টপিকঃ রমজানের ৩০টি আ’মল-১

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين محمد وآله وأصحابه أجمعين أما بعد
রমাদান মাস আল্লাহ তা‘আলা এক বিশেষ নিয়ামাত। সাওয়াব অর্জন করার মৌসুম। এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, রহমাত, বরকত ও নাজাতের মাস-রমাদান মাস। আলকুরআনে এসেছে,
﴿ شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ ﴾ [البقرة: ١٨٥]
‘‘রমাদান মাস, যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে’’ [সূরা আলবাকারাহ : ১৮৫]। রমাদান মাসের ফযিলাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ لِلَّهِ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ»
‘‘রমাদান- বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোযা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। দুষ্ট শয়তানদের এ মাসে শৃংখলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে বঞ্চিত হল (মহা কল্যাণ হতে)’’ [সুনান আত-তিরমিযি: ৬৮৩]।
এ মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে যেতে পারি, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারি। নিম্নে রমাদান মাসের আমল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। তবে এ আমলগুলো করার জন্য শর্ত হলো :

এক.
ইখলাস অর্থাৎ ‘‘একনিষ্ঠতার সাথে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যে আমল করা। সুতরাং যে আমল হবে টাকা উপার্জনের জন্য, নেতৃত্ব অর্জনের জন্য ও সুনাম-খ্যাতি অর্জনের জন্যে সে আমলে ইখলাস থাকবে না অর্থাৎ এসব ইবাদাত বা নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে না বরং তা ছোট শির্কে রূপান্তরিত হতে পারে। আল-কুরআনে এসেছে,
﴿ وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ ﴾ [البينة: ٥]
“আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ‘ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দীনকে একনিষ্ঠ করে” [সূরা আল-বাইয়্যেনাহ : ৫]

দুই.
ইবাদাতের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ। সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে সকল ইবাদাতের কথা উল্লেখ আছে সেগুলো পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ নেই।
কারণ, ইবাদাত হচ্ছে তাই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়ে দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে,
﴿ وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٧ ﴾ [الحشر: ٧]
‘এবং রাসূল তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা তোমরা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও’ [সূরা হাশর: ৭]। এ বিষয়ে রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ ».
‘‘যে এমন ইবাদত করল যাতে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই তা পরিত্যাজ্য হিসাবে গণ্য হবে’’। [সহীহ মুসলিম : ৪৫৯০]।
রমাদান মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো হলো-

[১] সিয়াম পালন করা
ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি রুকন হল সিয়াম। আর রমাদান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ। সেজন্য রমাদান মাসের প্রধান আমল হলো সুন্নাহ মোতাবেক সিয়াম পালন করা। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ ﴾ [البقرة: ١٨٥]
“সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে, মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে” [সূরা আল-বাকারাহ : ১৮৫]।
সিয়াম পালনের ফযিলাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ »
‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ইখলাস নিয়ে অর্থাৎ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার জন্য রমাদানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে’’ [সহীহ বুখারী : ২০১৪]।
«مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُوْمُ يَوْمًا فِيْ سَبِيْلِ اللهِ إِلاَّ بَاعَدَ اللهُ بِذَلِكَ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا»
‘‘যে কেউ আল্লাহর রাসত্মায় (অর্থাৎ শুধুমাত্র আল্লাহকে খুশী করার জন্য) একদিন সিয়াম পালন করবে, তাদ্বারা আল্লাহ তাকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে সত্তর বছরের রাসত্মা পরিমাণ দূরবর্তীস্থানে রাখবেন’’। [সহীহ মুসলিম : ২৭৬৭]

[২] সময় মত সালাত আদায় করা
সিয়াম পালনের সাথে সাথে সময় মত নামায আদায় করার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম হয়। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে,
﴿إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتۡ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ كِتَٰبٗا مَّوۡقُوتٗا ١٠٣ ﴾ [النساء: ١٠٣]
‘নিশ্চয় সালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।’ [সূরা নিসা : ১০৩] এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে,
«عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَقْرَبُ إِلَى الْجَنَّةِ قَالَ الصَّلَاةُ عَلَى مَوَاقِيتِهَا»
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! কোন আমল জান্নাতের অতি নিকটবর্তী? তিনি বললেন, সময় মত নামায আদায় করা। [সহীহ মুসলিম : ২৬৩]

[৩] সহীহভাবে কুরআন শেখা
রমাদান মাসে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। এ মাসের অন্যতম আমল হলো সহীহভাবে কুরআন শেখা। আর কুরআন শিক্ষা করা ফরয করা হয়েছে। কেননা কুরআনে বলা হয়েছে,
﴿ ٱقۡرَأۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلَّذِي خَلَقَ ١ ﴾ [العلق: ١]
‘‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন’’ [সূরা আলাক : ১]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন শেখার নির্দেশ দিয়ে বলেন,
« تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ ، وَاتْلُوهُ»
‘‘তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তিলাওয়াত কর’’ [মুসনাদ আলজামি : ৯৮৯০]।

[৪] অপরকে কুরআন পড়া শেখানো
রমাদান মাস অপরকে কুরআন শেখানোর উত্তম সময়। এ মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সাহাবীদেরকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ»
‘‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে ও অপরকে শিক্ষা দেয়’’ [সহীহ আল-বুখারী : ৫০২৭]।
«مَنْ عَلَّمَ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ ، كَانَ لَهُ ثَوَابُهَا مَا تُلِيَتْ»
‘যে আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত শিক্ষা দিবে, যত তিলাওয়াত হবে তার সাওয়াব সে পাবে’ [সহীহ কুনুযুস সুন্নাহ আন-নবুবিয়্যাহ : ০৭]।

[৫] সাহরী খাওয়া
সাহরী খাওয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে এবং সিয়াম পালনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাদীসে এসেছে,
«السُّحُورُ أَكْلَةٌ بَرَكَةٌ فَلاَ تَدَعُوهُ ، وَلَوْ أَنْ يَجْرَعَ أَحَدُكُمْ جَرْعَةً مِنْ مَاءٍ ، فَإِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الْمُتَسَحِّرِينَ»
‘‘সাহরী হল বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরী খাওয়া বাদ দিয়ো না। এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরী খেয়ে নাও। কেননা সাহরীর খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন’’ [মুসনাদ আহমাদ : ১১১০১, সহীহ]

[৬] সালাতুত তারাবীহ পড়া
সালাতুত তারাবীহ পড়া এ মাসের অন্যতম আমল। তারাবীহ পড়ার সময় তার হক আদায় করতে হবে। হাদীসে এসেছে,
« مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব হাসিলের আশায় রমাদানে কিয়ামু রমাদান (সালাতুত তারাবীহ) আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে’ [সহীহ আল-বুখারী : ২০০৯]
তারাবীহ এর সালাত বিতরসহ ২৩ রাকাআত, ২১ রাকাআত, ১৩ রাকাআত, অথবা ১১ রাকাআত পড়া যাবে। তারাবীহ এর সালাত তার হক আদায় করে অর্থাৎ ধীরস্থীরভাবে আদায় করতে হবে। তারাবীহ জামায়াতের সাথে আদায় করা সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে আছে,
«إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَة»ٍ
‘‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে প্রস্থান করা অবধি সালাত আদায় করবে (সালাতুত তারাবীহ) তাকে পুরো রাত কিয়ামুল লাইলের সাওয়াব দান করা হবে’’ [সুনান আবূ দাউদ : ১৩৭৭, সহীহ]।

[৭] বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা
এটি কুরআনের মাস। তাই এ মাসে অন্যতম কাজ হলো বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ ، وَالحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا ، لاَ أَقُولُ الْم حَرْفٌ ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ»
‘‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি হরফ পাঠ করে, তাকে একটি নেকি প্রদান করা হয়। প্রতিটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ’’ [সুনান আত-তিরমিযী: ২৯১০, সহীহ]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদান ব্যতীত কোন মাসে এত বেশি তিলাওয়াত করতেন না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«وَلاَ أَعْلَمُ نَبِىَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِى لَيْلَةٍ وَلاَ صَلَّى لَيْلَةً إِلَى الصُّبْحِ وَلاَ صَامَ شَهْرًا كَامِلاً غَيْرَ رَمَضَانَ».
‘‘রমাদান ব্যতীত অন্য কোনো রাত্রিতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করতে, কিংবা ভোর অবধি সালাতে কাটিয়ে দিতে অথবা পূর্ণ মাস রোযা পালন করে কাটিয়ে দিতে দেখি নি’’ [সহীহ মুসলিম : ১৭৭৩]।

[৮] শুকরিয়া আদায় করা
রমাদান মাস পাওয়া এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। সেজন্য আল্লাহ তা‘আলার বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করা এবং আগামী রমাদান পাওয়ার জন্য তাওফীক কামনা করা। রমাদান সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে,
﴿ وَلِتُكۡمِلُواْ ٱلۡعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡ وَلَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ ١٨٥ ﴾ [البقرة: ١٨٥]
‘‘আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।’’[সূরা আলবাকারাহ : ১৮৫]
﴿وَإِذۡ تَأَذَّنَ رَبُّكُمۡ لَئِن شَكَرۡتُمۡ لَأَزِيدَنَّكُمۡۖ وَلَئِن كَفَرۡتُمۡ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٞ ٧ ﴾ [ابراهيم: ٧]
‘‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আজাব বড় কঠিন’।’’ [সূরা ইবরাহীম : ৭] আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ামাতের শুকরিয়া আদায় করে বলতেন
« الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ »
অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য [সুনান আত-তিরমিযী : ২৭৩৮]

[৯] কল্যাণকর কাজ বেশি বেশি করা
এ মাসটিতে একটি ভাল কাজ অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। সেজন্য যথাসম্ভব বেশি বেশি ভাল কাজ করতে হবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« وَيُنَادِى مُنَادٍ يَا بَاغِىَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِىَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ »
‘‘এ মাসের প্রত্যেক রাতে একজন ঘোষণাকারী এ বলে আহবান করতে থাকে যে, হে কল্যাণের অনুসন্ধানকারী তুমি আরো অগ্রসর হও! হে অসৎ কাজের পথিক, তোমরা অন্যায় পথে চলা বন্ধ কর। (তুমি কি জান?) এ মাসের প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালা কত লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন’’ [সুনান আত-তিরমিযী : ৬৮৪]।

[১০] সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়া
রমাদান মাস ছাড়াও সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়ার মধ্যে বিরাট সাওয়াব এবং মর্যাদা রয়েছে। রমাদানের কারণে আরো বেশি ফজিলত রয়েছে। যেহেতু সাহরী খাওয়ার জন্য উঠতে হয় সেজন্য রমাদান মাসে সালাতুত তাহাজ্জুদ আদায় করার বিশেষ সুযোগও রয়েছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ »
‘‘ফরয সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল রাতের সালাত অর্থাৎ তাহাজ্জুদের সালাত’’ [সহীহ মুসলিম : ২৮১২]।

প্রথম প্রকাশ

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

ইলিয়াস লিখেছেন:

[৬] সালাতুত তারাবীহ পড়া
সালাতুত তারাবীহ পড়া এ মাসের অন্যতম আমল।

তারাবীর নামাজ না পড়লে কি রোজ হবে?

প্রয়োজনীয় টপিক। খুব ভাল লাগল। আল্লাহ যেন আমাদেরকে সঠিক আমল করার তাওফিক দেন।

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

Ahmad লিখেছেন:

তারাবীর নামাজ না পড়লে কি রোজ হবে?

অবশ্যই হবে ভাই। তারাবীহ নামাজ পড়া না পড়ার সাথে রোজা হওয়া/না হওয়ার কোন সম্পর্ক নাই আহমাদ ভাই।

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

অনেকেই তারাবীহ এর নামায ৮/১২ রাকাত পড়ে

এটা পড়লে কি হবে ?

আমি ২০ রাকাতই পড়ি ।

সুন্দর টপিকের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ভাইজান  smile

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

অনেকেই তারাবীহ এর নামায ৮/১২ রাকাত পড়ে
এটা পড়লে কি হবে ?

অবশ্যই হবে এবং ৮ রাকাত পড়লেই তারাবীর হক আদায় হয়ে যাবে।

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

ইলিয়াস লিখেছেন:
ছবি-Chhobi লিখেছেন:

অনেকেই তারাবীহ এর নামায ৮/১২ রাকাত পড়ে
এটা পড়লে কি হবে ?

অবশ্যই হবে এবং ৮ রাকাত পড়লেই তারাবীর হক আদায় হয়ে যাবে।

ধন্যবাদ ভাইজান......

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

ধন্যবাদ ভাইজান......

আপনাকেও ধন্যবাদ। smile

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

অনেকেই তারাবীহ এর নামায ৮/১২ রাকাত পড়ে

এটা পড়লে কি হবে ?

আমি ২০ রাকাতই পড়ি ।

সুন্দর টপিকের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ভাইজান  smile

১নং - অনেকে বলেন কমপক্ষে ১২ রাকাত পড়তে হয়, এই ব্যাপারে সুন্ধর মতামত আশা করছি
২নং - অনেকে বলেন বেতে'র নামজে শেষ রাকাতে দোয়ায় কুনু'ত পড়া বাধ্যতামুলক নয়, কথাটাকি সত্য সত্য হলে দোয়ায় কুনু'ত  না পড়ে তবে তারা কি পড়বে?

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

আউল লিখেছেন:

২নং - অনেকে বলেন বেতে'র নামজে শেষ রাকাতে দোয়ায় কুনু'ত পড়া বাধ্যতামুলক নয়,

অনকে বলেন বলে ইসলামে কোন কিছু নেই, আমি যদি কোন নিয়মের কথা বলি তাহলে অবশ্যই আমাকে রেফারেন্স সহ বলতে হবে। আর রেফারেন্স ছা্ড়া কোন কথা গ্রহণযোগ্য নয়। ধন্যবাদ আউল ভাই।

১০

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

ইচ্ছা থাকলেও ৮ রাকাত পরতে পারি নাই,২০ রাকাত ই পরতে হইছে  blushing ধন্যবাদ সুন্দর একটি টপিক উপস্থাপন করায়  thumbs_up

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

১১

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

আল্লাহ সবাই কুরআন ও হাদীস মোতাবেক আ'মল করার তৌফিক দান করুন। আমীন.....................................

সকলকে আমন্ত্রণ রইল!!!
সত্যের পথে চলুন, সত্যের পথ ভিজিট করুন।

১২

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

তারাবীহ এর নামায একেক দিন একেক মসজিদে পড়লে কি কোন ক্ষতি হয় ?

"We want Justice for Adnan Tasin"

১৩

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

অনেক কিছুই জানা হল

১৪

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

ইলিয়াস লিখেছেন:
Ahmad লিখেছেন:

তারাবীর নামাজ না পড়লে কি রোজ হবে?

অবশ্যই হবে ভাই। তারাবীহ নামাজ পড়া না পড়ার সাথে রোজা হওয়া/না হওয়ার কোন সম্পর্ক নাই আহমাদ ভাই।

এক মসজিদের ঈমাম কে খুতবায় বলতে শুনেছিলাম যে, তারাবির নামায না পরলে সেই দিনের রোজার সোয়াব মাঝ আসমানে ঝুলে থাকে। তারাবির নামায পরলে সেই দিনের রোজা আল্লাহ গ্রহণ করে।

কিন্তু আমি শিওর না হুজুর কোন হাদীসের আলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান দিয়েছেন।

আউল লিখেছেন:

তারাবীহ এর নামায একেক দিন একেক মসজিদে পড়লে কি কোন ক্ষতি হয় ?

ভাই এটা নফল নামায। এই কথা সব সময় মাথায় রাখবেন। তাই ক্ষতি হবার প্রশ্নই আসে না।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

জানিনা বিষয়টি এখানে দেয়া কতটুক যুক্তি সংগত হল তবে নতুন করে থ্রেড না খোলা হয় তাই এখানেই জানতে চেলাম।ভূল হলে ক্ষমা সুন্দর ৃষ্টিতে দেখবেন।

পবিত্র কুরআন এ পাক শরীফ এর শেষের কিছু ছোট সূরা (ক্রমিক আনুসারে) হলঃ-

১০৫ নং সূরা আল ফীল
১০৬ নং সূরা ক্বুরাইশ
১০৭ নং সূরা আল মাঊন
১০৮ নং সূরা আল কাওসার
১০৯ নং সূরা আল ক্বাফিরূন
১১০ নং সূরা আল নাছর
১১১ নং সূরা আল লাহাব
১১২ নং সূরা আল ইখলাস
১১৩ নং সূরা আল ফালাক্ব
১১৪ নং সূরা আল নাস।

আমার যেটা সমস্যা হয় সেটা হল নামজ পড়ার সময় প্রতি রাকাআত এ সূরা ফাতিহা পড়ার পর যে ছোট সূরা পড়তে হয় আমি সেটা কুরআন শরীফ এর ক্রমিক অনুসারে মিলিয়ে পড়তে পারি না,আগে পরে হয়ে যায়।এই যেমন প্রথম রাকাতে যদি সূরা ফাতিহার পর সূরা আল ফীল পড়ি তো দ্বিতীয় রাকাআত এ হয়ত সূরা আল ফালাক্ব পড়ে ফেলি আবার তৃতীয় রাকাআত এ সূরা মাঊন পড়ে ফেলি মানে সূরার কোনো সিরিয়াল আমার ঠিক থাকেনা এবং যার জন্য আমার খুব খারাপ লাগে।অনেক সময় সূরা ফাতিহার পর কোন সূরা পড়ব কোন সূরা পড়ব এই করে কিছুটা কাল ক্ষেপন হয়ে যায় তাই এই ব্যাপার সহীহ মাসআলা চাচ্ছি যে সূরা কি ক্রমিক অনুসারে পড়তে হবে নাকি আগে পিছে হলেও হবে???এরকম আরও অনেক ছোট ছোট ব্যপার আমাদের অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে তাই আমি চাইব সেই সকল ব্যপার গুলো নিয়ে যেন সকলে খোলা মনে এখানে আলোচনা করে।সবাইকে ধন্যবাদ আসসালামুআলাইকুম।

আমাদের দেশের সকল রাজনীতিবিদদের প্রতি আকুল আবেদনঃ- "আপনারা আপনাদের পরিবারকে যতটুকু ভালবাসেন,জনগনের টাকাকে যতটুকু ভালবাসেন তার চেয়েও কিঞ্চিত পরিমান কম হলেও এই দেশটাকে ভালবাসুন।দেশের মানুষদের ভালবাসুন।দেখবেন সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে"।

১৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন arnob216 (১৫-০৭-২০১৩ ১৮:১৮)

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:
আউল লিখেছেন:

তারাবীহ এর নামায একেক দিন একেক মসজিদে পড়লে কি কোন ক্ষতি হয় ?

ভাই এটা নফল নামায। এই কথা সব সময় মাথায় রাখবেন। তাই ক্ষতি হবার প্রশ্নই আসে না।

এটা নফল এই প্রথম শুনলাম!! আমি তো জানি এটা সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদাহ্‌!!

আর ইলিয়াস ভাইকে প্রশ্নঃ
রমজানে নাকি ২ ফরয। একটা তো হোলো সারাদিন না খেয়ে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি আর আরেকটি নাকি নিয়ত করা। এখন এই নিয়ত নিয়েই আমার কনফিউশন। নামাজ এর আগের নিয়ত যেমন করলে করো বা না করো ব্যপার না কিন্তু রমজানেরটা যদি ফরয হয় তাহলে তো অনেক গুরুত্বপুর্ণ। সেই ক্ষেত্রে এই নিয়ত কি মুখে উচ্চারণ জরুরি? বা মনে মনে হলেও পুরাপুরি একুরেট বলতে হবে? নাকি নামাজ এর মত খালি মনে মনে জানলেই হলো যে আমি রোজা রাখছি।

১৭

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

arnob216 লিখেছেন:
দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

ভাই এটা নফল নামায। এই কথা সব সময় মাথায় রাখবেন। তাই ক্ষতি হবার প্রশ্নই আসে না।

এটা নফল এই প্রথম শুনলাম!! আমি তো জানি এটা সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদাহ্‌!!

গতকাল এক মুরুব্বীকে নফল বলতে শুনলাম। তাই লেখার টানে লিখিছি। হ্যা আসলে এটা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্‌

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

ভাল লাগলো  waiting

আসো প্রযুক্তি সাথে প্রেম করি !!!
আবু রায়হান || রায়হান ব্লাগ

১৯

Re: রমজানের ৩০টি আ’মল-১

আউল লিখেছেন:

তারাবীহ এর নামায একেক দিন একেক মসজিদে পড়লে কি কোন ক্ষতি হয় ?

না কোন ক্ষতি হয় না ।

রাজ হাসান লিখেছেন:

সূরা কি ক্রমিক অনুসারে পড়তে হবে নাকি আগে পিছে হলেও হবে???

ক্রমিক অনুসারে পড়া মুস্তাহাব । ক্রমিক অনুযায়ি না পড়লেও নামায আদায় হয়ে যাবে।

arnob216 লিখেছেন:

রমজানে নাকি ২ ফরয। একটা তো হোলো সারাদিন না খেয়ে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি আর আরেকটি নাকি নিয়ত করা।

হুম নিয়তেও একটি ফরয আদায় হয়। আর নামাজের মতই মনে মনে নিয়ত করলেই চলবে, যেমনটা করে থাকেন নামাজের সময়টাতে। মুখে উচ্চারন জরুরী নয়।


মন্তব্যের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।