টপিকঃ দৈনন্দিন এবং খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমান (gif এনিমেশন)

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসারে শহরের কোন বাসায় (এপার্টমেন্ট) পানি সরবরাহ করতে হলে জনপ্রতি প্রতিদিন ২২৫ লিটার পানির চাহিদা ধরে নিয়ে মোট পানির চাহিদা হিসাব করতে হয়। তবে একটা শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নকশা করার সময়ে মোট জনসংখ্যাকে আরেকটু কম জনপ্রতি চাহিদা ধরে হিসাব করা হয়। সাধারণত এই চাহিদার মান ইউনিয়ন পরিষদে ৫০ লিটার/প্রতিদিন/প্রতিজন থেকে বড় শহরে ১৮০ লিটার/প্রতিদিন/প্রতিজন ধরে হিসাব করার পরামর্শ দেয়া হয় বিভিন্ন বইয়ে। বাংলাদেশে বিভিন্ন পৌরসভার পানি সরবরাহ প্রকল্পে এই মানটি ১০০ লিটার/প্রতিদিন/প্রতিজন।

অর্থাৎ একটি এপার্টমেন্ট ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট থাকলে সেখানে অন্ততপক্ষে ৬৫ জন (গার্ড, ড্রাইভার সহ) হিসেবে প্রতিদিন মোট ৬৫x২২৫=১৪,৬২৫ লিটার বা ১৪.৬২৫ ঘনমিটার পানি লাগবে ধরে নেয়া হয়। এই হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারটি এর ২-৩ গুন বড় আর ছাদের ট্যাংকিটা এর ৬০% এর মত আকারের দেয়া হয়। নিচের ট্যাংকি বড় রাখার কারণ আপদকালীন সঞ্চয়, আর ছাদের ট্যাংকি ছোট রাখার কারণ এতে ছাদে কম ভার আসবে - আর ৬০% এর মত আকার দিলে দিনে দুইবার পাম্প চালালেই চলবে।

শহরের প্রতিটি বাসা অ্যাপার্টমেন্ট নয়, এতে নিম্নআয়ের মানুষের কম খরচের বাসস্থান যেমন রয়েছে তেমনি অত্যন্ত উচ্চআয়ের মানুষও বাস করে। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরবরাহ কম (হয়ত কয়েকটা পরিবার মিলিয়ে একটা পানির কল), আর উচ্চ আয়ের জন্য অনেক বেশি পানি দেয়া হয় (গাড়ি ধোয়া, বাগানে  পানি দেয়া, বাথটাব ইত্যাদি)।

পানির চাহিদা বিভিন্ন কারণে কম বেশি হয়, যার মধ্যে আছে: ভৌগলিক অবস্থান, অর্থনৈতীক অবস্থা, আবহাওয়া (ঋতূ), ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার, পানির গুনগত মান, পানি সরবরাহ লাইনে পানির চাপ, পানি সরবরাহের প্রকৃতি (সবসময় থাকে নাকি মাঝে মাঝে আসে), পানি সরবরাহস্থল থেকে ব্যবহারকারীর দূরত্ব, বিকল্প পানির উৎস, পানির মিটারের উপস্থিতি, পানির দাম ইত্যাদি।

যা হোক এই মৌলিক চাহিদা পানি কিন্তু শুধুমাত্র বাসাতেই দরকার হয় তা নয়। আমাদের খাদ্য উৎপাদনে অনেক বেশি পানির প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন সেঁচ প্রকল্পে বাসগৃহে সরবরাহকৃত পানির চেয়ে অনেক বেশি পানির দরকার হয়, তবে সেখানে পানি পরিশোধনের প্রয়োজনীয়তা বাসগৃহের তুলনায় সীমিত। আজকে ডয়েচে ভেলে (জার্মান রেডিও)তে খাদ্য উৎপাদনে পানির পরিমানের উপর দারুন একটা প্রেজেন্টেশন দিয়েছে। সেটা সরাসরি শেয়ার করার উপায় পাইনি জন্য ওগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে একটা এনিমেশন বানিয়ে রাখলাম।
https://lh4.googleusercontent.com/-f44_E9uMPLk/UD20dg00OoI/AAAAAAAABck/1JE1pPl_YHA/s800/Water4Food.gif

[গিম্প ব্যবহার করে এনিমেশন বানানো হয়েছে]

এই প্রসঙ্গে আরেকটা দারুন লেখা পাবেন এখানে: এক কাপ চায়ের মূল্য কত?

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: দৈনন্দিন এবং খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমান (gif এনিমেশন)

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: দৈনন্দিন এবং খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমান (gif এনিমেশন)

খুব ভাল হয়েছে  smile। ২২ শতক এর যুদ্ধ মনে হয় বিসুদ্ধ পানির জন্যই হবে।

জ্ঞান হোক উম্মুক্ত

Re: দৈনন্দিন এবং খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমান (gif এনিমেশন)

এই ইমেজ কি সত্য কথা কয়? আমি ডেইলী ১০০ লি। পানি পান করি  kidding kidding kidding kidding kidding

roll

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আউল (২৯-০৮-২০১২ ১৫:৫৯)

Re: দৈনন্দিন এবং খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমান (gif এনিমেশন)

নতুন পণ্ডিত লিখেছেন:

এই ইমেজ কি সত্য কথা কয়? আমি ডেইলী ১০০ লি। পানি পান করি  kidding kidding kidding kidding kidding

১০০ লিটার ১ দিনে?

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: দৈনন্দিন এবং খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত পানির পরিমান (gif এনিমেশন)

নতুন পণ্ডিত লিখেছেন:

এই ইমেজ কি সত্য কথা কয়? আমি ডেইলী ১০০ লি। পানি পান করি  kidding kidding kidding kidding kidding

ইমেজে পান করার কথা কোথায় বলল?  roll

একবার টয়লেট ফ্লাশ করলেই তো ১১ লিটার খালাস হয়ে যায়  hehe

সাধারণত একজন লোক দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করে। এছাড়া রান্নাকৃত খাবারের মাধ্যমে আরও ৩-৫ লিটার পানি শরীরে প্রবেশ করে। আমরা শুধুমাত্র বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ প্রকল্পে জনপ্রতি ৬ লিটার ধরে নকশা করেছিলাম। কিন্তু শহরের পানি সরবরাহতে খাওয়া ছাড়াও হাতমুখ ধোয়া, গোসল, খাবার-কাপড় ইত্যাদি ধোয়াধুয়ি, টয়লেট ব্যবহার সবকিছুর জন্য চাহিদা ধরে নকশা করতে হয়।  smile

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত