টপিকঃ নতুন প্রজাতির মানুষ!

প্রথম আলোতে একটা চমৎকার প্রতিবেদন পড়লাম। যারা দেখেননি তাদের জন্য।
http://news.bbcimg.co.uk/media/images/62133000/jpg/_62133930_skull.jpg

প্রায় ২০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রজাতির মানুষ ছিল। আফ্রিকা মহাদেশেই স্বতন্ত্র তিন প্রজাতির মানুষের অস্তিত্ব ছিল। সম্প্রতি গবেষকেরা উত্তর কেনিয়ায় উদ্ধার করা জীবাশ্ম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য পাওয়ার কথা দাবি করেছেন। গত বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আদিম যুগের বানর-সদৃশ প্রাণীর সরাসরি বিবর্তনের ফলে মানুষ এসেছে বলে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, নতুন গবেষণায় এর বিপরীতে যুক্তি তুলে ধরার মতো জোরালো প্রমাণ তাঁদের হাতে এল।
নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে গবেষকেরা জানান, আফ্রিকায় এর আগে দুই প্রজাতির মানুষের খোঁজ পেয়েছিলেন তাঁরা। নতুন প্রজাতির মানুষের তথ্য যোগ হওয়ায় আফ্রিকায় মোট তিন প্রজাতির মানুষের সন্ধান পাওয়া গেল। কেনিয়ার নৃতাত্ত্বিকেরা ১৭ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১৯ লাখ ৫০ হাজার বছরের পুরোনো মানুষের তিনটি জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে মুখসহ খুলি ও চোয়ালের হাড়সহ দাঁত।
গবেষকেরা ১৯৭২ সালে একটি মাথার খুলি আবিষ্কার করেছিলেন, যা মানুষের প্রজাতির চেয়ে আলাদা ছিল। আবিষ্কৃত এই প্রজাতির মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হোমো রুডলফেনসিস। এই মানুষটির মাথার খুলি অন্য মানুষের চেয়ে ভিন্ন ছিল। কারণ, এর খুলিতে মস্তিষ্কের আকার ছিল তুলনামূলক বড় এবং মুখ ছিল সমতল। কিন্তু গত চার দশকে এই প্রজাতির মানুষের আর কোনো নমুনা আবিষ্কার করতে পারেননি গবেষকেরা। তাই এটাকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারছিলেন না তাঁরা। তবে কেনিয়ায় নতুন তিনটি জীবাশ্মের খোঁজ পাওয়ায় ১৯৭২ সালের আবিষ্কৃত খুলিটি ভিন্ন প্রজাতির মানুষের বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন।
১৮ লাখ বছর আগে হোমো ইরেকটাস পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে পুরোনো প্রজাতি ছিল বলে ধারণা করতেন গবেষকেরা। এই প্রজাতির মানুষের মাথার আকার ছিল ছোট। কিন্তু ৫০ বছর আগেই গবেষকেরা আবিষ্কার করেন, এর চেয়েও পুরোনো প্রজাতি হোমো হ্যাবিলিস ওই সময় একই সঙ্গে পৃথিবীতে বাস করত।
গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন নাইরোবির টারকানা বাসিন ইনস্টিটিউটের গবেষক মিয়াভ লিকে। তিনি জানান, ‘মানুষের প্রজাতির মধ্যে ভিন্নতা ছিল। অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে যেভাবে বিবর্তন-প্রক্রিয়া ঘটেছে, মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম বিবর্তন ঘটেছে। ’
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের গবেষক ক্রিস স্ট্রিংগার বলেন, একেক অঞ্চলে একেক রকমের মানুষের বিবর্তন ঘটেছিল। প্রকৃতি বিভিন্ন ধরনের মানুষ তৈরি করেছিল। এর মধ্যে কেবল বর্তমান প্রজাতিটিই বিবর্তন-প্রক্রিয়ায় টিকে থাকতে সমর্থ হয়েছে। গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ফ্রেড স্পুর জানান, বিবর্তনের ক্ষেত্রে আগে মনে করা হতো সরাসরি বানর-সদৃশ প্রাণী থেকে মানুষের বিবর্তন ঘটেছে। প্রাইমেট থেকে সরাসরি বিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করা হলেও বিষয়টি সরাসরি ঘটেনি। বিবিসি।

প্রথম আলোর লিংক। এখানে কমেন্টে বিবর্তনের পক্ষে চমৎকার যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন।

প্রথম আলোর খবর বিবিসির এই খবরের অনুবাদ।

মুল আর্টিকেলের এক ঝলক দেখতে পারেন এখান থেকে। (নেচার) পুরোটা পড়তে পয়সা লাগবে।  tongue

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ  smile

Domain Registration | Hosting Solution | Web Development
99.9% Uptime Guarantee | 24/7 Live Support | SSD Server.
Best Domain Hosting Company in Bangladesh

রাজিব আহসান'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শ্রাবন (১১-০৮-২০১২ ০৯:৩৩)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

সব চেয়ে মজার কথা হচ্ছে ... বানর সদৃশ্য থেকে তো অবশ্যই শুধু তাই নয় ...
এক সময় ডাঙ্গায় চলাচলের উপযোগী ছিলাম না আমরা ...
পেছনে ছিল একটি লেজ ... এবং পানিতে শ্বাস নেয়ার উপযোগী ফুস ফুস টাইপ ।
এটা আরো পুরোনো কথা ...
একটা জিনিস ঠিক ধরে নিতে পারেন ... ইউ অল কেইম ফ্রম দি সেইম রুট ... ওহাট ইউ কল লাইফ ...
আমরা সবাক একই রূট থেকে এসেছে ... সোজা বাংলায় যাকে বলে জীবন ...
এর ভিতরে একটা কোডিং আছে , যাকে বলা হয় ডিএনএ (DNA)
এটা পরিবর্তিত হচ্ছে ... এটা শুধু পরিবর্তন হচ্ছেই না ... পরিবর্তন হচ্ছে আপনার ইচ্ছা অনিচ্ছাতে ...
আপনাকে যদি এমন একটা গ্রহে পাঠিয়ে দেয়া হয় , যেই গ্রহে কোন মাটি নেই শুধু পানি এবং পানি ...
আপনার শরীর প্রাথমিক ভাবে কিছু পরিবর্তিত হবে ... যা সম্পুর্ন ভাবে ঐ পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ন না হলেও দেখবেন পরবর্তিতে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্যে ... আপনার পরবর্তি প্রজন্মে তার পরবর্তি প্রজন্মে অথবা তার এবং তার পরের প্রজন্মে ( হাজার বছর অথবা লাখ ) ঠিকি সম্পুর্ন ভাবে বেচে থাকার উপকরন বানিয়ে ফেলেছে । হয়তোবা পিছন দিক দিয়ে একটা লেজ বের হয়েছে ... দেখবেন দুপাশে দুটি পাখা বেড়িয়েছে ...
আসলে কথা গুলো খুব মজার মনে হলেও বাস্তবতা আসলেই উদ্ভট এবং অকল্পনীয় ।

শ্রাবন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১১-০৮-২০১২ ১২:৫৪)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ! রুডল্ফেনসিসের নাম আগে দু'একবার শুনেছিলাম। এদের সম্পর্কে ডিটেলস জানা হলো আজকে।

বিবিসির খবরটিতে মানুষের উদ্ভবের একটি আপডেটেড টাইমলাইন দিয়েছে:
http://i.imgur.com/b8GNt.jpg
এখনো অবশ্য প্রচুর গ্যাপ রয়েছে ছবিটিতে।

আরেকটি ব্যাপার খেয়াল করতে পারেন, KNM-ER 1470 নামক রুডল্ফেনসিসের প্রথম স্যাম্পলটি আবিষকৃত হয়েছিলো ১৯৭২ সালে। কিন্তু এই চল্লিশ বছর রুডল্ফেনসিস নিয়ে কেউ কোনো দাবী করতে পারেন নি। ২০০৭-৯ সালে নতুন কংকাল আবিষ্কৃত হয়ে পুরণো স্যাম্পলটি রিকনফার্ম করার পরই তাঁরা এখন নতুন আরেকটি প্রজাতির ব্যাপারে ঘোষণা দিচ্ছেন।

৩/৪ দিন আগের একটি খবরে পড়লাম, প্রাগৈতিহাসিক মানুষ মাংশাষী ছিলো। খাবারদাবারে টান পড়লে গোত্রের কাউকে হত্যা করে নিজেরাই খেয়ে ফেলতো। নিয়ান্ডার্থালরা মানুষও করতো, আর আমাদের লাইনের পূর্বপুরুষরাও এই কাজ করতো। ভবিষ্যৎে আরো কত অদ্ভূত তথ্য জানা যাবে কে জানে?

Calm... like a bomb.

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (১১-০৮-২০১২ ১৮:৪৫)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আরণ্যক লিখেছেন:

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আদিম যুগের বানর-সদৃশ প্রাণীর সরাসরি বিবর্তনের ফলে মানুষ এসেছে বলে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, নতুন গবেষণায় এর বিপরীতে যুক্তি তুলে ধরার মতো জোরালো প্রমাণ তাঁদের হাতে এল।

যাক কালু ভাইয়ের সাথে গলা মিলিয়ে আলু ভাইদের ফাউল রিপোর্টিংয়ের নমুন দেখে  lol2
এখানে অত্যন্ত যৌক্তিক ভাবে এর উত্তর দেয়া হয়েছে.এদেশে আবুলরাই যে না বুঝে রিপোর্টিং করে তার আরেকটা প্রমান  angry  hairpull
http://www.smbc-comics.com/comics/20090830.gif

http://www.phdcomics.com/comics/archive/phd051809s.gif

hit like thunder and disappear like smoke

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আরণ্যক লিখেছেন:

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আদিম যুগের বানর-সদৃশ প্রাণীর সরাসরি বিবর্তনের ফলে মানুষ এসেছে বলে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, নতুন গবেষণায় এর বিপরীতে যুক্তি তুলে ধরার মতো জোরালো প্রমাণ তাঁদের হাতে এল।

বিপরীত যুক্তিটা কি আর প্রমান টাই বা কি?

নেচারের মুল আর্টিকেলটা দেখলাম। বিপরীত যু্ক্তি কিছুই পেলামনা। এটি একটি সতন্ত্র প্রজাতি সেটিই বলা হয়েছে। ৬০ লাখ থেকে ১৫ লাখ বছর পর্যন্ত অনেক গুলো সতন্ত্র হোমো প্রজাতির বিবর্তন ঘটেছিল এটা নিতান্তই পুরান খবর। ২০ লাখ বছর আগে আরেকটি হোমো প্রজাতির অস্তিত্ব কনফার্ম হওয়া একটি প্রত্যাশিত ঘটনা। এটি বরং বানর-সদৃশ প্রাণীর সরাসরি বিবর্তন কেই সাপোর্ট করে।

@m0N  চমৎকার কার্টুন  lol2 lol2 lol2

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফারহান খান (১১-০৮-২০১২ ১৯:৩৪)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@m0N লিখেছেন:
আরণ্যক লিখেছেন:

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আদিম যুগের বানর-সদৃশ প্রাণীর সরাসরি বিবর্তনের ফলে মানুষ এসেছে বলে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, নতুন গবেষণায় এর বিপরীতে যুক্তি তুলে ধরার মতো জোরালো প্রমাণ তাঁদের হাতে এল।

যাক কালু ভাইয়ের সাথে গলা মিলিয়ে আলু ভাইদের ফাউল রিপোর্টিংয়ের নমুন দেখে  lol2
এখানে অত্যন্ত যৌক্তিক ভাবে এর উত্তর দেয়া হয়েছে.এদেশে আবুলরাই যে না বুঝে রিপোর্টিং করে তার আরেকটা প্রমান  angry  hairpull


হা হা হা হা হা, ব্যাপক মজা পাইলাম । big_smile আমাদের কে শুরুতেই পড়ানো হয়েছিল মিডিয়া স্টাডিজ এ
Media Is All Powerful

tongue tongue tongue tongue

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

হুম! সবার রিয়াকশনে মজা পেলাম। অনেকে দেখি না পড়েই .......। tongue

আবার কেউ কেউ দেখি শুধু এক জায়গার ব্যাখ্যাতেই সন্তুষ্ট হন। hehe

সবাই যে ভাবে কোট করেছেন তাতে মনে হচ্ছে মহামুল্যবান তত্ব আমি দিয়েছি। lol2 lol2  lol2 lol2 lol2 lol2 lol2
এইভাবে কোট করলে ভাল বধহয় পরিষ্কার হতো-

আরণ্যক লিখেছেন:

গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ফ্রেড স্পুর জানান, বিবর্তনের ক্ষেত্রে আগে মনে করা হতো সরাসরি বানর-সদৃশ প্রাণী থেকে মানুষের বিবর্তন ঘটেছে। প্রাইমেট থেকে সরাসরি বিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করা হলেও বিষয়টি সরাসরি ঘটেনি। বিবিসি।

প্রথম আলো না বিবিসি নিউজের রিপোর্টে কি লেখা আছে দেখা যাক-

For a long time the oldest known human ancestor was thought to be a primitive species, dating back 1.8 million years ago called Homo erectus. They had small heads, prominent brows and stood upright.

But 50 years ago, researchers discovered an even older and more primitive species of human called Homo habilis that may have coexisted with H. erectus. Now it seems H. rudolfensis was around too and raises the distinct possibility that many other species of human also existed at the time.

This find is the latest in a growing body of evidence that challenges the view that our species evolved in a smooth linear progression from our primate ancestors.

আর এত উত্তেজিত হবার কিছু নাই। আমি অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে একটা প্রতিবেদন তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং সেখানে আমার নিজস্ব কোন মতামতও দেইনি। আশা করি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে পেরেছি। neutral

দয়া করে এখনে অন্যকে কটাক্ষ করে কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। এদেশের প্রধান দৈনিক পত্রিকার নাম প্রথম আলো। আলু  বলে কোন দৈনিকের কথা আমার জানা নেই। waiting

@মন চমৎকার কার্টুনের জন্য ধন্যবাদ।

সবাইকে অনুরোধ করছি মজার হলেও অফটপিক করবেন না। একান্ত করতে ইচ্ছা করলে আজাইরা তো আছেই। hug

invarbrass লিখেছেন:

৩/৪ দিন আগের একটি খবরে পড়লাম, প্রাগৈতিহাসিক মানুষ মাংশাষী ছিলো। খাবারদাবারে টান পড়লে গোত্রের কাউকে হত্যা করে নিজেরাই খেয়ে ফেলতো। নিয়ান্ডার্থালরা মানুষও করতো, আর আমাদের লাইনের পূর্বপুরুষরাও এই কাজ করতো। ভবিষ্যৎে আরো কত অদ্ভূত তথ্য জানা যাবে কে জানে?

এর জন্য এত দুর যেতে হবে কেন এক দেড়শ বছর আগের আফ্রিকার দিকে তাকালেই তো হবে। আবার ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপজাতি এখনও নর খাদক রয়েগেছে জানা যায়।
তবে ভাইয়া, আমার মনে হয়, আমরা এক চমৎকার সময়ে জন্মেছি। অনেক কিছু জানতে পারছি। অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারছি। smile

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মামুন.pb (১১-০৮-২০১২ ২০:৩১)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আমি বিজ্ঞানের ছাত্র নই।বানর থেকে মানুষ এটা আমার বিশ্বাস হয় না।যদি বলেন,বলেন মানুষ থেকেই মানুষের বিবর্তন হয়েছে,বিভিন্ন রং চেহারা,বিভিন্ন দেহ কাঠামো;তাহলে আমার আপত্তি নেই।গাড়ির বিবর্তন গাড়ি থেকেই হয়েছে।আচ্ছা বানর বা বানর সাদৃশ্য প্রনীই কি পৃথিবীর প্রথম প্রাণী?
তাহলে বানর বা বানর সাদৃশ্য প্রানীগুলো কি থেকে বিবর্তিত হলো?
সে যাই হোক এটা আমার ব্যাক্তগত মতামত।বিজ্ঞানে কিন্তু অনেক জায়গাতেই মতবিরোধ আছে,বিজ্ঞান সম্ভবনার বিশ্বাস করে।বিজ্ঞান কিন্তু মত বদলায়,বিজ্ঞান কিন্তু সর্বশেষ প্রমানিত বিষয় মানতে দ্বিধা করে না।।গবেষকগন অনেক জ্ঞান।আসলে অন্ধ ধার্মিক আর অন্ধ বিবর্তনবাদী একই কথা।যখন বিজ্ঞানের কোন গবেষনা রিপোর্ট আপনার বিশ্বাসের বিপক্ষে যায়,শুধু অত্যেজিত না হয়ে বলুন বিজ্ঞানের নতুন রিপোর্ট এটা বলেছে।ব্রাসু ভাইকে ধন্যবাদ।বিজ্ঞান আর কতো তথ্য আমাদেরকে জানাবে।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

১০

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

সব মিথ্যে।
মানুষ থেকেই মানুষ হচ্ছে। বানর থেকে বানর হচ্ছে। বিবর্তনের ফলে রঙ, চেহারা , আকার পরিবর্তন ঘটে কিন্তু মানুষ থেকে বানর বা উল্টোটা সম্ভব নয়। যত প্রাণী দেখছি সব পরিপূর্ণ। যদি বিবর্তন চলতো তাহলে নিশ্চয় ৯৯% মানুষের মত কিন্তু ১% অমিল কোন প্রাণী পেতাম।
অনু পরমানু আর এককোষী প্রাণী ধক্কাধাক্কি করে এত সুন্দর জেনেটিক গঠন সম্ভব নয়। সব সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ।

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (১১-০৮-২০১২ ২১:২৮)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@vb_coder: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

কিন্তু এখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়ে কোন তুলনা বা বিতর্ক করা যাবে না। যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে তার উপর আলোচনা করা যেতে পারে।

ঈশ্বর ও বিজ্ঞান ও ধর্ম  নিয়ে একটা টপিক ইতিমধ্যে ফোরামে চলছে। বিতর্কের জন্য সেটা বেশ ভাল জায়গা। hug

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১২

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আরণ্যক লিখেছেন:

@vb_coder: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

কিন্তু এখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়ে কোন তুলনা বা বিতর্ক করা যাবে না। যে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে তার উপর আলোচনা করা যেতে পারে।

ঈশ্বর ও বিজ্ঞান ও ধর্ম  নিয়ে একটা টপিক ইতিমধ্যে ফোরামে চলছে। বিতর্কের জন্য সেটা বেশ ভাল জায়গা। hug

আরণ্যক ভাই, আমি বিতর্ক করছি না। মন্তব্য দিয়েছি মাত্র। মন্তব্যটা আপনাকে নয়, বিবর্তনকে ।
প্রথম আলোর এই খবরটা আমিও পরেছিলাম।

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন হৃদয় (১১-০৮-২০১২ ২২:২৩)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

that challenges the view that our species evolved in a smooth linear progression

এই বিষয়ে তো অনেক আগে থেকেই দ্বিমত ছিলো বলে জানি। বিবর্তন হচ্ছে এটা তো নিশ্চিত, সেটার ডিটেইল মেকানিজম নিয়েই দ্বিমত। ভাষার প্রেক্ষিতে প্রথম আলো পত্রিকার উক্ত জার্নালিস্টের লেখায় কিছু কনফিউশন তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আদিম যুগের বানর-সদৃশ প্রাণীর সরাসরি বিবর্তনের ফলে মানুষ এসেছে বলে যে প্রচলিত ধারণা রয়েছে

লিনিয়ার প্রোগ্রেশানের বাংলা "সরাসরি" করাটা বড়োসড়ো ব্লান্ডার। ইংরাজিতে এককথায় লেখা আছে বলেই বাংলাতেও এককথায় না লিখে বরং দুচার কথায় বুঝিয়ে বলাটাই উচিত হতো  worried

বিবর্তনের ধারায় কোথাও কোথাও একাধিক প্রজাতির মিশ্রণ ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইনভারব্রাস ভাই যে ছবিটি দিয়েছেন তাতেও দেখা যাচ্ছে একই সময়কালে এদের একাধিক স্পিসিস বর্তমান ছিল।  সুতরাং জীবাশ্মবিদ্যার সাহায্যে গ্যাপগুলো ফিলআপ করা গেলে হয়ত দেখা যাবে বিভিন্ন প্রজাতির মিশ্রণ ঘটেছে। তাহলে বিবর্তনটাকে আর পুরোপুরি লিনিয়ার বলা যাবেনা। উন্নততম প্রাণী মানুষের বিবর্তন ধারা ঘোড়ার মত লিনিয়ার হবে সেটা আশা করাও ঠিক না। শাখাপ্রশাখা থাকাই স্বাভাবিক। যদিও আরও প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে একথা বলারও উপায় নেই  thinking

একেক অঞ্চলে একেক রকমের মানুষের বিবর্তন ঘটেছিল। প্রকৃতি বিভিন্ন ধরনের মানুষ তৈরি করেছিল। এর মধ্যে কেবল বর্তমান প্রজাতিটিই বিবর্তন-প্রক্রিয়ায় টিকে থাকতে সমর্থ হয়েছে।

ন্যাচারাল সিলেকশান।

গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ফ্রেড স্পুর জানান, বিবর্তনের ক্ষেত্রে আগে মনে করা হতো সরাসরি বানর-সদৃশ প্রাণী থেকে মানুষের বিবর্তন ঘটেছে। প্রাইমেট থেকে সরাসরি বিবর্তন ঘটেছে বলে মনে করা হলেও বিষয়টি সরাসরি ঘটেনি।

মানুষের বিভিন্ন জীবাশ্ম এবং অন্যান্য বিবর্তনের এভিডেন্স সম্পর্কে দু-চারপাতা পড়ে আমারও একসময় তাই ধারণা হয়েছিল। কিন্তু পরে যখন মিউটেশানের ব্যাপারে জানলাম তখন সৎভাবে প্রোবাবিলিটি বিবেচনা করে দেখলাম সরাসরি বিবর্তন নাও হতে পারে, কিন্তু তার মানেই যে বিভিন্ন বিচিত্র মানবসদৃশ জীব এবং বর্তমান মানুষের বিবর্তন ধারা কোথাও ক্ল্যাশ করেছিল সেটা বলা যায়না। কারণ এমন হতেই পারে যে, যে মানুষের সাথে কোনও বিচিত্র জীবাশ্মের যে দৃষ্টি-আকর্ষণকারী বৈশিষ্ট্যগুলোর মিল দেখা যাচ্ছে, সেগুলো মিউটেশানের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে একটি বিবর্তন স্তরে সৃষ্টি হয়েছিলো  worried যাইহোক, পুরোটাই লজিক কপচানো। বাস্তবে জীবাশ্মবিদরা যেকোন সময় মানুষের বিবর্তনের বিষয়ে চমকপ্রদ কোনও তথ্য হাজির করতে পারেন যেটা হয়ত আপাতভাবে চিন্তাই করা যায়নি।
তবে সেটা কখনোই বিবর্তনের মূল স্টেটমেন্টগুলোর সাথে কন্ট্রাডিক্টরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই  neutral

সম্পাদিত: এইমাত্র @mon ভাইয়ের দেওয়া লিংকটা পড়ে বুঝলাম আমার এই মন্তব্য করার কোন প্রয়োজন ছিলনা। একটু ঝাঁঝের সাথে হলেও লেখক খুব ভালোভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন।

"No ship should go down without her captain."

হৃদয়১'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (১১-০৮-২০১২ ২২:৩৭)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

দাদাকে পেয়ে ভাল লাগছে। smile

হৃদয় লিখেছেন:

লিনিয়ার প্রোগ্রেশানের বাংলা "সরাসরি" করাটা বড়োসড়ো ব্লান্ডার। ইংরাজিতে এককথায় লেখা আছে বলেই বাংলাতেও এককথায় না লিখে বরং দুচার কথায় বুঝিয়ে বলাটাই উচিত হতো 

দাদা, বাংলাটা কি হলে ভাল হত বলে আপনার মনে হয়?

হৃদয় লিখেছেন:

যাইহোক, পুরোটাই লজিক কপচানো। বাস্তবে জীবাশ্মবিদরা যেকোন সময় মানুষের বিবর্তনের বিষয়ে চমকপ্রদ কোনও তথ্য হাজির করতে পারেন যেটা হয়ত আপাতভাবে চিন্তাই করা যায়নি।
তবে সেটা কখনোই বিবর্তনের মূল স্টেটমেন্টগুলোর সাথে কন্ট্রাডিক্টরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই 

এজন কে যুক্তি দিতে দেখেছিলাম বিবর্তনবাদের অকাট্য প্রমান হতে পারে ডাইনোসারের যুগে খরগোশের ফসিল উদ্ধার। যা কখনও পাওয়া যাবে না বলে তিনি দাবি করেছেন।

আমার কাছে বিবর্তনের একটা বিষয় অদ্ভুদ লাগে, যোগ্যতমের টিকে থাকার জন্য এক কোষি প্রাণীরা বিবর্তিত হয়ে বহুকোষী এবং বর্তমানের আকার বিশিষ্ট প্রাণীতে পরিনত হলো। কিন্তু আবার দেখা যায় এক কোষী প্রাণীরা ঠিকই পৃথিবীতে টিকে আছে। ঠিকে থাকার জন্য তাদের বিবর্তিত হতে হলো না। thinking

আরশোলাই কি তাহলে নিখুত প্রাণী? কারণ তারা বিবর্তিত হয়েছে সবচেয়ে কম। আবার আরশোলার দেখি বিভিন্ন প্রজাতিও রয়েছে।

এখনও অনেক 'যদি' ব্যবহার হচ্ছে ব্যাখ্যায়। বিজ্ঞানের  উন্নতির সাথে এক সময় হয়ত পুরো সত্যটা জানা যাবে। তবে বিষয় গুলি খুব কৌতুহল উদ্দিপক। ব্রাশু ভাইকে ধন্যবাদ।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১২-০৮-২০১২ ০০:১৩)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

মামুন.pb লিখেছেন:

আমি বিজ্ঞানের ছাত্র নই।বানর থেকে মানুষ এটা আমার বিশ্বাস হয় না।যদি বলেন,বলেন মানুষ থেকেই মানুষের বিবর্তন হয়েছে,বিভিন্ন রং চেহারা,বিভিন্ন দেহ কাঠামো;তাহলে আমার আপত্তি নেই।গাড়ির বিবর্তন গাড়ি থেকেই হয়েছে।আচ্ছা বানর বা বানর সাদৃশ্য প্রনীই কি পৃথিবীর প্রথম প্রাণী?
তাহলে বানর বা বানর সাদৃশ্য প্রানীগুলো কি থেকে বিবর্তিত হলো?
সে যাই হোক এটা আমার ব্যাক্তগত মতামত।বিজ্ঞানে কিন্তু অনেক জায়গাতেই মতবিরোধ আছে,বিজ্ঞান সম্ভবনার বিশ্বাস করে।বিজ্ঞান কিন্তু মত বদলায়,বিজ্ঞান কিন্তু সর্বশেষ প্রমানিত বিষয় মানতে দ্বিধা করে না।।গবেষকগন অনেক জ্ঞান।আসলে অন্ধ ধার্মিক আর অন্ধ বিবর্তনবাদী একই কথা।যখন বিজ্ঞানের কোন গবেষনা রিপোর্ট আপনার বিশ্বাসের বিপক্ষে যায়,শুধু অত্যেজিত না হয়ে বলুন বিজ্ঞানের নতুন রিপোর্ট এটা বলেছে।ব্রাসু ভাইকে ধন্যবাদ।বিজ্ঞান আর কতো তথ্য আমাদেরকে জানাবে।

(কিছুটা অফটপিক হয়ে যাচ্ছে) বানর থেকে মানুষ এসেছে এটা বিবর্তনবাদ কখনো বলে না - বরং কিছু মানুষ-রূপী বানর তথা কৃয়েশনিস্টরাই এ ধরণের ফালতু মিথ্যে তথ্য তৈরী করেছিলো। (সম্ভবত: এদের ব্রেন ডেভেলপমেন্ট বিবর্তনের একটি পর্যায়ে এসে থেমে গেছিলো যার জন্য তারা এইপস আর মাংকী-র মধ্যে পার্থক্য বুঝতে অক্ষম)

মানুষ এবং এইপস-এর কমন উৎপত্তি সম্পর্কে এখানে অল্পদিন আগে আলোচনা করা হয়েছে।

অন্ধ ধার্মিকের ব্যাপারে কিছু বলার নেই। তবে "অন্ধ বিবর্তনবাদী"-র ব্যাপারে আপত্তি আছে। খেয়াল করে দেখুন - রুডল্ফেনসিস ফসিল প্রথম আবিষ্কার হয়েছে আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগে। কিন্তু এত বছর ধরেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে প্যালিওবায়োলজিস্টরা কোনো দাবী করেন নি। ৩/৪ বছর আগে যখন আরো প্রমাণ পাওয়া গেলো, এখন ২০১২ সালে এসে গবেষকরা বলছেন যে ওটা আলাদা এক প্রজাতির হোমো। ওটা যে আলাদা প্রজাতির ফসিল তা তাঁরা প্রথমবারই আঁচ করেছিলেন, তবুও নিজের খেয়ালখুশিমত কোনো তত্ব উপস্থাপন করেন নি, উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাঁদের ৪০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর পরেও বিবর্তনবাদীদের যদি কেউ অন্ধ তকমা দেন, বোধ করি তা বরং ঐ ব্যক্তিরই বৈজ্ঞানিক গবেষণাপদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতাপ্রসূত।

এজন কে যুক্তি দিতে দেখেছিলাম বিবর্তনবাদের অকাট্য প্রমান হতে পারে ডাইনোসারের যুগে খরগোশের ফসিল উদ্ধার। যা কখনও পাওয়া যাবে না বলে তিনি দাবি করেছেন।
আমার কাছে বিবর্তনের একটা বিষয় অদ্ভুদ লাগে, যোগ্যতমের টিকে থাকার জন্য এক কোষি প্রাণীরা বিবর্তিত হয়ে বহুকোষী এবং বর্তমানের আকার বিশিষ্ট প্রাণীতে পরিনত হলো। কিন্তু আবার দেখা যায় এক কোষী প্রাণীরা ঠিকই পৃথিবীতে টিকে আছে। ঠিকে থাকার জন্য তাদের বিবর্তিত হতে হলো না।
আরশোলাই কি তাহলে নিখুত প্রাণী? কারণ তারা বিবর্তিত হয়েছে সবচেয়ে কম। আবার আরশোলার দেখি বিভিন্ন প্রজাতিও রয়েছে।

ওটা বোধহয় রিচার্ড ডকিন্সের উক্তি। না, যতদূর জানি তিনি ডাইনোসরের লেয়ারে খরগোশ পাওয়া যাবে না এমন ভবিষ্যৎবাণী করেন নি। তবে এখনো পর্যন্ত যে লক্ষ লক্ষ ফসিল আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে সঠিক যায়গায় একটাও উল্টো ফসিল পাওয়া যায়নি এই যুক্তিটি দিয়েছিলেন।

ফোরামে কলোডিকটিয়ন সম্পর্কে একটি থ্রেড আছে - এরা বিলিয়ন বছর ধরে "অপরিবর্তিত"। আরশোলা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে একটা পর্যায়ে এসে মোটামুটি থেমে গিয়েছে - আধুনিক আরশোলার সাথে পৃহিস্টোরিক আরশোলা ফসিলগুলোর অমিল খুব বেশি না (সামান্য বিবর্তন অবশ্যই হয়েছে)।
আপডেট: উইকী থেকে ৩০০ মিলিয়ন বছর আগের ফসিলের ছবি (আরশোলাটি এ্যাম্বার পাথরের মধ্যে আটকা পড়েছিলো তাই এত নিখুঁতভাবে শতশত মিলিয়ন বছর সংরক্ষিত রয়েছে):
http://i.imgur.com/X8goO.jpg

সম্ভবত: ২০০০ সালে আরশোলার প্রাগৈতিহাসিক ফসিল আবিষ্কৃত হয়েছিলো। ডাইনোসরের ৫০-৬০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর বুকে আরশোলা আবির্ভূত হয়েছে। ডাইনোসররা বিলীন হয়ে গেছে - কিন্তু এই নচ্ছার প্রাণীটি এখনো সগর্বে টিকে আছে!

এভুলুশনারী প্রেশার বা সিলেক্সন প্রেশার বলে একটি ব্যাপার আছে। একটি প্রাণীকে তার পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে (এ্যাডাপ্টেশন) চলতে হয় - এ কারণে প্রাণীর শারীরিক কাঠামো বিবর্তিত হয়ে চলেছে। কিন্তু কোনো প্রাণী যদি এমন একটি স্টেজে চলে আসে যখন সে তার ইকোসিস্টেমের সাথে সুন্দরভাবে ফিট হয়ে যায়, তখন প্রেশারটা কমজোর হয়ে যায়, প্রাণীটির পক্ষেও আর বিবর্তিত হবার পেছনে কোনো জোরালো কারণ থাকে না। আরশোলা প্রাণীটি ৩০০ মিলিয়ন বছর আগেই বিবর্তনের জিগস পাযল মিলিয়ে ফেলেছিলো - অর্থাৎ আরশোলা তার পারিপার্শ্বিক ইকোসিস্টেমের সাথে সুন্দরভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলো।

স্কুল/কলেজের বায়োলজী থেকে আপনি জানেন আরশোলার কংকালটি এক্সো-স্কেলিটন নামে পরিচিত (অর্থাৎ, এদের কংকালটি দেহের বাইরে থাকে)। স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন মানুষের কংকালটি এন্ডোস্কেলিটন (দেহের ভেতরে থাকে) - কংকালের চারপাশে সফট টিস্যু (মাসল, ধমণী/শিরা, ত্বক) দ্বারা পরিবেষ্টিত।

আরশোলার জন্য এক্সোস্কেলিটন ভালো সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। শক্ত কাইটিন প্রোটিন দিয়ে গঠিত স্কেলিটন এদের দেহকে বেশ এফিশিয়েন্টলী রক্ষা করে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর নমনীয় ত্বকের তুলনায় আরশোলার কাইটিন শেলের হার্ডনেস বেশি। যেহেতু স্কিন বলে কিছু নেই তাই এদের স্কিন ইনফেকশন হবার ঝামেলা নেই, রুক্ষ পরিবেশে চলাফেরার সময় ত্বক ছিলে যাবারও সমস্যা নেই। এক্সোস্কেলেটনের ওজন খুব হালকা - অল্প শক্তি ব্যয় করে ওড়া যায়। আরো কিছু সার্ভাইভাল ট্যাকটিক্স এরা রপ্ত করেছে - যেমন এরা বহু দিন কিছু না খেয়েই বেঁচে থাকতে পারে। আরশোলার মাথা কেটে ফেললে মাথাটিও বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে - এদের ফিজিওলজী অত্যন্ত এনার্জী এফিশিয়েন্ট মোডে কাজ করে (হয়তো মিলিয়ন বছর আগে খাবারের অপ্রতুলতা দায়ী)। আরশোলা সফলভাবে পারিপার্শ্বিকের সাথে খাপ খাইয়ে ফেলেছে, তাই অদূর ভবিষ্যৎে এরা বিবর্তিত হবার সম্ভাবনা কম।

তবে আরশোলা একদম বিবর্তিত হয় নি তাও বলা যাবে না, যেমন টারমাইট (উইঁ পোকা) - এরাও প্রাগৈতিহাসিক কালে আরশোলা ছিলো। কাঠ-জাতীয় ডায়েট ফলো করার কারণে বিবর্তিত হয়ে এরা বর্তমানে টারমাইটে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া আমেরিকান ফার্মাররা দেখছে- পেস্টিসাইড ব্যবহার করে আর কাজ হচ্ছে না, আরশোলাগুলো কেমিক্যাল পয়জনের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাচ্ছে। এটাও এক ধরণের মাইক্রো বিবর্তন।

পৃথিবীতে প্রায় ৪৫০০ প্রজাতির আরশোলা আছে, এদের মাত্র ১% প্রজাতি মানুষের সাথে থাকে। আমাদের দেশে চকলেট রঙা যে প্রজাতীটি বিরক্তিকর হিসাবে পরিচিত এটি সম্ভবত: জার্মানিক প্রজাতির তেলাপোকা। ঢাকায় পেট শপে বিরাট সাইযের মাদাগাস্কার আরশোলা মাঝেমাঝে  কিনতে পাওয়া যায়।

Calm... like a bomb.

১৬

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@ব্রাশু ভাই: উনি বোধহয় সব বিবর্তনবাদীকে অন্ধ বলেননি। confused

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (১১-০৮-২০১২ ২৩:৩৯)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@ আরণ্যক ও মামুন
বির্বতন বাদ সত্য হোক আর মিথ্যে হোক এটা বর্তমানের অনেক কিছুকে ভালমতো ব্যাখ্যা করতে পারছে। যখন নতুন কোন হাইপোথেসিস বা থিওরি আসবে যা সে সময়ের ঘটনার আরো ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবে তখন ডারউইনের এ তত্ত্ব বর্জিত হবে। এতে সন্দেহের কোন কিছু নেই।
আর লিনিয়ার প্রোগ্রেশনের ভালো বাংলা কি হতে পারে তা আমার দেয়া লিংকেই ভালো মত বলা আছে.

hit like thunder and disappear like smoke

১৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (১২-০৮-২০১২ ০০:১৫)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

অফটপিক tongue: অফটপিক বন্ধের আন্তরিকতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। smile

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১৯

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@m0N লিখেছেন:

ধরা যাক, কোরানের কথা মতো আমরা বিশ্বাস করি আদম হচ্ছে সরাসরি প্রথম সৃষ্টি। এখন কোরানে আদমের গায়ের রঙ, উচ্চতা, স্বাস্থ্য এগুলো তো বলে দেয়া নাই (বা ধরুন আমি পাইনি)। তাহলে  প্রশ্ন হলো, কেন আফ্রিকার মানুষ কালো, ইউরোপের সাদা, আমরা ইন্ডিয়ান উপমহাদেশের মানুষ সংকর, বা বিভিন্ন দ্বীপের লোকজন খুব শক্ত/বৃহৎ দেহের অধিকারী? কোরান এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এরকম আরো সহস্র প্রশ্ন আছে যার উত্তর নেই। এখন কেউ কোরান বিশ্বাস করে বলে কি এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাবে না?  ডারউইনের মতবাদ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

বিবর্তনে কেউ গরমে কালো হয়ে যাচ্ছে আর কেউ শীতে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষই থাকছে। বানর হবেনা।
বিবর্তনে গাছের পাতার আকার আকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু আম গাছ, জাম গাছ হবেনা।

আসল ঘটনাটা জেনেটিক কোডিংয়ে । ফাইনাল প্রোডাক্ট কি হবে সেটা সেখানেই নির্ধারিত হচ্ছে।

২০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১২-০৮-২০১২ ০৩:৪৯)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

vb_coder লিখেছেন:

বিবর্তনে কেউ গরমে কালো হয়ে যাচ্ছে আর কেউ শীতে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষই থাকছে। বানর হবেনা।
বিবর্তনে গাছের পাতার আকার আকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু আম গাছ, জাম গাছ হবেনা।

আসল ঘটনাটা জেনেটিক কোডিংয়ে । ফাইনাল প্রোডাক্ট কি হবে সেটা সেখানেই নির্ধারিত হচ্ছে।

আপনার ধারণা যদি এই হয়ে থাকে, তাহলে ঈশ্বরের মত লাউজিয়েস্ট, ডাম্বেস্ট এ্যান্ড মোস্ট ক্লু-লেস প্রোগ্রামার ইহজগৎে দু'টো খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তিনি যদি নিখুঁতভাবে জেনেটিক কোড তৈরী করেই থাকেন, তাহলে মানুষের এতো ভুরিভুরি অটো-ইমিউন ডিজিজ, ক্যান্সার/টিউমার, কনজেনিটাল ডিজঅর্ডারস, ডায়াবিটিস ইত্যাদি রোগের প্রকোপ কেন? ঈশ্বর কি মাইক্রোসফট ভিজুয়াল স্টুডিও ডিবাগার দিয়ে জেনেটিক কোডিং করেছিলেন যে এত বড় বড় সব বাগ বা অসংগতি তাঁর নজর এড়িয়ে গেছিলো?

আমগাছ-জামগাছ টাইপের যুক্তি আমজনতার জন্যই বেশি প্রযোজ্য, এই লেভেলে হালে পানি পাবে না। যাকগে, আসলেই অফটপিক হয়ে যাচ্ছে।

Calm... like a bomb.