২১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৮-০৭-২০১২ ০৫:২৪)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আরণ্যক লিখেছেন:

আচ্ছা এটা কি ১০০% ভাগ প্রমানিত যে মানুষ বানরের থেকে এসেছে?

আমি খুব বেশি জানি না এ বিষয়ে- আমার ধারণা এটা একটা হাইপোথেসিস। আর মিসিং লিংক (বানর আর মানুষের দেহ কাঠাম পরিবর্তনের) কি এখন পাওয়া গেছে?

দেহের কিছু অপ্রয়জনীয় অংশ থাকাটা কি খুব বড় প্রমাণ। confused

আর একটা হাস্যকর (?) কথা মাথায় ঘুরছে- "আচ্ছা আমরা যদি বানারের বংশদভূত হই। তাহলে এটা কিভাবে প্রমান করে ঈশ্বর নেই?"
হয়ত ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই আমরা বাঁদার সদৃশ প্রজাতি ছিলাম।   neutral  tongue  lol

এখানে বড়সড় ভুল আছে - মানুষ বানর থেকে আসে নি। ডারউইন কখনো এমনটি বলেন নি, এখনকার কোনো এভুলশনিস্টও কস্মিনকালে এমন দাবী করেন নি। বিবর্তনকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ এ ধরণের ফালতু জোক করেছিলো - ওটাই সাধারণ মানুষ সত্য বলে মনে করছে।

মানুষ মোটেও "বানর" থেকে সৃষ্টি হয় নি। বানর আর এইপস দু'টো ভিন্ন প্রজাতি। মানুষের সাথে বানরের মিল আছে ঠিকই, তবে এইপস যেমন শিম্পান্জী, গরিলার সাথে জেনেটিক সাদৃশ্য অনেক বেশি। না, মানুষ এইপস থেকেও আসে নি।

এরা একই কমন এ্যান্সেস্টর শেয়ার করে। ম্যাক্রোএভূলুশন বলে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী বিলিয়ন বছর আগে একই সোর্স LUCA (last universal common ancestor) থেকে উদ্ভূত।

সহজ ভাবে বোঝাতে গেলে, ডারউইন একটি ফাইলোজেনেটিক টৃ প্রস্তাব করেছিলেন। এই টৃ অব লাইফ - জীবন বৃক্ষের দু'টি ভিন্ন শাখা প্রশাখা হলো মানুষ এবং এইপস। এই শাখা দু'টোকে ট্রেস করতে করতে থাকলে একজায়গায় এসে মিলে গেছে  -ওটাই কমন এ্যান্সেস্টর।
http://i.imgur.com/o6uO4.jpg
হ্যাঁ, ঐ কমন লিংকের ফসিলও পাওয়া গেছে। আধুনিক লিমার বানর সদৃশ বেশ কিছু ফসিলস আবিষ্কৃত হয়েছে। পাশের দেশ মায়ানমারে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন বছর আগের লিমার-লাইক ফসিল পাওয়া গেছে। আফ্রিকাতে ৪৫-৪৯ মিলিয়ন বছর পুরণো ফসিল পাওয়া গেছে। এদের মানুষের মত বৃদ্ধাংগুলি ছিলো, আংগুলে claw-এর বদলে নখ ছিলো - প্রথম এই প্রাণীর ফসিলেই এসব মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা গেছে। আরো কিছু কারণে ধারণা করা হয় এরাই আমাদের প্রপিতামহ। এই প্রোটো-প্রাণীরা ৫০-৬০ মিলিয়ন বছর আগে গাছে বসবাস করতো। এর পরের ৪০ মিলিয়ন বছর নেয় তারা গাছ থেকে ক্রমে ভূমিতে নেমে আসতে। প্রায় ২০ মিলিয়ন বছর আগে এই প্রাণিদের একটি লাইন আলাদা হয়ে যায় - এরা আধুনিক বানর। মূল লাইনটি বিভিন্ন উপধারায় বিভক্ত হতে থাকে - প্রায় সবগুলো ধারাই বিলীন হয়ে যায়, অল্প কয়েকটি লাইন টিকে থাকে - তাদের কিছু লাইন হলো আধুনিক এপস (গরিলা শিমপান্জি, ওরাংওটাং ইত্যাদি), আর সর্বশেষ লাইনটি হলাম আমরা।

এপস লাইন থেকে মানুষের লাইনটি বিভক্ত হয়ে যায় আনুমানিক ৫ - ৮ মিলিয়ন বছর পূর্বে।

আর আমরাই কিন্তু একমাত্র হিউম্যানয়েড লাইন না। আমরা (হোমো স্যাপিয়েনস) ছাড়াও আরো অন্তত: ডজন খানেক হিউম্যানয়েড লাইন বেরিয়েছিলো - একমাত্র আমরা ছাড়া আর কোনো লাইনই টিকে থাকতে পারে নি। নিয়ান্ডার্থাল ম্যানের কথা @মন লিখেছেন। এছাড়াও হোমো ফ্লোরেনসিস এবং আরো কিছু প্রোটো-হিউম্যানয়েড প্রজাতি ডেভেলপ করেছিলো - বিভিন্ন কারণে এরা বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের অন্তত: ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ বছর আগে থেকেই বিভিন্ন প্রোটো-মানব প্রজাতি আফ্রিকা ছেড়ে অন্যান্য অন্চলে মাইগ্রেট করার ব্যর্থ চেষ্টা করে। ইরাকে ও মিডল ঈস্টে এদের কিছু ফসিল পাওয়া গেছে।

কিছুদিন আগে ক্রো ম্যাগনন (প্রথম আধুনিক মানুষ) নিয়ে একটি ইন্টারেস্টিং বই পড়ছিলাম। আজকের পৃথিবীতে মানুষের জনসংখ্যা ৭ বিলিয়ন। অথচ ২-৩ মিলিয়ন বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন আফ্রিকার সাভানা ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমায় তখন সমগ্র মানবজাতির সংখ্যা কত ছিলো জানেন?

মাত্র ৬-৭ হাজার!  hairpull

কল্পনা করতে পারেন, ঐ অল্প হাতেগোণা কয়েকটা প্রাণী থেকেই আজকের সমগ্র মানবজাতী!

এটা বলা ভুল হবে না, আমরাও অন্যদের মত বিলীন হওয়া থেকে চুল পরিমাণ দূরত্বে ছিলাম। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।

নিয়ান্ডার্থাল ও অন্যান্য মানুষও যে পুরোপুরি বিলীন হয়েছে এটা বলা যাবে না। নিয়ান্ডার্থালদের থেকে আমরা আলাদা হয়ে যাই আনুমানিক ৪ লক্ষ বছর আগে, তা সত্বেও এদের সাথে আমাদের ৯৯.৭% জেনেটিক মিল আছে। সাসপেক্ট করা হয় আমাদের পূর্বপুরুষ ক্রো-ম্যাগননরা যৌণ সম্পর্ক স্থাপন করে নিয়ান্ডার্থালদের সাথে। ইউরোপীয়ানদের জীনে ৪% নিয়ান্ডার্থাল ডিএনএ পাওয়া গেছে। এছাড়া এখন মনে করা হচ্ছে মানুষের কিছু অটো-ইমিউন রোগও নিয়ান্ডার্থালদের সাথে সেক্সের বাইপ্রোডাক্ট হিসাবে তৈরী হয়েছে - নিয়ান্ডার্থাল ব্লাড আর ক্রো-ম্যাগনন (হিউম্যান) ব্লাড মিশে গড়বড় করে ফেলেছে।  brokenheart নিয়ান্ডার্থাল ছাড়া আমাদের পূর্বপুরুষরা ডেনিসোভান প্রজাতির সাথেও যৌণ সম্পর্ক করেছিলো বলে সম্প্রতি জানা গেছে। এবং এই ডেনিসোভানদের ডিএনএ নাকি আমাদের এশিয়ানদের মধ্যে বেশি আছে - ৪-৬%।  worried

HLA-B73, HLA-B51 এসব জীন আমাদের শরীরে প্রবেশ করেছে ডেনিসোভান, নিয়ান্ডার্থাল প্রজাতির সাথে ইন্টারব্রীডিং-এর মাধ্যমে। HLA-B51 serotype কারণে ইউরোপিয়ান হোয়াইটদের বেহচেট'স ডিজিজ নামে একটি রোগ হয়। B73 কি কর্ম করে তা অবশ্য জানা যায় নি এখনো।

যাকগে, আপনার কৌতূহল মেটানোর জন্য ফ্যাশন সচেতন একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ নিয়ান্ডার্থাল বেরাদারের ছবি দিলাম -  tongue
http://i.imgur.com/rAjbS.jpg

জেনেটিক্সের উন্নতির কারণে এত নিখুঁত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যৎে আরো ফ্যান্টাস্টিক তথ্য উদঘাটিৎ হবে এটা নিশচিৎ!

আরো কিছু ইন্টারেস্টিং ছবি...

এটা উইলমা নামে একটি নিয়ান্ডার্থাল রমণীর রিকনস্ট্রাক্টেড ছবি। ৪৩,০০০ বছর আগে মারা গিয়েছিলো:
http://i.imgur.com/DvHNg.jpg

নিয়ান্ডার্থাল বুড়া:
http://i.imgur.com/Zbs3b.jpg
http://i.imgur.com/R1PPP.jpg

আফ্বিকার ইয়ো এলেরু মানবের কংকাল - এদের সাথেও ইন্টারব্রীডিং করতে ছাড়ে নাই আমাদের পূর্বপুরুষরা:
http://i.imgur.com/Mvb7q.jpg

চীনের রেড কেইভ অন্চলের বাসিন্দা এক প্রজাতি - এরা হয় আলাদা প্রজাতি, নয়তো ডেনিসোভানদের একটি গ্রুপ:
http://i.imgur.com/SGRDN.jpg

স্যামুয়েল এল জ্যাকসন... আই মীন, ডেনিসোভান  tongue - পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া, সাইবেরিয়া, ফিলিপিন্সের মানুষের জীনে এদের ডিএনএ পাও্যা গেছে"
http://i.imgur.com/SX2ew.jpg


দেহের অপ্রয়োজনীয় অংশ বা ভেস্টিজিয়াল অর্গ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ - আমরা যে কমন সোর্স থেকে এসেছি তার স্বপক্ষে।
এখানে বিভিন্ন প্রাণীর এম্ব্রিও-র কম্পারেটিভ ছবি: (সর্বডানে মানুষ)
http://i.imgur.com/jdMC2.jpg
দেখুন, আর্লী স্টেজে সবগুলো প্রাণীই সমান - প্রায় কোনো পার্থক্য নেই, আলাদা করে চিনতে পারবেন না। তবে যত বয়স বাড়ছে ততই আস্তে আস্তে স্পেশালাইজড হয়ে যাচ্ছে। মানুষের কলামটি খেয়াল করুন - লেজ দেখতে পাচ্ছেন কি?

এবার আসুন মানুষের এম্ব্রিও-র রিয়েল ইলেক্ট্রণ-মাইক্রোস্কোপ ফটো (স্কেচ নয়) দেখি:
http://i.imgur.com/LJ96S.jpg
৩টা এ্যারো দিয়ে ভাঁজ করা কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে - এগুলো ফ্যারিন্জিয়াল ক্লেফ্ট। মানুষে (ও অন্যান্য ম্যামালদের) শরীরে এই ভাজগুলো কান, গলা, ফুসফুসে পরিণত হয়। আর মাছের শরীরে এগুলো ফুলকায় পরিণত হয়। লেজটিও এ্যারো দিয়ে মার্ক করা আছে।
http://i.imgur.com/dQMqk.jpg

বিবর্তন বাতিল করে দিলে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন এই সাদৃশ্যকে?

বিবর্তন ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব কোনোটাই প্রমাণ করে না। এর সাথে ঈশ্বরের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি এসে বলে পৃথিবীর বয়স ৪ হাজার বছর, এবং ৪ হাজার বছর আগে মহাবিশ্ব এবং মানুষসহ সমগ্র প্রাণীকুল, গাছপালা একসাথে ঈশ্বর তৈরী করেছেন - তাহলে আমার মনে হয় আপনি প্রশ্নের তীর ছোঁড়া আরম্ভ করতে পারেন।

Calm... like a bomb.

২২

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

@ব্রাশু ভাই দারুণ। আমি তো আপনার ফ্যান হয়ে গেলাম।
@হৃদয়দা এবং @মন ভাই আপনাদের অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে লেখার জন্য।

নিয়ান্ডার্থাল এর ছবি গুলি মজার। এগুলো তো একটা ধারণা আধুনিক জেনেটিক্স এর সাহায্যে। কম্পিউটারের তৈরী। আমরা যে ডাইনোসার দেখে টিভিতে সে গুলি আসলেই এরকম ছিল কিনা তা নিয়েও কিন্তু অনেক বিতর্ক আছে।

হ্যাঁ, ঐ কমন লিংকের ফসিলও পাওয়া গেছে। আধুনিক লিমার বানর সদৃশ বেশ কিছু ফসিলস আবিষ্কৃত হয়েছে। পাশের দেশ মায়ানমারে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন বছর আগের লিমার-লাইক ফসিল পাওয়া গেছে। আফ্রিকাতে ৪৫-৪৯ মিলিয়ন বছর পুরণো ফসিল পাওয়া গেছে। এদের মানুষের মত বৃদ্ধাংগুলি ছিলো, আংগুলে claw-এর বদলে নখ ছিলো - প্রথম এই প্রাণীর ফসিলেই এসব মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা গেছে। আরো কিছু কারণে ধারণা করা হয় এরাই আমাদের প্রপিতামহ। এই প্রোটো-প্রাণীরা ৫০-৬০ মিলিয়ন বছর আগে গাছে বসবাস করতো। এর পরের ৪০ মিলিয়ন বছর নেয় তারা গাছ থেকে ক্রমে ভূমিতে নেমে আসতে। প্রায় ২০ মিলিয়ন বছর আগে এই প্রাণিদের একটি লাইন আলাদা হয়ে যায় - এরা আধুনিক বানর। মূল লাইনটি বিভিন্ন উপধারায় বিভক্ত হতে থাকে - প্রায় সবগুলো ধারাই বিলীন হয়ে যায়, অল্প কয়েকটি লাইন টিকে থাকে - তাদের কিছু লাইন হলো আধুনিক এপস (গরিলা শিমপান্জি, ওরাংওটাং ইত্যাদি), আর সর্বশেষ লাইনটি হলাম আমরা।

এপস লাইন থেকে মানুষের লাইনটি বিভক্ত হয়ে যায় আনুমানিক ৫ - ৮ মিলিয়ন বছর পূর্বে।

এই ফসিল তো প্রমাণ করে না। এটাকে খুব সহজে বানরের পূর্ব পুরুষ বলা যায়। মানুষের বলে দাবি করতে পারা যায় কিন্তু প্রমাণ না। আমি কি খুব ভুল বললাম?

বিবর্তন বাতিল করে দিলে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন এই সাদৃশ্যকে?

হয়তো এটাই এক সময় সত্য বলে প্রমাণিত হবে বা এর চেয়ে অনেক ভাল কোন হাইপোথিসিস আবিষ্কৃত হবে। যেমন এরিস্টটল (ভুল হলো কি?) এর মতবাদ দ্বারা হাজার বছর ধরে বিজ্ঞান বলেছিল মস্তিষ্ক রক্ত পাম্প করে। বিকল্প না থাকায় হাজার বছর ধরে মানুষ কিন্তু তা মেনেও নিয়েছিল। তখন সেটাই ছিল বিজ্ঞানের সত্য। আর আজ এটা হাস্যকর কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিজ্ঞানের একটা মজার বিষয়, এখানে সত্য খুবই আপেক্ষিক। এই যে হকিংন্স সাহেবের কথাই ধরেন- এক সময় ঈশ্বর আছে বলে চেচাতেন আর এখন নাই বলে। দুটোর পিছনেই উনার অনেক যুক্তি। আবার ঈশ্বরের কণা আবিষ্কারে যে ডেড লাইন ছিল সে সময়ে যদি তা প্রমাণ করতে না পারা যেত। তাহলে এই হাইপোথিসিস মিথ্যা বলে ধরে নেয়া হত। সকল সুত্র নতুন ভাবে লেখার চিন্তা ভাবনা চলত। কিন্তু এতে সত্যের কিন্তু পরিবর্তন ঘটত না। সত্য এটাই থাকত যে ঈশ্বরের কণা আছে। শুধু আমরা বুঝতে পারিনি।

বিবর্তন ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব কোনোটাই প্রমাণ করে না। এর সাথে ঈশ্বরের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি এসে বলে পৃথিবীর বয়স ৪ হাজার বছর, এবং ৪ হাজার বছর আগে মহাবিশ্ব এবং মানুষসহ সমগ্র প্রাজ্ণীঞকুল, গাছপালা একসাথে ঈশ্বর তৈরী করেছেন - তাহলে আমার মনে হয় আপনি প্রশ্নের তীর ছোঁড়া আরম্ভ করতে পারেন।

যাক আমি একেবাবরে ভুল ভাবিনি।

আচ্ছা ৪ হাজার বছরের কথা কারা বলেন?

সব শেষে এক কথা ঈশ্বর আছে কি নাই এটা একেবারে প্রমাণিত না। কেউ বিশ্বাস করে আছে, কেউ বিশ্বাস করে ( hehe) নাই। এখন যারা বিশ্বাস করে আছে তারা অন্যদের এই দলে ডাকে পুন্যের আশায়। কিন্তু যারা বিশ্বাস করে নাই তারা অন্যদের এটা বিশ্বাস করানর জন্য (যে ঈশ্বর নাই) এত সিরিয়াস কেন? confused

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

২৩

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আমার একটা প্রশ্ন

বিবর্তনবাদ বলছে অনেক কিছুর বিবর্তনের ফলাফল আজকের আমরা। আজকের আমরা থেকে ভবিষ্যতে নতুন কিছু কি আসবে না? এতদিন ধরে এতোগুলো ধাপ পেরিয়ে বিবর্তন এসে  হোমসেপিয়ান্স এ কি আটকে গেছে ?

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৪

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

ফারহান খান লিখেছেন:

আমার একটা প্রশ্ন

বিবর্তনবাদ বলছে অনেক কিছুর বিবর্তনের ফলাফল আজকের আমরা। আজকের আমরা থেকে ভবিষ্যতে নতুন কিছু কি আসবে না? এতদিন ধরে এতোগুলো ধাপ পেরিয়ে বিবর্তন এসে  হোমসেপিয়ান্স এ কি আটকে গেছে ?

কারণ এটাই স্টেইবল মো্স্ট। আর বুদ্ধিমত্তার বিচারেও এই ধাপ অনেক এগিয়ে তাই আমরা সারভাইভ করতে পারছি সব কিছুর মাঝেও। হয়তো এক সময় সেটা সম্ভব নাও হতে পারে  thinking

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৫

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

ফারহান খান লিখেছেন:

আজকের আমরা থেকে ভবিষ্যতে নতুন কিছু কি আসবে না? এতদিন ধরে এতোগুলো ধাপ পেরিয়ে বিবর্তন এসে  হোমসেপিয়ান্স এ কি আটকে গেছে ?

দ্যাটস আ গ্রেট কোয়েশ্চেন  thumbs_up

২৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (২৮-০৭-২০১২ ১২:৪৪)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

বস থিইজম আর ডিইজমের ডিসটিংগুইশ টা কি এখান থেকেই হলো।

যে একদল বলে যে সৃষ্টি করে আমাদের সব এফ্যেয়ারে জড়িয়ে আছেন আর আরেক দল যারা কিনা ইভ্যুলুশন বিশ্বাস করেন আবার ওদিকে ডিইস্ট তারা ভাবেন যে শুধু ইউনিভার্সের বিস্ফোরন ঘটিয়েই তিনি থেমে গেছেন বাকি সব ছবির মতো হয়েছে। যেই মুভির খুব ভালো একজন ডেডিকেটেড দর্শক আছে উইথ এন আনডিভাইডেড এটেনশন ?

পার্থক্য নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা চাই এই দুইয়ের

আর সত্যিই যদি অনটোলজিক্যল কোনো এক্সপ্ল্যনেশন না থাকে তাহলে তো এগনস্টিজম সবচেয়ে ভালো  big_smile

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৮-০৭-২০১২ ১৯:৪৩)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আরণ্যক লিখেছেন:

নিয়ান্ডার্থাল এর ছবি গুলি মজার। এগুলো তো একটা ধারণা আধুনিক জেনেটিক্স এর সাহায্যে। কম্পিউটারের তৈরী। আমরা যে ডাইনোসার দেখে টিভিতে সে গুলি আসলেই এরকম ছিল কিনা তা নিয়েও কিন্তু অনেক বিতর্ক আছে।


নিয়ান্ডার্থাল এবং ডাইনোসর ইত্যাদি ফসিলে মূল প্রাণীটির অসংখ্য কংকাল পাওয়া গেছে। যেসব ইমেজ আমরা দেখি ওগুলো সেসব কংকালের স্ট্রাকচারাল এ্যানালিসিসের উপর ভিত্তি করে। একদম হুবহু না হলেও আসল প্রাণীটির সাথে ইমেজগুলোর ৯০% মিল থাকবে বলে ধরে নিতে পারেন। শুধু কংকাল না, এখন জেনেটিক্স এবং অন্যান্য সাইন্সের উন্নতির বদৌলতে আমরা আরো অনেক কিছুই জানছি। নিয়ান্ডার্থাল মানুষদের দাঁত এ্যানালাইসিস করে তাদের কি ধরণের ডায়েট ছিলো তা আইডিয়া করা যাচ্ছে। যেমন ছবির মহিলার চুল যে লাল ছিলো তা তার ডিএনএ থেকে জানা সম্ভব হয়েছে - ওটা তাঁরা কিভাবে জানলেন? রেডহেড মানুষের জীনের যে অংশটা লাল চুল তৈরী করে, সেই সেগমেন্ট ঐ উইলমা-র জীনেও পাওয়া গেছে। উইলমার চেহারা রিকনস্ট্রাক্ট করা হয়েছে তার মাথার খুলি থেকে - মানুষ এবং এইপসদের মুখের কোন অংশে কতটুকু ফ্যাট, মাসল, কার্টিলেজ থাকে এসব কম্পেয়ার করে তাঁরা ঐ চেহারা তৈরী করেছেন - একদম ১০০% পার্ফেক্ট হবে না, তবে নিয়ার পার্ফেক্ট তো হবে।

প্যালিওলজিস্টরা একটা দু'টো ক্লু পেলে সেটাকেই তত্ব বানিয়ে ফেলেন না, অনেকগুলো ফ্যাক্টর যাচাইবাছাই করে তারপর একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হন। যেমন আমরা জানি নিয়ান্ডার্থালরা বেঁটে কিন্তু খুব গাট্টাগোট্টা ছিলো, প্রচন্ড শক্তি ধরতো শরীরে। এটা গবেষকরা কিভাবে বুঝলেন? প্রথমে হয়তো নিয়ান্ডার্থাল বোনস এ্যানালাইসিস করে দেখলেন ওদের হাড়গুলো লম্বায় ছোটো হলেও (আধুনিক মানুষের তুলনায়) সাইযে বড়, ক্যালশিউয়াম ডিপোজিট বেশি অর্থাৎ অনেক ঘন এবং ভারী। তারপর হয়তো আধুনিক মানুষের কংকালের সাথে তুলনা করে কম্পিউটার সিমুলেশণের মাধ্যমে হিসাব করে তাঁরা বের করলেন অমুক ধরণের ভারী হাড় নিয়ে দৌড়াদৌড়ি, শিকারে যাওয়ার জন্য নূন্যতম তমুক পরিমাণ মাসলম্যাস থাকতে হবে নিয়ান্ডার্থাল শরীরে। গবেষকদের আরেকটি গ্রুপ হয়তো দাঁত নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আবিষ্কার করলো নিয়ান্ডার্থালরা মূলত: মাংশাষী ছিলো। এটা আমাদের গবেষকদের সাথে মিলে গেলো, এতভারী কংকাল সাপোর্ট করতে হলে ম্যাসিভ এ্যামাউনটের মাসলপাওয়ার লাগবে, আর এই বিরাট পরিমাণ মাসলম্যাস ফলমূল খেয়ে আসবে না, এর জন্য হাই-প্রোটিন ডায়েট দরকার। এরকম বিভিন্ন রিলেটেড সাইন্স বায়োফিজিক্স, এ্যানাটমী, জেনেটিক্স, জিওলজী ইত্যাদি ফিল্ডে অগ্রগতির সম্মিলিত ফল হলো আধুনিক সািন্টিফিক ফাইন্ডিংস গুলো। শুধু দুইচারটা হাড় দেখেই কেউ বলেন না যে অমুক প্রজাতির মেয়েটা দেখতে ঐশ্বরিয়ার মত ছিলো, বা ছেলেটা দেড় ব্যাটারী সুজন।

সম্ভবত: এই বছরের প্রথম দিকে একটি এক্সাইটিং নিউজ পড়েছিলাম। সাইবেরিয়ার বরফের নীচে প্রায় অবিকৃত একটি ফ্রোযেন ক্রো-ম্যাগনন লাশ আবিষ্কৃত হয়েছে। সাইন্টিস্টরা খুবই উত্তেজিত ছিলেন - বরফে জমে থাকার কারণে লাশের শরীরে রক্ত পাওয়া গেছে। এতদিন তাদের শুধু শুকনো কংকাল নিয়ে কাজ করতে হতো, এই প্রথম এমন ফ্যান্টাস্টিকলী প্রিজার্ভড স্পেসিমেন আমাদের হাতে এসেছে! এটা যেন মিনি টাইমমেশিন! এই লাশ থেকে আরো অনেক তথ্য জানা যাবে।

আরণ্যক লিখেছেন:

এই ফসিল তো প্রমাণ করে না। এটাকে খুব সহজে বানরের পূর্ব পুরুষ বলা যায়। মানুষের বলে দাবি করতে পারা যায় কিন্তু প্রমাণ না। আমি কি খুব ভুল বললাম?

তা হয়তো ১০০% প্রমাণ করে না, but this is the best evidence that we have, for now. তবে এই সাইন্সটা তো মাত্র জন্ম নিলো - ডারউইনের থিওরী পাবলিশ হয়েছিলো ১৫০ বছর আগে। জেনেটিক্স, কম্পিউটার এইডেড রিসার্চ ইত্যাদি তো ৫০ বছর আগেও ছিলো না। বলতে পারেন রিসার্চের গাড়ীটি সবে মাত্র চলা শুরু করেছে। ০ থেকে ৬০ মাত্র রওনা হলাম, আগে কি আছে দেখা যাক না?

হয়তো এটাই এক সময় সত্য বলে প্রমাণিত হবে বা এর চেয়ে অনেক ভাল কোন হাইপোথিসিস আবিষ্কৃত হবে। যেমন এরিস্টটল (ভুল হলো কি?) এর মতবাদ দ্বারা হাজার বছর ধরে বিজ্ঞান বলেছিল মস্তিষ্ক রক্ত পাম্প করে। বিকল্প না থাকায় হাজার বছর ধরে মানুষ কিন্তু তা মেনেও নিয়েছিল। তখন সেটাই ছিল বিজ্ঞানের সত্য। আর আজ এটা হাস্যকর কথা ছাড়া আর কিছুই নয়

আপনার সাথে একমত - পুরণো হাইপোথিসিস বাতিল করে তার জায়গা নিয়ে নিচ্ছে আরো ভালো এবং সলিড কোনো হাইপোথিসিস। তবে এখন সাইন্স যে ম্যাচুর স্টেজে পৌঁছে গেছে, আগের থিওরী পুরোপুরি ভুল হবার ঘটনা কমে যাচ্ছে। এখন পুরোণোটাকেই আরো ফাইন-টিউনিং, যোগ বিয়োগ করে পরিশীলিত করার ঘটনা বেশি হচ্ছে। এখন রিসার্চ কোয়ালিটি কন্ট্রোল অনেক উচুঁতে উঠে গেছে। পুরণো যে থিওরীটি ছিলো সেটা কোনো না কোনো শক্ত ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত ছিলো, নতুন যে রিফাইনমেন্ট আসছে তা আগের চাইতেও স্ট্রিনজেন্ট কন্ট্রোলের ফলে বেরিয়ে আসছে।

তবে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে এ্যারিস্টোটল, সক্রেটিসের ফিলোসফী মিলিয়ে ফেললে বিরাট ভুল হবে। এ্যারিস্টটলের হাইপোথিসিস ছিলো পিওর গেসওয়ার্ক - তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেন নি। এখন তো সেরকম নেই। কোনো তত্ব দিতে হলে আপনাকে এম্পিরিকাল এভিডেন্স খাড়া করতে হবে। প্রমাণ নাই তো, আপনার তত্বও স্ট্রেট আস্তাকুঁড়ে। এখন নিউরোসাইন্স, ফাংশনাল এমআরআই-এর কল্যাণে ব্রেনের প্রতিটি মিলিমিটার সম্পর্কে আমরা জানছি। ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপী, বায়োফিজিক্স, বায়োকেমিস্ট্রি ইত্যাদির দ্বারা আমরা নিউরন, এ্যাক্সন কিভাবে কাজ করে তা জানছি। ম্যাক্রো ও মাইক্রো লেভেলের সবকিছুই আমাদের সামনে উন্মোচিৎ হয়ে পড়ছে।

ঈশ্বর সম্পর্কিত টপিকে নিউরোসাইন্স প্রসঙগ চলে এলো বিধায় কিছু অফটপিক:
জেনেটিসিস্ট ডীন হামের পেয়েছেন "দ্যা গড জীন" - এই বিতর্কিত হাইপোথিসিস মতে একটি মানুষ কতটুকু স্পিরিচুয়াল হবে জন্মের সময়ই তা নির্ধারণ করে দেয় VMAT2 জীন।
নিউইয়র্ক নিউরোসার্জন ড: ক্যাপোজিয়ানী উন্মোচিৎ করেছেন দ্যা গড ব্রেইন - মানব মস্তিষ্কের কোন কোন অন্চলে ঈশ্বরের বসতবাড়ি তাঁর গ্রুপ সেগুলো ম্যাপিং করে ফেলেছেন।
ক্যানাডার নিউরোসাইন্টিস্ট ড: মাইকেল পার্সিংগার তৈরী করেছেন দ্যা গড হেলমেট - এই হেলমেট পরিয়ে দিলে প্রচন্ড স্কেপটিকরাও "সুপারন্যাচারাল অস্তিত্ব অনুভব" করেন (রিচার্ড ডকিন্স বাদে - এই বুড়ার উপর খোদকারী হেলমেট প্রায় কোনো ইফেক্ট ফেলতে পারেনি   lol ডকিন্সের "রূট অব অল ইভিল" ডকুতে এ ব্যাপারে পাবেন)। আর কিছুদিন পরে হয়তো বেডরুমে শুয়ে সুইচ টিপেই আপনি ঈশ্বর-অনুভুতি জেনারেট করতে পারবেন।

এসব পাইয়োনীয়ারদের হাত ধরে একটি নতুন সাইন্স ভূমিষ্ঠ হবো-হচ্ছি করছে - নিউরোথিওজী: নিউরোসাইন্স মীটস থিওলজি। যাকগে, এটা নিয়ে পরে একসময় আলোচনা করা যাবে।

বিজ্ঞানের একটা মজার বিষয়, এখানে সত্য খুবই আপেক্ষিক। এই যে হকিংন্স সাহেবের কথাই ধরেন- এক সময় ঈশ্বর আছে বলে চেচাতেন আর এখন নাই বলে। দুটোর পিছনেই উনার অনেক যুক্তি। আবার ঈশ্বরের কণা আবিষ্কারে যে ডেড লাইন ছিল সে সময়ে যদি তা প্রমাণ করতে না পারা যেত। তাহলে এই হাইপোথিসিস মিথ্যা বলে ধরে নেয়া হত। সকল সুত্র নতুন ভাবে লেখার চিন্তা ভাবনা চলত। কিন্তু এতে সত্যের কিন্তু পরিবর্তন ঘটত না। সত্য এটাই থাকত যে ঈশ্বরের কণা আছে। শুধু আমরা বুঝতে পারিনি।

সহমত, হিগস বোসন ফলস প্রমাণিত হলে সারা ফিজিক্স জগৎে দাবানল লেগে যেত!

না, হকিন্স, আইনস্টাইন কখনোই ঈশ্বর বিশ্বাসী ছিলেন না। তবে তাঁরা দু'জনেই ওয়ার্ডপ্লে করতে পছন্দ করেন। "গড ডাযন'ট প্লে ডাইস", "নোয়িং দ্যা মাইন্ড অব গড" ইত্যাদি উক্তি নিছক শব্দের কারুকাজ। ডগমাটিক ক্যাথোলিক খৃস্টান ইভান্জেলিকসরা ঐ দু'চারটে বাক্য আউট অব কনটেক্সট নিয়ে লাফালাফি করে। কিন্তু এদের পুরো বক্তব্যটি যদি সামগ্রিকভাবে নেন, তাহলে দেখবেন ঈশ্বর শব্দটি তাঁরা নিতান্তই ডেকোরেশন হিসাবে ব্যবহার করেছেন। ডকিন্সের গড ডিল্যুশন বইয়ে এ কারণে আইনস্টাইন, হকিন্সকে মৃদু ঝাড়ি দিয়েছে।  lol

এ্যাস্ট্রো-ফিজিক্স বাদ দেই, হকিন্সের ঈশ্বরের উপরে চেতার যথেষ্ট পার্সোনাল কারণ আছে। তিনি তো খুব অল্প বয়স থেকেই চলৎশক্তিহীন চালকুমড়া। তাঁকে বাচিয়ে রেখেছে মেডিকাল সাইন্স, গবেষণা চালিয়ে যাবার সুযোগ দিয়েছে কম্পিউটার সাইন্স - এ দু'টোর কোনোটাই বাইবেলের পাতা থেকে উঠে আসে নি। আরো পন্চাশ বছর আগে তিনি যদি জন্ম নিতেন, ২৫ বছরের বার্থডে কেক কাটার সৌভাগ্য হতো না। তাঁর হিসাব সোজা: গড ওয়ান্টস হিম ডেড, টেকনোলজী ইন্টারফেয়ারস।  neutral

আইনস্টাইন পুরোপুরি নাস্তিক ছিলেন কি না জানি না। তিনি বারুচ স্পিনোযার প্যানথেইজমে হয়তো প্রভাবিত ছিলেন।

ওয়েস্টার্ণ ওয়ার্লডের সবচাইতে মৌলবাদী দেশ হচ্ছে আমেরিকা। অবাক হবেন না, আমেরিকার অবস্থান তুরস্কের ঠিক আগে। ৮০%-এরও বেশি আমেরিকান খৃস্টান ধর্ম-উপধর্মে বিশ্বাসী। তবে তাদের সাইন্স কমিউনিটিতে উল্টো চিত্র। ফোরামে অন্য কোনো টপিকে স্ট্যাটিস্টিক্সটা দিয়েছিলাম কিছুদিন আগে - ইউএস ন্যাশনাল এ্যাকাডেমী অব সাইন্স কয়েক হাজার গবেষকের উপর জরিপ চালিয়ে থাকে। (এক্সাক্ট ফিগার মনে নাই) ১৯৯৯ সালে ৭০% গবেষক "ইররিলিজন" গ্রুপে ছিলেন, ২০০৮ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৮৩%-এ! মাত্র এক দশকে কি অবনতি হয়েছে!  roll

তবে এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন: "ইররিলিজিয়ন" একটা ব্রড গ্রুপ: এর মধ্যে "নো-রিলিজয়ন "(আস্তিক, কিন্তু কোনো অর্গানাইযড ধর্ম মানেন না) আছে, পাড় নাস্তিক আছে, আর এ্যাগনোস্টিকরাও আছে।

যাক আমি একেবাবরে ভুল ভাবিনি।

আচ্ছা ৪ হাজার বছরের কথা কারা বলেন?

এটা বলে ইয়ং আর্থ ক্রিয়েশনিস্টরা। ঘটনা বেশ মজার। ১৫০০ শতাব্দীতে আর্চবিশপ জেমস আশার বছরের পর বছর বাইবলের জেনেসিস "গবেষণা" করে নবী পয়গম্বরদের বয়স যোগ বিয়োগ করে উপনীত হোন ঠিক ৪ হাজার বছর আগে, খৃ:পূর্ব ৪০০৪ সালের ৪ঠা অক্টোবর আনুমানিক সকাল ৯ ঘটিকায় মহাপ্রভূ জগৎ সৃষ্টি করেছিলেন। এই তত্ব প্রায় ৫০০ বছর টিকে ছিলো। পরে আরেক স্প্যানিশ বাইবেলমাস্টার এসে আর্চবিশপ জেমস-কে অংকে গোল্লা দিয়ে দেন। বিশপ নাকি ২০০০ বছর মিসক্যালকুলেট করেছিলেন - অতএব নতুন হাইপোথিসিসে পৃথিবীর বয়স ধরা হয় ৬০০০ বছর। পরে আবার ডাইনোসর, ফসিলস ইত্যাদি শয়তানের স্পেসিমেন আবিষ্কারের পরে এই হাইপোথিসিসও রিভাইজ করার প্রয়োজন পড়ে যায়। বর্তমানে মনে হয় পৃথিবীর বয়স তারা বেধে দিয়েছেন ১০,০০০ বছরের বেশি। ইশ শিরে, মাত্র ৫০০ বছরের ব্যবধানে কুমারী পৃথিবীটাকে বুড়ী বানিয়ে ছাড়লো!  hairpull

যাকগে, ধার্মিক তো হলো। অধার্মিকদের মতে পৃথিবীর বয়স কত? সবজান্তা মামাকে প্রশ্ন করাতে সে এই উত্তর দিলো:
http://i.imgur.com/mgq70.png
৪.৫ বিলিয়ন বছর একজন দুইজন জিওলজী মাস্টার নির্ণয় করেন নি। বিভিন্ন ফিল্ড থেকে করোবরেটিং এভিডেন্সের ভিত্তিতে সাইন্টিস্টদের কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলো। রেডিওমেট্রিক ডেটিং, কন্টিনেন্টাল ডৃফট, বিগ ব্যাং কসমোলজী ইত্যাদি বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তাঁরা বর্তমান ফিগারটি নির্ণয় করেছেন। তবে এটাও ফিক্সড নয়, ভবিষ্যৎে সাইন্স আরো উন্নত হলে এটাও ফাইন টিউনড হবে।

ফারহান খান লিখেছেন:

আমার একটা প্রশ্ন

বিবর্তনবাদ বলছে অনেক কিছুর বিবর্তনের ফলাফল আজকের আমরা। আজকের আমরা থেকে ভবিষ্যতে নতুন কিছু কি আসবে না? এতদিন ধরে এতোগুলো ধাপ পেরিয়ে বিবর্তন এসে  হোমসেপিয়ান্স এ কি আটকে গেছে ?


না আটকে নাই। হোমসেপিয়ান্স বিবর্তনও এগিয়ে চলেছে, শুধু এগিয়ে চলেছেই না - দিনে দিনে এক্সেলারেট করছে। আধুনিক প্রজন্ম আগের চাইতে ফাস্টার গতিতে নতুন জেনেটিক ট্রেইটস, সার্ভাইভাল ট্যালেন্টস পিকআপ করছে। এটা হচ্ছে বর্তমানের কম্পিটিটিভ বিশ্ব অবস্থার কারণে।

২০ হাজার বছর আগে যে মানুষ ছিলো, তাদের সাথে আমাদের (ডিজ্যুস জেনারেশন) মিল সামান্যই, বরং ওদের সাথে নিয়ান্ডার্থালদের সাদৃশ্য বেশি ছিলো। এখন বলা হচ্ছে গত ১০,০০০ বছর আগের তুলনায় মানুষের কোষে জেনেটিক মিউটেশনের হার ১০০ গুণ বেড়ে গিয়েছে।

একটি প্র্যাক্টিকাল উদাহরণ দেই - ১০,০০০ বছর আগে শিকারী, নোমাডিক হোমোস্যাপিয়েন্স মাত্র সেটল হয়ে কৃষিকাজ, পশুপালন করা শুরু করেছে। গরূর দুধে ল্যাকটোজ থাকে, এই কঠিন প্রোটীন হজম করার জন্য কিছু এনজাইম দরকার যেগুলো তখন মানুষের শরীরে ছিলো না, ফলে শারীরিক অসুবিধা হতো। ধীরে ধীরে অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে - জেনেটিক মিউটেশনের মাধ্যমে ঐ ক্ষমতাও মানুষ আয়ত্ত করেছে। এখন ৯৫%-এর মানুষের মধ্যে এই জীনটি আছে - ল্যাক্টোজ আমরা হজম করতে পারি। বাকি ৫% মানুষ এখনো ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সে ভোগেন (আপনার আত্মীয়স্বজনদের মাঝে খোঁজ করলে পেয়ে যেতে পারেন এমন দু-একজনকে)।

তবে হ্যাঁ, আমাদের পৃথিবী যত দ্রুত চেন্জ হচ্ছে, বায়োলজিকাল এভুলুশন তার সাথে তাল মেলাতে পারছে না, অনেক পিছিয়ে। যেমন ডায়াবিটিস, ওবেসিটি এখন মহামারী - এটা হয়েছে শুধু মাত্র আমাদের কার্বোহাইড্রেট ডায়েটের কারণে। আদিম মানুষ হাইপ্রোটিন ডায়েট খেতো, কার্ব আসতো শুধু ফলমূল থেকে, বেঁচে থাকার প্রয়োজনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের প্রচুর কায়িক পরিশ্রম করতে হতো।

কিন্তু প্রোটিন ম্যানুফেকচার করা খুবই এক্সপেনসিভ - প্রোটিন-বেজড ডায়েট দিয়ে আমাদের মত এত বিরাট পপুলেশন সাসটেন করা একদমই অসম্ভব, আমাদের কোনো টেকনোলজীই এটা করতে পারবে না। তাই প্রোটিন রিপ্লেস করে আমরা চলে গেছি কার্বে - কার্ব ফুড তৈরী করা বেশ ইনএক্সপেনসিভ এবং মোটামুটি পৃথিবীর সর্বত্র ফলানো যায়। আর এদিকে আমাদের কায়িক শ্রম ড্রাস্টিকালী কমে গেছে। এখন কল ঘোরালেই পানি, দোকানে পকেট উল্টালেই রেডীমেড ফাস্টফুড। আমাদের পারিপার্শ্বিক খুব র্যাপিডলী চেন্জ হয়ে গেছে, কিন্তু জেনেটিক কলকব্জা রয়ে গেছে ৫-১০ হাজার বছরের পুরণো অবস্থায়। ঐ সময়কার পরিবেশের জন্য যে জীনগুলো কাজে লাগতো, ওরাই এখন পরিবর্তিত লাইফস্টাইলের কারণে ডায়াবিটিসের মত ভেজাল লাগাচ্ছে। জেনেটিক মিউটেশন খুব স্লো। হয়তো দূর ভবিষ্যৎে একদিন ডায়াবিটিস অতীত হয়ে যাবে। ওয়াল-ঈ এ্যানিমেশন মুভিটা দেখতে পারেন...

এ দু'টো উদাহরণ চোখের সামনেই ঘটছে - বিবর্তনের রিয়েল-লাইফ আর্টিফ্যাক্ট। জেনেসিস-এর ৬+১ দিনের বিবলিকাল সৃষ্টিগল্প দিয়ে এসব ব্যাখ্যা করা কঠিন।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

বস থিইজম আর ডিইজমের ডিসটিংগুইশ টা কি এখান থেকেই হলো।

যে একদল বলে যে সৃষ্টি করে আমাদের সব এফ্যেয়ারে জড়িয়ে আছেন আর আরেক দল যারা কিনা ইভ্যুলুশন বিশ্বাস করেন আবার ওদিকে ডিইস্ট তারা ভাবেন যে শুধু ইউনিভার্সের বিস্ফোরন ঘটিয়েই তিনি থেমে গেছেন বাকি সব ছবির মতো হয়েছে। যেই মুভির খুব ভালো একজন ডেডিকেটেড দর্শক আছে উইথ এন আনডিভাইডেড এটেনশন ?

পার্থক্য নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা চাই এই দুইয়ের

আর সত্যিই যদি অনটোলজিক্যল কোনো এক্সপ্ল্যনেশন না থাকে তাহলে তো এগনস্টিজম সবচেয়ে ভালো  big_smile


ডিইজম মনে হয় বাতিল হয়ে গেছে। রোমান ক্যাথলিক চার্চের পীড়ণে কিছু ভিক্টোরিয়ান এলীট ক্লাস গোপনে এই ধারণা চালু করেছিলো। ডেইজম তৈরী হয়েছিলো গেস্টাপো চার্চের অতিরিক্ত ওরওয়েলিয়ান কন্ট্রোলের রিএ্যাক্সন হিসাবে। চার্চের প্রভাব কমে যাওয়ায় এখন আর তেমন কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামায় বলে মনে হয় না।

থিইজম আর ডেইজম - এক জায়গায় একমত: ঈশ্বর আছেন। পার্থক্য একটাতেই - থিইস্টরা, হিচেন্সের ভাষায়: "ডিভাইন নর্থ কোরিয়া"-র অধিবাসী। আপনি কি খাবেন না খাবেন, বিছানায় (এমনকি বাথরুমেও) কি করবেন না করবেন - সবই বিগ বস তদারকি করবেন। এমন কি মরার পরেও হাইল কিম-জং-ঈল-ইন-দ্যা-স্কাই-এর হাত থেকে নিস্তার নাই, সেখানে আবার আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথে সব চালু হবে।

ডিইস্ট গড এত তদারকির ঝামেলায় নাই। নিউইয়র্কের কোন বরোতে কোন মুজতবা কি খাচ্ছে পড়ছে তা নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত না, ইন ফ্যাক্ট মুজতবার অস্তিত্ব সম্পর্কেই ডিইস্ট গড অবগত না। সৃষ্টিটা তিনিই করে দিয়েছিলেন। দেন হি হ্যায মুভড অন।

এ্যাগনোস্টিকরা ডিইস্টদের মতই - তবে এদের ইকোয়েশনে গড নামক এলিমেন্টটি থাকা বান্ছনীয় না। এ্যাগনোস্টিকদের হিসাব: গড থাকলেও থাকতে পারেন, আবার নাও থাকতে পারেন। থাকলে তিনি ডিইস্ট টাইপের ঈশ্বর, আর না থাকলে তো নাই-ই। আর এরা এটাও মনে করে - মানুষের পক্ষে ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব কোনোটাই প্রমাণ সম্ভব না।

এ্যাথিইস্টরা হার্ডকোর এ্যান্টি-থিইস্ট: এদের ক্যালকুলাসে ঈশ্বর নামক কোনো ভ্যারিয়েবলই নাই।

ভাইরে একেবারে কঠিন জায়গায় হাত দিছেন - অন্টোলজিকাল আর্গুমেন্ট আমি বুঝি না। আলভিন প্লান্টিংগার ২/১টা লেখা পড়েছিলাম - খুব কনভিন্সিং কিছু মনে হয় নাই। আর দেকার্ত, লাইবনিৎস - এদের লেখায় তো দাঁতই বসানো যায় না।  hairpull বেশিরভাগ লজিকই মাথার উপর দিয়ে গেছে। এটা বেশ জটিল সাবজেক্ট - নাড়াচাড়া করতে খুব একটা উৎসাহ (পড়েন সাহস) পাইনা।  worried

Calm... like a bomb.

২৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মুক্তবিহঙ্গ (২৮-০৭-২০১২ ২১:৪১)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

invarbrass ভাই একটা প্রশ্ন ছিল, কেউ যদি ধর্মপালন করে এবং ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দিহান থাকে তবে তাকে কি এ্যাগনোস্টিক বলা যায়? ধরুন তিনিও এ্যাগনোস্টিক দের মত ঈশ্বর আছেন কি নেই সে ব্যাপারে সন্দিহান আছেন। কিন্তু "যদি থাকেন" সেই ভিত্তিতে তিনি তার পৈতৃক ধর্ম পালন ও করে যাচ্ছেন, তাকে তো এ্যাগনোস্টিক বলা যাবে না, তাকে কী বলা যায়?

আর হ্যাঁ আপনার জ্ঞানের পরিধী দেখে আমি মুগ্ধ। এখন আমাকে আপনার এ যাবত কালে প্রজন্মে প্রকাশিত সকল লেখা পড়তে হবে। এটা আমার একটা রোগই বলা যায়।  tongue

অনিশ্চয়তার পৃথিবীতে অনিশ্চয়তার মাঝে ডুবে আছি।

২৯

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

হ্যা ভাল কথা- The Origin of Man - ড. মরিস বুকাইলি এই বইটা পড়িছি এখন। এখানে না না যুক্তি তর্ক দিয়ে ডারউইনের মতবাদ  কে ভুল প্রমানিত করা হয়েছে বা চেষ্টা করা হয়েছে। আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন।

বিবর্তনবাদের জনক হিসাবে আমরা ডারউইনকে জানলেও বিবর্তনবাদের জনক কিন্তু ফরাসী বিজ্ঞানী লামার্ক।

আরও কিছু মজার বিষয়, বিবর্তনবাদের মুল লক্ষ্য হলো যোগ্যতমের টিকে থাকা। অথচ দেখা গেল এক কোষীয় প্রাণী বিবর্তনের ফলে বহু কোষীয় প্রাণীর সৃষ্টি হয়েছে টিকে থাকার তাগিদে। অথচ পৃথিবীতে এখনও এক কোষীয় প্রাণী দিব্বি টিকে আছে। কিছু বিবর্তিত হলো আর কিছু আগের মতই থেকে গেল কার ইশারায়?

পৃথিবীতে আরশোলা টিকে আগে সেই প্রাচীন কাল থেকেই কোন রকম বিবর্তন ছাড়াই। কেন?

মানুষ সহ প্রতিটি প্রাণীই পরিবেশ দারা অভিযোযিত হয়। পাহাড়ে অবস্থান করা মানুষ আর সমতলের মানুষের গঠন গত কিছু পার্থক্য থাকে। আবার কোন প্রানী যদি কিছু অংশ ব্যাবহার না করে তাহলে তা ক্ষয় প্রাপ্ত হতে থাকে বা বিলুপ্ত হয় আবার যে অংশ বেশি ব্যবহৃত হয় তা সুবিধা মত পরিবর্তিত হয়। যেমন পানিতে বেশি বাস করা পাখিদের পায়ের পাতা। এ সব পরিবর্তন হতে কিন্তু লক্ষ লক্ষ বছর বা হাজার হাজার বছর লাগেনি।

এখন মানুষের বিবর্তন কত বছর ধরে হচ্ছে? গত কয়েক হাজার বছরে কেন মানুষের কোন পরিবর্তন আসলো না।

আমার কাছে অবশ্য আরশলার মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকা আর এক এখনও এককোষী প্রাণীদের অস্তিত্ব থাকা বিশাল ধাঁধা মনে হচ্ছে। তবে কেউ কি চাচ্ছে বিশেষ কোন প্রজাতিকে বিশেষ ভাবে পরিবর্তিত করতে?

আর একটা বিষয় নিউটনিয় ফিজিক্স এর প্রভাবে দীর্ঘদিন বিজ্ঞান ছিল বস্তু কেন্দ্রিক। কিন্তু এখন কোয়ান্টামে মেকানিক্স এর বিকাশের সাথে সাথে দেখা যাচ্ছে পদার্থ বিজ্ঞানের বিভিন্ন ব্যাখ্যায় দর্শকের উপস্থিতি অপরিহার্জ। যা এক সময় কল্পনা করা যেত না। সামনে হয়ত আরও অনেক এরকম বিস্ময় থাকবে।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৩০

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আরণ্যক লিখেছেন:

পৃথিবীতে আরশোলা টিকে আগে সেই প্রাচীন কাল থেকেই কোন রকম বিবর্তন ছাড়াই। কেন?

বিবর্তনবাদ ব্যাপারটাকে ব্যাখ্যা করে এভাবে ,

একটা প্রাণীর মিউটেশন এর দরকার হয় পরিবর্তিত পরিবেশ এর উপর ভিত্তি করে । সুতরাং আরশোলার প্রাচীনকাল থেকে যা আছে সেটা দিয়েই দিব্বি চলে যাচ্ছে । মিউটেশনের দরকার পড়ে নি ।

তবে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি না বিবর্তনের ফলাফল আজকের সমগ্র প্রাণীজগৎ। এত বৈচিত্রে ভরপুর পৃথিবী সামান্য বিবর্তনের ফলাফল না ।
সম্ভাবনার উপর একটা লজিক আছে । যেটা দিয়ে কিছুটা হলেও একে ব্যাখ্যা করা যায় ।

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

৩১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ভার্চুয়াল দিনমজুর (২৮-০৭-২০১২ ২১:২৯)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

হাজার হাজার লিঙ্ক দেওয়া যাবে, আমি কয়েকটা দিলামঃ



1.
The Scientific Case Against Evolution
A Review of Michael Denton's Evolution: A Theory in Crisis & Michael J. Behe�s Darwin�s Black Box
http://www.godandscience.org/evolution/locke.html

2.
Two of the biggest weaknesses of evolutionary theory are:
1. There is no adequate explanation for the origin of life from dead chemicals. Even the simplest life form is tremendously complex.
2. The fossil record, our only documentation of whether evolution actually occurred in the past, lacks any transitional forms, and all types appear fully-formed when first present. The evidence that "pre-men" (ape-men) existed is dubious at best. So called pre-man fossils turn out to be those of apes, extinct apes, fully man, or historical frauds.


http://www.bestbiblescience.org/cartoon.htm

3.
Evolution Hopes You Don't Know Chemistry: The Problem with Chirality
http://www.icr.org/i/pdf/imp/imp-371.pdf
http://www.icr.org/article/105/


4.
Sex, the Queen of Problems in Evolutionary Biology
http://www.evolutionnews.org/2011/07/sp … 48281.html


5.
"Evolution" mixes two things together, one real, one imaginary.
Debunking Evolution:
problems between the theory and reality;
the false science of evolution
http://www.newgeology.us/presentation32.html


6.
The problem with evolution
http://www.renewamerica.com/columns/daley/050923

ভার্চুয়াল দিনমজুর আমি

৩২

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

ভার্চুয়াল দিনমজুর লিখেছেন:

খানিকটা অফেন্সিভ মুডে গেলামঃ
=====
বিজ্ঞান জানে - আজকে যা বলছে - কালকে সেটা ভুল ও হতে পারে। আজকের ভুল কালকে সত্য হতে পারে।বিজ্ঞানে ধ্রুব সত্য বলে কিছুই নেই।
বিজ্ঞান যেটা প্রমান করতে পারেনি - তারা সেটাকে পুরোপুরি অস্বীকার করে. যেনবা - বিজ্ঞান যে পর্যন্ত যেতে পারেনি - সেই বিষয়গুলি এই মহাবিশ্বেই নেই।
সত্যিকারের বিজ্ঞানমনস্করা সম্ভাবনার কথাটি সবসময় মাথায় রাখবে - আর বিজ্ঞানের অন্ধভক্ত তথা অপবিজ্ঞানের ফেরিওয়ালারাই বলে বেড়াবে বিজ্ঞান এইটা বলেছে - তাই এইটাই ধ্রুব। এর বাইরে কিছুই হতে পারে না।

সেটাই করে থাকে ঈস্বর এবং সৃষ্টি সম্পর্কে।
একটা কথা মনে পড়ল,কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছে,তাহলে কি আগে ছিলো না।যে গ্রহ নক্ষত্র আজকে আবিষ্কৃত হয়েছে তা গতদিনেও তো বিদ্যমান ছিলো।সত্যিই এবিষয়ে একমত যে,প্রকৃত বিজ্ঞান মনস্করা সম্ভবনার কথা বলবেন আর নাস্তিকেরা অস্বিকার করবেন।
ভাই,আপনার কথা প্রসঙ্গে আমিও পূর্বের টপিক্স থেকে কপি পেষ্ট করলাম।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

৩৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৮-০৭-২০১২ ২২:৫৩)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

মুক্তবিহঙ্গ লিখেছেন:

invarbrass ভাই একটা প্রশ্ন ছিল, কেউ যদি ধর্মপালন করে এবং ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দিহান থাকে তবে তাকে কি এ্যাগনোস্টিক বলা যায়? ধরুন তিনিও এ্যাগনোস্টিক দের মত ঈশ্বর আছেন কি নেই সে ব্যাপারে সন্দিহান আছেন। কিন্তু "যদি থাকেন" সেই ভিত্তিতে তিনি তার পৈতৃক ধর্ম পালন ও করে যাচ্ছেন, তাকে তো এ্যাগনোস্টিক বলা যাবে না, তাকে কী বলা যায়?

এ্যাগনস্টিক উইথ থিইস্ট বেন্ড বলা যাবে বোধহয়। ঠিক শিওর না। তবে এ ধরণের মানুষ প্রচুর আছেন (ব্যক্তিগত এক্সপেরিয়েন্স - কোনো রেফারেন্স দিতে পারবো না)।

"পাস্কালস ওয়েজার" বলে একটা মজার ব্যাপার আছে - ফরাসী ফিলোসফার, ম্যাথমেটিশিয়ান ব্লেজ প্যাস্কাল এটার জনক (কমপিউটিং-এ প্যাস্কাল/ডেলফী ভাষাটি উনার নামেই)। পাস্কালের ফরমুলাটা এরকম:

ধরে নেই, সবকিছুর শেষে নিচের যেকোনো একটা আউটকাম হবে:

সিনারিও ১ - গড আছে।
সিনারিও ২ - গড নাই।

উপরের যেকোনো একটার পক্ষে আপনাকে বাজি ধরতে হবে (ধরতেই হবে, আর কোনো চয়েস নাই)। যেকোনো বুদ্ধিমান লোক চাইবে যেটাতে বেশি লাভ (বা অন্তত: যেটাতে সবচাইতে কম ক্ষতি) তার পক্ষে বেট ধরতে। বেট ধরে আপনি নীচের যেকোনো একটা লাইফস্টাইল অবলম্বন করলেন:

লাইফস্টাইল #১ - আপনি বাকী জীবন নিষ্ঠার সাথে ধার্মিক থাকলেন।
লাইফস্টাইল #২ - আপনি বাকী জীবন নিষ্ঠার সাথে ধর্ম থেকে দূরে থাকলেন।

এবার আসুন সেট দু'টো মিক্স এ্যান্ড ম্যাচ করি.. কমপিউটারজী, লক কর দিয়া যায়ে...

লাইফস্টাইল #১ + সিনারিও ১ => ইয়া হু!  yahoo আপনি বেহেশতে শরাব পান করতে করতে হুর পরীদের সাথে... মানে আড্ডা দিচ্ছেন আরকি!  tongue কনগ্র্যাটস! ইউ হ্যাভ ওন!

লাইফস্টাইল #১ + সিনারিও ২ => দুর ছাই! একটু হতাশ হলেন। সারাজীবনের এত আচার-আয়োজন, বিধিনিষেধ সব বেহুদা গেলো। যাক, মন্দের ভালো যে দোজখ বলে কিছু নাই।

এতো গেলো ধার্মিক ভাইবোনদের আখেরাত। এবার দেখি নিষ্ঠাবান বিধর্মী বেরাদারদের কম্বিনেশন...
কম্পিউটারজী, ব্লিং ব্লিং...

লাইফস্টাইল #২ + সিনারিও ২ => কনগ্র্যাটস! যেমনটি আশা করেছিলেন তেমনটিই পেয়েছেন। নাথিং টু সী, নাথিং টু ডু। গুড নাইট।

লাইফস্টাইল #২ + সিনারিও ১ => ইউ আর সোওওও এটারনালী ফা**ড!  ghusi

ওয়াও! surprised ওয়াও! yahoo

এ্যামেজিং লজিক, তাইনা?   dream big_smile

ফরমূলাটা ফ্যান্টাস্টিক রকমের বুদ্ধিমান!  dancing

কোন হদ্দ রামছাগল ২ নম্বরী পন্থা চুজ করবে?  kidding

অলরেডী ডিসিশন নিয়ে নিয়েছেন কি?   cool

একটু ওয়েট করুন...   isee







প্যাস্কালের ফর্মুলা একদম মুখ থুবড়ে পড়ে যখন আপনি প্রশ্ন করবেন...

...but whose heaven?

whose hell?


এবং সর্বোপরি...
... which god?

গুগল মামুজী... সার্চিং কার দিয়া যায়ে...

ফ্যাক্টয়েড #১: পৃথিবীতে সব মিলিয়ে ৬ হাজারের বেশি ধর্ম আছে।

ফ্যাক্টয়েড #২: পৃথিবীতে ৬ হালি অর্থাৎ ২৩ টি মেজর ধর্ম প্রচলিত আছে যাদের অনুসারীদের সংখ্যা অনূন্য ১ কোটি।

হেহে, লাইফ ইয নট সো সিম্পল। কি বলেন?  whats_the_matter

কোনটা খাবেন? রেড পিল? না ব্লু পিল?

#২ নম্বরী বিধর্মীরা যেহেতু আগে থেকেই মাঠের বাইরে, তাই শুধু #১ নম্বরী ধার্মিকদের কথা বিবেচনা করি...

কম্পিউটার!...

আপনি 'ক' ধর্ম মেনে চললেন, এবং শেষে দেখলেন 'ক' গড/ধর্মটাই সত্যি।  yahoo গুড জব! এন্জয় ইওর আফটারলাইফ!  clap

আপনি 'ক' ধর্ম মেনে চললেন। কিন্তু শেষে গিয়ে দেখলেন এতদিন ধোকা খেয়েছেন: আপনার 'ক' ভুল, শালার বিধর্মী [নাসারা/ম্লেচ্ছ/পৌত্তলিক]-গুলোর 'খ' ধর্মই আসলে ওয়ান ট্রু রিলিজিওন ছিলো।

ওয়েলকাম টু 'খ' হেল! মুহাহাহাহা! crying

The chips are on the table.

Are you ready to gamble?

... Are you now?  hehe

Calm... like a bomb.

৩৪

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

মুক্তবিহঙ্গ লিখেছেন:

invarbrass ভাই একটা প্রশ্ন ছিল, কেউ যদি ধর্মপালন করে এবং ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দিহান থাকে তবে তাকে কি এ্যাগনোস্টিক বলা যায়? ধরুন তিনিও এ্যাগনোস্টিক দের মত ঈশ্বর আছেন কি নেই সে ব্যাপারে সন্দিহান আছেন। কিন্তু "যদি থাকেন" সেই ভিত্তিতে তিনি তার পৈতৃক ধর্ম পালন ও করে যাচ্ছেন, তাকে তো এ্যাগনোস্টিক বলা যাবে না, তাকে কী বলা যায়?

আর হ্যাঁ আপনার জ্ঞানের পরিধী দেখে আমি মুগ্ধ। এখন আমাকে আপনার এ যাবত কালে প্রজন্মে প্রকাশিত সকল লেখা পড়তে হবে। এটা আমার একটা রোগই বলা যায়।  tongue


definitions of Agnosticism

    a religious orientation of doubt; a denial of ultimate knowledge of the existence of God; "agnosticism holds that you can neither prove nor disprove God's existence"

সেটা হল Partial Agnosticism

৩৫

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আপনি 'ক' ধর্ম মেনে চললেন। কিন্তু শেষে গিয়ে দেখলেন এতদিন ধোকা খেয়েছেন: আপনার 'ক' ভুল, শালার বিধর্মীগুলোর 'খ' ধর্মই আসলে ওয়ান ট্রু রিলিজিওন ছিলো।

ওয়েলকাম টু 'খ' হেল! মুহাহাহাহা!

ভাইয়া এই থিওরী কিন্তু সব যায়গায় খাটে না। দেখেন হাদীসে বলে তৃষিত কুকুর কে পানি পান করানর জন্য এক পতিতা বেহেশ্ত পায়। পতিতা তা যে কোন ধর্মের ছিল........

দেখা যাচ্ছে সব ধর্মই খুব হিংসুক না। অবশ্য আমরা যারা ধর্ম মানি বলে দাবি করি। তাদের বেশি ভাগই খুব হিংসুক। tongue

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৩৬

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

@ ইনভারব্রাস অসাধারণ।সংশয়বাদী রিচার্ড ক্যারিয়ারের মতে

“Therefore only intellectually committed but critical nontheists (nonbelievers) are genuinely good and will go to heaven. Therefore, if a god exists, his silence and allowance of evil  are explained and justified by his plan to discover the only sorts of people who deserve to populate heaven: sincere nontheists. And this makes perfect sense of many mysteries, thus explaining what theists struggle to explain themselves.”

http://www.infidels.org/library/modern/ … eaven.html

কিংবা ম্যাসিমো পাগ্লিউসির মতে

“Many Agnostics, for example, have evaluated all the “proofs” for God’s existence, and all of the “proofs” of God’s non-existence. They conclude that neither belief can be substantiated. They feel that they cannot rationally believe in the existence or non-existence of God; they must remain Agnostic. Under these conditions, a person can only believe in God if they violate their honesty. And God might punish a lack of honestly more severely than not being able to believe in God.

    It can also be argued that if people believe something on insufficient evidence, that the result is the promoting of credulity — something that harms society. Again, that could be a sin that God is particularly concerned about punishing.”

http://www.religioustolerance.org/pascal_w.htm

আর দার্শনিক জর্জ স্মিথের মতে প্যাস্কালের ওয়েজার কোন ‘নিরাপদ বাজি’ নয়, বরং এটি অভীষ্ট জীবন আর সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের বিনিময়ে কেনা ছলনা’।
http://www.amazon.com/exec/obidos/ASIN/ … tInfidels/

hit like thunder and disappear like smoke

৩৭

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

invarbrass লিখেছেন:

গুগল মামুজী... সার্চিং কার দিয়া যায়ে...

ফ্যাক্টয়েড #১: পৃথিবীতে সব মিলিয়ে ৬ হাজারের বেশি ধর্ম আছে।

ফ্যাক্টয়েড #২: পৃথিবীতে ৬ হালি অর্থাৎ ২৩ টি মেজর ধর্ম প্রচলিত আছে যাদের অনুসারীদের সংখ্যা অনূন্য ১ কোটি।

হেহে, লাইফ ইয নট সো সিম্পল। কি বলেন?  whats_the_matter

কোনটা খাবেন? রেড পিল? না ব্লু পিল?

আপনি 'ক' ধর্ম মেনে চললেন। কিন্তু শেষে গিয়ে দেখলেন এতদিন ধোকা খেয়েছেন: আপনার 'ক' ভুল, শালার বিধর্মী [নাসারা/ম্লেচ্ছ/পৌত্তলিক]-গুলোর 'খ' ধর্মই আসলে ওয়ান ট্রু রিলিজিওন ছিলো।
ওয়েলকাম টু 'খ' হেল! মুহাহাহাহা! crying


The chips are on the table
Are you ready to gamble?

... Are you now?  hehe

কেউ স্রষ্টায় বিশ্বাসী করে না,আর যারা স্রষ্টায় বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে অসংখ্য ধর্ম।স্রাষ্টা আছে কি নেই,ধর্মে বিশ্বাসী হলে এতোগুলো ধর্মের মধ্যেই বা কোনটা,জোয়ার যে বাজি ধরবে তাকেই খুজতে হবে আসলে কোনটা।পরিনতিটা হাবে তার সিন্ধান্তে।বাজির ফল তার সিন্ধান্তের উপরই নির্ভর করে।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

৩৮

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আমি অপেক্ষা করছি নিচেরটার জন্য.... tongue আশা করি হতাশ হব না...

invarbrass লিখেছেন:

লাইফস্টাইল #২ + সিনারিও ২ => কনগ্র্যাটস! যেমনটি আশা করেছিলেন তেমনটিই পেয়েছেন। নাথিং টু সী, নাথিং টু ডু। গুড নাইট।

অনিশ্চয়তার পৃথিবীতে অনিশ্চয়তার মাঝে ডুবে আছি।

৩৯

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

আসলে টপিকটা কাজে লেগেছে বলে মনে হচ্ছে । আনেক কিছুই জানতে পারলাম । তবে একটা প্রশ্ন মনে জাগছে যে ব্রাসু ভাই কি কিয়ে পড়ালেখা করেছেন / করছেন । আমি আপনার লেখায় একজন শক্তিশালী লেখক স্বত্বা খুজে পাচ্ছি । যাদি কখনো বই লেখেন নামটা অন্তত দিবেন । আসলে আমাদের জানা দরকার , আমরা সামান্য জ্ঞান নিয়ে অনেক অনেক কিছু বলার চেস্টা করি । আমি অনেকে দেখেছি যে তারা নিজেদের নাস্তিক বলে কিন্তু কেন তারা নাস্তিক তারা সেটা জানে না , আমার ধারোনা তারা নিজেদের কে নাস্তিক দাবি করে সবার কাছ থেকে আলাদা হতে চায় ।

অফ টপিকঃ মহাকাশ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই , কিন্তু চাদে মানুষ গেছে এটা নিয়ে আমার অনেক সন্দেহ । আমার একটা প্রশ্ন হল মানুষ চাঁদে গেছে এই কথা শুনেছি , কিন্তু মাত্র একবার ই শুনেছি , অই একবারের পরে কি কেউ চাঁদে যায় নাই ?

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

৪০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৯-০৭-২০১২ ১৩:৩৩)

Re: 'ঈশ্বর ও ধর্ম' এবং আপনার বিশ্বাস

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

অফ টপিকঃ মহাকাশ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই , কিন্তু চাদে মানুষ গেছে এটা নিয়ে আমার অনেক সন্দেহ । আমার একটা প্রশ্ন হল মানুষ চাঁদে গেছে এই কথা শুনেছি , কিন্তু মাত্র একবার ই শুনেছি , অই একবারের পরে কি কেউ চাঁদে যায় নাই ?

গেছে তো। ১২-১৩ জনের মত লোক চাঁদে গেছে।

এ্যাপোলো ১১-এর পরেও অন্তত: ৫/৬টা মানুষের মুন ল্যান্ডিং মিশন হয়েছে। রাশিয়া থেকে মানুষ ছাড়া একটা কুকুরকেও পাঠানো হয়েছিলো। রাশান স্পুটনিক সম্ভবত: কোলকাতার কাছাকাছি কোথাও ক্র্যাশল্যান্ড করেছিলো।

এ্যাপোলো ১১-এর গুজবটা কন্সপিরেসী থিওরী ছাড়া আর কিছু না। ঐ কোল্ড ওয়ারের সময় রাশানরাও স্পেসে ম্যানড মিশন পাঠানোর প্রায় ফাইনাল স্টেজে চলে গেছিলো। তাই অনেকে বলে আমেরিকা নাকি নেভাডা ডেজার্টে একটা ফেইক রিহার্সাল করে মূন ল্যান্ডিং নামে চালিয়ে দেয়। ঠিক বিশ্বাস হয় না। এতবড় চাপাবাজি কেউ করতে পারে কি? আর করলেও ৬০ বছর ধরে উন্মোচিত হলো না কেন?

স্পেস ট্রাভেলের প্রসংগে এলন মাস্কের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। এই লোকটা এক সুপার ডুপার জিনিয়াস।

http://i.imgur.com/2QqTj.jpg

এলন মাস্ক পেপালের প্রতিষ্ঠাতা। পরিচয়ের জন্য এই একটা বাক্যই যথেষ্ট্‌ হতো, তবে তাঁর পরবর্তী কির্তী পেপল-কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

পেপাল-এর পরে ইলেক্টৃক কার কোম্পানী টেসলা মোটোরস প্রতিষ্ঠা করে লোকটা। টেসলার বেশ কিছু বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্প্রতি বাজারে ছেড়েছে।

আর সর্বশেষে SpaceX নামে আরেকটা কোম্পানী তৈরী করেছে। এরা আপাতত স্পেস কার্গো/ট্রাভেল নিয়ে কাজ করছে। এলন মাস্কের আল্টিমেট গোল হলো: অন্য কোনো গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন করানো। যেন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও মানবজাতী বিলীন হয়ে না যায়।

অথচ লোকটার বয়স এখনো ৪০-ও পার হয় নি!

লোকটা যদি হাজার খানেক বছর আগে জন্মাতো, নির্ঘাত তাকে পয়গম্বর বানিয়ে কোনো নতুন ধর্মের সৃষ্টি হতো...  lol

Calm... like a bomb.