২১

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

মুক্ত করতে চাইলে নিজেকে ধর্ম থেকে দূরে সরতেই হবে

আপনার কাছে মুক্তির ডেফিনেশন কি?

২২

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

অভি আহমেদ লিখেছেন:
আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

মুক্ত করতে চাইলে নিজেকে ধর্ম থেকে দূরে সরতেই হবে

আপনার কাছে মুক্তির ডেফিনেশন কি?

Free thoughts একজন দাস কখনও সেটা করতে পারেনা  neutral

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৩

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

invarbrass লিখেছেন:

আমি তর্ক করতে ভালোবাসি, তর্ক থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। 


ব্রাসু ভাই । যুক্তি তর্ক না।  আমি এই ব্যাপারে আপনার ধারনা জানতে চাইছি । মানে ঈশ্বর ও সৃষ্টি রহস্য নিয়ে ।  আমি আমি জানি আপনি সুন্দর যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেবেন  smile

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৪

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

ফারহান খান লিখেছেন:

ব্রাসু ভাই । যুক্তি তর্ক না।  আমি এই ব্যাপারে আপনার ধারনা জানতে চাইছি । মানে ঈশ্বর ও সৃষ্টি রহস্য নিয়ে ।  আমি আমি জানি আপনি সুন্দর যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেবেন  smile

ভাই হুমায়ুন হইতে হকিন্স ডকিন্সে জাম্প মারিলে অফটপিক তো হইবেই, থ্রেডটিরও অপমৃত্যু ঘটিতে পারে।

এ ব্যাপারে আলাদা থ্রেড খোলা যায়।

Calm... like a bomb.

২৫

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

invarbrass লিখেছেন:
ফারহান খান লিখেছেন:

ব্রাসু ভাই । যুক্তি তর্ক না।  আমি এই ব্যাপারে আপনার ধারনা জানতে চাইছি । মানে ঈশ্বর ও সৃষ্টি রহস্য নিয়ে ।  আমি আমি জানি আপনি সুন্দর যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেবেন  smile

ভাই হুমায়ুন হইতে হকিন্স ডকিন্সে জাম্প মারিলে অফটপিক তো হইবেই, থ্রেডটিরও অপমৃত্যু ঘটিতে পারে।

এ ব্যাপারে আলাদা থ্রেড খোলা যায়।


প্লিজ ভাই , আপনি একটা খুলেন সময় থাকলে । আপনি থাকতে আমার মত নাদান এইরকম ব্যাপার নিয়ে টপিক খুলতে পারে না । ভাল মন্দ না লিখতে পারলেও কিছু প্রশ্ন যেগুলো অনেক দিন ধরে আকুপাকু করছে মনে, সেগুলো জিজ্ঞেস তো করতে পারবো  smile

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৬

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:
অভি আহমেদ লিখেছেন:

আপনার কাছে মুক্তির ডেফিনেশন কি?

Free thoughts একজন দাস কখনও সেটা করতে পারেনা  neutral

মুক্ত বিশ্বাস আর মুক্ত চিন্তা দুটার পার্থক্য আছে।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

২৭

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আরণ্যক লিখেছেন:
আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

Free thoughts একজন দাস কখনও সেটা করতে পারেনা  neutral

মুক্ত বিশ্বাস আর মুক্ত চিন্তা দুটার পার্থক্য আছে।

ব্যাং আর কূপের গল্পটা মনে আছে?

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইকরাম হোসেন (২৭-০৭-২০১২ ২৩:১৮)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

প্রথম আলো তে আজকে দুপুরে হুমায়ুন আহমেদ বিসয়ে লেখা সম্পূর্ণ পাতাটা পড়ে খুব ভাল লাগলো।
হুমায়ুন আহমেদ কে অনেকেই নাস্তিক বলত, শুনলে আমার মাথা কেন জানি গরম হয়ে যেত। তাদেরকে বুঝাতাম, তিনি নাস্তিক ছিলেন না, এমন কি তার ভাই জাফার ইকবাল ও নাস্তিক না। তবে শুনেছি নাস্তিকতার জন্য হুমায়ুন আহমেদ এর ২ টি বই নিষিদ্ধ হয়। (আমার বড় বোনের কাছে শুনেছি)।
আমি জাফার ইকবালের সায়েন্স ফিকশান ও কিশোর উপন্যাসের খুবই ভক্ত।
জাফার ইকবালের সায়েন্স ফিকশান বইগুলো পড়লে আল্লাহর সৃষ্টি যে কত বিশাল, তার কিছুমাত্র হলেও ধারনা করা যায়।


যাই হোক, হুমায়ুন আহমেদ যে  আস্তিক, তা আজকে প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ( যা হুমায়ুন আহমেদ এর জীবদ্দশায় সংঘটিত হয়) থেকে স্পস্ট হয়।

Hoststorebd.com ... ওয়েব হোস্টিং বছরে ৩০০ টাকা থেকে শুরু, মাত্র ৬৫০ টাকয় রিসেলার হোস্টিং। এছারাও  সুলভ মুল্ল্যে ওয়েব সাইট ডিজাইনের অর্ডার দিতে পারেন এখানে।

২৯

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:
আরণ্যক লিখেছেন:

মুক্ত বিশ্বাস আর মুক্ত চিন্তা দুটার পার্থক্য আছে।

ব্যাং আর কূপের গল্পটা মনে আছে?

থাকবে না কেন? তার সাথে এখানে কি সম্পর্ক?

মুক্ত বিশ্বাস আর মুক্ত চিন্তা দুটা আলাদা শব্দ এবং এর অর্থও আলাদা। তা আপনি কুয়ার মধ্যেই থাকেন আর বাইরে।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৩০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৭-০৭-২০১২ ২৩:৪৮)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আরণ্যক লিখেছেন:
আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

Free thoughts একজন দাস কখনও সেটা করতে পারেনা  neutral

মুক্ত বিশ্বাস আর মুক্ত চিন্তা দুটার পার্থক্য আছে।


"মুক্ত বিশ্বাস" - এ ব্যাপারে আমি মুজতবা ভাইয়ের সংগে সহমত।

"মুক্ত" এবং "বিশ্বাস" - দু'টো শব্দ একত্রে অর্থহীন। বিশ্বাস (belief) মানে কোনো প্রমাণটমাণ ছাড়াই অটল, অটুট ধারণা। বিশ্বাস পোষণ করার জন্য কোনো প্রমাণের অপেক্ষায় আপনি থাকেন না। কেউ যদি আপনার বিপরীত ধারণা পোষণ করে তার কথাও আপনি উড়িয়ে দেবেন। আর বাইচান্স কেউ যদি আপনার ধারণাটিকে ভুল প্রমাণিত করেই ফেলে, আপনি মানসিকভাবে বিচলিত হবেন। বিশ্বাস জিনিসটাই একটা "বদ্ধ" বা ক্লোজড ব্যাপার। শব্দটির আগে "মুক্ত" পৃফিক্স জুড়ে দিলে কোনো অর্থ দাঁড়ায় না। যেমন:

"উন্মুক্ত বন্ধ দরজা"

এই বাক্যটি সিম্পলী মীনিংলেস।

বিশ্বাসের বদলে trust বা আস্থা (আশা করি অনুবাদ ঠিক আছে  worried) শব্দটি বরং আমি প্রেফার করি। আস্থা শব্দটি আরো ওপেন-এন্ডেড - বিরুদ্ধমত এন্টারটেন করার সুযোগ রাখছেন এতে। আপনি একটি ধারণার উপর আস্থা বা trust  পোষণ করছেন, আবার জানেন তা  ভুলও প্রমাণিত হতে পারে। এবং ভুল হলেও আপনি খুব একটা বিচলিত হবেন না, নির্বিবাদে এর রিপলেসমেনট হিসাবে আরো ভালো কোনো ধারণা গ্রহণ করে নেবেন।

আমি এখানে শব্দ দু;টির ভাষাগত পার্থক্যের কথা বলছিনা - এদের অন্তর্নিহিত ধারণার ব্যাপারে নির্দেশ করছি।

বিশ্বাসের পেছনে প্রচুর ইমোশনাল ইনভেস্টমেন্ট থাকে - ভ্রান্ত প্রমাণিত হলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মানুষ। আস্থা সেদিক দিয়ে কিছুটা নন-কমিটাল - ভুল হলেও তেমন সমস্যা নেই, পুরণো ধারণার বদলে ভার্সন ২ তো আছেই।

মুক্ত চিন্তা মানে সব ধরণের যৌক্তিক সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখার জন্য উন্মুক্ত মন। আমার মতে, সত্যিকারের মুক্ত চিন্তা পোষণ করা বেশ দুরূহ কাজ।

রিচার্ড ডকিন্সের মত মিলিট্যান্ট এ্যাথিইস্টরা নিজেদের "ফৃ থিংকার" বলেন এটা নিয়েও আমার কিন্চিৎ রিজার্ভেশন আছে। গোঁড়া ধার্মিকদের মত তাঁরাও তো কিছু না কিছু (এ্যাথিওলজিকাল) ডগমা পোষণ করছেন। জাকির নাইককে ডারউইণিজমের জ্ঞান দিতে গেলে যেমন বিফলে যাবে, তেমনি রিচার্ড ডকিন্সকে গীতাপাঠ করালেও কোনো ফায়দা হবে না। এঁরা দুই বিপরীত মেরুর বাসিন্দা - আবার একদিক দিয়ে এদের মিলও আছে।

Calm... like a bomb.

৩১

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

invarbrass লিখেছেন:

"মুক্ত" এবং "বিশ্বাস" - দু'টো শব্দ একত্রে অর্থহীন। বিশ্বাস (belief) মানে কোনো প্রমাণটমাণ ছাড়াই অটল, অটুট ধারণা। বিশ্বাস পোষণ করার জন্য কোনো প্রমাণের অপেক্ষায় আপনি থাকেন না। কেউ যদি আপনার বিপরীত ধারণা পোষণ করে তার কথাও আপনি উড়িয়ে দেবেন। আর বাইচান্স কেউ যদি আপনার ধারণাটিকে ভুল প্রমাণিত করেই ফেলে, আপনি মানসিকভাবে বিচলিত হবেন। বিশ্বাস জিনিসটাই একটা "বদ্ধ" বা ক্লোজড ব্যাপার। শব্দটির আগে "মুক্ত" পৃফিক্স জুড়ে দিলে কোনো অর্থ দাঁড়ায় না

আপনার ব্যক্তিগত মতামতের জন্য ধন্যবাদ। বোল্ড করা থিউরি কি আপনার আবিষ্কৃত?

মুক্ত বিশ্বাস বলতে আমি বুঝি- একজন মুক্ত বিশ্বাসের অধিকারী নিজের মতকে যেমন সম্মান করে তেমনি অপরের মতকেও সম্মান করে। আপনি যে সজ্ঞা দিয়েছেন আমি তো সেটাকে অন্ধ বিশ্বাস বলে জানতাম।

invarbrass লিখেছেন:

জাকির নাইককে ডারউইণিজমের জ্ঞান দিতে গেলে যেমন বিফলে যাবে, তেমনি রিচার্ড ডকিন্সকে গীতাপাঠ করালেও কোনো ফায়দা হবে না। এঁরা দুই বিপরীত মেরুর বাসিন্দা - আবার একদিক দিয়ে এদের মিলও আছে।

ভাল বলেছেন। lol

যাই হোক অনেক আগে আপনাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম। প্রাসঙ্গিক বলে আবার তুলে ধরছি-

আর একটা প্রশ্ন: ভাইয়া আমি যতদুর জানি আপনি একজন ডাক্তার। আপনার কাছে প্রশ্ন এ বিষয়েই।

আমেরিকার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে আজকাল প্রর্থনা বিষয়ে সিরিয়াসলি পাঠদান করানো হচ্ছে। কারণ হিসাবে তার নাকি বলছে- প্রর্থনা করলে রুগীরা দ্রুত সুস্থ হন। বেশ কিছু প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে প্রর্থনা করা হয় যে সব রুগীর জন্য তাদের নিরাময়ের হার নাকি সাধারণদের চেয়ে অনেক বেশি। এমন কি তারা বলছে- প্রর্থনার কথা রুগী না জানলেও ফলাফল একই। তাদের দাবি মতে ১০০০ মাইল দুরের রুগীর জন্য প্রার্থনা করেও একই ফল পাওয়া গেছে।

আমরা এরকম একটা কথা জনতে পারি ইদানিং কালের হূমায়ুন আহমেদের একটা লেখা পড়ে। যেখানে কবি শহীদ কাদির নিজেকে নাস্তিক দাবি করলেও হূমায়ুন এর জন্য প্রার্থনা করবেন বলে জানিয়েছেন। কারণ এর নিরাময় এর ক্ষমতার জন্য।

ভাইয়া এ বিষয়ে একটু আপনার মতামত চাচ্ছি। আমেরিকার মেডিকেল সায়েন্স তো এখন সবচেয়ে এগিয়ে। তারা হঠাৎ করে এমন উল্টা পথে হাটা শুরু করলো কেন?

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৩২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (২৮-০৭-২০১২ ০০:৪১)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

invarbrass লিখেছেন:

বিশ্বাসের পেছনে প্রচুর ইমোশনাল ইনভেস্টমেন্ট থাকে - ভ্রান্ত প্রমাণিত হলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে মানুষ। আস্থা সেদিক দিয়ে কিছুটা নন-কমিটাল - ভুল হলেও তেমন সমস্যা নেই, পুরণো ধারণার বদলে ভার্সন ২ তো আছেই।

এটাই বলতে চাচ্ছিলাম। ব্যাং ভিতরে থেকে মুক্ত হবার সাধ/মজা কখনও টের পায় না, আর বিশ্বাস/চিন্তা তো অনেক দূরের কথা।

আমি কোনো মেডিকেল স্কুলে এরকম কিছু এখনও শুনি নেই যদিও। এমনকি কোনো ফিজিশিয়ানের মুখেও না। যদি হয়েই থাকে তবে প্রার্থনা শব্দটার মানে কি? মনে প্রাণে কিছু চাওয়া তাইতো? এখানে অদৃশ্য কেউ আসলো কেন? কেউ কারো জন্য কি নিজের মন থেকে প্রার্থনা করতে পারে না? বা সহজ অর্থে মনে প্রাণে চাইতে পারে না যাতে মানুষটা সুস্থ হোক! এমনকি বিগত কোনো বছরেই এখানের কারো মুখে আই'ল প্রে টাইপ শব্দ শুনি নি। সব সময় আই হোপ, আই এক্সপেক্ট  smile

হুমায়ুন আহমেদ কে অনেকেই নাস্তিক বলত, শুনলে আমার মাথা কেন জানি গরম হয়ে যেত। তাদেরকে বুঝাতাম, তিনি নাস্তিক ছিলেন না, এমন কি তার ভাই জাফার ইকবাল ও নাস্তিক না। তবে শুনেছি নাস্তিকতার জন্য হুমায়ুন আহমেদ এর ২ টি বই নিষিদ্ধ হয়। (আমার বড় বোনের কাছে শুনেছি)।
আমি জাফার ইকবালের সায়েন্স ফিকশান ও কিশোর উপন্যাসের খুবই ভক্ত।
জাফার ইকবালের সায়েন্স ফিকশান বইগুলো পড়লে আল্লাহর সৃষ্টি যে কত বিশাল, তার কিছুমাত্র হলেও ধারনা করা যায়।

উনার কোনো বই কখনও নিষিদ্ধ হয় নাই। সাই-ফাই পুরোটাই ফ্যানআসী এখানে সৃষ্টিকর্তা পাওয়া মানে তিনি আপনার ফ্যানআসীর জগতে বাস করেন  roll

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

৩৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৮-০৭-২০১২ ০১:২৯)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আরণ্যক লিখেছেন:
invarbrass লিখেছেন:

"মুক্ত" এবং "বিশ্বাস" - দু'টো শব্দ একত্রে অর্থহীন। বিশ্বাস (belief) মানে কোনো প্রমাণটমাণ ছাড়াই অটল, অটুট ধারণা। বিশ্বাস পোষণ করার জন্য কোনো প্রমাণের অপেক্ষায় আপনি থাকেন না। কেউ যদি আপনার বিপরীত ধারণা পোষণ করে তার কথাও আপনি উড়িয়ে দেবেন। আর বাইচান্স কেউ যদি আপনার ধারণাটিকে ভুল প্রমাণিত করেই ফেলে, আপনি মানসিকভাবে বিচলিত হবেন। বিশ্বাস জিনিসটাই একটা "বদ্ধ" বা ক্লোজড ব্যাপার। শব্দটির আগে "মুক্ত" পৃফিক্স জুড়ে দিলে কোনো অর্থ দাঁড়ায় না

আপনার ব্যক্তিগত মতামতের জন্য ধন্যবাদ। বোল্ড করা থিউরি কি আপনার আবিষ্কৃত?

মুক্ত বিশ্বাস বলতে আমি বুঝি- একজন মুক্ত বিশ্বাসের অধিকারী নিজের মতকে যেমন সম্মান করে তেমনি অপরের মতকেও সম্মান করে। আপনি যে সজ্ঞা দিয়েছেন আমি তো সেটাকে অন্ধ বিশ্বাস বলে জানতাম।

invarbrass লিখেছেন:

জাকির নাইককে ডারউইণিজমের জ্ঞান দিতে গেলে যেমন বিফলে যাবে, তেমনি রিচার্ড ডকিন্সকে গীতাপাঠ করালেও কোনো ফায়দা হবে না। এঁরা দুই বিপরীত মেরুর বাসিন্দা - আবার একদিক দিয়ে এদের মিলও আছে।

ভাল বলেছেন। lol

যাই হোক অনেক আগে আপনাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম। প্রাসঙ্গিক বলে আবার তুলে ধরছি-

আর একটা প্রশ্ন: ভাইয়া আমি যতদুর জানি আপনি একজন ডাক্তার। আপনার কাছে প্রশ্ন এ বিষয়েই।

আমেরিকার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে আজকাল প্রর্থনা বিষয়ে সিরিয়াসলি পাঠদান করানো হচ্ছে। কারণ হিসাবে তার নাকি বলছে- প্রর্থনা করলে রুগীরা দ্রুত সুস্থ হন। বেশ কিছু প্রবন্ধে দাবি করা হয়েছে প্রর্থনা করা হয় যে সব রুগীর জন্য তাদের নিরাময়ের হার নাকি সাধারণদের চেয়ে অনেক বেশি। এমন কি তারা বলছে- প্রর্থনার কথা রুগী না জানলেও ফলাফল একই। তাদের দাবি মতে ১০০০ মাইল দুরের রুগীর জন্য প্রার্থনা করেও একই ফল পাওয়া গেছে।

আমরা এরকম একটা কথা জনতে পারি ইদানিং কালের হূমায়ুন আহমেদের একটা লেখা পড়ে। যেখানে কবি শহীদ কাদির নিজেকে নাস্তিক দাবি করলেও হূমায়ুন এর জন্য প্রার্থনা করবেন বলে জানিয়েছেন। কারণ এর নিরাময় এর ক্ষমতার জন্য।

ভাইয়া এ বিষয়ে একটু আপনার মতামত চাচ্ছি। আমেরিকার মেডিকেল সায়েন্স তো এখন সবচেয়ে এগিয়ে। তারা হঠাৎ করে এমন উল্টা পথে হাটা শুরু করলো কেন?

আপনি সম্ভবত: বিশ্বাস এবং আস্থা-র মধ্যে সূক্ষ্য পার্থক্যটুকু ধরতে পারেন নি।

যা হোক, আপনার এই প্রশ্নটি আমি কয়েকবার খুঁজেছিলাম উত্তর দেবার জন্য। ভালোই হলো এখানে পেয়ে যাওয়ায়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রার্থণায় ফল পাওয়া গেলে খুশিই হতাম। তবে বাস্তবতা ভিন্ন।

আপনি সম্ভবত: সাইখার-টার্গ এক্সপেরিমেন্টের কথা বলছেন। এটি একটি ট্র্যাজিক ঘটনা।

ড: এলিযাবেথ টার্গ এবং তাঁর কলিগরা ৯০-এর দশকে ২০ জন এইডস রোগীর উপর প্রার্থণার প্রভাব নিয়ে পাইলট স্টাডি করেন। রোগিদের জন্য প্রায় দেড় হাজার মাইল দূর থেকে দশটি ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয়, উপজাতী গ্রুপ প্রার্থণা করেছিলো। ঐ সময় কিছু আশাব্যন্জক ফলাফল প্রত্যক্ষ করা হয় - যাদের ওপর প্রার্থনা করা হয়েছিলো, তারা মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে বেশ কয়েক বছর বেচে থাকে (ঐ সময় এইডস মানেই মৃত্যু পরোয়ানা)। তবে রোগীরা একই সংগে কনভেনশনাল মেডিক্যাল এ্যান্টি-ভাইরাল টৃটমেন্টও নিচ্ছিলো - কাজেই প্রার্থণা নাকি ড্রাগস (নাকি দু'টোই) আসলে কাজ করেছিলো বোঝার উপায় নেই।

পাইলট স্টাডিতে এরকম রেজাল্ট দেখানোর পর তাঁর রিসার্চ ফ্যাসিলিটি ১.৫ মিলিয়ন ডলারের গ্রান্ট পায়। এরপর শুরু হয় আসল এক্সপেরিমেনট - এইডস এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগীদের নিয়ে। প্রাথমিক ভাবে তাঁরা আশাব্যন্জক ফল পান - যাদের ওপর প্রার্থণা করা হয়েছে তাদের হাসপাতালে থাকার সময় বেশ কমে গেছে, অসুখের প্রকোপও কমেছে। ইনিশিয়াল রেজাল্ট পাবলিশ করার পর রাতারাতি ড: টার্গ সেলিব্রেটি হয়ে যান।

তবে রিসার্চ বেশিদূর আগানোর আগেই বিরাট ট্র্যাযেডি। ড: এলিযাবেথের ব্রেনে গ্লায়োব্লাস্টোমা নামে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। এই ২০১২ সালেও জিবিএম মানে নিশ্চিৎ ডেথ সেন্টেন্স (সার্ভাইভাল রেট ২%-এরও কম)।

ড: টার্গ নিজের উপরেই এক্সপেরিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। রেডিওথেরাপী চিকিৎসা বাদ দিয়ে তিনি বিভিন্ন উপজাতীয় ফেইথ হীলারদের প্রার্থনার উপর ছেড়ে দেন নিজের ভাগ্য। ফলাফল শূন্য - কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি মারা যান। তাঁর থিওরী নিজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এক্সপেরিমেন্টটি এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

তবে টার্গের এক্সপেরিমেন্ট ধর্মীয় প্রার্থণা মনে করলে ভুল করবেন। ড: টার্গ গবেষণা করেছিলেন সাইকিক হীলার, ওঝা ইত্যাদি ফেইথ হীলারদের নিয়ে - এরা কোনো মেইনস্ট্রিম ধর্মের সাথে সম্পর্কিত ছিলো না।
বিস্তারিত এবং

সম্প্রতি বৃটেনের টেমপলটন ফাউন্ডেশন রোগে নিরাময়ে প্রার্থণার প্রভাব নিয়ে একটি স্টাডি করেছিলো। টেম্পলটন হলো বৃটেনের ইসলামী ফাউন্ডেশন। এরা ২০০৬ সালে নিউইয়র্ক হাসপাতালগুলোতে ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে বড়সড় এক্সপেরিমেন্ট করেছিলো। তারা বেশকিছু খৃস্টান চার্চ মেম্বারদের দিয়ে রোগীদের জন্য প্রার্থনা করিয়েছিলো।

ফলাফল একদম উল্টা:

More people (59%) in the control group suffered more complications than in the groups who did not know if they were being prayed for (51%).

18% of those in the uninformed prayer group suffered major complications (including heart attack) as compared to 13% in the group that did not receive prayers.

অর্থাৎ, প্রার্থণায় কোনো উন্নতি হয় নি। বরং যারা জানতো যে তাদের জন্য প্রার্থণা করা হচ্ছে, তারা পারফর্ম্যা্ন্স এনক্সাইটির কারণে বরং উল্টো শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পুরো এক্সপেরিমেন্টটি ফেইলড হয়।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত পাবেন নিউ ইয়র্ক টাইমসে

২০০৬ থেকে প্রায় ১৪টি স্টাডি হয়েছে - এগুলোর মেটা-এ্যানালাইসিস করে দেখা গেছে রোগ নিরাময়ের উপর প্রার্থনার কোনো ইফেক্ট নেই, অথবা থাকলেও তা নিতান্তই অতি ক্ষুদ্র

Calm... like a bomb.

৩৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (২৮-০৭-২০১২ ০১:৪২)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

কিন্তু আমেরিকার (হার্ভাড মেডিকেল স্কুল) মেডিকেল গুলিতে কেন তাহলে প্রার্থনা সাবজেক্ট হিসাবে খোলা হচ্ছে?

ক্যান্সার নিরাময়ে ডা. কার্ল সিমনটনের "ইমেজ থেরাপি"। ইয়েল ইউনির্ভার্সিটির মেডিকেল স্কুলের ডা. বার্নাড সীজলের রোগ নিরাময়ে ভিশনের ব্যাবহার বা গত শতাব্দীর প্রথম দিকে ড. ইমিয় কোয়ের "অটোসাজেশন থেরাপী"। এগুলোকে প্রার্থনারই রুপ মনে হয়েছে।

ড: টার্গ নিজের উপরেই এক্সপেরিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। রেডিওথেরাপী বাদ দিয়ে তিনি বিভিন্ন উপজাতীয় ফেইথ হীলারদের প্রার্থনার উপর ছেড়ে দেন নিজের ভাগ্য। ফলাফল শূন্য - কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি মারা যান। তাঁর এক্সপেরিমেন্টটি এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে।

এটা তো বোকামী করেছে। চিকিৎসা বন্ধ করে না চিকিৎসার পাশাপাশি হিলিং চালাতে হোত। আমি যতটুকু বুঝে ছিলাম হিলিং নিরাময় ব্যবস্থাকে দ্রুততর করে। এটা পুর্নাঙ্গ চিকিৎসা না।

আর একজনের মৃত্যু দিয়ে কি গোটা পরীক্ষাকে কি বাতিল করা যায়? যেখানে অন্য ফলাফল গুলি বেশ পজেটিভ?

আর হ্যা প্রর্থনা বলতে আমি সাইকি হিলারদেরই বুঝিয়েছি। তথাকথিত হুজুরদের পানি পড়া না।

টেম্পলটন হলো বৃটেনের ইসলামী ফাউন্ডেশন। এরা ২০০৬ সালে নিউইয়র্ক হাসপাতালগুলোতে ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে এক্সপেরিমেন্ট করেছিলো। তারা বেশকিছু খৃস্টান চার্চ মেম্বারদের দিয়ে রোগীদের জন্য প্রার্থনা করিয়েছিলো।

বিষয়টা খুব ইন্টারেস্টিং লাগলো।  lol

আট: আপনার জানার পরিধি আমাকে সব সময় বিস্মিত করে।  clap

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৩৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ভার্চুয়াল দিনমজুর (২৮-০৭-২০১২ ০৩:৪৭)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

খানিকটা অফেন্সিভ মুডে গেলামঃ
=====

বিজ্ঞান জানে - আজকে যা বলছে - কালকে সেটা ভুল ও হতে পারে। আজকের ভুল কালকে সত্য হতে পারে। এক সীমাহীন ভাঙ্গা গড়ার খেলার মধ্য দিয়েই বিজ্ঞান এগিয়ে চলছে।  বিজ্ঞানে ধ্রুব সত্য বলে কিছুই নেই।

সমস্যা হচ্ছে এই বিজ্ঞানকেই অনেকে একটা ধর্ম বানিয়ে ফেলে। বিজ্ঞান যেটা প্রমান করতে পারেনি - তারা সেটাকে পুরোপুরি অস্বীকার করে. যেনবা - বিজ্ঞান যে পর্যন্ত যেতে পারেনি - সেই বিষয়গুলি এই মহাবিশ্বেই নেই.

বিজ্ঞান কয়েকদিন আগে পর্যন্ত বলত আলোই মহাবিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে চলে। আপনি যদি বলতেন এর চেয়েও দ্রুতগতির জিনিস মহাবিশ্বে আছে - আপনাতে তখন সেই বিজ্ঞানের অন্ধভক্তরা পাগল বলত। কিন্তু যারা সত্যিকারের বিজ্ঞানমনস্ক, তারা কথাটাকে একটা "সম্ভবনা" এর বিভাগে ফেলত - সরাসরি বিরোধিতা করত না।

সত্যিকারের বিজ্ঞানমনস্করা সম্ভাবনার কথাটি সবসময় মাথায় রাখবে - আর বিজ্ঞানের অন্ধভক্ত তথা অপবিজ্ঞানের ফেরিওয়ালারাই বলে বেড়াবে বিজ্ঞান এইটা বলেছে - তাই এইটাই ধ্রুব। এর বাইরে কিছুই হতে পারে না।

ভার্চুয়াল দিনমজুর আমি

৩৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মামুন.pb (২৮-০৭-২০১২ ০৫:২২)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

ভার্চুয়াল দিনমজুর লিখেছেন:

খানিকটা অফেন্সিভ মুডে গেলামঃ
=====

বিজ্ঞান জানে - আজকে যা বলছে - কালকে সেটা ভুল ও হতে পারে। আজকের ভুল কালকে সত্য হতে পারে।বিজ্ঞানে ধ্রুব সত্য বলে কিছুই নেই।

বিজ্ঞান যেটা প্রমান করতে পারেনি - তারা সেটাকে পুরোপুরি অস্বীকার করে. যেনবা - বিজ্ঞান যে পর্যন্ত যেতে পারেনি - সেই বিষয়গুলি এই মহাবিশ্বেই নেই।
সত্যিকারের বিজ্ঞানমনস্করা সম্ভাবনার কথাটি সবসময় মাথায় রাখবে - আর বিজ্ঞানের অন্ধভক্ত তথা অপবিজ্ঞানের ফেরিওয়ালারাই বলে বেড়াবে বিজ্ঞান এইটা বলেছে - তাই এইটাই ধ্রুব। এর বাইরে কিছুই হতে পারে না।

সেটাই করে থাকে ঈস্বর এবং সৃষ্টি সম্পর্কে।
একটা কথা মনে পড়ল,কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেছে,তাহলে কি আগে ছিলো না।যে গ্রহ নক্ষত্র আজকে আবিষ্কৃত হয়েছে তা গতদিনেও তো বিদ্যমান ছিলো।সত্যিই এবিষয়ে একমত যে,প্রকৃত বিজ্ঞান মনস্করা সম্ভবনার কথা বলবেন আর নাস্তিকেরা অস্বিকার করবেন।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

৩৭

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

বৃটেনের ইসলামী ফাউন্ডেশন এক্সপেরিমেন্ট এ বেশকিছু খৃস্টান চার্চ মেম্বারদের দিয়ে রোগীদের জন্য প্রার্থনা করিয়েছিলো??  confused confused

invarbrass লিখেছেন:

সম্প্রতি বৃটেনের টেমপলটন ফাউন্ডেশন রোগে নিরাময়ে প্রার্থণার প্রভাব নিয়ে একটি স্টাডি করেছিলো। টেম্পলটন হলো বৃটেনের ইসলামী ফাউন্ডেশন। এরা ২০০৬ সালে নিউইয়র্ক হাসপাতালগুলোতে ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে বড়সড় এক্সপেরিমেন্ট করেছিলো। তারা বেশকিছু খৃস্টান চার্চ মেম্বারদের দিয়ে রোগীদের জন্য প্রার্থনা করিয়েছিলো।

ফলাফল একদম উল্টা:

More people (59%) in the control group suffered more complications than in the groups who did not know if they were being prayed for (51%).

18% of those in the uninformed prayer group suffered major complications (including heart attack) as compared to 13% in the group that did not receive prayers.

অর্থাৎ, প্রার্থণায় কোনো উন্নতি হয় নি। বরং যারা জানতো যে তাদের জন্য প্রার্থণা করা হচ্ছে, তারা পারফর্ম্যা্ন্স এনক্সাইটির কারণে বরং উল্টো শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। পুরো এক্সপেরিমেন্টটি ফেইলড হয়।

৩৮ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মামুন.pb (২৮-০৭-২০১২ ০৯:২৩)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

ভার্চুয়াল দিনমজুর লিখেছেন:

খানিকটা অফেন্সিভ মুডে গেলামঃ
=====
সমস্যা হচ্ছে এই বিজ্ঞানকেই অনেকে একটা ধর্ম বানিয়ে ফেলে।

এবিয়ে সহমত যে,যে অনেকে ধর্মগ্রন্থকে বিজ্ঞানের বই বানিয়ে ফেলে।ডঃজাকির নায়েকের সাথেও একমত যে,কোরয়ান বিজ্ঞানের বই হতে গেলে পৃথিবীর কতোগুলো স্কাইক্রাপার লাগবে,সেটাই চিন্তার বিষয়।ধর্ম হচ্ছে চিরন্তন সত্য।এখন আপনি হয়তো বলতে পারেন,এতোগুলো ধর্ম ও তার ধর্মগ্রন্থ,তাহলে কি সবগুলো।নিশ্চয় না,কোনটা সেই চিরন্তন সত্য,সেটা আমাকে আপনাকেই খুজতে হবে।কোরয়ান হলো মানব জাতির হেদায়েতের গ্রন্থ।আল্লাহ তাঁর মহিমা,ক্ষমতা ও নিদর্শন দেখাতে গিয়ে এমন কিছুর বর্ননা দিয়েছেন,যা আমাদের ধারনা এবং জ্ঞানের বাইড়ে।আজ এই ১৪ শত বছরের মধ্যে সেঈ নিদর্শনগুলোর কিছু অনুধাবন করতে পেরেছি মাত্র।বিজ্ঞানের সাথে ধর্ম না মিলে গেলে,ধর্ম কখনো মিথ্যে হবে না।সেটা বিজ্ঞানের ব্যার্থতাই মাত্র।কারন সত্য সব সময়ই একই অবস্থায় থাকে।বিজ্ঞান সর্বদায় অধ্যায়নরতো,কারন সে কখনো পরিপূর্ন নয় জন্যেই সে এখনো সম্ভবনার মধ্যেই রয়েছে।জ্ঞানের বৈশিষ্টই হলো বিভ্রান্তকে দূর করা,কিন্তু জ্ঞান বিভ্রাট সেই বিভ্রান্তিকে আরো জট পাকিয়ে ফেলে।ইসলাম কি চিকিত্সা নিতে বারন করছে।তা অবশ্যই নয়।জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চারও অনুপ্ররনা আছে।ঠিক সেকারনেই অতীতে অনেক জ্ঞানীগুনী,বিজ্ঞানীর আবির্ভাব ঘটেছে।

ওয়াসকর্ম ও ওয়াসকৃত মস্তিস্ক্য প্রতিটা দলের মাঝেই দেখা যায়।রাজনৈতিক দলীয় ফ্যন/মুরীদ মাত্রই ক্ষীনদৃষ্ট সম্পন্ন।দেশী,বিদেশী,খ্যাতমান বা অখ্যত যেমনই হোক,কপিক্যাটকে বর্জন করে নকলের অরিজিনালটা গ্রহন করে তাদের মেধা ও সাহস অনুপ্রনিত করি।

৩৯

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

invarbrass লিখেছেন:

সংক্ষেপে এই হলো পেয়লীর ন্যাচারাল থিওলজী।

পেয়লীর ডিজাইনার আর্গুমেন্ট প্রথম খন্ডন করেন স্কটিশ দার্শনিক ডেভিড হিউম। তিনি কাউন্টার লজিক দিয়েছিলেন প্রকৃতিতে অসংখ্য দানবীয়তা, অসামন্জস্যতা দেখিয়ে। হিউমের দার্শনিকতার বেশি গভীরে যেতে চাই না, খুব কমন দুয়েকটা উদাহরণ দেই: ভাবুন বিকলাংগ শিশুর কথা, যে জন্ম থেকেই শারিরীক অক্ষমতায় জর্জরিত - তাও যদি বেঁচে থাকে আরকি। অথবা আপনার আরেকটু "ভাগ্যবান" বয়স্ক আত্মীয়স্বজনের কথা ভাবুন, চিন্তা করুন তাদের অনবরত পীড়িত করতে থাকা বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়াবিটিস, ক্যান্সার, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদির ব্যাপারে। কিছুদিন আগে ফায়ারফক্স ভাই একটি থ্রেড খুলেছিলেন প্রকৃতিতে wanton নিষ্ঠুরতা এবং দানবীয়তার ব্যাপারে। সেগুলোর ব্যাপারেও ভাবুন। এছাড়া, মানবদেহেও বেশকিছু অপ্রয়োজনীয় অংগ আছে যেগুলো কোনো কাজে লাগে না - এদেরকে বলে ভেস্টিজিয়াল স্ট্রাকচারস। এ্যাপেনডিসাইটিসের নাম সবাই জানি - এই এ্যাপেন্ডিক্স তেমন কোনো কাজে আসে না (তবে কিছুদিন আগে এক ভারতীয় ডাক্তার কিছু উপযোগীতা খুঁজে পেয়েছিলেন - তবে ভারতবাসী ভারতীয় গবেষকদের খবরটবর একটু যাচাই করে নিতে হয়)। আমাদের কোমরের পেছনে কক্সিক্স নামে কিছু পিচ্চি হাড় আছে - এগুলো প্রিমিটিভ লেজের অবশিষ্টাংশ। তেমনি আক্কেল দাঁত - কোনো কাজে তো আসেই না, বরং জীবন বিতৃষ্ণ করে দেয় (কিছুদিন আগে এই নারকীয় ঝড় ঝাপটা গেছিলো আমার উপর দিয়ে)। আমাদের দেহের নাক, কান, চোখেও কিছু অপ্রয়োজনীয় পার্টস আছে যেগুলো আমরা ব্যবহার করি না।

ঈশ্বর যদি সব কিছু পার্ফেক্ট করে সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে জগতে এত ইমপার্ফেক্সন, এত দু:খ দুর্দশা কেন? অলমাইটি, অল-নোয়িং, অল-পাওয়ারফুল, অল-পার্ফেক্ট, অল-গুড ঈশ্বরের সৃষ্ট পৃথিবীতে এত অত্যাচার-অনাচার কেন বিরাজমান?

বিষয়টাকে এত সহজে উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই।

প্রথমে আসি চোখ আর ক্যামেরা নিয়ে। আমাদের চোখ যদি লক্ষ বছরের বিবর্তনের কারনে এর রকম হয়ে থাকে, ক্যামেরাও কি নয়? ক্যামেরা বা ঘড়ি তো আর এমনি শূণ্য থেকে আসেনি। কিছু দলাপাকন খনিজ লোহা আর প্লাস্টিককে একটা পক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত করে ক্যামেরায় পরিনত করা হয়েছে। এখন কে করেছে পরিবর্তন- মানুষ। মানুষের সহোযোগিতা ছাড়া এমনি এমনি কি লোহা ক্যামেরার অংশে পরিনত হতে পারত? এখন চাইলে আমরা বলতেই পারি চোখ পরিবর্তিত হয়েছে কারও ইশারায়।

অলমাইটি, অল-নোয়িং, অল-পাওয়ারফুল, অল-পার্ফেক্ট, অল-গুড ঈশ্বরের সৃষ্ট পৃথিবীতে এত অত্যাচার-অনাচার কেন বিরাজমান?
ধরি আমি একজন ঈশ্বরে বিশ্বাসী। তাহলে আমার মতে ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন শুধু মাত্র মানুষ সৃষ্টি করবেন বলে। বাকি পশু পাখি যাবতিয় মানুষের জন্যই তৈরী করা।

এখন মানুষ কেন সৃষ্টি করা হোল আর কেনই বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এত নিষ্ঠুরতা?
ঈশ্বর মানুষে সৃষ্টি করেছেন সৎকর্মে কে এগিয়ে তা পরীক্ষা করার জন্য। বলা হয় দুনিয়া আমাদের জন্য পরীক্ষা ক্ষেত্র। এখানে বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর সমস্যা রেখে মানুষকে চিন্তা ও কাজের স্বাধীনতা দিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসলে পরীক্ষা করা হচ্ছে আমরা কে কতটা এগিয়ে। সবাইকে যদি নিখুত ভাবে তৈরী করা হতো, আর কোন প্রতিকুলতাই না থাকত তাহলে পরীক্ষার কি দরকার ছিল।

আর একটা বিষয় ঈশ্বর মানুষকে তার খলিফা বা প্রতিনিধি হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। এখন প্রতিনিধি হিসাবে কাজ কি? ঈশ্বরের উপাসনা আর তার সৃষ্টির দেখাশনা (হক্কুল্লাহ আর হক্কুল ইবাদ)। ঈশ্বরের যা দায়িত্ব তার একটা নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত আমাদের দিয়ে বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

ভাবুন বিকলাংগ শিশুর কথা, যে জন্ম থেকেই শারিরীক অক্ষমতায় জর্জরিত - তাও যদি বেঁচে থাকে আরকি। অথবা আপনার আরেকটু "ভাগ্যবান" বয়স্ক আত্মীয়স্বজনের কথা ভাবুন, চিন্তা করুন তাদের অনবরত পীড়িত করতে থাকা বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়াবিটিস, ক্যান্সার, স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ইত্যাদির ব্যাপারে।

ইনাদের দেখা শুনা করাটাও কিন্তু প্রতিনিধির কাজ। আর একটা বিষয়,  বিকলাংগ শিশুর সক্ষমতা কতটা হতে পারে তা হকিংসের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। তার অবদান আমার মত কোটি কোটি মানুষের চেয়ে বেশি। কাজেই এধরনের যুক্তি কিছুটা হাস্যকরও বটে।

একজন ছাত্র যে বুয়েটে চান্স পেতে চায় সে তার হাজারও প্রতিকুলতার মধ্যে ভাল ভাবে প্রস্তুতি নেয় চার /পাঁচ বছর ধরে। কারণ পরীক্ষায় ভাল করলে বুয়েট লাভ। ঈশ্বরের পরীক্ষার ০-১৫০ বছরের। পাশ করলে অসীম বছরের পুরষ্কার।


আর একটা কথা, অধিকাংশ ঈশ্বরের বিশ্বাসীরা ঈশ্বরের উপাশনা করাকেই শেষ দায়িত্ব বলে মনে করেন। তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে যে কিছু করার আছে সৃষ্টির সেবায়, সেটা সব সময় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এটা আসলে কাষ্টমাইজড ঈশ্বরে বিশ্বাস বলে মনে হয় আমার কাছে। তার চেয়ে আমি অনেক তথাকথিত নাস্তিককে দেখেছি সৃষ্টির সেবা করতে পরম  মমতা আর আন্তরিকতার সাথে।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

৪০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৯-০৭-২০১২ ০১:০০)

Re: কিছু অলৌকিক ঘটনা ও ঈশ্বরবাদ : হুমায়ূন আহমেদ

আরণ্যক লিখেছেন:

ক্যামেরা বা ঘড়ি তো আর এমনি শূণ্য থেকে আসেনি। কিছু দলাপাকন খনিজ লোহা আর প্লাস্টিককে একটা পক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত করে ক্যামেরায় পরিনত করা হয়েছে। এখন কে করেছে পরিবর্তন- মানুষ। মানুষের সহোযোগিতা ছাড়া এমনি এমনি কি লোহা ক্যামেরার অংশে পরিনত হতে পারত? এখন চাইলে আমরা বলতেই পারি চোখ পরিবর্তিত হয়েছে কারও ইশারায়।

আর সেই ইশারাটিকেই বলা হচ্ছে বিবর্তন।

আরণ্যক লিখেছেন:

ধরি আমি একজন ঈশ্বরে বিশ্বাসী। তাহলে আমার মতে ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন শুধু মাত্র মানুষ সৃষ্টি করবেন বলে। বাকি পশু পাখি যাবতিয় মানুষের জন্যই তৈরী করা।

আরণ্যক লিখেছেন:

এখন মানুষ কেন সৃষ্টি করা হোল আর কেনই বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এত নিষ্ঠুরতা?
ঈশ্বর মানুষে সৃষ্টি করেছেন সৎকর্মে কে এগিয়ে তা পরীক্ষা করার জন্য। বলা হয় দুনিয়া আমাদের জন্য পরীক্ষা ক্ষেত্র। এখানে বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর সমস্যা রেখে মানুষকে চিন্তা ও কাজের স্বাধীনতা দিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসলে পরীক্ষা করা হচ্ছে আমরা কে কতটা এগিয়ে। সবাইকে যদি নিখুত ভাবে তৈরী করা হতো, আর কোন প্রতিকুলতাই না থাকত তাহলে পরীক্ষার কি দরকার ছিল।

আর একটা বিষয় ঈশ্বর মানুষকে তার খলিফা বা প্রতিনিধি হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। এখন প্রতিনিধি হিসাবে কাজ কি? ঈশ্বরের উপাসনা আর তার সৃষ্টির দেখাশনা (হক্কুল্লাহ আর হক্কুল ইবাদ)। ঈশ্বরের যা দায়িত্ব তার একটা নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত আমাদের দিয়ে বিভিন্ন প্রতিকুলতা আর অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

আপনার এই ব্যাখ্যাটি আইরিনিয়ান থিওডিসি নামে পরিচিত। প্রায় ১৭০০ বছর আগে সেইন্ট আইরিনিয়াস এই ধারণা প্রচলন করেন। সংক্ষেপে, পুরো ব্লেইমটা তিনি সৃষ্টিকর্তার উপর থেকে শিফট করে মানুষের উপর চাপিয়ে দেন। গড ইজ অল-মাইটী, অল-গুড, অল-লাভিং, অল-কেয়ারিং, তিনি যা করেন মানুষের শুধুমাত্র ভালোর জন্যই করেন। কিন্তু মানুষ বেসিকালী খারাপ, ধূর্ত, চতুর, উইকেড, হাড়বজ্জাত - তাই জগতে যত অনিষ্ট ঘটছে, সব তার নিজের দোষে, মানুষের কারণেই। (আইরিনিয়ান থিওডিসি-রও কাউন্টার আর্গুমেন্ট আছে, তবে সেটা এখানে আলোচনা করা অফটপিক হয়ে যাবে। আগ্রহীরা "প্রবলেম অব ইভিল" দিয়ে গুগল করলে পাবেন)

যতটুকু আইডিয়া পেয়েছি, ইসলামের প্রাথমিকযুগে এই থিওডিসিটা ছিলো না। আর্লী ইসলামিক গড (আল্লাহ) ছিলেন জুডাইজমের ইয়াহওয়েহ-র মত। ভালো খারাপ যাই ঘটুক সবই আল্লাহ ঘটাচ্ছেন - ঐ সময়কার ইসলামিক থিওলজিস্টরা কোনো ঘটনার পেছনে কারণ বা রিজনিং খুজতেন না। ফসল ভালো হলেও আল্লাহর কৃপা, আবার কুষ্ঠরোগ হলেও আল্লাহর গজব। যা ঘটছে তা কেন  ঘটছে তা সম্পর্কে শুধু তিনিই অবগত আছেন, মানুষের জানার চেষ্টা বৃথা। ইভানজেলিকাল খ্রীস্টানদের প্রভাবে এটা সম্ভবত: ইসলামে লেট ইমপোর্ট।

আমি ব্যক্তিগতভাবে এই থিওডিসি যৌক্তিক মনে করি না।

আরণ্যক লিখেছেন:

ইনাদের দেখা শুনা করাটাও কিন্তু প্রতিনিধির কাজ। আর একটা বিষয়,  বিকলাংগ শিশুর সক্ষমতা কতটা হতে পারে তা হকিংসের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। তার অবদান আমার মত কোটি কোটি মানুষের চেয়ে বেশি। কাজেই এধরনের যুক্তি কিছুটা হাস্যকরও বটে।

একজন ছাত্র যে বুয়েটে চান্স পেতে চায় সে তার হাজারও প্রতিকুলতার মধ্যে ভাল ভাবে প্রস্তুতি নেয় চার /পাঁচ বছর ধরে। কারণ পরীক্ষায় ভাল করলে বুয়েট লাভ। ঈশ্বরের পরীক্ষার ০-১৫০ বছরের। পাশ করলে অসীম বছরের পুরষ্কার।


হকিনস বিকলাংগ হিসাবে জন্ম গ্রহণ করেন নি। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ শরীরে ছিলেন। তরুণ বয়সে (সম্ভবত: ২৫+) তিনি মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হন।

আরণ্যক ভাই, আপনি জানেন আপনি খুব লাকী? আপনাকে কখনো কোনো নবজাতকের মৃত্যু দেখতে হয়নি। কার্ডিওলজীতে ইন্টার্ণশীপের সময় আক্ষরিক অর্থে আমার হাতের মুঠোয় একটি শিশুকে তিলে তিলে মরতে দেখেছি। ঠিক কি কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ ছিলো এখন মনে নাই, তবে এক-দেড় সপ্তাহ বয়স ছিলো শিশুটির, খুব আন্ডারওয়েট ছিলো এটা মনে আছে - পুরো শরীরটা হাতের তালুতে ধরা যেত।  ম্যানেজ করতে না পেরে  আমাদের কাছে (মরার জন্য) ট্রান্সফার করে দিয়েছিলো নিওনেটাল ওয়ার্ড থেকে। স্পষ্ট মনে আছে শিশুটিকে নি:শ্বাস নিতে লিটেরালী স্ট্রাগল করতে হচ্ছিলো। শিশুটি প্রতিটি নি:শ্বাসে একটু একটু করে যাকে বলে drifting apart... লাইফসাপোর্টের দায়িত্বে থাকায় আমি বাচ্চাটির ছোট্ট শরীর দুইহাতে ধরে অক্সিজেন মাস্ক-টিউব চেপে ধরে ছিলাম, দেখতে পাচ্ছিলাম ওর পাঁজরের পাতলা চামড়া রিবসের ফাঁকে ঢুকে যাচ্ছিলো প্রতি শ্বাসের প্রচেষ্টায়। পৃথিবীতে মাত্র ৮-১০ দিন বেঁচে ছিলো বাচ্চাটা - জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডই ছিলো তার কাছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। আমার মনে আছে, বাচ্চাটার স্ট্রাগল দেখতে দেখতে আমি মনে মনে ভাবছিলাম this is as real as it can get. আমার নিজেরই এ্যাযমার রোগ আছে - মুক্ত শ্বাস নেয়াটা যে মাঝে মাঝে কত কষ্টকর তার ফার্স্ট হ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স আছে, তবুও বেচে থাকার জন্য ৮/৯ দিন বয়সী শিশুটির ম্যাসিভ স্ট্রাগল দেখে নিজেকে চুনোপুটি মনে হচ্ছিলো।

সে প্রায় ৮-৯ বছর আগের কথা। এখনো শিশুটির চেহারা চোখে ভাসছে, একটু ইমোশনাল হয়ে পড়ছি এখনো লিখতে গিয়ে। এর আগে-পরেও বহু লোককে মরে যেতে দেখেছি - তবে শিশুটির মত কেউ মনে আচঁড় কাটেনি।

আপনি যেদিন চোখের সামনে কোনো নিষ্পাপ শিশুকে কোনো কারণ ছাড়াই তিলে তিলে মরে যেতে দেখবেন, সেদিন এসে দাবী তুলতে পারেন "এসব প্রশ্ন হাস্যকর" - তার আগে আপনার কোনো ব্যাখ্যাই গ্রাহ্য করছি না। নো স্যার! নো ওয়ে!  shame

আমার ধারণা, আপনি তৎক্ষণাৎ এসব বুলক্র্যাপ থিওডিসি জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন। আপনার সারা জীবন সামনে পড়ে আছে। এরকম গেইম চেন্জিং এক্সপেরিয়েন্স আপনার লাইফেও আসবে। একটা ব্যাপার নিশ্চিৎ বলতে পারি, এ ধরণের ক্রাইসিস দিয়ে যখন আপনার ব্যাপটিযম হবে - আপনি আর আপনি থাকবেন না। thumbs_up

আমি অবশ্য আপনার চেয়ে ভীতুই ছিলাম। ডিপ্রেশন কাটানোর জন্য স্বান্তনা দিচ্ছিলাম যাক, ভালোই হয়েছে বাচ্চাটা মরে গিয়ে। হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে, শালার টোকাইফোকাই ছাড়া আর কিইবা ঘোড়ার ডিম হতে পারতো? দেশের জনসংখ্যার যা অবস্থা, আগেভাগেই যতবেশি ঝরে যায় ততই ভালো। গড ইয গ্রেট।

Calm... like a bomb.