রথমের দিকে। ধুবরীতো আর ঘুরাতে পারলাম না। অবশ্য ধুবরীতে দেখার মত কিছুই নেই। ছোট্ট একটা মফস্বল শহর। একপাশ দিয়ে ব্রক্ষ্মপূত্র নদী বয়ে গেছে। ইলেকট্রিসিটি থাকে না। ভাংগা রাস্তাঘাট। তবুও ধুবরী আমার খুব প্রিয় একটা শহর। সবচেয়ে প্রিয় বললেও ভুল হবে না হয়তো। এখানকার অসাধারণ মানুষগুলোই হয়তো এর কারণ।

অমিত ০০৭ লিখেছেন:

আপনার ভ্রমণ কাহিনী গুলো আমার খুবই ভাল লাগে, আসাম যাত্রাও অনেক ভাল লেগেছে smile

ধন্যবাদ অমিত। অনেক ধন্যবাদ।

Shahanur79 লিখেছেন:

দারুন লাগচে। সেভেনে পড়ার সময় একবার গেছিলাম কোলকাতা।
কিছু ছবি দিলে আরো ভাল লাগত।

সেসময় আমার কোন ক্যামেরা ছিলো না। আর নোকিয়া-১১০০ তে যে ছবি তোলা যায় না সেটা আগেই বলেছি। আর লোয়ার -আসামে তোলার মত কোন সিনারী নাই।

অপরিচিত লিখেছেন:

দারুন thumbs_up আরও ভ্রমন কাহিনী চাই big_smile

ধন্যবাদ। লিখবো হয়তো আরেকটা। দেশের ভিতরের।

red_devil লিখেছেন:

ভালো লাগলো।কিছু ছবি শেয়ার করলে ভালো হতো

ধন্যবাদ। রাস্তাঘাটের ছবি নাই। আর মানুষজনের ছবি আমি দেই না।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১১

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

এত তারাতারি শেষ হওয়ায় হতাশ হলাম। তবে চমৎকার লিখেছেন।

১২

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

মিলন লিখেছেন:

এত তারাতারি শেষ হওয়ায় হতাশ হলাম। তবে চমৎকার লিখেছেন।


হা হা হা। ধন্যবাদ। অনেকদিন আগের কথাতো। অনেক ঘটনা ভুলেও গিয়েছি। কি আর করা বলেন।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৩

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

বাংলাদেশের অনেক কাছে আসাম কিন্তু এর সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মতো এতো ইতিহাস বা নিউজ আমাদের মিডিয়াতে আসে না। মনে হয় আসাম কাছে থেকেও অনেক দূরে।

বাই দ্যা ওয়ে, সেখানকার খাবার দাবার সম্পর্কে কিছু যদি বলতেন(আলদা টপিক হলে ভালো হয়)। আর আসামে দেখার মতো কি আছে ? তাহলে এখনি গুগল আর্থে করে আসাম ঘুরে আসতাম।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (২৯-০৯-২০১২ ২২:০৭)

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

বাংলাদেশের অনেক কাছে আসাম কিন্তু এর সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মতো এতো ইতিহাস বা নিউজ আমাদের মিডিয়াতে আসে না। মনে হয় আসাম কাছে থেকেও অনেক দূরে।
বাই দ্যা ওয়ে, সেখানকার খাবার দাবার সম্পর্কে কিছু যদি বলতেন(আলদা টপিক হলে ভালো হয়)। আর আসামে দেখার মতো কি আছে ? তাহলে এখনি গুগল আর্থে করে আসাম ঘুরে আসতাম।

আমি নিজেই আসামের খুব কম জায়গায় গিয়েছি। যেসব জায়গায় গিয়েছি তার মধ্যে কয়েকট দিলাম।

অভয়পুরীঃ ছোট একটা জেলা। প্রধান সৌন্দর্য্য হলো মোটামুটি চারপাশেই পাহাড় দিয়ে ঘেরা। এর মধ্যে বেহুলাপাড়া নামে একটা গ্রাম হচ্ছে মিনি পাবনা। সবাই পাবনার ভাষায় কথা বলে।
গোয়ালপাড়াঃ
বড় বড় পাহাড় দিয়ে একদিকে ঘেরা, আর অন্যদিকে উচ্ছল ব্রক্ষ্মপুত্র। যেই ব্রীজটা দিয়ে পার হয়ে গোয়ালপাড়া জেলায় ঢুকতে হয় সেটা আবার দোতলা ব্রীজ। নিচ দিয়ে ট্রেন আর উপর দিয়ে যায় গাড়ি। পানির উপর পাহাড়ের রিফলেকশন পানিকে কেমন একটা স্বর্গীয় সবুজ বর্ণ দিয়েছে।
কোকড়াঝাড়ঃ অভয়পুরীর পাশের জেলা। এখানকার রিজার্ভ ফরেস্ট খুব বিখ্যাত।
গৌহাটীঃ রাজধানী। এখানকার চিড়িয়াখানাটা দেখার মত। আরব আমিরাতে দেখা চিড়িয়াখানাটা এটার তুলনায় নিতান্ত দুগ্ধপোষ্য শিশু। শহরের মাঝখানে মাঝখানে বেশ কিছু টিলাএলাকা রয়েছে। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম। ঢাকার তুলনায় অনেক ছোট একটা শহর। তবে ভালো ব্যাপার হচ্ছে, এই ছোট শহরটিতেই আমি  ২০০৬-০৭ সালের দিকেই ৯টি ফ্লাইওভার দেখেছিলাম।

গৌহাটি থেকে প্রায় আড়াই ঘন্টা উপরের দিকে উঠলে মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শীলং। সেখানে দেখার অনেক কিছু আছে।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৫

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

ভালই ঘুড়াঘুড়ি কইল্লেন , মাঝ খানে গেস্টিক উডাইয়া ফেললেন  tongue

ভাল হয়েছে  thumbs_up

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

১৬

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

আসাম যাত্রা অসাম হয়েছে ।

১৭

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

ধন্যবাদ জেমসবন্ড এবং জাবেদ।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৮

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

এর মধ্যে বেহুলাপাড়া নামে একটা গ্রাম হচ্ছে মিনি পাবনা। সবাই পাবনার ভাষায় কথা বলে।

এরা সবাই পাবনা হতে গিয়েছে নাকি  ?

১৯

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

সিরিয়াসলি বলতেছি_ একদিন সময় করে ফাস্কভর্তি চা আর বিস্কিট নিয়ে সোফাতে আয়েশ করে বসে বসে "কাউয়া সমগ্র" পড়তে বসবো। আপনার লেখনী বড়ই ভালো লাগে। smile

থাকুক তোমার একটু স্মৃতি থাকুক,
একলা থাকার খুব দুপুরে...
একটি ঘুঘু ডাকুক !

২০

Re: আমার আসাম যাত্রা - সমাপ্ত

ইলিয়াস লিখেছেন:
তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

এর মধ্যে বেহুলাপাড়া নামে একটা গ্রাম হচ্ছে মিনি পাবনা। সবাই পাবনার ভাষায় কথা বলে।

এরা সবাই পাবনা হতে গিয়েছে নাকি  ?

হ্যা। এখানকার মানুষদের আদি পুরুষ সব পাবনা এলাকার নদীভাঙ্গা মানুষ। নদীর পাড়ের মানুষেরা বাই-ডিফল্ট একটু সাহসী হয় বলে আমার ধারণা। তা না হলে কই আসাম আর কই পাবনা! এতদুরে গিয়ে এনারা বসত গড়েছে!!

আমি হিমু লিখেছেন:

সিরিয়াসলি বলতেছি_ একদিন সময় করে ফাস্কভর্তি চা আর বিস্কিট নিয়ে সোফাতে আয়েশ করে বসে বসে "কাউয়া সমগ্র" পড়তে বসবো। আপনার লেখনী বড়ই ভালো লাগে। smile


লজ্জা পেলুম blushing অনেক ধন্যবাদ।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(