টপিকঃ মেরাজ এর ঘটনা-শেষ পর্ব

আগের পর্ব- মেরাজের ঘটনা-৩ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৬১

মেরাজের বিবরণ আল্লাহ তাআলা কোরআনুল করিমে উল্লেখ করেছেন।

নবীদের ব্যাপারে এটাই হচ্ছে আল্লাহর সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন,”এবং এভাবেই আমি ইব্রাহিমকে আসমান জমিনের রাজ্য ব্যবস্থাপনা দেখিয়েছি যাতে, সে বিশ্বাসীদের অর্ন্তভুক্ত হয়ে যায়।“

আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা (আঃ) কে বলেছিলেন, “তাহলে আমি তোমাকে আমার বড় কিছু নিদর্শন দেখাব।“
এসব দেখানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে, তারা যেন বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে। এ কথাও আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। নবীরা আল্লাহ তাআলার নিদর্শন সরাসরি প্রত্যক্ষ করায় তাদের বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয়। ফলে তারা আল্লাহর পথে মানুষকে দাওয়াত দিতে গিয়ে এমন সব দুঃখ এবং কষ্ট নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করতে পারেন, যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের দৃষ্টিতে পার্থিব জগতের যাবতীয় শক্তিই মনে হয় তুচ্ছ। এ কারণে তারা কোন শক্তিকেই পরোয়া করেন না। মেরাজের ঘটনায় ছোট খাট বিষয় এবং এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে শরীয়তের বড় বড় কিতাবে আলোচনা রয়েছে। তা হতে প্রধান প্রধান কয়েকটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় এই যে, আল্লাহ তাআলা কোরআনে মাত্র একটি আয়াতে মেরাজের ঘটনা উল্লেখ করেই ইহুদিদের দুস্কৃতির কথা বর্ণনা করেছেন। এরপর তাদের জানিয়েন যে, এই কোরআন সেই পথেরই হেদায়াত দিয়ে থাকে, যে পথ সঠিক এবং সরল। কোরআন পাঠকারীদের মনে হতে পারে যে, উভয় কথা সম্পর্কহীন, কিন্ত আসলে তা নয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর বর্ণনা ভঙ্গিতে এই ইশারাই দিয়েছেন যে, এখন থেকে ইহুদিদের মানব জাতির নেতৃত্বের আসন থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। কেননা এসব ইহুদী এমন ভয়াবহ অপরাধ করেছে যে, নেতৃত্বের যোগ্যতা তাদের আর নেই। কাজেই এই দায়িত্ব ও মর্যাদা এখন থেকে মহা নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রদান করা হবে এবং দুঃসাহসী দাওয়াতের উভয় কেন্দ্রকে তাঁর নিয়ন্ত্রানাধীন করা হবে। জুলুম, অত্যাচার এবং বিশ্বাসঘাতকতায় কলন্কিত ইতিহামের অধিকারী একটি উম্মতের কাছ থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নিয়ে এমন একটি উম্মতকে দেয়া হবে, যাদের মাধ্যমে কল্যাণের ঝর্ণাধারা উৎসারিত হবে। এই উম্মতের পয়গম্বর ওহীর মাধ্যমে কোরআনে করিম পেয়েছেন। এই কোরআন মানব জাতিকে সর্বাধিক হেদায়েত দান করেছে।

কিন্ত এই নেতৃত্বের পূর্ণতা কিভাবে সাধিত হবে ? ইসলামের নবীতো মক্কার পাহাড়ে লোকদের কাছে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এটি একটি প্রশ্ন। এই প্রশ্ন অন্য একটি সত্যের পর্দা উম্মোচন করেছে। ইসলামের দাওয়াত একটা পর্যায় অতিক্রম করার কাছে পৌঁছেছে, বর্তমানে অণ্য একটি পর্য়ায় প্রবেশ করবে। এই ধারেআ হবে অন্য ধারা থেকে ভিন্ন। এ কারণে দেখা যায় যে, কোন কোন আয়াতে পৌত্তলিকদের সুস্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেয়া হয়েছে এবং কঠোর হুমকি দেয়া হয়েছে।আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি যখন কোন জনপদ ধ্বংস করতে চাই, তখন তার সমৃদ্ধ ব্যক্তিদের সৎকাজ করতে আদেশ করি, কিন্ত তারা সেখানে অসৎ কাজ করে। তারপর তাদের প্রতি দন্ড প্রদান ন্যায় সঙ্গত হয়ে যায় এবং আমি সেটা সম্পুর্ণরুপে বিধ্বস্ত করি। (সূরা বনী ইসরাঈল-১৬)
আল্লাহ তাআলা উক্ত সূরায় আরো বলেন, নূহের পর আমি কত মানব গোষ্টিকে ধ্বংস করেছি। তোমার প্রতিপালক ই তার বান্দাদের পাপাচারের সংবাদ রাখা এবং পর্যবেক্ষনের জন্য যথেষ্ঠ।(সূরা বনী ইসরাঈল-১৭)

এ সকল আয়াতের পাশাপাশি এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যাতে মুসলমানদের ভবিষ্যত ইসলামি সমাজের রুপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তারা এমন এক ভু-খন্ডে নিজেদের ঠিকানা তৈরী করেছে, যেখানে সব কিছু তাদের নিজের হাতে ন্যস্ত। উল্লেখিত আয়াতে এমন ইশারা রয়েছে যে, আল্লাহর রসুল হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শীঘ্রই এমন নিরাপদ জায়গা পেয়ে যাবেন, যেখানে দ্বীন ইসলাম যথাযথভাবে প্রচার ও প্রসার লাভ করবে।

মেরাজের রহস্যময় ঘটনার এমন সব বিষয় রয়েছে, যার সাথে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সম্পর্ক সরাসরি বিদ্যমান। এ কারণে সেসব বর্ণনা করা দরকার। আমরা এ সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছি যে, মে’রাজের ঘটনা হয়তো বাইয়াতে আকাবার কিছুকাল আগে ঘটেছিল অথবা প্রথম ও দ্বিতীয় আকাবার মাঝামাঝি সময় ঘটেছিল। আল্লাহ তাআলাই সব কিছু ভাল জানেন।

{চলবে}

প্রথম প্রকাশ

Re: মেরাজ এর ঘটনা-শেষ পর্ব

সুন্দর ঘটনাটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইজান  smile smile

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: মেরাজ এর ঘটনা-শেষ পর্ব

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

সুন্দর ঘটনাটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইজান  smile smile

কষ্ট করে মন্তব্য করায় আপনাকেও ধন্যবাদ বোন।  hug