সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফারহান খান (২৭-০৭-২০১২ ১৪:২৬)

টপিকঃ কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

(টপিকের নাম পরিবর্তন করা হল)


আমার মনে হয় এটা আপনারা পড়ে দেখতে পারেন ।

প্রশ্ন: প্রেমের মতো স্রষ্টা নিয়েও আপনার ভাবনা আছে?
হুমায়ূন: আমি মনে করি, ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে। আমি স্টিফেন হকিংয়ের একটা লেখা পড়লাম। প্রকৃতির মধ্যে কিছু নিদর্শন তো আছেই। তোমাকে একটা যুক্তি দিই, শোনো। এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় যুক্তি। তুমি মঙ্গল গ্রহে গিয়েছ। সেখানে গিয়ে তুমি দেখলে পাহাড়, পর্বত, পাথর। পাথর দেখে তুমি বলবে, বহুকাল থেকে, সেই আদ্যিকাল থেকে পাথরগুলো এভাবেই আছে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তুমি দেখতে পেলে একটা নাইকন ক্যামেরা। তুমি সেটা হাতে নেবে। তখন তোমাকে বলতেই হবে, এর একজন স্রষ্টা আছে। ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে তুমি এ কথা ভাবতে পারবে না যে শূন্য থেকে এটা আপনা-আপনি এসে হাজির হয়েছে। কারণ, এটা একটা জটিল যন্ত্র। এবার, আরেকটু এগিয়ে গেলে। কোত্থেকে একটা খরগোশ বেরিয়ে এসে তোমার দিকে তাকাল। নাইকন ক্যামেরা কী করে? ছবি তোলে। খরগোশ কী করে? অনেক কাজই করে। খরগোশের একটা কাজ হলো দেখা। এই খরগোশের চোখ নাইকন ক্যামেরার চেয়ে হাজার গুণ বেশি জটিল। নাইকন ক্যামেরাটা দেখে তোমার যদি মনে হয় যে এর একটা নির্মাতা থাকা দরকার, তাহলে খরগোশের বেলায় এটা তোমার মনে হবে না কেন? আমার প্রথম যুক্তি যদি গ্রহণ করো, আমার দ্বিতীয় যুক্তিটাও তোমাকে গ্রহণ করতে হবে। মানুষের সৃষ্টিতত্ত্ব বিষয়ে একটা বৈজ্ঞানিক যুক্তি ছিল এ রকম। অণু-পরমাণুতে ধাক্কাধাক্কির ফলে একটা জটিল অণুর জন্ম হয়েছে। একসময় এটা এত দূর জটিল হয়ে উঠছে, সেটা একেবারে নিজের মতো আরেকটা জিনিস তৈরি করতে শুরু করেছে। তারপর তৈরি হলো মানুষ। অসম্ভব ধীমান একটি প্রাণী। একটা গোলাপ ফুল দেখে যে মানুষ তারিফ করতে পারে, একটা পরম শৃঙ্খলা ছাড়া শুধু ধাক্কাধাক্কি করে কি এটা সম্ভব হতে পারে? এবং এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে অণু-পরমাণুর ধাক্কাধাক্কির ফলে আমরা গোলাপ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারি? এই পৃথিবীর সবকিছু পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র মেনে চলে। প্রোটন হবে ইলেকট্রনের চেয়ে ১,৮৩৬ গুণ বড়। সমস্ত তত্ত্ব, সংখ্যা ধ্রুব। এই ধ্রুবত্ব কে নির্ধারণ করেছে?
বিজ্ঞান কোনো বিষয় সম্পর্কে হুট করেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না। তার একটা বিশেষ পদ্ধতি আছে। কিন্তু এই পদ্ধতি তো শুরু থেকে ছিল না। যেমন—অ্যারিস্টটল বলছিলেন, মানুষের মস্তিষ্কের কাজ হলো শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা। কথাটা অ্যারিস্টটল বলেছিলেন বলেই আমরা এক হাজার বছর পিছিয়ে গেছি। এখন বিজ্ঞান অনেক অদ্ভুত কথা বলছে। যেমন—মানুষের শরীরের মধ্যে যে ডিএনএ থাকে, তার মৃত্যু নেই।
তাই আমি মনে করি, আমরা এখনো খুব অল্প বিষয়ই জানতে পেরেছি। একজন পদার্থবিজ্ঞানীর পক্ষে রসায়ন সম্পর্কে বেশি কিছু জানা সম্ভব না। জ্ঞানের পরিধি অনেক অনেক বড়। যুগে যুগে যেসব ধর্মপ্রচারক এসেছেন—তাঁরা কিন্তু একটা সামগ্রিক ধারণা রাখতেন জগৎ বিষয়ে। আল্লাহ তাঁদের কাছে সব সময় সরাসরি জ্ঞান দেন নাই। তাঁরা সব সময় যে সরাসরি ওহি পেয়েছেন তা তো না? জিবরাইল কি সব সময় সশরীরে এসে ওহি পৌঁছে দিয়েছেন? না। অনেক সময় শব্দের মাধ্যমে, অনেক সময় আলোর মাধ্যমেও ওহি পাঠানোর ব্যপারটা ঘটেছে। এ কারণে আমার মনে হয়, মানুষের ক্ষুদ্র জ্ঞানে সৃষ্টিকর্তাকে পুরোপুরি কখনো জানা সম্ভব না।
সৃষ্টিকর্তা মানুষের মতো এটা ধরে নিয়ে কিন্তু আমি চিন্তা করছি না। আমি চিন্তা করছি এমন একটা অস্তিত্ব নিয়ে, যে সর্বব্যাপী। তাকে আমরা আমাদের ক্ষুদ্র কল্পনাশক্তি দিয়ে কল্পনা করতে পারছি না। তিনি আমাদের কল্পনাসীমার বাইরে। অনেক সূরায় নানাভাবে এসেছে এ প্রসঙ্গ। সূরা এখলাসও এ বিষয়েই।
কিন্তু আমি সৃষ্টিকর্তাকে জানতে চাই। আমার নিজের জীবনে নানা ঘটনা বিভিন্ন সময়ে আমাকে ভাবিয়েছে।
প্রশ্ন: সেটা কেমন?
হুমায়ূন: নুহাশপল্লীতে একটা অংশ আছে যেখানে প্রচুর গাছগাছালি। ওদিকটায় কেউ যায় না, যেহেতু গাছগাছালি ছাড়া কিছু নাই। একবার এক দুপুর বেলা একা একা আমি ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিছুই ভালো লাগছে না। এ সময় আমার প্রস্রাবের বেগ পেয়ে গেল। এখন ওখান থেকে হেঁটে ফিরে গিয়ে পেশাব করব? এখানে যেহেতু সুবিধাটা আছে...গাছের নিচে দাঁড়িয়ে পেশাব করছি। অর্ধেকের মতো পেশাব করা হয়েছে, পেশাবের মাঝখানে খুব মিষ্টি একটা গলা, মেয়েদের গলা: এখানে এই কাজ করছেন? আমরা এখানে বেড়াই! আমার যা মনে হলো, যেহেতু মেয়ের গলা, আর পেশাবের মাঝখানে ঘুরে দাঁড়াতেও পারছি না। মনে হলো, প্রায়ইতো নুহাশপল্লীতে লোকজন ঘুরতে আসে—এদেরই কেউ হয়তো। তড়িঘড়ি পেশাব শেষ করে ঘুরে তাকালাম, দেখি কেউ নেই। কেউ না। আমি দৌড়ে বার হয়ে এসে খুঁজলাম, দেখলাম কোথাও কেউ নেই। তারপর আমি ম্যানেজারকে ডাকলাম: অর্ডার দিয়ে দিলাম এখানে কেউ যেন বাথরুম না করে। এবং দ্রুত কাছেই একটা টয়লেট তৈরির করার ব্যবস্থা করতে বলে দিলাম।
প্রশ্ন: এখন এই ঘটনাটার কী ব্যাখ্যা?
হুমায়ূন: না, এভাবে না। এর প্রথম ব্যাখ্যা হলো; ওটা ওই কোনো একটা এনটিটি, যাদের আমরা চোখে দেখি না। ওদের কেউ। এটা একটা ইজি ব্যাখ্যা। দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটা বলি: আমার সাবকনসাস লেবেল এই কাজটা পছন্দ করে নাই। সাবকনসাস লেবেল হয়তো চায় নাই আমি এই কাজটা করি, তাই নিজে নিজে একটা এনটিটি তৈরি করে তাকে দিয়ে আমাকে বলিয়েছে। শেষটাই আমার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।
প্রশ্ন: এ রকম ঘটনার মুখোমুখি আপনি আরও হয়েছেন?
হুমায়ূন: হ্যাঁ, অনেকবার। আরও একটা ঘটনা শোনো। তখন আমি মুহসীন হলে থাকি। আমার বড় মামা, তাঁর পড়াশোনা হলো মেট্রিক। নানা দেখলেন তাঁকে দিয়ে কিছুই করানো যাচ্ছে না, তখন উনাকে একটা ফার্মেসি করে দিলেন। গ্রামে যারা ফার্মেসি চালায় তারা কিন্তু প্রত্যেকেই ডাক্তার হয়ে যায়। কোয়াক। মামা কোয়াক ডাক্তার হয়ে গেল। কিন্তু তাঁর এমন যশ হলো, ওই হাতুড়ে ডাক্তার ছাড়া আশপাশের এমবিএস ডাক্তারদের কাছে কেউ যায় না। মামা রোগী দেখছেন। এতে কখনো রোগী বাঁচছে, কখনো মারা যাচ্ছে। বেশ পয়সা হচ্ছে। তো আমাদের গ্রামের কাছেই একটা জঙ্গল মতো ছিল। একবার জঙ্গলের কাছ দিয়ে রোগী দেখে বাড়ি ফিরছেন মামা। বর্ষাকাল যেতে যেতে মামা এক সাপের গায়ে পা দিয়ে ফেললেন। সঙ্গে সঙ্গে ফনা তুলে ফেলল সাপ। ভয়ংকর সাপ। মামা শুধু বলার সুযোগ পেল, আল্লাহ আমাকে বাঁচাও আমি বাকি জীবন তোমার সেবা করব। সাপ ধীরে ধীরে ফনা নামিয়ে নিল। মামা পা তুলল, সাপটা চলে গেল। ফিরে আসার পর, তাঁর ডাক্তারি বিদ্যা শেষ, মামা সারা দিন শুধু আল্লাহকে ডাকেন। আমি বড় মামাকে বললাম, বড় মামা এই যে শুধু আল্লাহকে ডাকেন—এভাবে ডেকে কিছু কি পাইছেন? জবাবে মামা বললেন পাইছি। জিজ্ঞেস করলাম কী পাইছেন? আমি আল্লাহকে ডাকতে ডাকতে একটা পর্যায়ে নিজেকে দেখতে পাই। দেখি আমি নিজের সামনে বসে আছি। আমি হেসে বললাম, এটা এমন আর কি! আয়না ধরলেই তো আমরা নিজেকে দেখতে পাই। মামা বললেন, এটা সে দেখা না—আমি দেখতে পাই আমি আমার সামনে বসে জিকির করছি। তখন আমার ইচ্ছে হলো এই লাইনে একটু ভেবে দেখা যায়।
প্রশ্ন: মানে আপনিও মামার মত শুরু করলেন?
হুমায়ূন: হ্যাঁ, মামাকে বললাম। মামা বলল, আল্লাহর একটা ডাকনাম তোমাকে শিখিয়ে দিই। এইটাই তুমি সব সময় জপ করবে, শুরুতে অল্প অল্প পারবে পরে দেখবে অভ্যস্ত হয়ে গেছো। কী নাম, নাম আল্লাহু, খুবই সরল। ঢাকায় ফিরে আসলাম। মুহসীন হলে থাকি। শুরুতে কখনো হয় আবার হয় না, প্রায়ই ভুলে থাকি। কিন্তু হঠাৎ করে যদি কোনো মাওলানা দেখি, কোনো দাড়ি-টুপির সৌম্য চেহারার লোক দেখি সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহু আল্লাহু করতে থাকি। এই শুরু হলো। এরপর অভ্যাস হয়ে গেল, তারপর দেখি সারাক্ষণ করছি। এটা কেমন হলো! চাইলেও থামাতে পারছি না। পাবলিক লাইব্রেরিতে বই পড়তে যাই। পাবলিক লাইব্রেরিতে তখন খুব ভালো ভালো গল্পের বই ছিল। একদিন বই নিয়ে পড়ছি, পাশের টেবিল থেকে একজন এসে কাঁধে হাত রেখে বলল, কী, আপনার সমস্যা কী? আমি যে সারাক্ষণই আল্লাহু আল্লাহু করছি, এটা আমি নিজেই আর বুঝতে পারছিলাম না। এটা যে সাউন্ড হিসেবে বাইরে চলে আসছে বুঝতে পারিনি। ক্লাসে গিয়ে এই ভয়ে একেবারে দূরে গিয়ে, একলা বসি। যাতে কেউ শুনতে না পায়। একদিন শিক্ষক এসে বললেন, কী ব্যাপার, তুমি একলা পেছনে বসে আছ কেন? আসো আসো সামনে এসে বসো। তখন আমি কঠিনভাবে চেষ্টা করি যাতে অন্য কেউ শুনতে না পায়। এদিকে রাত্রে স্বপ্ন দেখি একটা বিশাল ঘর, বহু লোকজন বসে আছে এবং প্রত্যেকেই আল্লাহু আল্লাহু করছে। চারদিকে শুধু একটা সাউন্ড হচ্ছে। এক লয়ের সাউন্ড হচ্ছে, চারদিকে। একসময় ঘুম ভেঙে যায়, আমি দেখি নিজেই আল্লাহু আল্লাহু করছি। বিষয়টা এতই কষ্টের হয়েদাঁড়ায়, ভাবি কীভাবে এ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়। আমার জীবন শেষ। প্রতি রাত্রেই এই ঘটনা। আল্লাহু আল্লাহু শব্দে ঘুম ভাঙে, দেখি আমি সিজদার ওপরে। ঘুম ভাঙে আবার ঘুম ধরে, এক রাতে চোখ খুলে দেখি, ঠিক আমার মুখের সামনে এক বিঘত দূরে একটা ফেস। ফেসটা মাথার সামনে চুল নাই, পেছনেও চুল নাই। কঠিন চেহারা, দাঁত নাই। হাঁ করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমার মনে হলো চোখে চশমা নাই, কী দেখতে কী দেখেছি। চোখে চশমা দেব, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি সব সময় চশমা হাতের কাছে রাখতাম। চোখে চশমা পরলাম, দেখি আছে। যেন ভেসে আছে মুখটা।
প্রশ্ন: শুধু ফেস না পুরো শরীরধারী?
হুমায়ূন: বলতে পারব না। অনেকে পরে জিজ্ঞেস করেছে ওটার শরীর ছিল কি না। আমি মনে করতে পারি নাই। চোখটা আবার বন্ধ করলাম। ভাবছি দিস ইজ এন্ড অফ মাই লাইফ। আই অ্যাম গোয়িং টু ডাই। সমস্ত শরীর দিয়ে পানির মতো ঘাম ঝরছে। তখন কেন যেন মনে হলো, কেউ যদি এই মুহূর্তে, আশপাশের কোথাও থেকে আজান দেয়, তাহলে জিনিসটা চলে যাবে। কিন্তু কে আজান দেবে। একবার মনে হলো আমি আজান দিই। কিন্তু দেখলাম আমি আজান জানি না। তারপর একমনে শুধু বলছি আজান-আজান। আজান। এভাবে বলতে বলতে ইউনিভার্সিটি মসজিদ থেকে আজান শুরু হয়ে গেল। আজান চলল। তারপর চোখ মেললাম, দেখি চলে গেছে। বহু কষ্টে দরজা খুলে পাশের রুমে গেলাম। পাশের রুমমেট মাওলানা মোহাদ্দেস পাস করে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। অজু করে এসেছে। আমি তাকে বললাম, ভাই আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছি। আপনি কি আপনার নামাজটা আমার ঘরে পড়বেন? উনি কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন না, বললেন অবশ্যই অবশ্যই হুমায়ূন। উনি নামাজ পড়লেন। আমি আর ক্লাসে গেলাম না। আমার সমস্ত শরীর ফুলে গেছে, সারাক্ষণ হাতের তালু আর পা চুলকাচ্ছে। বাবাকে খবর দেওয়া হলো। আব্বা নিজে এসে আমাকে হল থেকে নিয়ে গেলেন। এক মাস থাকলাম বগুড়ায়। এক মাস পর একটু সুস্থ হলে আবার হলে ফিরে এলাম। জীবনযাপন আবার শুরু হলো।
প্রশ্ন: কেন এমন হলো মামাকে আর জিজ্ঞেস করেননি?
হুমায়ূন: করেছি। পরে মামার ব্যাখ্যা ছিল আমি ভুল করেছি। এটা গ্যাপ দিয়ে দিয়ে করতে হতো। রং ওয়ে টু ডু। আমি সিরিয়াসলি নিইনি। মামার কথা ঠিক ছিল। যে কারণে আমি বিষয়টার জন্য আসলে নিজেই নিজের ওপর বিরক্ত ছিলাম।
প্রশ্ন: অদ্ভুত অভিজ্ঞতা!
হুমায়ুন: অনেক মানুষের ভেতরে কঠিন ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ থাকতে পারে। যে মানুষের মনের কথা বুঝতে পারে। আমি যদি দূর থেকে তাকে মনে মনে বলি আসসালামুয়ালাইকুম। তাহলে তার টের পাওয়া উচিত এবং সালামের জবাব দেওয়া উচিত। এটা একধরনের খেলা।
প্রশ্ন: আরেকটি ঘটনা?
হুমায়ূন: শোনো, হলো কি? আমি যাকেই দেখি মনে মনে বলি আসসালামুয়ালাইকুম। শীতের রাত শহীদ মিনার চত্বরে চা খেয়ে রওনা দিয়েছি। রোকেয়া হলের সামনে বড় রাস্তাটা ক্রস করতে হবে। আমার সঙ্গে ড. আতিকুর রহমান। এখন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দুই বন্ধু কথা বলতে বলতে, গল্প করতে করতে রাস্তা পার হচ্ছি। যথারীতি অভ্যাসবশে প্রবীণ লুঙ্গি পরা খালি গায়ে এক লোক যাচ্ছে, অভ্যাসবশে সালাম দিয়ে বসলাম। আমরা রাস্তা ক্রস করে এপারে এসেছি—ওই লোক দাঁড়িয়ে পড়ল। বলল, এই শুনে যা! আমার বন্ধু আতিক খুব রেগে গেল। এত বড় স্পর্ধা! তুই করে বলছে! আমি থামালাম তাকে। লোকটা কাছে এগিয়ে এল। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, ওয়ালাইকুম সালাম। এবার যা!
আমি তো স্তম্ভিত। ও মাই গড! এ তো সেই লোক, আমি এদ্দিন যাকে খুঁজছিলাম। এমন ভয় পেলাম আতিককে টানতে টানতে আমি হাঁটা দিলাম। দূরে এসে পেছনে ফিরে দেখি ওই লোক তখনো তাকিয়ে আছে। একদৃষ্টে।


সুত্র

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

ভালো লেগেছে , ব্যাখ্যা কি আরো বাকি আছে নাকি শেষ ?

"You hate everything you see in me-Have you looked in a mirror'

http://www.priyobd.net/  Live chat with us !!

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফারহান খান (২৭-০৭-২০১২ ০৩:৫৩)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

Neela লিখেছেন:

ভালো লেগেছে , ব্যাখ্যা কি আরো বাকি আছে নাকি শেষ ?


দুঃখিত , এখানেই শেষ

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

ফারহান খান লিখেছেন:

স্টিফেন হকিংয়ের একটা লেখা পড়লাম।

কতদিন আগের ইন্টারভিউ? এই ভদ্রলোক যদিও গত বছর নিজেকে এথিয়েস্ট হিসেবে ঘোষনা করে দিয়েছেন

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ুন আহমেদের লেখার মধ্যে কখনই সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করেন এরকম মনে হয়নি ।

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

চমৎকার শেয়ার। +

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করা না করা একজন মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার, এ বিষয় দিয়ে তাকে বিচার করার কিছু নেই। স্টিফেন হকিং এখন ঈশ্বরে অবিশ্বাসী। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে যারা ঈশ্বরে অবিশ্বাসী তারা ধর্মে বিশ্বাস করেনা এটা সঠিক, কিন্তু তাদের অবচেতন মন সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে বেড়ায়। আর হুমায়ূন আহমেদ যেই ঘটনাগুলোর কথা বলেছেন প্রতিটাই যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করা সম্ভব। প্রথমে আল্লাহু আল্লাহু করার ঘটনায় তিনি আল্লাহু আল্লাহু করা থামাতে পারছিলেন না বলে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন এবং তিনি ঘুমের ঘোরে আল্লাহু আল্লাহু বলতেন যা তিনি নিজেই শুনতেন। একলা ঘরে সেই আল্লাহু শব্দটা তার ঘুমন্ত মস্তিষ্ক গ্রহণ করতো এবং মনের অজানা ভয় থেকে আধো ঘুম অবস্থায় একটা কাল্পনিক মুখ তার সামনে এসে দাঁড়ালো তার স্বপ্নে। সেই মুখ দেখে তিনি ঘুমের ঘোরেই ভয় পেলেন এবং ঘুমটা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ভাঙ্গল, তাই তার মনে হচ্ছিলো তিনি বুঝি সত্যি সত্যিই দেখেছেন।

আমার জীবনেও ঠিক কদিন আগে এমন একটা ঘটনা ঘটেছে। আমি বছর দুই আগে একটা সড়ক দুর্ঘটনার পর আমার ভেতরে মৃত্যুভয় ঢুকে যায়, আমি ধারনা করতে শুরু করি আমার মৃত্যু খুব সন্নিকটে, এটা একটা পূর্বাভাস ছিল। আমার ভেতরে অন্ধকারের ভয় ঢুকে বসে, যা এখনো আছে। তো মাস ছয়েক আগে এক সকালে আমি স্বপ্নে দেখতে থাকি আমার খাটের এক কোণে বাবা বসে আছে আমার ছোটবোন দরজায় দাড়িয়ে তার সাথে কথা বলছে, ঠিক তার পাশ দিয়ে কালো কাপর পরিহিত ভয়ংকর চেহারার কেউ ঘরে প্রবেশ করলো এবং আমার বিছানার পাশে দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে তার হাতটা আমার বুকের উপর রাখল, আমি প্রচণ্ড ভয়ে নড়াচড়ার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না, কিছু বলতে পারছি না। আমার বাবা বোন তাদের মত কথা বলে যাচ্ছে কিছু বুঝতে পারছি না অস্পষ্ট লাগছে, আমি নিজের সমগ্র শক্তি দিয়ে চোখ বন্ধ করে একটা চিৎকার করলাম তারপর চোখ খুলে দেখি বাবা আর বোন ঠিকি কথা বলে যাচ্ছে, আমি জেগে তাদের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছি, ঘরে আর কেউ নেই। আমি একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও এখনো আমি অন্ধকারে ভয় পাই।

দ্বিতীয় ঘটনাটার ব্যাপারে এটুকু বলতে পারবো, মানুষ মন থেকে কি বলছে তা মাঝে মাঝে চোখে মুখে প্রকাশ পায় কিন্তু শব্দ হয় না। কিছু মানুষ সেই মুখের ভাব দেখে বুঝতে পারে, তিনি সালামের উত্তরদানকারী সেই মানুষদের দলে। কিংবা এমনো হতে পারে হুমায়ূন অবচেতন মনেই সালামের মত ঠোঁট নেড়েছেন যা সেই লোকটি পড়তে পেরেছে।

অনিশ্চয়তার পৃথিবীতে অনিশ্চয়তার মাঝে ডুবে আছি।

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:
ফারহান খান লিখেছেন:

স্টিফেন হকিংয়ের একটা লেখা পড়লাম।

কতদিন আগের ইন্টারভিউ? এই ভদ্রলোক যদিও গত বছর নিজেকে এথিয়েস্ট হিসেবে ঘোষনা করে দিয়েছেন

সুত্রে এই ব্যপারে কিছুই পাই নি

বোরহান লিখেছেন:

হুমায়ুন আহমেদের লেখার মধ্যে কখনই সৃষ্টিকর্তাকে অবিশ্বাস করেন এরকম মনে হয়নি ।

আমারো

মরুভূমির জলদস্যু লিখেছেন:

চমৎকার শেয়ার। +

ধন্যবাদ ভাইয়া

মুক্তবিহঙ্গ লিখেছেন:

সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করা না করা একজন মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার, এ বিষয় দিয়ে তাকে বিচার করার কিছু নেই। স্টিফেন হকিং এখন ঈশ্বরে অবিশ্বাসী। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে যারা ঈশ্বরে অবিশ্বাসী তারা ধর্মে বিশ্বাস করেনা এটা সঠিক, কিন্তু তাদের অবচেতন মন সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে বেড়ায়। আর হুমায়ূন আহমেদ যেই ঘটনাগুলোর কথা বলেছেন প্রতিটাই যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করা সম্ভব। প্রথমে আল্লাহু আল্লাহু করার ঘটনায় তিনি আল্লাহু আল্লাহু করা থামাতে পারছিলেন না বলে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন এবং তিনি ঘুমের ঘোরে আল্লাহু আল্লাহু বলতেন যা তিনি নিজেই শুনতেন। একলা ঘরে সেই আল্লাহু শব্দটা তার ঘুমন্ত মস্তিষ্ক গ্রহণ করতো এবং মনের অজানা ভয় থেকে আধো ঘুম অবস্থায় একটা কাল্পনিক মুখ তার সামনে এসে দাঁড়ালো তার স্বপ্নে। সেই মুখ দেখে তিনি ঘুমের ঘোরেই ভয় পেলেন এবং ঘুমটা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ভাঙ্গল, তাই তার মনে হচ্ছিলো তিনি বুঝি সত্যি সত্যিই দেখেছেন।

আমার জীবনেও ঠিক কদিন আগে এমন একটা ঘটনা ঘটেছে। আমি বছর দুই আগে একটা সড়ক দুর্ঘটনার পর আমার ভেতরে মৃত্যুভয় ঢুকে যায়, আমি ধারনা করতে শুরু করি আমার মৃত্যু খুব সন্নিকটে, এটা একটা পূর্বাভাস ছিল। আমার ভেতরে অন্ধকারের ভয় ঢুকে বসে, যা এখনো আছে। তো মাস ছয়েক আগে এক সকালে আমি স্বপ্নে দেখতে থাকি আমার খাটের এক কোণে বাবা বসে আছে আমার ছোটবোন দরজায় দাড়িয়ে তার সাথে কথা বলছে, ঠিক তার পাশ দিয়ে কালো কাপর পরিহিত ভয়ংকর চেহারার কেউ ঘরে প্রবেশ করলো এবং আমার বিছানার পাশে দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে তার হাতটা আমার বুকের উপর রাখল, আমি প্রচণ্ড ভয়ে নড়াচড়ার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না, কিছু বলতে পারছি না। আমার বাবা বোন তাদের মত কথা বলে যাচ্ছে কিছু বুঝতে পারছি না অস্পষ্ট লাগছে, আমি নিজের সমগ্র শক্তি দিয়ে চোখ বন্ধ করে একটা চিৎকার করলাম তারপর চোখ খুলে দেখি বাবা আর বোন ঠিকি কথা বলে যাচ্ছে, আমি জেগে তাদের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছি, ঘরে আর কেউ নেই। আমি একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও এখনো আমি অন্ধকারে ভয় পাই।

দ্বিতীয় ঘটনাটার ব্যাপারে এটুকু বলতে পারবো, মানুষ মন থেকে কি বলছে তা মাঝে মাঝে চোখে মুখে প্রকাশ পায় কিন্তু শব্দ হয় না। কিছু মানুষ সেই মুখের ভাব দেখে বুঝতে পারে, তিনি সালামের উত্তরদানকারী সেই মানুষদের দলে। কিংবা এমনো হতে পারে হুমায়ূন অবচেতন মনেই সালামের মত ঠোঁট নেড়েছেন যা সেই লোকটি পড়তে পেরেছে।



আমার সাথে এমন না হইলেই হয়  worried

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

ধুর মিয়া! টপিকের নাম বদলালেন কেন? নাস্তিক আস্তিকের যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভবনা আছে   hairpull। আগের টাই তো ভালো ছিল।

অনিশ্চয়তার পৃথিবীতে অনিশ্চয়তার মাঝে ডুবে আছি।

১০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৭-০৭-২০১২ ১৬:৪২)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

ইন্টারেস্টিং। তবে ভদ্রলোকের থিওলজী ধারণা ভয়াবহ রকমের আউটডেটেড। তাঁর এই যুক্তি দুই শতাব্দী আগেই খন্ডন করা হয়েছে।

বি:দ্র: এই পোস্টটি কিন্চিৎ অফটপিক হবে - তবে আমি তর্ক করতে ভালোবাসি, তর্ক থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।  tongue

জীবনে কোনোদিন দর্শনতত্ব (ফিলোসফী) নিয়ে মাথা ঘামাই নি - বরং দার্শনিকদের ভীনগ্রহের প্রাণী বলে মালুম করতাম। ভাগ্যের পরিহাসে বেশ কিছুদিন আগে ঐ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি। তারই ফলশ্রুতিতে এপিস্টেমিওলজী সম্পর্কে হালকাপাতলা পড়াশোনা করছি। এ্যামেচারিশ স্বল্পজ্ঞান থেকে কিছু চিন্তা শেয়ার করার চেষ্টা করছি, বক্তব্যে ভুলভাল থাকলে ধরিয়ে দেবেন।

হুমায়ুন স্যার নিকন ক্যামেরা এবং খরগোশের যে এ্যানালজী দিয়েছেন তা আসলে উইলিয়াম পেয়লী-র টেলিওলজিকাল আর্গুমেন্ট ফ্রম ডিজাইন (অন্য নাম: ওয়াচমেকার এ্যানালজী, ন্যাচারাল থিওলজী)

এই যুক্তিটি ২০০ বছরেরও বেশি আগে ১৮০০ শতাব্দীর একদম গোড়ার আগে পেয়লী খাড়া করেছিলেন। সংক্ষেপে ওয়াচমেকার আর্গুমেন্ট হলো এরকম:
১) মাটিতে যদি একটি চালু ঘড়ি পড়ে থাকতে দেখেন, তাহলে স্বভাবত:ই আপনি ধরে নেবেন ঘড়িটি কেউ না কেউ তৈরী করেছে; নিজে নিজে এমনি এমনি তৈরী হয়ে যায় নি। ঘড়িটির ভেতরের অসংখ্য জটিল ও সূক্ষ কলকব্জা নিখুঁতভাবে একে অপরের সাথে সিংক্রোনাইজড অবস্থায় কাজ করে চলেছে। প্রতিটি কলকব্জারই নিজস্ব "order" আছে, প্রতিটিরই নিজস্ব "purpose" আছে - যেখানে যেটা থাকলে ঘড়িটি কাজ করবে সেখানে সেটাই আছে, ফালতু বা বাড়তি পার্টস কোথাও নেই - তার মানে ঘড়িটি সৃষ্টির পেছনে একজন ওয়াচমেকার রয়েছেন।
২) মহাবিশ্বের সমস্ত প্রাণী, বস্তু (যেমন সোলার সিসটেম) ইত্যাদি ঘড়ির চাইতেও বহুগুণে জটিল কিন্তু এরাও সঠিকভাবে কাজ করে চলেছে - অতএব, মহাবিশ্বের অস্তিত্বের পেছনে "গ্র্যান্ড ওয়াচমেকার" তথা ঈশ্বর আছেন।

সংক্ষেপে এই হলো পেয়লীর ন্যাচারাল থিওলজী।

পেয়লীর ডিজাইনার আর্গুমেন্ট প্রথম খন্ডন করেন স্কটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউম। তিনি কাউন্টার লজিক দিয়েছিলেন প্রকৃতিতে অসংখ্য দানবীয়তা, অসামন্জস্যতা দেখিয়ে। হিউমের দার্শনিকতার বেশি গভীরে যেতে চাই না, খুব কমন দুয়েকটা উদাহরণ দেই: ভাবুন বিকলাংগ শিশুর কথা, যে জন্ম থেকেই শারিরীক অক্ষমতায় জর্জরিত - তাও যদি বেঁচে থাকে আরকি। অথবা আপনার আরেকটু "ভাগ্যবান" বয়স্ক আত্মীয়স্বজনের কথা ভাবুন, চিন্তা করুন তাদের অনবরত পীড়িত করতে থাকা বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়াবিটিস, ক্যান্সার, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদির ব্যাপারে। কিছুদিন আগে ফায়ারফক্স ভাই একটি থ্রেড খুলেছিলেন প্রকৃতিতে wanton নিষ্ঠুরতা এবং দানবীয়তার ব্যাপারে। সেগুলোর ব্যাপারেও ভাবুন। এছাড়া, মানবদেহেও বেশকিছু অপ্রয়োজনীয় অংগ আছে যেগুলো কোনো কাজে লাগে না - এদেরকে বলে ভেস্টিজিয়াল স্ট্রাকচারস। এ্যাপেনডিসাইটিসের নাম সবাই জানি - এই এ্যাপেন্ডিক্স তেমন কোনো কাজে আসে না (তবে কিছুদিন আগে এক ভারতীয় ডাক্তার কিছু উপযোগীতা খুঁজে পেয়েছিলেন - তবে ভারতবাসী ভারতীয় গবেষকদের খবরটবর একটু যাচাই করে নিতে হয়)। আমাদের কোমরের পেছনে কক্সিক্স নামে কিছু পিচ্চি হাড় আছে - এগুলো প্রিমিটিভ লেজের অবশিষ্টাংশ। তেমনি আক্কেল দাঁত - কোনো কাজে তো আসেই না, বরং জীবন বিতৃষ্ণ করে দেয় (কিছুদিন আগে এই নারকীয় ঝড় ঝাপটা গেছিলো আমার উপর দিয়ে)। আমাদের দেহের নাক, কান, চোখেও কিছু অপ্রয়োজনীয় পার্টস আছে যেগুলো আমরা ব্যবহার করি না।

ঈশ্বর যদি সব কিছু পার্ফেক্ট করে সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে জগতে এত ইমপার্ফেক্সন, এত দু:খ দুর্দশা কেন? অলমাইটি, অল-নোয়িং, অল-পাওয়ারফুল, অল-পার্ফেক্ট, অল-গুড ঈশ্বরের সৃষ্ট পৃথিবীতে এত অত্যাচার-অনাচার কেন বিরাজমান?

ডকুমেন্টারী যাঁরা দেখেন তাঁরা স্যার ডেভিড এ্যাটেনবরো-র নাম নির্ঘাত শুনেছেন। তিনি একবার ঈশ্বরকে মৃদু ঝাড়ি দিয়েছিলেন। নীচের উক্তিটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন:

"They (খ্রীস্টান ধর্মবিদরা) always mean beautiful things like hummingbirds. I always reply by saying that I think of a little child in east Africa with a worm burrowing through his eyeball. The worm cannot live in any other way, except by burrowing through eyeballs. I find that hard to reconcile with the notion of a divine and benevolent creator."

যাকগে, পেয়লীর ন্যাচারাল থিওলজীর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে যায় ৫০ বছরের মধ্যেই (ততদিনে বিল পেয়লী পটল তুলেছেন)।  ১৮ শতাব্দীর মাঝামাঝি প্রকাশিত হয় দুনিয়া ওল্টানো সেই বইটি - দ্যা অরিজিন অব স্পিশিজ
.... বাই চার্লস রবার্ট ডারউইন।

ডারউইন দেখিয়ে দেন কিভাবে অফুরন্ত সময়, অফুরন্ত সুযোগ দেয়া হলে একটি সরল এককোষী প্রাণী বিবর্তিত হয়ে বর্তমানের জটিলতম প্রাণীতে পরিণত হতে পারে।

পেয়লীর "গ্র্যান্ড ওয়াচমেকার" যুক্তিকে খন্ডন করে রিচার্ড ডকিন্স একটি চমৎকার বই লিখেছিলেন - "দ্যা ব্লাইন্ড ওয়াচমেকার"। বইটির উপর ভিত্তি করে বিবিসির একই নামে একটি ডকুমেন্টারী (১৯৮৫) আছে। ইউটিউবে ঐ ডকুর দুই মিনিটের ভিডিওটিতে দেখুন কিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের বিবর্তনের মাধ্যমে প্রাণীর চোখের মত জটিল অংগ সৃষ্টি হয়েছে :

উপরের ভিডিওটির অডিও বেশ খারাপ - আমি বরং এটা রেকমেন্ড করবো (পুরো ডকুমেন্টারী আছে এটাতে)

বহু আগে বাতিল হয়ে গেলেও থিওলজিস্টরা এখনো, এই একবিংশ শতাব্দীতেও পেয়লীর ওয়াচমেকার আর্গুমেন্ট ব্যবহার করে থাকে। ইউটিউবে বিভিন্ন দার্শনিকদের ডিবেটের ভিডিওতে এই তত্বটি প্রায়ই শুনবেন। হুমায়ুন স্যার সম্ভবত: এমন কোনো লোকের বই পড়েছিলেন।

বাকী অংশটুকুতে অলৌকিক কিছুই না পেয়ে নিরাশ হলাম। যেসব ঘটনার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন সবই সাবজেক্টিভ অভিজ্ঞতা।

আপডেটঃ মুক্তবিহঙ্গ ব্যাপারটা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

সম্ভবতঃ আমাদের প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত হ্যালুসিনেশনের অভিজ্ঞতা আছে। ছোটোবেলায় রকিব হাসান অনূদিত এ্যামিটিভিল হরর পড়ার পর ভীষণ আতংকে ভুগতাম। সুরাটুরা পড়ে প্রচুর ফু-টু দিয়ে কোনোমতে লাইটসুইচ বন্ধ করেই ভোঁ দৌড় দিয়ে বিছানায় মশারীর মধ্যে - টাইট করে চারিদিকে মশারী গুঁজে দিতাম যেন অশরীরী দানবগুলো আক্রমণ করতে না পারে। জোর করে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করতাম। আর গভীর রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে ঘরের আলো আধাঁরীতে বিভিন্ন কিসিমের প্রাণী "দৃশ্যমান" হতো। তবে সবসময়ই জানতাম যে, যা দেখছি তা সবই ইলিউশন, ক্রিয়েচারগুলো তৈরী করছে আমার স্টুপিড, ভীতু, লিম্বিক ব্রেন। আমি শিওর ফোরামিকদের এরকম অভিজ্ঞতা প্রচুর আছে। (এই এক্সপেরিয়েন্স না থেকে থাকলে একাকী রাতে অন্ধকার ঘরে এটা দেখে বিছানায় যেতে পারেন  tongue)

মাসিক সাইন্টিফিক এ্যামেরিকান ম্যাগাযিনে ডঃ ভিল্যানূর রামাচন্দ্রন-এর আর্টিকলগুলো গোগ্রাসে গিলি (ডঃ রামাচন্দ্রন পৃথিবীর সর্বকালের সেরা একজন নিউরোসাইন্টিস্ট)। বেশ কয়েক মাস আগে তিনি একটি দারুণ একটি কাটিং এজ রিসার্চের আভাস দিয়েছিলেন।

এতদিন আমরা ভেবে আসছিলাম আমাদের সবার ভেতরে একটি কনশাস এবং সাবকনশাস (অবচেতন) মন আছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন দেখছেন - আমাদের মধ্যে আসলে একটি না, বরং এক সাথে বেশ কয়েকটি প্যারালেল সাবকনশাস প্রসেস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি প্রসেস স্বয়ংসম্পূর্ণ, তবে এরা যখন একে অপরের সাথে ক্ল্যাশ করে তখন কিছু পিকিউলিয়ার অবস্থা হয়। "ভয়েস ইন মাই হেড" - আপনার কথা জানি না ভাই, তবে আমি প্রায়শঃই মনের মধ্যে বিভিন্ন কথা শুনতে পাই। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, এই ভয়েস হলো একাধিক সাবকনশাস প্রসেস যখন একে অপরের সাথে মিলিত হয় তারই ম্যানিফেস্টেশন। তবে এই রিসার্চটি একদম আঁতুড় ঘরে আছে - এটা প্রতিষ্ঠিত হলে হয়তো নবী ইব্রাহীম থেকে সার্গেই আনাতোলেভিচ টরপ পর্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রহস্য ভেদ হতে পারে...  thinking

যে যাই বলুন, গত কয়েকদিন ধরে ভাবছি আমাদের প্রজন্মটি আসলেই সৌভাগ্যবান! মাত্র কিছুদিন আগে হিগস বোসন (বা বোসন-লাইক পার্টিকল) পাওয়া গেলো - এটা আমাদের জেনারেশনের সবচাইতে বৃহত্তম বৈজ্ঞানিক এ্যাচীভমেন্ট, আমাদের লাইফটাইমে এই মাত্রার আর কোনো আবিষ্কার হবার সম্ভাবনা নাই। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, হুমায়ুন, সুনীল প্রমুখের মত সাহিত্যিকও বছর বছর জন্মান না। গত একশ বছরে স্টীভ জবস একজনই ছিলেন... একটাই আফসোস, ভালো ভালো জিনিসগুলো হঠাৎ খুব তাড়াতাড়িই ফুরিয়ে যাচ্ছে...  worried

Calm... like a bomb.

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (২৭-০৭-২০১২ ১৬:৪৩)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

অসাধারণ ডকু বস! এমন আরো চাই  thumbs_up

বাই দ্য ওয়ে স্বাক্ষাতকারের প্রথমাংশ এখানে

সুদীর্ঘ এই সাক্ষাৎকারটি আর দশটি সাক্ষাৎকারের মতো নয়। এটা এক ঘরোয়া আলাপচারিতা। এখানে লেখক হুমায়ূন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। দেশকাল, রাজনীতি, ইতিহাস মানব-মানবীর সম্পর্কসহ অনেক কৌতূহলোদ্দীপক বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ২২ মে ২০১১ সালে নেওয়া সাক্ষাৎকারটির প্রেম ও সৃষ্টিরহস্য-বিষয়ক আলাপচারিতার কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য।
প্রশ্ন: আপনার উপন্যাস বাদশানামদারে পরাজিতের লেখা কোনো ইতিহাস উৎস হিসেবে ব্যবহার হয়নি?
হুমায়ূন: হবে কী করে? ইতিহাস কে লেখে জানো? যারা জয়লাভ করে, ইতিহাস সব সময় তারাই লিখে। বিজয়ের ইতিহাস লেখে। পরাজিতরা কখনো ইতিহাস লিখতে পারে না। পরাজিতরা কখনো ইতিহাস লেখার সুযোগ পায় নাই। এ সময়েই দেখো না, হিটলারের পক্ষে কোনো ইতিহাস লিখতে পেরেছে কেউ?
প্রশ্ন: বাংলা অঞ্চলের কোনো বীরকে নিয়ে কি আপনার কিছু লেখার ইচ্ছে আছে? উদাহরণ হিসেবে তিতুমীরের কথা বলা যায়। এঁদের নিয়ে তো কোনো লেখা হয়নি বললেই চলে।
হুমায়ূন: আমাদের কিশোরগঞ্জেই তো আছে। বীরাঙ্গনা সখিনা। ‘আউলায়ে খুলল কন্যা পিন্ধনের বেশ।’ আমার লেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এগুলো খুবই আঞ্চলিক। বীরাঙ্গনা সখিনা, তিতুমীর বা ফকির-সন্ন্যাস বিদ্রোহ।
প্রশ্ন: লাতিন আমেরিকার মতো ভাবা যায়? লাতিন আমেরিকার লেখকেরা একটা চরিত্র খাড়া করে প্রতীকী উপস্থাপনের দিকে চলে যান। মানে, সরাসরি কথাটা না বলে, রূপকের মধ্য দিয়ে বলা। যেমন, মার্কেস লিখেছেন অটাম অব দ্য প্যাট্রিয়ার্ক। মানে, ওই সময়টাকে ঠিকই ধরেছেন উনি। কিন্তু চরিত্রগুলো তাঁর মতো করে বদলে নিচ্ছেন। আপনার হাত দিয়ে এ ধরনের একটা কাজ কি হতে পারত না?
হুমায়ূন: হ্যাঁ, নানাভাবেই ভাবা যায়। কিন্তু এতে যথার্থতার একটা সমস্যা থেকে যায়। যিনি যখনই কিছু বলছেন বা লিখছেন, তাঁর রাজনৈতিক পছন্দের বাইরে সাধারণত যেতে পারেন না। মার্কেসও পারেননি।
প্রশ্ন: আপনার রাজনীতির ব্যাপারে অনাগ্রহ, রাজনৈতিক লেখালেখিতে খুব সরব না, এর কি কোনো বিশেষ কারণ আছে?
হুমায়ূন: আসলে, আমার দেখা প্রথম মানুষ তো আমার বাবা। উনি ইত্তেফাক-এর নাম দিছিলেন মিথ্যা-ফাঁক।
প্রশ্ন: আপনার ওপর বাবার যতটা প্রভাব, মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর কিন্তু প্রভাব ততটা না।
হুমায়ূন: সে তো বাবাকে কম দিন দেখেছে, এটা একটা কারণ হতে পারে। তবে আমার কাছে মানবিক সম্পর্ক রাজনীতির চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে হয়। যেমন আমাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, নারী পুরুষের ভালোবাসার কথা বলুন। বলুন প্রেম কী? সংজ্ঞা দিন। আচ্ছা, প্রেম সম্পর্কে তোমাদের সংজ্ঞা কী এই সময়ে? এখনকার তরুণ-তরুণীরা কীভাবে?
প্রশ্ন: সংজ্ঞা আর কী? এটা একধরনের অনুভূতি। মানসিক অবস্থা।
হুমায়ূন: আমার সংজ্ঞাটা শোনো, প্রেম হচ্ছে ‘ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু একটা।’ ধরা যাক, একটি ছেলে আর একটি মেয়ে। ছেলেটা মেয়েটার প্রেমে পড়েছে। মেয়েটা যখন সামনে আসবে, তখন ছেলেটার ভেতরে লুকিয়ে থাকা কিছু একটা বের হয়ে আসবে। তখন যেটা হবে, সেটা ইউফোরিয়া। একধরনের আনন্দ। সঙ্গে সঙ্গে গভীর বিষাদ, সে কতক্ষণ থাকবে। একটু পরেই তো সে চলে যাবে, তখন কী হবে! তারপর আবার কখন দেখা হবে? এই যে অনিশ্চয়তা, এর মধ্যে কিন্তু দারুণ এক আনন্দ আছে। প্রেমিকার কথা ভাবলে প্রেমিকের হূৎস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রেমিকা চলে যাবে, সে তো থাকবে না। এই বিষাদ, প্রশ্ন, অনিশ্চয়তা; অর্থাৎ ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না।’ যখন চলে গেল, ইউফোরিয়া শেষ। গভীর হতাশায় তুমি নিমজ্জিত। আবার যখন আসবে, লুকিয়ে থাকা জিনিসটা তখন আবার বেরিয়ে আসবে। এখন বলো প্রেমের রসায়ন সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী?
প্রশ্ন: শারীরিক কিছু?
হুমায়ূন: এটাকে আরেকটু সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা যায়। তুমি কি একটা কুরূপা, দেখতে ভালো না। অসুন্দর, খাটো মেয়ের প্রেমে পড়বে? উল্টো ভাবেও ভাবা যায়, কুদর্শন পুরুষের প্রেমে কি একটি সুন্দরী মেয়ে পড়বে? আসলে অত্যন্ত রূপবতী কাউকে দেখলেই প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা তোমার বেশি। এর অর্থ হলো, প্রকৃতি চাচ্ছে, তার সন্তান-সন্ততি যেন সুন্দর হয়। এটা প্রকৃতির চাহিদা। প্রকৃতির একমাত্র লক্ষ্য এমন একটি প্রজাতি তৈরি করা, যেটি হবে অসম্ভব রূপবান, যেটি হবে অসম্ভব জ্ঞানী ও বুদ্ধিসম্পন্ন, যেটি হবে বিত্তবান। প্রকৃতি মনে করে এই বিশ্বকে বাসযোগ্য রাখার জন্য, সচল রাখার জন্য এটা জরুরি। নিরন্তর প্রকৃতি তার এই প্রক্রিয়া সচল রেখে চলেছে।
প্রশ্ন: কিন্তু অসুন্দর নারী-পুরুষের জীবনও তো একেবারে প্রেমহীন বলা যাবে না। তাদের প্রেমেও তো কেউ না কেউ পড়ে?
হুমায়ূন: হ্যাঁ, সেটা ঘটে। যৌবনে কুদর্শনও একভাবে আকর্ষণীয়। প্রকৃতি তার কথাও যে ভাববে না, এমন না। প্রকৃতি সেটাও ভাবে। অনেক সময় অনেক সুন্দরী মেয়েও অসুন্দর পুরুষের প্রেমে পড়ে। এতেও ভারসাম্য রক্ষা হয়। ওই জুটির ঘরেও সুদর্শন সন্তান-সন্ততির জন্ম হয়। এটা প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু নয়। এভাবেও প্রকৃতি কাজ করে। চারপাশে তাকালে এটা বুঝতেও পারবে। এবং এটার মূলেও আছে কিন্তু ওই একই জিনিস। এটাও প্রেমের রসায়ন। এগুলো আমার কথা না সিরিয়াস গবেষণা করে এগুলো বের করা হয়েছে। এ রহস্য একদিনে উদ্ধার হয়নি।

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

পূর্বে প্রথম আলোতে প্রকাশিত।

আজকের প্রথম আলোর সাময়িকিতে সাক্ষ্যাতকারের আদি অন্ত পাবেন।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১৩

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

মুক্তবিহঙ্গ লিখেছেন:

ধুর মিয়া! টপিকের নাম বদলালেন কেন? নাস্তিক আস্তিকের যুদ্ধ লেগে যাওয়ার সম্ভবনা আছে   hairpull। আগের টাই তো ভালো ছিল।

লাগুক অনেকদিন পর, তবে যুক্তি লাইনে থাকলেই হয়। আশা করি কেউ অফেন্সিভ হবেন না  smile

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন কলম কবির (২৭-০৭-২০১২ ২০:৩৭)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

আশা করি কেউ অফেন্সিভ হবেন না

এই আশা তো সবসময়ই থাকে, আবার এটা ভাঙতেও সময় লাগে না। একটু অপেক্ষা করেন, কেউ না কেউ ঠিক এসে যাবে  wink

if ($কম্পিউটার != "উইন্ডোজ" && $লিনাক্স != "উবুন্টু" && $ইন্টারনেট != "ফেসবুক") {print 'I am a real user !';}

নিউরোন তরঙ্গের লগবই

কলম কবির'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

লাগুক অনেকদিন পর, তবে যুক্তি লাইনে থাকলেই হয়। আশা করি কেউ অফেন্সিভ হবেন না  smile


ধার্মিকরা তো যুক্তি মানবেন না, কারণ ধর্ম অন্ধবিশ্বাস।

অনিশ্চয়তার পৃথিবীতে অনিশ্চয়তার মাঝে ডুবে আছি।

১৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মামুন.pb (২৭-০৭-২০১২ ২২:০৫)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

এই ফোরামকে আমি সত্যিকার অর্থেই সুশীল ফোরাম বলে মনে করি।বাংলাতে অনেক ফেক সুশীল ব্লোগ আছে,যেখানে অফেন্সিভ সাধারণ ব্যাপার।
একটা ব্লোগ পড়েছিলাম,সেখানকার একটা কথা খুবই ভালো লেগেছিল,"বিজ্ঞান বলে না যে,আমিই সত্য,বিজ্ঞান বলে আমি প্রমান করছি আমি সত্য,কাল হয়তো আমাকেই মিথ্যা প্রমান করব"।হুমায়ূন আহমদ স্যারের একটা কথা ভালো লেগেছে,"মানুষের ক্ষুদ্র জ্ঞানে সৃষ্টিকর্তাকে পুরোপুরি জানা সম্ভব নয়"।
বিজ্ঞান নির্ভর করে এক্সপেরিমেন্টের উপর,বিজ্ঞান সেই প্রকৃত ঘটনা খুজে বেরায় তার এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে।সে কখনো খুজে পায় বা অনেক সময়ই আংশিক খুজে পায়।বিজ্ঞন যে ব্যাখ্যাকে সঠিক মনে করছে,কাল বা হাজার বছর পর সেটাকেই ভুল প্রমান করবে।বিজ্ঞান তার এক্সপেমেন্ট চালিয়ে যাক।বিজ্ঞানকে মনে হয়ে,তার থিওরি ও মতবাদের উপর অন্ধবিশ্বাস।সে প্রমান ছাড় কিছু বিশ্বাস করে না।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

১৭

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

মুক্তবিহঙ্গ লিখেছেন:
আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

লাগুক অনেকদিন পর, তবে যুক্তি লাইনে থাকলেই হয়। আশা করি কেউ অফেন্সিভ হবেন না  smile


ধার্মিকরা তো যুক্তি মানবেন না, কারণ ধর্ম অন্ধবিশ্বাস।

অন্ধবিশ্বাস না মুক্ত বিশ্বাস। thinking

ধার্মিকদের যুক্তি মানন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন ভাই?  confused

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মামুন.pb (২৭-০৭-২০১২ ২২:০৪)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

সহমত।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

১৯

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আরণ্যক লিখেছেন:
মুক্তবিহঙ্গ লিখেছেন:


ধার্মিকরা তো যুক্তি মানবেন না, কারণ ধর্ম অন্ধবিশ্বাস।

অন্ধবিশ্বাস না মুক্ত বিশ্বাস। thinking

ধার্মিকদের যুক্তি মানন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন ভাই?  confused

একেবারেই পছন্দ হলো না, মুক্ত করতে চাইলে নিজেকে ধর্ম থেকে দূরে সরতেই হবে  smile

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২০

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

করতে চাইলে নিজেকে ধর্ম থেকে দূরে সরতেই হবে

ভাইজান কি বলতে চাচ্ছেন, বুঝতে পারছি না। ghusi একটু সহজ বাংলায় বলেন।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"