৬১

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

বিশ্বাস জিনিসটা বড়ই বিচিত্র। কোন ট্রিগার্ড ইভেন্ট (ব্রাশু ভাইয়ের ক্ষেত্রে হয়ত সেটা ছিল নিষ্পাপ শিশুটির মৃত্যু) না ঘটার আগ পর্যন্ত, যতই বুঝুন, যতই জানুন, ইউ ক্যান্ট জাম্প আউট অব দ্যা কুয়া।

এরকম তো হুজুররা বলেন। আল্লাহ হেদায়েত না করা পর্যন্ত কারও সত্য উপলদ্ধি হয় না, মানে কুয়ার বাইরে জাম্প দেয়া যায় না। tongue

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৬২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন arnob216 (২৯-০৭-২০১২ ২৩:৫৭)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

হৃদয় লিখেছেন:
@m0N লিখেছেন:

যখন একটি স্বর্প একটি ব্যাঙকে ধরিয়া আস্তে আস্তে গিলিতে থাকে, তখন তিনি স্বর্পটির কাছে দয়াময় বটে। কিন্তু ব্যাঙটির কাছে তিনি নির্দয় নহেন কি? পক্ষান্তরে তিনি যদি ব্যাঙটির প্রতি সদয় হন, তবে সর্পটি অনাহারে মারা যায় না কি?

thumbs_up এর থেকেই বোঝা যায় বিশ্বের আপাত-শৃঙ্খলার পিছনে কতখানি Chaos, বিশৃঙ্খলা লুকিয়ে আছে। ইন্টেলিজেন্ট ঈশ্বরের ডিজাইনে এতোটা বিশৃঙ্খলা থাকা সম্ভব নয়।

আমিতো জানতাম পৃথিবীতে আমরা সবাই পরীক্ষা দিচ্ছি। এর মধ্যে সবাইকে গেইনার করে হবে না। পশু-পাখি নিয়ে জানি না(কারণ ওরা তো মনে হয় না দোজখ, না বেহেস্ত যাবে) কিন্তু মানুষ এর মধ্যে আল্লাহ কাউকে পঙ্গু, গরীব রাখছে এবং তারা কষ্টে জীবন যাপন করছে কিন্তু পরকালে আল্লাহ এদের পুরষ্কার বেশি দিতে পারে নয় কি? আর সবাই যদি ধনী হতো তাহলে নিম্ন লেভেলের কাজ কারা করবে? তাহলে আল্লাহ কি কাউকে গরীব বানিয়ে এবং কাউকে ধনী বানিয়ে দেওয়ার জন্যই আস্তে আস্তে এতো কিছু তৈরি হচ্ছে না?
আমার পরিবারে সবাই সমান হলে কেউই রান্না করতো না, কেউই চাকরী করতো না। সবাই একটাই কাজ করতো এবং আলটিমেটলি পরিবার রসাতলে (তাই পৃথিবীর ম্যনেজমেন্টেও আল্লাহ সবার দায়িত্ব/রোল আলাদা রেখেছেন)

আরেকটা প্রশ্ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আল্লাহ যদি মানুষদের মেরে ফেলেন এতে নির্দয়তার কি আছে? ইসলাম তো বলে পৃথিবীর পরে আরেক জীবন আছে। তাহলে নির্দয়তা সেটা হবে যদি আল্লাহ এদের মেরে ফেলার পরের জীবনে এদের সঠিক দাম না দেয় (এবং দামটা হবে তাদের বেচে থাকা পর্যন্ত কৃতকর্ম)।
মৃত্য অবশ্যই নির্দয়তা নয় যদি আমরা বিশ্বাস করি এই জীবনের পরে আরেক জীবন আছে। তাই মরার আগ পর্যন্ত আমাদের পাপ-পুন্য নিয়া একাউন্টিং করতে হবে। smile (আপনি পুণ্য বেশি নিয়ার পর মারা গেলে তো নেট প্রফিট!! wink)

তাই আপনি আমার ৪ নম্বর এর যে উত্তর দিলেন তার প্রতিউত্তর সিমপ্লি পরীক্ষা এবং এতে ফেইল হইলে দোজখ রেডি আর পাশ হইলে বেহেসত রেডি।

৬৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (৩০-০৭-২০১২ ০৪:২৮)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

arnob216 লিখেছেন:

কিছুদুর পড়ে আমার ব্রেইন ক্র্যশ করেছে।  surprised
তবুও বড়দের মাঝে কিছু নরমাল প্রশ্ন করি।
১) কোরআন নিয়ে ননইসমালিক মানুষরা কি মনে করেন? এটা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে? একা হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এতো জটীল একটা জিনিষ লিখেছেন? যদি একজন এর পক্ষে এটা অসম্ভব ধরি তাহলে এটা আসলে কোথা থেকে তৈরি?

এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে ওয়েবসার্ভারে আগুন ধরে যাবে। অমুসলিম স্কলার যাঁরা আর্লী ইসলাম নিয়ে গবেষণা করেন তাদের ওরিয়েন্টালিস্ট বলা হয়। ইগনায গোল্ডযিহার, স্কাক্ট, ওয়েনসব্রো এরা বেশ নামকরা ওরিয়েন্টালিস্ট - তবে এদের বইগুলো নেটেও দুষ্প্রাপ্য। আমি ইবন ওয়ারাকের Origins of the Koran বইতে এদের কিছু আর্টিকল পড়েছিলাম। এছাড়া সানা কোরানের গবেষক লাক্সেমবার্গের Syro-Aramaic Reading of the Koran লিখেছিলেন। এ দু'টো বইয়ের স্ক্যানড পিডিএফ নেটে পাওয়া যায়। প্যাটৃসিয়া ক্রোনের Hagarism বইটাও নেটে পেয়েছি (এটা অবশ্য আমি পড়িনাই, আর লেখিকা নিজেই মনে হয় তাঁর তত্ব বাতিল করেছিলেন)।

ছোটোবেলায় যেমনটি শিক্ষা পেয়েছিলাম ধর্মগ্রন্থটি ঐশী, অবিকৃত, স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা এর রক্ষক - ইতিহাস ঘাটঁতে গিয়ে এই দাবীর স্বপক্ষে তেমন জোরালো সমর্থন পাইনি। বরং অনেক ডিস্টারবিং পলিটিক্স সম্পর্কে জেনেছি।

arnob216 লিখেছেন:

২) মেজর ২ ধর্ম ক্রিশ্চিয়ানিটি আর ইসলাম অনেকটাই এক। ইসলাম কে ক্রিশ্চিয়ানিটির আপগ্রেডেড ভার্শন মনে হয়। তাহলে ধর্ম হিসেবে এই ২ এর একই কি সেরা নয়? (আরেকটু ডিটেইলস এ গেলে ইসলাম আগায় যাবে)।

ক্রিশ্চিয়ানিটির পরে ইসলাম এলেও এর উপর বরং জুডাইজমের প্রভাব আরেকটু প্রগাঢ়। যেমন ক্রিশ্চিয়ানিটিতে পর্ক নিষিদ্ধ নয়, সারকামসিশনও তারা মানে না। আর সব ধর্মগুলোর মধ্যে যরথ্রুস্ত ধর্মের গভীর প্রভাব আছে (এ ব্যাপারে আর কিছু লিখছিনা   notlistening, এর আগে পুরো থ্রেডটাই ডিলিট করে দিয়েছিলো)

arnob216 লিখেছেন:

৩) আরেকটি জিনিষ জানতে চাই। ২০০০ বছরের ইতিহাস নিশ্চয়ই এতো বিকৃতি হয় নি। আমার প্রশ্ন হলো নবী আর রাসুলরা তাহলে সত্যিই পৃথিবীতে ছিলো এবং তারা তাদের আগের নবীদের অস্বীকার করেছেন কি? না করলে ধর্মে বিশ্বাসটা একটু জোরদার হয়।

সম্ভবত: এরা মিথলজী আর হিস্টোরিসিটির মিশেল - যাকে বলে mythistory । হয়তো তাদের কেউকেউ রক্তমাংসের মানুষ ছিলেন - তবে ধর্মগ্রন্থে যেমন তাদের নিয়ে অতিপ্রাকৃতিক দাবীগুলো হয় তা খুব সম্ভবত: স্ক্রাইবদের কল্পনা। হিব্রু বাইবেল মতে একেশ্বরবাদী ধর্মের ফাউন্ডিং ফাদার অর্থাৎ প্যাট্রিয়ার্ক হলেন আব্রাহাম। মিশরের ফ্যারো মারনেপতাহ-র আমলের একটা হায়ারোগ্লিফিক্সে "আবিরাম" নামটির উল্লেখ পাওয়া গেছে। তবে তিনি ৯০০ বছর বেচেঁ ছিলেন, বা ঈশ্বরের সাথে রেসলিং ম্যাচ খেলে জিতে গিয়েছিলেন - এগুলো জুয়িশ স্ক্রাইবদের অতিরন্জন ছাড়া কিছু না। দূর অতীতে উল্কাপাতের কারণে পৃথিবীতে একটি ম্যাসিভ ৎসুনামী হয়েছিলো বলে জীওলজিস্টরা কিছু ক্ষীণ ট্রেস পেয়েছেন। পৃথিবীর প্রায় সব প্রাচীন ধর্মে এই ফ্লাডের রেফারেন্স আছে - নিজস্ব ধর্মের মোড়কে। সুমেরীয় গিলগামেশের গল্প ছোটোবেলায় হয়তো পড়েছেন। মৎস্য পুরাণেও এই ফ্লাডের উল্লেখ আছে। ব্যাবীলনীয় হাম্মুরাবীর ধর্মগ্রন্থেও ফ্লাডিং-এর ঘটনা আছে। আবার হিব্রু বাইবেলেও আছে। ৎসুনামীটা যে উল্কার কারণে হয়েছিলো তার বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে মাদাগাস্কারে। তবে নোয়াহ নামে আদৌ কেউ ছিলেন বা থাকলেও তিনি আগেভাগে খবর পেয়ে আর্ক বানিয়ে প্রাণীজগৎকে রক্ষা করেছিলেন এটা মনে হয় ভ্যাটিকানও বিশ্বাস করে না। (তবে তারা বিশ্বাস না করলেও প্রতি ৫/১০ বছর অন্তর অন্তর নূহ নবীর নৌকা আবিষ্কৃত হয়ে চলেছে) ৩য় প্যাট্রিয়ার্ক মোজেসের এক্সোডাসের কথা আগেই উল্লেখ করেছি। ইসরায়লের গোল্ডেন এইজের অন্যতম সম্রাট কিং ডেভিড এবং পুত্র কিং সলোমন (দাউদ ও সোলেমান নবী) - বাইবেল বলে এরা নর্দার্ণ ও সাদার্ণ কিংডম অর্থাৎ ইসরাইল এবং জুডাহ প্রদেশকে একত্রিত করে বিশাল ইহূদী রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করেছিলেন। আর্কিওলজিস্টরা পুরো লেভান্ট অন্চল উল্টেপাল্টে বিশাল সাম্রাজ্যের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পান নি। এরা খুব সম্ভবত: ছোটোখাটো কিছু গুচ্ছগ্রামের রাজা ছিলেন, অন্য গোত্রের উপর বিজয়ী হয়েছিলেন। এদের বীরত্বের কাহিনীকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বিশাল করে বাইবেলের লেখকরা উল্লেখ করেছেন। যেমন একটা উদাহরণ দেই: হিব্রু বাইবেলে আছে ব্যাটল অব জেরিকোর উল্লেখ: নবী জশুয়া জেরিকোর সামনে দাঁড়িয়ে ৭ বার শিংগায় ফুঁক দিলেন আর অমনি ঈশ্বর জেরিকোর চারধারে যে ডিফেন্সিভ ওয়াল ছিলো তা ধ্বসিয়ে দিলেন। আর্কিওলজিস্টরা জেরিকোতে যুদ্ধ ধ্বংসযজ্ঞের আভাস পেয়েছেন। তবে জেরিকো শহরটা হলো ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায়, কি একটা ফল্ট লাইনের একদম সেন্টারে অবস্থিত। ঐ অন্চলে এখনো প্রতি বছর কয়েক ডজন কুয়েক হয়। আশা করি আমার ড্রিফটটা ধরতে পারছেন।  wink

বেশিরভাগ ঘটনারই সিম্পল, ন্যাচারাল ব্যাখ্যা আছে। আগেকার মানুষ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব ফেনোমেনন ব্যাখ্যা করতে পারতো না, আর তাই সুপারন্যাচারাল এজেন্ট দিয়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে চেষ্টা করতো (God of the gaps)

যীশু নামে হয়তো রক্তমাংসের মানুষ কেউ ছিলেন। তবে সান অব গড জীসাস দ্যা সেভিয়ার - এসব হয়তো মিশরীয় দেবতা হোরাস, আখেন-আতেন, পারসী মিথরা, ও রোমান প্যান্থিওনের অন্যান্য ডেইটীর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ধার করা।

আব্রাহামিক ধর্মগুলোর নবীদের মধ্যে নবী মোহাম্মদ সম্ভবত: একমাত্র প্রফেট যাঁর জীবনকাল কেটেছে ঐতিহাসিকদের মতে "in the full light of history"। তাঁর অস্তিত্ব নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। তবে কোরাণ অফিশিয়ালী লিপিবদ্ধ হয়েছিলো তাঁর মৃত্যুর ২০ বছর পরে। বিভিন্ন সহী হাদিস কালেক্সন (বুখারী, তিরমিজি, মুসলিম ইত্যাদি), ইবন ইসহাকের লেখা সীরাৎ সংকলন করা হয়েছিলো ১০০ থেকে ২০০ বছর পরে।

arnob216 লিখেছেন:

4) আর এন্ড রেজাল্ট যাই হোক, ধার্মিক জীবন তো আমার কাছে বেটার লাগে (সেটা যে ধর্মই হোক)। আল্লাহ বা দেবতা যাকেই কেউ একটুও ভয় পাবে সে কি কম আকাম করবে না?


এই ধারণা আমারও ছিলো। তবে দু'টো কারণে ধারণাটা আর নেই -

অনেক দিন জাপানে ছিলাম। অধিকাংশ জাপানী ব্যক্তিগতভাবে প্রায় নাস্তিকের মত থাকে। এমনিতে নিজেদের শিন্টো এবং যেন/কনফুশিয়ান বুদ্ধিস্ট বলে আইডেন্টিফাই করে, তবে প্র্যাক্টিকাল লাইফে তেমন কোনো আচার পালন করে না। ধর্মীয় লায়াবিলিটি না থাকলেও এদেরকে অন্তত: আমাদের তুলনায় বহুগুণে বেশি এথিকাল, মোরাল এবং কমপ্যাশনেট বলে মনে হয়েছে। (এদের অবশ্য যেনোফোবিক বলে দুর্নাম আছে)

২য় কারণ হলো স্যাম হ্যারিস। তিনি মাণুষের এথিকস এবং মোরালিটি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। মোরাল রেলেটিভিজম নিয়ে তাঁর লেকচারগুলো অসাধারণ। বেশ কয়েকটা বইও লিখেছেন - সর্বশেষটা মনে হয় "মোরাল ল্যান্ডস্কেপ" - এটাও এথিকস নিয়েই।

তিনি দেখিয়েছেন, উচুঁস্তরের প্রাণীর মধ্যে এথিকাল বিহেভিয়ার ডেভেলপ করার জন্য গড বা কোনো পানিশিং সুপারভাইজারের প্রয়োজন নাই। প্রাণী নিজের প্রজাতির সার্ভাইভালের জন্যই মোরালিটি ডেভেলপ করে নেয়। ডকিন্সের সেলফিশ জীন প্রাণীজগতে অল্ট্রুইযম নিয়েও বিশদ আছে।

বিশ্বাস জিনিসটা বড়ই বিচিত্র। কোন ট্রিগার্ড ইভেন্ট (ব্রাশু ভাইয়ের ক্ষেত্রে হয়ত সেটা ছিল নিষ্পাপ শিশুটির মৃত্যু) না ঘটার আগ পর্যন্ত, যতই বুঝুন, যতই জানুন, ইউ ক্যান্ট জাম্প আউট অব দ্যা কুয়া।

আরে ভাই, আগেও কইছি, এখনো কইতেছি... ঐ একটা দুইটা ঘটনা দিয়ে এরকম বিরাট ইন্টেলেকচুয়াল কুয়া জাম্পিং হয় নাই। হাজারো সিড়ির মধ্যে ঐটা একটা স্টেপ ছিলো। এর আগেও আরো ভয়ানক ট্র্যাজেডী হয়েছিলো।

আপডেট: এখানে সিরিয়াস অফটপিক হয়ে যাবে বিধায় একটা ফালতু থ্রেড খুলে ফেললাম। আমার sob whiny bitching epic story-টা এখানে

Calm... like a bomb.

৬৪

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

যেহেতু নাস্তিক বা আস্তিক কেউই ঈশ্বর এর অস্তিত্ব থাকা না থাকা নিয়ে ১০০% প্রমান করতে পারছেনা । সেক্ষেত্রে আস্তিকরাই লাভবান হচ্ছে।

মরার পর নাস্তিকরা যদি দেখে ঈশ্বর আছে। তাহলে তার কি অবস্হা হবে সে কি কখনো ভেবে দেখেছে??

আর একজন আস্তিক যদি মরার পর দেখে ঈশ্বর নাই তাহলে তার একটু আপসোস হবে যে দুনিয়ায় অনর্থক কিছু সময় নষ্ট করেছে। এছারা তার আর কোন ক্ষতি নাই। তাই আস্তিক হওয়াই সঠিক কাজ নয় কী?

I am not far, but alone. Like a pair of rail tracks in winter morning.............

৬৫

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

২।ইসলাম খ্রিস্টিনিয়াটির আপগ্রেডেড ভার্সন নয় বরং জরথুস্ত্রবাদের কাট-কপি-পেস্ট।

এই জরথুস্ত্রবাদ ব্যাপারটা বিস্তারিতজানতে চাই , লিংক হলেও চলবে।

আমার ভাষায় ঈশ্বর একজন প্রোগ্রামার , যিনি কিনা একটি প্রোগ্রাম লিখেছেন যেটার অবজেক্ট / ফাংশনগুলো সেলফ প্রোগ্রামেবল , অনেকটা ভিজুয়াল বেসিক ( মানুষের গঠন বোঝাতে ) এর মত । এরা নিজেরে প্রোগ্রাম লেখতে পারে , কিন্তু তাদের প্রোগ্রামলেখা কখনো তাদের মূল প্রোগ্রামারের আশেপাশেও যায় না । তাদের প্রোগ্রামার তাদেরকে এসেম্বলি এর মত প্রোগ্রাম করেছে কিন্তু তারা সি জাতীয় ভাষায় প্রোগ্রাম লেখে , এমনকি তারা মেশিন কোড গুলো জানে না , কারন তারাই কম্পাইলার , কিন্তু এসেম্বলিতে করা । ঈশ্বর তার এই প্রোগ্রামকে নিখুত ভাবে লিখেছেন , এমন কি এই প্রোগ্রামটিকে সেলফ ডিসট্রাক্ট / ডিসট্রাক্ট করার ব্যবস্থা রেখেছে । একই ব্যবস্থা রেখেছেন কিছু সব ফাংশন এর জন্য যখন তারা তাদের সীমা ছাড়ায় । এই প্রোগ্রামে তিনি কিছু ইভিল কোড রেখেছেন যাতে ফাংশনগুলো তাদের কিছু নির্দিষ্ট কাজ / নিয়ম পালনে বাধা দেয়ার জন্য , যেহেতু ফাংশন গুলো সেলফ প্রোগ্রামেবল সেহেতু তারা ইভিল কোড দ্বারা প্রভাবিত হয় । এমন কি ঈশ্বর তার প্রোগ্রামের প্রতিটি ডাটাই তার ডাটাবেসে রাখেন এবং তিনি ধ্বংস হওয়ার পরেও এই ফাংশনগুলোকে আবার তার ইচ্ছা অনুযায়ী রিকভার করতে পারবেন । মজার ব্যাপার হল এই প্রোগ্রাম এ কিছু সাব ফাংশন আছে যাদের লেখা হয়েছে ফাংশনগুলোকে সাহায্য / তাদের ব্যবহার করার জন্য । আর সবচেয়ে বড় কথা হলো এই প্রোগ্রাম এ বাগ নেই । আমরা যে বাগ দেখি তা তার ঐ সেলফ প্রোগ্রামেবল ফাংশনগুলো দ্বারা সৃষ্ট।

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

৬৬

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

arnob216 লিখেছেন:

আমিতো জানতাম পৃথিবীতে আমরা সবাই পরীক্ষা দিচ্ছি। এর মধ্যে সবাইকে গেইনার করে হবে না। পশু-পাখি নিয়ে জানি না(কারণ ওরা তো মনে হয় না দোজখ, না বেহেস্ত যাবে) কিন্তু মানুষ এর মধ্যে আল্লাহ কাউকে পঙ্গু, গরীব রাখছে এবং তারা কষ্টে জীবন যাপন করছে কিন্তু পরকালে আল্লাহ এদের পুরষ্কার বেশি দিতে পারে নয় কি? আর সবাই যদি ধনী হতো তাহলে নিম্ন লেভেলের কাজ কারা করবে? তাহলে আল্লাহ কি কাউকে গরীব বানিয়ে এবং কাউকে ধনী বানিয়ে দেওয়ার জন্যই আস্তে আস্তে এতো কিছু তৈরি হচ্ছে না?

দেখুন, শ্রমবিভাগের প্রসঙ্গ আসুক বা অন্য যেকোন ধরণের বৈষম্যের প্রশ্ন আসুক। সবকিছুর মধ্যেই একটা Chaos খুঁজে পাবেন। এই যে তথাকথিত "নীচু" লেভেলের বা কায়িক শ্রমের কাজের কথা বললেন, এধরণের কাজের অস্তিত্ব থাকারই কি কোন দরকার ছিল? আমার বা আপনার হাতে যদি মহাবিশ্বের ইকোসিস্টেম ডিজাইন করার ভার দেওয়া হত, আমরা কি জীবজগতে খেয়োখেয়ির ব্যবস্থা রাখতাম? অসম শ্রমবন্টন রাখতাম? নিশ্চই নয়। কোন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিই এমন হিংসাজর্জরিত বিশ্ব তৈরি করতে পারেনা। কিন্তু তা রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, যিনি এমন ১০০% Chaotic (যার মধ্যে কিছুই সিস্টেমেটিক নেই, যেটুকু সিস্টেম রয়েছে তার কোনটির পিছনেই ঈশ্বরের হাত নেই, মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান দিয়েই সেটুকু সিস্টেমের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে) বিশ্ব সৃষ্টি করলেন, তিনি কি আদৌ ঈশ্বর? নাকি সেই ঈশ্বর আসলে মানুষই? মানুষের শুভবুদ্ধিটুকু দিয়েই তারা Chaos এর মধ্যে থেকেও Order আনার চেষ্টা করছে, সেই শুভবুদ্ধিটাই ঈশ্বরের মত পারফেক্ট।

"No ship should go down without her captain."

হৃদয়১'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

৬৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন arnob216 (৩০-০৭-২০১২ ০০:১৯)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

invarbrass লিখেছেন:
arnob216 লিখেছেন:

4) আর এন্ড রেজাল্ট যাই হোক, ধার্মিক জীবন তো আমার কাছে বেটার লাগে (সেটা যে ধর্মই হোক)। আল্লাহ বা দেবতা যাকেই কেউ একটুও ভয় পাবে সে কি কম আকাম করবে না?


এই ধারণা আমারও ছিলো। তবে দু'টো কারণে ধারণাটা আর নেই -

অনেক দিন জাপানে ছিলাম। অধিকাংশ জাপানী ব্যক্তিগতভাবে প্রায় নাস্তিকের মত থাকে। এমনিতে নিজেদের শিন্টো এবং যেন/কনফুশিয়ান বুদ্ধিস্ট বলে আইডেন্টিফাই করে, তবে প্র্যাক্টিকাল লাইফে তেমন কোনো আচার পালন করে না। ধর্মীয় লায়াবিলিটি না থাকলেও এদেরকে অন্তত: আমাদের তুলনায় বহুগুণে বেশি এথিকাল, মোরাল এবং কমপ্যাশনেট বলে মনে হয়েছে। (এদের অবশ্য যেনোফোবিক বলে দুর্নাম আছে)

২য় কারণ হলো স্যাম হ্যারিস। তিনি মাণুষের এথিকস এবং মোরালিটি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। মোরাল রেলেটিভিজম নিয়ে তাঁর লেকচারগুলো অসাধারণ। বেশ কয়েকটা বইও লিখেছেন - সর্বশেষটা মনে হয় "মোরাল ল্যান্ডস্কেপ" - এটাও এথিকস নিয়েই।

তিনি দেখিয়েছেন, উচুঁস্তরের প্রাণীর মধ্যে এথিকাল বিহেভিয়ার ডেভেলপ করার জন্য গড বা কোনো পানিশিং সুপারভাইজারের প্রয়োজন নাই। প্রাণী নিজের প্রজাতির সার্ভাইভালের জন্যই মোরালিটি ডেভেলপ করে নেয়। ডকিন্সের সেলফিশ জীন প্রাণীজগতে অল্ট্রুইযম নিয়েও বিশদ আছে।

আবার আমার জীবনে আমার শিক্ষ্যা হচ্ছে কখন যে নিজে খারাপ কাজ করে ফেলি তাই জানি না। কিন্তু সবকিছুরই একটা রেফারেন্স থাকলে সঠিক জিনিষ মানা সহজ হয়। আমার তো উচুস্তরের ব্রেইন না, তাহলে আমি সবসময় কেমনে বুঝবো যে আমার একশন গুলো সঠিক? সিম্পল গীবত করতে যেয়েই তো কত সময় নষ্ট করি আমরা। কিন্তু ধর্মের কথা মনে রাখলে এই বদঅভ্যাস দূর হয়ে যায়।
আর জাপানের ওরা যদি নাস্তিক হয় তার মানে তাদের একেক জনের আচার আচরণ একেক রকম/নন-স্ট্যন্ডার্ড। তাহলে কেমনে ওদের পুরো জাতীর সব কাজ এথিকালি পজিটিভ হয়? (কিছুনা কিছু একশন নিশ্চয় একভাবে পজিটিভ এবং সেখানে তারা একেক ভাবে সেটা করতে যেয়ে নেগেটিভ একশন করে ফেলবে)।

@হৃদয় ভাই
আপনি খালি একটাই অংশ ধরলেন chaos। কিন্তু ইসলাম এর reason বুঝতে হলে খালি পৃথিবীর জীবন চিন্তা করলে তো হবে না। আফটারলাইফ অনুযায়ী চিন্তা করেন। পৃথিবীতে chaos না থাকলে পৃথিবীইতো স্বর্গ হয়ে গেলো!! আল্লাহতো ডিরেক্ট বেহেস্তে আমাদের কে না পাঠিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন কারণ আছে বলেই।

৬৮

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আসলে ধর্ম হচ্ছে মানুষ নামক বিশৃঙ্খল প্রাণী কে শৃঙ্খালায় রাখার একটা সূত্র মাত্র। আমরা মুখে সবাই যতই ফটর ফটর করি আমাদের সবার জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন ঐ অদেখা ঈশ্বর কে মানতে হয় তার কাছে মাথা নত করতে হয়। এখানে যে যতই যুক্তি দেখান না কেন যে যেই ধর্মের হয় না কেন আমরা সবাই তা করি।

ঈশ্বর আছে কি নেই তা চেক করার একটা সহজ উপায় আছে। কিন্তু চেক করার পর তার উত্তর এখানে জনানো আমাদের কারোর পক্ষে সম্বভ না।

বছর দুয়েক আগে একটা সিনেমা দেখেছিলাম  The Book of Eli সময় পেলে যারা দেখেন নি দেখে নিয়েন ধর্ম সম্পর্কে একটা ধারনা পাওয়া যাবে।

নাই

৬৯

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আমরা মুখে সবাই যতই ফটর ফটর করি আমাদের সবার জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন ঐ অদেখা ঈশ্বর কে মানতে হয় তার কাছে মাথা নত করতে হয়। এখানে যে যতই যুক্তি দেখান না কেন যে যেই ধর্মের হয় না কেন আমরা সবাই তা করি।

আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় এইটা একটা মজার ঘটনা।  lol

কঠিন পরিস্থিতিতে কেন যে আচরণ চেন্জ হয়ে যায়। tongue কোথায় জানি পড়েছিলাম উচ্চতর শক্তির কাছে সমর্পনের আকুতি মানুশের জেনেটিক কোডে রয়েছে। কথাটা একে বারে ফেলে দিয়া যায় না। আগেই একটা পোষ্টে লিখেছিলাম সম্রাজ্যবাদী রাশিয়ায় ৫০ বছর পূর্তিতে দেখা গেল তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা লেলিনের কবর। ৫০ বছরের কম বয়সের এক মহিলা (যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ধর্ম শুণ্য রাষ্ট্র ব্যবস্থায়) তিনি লেলিনের কবরে এসেছিলেন লেলিনের কাছে দোয়া চাইতে। lol  অর্থাৎ জন্ম থেকে ধর্ম শুণ্য ব্যাবস্থায় বড় হওয়ার পরও তার মধ্যে সমর্পনের আকুতি কাজ করেছে। আর নিজের মত সে এক জন কে বেছে নিয়েছে। যদিও রাষ্ট্রিয় ভাবে সে নাস্তিক। tongue

আচ্ছা রাশিয়া তো দীর্ঘদিন ধর্মশুন্য রাষ্ট্র। ওখানে মানবিক গুনাবলির বিকাশ কেমন হয়েছে এ সময়ে?

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৭০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নচারী (৩০-০৭-২০১২ ০২:৫৮)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

@ অর্ণব বলা হয় যে, আল্লাহর অনিচ্ছায় কোন ঘটনা ঘটে না। এমনকি গাছের পাতাটিও নড়ে না। বিশেষত তাঁর অনিচ্ছায় যদি কোন ঘটনা ঘটতে পারে তাহা হইলে তাঁহার ‘সর্বশক্তিমান’ নামের সার্থকতা কোথায়? আর যদি আল্লাহর ইচ্ছায়ই সকল ঘটনা ঘটে তবে জীবের দোষ বা পাপ কি?

@ রাশ     ‘এই মৃত্যুর পর ঈশ্বর থাকা না থাকা -ফিফটি-ফিফটি  (এটা স্রেফ সম্ভাবনা, কোন ‘ফ্যাক্ট’ নয়) ব্যাপারটা আসলে কি মিন করে?  প্রথমতঃ একজন বিশ্বাসীর কাছে এই সম্ভাবনাটাই  শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা নিয়ে হাজির হয়।  আর একজন অবিশ্বাসীর কাছে তা শতকরা ০ ভাগ।  অজ্ঞেয়বাদী কিংবা হাল্কা ধরণের বিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা ০  থেকে ১০০এর মধ্যে যে কোন জায়গায় থাকতে পারে। এখন এই শতকরা হিসেব যাই হোক না কেন, এটা নির্দেশ করে একজন বিশ্বাসীর মনোজগতে তার (ঈশ্বরে)বিশ্বাসের স্তরকে, কোন ভাবেই  মৃত্যুর পর প্রকৃত ঈশ্বর থাকা বা না থাকার কোন সত্যিকার প্রোবাবিলিটি নয়। কারণ, এই সম্ভাবনার হিসেব এসেছে বিশ্বাসীদের মানসপটে থাকা বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে যেটা বস্তুনিষ্ঠ-ভাবে গণনা করাই সম্ভব নয়, প্রমাণ তো পরের কথা। কাজেই এই ‘ফিফটি-ফিফটি’ এনে ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ বড় সড় হেত্বাভাস দোষে দুষ্ট, কারণ, মানসজগতে বিশ্বাসের স্তরের উপর ভিত্তি করে  কোন কিছু অস্তিত্ব প্রমাণের যুক্তি  নির্মিত হওয়া উচিৎ নয়,  সেটা বরং হওয়া উচিৎ বৈজ্ঞানিক কিংবা বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ সাপেক্ষে।

    এখানে ধরেই নেয়া হচ্ছে ফিফটি-ফিফটি চান্স-এর যুক্তি (যেটা আসলে কুযুক্তি উপরেই দেখান হয়েছে) উপস্থাপন করলেই বিশ্বাসের উপকারিতা বুঝা যাবে আর অবিশ্বাসের বিপদের আলামত পাওয়া যাবে। সেই কত শতক আগে প্যাস্কালের এই বাজিকে খণ্ডন করে দেয়া হয়েছে, অথচ সেটা এই শতাব্দীতেও বিশ্বাসীদের হৃদয়ে সেটা দোলা দিয়ে চলেছে অবলীলায়। প্যাস্কালের বাজির আরেকটা বড় ত্রুটি হল  -- যদি ধরেও নেয়া হয় মৃত্যুর পরে পরকাল বলে কিছু একটা আছে, তারপরেও প্রমাণিত হয় না যে একটা নির্দিষ্ট ধর্মই (religion-X) প্রকৃত  ধর্ম। যেহেতু ঐ ধর্মের বাইরেও আরো ধর্ম (religion-Y, Z etc..)  আছে  আর  সেগুলো ও তাদের মত করে পরকালকে নির্দেশ করে, কাজেই যে কোন একটা ধর্মকে সত্য মনে করে সার্বজনীন ভীতি তৈরি করা আর এর প্রেক্ষিতে মনের মাধুরী মিশিয়ে যুক্তি সাজানো আসলে প্রতারণার নামান্তর।‘

আপত্তিকর অংশ মুছে ফেলা হল।

ধর্ম যুক্ত পৃথিবীতে কি প্রকার মানবিক গুনাবলীর বিকাশ হইয়াছে তাহা আমেরিকা,ইসরাইল ও আরব এই তিন আব্রাহামিক ভাইয়ের দ্বন্দ্ব সংঘাতেই বুঝিতে পারা যায়।   lol

hit like thunder and disappear like smoke

৭১

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

@m0N লিখেছেন:

@ কালপুরুষ     আচ্ছা, কোরান যে খাঁটি তা কিভাবে জানি আমরা?
    সোজা। কারণ মহান আল্লাহ তালা বলেছেন যে।

ঈশ্বর আছে কি নেই তা চেক করার একটা সহজ উপায় আছে। কিন্তু চেক করার পর তার উত্তর এখানে জনানো আমাদের কারোর পক্ষে সম্বভ না এটা আগেই বলেছি। আর যে কোন ধর্ম গ্রহন্থের মর্মার্থ বোঝা আমাদের মতো উচ্চ পর্যায়ের ছাগলদের পক্ষে সম্বভ না। একটা সময় আসবে যখন আপনিও নিজে থেকেই বুঝে যাবেন কাউকে আপনাকে বোঝানো লাগবে না তা আপনি যে ধর্মের হোন না কেন।
পৃথিবীর সকল ধর্মই মানবতার কল্যাণের জন্য কিন্তু মানুষ নিজের বাঁশ নিজেই নেয়।

নাই

৭২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নচারী (৩০-০৭-২০১২ ০৩:০০)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

@m0N লিখেছেন:

... যে মিথ্যে বলছেন না বুঝবো কি করে?
    খুব সহজেই। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেছেন যে।

@মন আপনার মতের সাথে নাই মিলতে পারে কিন্তু অন্যের মতকে অসম্মান করা কি উচিৎ? কিছু মনে করবেন না আপনার আচরণ মৌলবাদীদের মতই আক্রমনাক্তক। আর কিছু না হোক এতটুকু তো বুঝেন এই নাম কে কোটি কোটি লোক অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে। আপনার খুব ভালবাসার কাউকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করলে কেমন লাগবে।

শেষে যাদের নাম বললেন তারা সত্যিকার অর্থে ধর্ম বলতে কতটুকু সচেতন আমার সন্দেহ আছে।

আর ধর্মহীনতায় যে কোন লাভ আছে তাই বা কে প্রমাণ করতে পারল। আপনি এমন ভাবে কথা বলছিলেন যে মনে হচ্ছিল ধর্ম (বিশেষত ইসলাম) না থাকলেই বোধ হয় পৃথিবীর সব মানুষের সমস্যার সমাধান হবে। না হলেও নারীর উপর অত্যাচার, হত্যা খুন এগুলি কমে যাবে। কিন্তু আদতে তো তা দেখা গেল না। আমি খোঁজ নিয়ে জানলাম রাশিয়ায় ধর্ষণ হয়। চীনে তো নারী শিশু হলেই গর্ভপাতের হুজুগ।

অর্থাৎ আপনি অনেক কষ্ট করে ধর্ম দুর করলেও আদতে কোন লাভই হচ্ছে না। তাহলে আর এত লাফিয়ে লাভ কি? অন্তত প্রধান ধর্ম গুলি মানলে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিক থেকে তো নিরাপত কনডম ছাড়াই। lol

আর আপনি আমেরিকা থেকে আরব সাথে আবার ইসরাইলকেও নিলেন। আশে পাশের দেশ গুলি বোধহয় ভুলে গেছেন। hehe

যাইহোক বেশ কিছু দিন আগে ফোরামে চরম আমেরিকা প্রেমী দেখেছিলাম। আজকাল আর তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। hehe hehe

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৭৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন হৃদয় (৩০-০৭-২০১২ ০৩:২১)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

রাশ লিখেছেন:

মরার পর নাস্তিকরা যদি দেখে ঈশ্বর আছে।

ঈশ্বর বা সুপ্রীম ক্রিয়েটরের অস্তিত্ত্ব সম্পর্কে সরাসরি কিছু বলার উপায় নেই। তবে এইটা অবশ্যসত্য যে মহাবিশ্বের উপর তাঁর কোন কন্ট্রোল নেই। অর্থাৎ তিনি নিষ্ক্রিয়। "ঈশ্বর নেই" এমন কথা বলা অযৌক্তিক। তবে ঈশ্বর থাকলেও মহাবিশ্বের সৃষ্টি বা পরিচালনায় তাঁর সম্ভবত কোন ভূমিকা নেই।

প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে এতো মানুষ ধর্মাবলম্বী কেনো?

এব্যাপারে বলতে গেলে ধর্মের বিরাট একটা ক্ষতিকর অবদান (oxymoron টাইপের লাগলেও সত্য) সম্পর্কে বলতে হয়। সেটা হল আইডেন্টিটি। ধর্ম জিনিসটা মানুষকে একটা পরিচয় দেয়। বর্তমান পৃথিবীতে বহু মানুষের জীবনে ধর্মের কোন প্রভাব নেই। কিন্তু আপনি তাঁদের গিয়ে একটা ভিন্ন ধর্মে ট্রান্সফার  করতে যান, তাঁদের মাথায় আগুণ ধরে যাবে। আমার পরিচিতদের মধ্যে অনেকের এমন মনোভাব দেখেছি। তাঁদের গিয়ে ভিন্ন ধর্মগ্রন্থে কথিত একটা ভালো কথা (কোটেশান) বলতে গিয়ে দেখা গেছে তাঁরা লুকিয়ে লুকিয়ে ততোধিক ভালো একটা কথা নিজেদের হার্ডডিস্কের পিডিএফ ধর্মগ্রন্থে Ctrl+F দিয়ে সার্চ করতে থাকেন  big_smile কারণটা কি?

কারণটা হল সেই আইডেন্টিটি। ধর্মের প্রভাব হিসাবে পরকালে শাস্তির ধারণা, বা অতুল ঐশ্বরিক ক্ষমতার কাছে মাথা নীচু করার প্রবণতা মানুষের নেই। এমনভাবেই মিথলজি পরকালকে তৈরি করেছে যেখানে বাস্তবের ক্যাওস নেই, বৈষম্য নেই, অবিচার নেই - এ এক কাল্পনিক স্বর্গ। কিন্তু সেই ঈশ্বরের পতন হওয়া মানে সে ব্যাক্তির পরিচয়টার পতন হওয়া। তাই নিজের পরিচয় টিকিয়ে রাখার স্বার্থে মানুষ ঈশ্বরকে টিকিয়ে রাখতে চান। বহু মানুষই এমন আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগেন।

মানুষকে সংঘবদ্ধ করতে এই আইডেন্টিটি খুবই ভালো কাজ করে। The Ten Commandments মুভিতে যেমনটি দেখানো হয়েছে। কিন্তু একই সাথে এটা মানুষের প্রকৃত আইডেন্টিটি "মানুষ" সত্ত্বাটাকে ভুলিয়ে দেয়। বহু মানুষ হিটলারকে ঘৃণা করেন, হলোকাস্টকে ঘৃণা করেন, কিন্তু অন্তরে Herrenvolk লালন করেন নিজের অজান্তে, এটাই লজ্জার।

উল্লেখ্য, কারুকে কোট করে লেখা মানেই সব কথা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলছি এমন নয়  neutral কোট করা ছাড়া হঠাৎ বলা শুরু করলে লেখাটি অগোছালো হয়ে যায়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্পেসিফিক কোন ধর্ম নিয়ে কথা বলা টপিকের উদ্দেশ্য বলে মনে হয়না। আরও বড়ো কনটেক্সটে আলোচনা চলছে, আই মীন আদৌ কোন সুপ্রীম রুলার এর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব কিনা তাই নিয়ে। যেখানে ধর্মীয় নিয়মকানুনের বিষয় এসেছে সেখানে জেনারেল আলোচনা চলছে এবং অ্যাজ এ হোল আব্রাহামীয় ধর্মসমূহ, পৌত্তলিক ধর্মসমূহ- ইত্যাদি নামে কল করা হচ্ছে। এটা মেনটেইন করে স্পেসিফিক কোনও ধর্ম সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর না করা উচিত। যাতে আলোচনাটা "আলোচনা"র পর্যায়ে থাকে। স্পেসিফিক ধর্ম নিয়ে কথা বলতে গেলে ফোরাম রুল ভঙ্গ হতে পারে। তাছাড়া সেটা করতে গেলে এতো বড় আলোচনাও করা লাগেনা, একটা ভিডিওতেই যা বলার বলে ফেলা যায়  neutral

আরণ্যক লিখেছেন:

তিনি লেলিনের কবরে এসেছিলেন লেলিনের কাছে দোয়া চাইতে।

চন্দ্রবিন্দু ব্যাণ্ডের একটা গানের লিরিক্সের একটা লাইন - "লেনিনের পাদদেশে প্রণামীর থালা..."। বাস্তবিক এ জিনিস কলকাতায় আমার নিজের চোখে দেখা  big_smile

যাহোক, মানুষ সভ্যতার শুরুর দিকে বজ্রবিদ্যুৎ, ঝড়-বৃষ্টি ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিগুলোর উপাসনা করত। সাধারণভাবেই মানুষ প্রকৃতির কাছে দুর্বল। মানুষ ভাবতে ভালোবাসে যে কেউ একজন রয়েছেন যিনি অনেক অনেক শক্তিমান এবং অন্তত সেই একজন তার ভালো চান। এটাকে ঠিক দেবতার ধারণার সাথে তুলনা করা যায়না। পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে "ওহ গড!" বা "মাম্মিইইই ... " জাতীয় যে এক্সপ্রেশানগুলো বেরোয় সেগুলো কোনটাই ঠিক ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনার মত না। বিপন্ন সময়ে মানুষ একজন সংবেদনশীল অভিভাবক খোঁজে। এটাই মানুষের প্রবণতা। আদৌ সেরকম কিছু আছে কিনা সেটা বিবেচ্য নয়, মানুষের প্রয়োজন- এটাই আসল কথা। আইডেন্টিটির কথা বলছিলাম। ঈশ্বর সত্ত্বাটাকে মানুষের প্রয়োজন না হলেও ঐ আইডেন্টিটিটা এখনো বহুদিন প্রয়োজন হবে। একটা ব্যাপার সঠিক তুলে এনেছেন, যে এমন বজ্রকঠিন মানুষ কেউ নেই যে সম্পূর্ণ অভিভাবক(ঈশ্বর নয়)হীন ভাবে বেঁচে থাকতে পারবে। বিটার ট্রুথ। ডার্ক নাইট সিনেমার একটা কোটেশান আমার খুব প্রিয় -

"Sometimes the truth isn't good enough, sometimes people deserve more. Sometimes people deserve to have their faith rewarded."

কল্লোল যুগের নাস্তিক কবি মোহিতলাল মজুমদারও বলেছিলেন -

"লয়ে গোপালের পাষাণ পুতলি / বন্ধ্যার স্নেহ উঠে যে উথলি
কঠোর সত্য করায়ে স্মরণ কে তারে শাসিতে চায়।"

সুতরাং মানুষের ব্যাক্তিগত প্রয়োজন অনেকসময় সত্যকেও অস্বীকার করে। মানুষের প্রয়োজনটাই গুরুত্বপূর্ণ। তার মানে আলটিমেটলি মানুষই গুরুত্বপূর্ণ।

আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত (কিন্তু লজিক্যাল) ধারণায় মনে হয় "ধর্ম" জিনিসটা এখনো অনেকদিন থাকবে। তবে মানুষের যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু। ধর্মের কাছে মানুষের প্রয়োজন এখনো পুরোপুরি ফুরায়নি। ধর্ম নিজের মত করে বিবর্তিত হবে, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এই পরিচয়টি পুরোপুরি লুপ্ত হবেনা। আস্তে আস্তে মানুষের কাছে এইসব কাল্পনিক আইডেন্টিটি ধরে রাখার প্রয়োজন হবেনা। তখনই ধর্মের প্রয়োজন ফুরাবে। এবং একজনের প্রয়োজন আরেকজন ডিফাইন করে দেবেনা। সুতরাং কারুর কাউকে ঈশ্বরে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করানোর জন্য চাপাচাপি করাটা ঠিক হবেনা  smile নিজস্ব মতামত দেওয়া যেতেই পারে।

"No ship should go down without her captain."

হৃদয়১'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

৭৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (৩০-০৭-২০১২ ০৪:৫৩)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

স্যরী, অফটপিক এখানে সরিয়ে নিলাম..

Calm... like a bomb.

৭৫

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

অনেস্টলি প্রাকৃতিক ঘটনা অসুখ, বিসুখ শিশু মৃত্যু এসব ঘটনার মধ্যে সৃষ্টিকর্তার এক্সিসটেন্স পাওয়া না পাওয়ার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। আমার কাছে ব্যাপার গুলো মনে হয় চিরন্তন সত্য এটা থাকবেই এবং এটা থাকার জন্য। সব কিছুতেই প্রকারভেদ থাকবেই। জঘণ্য খারাপ, জঘণ্য অসুখ যেখানে থাকবে সেখানে সুখী মানুষ বা ভালো কিছুও থাকবে। এসবের সাথে ঈশ্বর থাকা না থাকার সম্পর্ক তালাশ করা বোকামি লাগে। একবার ভাবুন আমাদের লাইফ যদি পুরো পার্ফেক্ট হতো তাহলে কি হতো? যদি না পাওয়া, কষ্ট এটা সেটা প্রিয় জনের মৃত্যু এসব নাই থাকতো, তাহলে আমি সেটাকে তো লাইফ বলবো না। জীবন আছে দেখেই এসব আছে, এগুলাই লাইফের এক্সাইটমেন্ট। এসব প্রতিটা বিট যে পার করতে পারবে, এনড্যুর করতে পারবে সেই ব্রাভো। এসবের জন্য ঈশ্বর বা ধর্মের দোহাই বা দোষ দেয়া ভীরুতার পরিচয় লাগে আমার কাছে। এবং শুধু মাত্র এই একটা কারণে আমি ১০০ পার্সেন্ট শিওর যে ইটারনাল কোনো হেভেন থাকতে পারে না। আর থাকলেও আই রিয়েলি ডুন ওয়ান্ট দ্যট। দ্যট উড বি সো ইনটিমিডেইটিং  worried

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

৭৬

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

একবার ভাবুন আমাদের লাইফ যদি পুরো পার্ফেক্ট হতো তাহলে কি হতো? যদি না পাওয়া, কষ্ট এটা সেটা প্রিয় জনের মৃত্যু এসব নাই থাকতো, তাহলে আমি সেটাকে তো লাইফ বলবো না।

ও এগুলো তাহলে আমাদের জন্যই দরকার? লাইফটাকে লাইফ বলার জন্য?

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৭৭

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

পৃথিবীর বয়স কত এটা হয়তো, সঠিক ভাবে  কারও জানা নাই।হাদিস থেকে আমরা জানি, পৃথিবীতে আগে জিন বাস করতো । এরা যখন নিজেদের মধ্যে স্বার্থ নিয়ে মারামারি করতো, তখন মহান আল্লাহ ফেরেস্তা পাঠাতেন, এদের শায়েস্তা করতে। কিছুসময় শান্ত থাকতো। আবার পরিস্থিতি খারাপ হলে আল্লাহ আবার ফেরেস্তা পাঠাতেন। এভাবেই চলছিল। এরমধ্যে সম্মানিত আল্লাহ মানুষ বানানো/পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। পরের ঘটনা সবাই জানে।
* পৃথিবীতে মানুষের অবস্থান প্রায়  ৩০/৪০ হাজার বছর হতে পারে।
* হযরত আদম(আ:) প্রথম মানুষ/নবী, হযরত নূহ(আ:) প্রথম নবী, হযরত মুহম্মদ(স:) সর্বশেষ নবী,মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম(আ:)। এই সময়ের ভিতরে প্রচুর নবী পাঠানো হয়েছে। এটার সংখ্যা হতে পারে ১.৫-২.৫ লাখ ।মূলত: মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্যই সম্মানিত নবী-রসুলদের আগমন। সমস্ত নবী-রসুল মুসলমান ছিলেন। এই জায়গায় প্রচুর সংখ্যক মুসলমান ভুল করে। মনে করে, হযরত মুসা(আ:)এসেছিলেন বর্তমান ইহুদী মতবাদ নিয়ে, হযরত ঈসা(আ) ছিলেন বর্তমান খৃষ্টবাদ নিয়ে।এই দুই জাতি নবীদের আনা ইসলামকে ধর্মকে বিকৃত করে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে আসে।
“তোমরা আদৌ সত্যের উপর প্রতিষ্ঠত নও, যতক্ষন না তোমরা আসল তওরাত, যবুরকে প্রতিষ্ঠিত না করছো ।
" নবীগন ছিলেন একই দ্বীনের(জীবন-ব্যবস্থা) পতাকাবাহী"
আল-কুরআন

সর্বশক্তিমান আল্লাহর এই নবী-রসুলদের কাছে পাঠানো সংবিধানগুলোর মধ্যে কুরআন হচ্ছে সর্বশেষ সংবিধান। সহজে বুঝানোর জন্য একটা উদাহরন দেয়া যায়। windows যদি মুসলমান হয়, তাহলে windows-7 হচ্ছে quran, যদি microsoft আর version তৈরী না করে।
“আজ আমি দ্বীনকে(জীবন-ব্যবস্থা)পূর্নতা দিলাম(complete code of life), আর একমাত্র কুরআনকে তোমাদের জীবন-বিধান হিসাবে মনোরীত করলাম।“ আল-কোরআন
এছাড়া  আল্লাহ যদি একটাই শক্তি হয়, তাহলে  তিনি , বিভিন্ন রকম মতবাদ পাঠাবেন, এই এটা সঠিক চিন্তা না।
এটা ঠিক যে, সব ধর্মই নিজেকে ঠিক বলে ,কিন্তু  কোরআন ছাড়া কেআআন ধর্মই  নিজেকে শেষ ধর্ম বলেনি।
            আল্লাহ আছে কিনা?  সরাসরি  এটা উত্তর পাওয়া কঠিন। গনতন্ত্র,সমাজতন্ত্র,রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্রের মত  কুরআন
রাষ্ট্র  চালানোর  একটা সংবিধান। কাজেই আমেরিক, রাশিয়ার  সাথে এর সম্পর্ক আছে। ৫০-৮০ দশক পর্য্যন্ত  আমেরিকা/রাশিয়া  উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারন ছিল, বিপরীত  ধর্মী রাষ্ট্র-ব্যবস্থা। কুরআন  মানুষকে  বিজ্ঞান, ইতিহাস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের বিষয়গুলো  সরাসরি শেখাতে আসেনি,  মানুষকে সহজে বুঝানোর জন্য আল্লাহ বিভিন্ন ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন। বৈজ্ঞানিক বর্ননাগুলো  থেকে সহজেই আল্লাহর অস্তিত্ব বুঝা যায়।

৭৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (৩০-০৭-২০১২ ১৯:১৬)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

@ হৃদয় আপনাকে কেউ পরিচয় বিষয়ক প্রশ্ন করলে আপনি কি উত্তর দেন আপনি ভারতীয় নাকি হিন্দু নাকি বাঙালী?আইডেন্টিটি মূলত জাতীয়তা আর তাই আমরা সবাই বাংলাদেশী বললে যে দ্যোতনা সেটা বাঙালী মুসলমান বা বাঙালী হিন্দু কিংবা প্রভৃতিকে পাওয়া যাবে না।আর কোন বিশেষ ধর্মকে অক্রমন করার উদ্দেশ্য আমার নেই আরণ্যক বারবার সব লজিকেই ইসলামী কনটেক্সট থেকে বিচার করছেন তাই প্রতিযুক্তি হিসাবে ইসলাম ও রেফারেন্স হিসাবে আব্রাহামিক ধর্ম এসেছে এবং অন্যান্য ধর্ম নিয়ে কথা বলার সুযোগ বা কারণ ছিল না।এখন ৯৭ ভাগ মুসলিম নিবাসী বাংলাদেশের বাংলাভাষী ফোরামে নিশ্চয় আফ্রিকার জুলু উপজাতীর ধর্ম নিয়ে কথা বলার কারণ নাই।ধর্মের আইডেন্টিফিকেশন কতটা দূর্বল তার প্রমান বাংলাদেশের অভ্যুদয় যাকে কিনা এক ধর্মের শৃঙ্খল পাকিস্তান নামে বেঁধে রাখতে পারে নি।

@ আরণ্যক রাশিয়া ধর্মশূন্য নয় সেখানে ৭০ ভাগ লোক অর্থোডক্স খ্রিষ্টান এবং ৮-১৪% নাস্তিক আছে একই ভাবে চীনও নাস্তিকতা অফসিয়াল হলেও তাদের ধর্ম ব্যবস্থা মূলত প্র্যাগম্যাটিক ও একলেকটিক।সেখানে নাস্তিক ৮-১৪%।চীন প্রধানত কালচারাল প্র্যাকটিস নির্ভর ধর্ম ব্যবস্থা।আর ধর্ম একটা ব্যক্তিগত আচার এর রাস্ট্রীকরণ বা রাজনীতিকরণেই আমার আপত্তি।যতক্ষন এটা ব্যক্তিগত ততক্ষন কোন সমস্যা নেই কিন্তু যখন এটা রাজনীতিকরণ হয় তখনই সমস্যা।আরেকটা কথা ধর্মের ভালো দিক হলেই তা স্বাভাবিক আর খারাপ দিক তুলে ধরলেই তা ধর্ম ব্যবসা কিংবা পথভ্রস্টতা বা  ভুল ব্যাখ্যা তাই না।আপনি যে লেনিনের উদাহরণ দিলেন তা আদতে সিসিলির দার্শনিক ইউহিমেরাসের ভাষায় 'magnified man' যা বীর পূজার বিশেষ ধরণ।আমাকে মৌলবাদ বলার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।আপনি বার বার বান্দরের বংশ,বান্দরের বংশ মানেই জবাবদিহিতার বাইরে যা খুশী তাই করার অধিকার।ধর্ম মানেই বিল্ট ইন নৈতিকতা বললেও তা মৌলবাদী ছিল না নিশ্চয় কি বলেন ?

hit like thunder and disappear like smoke

৭৯

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

@m0N লিখেছেন:

@ হৃদয় আপনাকে কেউ পরিচয় বিষয়ক প্রশ্ন করলে আপনি কি উত্তর দেন আপনি ভারতীয় নাকি হিন্দু নাকি বাঙালী?আইডেন্টিটি মূলত জাতীয়তা আর তাই আমরা সবাই বাংলাদেশী বললে যে দ্যোতনা সেটা বাঙালী মুসলমান বা বাঙালী হিন্দু কিংবা প্রভৃতিকে পাওয়া যাবে না।

আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার দেশ এবং ভাষার নামে পরিচয় দিই। তবে কে কোন পরিচয়টাকে বড় করে তুলবেন সেটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। ভেবে দেখুন, শত যুক্তি দিলেও কিন্তু নিজস্ব উপলব্ধি না হওয়া পর্যন্ত একজন আস্তিক ঈশ্বর অস্বীকার করবেন না। কারণ জীবনের সর্বত্র পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ-সিদ্ধান্তের লজিক মেনে চলেন যুক্তিবাদী। কিন্তু যুক্তি জিনিসটাই অন্ধবিশ্বাসের শত্রু। সুতরাং যুক্তি দেখালেও ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে কোনও আস্তিকের মনে প্রশ্ন আসার কথা না। মূলত আলোচনাগুলো করা হয় যাতে কেউ ইচ্ছা করলে পরবর্তীতে নিজে বিষয়গুলো নিয়ে চর্চা করতে পারেন। নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন। ভেবে দেখুন, বেশীরভাগ আস্তিকই কিন্তু অজ্ঞেয়বাদী বা নাস্তিকদের কাছে কিছু জানার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন না, বরং প্রশ্ন করার কারণটা থাকে কোনওভাবে অপরপক্ষকে ভুল প্রমাণিত করা। সুতরাং এই প্রশ্নের কড়া উত্তর দিয়ে বিশেষ কোন লাভ আছে কি? কড়া উত্তর নিজের ভিতর থেকে আসবে।

@m0N লিখেছেন:

আর কোন বিশেষ ধর্মকে অক্রমন করার উদ্দেশ্য আমার নেই আরণ্যক বারবার সব লজিকেই ইসলামী কনটেক্সট থেকে বিচার করছেন তাই প্রতিযুক্তি হিসাবে ইসলাম ও রেফারেন্স হিসাবে আব্রাহামিক ধর্ম এসেছে এবং অন্যান্য ধর্ম নিয়ে কথা বলার সুযোগ বা কারণ ছিল না।

সেরকমই বলতে চেয়েছিলাম। স্পেসিফিক প্রশ্ন করা হয়েছে কোন ধর্মের একটি ধর্মগ্রন্থ ঈশ্বরপ্রেরিত না ব্যক্তিলিখিত। যদি মাঝামাঝি উত্তর দেওয়া হয় তবে প্রতারণা করা হবে। যদি বলা হয় "হ্যাঁ ঈশ্বরপ্রেরিত হলেও হতে পারে" তাহলে নিজের মনোভাব গোপন করে মিথ্যা কথা বলা হবে। আর অজ্ঞেয়বাদীর কাছে যে উত্তরটি আশা করা যায় তা হল "নাহ, এটা ব্যক্তি লিখিত, এর সপক্ষে অমুক অমুক প্রমাণ ..." তাহলে বেশীরভাগ ফোরামিক এর ধর্মকে আঘাত করা হবে  worried worried worried তার চেয়ে এধরণের প্রশ্নগুলি ইগনোর করাই ভালো। প্রজন্ম সেধরণের আলোচনার জায়গা না। অনেকসময় সত্যি কথা বলার চেয়েও সুন্দর আলোচনার পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি হয়ে ওঠে।

"No ship should go down without her captain."

হৃদয়১'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

৮০

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

মডুদের কাছে আকুল আবেদন টপিক ডিলিট মাইরেন না। এখন টাইম নাই। ঈদের পরে পড়বো। ডিলিট মারলে এক কপি আমাকে পাঠিয়ে দিয়েন।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত