সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইলিয়াস (১০-০৭-২০১২ ১৭:২০)

টপিকঃ বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

আগের পর্বে কিয়দংশঃ বিক্রমপুরের নাম উৎপত্তি সম্বন্ধে বিপ্রকুল কল্পলতিকীয় বলা হয়েছে সেন বংশীয় পূর্বপুরুষ নিভুজ সেন, বীর সেন প্রভৃতি রাজারা দক্ষিণাত্য হতে বঙ্গে আগমন করে এবং তাদের বংশধর বিক্রম সেনই বিক্রমপুর পরগনার স্থাপয়িত।

ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর পঞ্চম রিপোর্টে বলে হয়েছে বল্লাল পৌত্র বিশ্বরূপ সেনের রাজত্বের শেষ সময় বিক্রমপুর শাসনের (বর্তমানের পরগনার ন্যায় বিভাগ) সৃষ্টি হয় এবং সে সময় বিক্রমপুরে একটি স্বতন্ত্র সনও চালু ছিল।

তখন পশ্চিমে পদ্মা, পূর্ব-উত্তর ধলেশ্বরী, দক্ষিণে আড়িয়াল ও কৃষ্ণসলিল মেঘনাদ নদের সাগরের অংশবেষ্টিত চতুর্সীমানাই বিক্রমপুর নামে পরিচিত ছিল। কালীগঙ্গা নদীর উত্তাল স্রোত বিক্রমপুরের পল্লী নগরগুলোকে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের কাছে মোহনীয় করে তুলেছিল। মহারাজ বল্লাল সেন প্রাচীন বাংলাকে বারেন্দ্র, রাগরী, রাঢ় বঙ্গ ও মিথিলা পাঁচভাগে বিভক্ত করে। বর্তমান সময়ে বিক্রমপুর পরগনার অধিকাংশ স্থান ঢাকা, ত্রিপুরা, ফরিদপুর, নোয়াখালী চার জেলাতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পূর্বে ইদিলপুর বাকলার অন্তর্গত, সন্দীপ ও সাবাজপুর ফতেয়াবাদের অন্তর্গত ও বিক্রপুরে, কার্তিকপুর, চাঁদপুর ইত্যাদি পরগণাগুলো সোনারগাঁয়ের অন্তর্গত ছিল। এখন রাজনৈতিক পরিবর্তন ও কীর্তিনাশা পদ্মা বিক্রমপুরকে উত্তর ও দক্ষিণে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। মূলফতৎগঞ্জ (পরে নদীর ভাঙ্গন) নড়িয়াতে পরিবর্তন করা হয়। পালং ও শিবচর থানা নিয়ে ৪৮৫ টি গ্রামসহ দক্ষিণে বিক্রমপুর এবং রাজবাড়ী মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর থানা নিয়ে উত্তর বিক্রমপুর গঠিত হয়। তিনশ বছর পূর্বে কীর্তিনাশা পদ্মা বিক্রমপুরের অসংখ্যা সবুজবেষ্টিত পল্লী, দেবমন্দির, মঠ ও প্রাচীন শিল্প র্কীতি ধ্বংস করেছে যা নির্ণয় করা দুস্কর।

মহারাজা আমাদের সময় থেকেই বঙ্গদেশে বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। পাল রাজবংশ দশম শতাব্দী থেকে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিক্রমপুর শাসন করে। দ্বিতীয় শূরপালের (১০৭৮ – ১০৯১) রাজত্বকালের পর তার সহোদর রামপাল (১০৯১ – ১১০৩) সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং তার নামানুসারে বিক্রমপুরস্থ রামপাল গ্রাসও তার সময়ে প্রতিষ্ঠিত বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। পালবংশীয় রাজাদের মদ্যে বঙ্গদেশে তালিপাবাদ পরগনার মাধবপুরে যশোপাল, ভাওয়ালের কাপাসিয়ায় শিশুপাল এবং সাভারের নিকটস্থ কাঠালবাড়ীতে হরিশচন্দ্রের রাজত্ব রংপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বিক্রমপুর রামপালে আজও কালের সাক্ষী রাজা হরিশচন্দ্রের দীঘির অস্তিত্ব বিদ্যামান।

ঐতিহাসিক আর সি মজুমদারের মতে হরিশচন্দ্রের বংশেই বৌদ্ধ রাজা মানিক চন্দ্র ও গোবিন্দ্রচন্দ্রের শাসনামলে ৯৮০ সালে বিক্রমপুরস্থ বজ্রযোগিনী গ্রামে বৌদ্ধ বাঙালী পন্ডিত শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম কল্যাণশ্রী ও মাতার নাম প্রভাবতী। অতীশ ছেলেবেলায় আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ নামে পরিচিত ছিল। তিনি শৈশবে মায়ের কাছে বিদ্যালাভ করেন। সে সময়ে প্রখ্যাত বৌদ্ধ পন্ডিত অবধূত দেত্যারির কাছে পাঁচটি প্রধান বিজ্ঞানে বিদ্যালাভ করেন। তিনি বাংলা তথা বিক্রমপুর আর চীনের মধ্যে হাজার বছর আগে মৈত্রীর সেতু রচনা করেছেন। আজও তিববতীয় লামাগণ এই বাঙালী মহামুনির সমাধিতে এক বিশেষ দিন ধূপদীপ বাদ্যযন্ত্রসহ মন্ত্রোচ্চারণ করে অর্ঘ প্রদান করেন। বৌদ্ধের মূর্তির সাথে দীপঙ্করের বন্দনা ও অর্চনা করে থাকেন। দীপঙ্কর ১৭৫ টি গ্রন্থ রচনা করেন। আজকের মত দীপঙ্কর শুধুমাত্র বুদ্ধিজীবী লেখকই ছিলেন না। তিনি খন্ডিত জ্ঞানের সাধনা করেন, সমগ্র জ্ঞানের সাধনা তাকে মহাপন্ডিত করেছে। পরিচালক ও প্রশাসক হিসেবে দীপনুরের প্রতিভা ছিল প্রশ্নাতীত যা সাধারন কোন ধর্মীয় নেতার থাকে না। একই সময়ে ৫১ জন আচার্য ও ১০৮ টি মন্দিরের সেবা ও রক্ষার দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি শুধু ধর্ম সম্বন্ধীয় পুস্তক রচনাই করেননি, চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়েও বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন বহু ভাষাবিদ, প্রকৌশলী ও শব্দ বিজ্ঞানী। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নালন্দা ও বিক্রমশীল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষপদ অলংকৃত করেছেন বাঙালী দীপঙ্কর ও আচার্যশীল ভদ্র। এই দুই বাঙালী ছিলেন বিক্রমপুরের গৌরব। অতীশ দীপঙ্কর তিববতে অক্লান্ত পরিশ্রম করায় তার দেহ ভেঙে পড়ে। অবশেষে ১০৬৪ সালে তিয়াত্তর বছর বয়সে লাম নগরীর অদূরে লেথাঃ অঞ্চলে তারই নির্মিত তারা দেবীর মন্দিরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মহাজ্ঞানী মহাজনের হাজার বছর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৮২ সালে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পন্ডিত ব্যাক্তিবর্গ বিক্রমপুরের সেই অজেয় পল্লী বজ্রযোগিনী গ্রামের ভিটায় সমবেত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বৌদ্ধপাল রাজাদের সময় বিক্রমপুরের মেয়েরা স্বাধীনভাবে চলাচল করতো। ‘দোলায় আসি ঘোড়ায় যাই’ প্রভৃতি উপকথার মধ্যে সেই আধুনিক বিলাসিতার জন্যে মেয়েরা ঘাগরা, কাচুলি, বানারসী শাড়ি, পাট ও পশমীর বস্ত্রাদি পরিধান করতো। অলংকারের মধ্যে শাঁখা, অঙ্গুরি, কংকন, কেয়ূর, হার বেসর, কুত্তল, নূপুর, নোলক, একছানা, পৈছি গুরজী, বেকী, তোড়ল ইত্যাদি বেশি ওজনের জিনিসপত্র ব্যাবহার করতো। পাল রাজাগণ বিক্রমপুরে বৌদ্ধধর্ম ও শিক্ষা বিস্তারে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়েছিল। প্রতি গ্রাম থেকে পুকুর ও দীঘি ইত্যাদি খননে প্রাপ্ত নানা প্রকার প্রস্তরখচিত বুদ্ধদেবের মূর্তিসমূহ থেকেই তা অনুমান করা যায়। পদ্মা ধ্যানস্থ বৌদ্ধের সৌম্য মূর্তিগুলো পালরাজাদের শিল্প কৌশলের নিপুণতার সাক্ষীস্বরূপ। পালরাজারা শিক্ষা বিস্তারের জন্য বিক্রমপুরের সবর্ত্র টোল ও চতুম্পাটিতে অধ্যয়নের ব্যবস্থা করেছিলো। বৈদিক যুগের সভ্যতায় ন্যায় গুরুগৃহে শিক্ষাদানের রীতি প্রচলিত ছিল। পালরাজত্বের সময় বঙ্গদেশ ভুক্তি মওলক এবং মন্ডালিকাসমূহ শাসন বিভক্ত ছিল। তৎকালে বিক্রমপুরে রাজকর স্বরূপ ভূমি মালিকদের কাছ থেকে উৎপন্ন শস্যের এক ষষ্ঠাংশ গ্রহণ করা হতো। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য রাজার অধীনে প্রধান পুরোহিত,সেনাপতি, প্রধান প্রধান শান্তিরক্ষক ও প্রধান সভাষদসহ বিভিন্ন উচচ কর্মচারী নিয়োগ করা হতো।

সুত্র

{চলবে}

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

পড়লাম। আচ্ছা, শেষ পাল রাজা যানি ছিলেন, তিনি মনেহয় ইখতিয়ারউদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী এবং তার মাত্র সতেরো জনের সম্মুখ সৈন্যদলের নিকট, নদীয়ায় পরাজিত হয়ে পলায়ন করেছিলেন। আমি কি ঠিক বললাম? আরো একটি কথা।

বিক্রমপুরের পোলা, আশি টাকা তোলা।

এই কথাটা উদ্ভবের পিছনের ইতিহাস কি জানা আছে?

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

এই কথাটা উদ্ভবের পিছনের ইতিহাস কি জানা আছে?

আমার জানে নেই ভাই ! আপনার নিশ্চয় জানা আছে smile শেয়ার করুন প্লিজ।  hug

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (১০-০৭-২০১২ ১৯:০৮)

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

পড়লাম। আচ্ছা, শেষ পাল রাজা যানি ছিলেন, তিনি মনেহয় ইখতিয়ারউদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী এবং তার মাত্র সতেরো জনের সম্মুখ সৈন্যদলের নিকট, নদীয়ায় পরাজিত হয়ে পলায়ন করেছিলেন। আমি কি ঠিক বললাম?

অবশ্যই ঠিক বলেছেন।
টেকনিক্যালি তারা পরাজিত হয়নি। কারন রাজা এবং মূল সেনা দল যুদ্ধ না করেই পালিয়ে যায়। সব কাপুরুষের দল! আমি নিজেও মুন্সিগঞ্জের মানুষ... নাহয় আরো কিছু বলতাম।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (১০-০৭-২০১২ ২০:১৮)

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

সদস্য_১ লিখেছেন:

টেকনিক্যালি তারা পরাজিত হয়নি। কারন রাজা এবং মূল সেনা দল যুদ্ধ না করেই পালিয়ে যায়। সব কাপুরুষের দল! আমি নিজেও মুন্সিগঞ্জের মানুষ... নাহয় আরো কিছু বলতাম।


ইতিহাসে সবসময়ই মনেহয় একটু বেশি হাইপ দিয়ে লিখে। ছোটবেলায় খিলজী সাহেবের বাংলা বিজয়ের কাহিনী পড়ে খুবই আবাক লাগতো। কিভাবে সম্ভব? মাত্র ১৭জন নিয়ে পুরো বাংলা বিজয়!! আসল কাহিনী মনেহয় এইরকম। বিশাল সৈন্যদলের শুধুমাত্র সম্মুখ ভাগ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খিলজী সাহেব। বাকী দল বেশ পিছনে ছিলো এবং সংখ্যায়ও অনেক বেশি ছিলো। পাল রাজাদের ইনফরমাররা আগেই সেই বিশাল সৈন্যদলের খবর ওনাদের দেয়ায় ওনারা যুদ্ধ করার হিম্মত করেন নাই। পালিয়ে গিয়েছিলেন। মাঝখান থেকে খিলজী সাহেব বাজি মেরে দিয়েছেন lol
@ইলিয়াস ভাইঃ সিরিয়াসলী জানিনা। একটা নাটকে প্রথম শুনি কথাটা। তাই জানতে চেয়েছি এর পিছনে কি কোন ইতিহাস আছে কিনা।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

সেটা বড় কথা না... ব্যাটা রাজ হয়েছিস যুদ্ধ করে রাজার মত মড়! প্রজাদের কথা না হয় নাই ভাবলি... নিজের রাজ প্রাসাদ এবং আমোদ প্রমোদের কথা ভাব। হয় এসব ভোগ করবি না হয় যুদ্ধ করে মাড়া যাবি। রাজ দরজা খোলা রেখে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া এটা কেমন কথা।

শুধুযে পাল রাজা তানয় বাঙালী রাজার এই অভ্যাস আরো আগেথেকেই।
এক বার সবচেয়ে পুরোনো বাঙালী রাজা কে ছিল সেটা বের করার শখ হল। একটা অনার্সের ইতিসাহ বই ঘাটতে বসলাম (বইয়ের নাম ভুলে গেছি তাই কোন রেফারেন্স দিতে পারবনা, শুধু স্মৃতি থেকে বলছি) খুজতে খুজতে সবচেয়ে আগের রেফারেন্স পেলাম "সম্রাট চাচ" (যতটুকু মনে আছে নামটা "চাচ") ৫'শ সতাব্দী। সেই সম্রাট চাচ ও তার রাজত্ব ছেড়ে পলায়ন করেছিল। এক ওলোন্দাস বনিকের হুমকিতে। ভারত সাগের বনিকের জাহাজ জলদস্যুদের দ্বারা লুট হয় এবং বনিক রাজার কাছে ক্ষতিপুরন চেয়ে হুমকি দেয়... তাতেই রাজা রাজত্ব ছেরে পালায়। (অন্য কেই সুত্রটা জানলে বইএর নামটা জানাবেন)

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

এই ভাবে সব জ্হেলা নিয়া জানালে ভালো হবে অনেক

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

সদস্য_১ লিখেছেন:

একটা অনার্সের ইতিসাহ বই ঘাটতে বসলাম (বইয়ের নাম ভুলে গেছি তাই কোন রেফারেন্স দিতে পারবনা, শুধু স্মৃতি থেকে বলছি) খুজতে খুজতে সবচেয়ে আগের রেফারেন্স পেলাম "সম্রাট চাচ" (যতটুকু মনে আছে নামটা "চাচ") ৫'শ সতাব্দী। সেই সম্রাট চাচ ও তার রাজত্ব ছেড়ে পলায়ন করেছিল। এক ওলোন্দাস বনিকের হুমকিতে। ভারত সাগের বনিকের জাহাজ জলদস্যুদের দ্বারা লুট হয় এবং বনিক রাজার কাছে ক্ষতিপুরন চেয়ে হুমকি দেয়... তাতেই রাজা রাজত্ব ছেরে পালায়। (অন্য কেই সুত্রটা জানলে বইএর নামটা জানাবেন)

তথ্যটা জানা ছিল না। ধন্যবাদ সদস্য ভাইকে।

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

ইলিয়াস ভাই অনেক তথ্য জানতে পারলাম।আচ্ছা ইলিয়াস ভাই
বিক্রমপুরে কি আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক বেশি বাস করত বা এখনও করে কিনা?আর অতীশ দীপঙ্কর , ব্রজেন দাস,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়,জগদীশ চন্দ্র বসু এরা সবাই কি বিক্রমপুরের?যদি এরা বিক্রমপুরের হয় তাহলে তো বলায় যায় বিক্রমপুরে বেশ বিখ্যাত ব্যাক্তিদের স্থান।

অন্যের কাছ থেকে যে ব্যবহার প্রত্যশা করেন আগে নিজে সে আচরন করুন।

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

সেজান লিখেছেন:

বিক্রমপুরে কি আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক বেশি বাস করত বা এখনও করে কিনা?

হুম সেজান । এখনো বিক্রমপুরে অনেক হিন্দুর বাস। আরেকটা বিষয় আমাদের অঞ্চলে হিন্দুরা বেশ ভালই আছে। আমর গ্রামে শতকরা 50জন হিন্দু আছে।

সেজান লিখেছেন:

?আর অতীশ দীপঙ্কর , ব্রজেন দাস,শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়,জগদীশ চন্দ্র বসু এরা সবাই কি বিক্রমপুরের?যদি এরা বিক্রমপুরের হয় তাহলে তো বলায় যায় বিক্রমপুরে বেশ বিখ্যাত ব্যাক্তিদের স্থান।

এ বিষয়ে তুমি আমার এ টপিকটা পড়তে পারো।

১১

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

বাংলাদেশ সব সময়েই বিখ্যাত ব্যক্তিদের স্থান। বিখ্যাত অর্থাৎ মেধাবীরা এদেশে জন্ম নেয় ঠিকই, কিন্তু মেধাচর্চা করতে না পেরে সবাই দেশ ছেড়ে পালায়। এদেশটা ঠিক মেধাবীদের জন্য নয়। আমার খুব প্রিয় একজন স্যারের কথা বলতে পারি - ড. আশরাফ দেওয়ান। ঢাবি'তে যখন ছিলেন তিনি নিজের ডিপার্টমেন্ট থেকে কোন পেপার পাবলিশ করতে পারেন নি পি.এইচ.ডি শেষে দেশে এসে। কারণ তিনি যদি পরিশ্রম করে ভাল কাজ করেন তাহলে অন্য শিক্ষকদেরও (যারা ৯৯.৯৯% অকর্মা) পরিশ্রম করতে হবে। ফলে তারা যা করলেন মেয়ে ঘটিত বানোয়াট একটা অভিযোগ স্যারের নামে করলেন। স্যার অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেলেন কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে। কার্টিন স্প্যাশিয়াল সায়েন্সে বিশ্বে প্রথম পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি। এখন তার ৩০টিরও বেশি পিয়ার-রিভিউড জার্নাল পেপার আছে।

অনটপিক: এই টপিকটাও বৌকে না দেখিয়ে চুপিচুপি পড়ে ফেললাম। নতুন তথ্য জেনে ভাল লাগল।

কত কি শিখতে ইচ্ছা করে। এখনও শেখা হলো না কিছুই।

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ২পর্ব

cslraju লিখেছেন:

এই টপিকটাও বৌকে না দেখিয়ে চুপিচুপি পড়ে ফেললাম। নতুন তথ্য জেনে ভাল লাগল।

ভাবী যে বিক্রমপুরের এটা নিশ্চিত বুঝা গেল smile তা রাজু ভাইয়ের হোম ডিস্ট্রিক্ট কোন টা ?