২১

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@ আরণ্যক লেখাটা সম্পাদন করে দিলাম.আর আপত্তির জায়গা ছিল

The research adds to a growing body of evidence that runs counter to the popular perception that there was a linear evolution from early primates to modern humans.

এর অনুবাদ নিয়ে.বিবিসি-র সংবাদে বলা হয়েছে লিনিয়ার এভল্যুশনের বিরুদ্ধে যেসব প্রমাণ ছিল এই আবিষ্কারের মাধ্যমে তার সাথে আরেকটি যোগ হল। কিন্তু প্রথম আলোর উপর্যুক্ত বাক্যটি পড়লে মনে হয়, আদিম যুগের প্রাইমেটদের থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে যে মানুষের উৎপত্তি ঘটেছে এটাই বোধহয় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।আসলে বিবর্তনের মৌলিক প্রিন্সিপাল মানলে, কোন বিবর্তনই রৈখিক হতে পারে না। একাধিক শাখা প্রশাখার সৃষ্টি এবং তাদের মৃত্যু হইয়ে একটি শাখা এগোবে এটাই স্বাভাবিক। নিচের ডকুমেন্টারিটা র বাংলা করলেই সবাই বুঝতে পারত কেন একাধিক মানব সাদৃশ প্রজাতির উৎপত্তি বিবর্তনের সমর্থনেই প্রমান। রৈখিক চিত্রটা এসেছিল কিছু বৃটিশ বিজ্ঞানীদের ফসিলের নামে হাত সাফাই এর জন্য।

এই ডকুটা দেখলে, আশাকরি বিবর্তন বিরোধিরা মানব বিবর্তনের গবেষণার ইতিহাস নিয়ে ভাল করে জানতে পারবে।

http://movies.netflix.com/WiMovie/Becom … cale=en-US
আপনি বিবিসির লেখাটার যে অংশটুকু কোট কেছেন তার নিচের লিকির কথাগুলা মনে হয় পড়েন নি.

According to Dr Leakey, the growing body of evidence to suggest that humans evolved in the same way as other animals shows that "evolution really does work".

"It leads to amazing adaptions and amazing species and we are one of them," she said.

@ ভিবিকোডার
মানুষ ও বানর বিষয়ক দ্বন্দর কথা নিয়ে ইনভারব্রাস উপরে আলোচনা করেছেন.

hit like thunder and disappear like smoke

২২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (১২-০৮-২০১২ ০০:১৭)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@মন অনেক ধন্যবাদ আপনার চমৎকার মানসিকতার জন্য।  smile

@m0N লিখেছেন:

আসলে বিবর্তনের মৌলিক প্রিন্সিপাল মানলে, কোন বিবর্তনই রৈখিক হতে পারে না। একাধিক শাখা প্রশাখার সৃষ্টি এবং তাদের মৃত্যু হইয়ে একটি শাখা এগোবে এটাই স্বাভাবিক।

এদিকে দাদা বলেছেন-

হৃদয় লিখেছেন:

উন্নততম প্রাণী মানুষের বিবর্তন ধারা ঘোড়ার মত লিনিয়ার হবে সেটা আশা করাও ঠিক না। শাখাপ্রশাখা থাকাই স্বাভাবিক। যদিও আরও প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে একথা বলারও উপায় নেই

  confused

ব্রাশু ভাইয়া লিখেছেন:

আমগাছ-জামগাছ টাইপের যুক্তি আমজনতার জন্যই বেশি প্রযোজ্য, এই লেভেলে হালে পানি পাবে না। যাকগে, আসলেই অফটপিক হয়ে যাচ্ছে।

সে ক্ষেত্রে জায়গা শিফট করার সুযোগ আছে। tongue

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

২৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (১২-০৮-২০১২ ০৩:১৯)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

vb_coder লিখেছেন:

বিবর্তনে কেউ গরমে কালো হয়ে যাচ্ছে আর কেউ শীতে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষই থাকছে। বানর হবেনা।
বিবর্তনে গাছের পাতার আকার আকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু আম গাছ, জাম গাছ হবেনা।

আসল ঘটনাটা জেনেটিক কোডিংয়ে । ফাইনাল প্রোডাক্ট কি হবে সেটা সেখানেই নির্ধারিত হচ্ছে।

প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট প্রজাতির জীবকোষে সেই প্রজাতিটির জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট সংখ্যক জীন বহিত বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকে। গতানুগতিক স্বাভাবিক জন্ম প্রক্রিয়ার অধীনে নির্ধারিত স্বাভাবিক জীন বাহিত বৈশিষ্ট্যগুলোর আদান প্রদান ঘটে। ফলে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির প্রাণীদের মাঝে জেনেটিক নিয়ন্ত্রনের আওতায় একটি নির্দিষ্ট সীমানার অভ্যন্তরেই বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশগত বৈষম্যের কারণে আকৃতি ও প্রকৃতিগত কতিপয় বায়োলজিকাল পরিবর্তন অর্থাৎ সীমানির্দেশিত বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।

@ আরণ্যক বিবর্তন কোনোমতেই সরল রৈখিক (Linear) প্রক্রিয়া নয়। ক থেকে খ, খ থেকে গ, গ থেকে ঘ… বিবর্তন মোটেই এভাবে হয়না। বরং অনেকটা শাখা-প্রশাখা আকারে প্রজাতির বৈচিত্র তৈরি হয়। তাই তাকে বলে Tree of Life, লক্ষ্য করুন, Line of Life বলা হচ্ছে না কিন্তু।
এরপরও কথা থাকে। ‘বিজ্ঞান তো নিয়ত পরিবর্তনশীল; তার তত্ত্বগুলোও অনেক সময় পরিবর্তন হয়ে যায়। তাহলে তত্ত্বের মূল্য থাকে কই?’ অবশ্যই বিজ্ঞান স্থির কোনো কিছু নয়; স্থবির নয়। প্রতিনিয়তই বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা হতে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই তত্ত্বগুলো তৈরি হয়, পূর্বের তত্ত্বগুলো ঝাচাই হয়, পরিবর্তিত-পরিবর্ধিত-সংস্কার হয়। একটা উদাহরণ দিই : নিউটনের অভিকর্ষ তত্ত্বের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীর একটি ফ্যাক্ট বা বাস্তবতা ‘মাধ্যাকর্ষণ শক্তি’কে ব্যাখ্যা করতে পারি। কিন্তু ২৫০ বছর পরে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন তাঁর ‘সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে’র মাধ্যমে দেখালেন, নিউটনের থিওরি কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সঠিক ফল দেয় না; যেমন যে সমস্ত জায়গায় মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাব বেশি (যেমন ব্ল্যাকহোল), সে সমস্ত জায়গায় আলোর গতিপথ বেঁকে যায়। ১৯১৯ সালে ২৯ মে মাসে সূর্য গ্রহণের সময় জ্যোতির্বিজ্ঞানী স্যার ফ্র্যাঙ্ক ডাইসন আইনস্টাইনের (১৯১৫ সালে প্রদত্ত) সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি প্রমাণ করেন। যেহেতু ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে নিউটনের থিওরি অব গ্র্যাভিটি’র সীমাবদ্ধতা’ আবিস্কৃত হয়েছে, তবে কি পৃথিবীতে অভিকর্ষ বলের বাস্তবতা বাতিল হয়ে গেছে? অর্থাৎ গাছ থেকে ফল এখন মাটিতে পড়ে না, শূন্যে ভেসে থাকে, উপরের দিকে ঢিল ছুঁড়লে সেটা মাটিতে নেমে আসে না, সেটাও শূন্যে রয়ে যায়? মোটেও না। বাস্তবতা থিওরির উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে নেই। আবার নিউটনের অভিকর্ষ তত্ত্ব এখনও (বিশেষ পরিস্থিতি বাদে) যথেষ্ট পরিমাণে অভিকর্ষ বলকে ব্যাখ্যা করতে পারে।

hit like thunder and disappear like smoke

২৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১২-০৮-২০১২ ০৫:০৩)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আরণ্যক লিখেছেন:
ব্রাশু ভাইয়া লিখেছেন:

আমগাছ-জামগাছ টাইপের যুক্তি আমজনতার জন্যই বেশি প্রযোজ্য, এই লেভেলে হালে পানি পাবে না। যাকগে, আসলেই অফটপিক হয়ে যাচ্ছে।

সে ক্ষেত্রে জায়গা শিফট করার সুযোগ আছে। tongue

অফটপিককে টপিকে পরিণত করলাম:  tongue

দু'টি ভিন্ন প্রজাতি মিক্স এ্যান্ড ম্যাচ করে নতুন আরেকটি প্রজাতি উৎপন্ন আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। ঢাকা চিড়িয়াখানায় লাইগার নামে একটি সংকর প্রাণী তৈরী করেছিলো বেশ কয়েক বছর আগে। পুরুষ সিংহের (lion) সাথে মাদী বাঘ (tigress) সংকর করে Liger প্রজাতী উৎপন্ন করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই লাইগার তৈরী করা হয়েছে। উল্টোটাও আছে - male tiger এর সাথে lioness সংকর করে Tiglon তৈরী করেছেন অনেকে।
http://i.imgur.com/tYtBD.jpghttp://i.imgur.com/bv1it.jpg

১৫০ বছর আগে ডারউইন প্রথম উদাহরণ দিয়েছিলেন পোষা কুকুরের। বিভিন্ন প্রজাতীর কুকুর সংকর করিয়ে নতুন নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করে চলেছে মানুষ সেই ভিক্টোরিয়ান যুগ থেকে। এখানে আরো কিছু উদাহরণ পাবেন।

এ তো গেলো প্রাণীর উপর খোদকারী।

উদ্ভিদ জগৎে একটি প্রাসংগিক উদাহরণ হলো ইসকুল টিফিনের "কলা"। মানে ব্যানানা। কদলী নামক "ফল"-টি প্রাগৈতিহাসিক মানুষের হস্তশিল্প। প্রকৃতি (পড়ুন ঈশ্বর) কলাগাছ নামে কোনো উদ্ভিদ সৃষ্টি করে নি। কলার উত্তরসূরী ছিলো ট্রপিকাল অন্চলের অখাদ্য বুনো বাঁশগাছ টাইপের একটি উদ্ভিদ। আনুমানিক ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ বছর আগে প্রাগৈতিহাসিক মানুষ গ্রাফটিং-এর মাধ্যমে বুনো প্রজাতিটিকে আমূল বদলে দেয়। সম্ভবত: অল্প কিছু জায়ান্ট, ওয়াইল্ড, অখাদ্য, বিচীযুক্ত কলা ক্রোমোযোমাল এ্যাবনরমালিটির (chromosome triplication) কারণে খাবার উপযুক্ত হয়ে থাকবে - এক পর্যায়ে তা অনুসন্ধিৎসু মানুষের গোচরে আসে। ডাইনিং টেবলে ফলের ঝুড়িতে হলুদ, লম্বাটে যে ফলগুলো দেখেন সেগুলো মানুষের ১০ সহস্রাব্দ-ব্যাপী সিলেক্টিভ বৃডিং-এর ফলাফল।

বুনো, অখাদ্য কলা:
http://i.imgur.com/5Arfb.jpg

ফ্রম ব্যামবু টু ব্যানানা (ক্যাভেন্ডিশ কদলী):  love
http://i.imgur.com/v3qGj.jpg

কলার ইমিউনিটি ব্যবস্থা খুব দুর্বল (সম্ভবত: আর্টিফিশিয়াল প্ল্যান্ট হবার কারণে) - নিষ্ঠুর বিবর্তনের মিলিয়ন বছরের অনবরত ব্যাটল টেস্টিং-এর মুখোমুখি হতে হয় নি এই উদ্ভিদটিকে। হয়তো তাই সামান্য একটি দু'টি ভাইরাল/ফাংগাল এ্যাটাকে পুরো পৃথিবীর কলা নিমিষেই স্রেফ উবে যায়।

বর্তমানে হলুদ রঙের যে কলাটি আমরা খাই সেটি ক্যাভেন্ডিশ প্রজাতির। কয়েক বছর আগে আরেকটি নতুন স্ট্রেইনের ভাইরাস আবির্ভূত হয়েছে - সেন্ট্রাল আফৃকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার বেশ কিছু এলাকায় এই ভাইরাসের প্রকোপে হাজার হাজার একর প্ল্যান্টেশন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাইরাসের প্রকোপ থামাতে না পারলে ক্যাভেন্ডিশ কলাও অতীত হয়ে যাবে খুব শিগগীরই।

কলা বিষয়ে বিরাট একটি আর্টিকল গোগ্রাসে পড়েছিলাম বেশ কিছুদিন আগে (লিংকটা খুঁজে পাচ্ছিনা এখন)। ৪০-এর দশকে নাকি গ্রো মিশেল (Gros Michel) নামে প্রচন্ড ফেমাস একটি প্রজাতির কলা ছিলো। ঐ কলাগুলো আকারে বিরাট, মাংসল এবং বেশ মিষ্টি ছিলো - কিন্তু কোনো এক ভাইরাস স্ট্রেইনের ইনফেক্সনের কারনে পুরো পৃথিবীর সমস্ত অন্চলে গাছটি মারা পড়ে; মাত্র ৬/৭ বছরের মাথায় পুরো প্রজাতিটিই বিলীন হয়ে যায়। একটি গাছও ভাইরাল (নাকি ফাংগাল?) এ্যাটাক থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয় নি মানুষের পক্ষে - টোটাল এ্যান্ড কমপ্লিট এ্যানায়ালেশন। এই ঘটনাকে দ্যা প্যানামা ম্যাসাকার বলে অভিহিত করেন অনেকে। বর্তমানের প্রচলিত ক্যাভেন্ডিশ কলা সম্ভবত: ফিলিপিনের একটি প্রজাতি থেকে তৈরী করেছিলেন উদ্ভিদবিদরা। তবে ওল্ড-টাইমাররা দাবী করে ক্যাভেন্ডিশ কলা নাকি স্বাদ এবং সাইযের দিক দিয়ে ঐ গ্রো মিশেল কলার ধারেকাছেও যায় না।

বর্তমানে যে ভাইরাসটি ক্যাভেন্ডিশ প্রজাতি আক্রমণ করছে সেটি ডোল, চিকিতা-র মত জায়ান্ট কোম্পানীর নাওয়া-খাওয়া একদম হারাম করে দিয়েছে। এরা পাগলের মত ম্যাস মার্কেটের জন্য উপযোগী এবং ভাইরাস/ফাংগাস রেজিস্ট্যান্ট নতুন প্রজাতির কলা উদ্ভাবন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে - বাইচান্স ক্যাভেন্ডিশও যদি ইণ্তেকাল ফরমাইয়া ফেলে।  hairpull  একবার যদি ভাইরাসটি ক্যারিবিয়ান ব্যানানা রিপাবলিকগুলোতে ঢুকতে পারে, এই বিরাট মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানীগুলো স্রেফ হাওয়া হয়ে যাবে। (ব্যানানা কোম্পানীগুলো বদমাশীও কম করে নাই - বিভিন্ন দেশে প্রচুর লোক মেরেছে, ডিক্টেটরদের টাকা পয়সা খাইয়ে ব্যবসা বের করে নিয়েছে - এদের ইতিহাস তেল কোম্পানীগুলোর চেয়ে কম নৃশংস নয়) ভাবতে পারেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে আর কয়েক বছর পরে হলুদ রঙা কলাটি একদম বিলীন হয়ে যাবে!?!?! অতীব দু:খের বিষয় হলো, গবেষকরা এখনো ক্যাভেন্ডিশের যোগ্য রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পান নি!   crying (আমাদের দেশে অবশ্য ক্যাভেন্ডিশ ছাড়াও বেশ কিছু প্রজাতির কলা পাওয়া যায়  thinking)

http://i.imgur.com/mUzyB.jpg

মানুষের খোদার উপর খোদকারীর সবচাইতে প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো বোধ করি গম (wheat)। এ্যাডাম/ঈভ, আব্রাহাম আর মোযেসের বংশধরদের খাওয়াপরার দায়িত্বের কথা বললেও ঈশ্বর কিন্তু wheatgrass নামে কোনো উদ্ভিদ সৃষ্টি করে দিয়ে যান নি - ওটাও মানুষকেই তৈরী করে নিতে হয়েছে।

প্রাগৈতিহাসিক প্রকৃতিতে গোটউইড (goatweed) বলে বুনো ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ ছিলো। ১০,০০০ বছর আগে মানুষ কোনো এক এ্যাক্সিডেন্টের মাধ্যমে অখাদ্য ঘাস জাতীয় goatweed-কে গ্রাফটিং করে wheatgrass তৈরী করে।

জ্যাকব ব্রনোভস্কীর ১৩ পর্বের মাস্টারপীস ডকুমেন্টারী সিরিজ দেখেছিলাম কিছুদিন আগে - The Ascent of Man (1973)। সিরিজের একটি পর্বে (সম্ভবত: ৩র্ড এপিসোডে) ব্রনোভস্কী চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন কিভাবে প্রাগৈতিহাসিক মানুষ এই উদ্ভিদটিকে নিজের প্রয়োজনে মডিফাই করে নিয়েছে, এবং উদ্ভিদটি নিজেও মানুষকে কিভাবে তার বংশবিস্তারের কাজে ব্যবহার করেছে - পারফেক্ট সিমবায়োসিস!

১০,০০০ বছর আগের হান্টার-গ্যাদারার মানুষ গম সংকর "প্রস্তুত" করেছিলো এ্যাক্সিডেন্টালী - আর এই একটি শস্যই মানুষকে শিকারী যাযাবর প্রাণী থেকে এ্যাগৃকালচারাল, সোশাল প্রাণী হিসাবে সেটল করতে সুযোগ করে দেয় - সভ্যতার জন্মদান হয় এই গম, বার্লী আর পরবর্তীতে গবাদী পশুকে (draft animals) ঘিরে। মানবেতিহাসের বিরাট বিরাট সভ্যতাগুলো যেমন এ্যানশিয়েন্ট নিয়ার ঈস্ট, মিশরীয়, ভারতীয়, গৃক, রোমান - সবগুলো সভ্যতা সরাসরিভাবে এ্যাগৃকালচারাল রেভুলুশনের উপর নির্ভরশীল। হাজার বছর আগে মানুষ যদি ভুল করে wheat আবিষ্কার না করতো, আমাদের ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লিখতো কেউ...
http://i.imgur.com/c8vS5.jpg

Wheat is probably the single most important plant in the entire evolutionary history of mankind - it had jump-started the agricultural and social revolution some 10 millenia ago, and is still maintaining it.

The next time you devour a banana or munch on an atta-roti, think about that!  wink

No wheat, no civilization!  shame
No civilization, no god.
Wheat == god???  hehe
http://i.imgur.com/R6DzT.jpg

Calm... like a bomb.

২৫

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

ঘুরে ফিরে কথা দেখি সেই নদীতে যাচ্ছে, তারপর কুমীরের লেজ খাঁজ কাঁটা খাঁজ কাঁটা।  tongue

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার আলোচনার জন্য। hug

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

২৬

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আরণ্যক লিখেছেন:

ঘুরে ফিরে কথা দেখি সেই নদীতে যাচ্ছে, তারপর কুমীরের লেজ খাঁজ কাঁটা খাঁজ কাঁটা।  tongue

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার আলোচনার জন্য। hug

কেন নদী বেশী ভয় পান নাকি? isee কুয়ার পানি তো পরিষ্কার না  neutral

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (১২-০৮-২০১২ ০৯:৫৬)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:
আরণ্যক লিখেছেন:

ঘুরে ফিরে কথা দেখি সেই নদীতে যাচ্ছে, তারপর কুমীরের লেজ খাঁজ কাঁটা খাঁজ কাঁটা।  tongue

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার আলোচনার জন্য। hug

কেন নদী বেশী ভয় পান নাকি? isee কুয়ার পানি তো পরিষ্কার না  neutral

ভাইয়া নদী নিয়ে আলোচনার জন্য আলাদা টপিক আছে। কুয়ার পানি খাবেন না নদীর পানি খেয়ে ডায়রীয়া করবেন তা আলোচনার জায়গা এটা না।  আর আপনার যদি মনে হয়, আমি কুয়ায় থাকি আর আপনি সাগরে। বেশ তো, আপনাকে অভিনন্দন।

আলোচনা থাকলে তা করলেই হয়। অহেতুক অফটপিক কমেন্টের কোন দরকার নেই।

এক দল দেখি কিছু বলেই ঈশ্বর আছে বলে দৌড়াচ্ছে। অন্যরা দেখি অনেক কিছু বলে ঈশ্বর নাই বলে হাঁক দিচ্ছেন। অতচ অনেক বার বলেছি এরকম কথা বলে টপিক বিতর্কিত করার কোন দরকার নেই। টপিকের বিষয়ের উপর আলোচনা থাকলে আলোচনা করেন। অতটুকুই যথেষ্ট।

অফটপিকের জন্য আজাইরা আছে,  আর বিতর্কের জন্য তো অন্য টপিক চলছেই।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

২৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (১২-০৮-২০১২ ১২:০৭)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

invarbrass লিখেছেন:
vb_coder লিখেছেন:

বিবর্তনে কেউ গরমে কালো হয়ে যাচ্ছে আর কেউ শীতে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষই থাকছে। বানর হবেনা।
বিবর্তনে গাছের পাতার আকার আকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু আম গাছ, জাম গাছ হবেনা।

আসল ঘটনাটা জেনেটিক কোডিংয়ে । ফাইনাল প্রোডাক্ট কি হবে সেটা সেখানেই নির্ধারিত হচ্ছে।

আপনার ধারণা যদি এই হয়ে থাকে, তাহলে ঈশ্বরের মত লাউজিয়েস্ট, ডাম্বেস্ট এ্যান্ড মোস্ট ক্লু-লেস প্রোগ্রামার ইহজগৎে দু'টো খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তিনি যদি নিখুঁতভাবে জেনেটিক কোড তৈরী করেই থাকেন, তাহলে মানুষের এতো ভুরিভুরি অটো-ইমিউন ডিজিজ, ক্যান্সার/টিউমার, কনজেনিটাল ডিজঅর্ডারস, ডায়াবিটিস ইত্যাদি রোগের প্রকোপ কেন? ঈশ্বর কি মাইক্রোসফট ভিজুয়াল স্টুডিও ডিবাগার দিয়ে জেনেটিক কোডিং করেছিলেন যে এত বড় বড় সব বাগ বা অসংগতি তাঁর নজর এড়িয়ে গেছিলো?

আমগাছ-জামগাছ টাইপের যুক্তি আমজনতার জন্যই বেশি প্রযোজ্য, এই লেভেলে হালে পানি পাবে না। যাকগে, আসলেই অফটপিক হয়ে যাচ্ছে।


হা হা হা। ভাই, মাথা ঠান্ডা করেন। সবাইতো আর আপনার লেভেলে জানেনা। এর জন্যে হয়তো দুর্বল যুক্তি দেয়। কিন্তু আলোচনা চমৎকার হচ্ছে। ভালো লাগছে পড়তে। আপনিসহ অন্য সকলকে চমৎকার আলোচনার জন্যে ধন্যবাদ।
অফটপিকঃ ডার্ক এঞ্জেল নামক এক অখাদ্য সিরিয়ালে, শস্য এবং প্রাণীদের মধ্যে আপনার লেখা সিলেক্টিভ-ব্রিডিং এর একটা ঘটনা দেখেছিলাম। তবে সেটা দেখানো হয়েছিলো মানুষের মধ্যে, উন্নত জাতের মানুষ তৈরী করার জন্যে।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

২৯

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আরণ্যক লিখেছেন:

@ব্রাশু ভাই: উনি বোধহয় সব বিবর্তনবাদীকে অন্ধ বলেননি। confused

সত্যিই তাই।সব বিবর্তনবাদীকে অন্ধবিবর্তনবাদী বলিনি।অন্ধ সব জায়গাতেই কিছু কিছু থাকে।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

৩০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (১২-০৮-২০১২ ১৩:৩২)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

আরণ্যক লিখেছেন:

ঘুরে ফিরে কথা দেখি সেই নদীতে যাচ্ছে, তারপর কুমীরের লেজ খাঁজ কাঁটা খাঁজ কাঁটা।  tongue

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার আলোচনার জন্য। hug

এই মন্তব্যটা যেহেতু এই টপিকেই করেছেন তাই একটু অফটপিক না করে পারছি না.বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এটা সচল। একটা উপমা টানিঃ
নিউটনিয়ান ফিজিক্স বনাম কোয়ান্টাম ফিজিক্স।

নিউটনিয়ান ফিজিক্সে সবই ডিটারমিনিস্টিক, আর কোয়ান্টাম ফিজিক্সে সবই প্রবাবলিস্টিক। কিন্তু নিউটনিয়ান ফিজিক্স কি তবে ভুল? অবশ্যই নয়। নিউটনিয়ান ফিজিক্স একটা লিমিট পর্যন্ত নির্ভুল। এরচে নির্ভুল হতে হলে আধুনিক পদার্থবিদ্যা ব্যবহার করতে হবে। একই ভাবে ডারউইনিজম থেকে তা নিওডারউইনিজমের পথে চলেছে.বিজ্ঞানের মজাটাই এটা। এটা প্রশ্ন করে, উত্তর খোঁজে। যতদিন না পর্যন্ত উত্তর পায়, ততদিন খুঁজতেই থাকে। কিন্তু ধর্ম সাধারণত কোন কিছুর উত্তর না পাওয়া গেলে, তার মধ্যে টুপ করে ঈশ্বরকে বসিয়ে দেয়। গড ইন গ্যাপস(অন্ধকার কক্ষে কালো বিড়ালের অস্তিত্ব সন্ধান)।

সবকিছু গড করেছে- এটা না মেনে বিজ্ঞান চলে বলেই আজকে এতো কিছু আবিষ্কৃত হয়েছে।লেখাটাকে চাইলে মডুরা মুছে দিতে পারেন.

hit like thunder and disappear like smoke

৩১

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@m0N লিখেছেন:

লেখাটাকে চাইলে মডুরা মুছে দিতে পারেন.

লেখাটা মডুরা মুছবে কিনা জানি না। তবে প্রচুর অফটপিক হচ্ছে।

টপিকের উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানের একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে যারা জানেন তাদের কাছ থেকে আরও কিছু জানা। ঈশ্বর আছে কি নাই অহেতুক এ বিষয়ে কোন আলোচনা চাচ্ছিলাম না। মুল বিষয়টা থেকে তাহলে আমরা সরে যাব। আর যেহেতু সেরকম একটা টপিক ইতি মধ্য চলছেই। কাজেই এই সংক্রান্ত আলোচনা সেখানেই ভাল মানায়।

বারবার নিষেধ করার পরও দেখি সবার আলোচনা একদিকেই যাচ্ছে। surprised সবার। বিষয় এক মন্তব্য আলাদা- আছে আর নাই। সবাই টপিকটাকে ধরে নদীতে নামায়ে আমাদের শুধু কুমিরই দেখাচ্ছে । angry আর একজন আবার এই কথা ঠিক মত না বুঝে নদী থেকে কুয়ায় ফেলে দিল।

এটা নিশ্চয় আশা করা দোষের না, যে প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করব। নির্দিষ্ট একটা দিকে আলোচনা ঘুরানর চেষ্টা না করলেও তো হয়।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৩২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মামুন.pb (১২-০৮-২০১২ ১৪:১৩)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

vb_coder লিখেছেন:
@m0N লিখেছেন:

ধরা যাক, কোরানের কথা মতো আমরা বিশ্বাস করি আদম হচ্ছে সরাসরি প্রথম সৃষ্টি। এখন কোরানে আদমের গায়ের রঙ, উচ্চতা, স্বাস্থ্য এগুলো তো বলে দেয়া নাই (বা ধরুন আমি পাইনি)। তাহলে  প্রশ্ন হলো, কেন আফ্রিকার মানুষ কালো, ইউরোপের সাদা, আমরা ইন্ডিয়ান উপমহাদেশের মানুষ সংকর, বা বিভিন্ন দ্বীপের লোকজন খুব শক্ত/বৃহৎ দেহের অধিকারী? কোরান এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এরকম আরো সহস্র প্রশ্ন আছে যার উত্তর নেই। এখন কেউ কোরান বিশ্বাস করে বলে কি এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাবে না?  ডারউইনের মতবাদ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

বিবর্তনে কেউ গরমে কালো হয়ে যাচ্ছে আর কেউ শীতে সাদা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানুষই থাকছে। বানর হবেনা।
বিবর্তনে গাছের পাতার আকার আকৃতির পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু আম গাছ, জাম গাছ হবেনা।

আসল ঘটনাটা জেনেটিক কোডিংয়ে । ফাইনাল প্রোডাক্ট কি হবে সেটা সেখানেই নির্ধারিত হচ্ছে।

বিবর্তন সম্পর্কিত বিষয়ে আবহাওয়া সম্পর্কিত বিষয়গুলো প্রায়ই শোনে থাকে।আর একটা প্রশ্ন সেটা,অঞ্চলভেদে বিভিন্ন চেহারা,স্বাস্থ্য ও বৈশিষ্ঠগত পার্থক্য আছে,যেমন ধরুন চীন,আফ্রিকা,ইউরোপ,অরব অঞ্চল বা ভারতীয় অঞ্চল,বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠির মধ্য বিয়ে শাদী বা প্রজননের মধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে চেহারা ও স্বাস্থ্য বা বৈশিষ্টগত পার্থক্যের বিষয়ে জেনেটিকস ও বিবর্তনবাদ কি বলে?

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

৩৩

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@ মামুন কস্ট করে আমার মত অর্বাচীনর কাছে এসব প্রশ্ন না করে নিজেই বিবর্তনবাদ নিয়ে পড়াশুনা করুন না.কেননা এভাবে স্পুন ফিডিং নিলে ভাসা ভাসা জ্ঞান হবে যাতে বিবর্তনের স্বাদ পাবেন কিন্তু হজম করতে পারবেন না. hehe

hit like thunder and disappear like smoke

৩৪

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

তবে ভাই এখানে তো আলোচনা চলছে।পক্ষে বিপক্ষে যেদিক যাক আমার আপত্তি নেই।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

৩৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১২-০৮-২০১২ ১৫:৩২)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

অফটপিকঃ ডার্ক এঞ্জেল নামক এক অখাদ্য সিরিয়ালে, শস্য এবং প্রাণীদের মধ্যে আপনার লেখা সিলেক্টিভ-ব্রিডিং এর একটা ঘটনা দেখেছিলাম। তবে সেটা দেখানো হয়েছিলো মানুষের মধ্যে, উন্নত জাতের মানুষ তৈরী করার জন্যে।


হেহে, ফিকশনের জন্ম আসলে ফ্যাক্ট থেকেই।

নাৎসীরা একটি eugenics প্রযেক্টে হাত দিয়েছিলো। ২য় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকে হাইনরিশ হিমলার পরিচালনা করতেন Lebensborn (অর্থ: জীবনের ঝর্ণাধারা) নামে একটি প্রযেক্ট। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অধিকৃত দেশগুলোতে এই এক্সপেরিমেন্ট ছড়িয়ে পড়ে - অনেক নন-জার্মান (তবে জার্মানিক লাইনের বংশধর) মহিলাদের তারা রিক্রুট করেছিলো এই কাজে। প্রযেক্টের উদ্দেশ্য ছিলো বায়োলজীকালী ফিট, জাতিগতভাবে খাঁটি একটি এরিয়ান জাতি তৈরী করা। ব্লন্ড চুল, নীল চোখ, ফ্যাকাশে স্কিন কালার ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য বিশিষ্ট এরিয়ান নারী-পুরুষদের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে আরো বিশুদ্ধ এরিয়ান ছানাপোনা ফিল্টার করে বের করে আনাই এই প্রযেক্টের মূল লক্ষ্য ছিলো।

তবে এ ধরণের মাল্টি-জেনারেশন প্রযেক্টের জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। নাৎসীরা এক জেনারেশনও ক্ষমতায় ছিলো না। বিশ্বযুদ্ধের সাথে সাথে ওদের প্রযেক্টও প্যাকআপ হয়ে যায়।

উল্টো দিক থেকে eugenics-ও নাৎসীরা ঘটিয়েছিলো। অন্যান্য নন-এরিয়ান জাতীর মাণুষকে উন্টারমেনশেন (বাংলায় "অবমানব") বলে তারা গণ্য করতো। যুদ্ধের সময় ৪ লাখের বেশি মানুষকে তারা জোরপূর্বক ক্যাস্ট্রেট করেছিলো, ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছিলো - কারণ এই মানুষগুলো ছিলো তাদের দৃষ্টিতে Lebensunwertes Leben (life unworthy of life)।

গতকাল রাতে Iron Sky নামে সাইফাই কমেডী দেখলাম - এই ছবিতেও দেখি Nazi eugenics নিয়ে কমেডী করেছে।  lol

প্রাসংগিক হবে কিনা বুঝছি না, নাৎসী eugenics নিয়ে একটি ইন্টারেস্টিং, পুরণো খবর জেনেছিলাম অনেক দিন আগে। ছোটোবেলার প্রিয় পপ ব্যান্ড ABBA-র সবচাইতে সুন্দরী যে গায়িকা ছিলেন - সেই এ্যানী-ফৃড লিংস্টাড-কে নিয়ে।  love love love তাঁর মা ছিলেন নরওয়েজিয়ান - এ্যানীর ২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। এ্যানী তাঁর পিতৃপরিচয় জানতেন না। নাছোড়বান্দা পাপারাজ্জীরা (সম্ভবত: আশির দশকে) ওয়ার-টাইম নাৎসী ডকুমেন্ট ঘেঁটে এই পপস্টারের বংশলতিকা একেবারে উন্মোচিত করে ফেলে। সত্য উদ্ঘাটিত হয়: এ্যানী ছিলেন হিটলারের Lebensborn প্রযেক্টের সন্তান - তাঁর পিতা নাৎসী এসএস অফিসার ছিলেন, আর মা ছিলেন ঐ প্রযেক্টের (নন-জার্মান) রিক্রুট। খবরটি প্রচন্ড  আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো তখন। লিংস্টাড তাঁর পিতার সাথে রিইউনাইট করেন। হিটলার'স চিল্ডরেন নামে একটি ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম হিস্ট্রী চ্যানেল। এছাড়া বিবিসির আরেকটি সাম্প্রতিক নিউজেও এ ধরণের রিউনিয়নের বিবরণ পেলাম।

চক্ষুমোবারক প্রশান্ত করার জন্য কিছু ফটুক:  tongue

Anni-Frid Lyngstad:  love
http://i.imgur.com/b1hDa.jpghttp://i.imgur.com/WStKG.jpghttp://i.imgur.com/GZaJb.jpghttp://i.imgur.com/8RFHi.jpg

ABBA-র দুই "A" - Anni-Frid Lyngstad এবং Agnetha Faltskog:  love love love
http://i.imgur.com/NxuQu.jpg

তবে লিংস্টাড পরবর্তী জীবনে সমালোচনার মুখোমুখি হন। সুইডেনে তিনি এক জার্মান এ্যারিস্টোক্র্যাট-কে বিয়ে করেন যার পূর্বপুরুষরা সরাসরি নাৎসী বাহিনীর পৃষ্ঠপোষক ছিলো। বিবাহসূত্রে লিংস্টাড ঐ অন্চলের কুইন উপাধি লাভ করেন। হিটলারের সন্তানেরা বোধহয় জিএমটিটি (জাতে মাতাল তালে ঠিক)!  big_smile

হিটলারের পদাংক অনুসরণ করে যোসেফ ষ্টালিনও একটি প্রযেক্ট চালু করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে, তবে ষ্টালিনের উদ্দেশ্য ছিলো আরো নৃশংস: সম্মুখযুদ্ধের উপযোগী অতিমানবিক ক্ষমতাধারী মানব-হাইবৃড সোলজার বাহিনী তৈরী করতে চেয়েছিলেন তিনি। হিউম্যান - এইপ হাইবৃড ওয়ারিয়র তৈরী করার জন্য তিনি রাশান সাইন্টিস্টদের প্রচুর পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। তবে ষ্টালিনের এই প্ল্যানেট অব দি এইপস প্রযেক্ট ফেইল মারে।

আর মস্কোয় যখন বৃষ্টি হয়, তখন বেইজিং ছাতা না ধরে বসে বসে আংগুল চুষবে তা কি কখনো হতে পারে? লন্ডন অলিম্পিক্স উপলক্ষে চাইনীজ ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে শিশুদের কঠোর শারিরীক সাধনার (অমানবিক?) ব্যাপারগুলো মিডিয়াতে তোলপাড় করছে।

বোধ করি চাইনীজ "লেবেন্সবর্ণ" প্রযেক্টের সবচাইতে প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন Yao Ming। হিউস্টন রকেটসে খেলতেন - ইয়াও মিং-কে বলা হয় সর্বকালের সেরা বাস্কেটবল প্লেয়ারদের মধ্যে অন্যতম।

http://i.imgur.com/NMCOx.jpg

২০০৫ সালে নিউজউইককে দেয়া একটি সাক্ষৎটকারে ইয়াও মিং রহস্য ফাঁস করেছিলেন। তাঁর বাবা ও মা উভয়েই চমৎকার এ্যাথলীট ছিলেন -  এদেরকে পীড়াপিড়ি করে চীনা সরকার বিয়ে করিয়ে দেয় যেন উৎকৃষ্ট এ্যাথলীট উৎপন্ন করতে পারে। ইয়াও মিং-এর দানবীয় উচ্চতার কারণে একদম ছোটোবেলা থেকে তাঁকে গ্রেট বাস্কেটবল প্লেয়ার বানানোর জন্য কঠোর ট্রেনিং করায় চীনা সরকার - স্মৃতিচারণায় এ ব্যাপারেও বিশদ তথ্য দিয়েছিলেন তিনি। গত ২০০৮ অলিম্পিক্সেও চাইনীজ বাস্কেটবল টীমের লীডার ছিলেন ইয়াও মিং - এবার সম্ভবত: অবসরে।

আপডেট: Operation Yao Ming বইয়ের একটি চ্যাপ্টার এখানে: The Creation of Yao Ming

Calm... like a bomb.

৩৬

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

২০০৫ সালে নিউজউইককে দেয়া একটি সাক্ষৎটকারে ইয়াও মিং রহস্য ফাঁস করেছিলেন। তাঁর বাবা ও মা উভয়েই চমৎকার এ্যাথলীট ছিলেন -  এদেরকে পীড়াপিড়ি করে চীনা সরকার বিয়ে করিয়ে দেয় যেন উৎকৃষ্ট এ্যাথলীট উৎপন্ন করতে পারে। ইয়াও মিং-এর দানবীর উচ্চতার কারণে একদম ছোটোবেলা থেকে তাঁকে গ্রেট বাস্কেটবল প্লেয়ার বানানোর জন্য ট্রেনিং করায় চীনা সরকার। গত ২০০৮ অলিম্পিক্সেও চাইনীজ বাস্কেটবল টীমের লীডার ছিলেন ইয়াও মিং - এবার সম্ভবত: অবসরে।

surprised surprised surprised কন কি এইসব  surprised surprised surprised । একজনের লগে বিয়া দিলেই কি  donttell donttell
এটা দেখি শংকর পদ্ধতি টাইপ  hmm

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

৩৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১২-০৮-২০১২ ১৫:২২)

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

jemsbond লিখেছেন:

২০০৫ সালে নিউজউইককে দেয়া একটি সাক্ষৎটকারে ইয়াও মিং রহস্য ফাঁস করেছিলেন। তাঁর বাবা ও মা উভয়েই চমৎকার এ্যাথলীট ছিলেন -  এদেরকে পীড়াপিড়ি করে চীনা সরকার বিয়ে করিয়ে দেয় যেন উৎকৃষ্ট এ্যাথলীট উৎপন্ন করতে পারে। ইয়াও মিং-এর দানবীর উচ্চতার কারণে একদম ছোটোবেলা থেকে তাঁকে গ্রেট বাস্কেটবল প্লেয়ার বানানোর জন্য ট্রেনিং করায় চীনা সরকার। গত ২০০৮ অলিম্পিক্সেও চাইনীজ বাস্কেটবল টীমের লীডার ছিলেন ইয়াও মিং - এবার সম্ভবত: অবসরে।

surprised surprised surprised কন কি এইসব  surprised surprised surprised । একজনের লগে বিয়া দিলেই কি  donttell donttell
এটা দেখি শংকর পদ্ধতি টাইপ  hmm

জ্বী হ্যাঁ। ইয়াও মিং লম্বু নিজেও বিয়া করছে আরেক এ্যাথলীটকে। কন্যা নাকি প্রথমে বিয়েতে রাজি ছিলো না। পরে ঢ্যাঙার পীড়াপিড়িতে তালগাছের গলায় মালা পরায়!  big_smile

তালগাছের নেক্সট জেনারেশন কি তালগাছ না বনসাই বটগাছ হয় তা জানার ব্যাপক ইচ্ছা। তবে আপাতত: কোনো জেনারেশন মনে হয় এখনো প্রডিউস হয় নাই সম্ভবত:।  nailbiting আমগাছ থেকে জামগাছ হবে কি হবে না তা জানার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে মনে হচ্ছে...  nailbiting

Calm... like a bomb.

৩৮

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

ব্রাসু ভাইকে ধন্যবাদ জার্মানির তথ্য প্রদানের জন্যে।প্রায় একই রকম আর একটা প্রশ্ন,পৃথিবীতে তো মানুষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারনে সিফট করেছে,সেখানে একদিকে ভিন্ন আবহাওয়া,অন্যদিকে বসতি স্থাপন করতে গিয়ে সংকর প্রক্রিয়া,এবিষয় বিবর্তন ও জিনত্ত কি বলে?

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

৩৯

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

@ মামুন এখানের বইটা নামিয়ে পড়ে দেখতে পারেন.

hit like thunder and disappear like smoke

৪০

Re: নতুন প্রজাতির মানুষ!

ধন্যবাদ।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।