টপিকঃ মেরাজ এর ঘটনা-৩

আগের পর্ব- মেরাজের ঘটনা-২ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৬০

এ সময়েও প্রিয় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর “শাককুস সদর” বা সিনাচাকের ঘটনা ঘটেছিল। এ সফরের সময় তাকে কয়েকটি জিনিস দেখানো হয়েছিল। তাঁকে দুধ এবং মদ দেয়া হয়েছিল। তিনি দুধ গ্রহণ করলেন। এটা দেখে হযরত জিব্রাইল (আঃ) বললেন, আপনাকে ফেতরাত বা স্বভাবের ফল দেখানো হয়েছে। যদি আপনি মদ গ্রহণ করতেন তবে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

আল্লাহর রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারটি নহর দেখলেন। চারটি যাহেরী, আর চারটি বাতেনী। প্রকাশ্য নহর ছিল নীল এবং ফোরাত। এর তাৎপর্য সম্ভবত এই যে, তার রেসালাত নীল এবং ফোরাত সজীব এলাকা সমূহে বিস্তার লাভ করবে। অর্থ্যাৎ এখানের অধিবাসিরা বংশ পরস্পরায় মুসলমান হবে। এমন নয় যে, এ দুটি নহরের পানির উৎস জান্নাতে রয়েছে।
জাহান্নামের দারোগা মালেককে তিনি দেখলেন, তিনি হাসেন না, তার চেহারায় হাসি খুশির কোন ছাপও নেই। আল্লাহর রসুলকে বেহেশত ও দোজখ দেখানো হল।

এতিমের ধন-সম্পদ যারা অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে, নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাদের অবস্থাও দেখানো হলো। তাদের ঠোঁট ছিলো উঁটের ঠোটের মত। তারা নিজেদের মুখে পাথরের টুকরার মত মত অঙ্গার প্রবেশ করাচ্ছে আর সেই অঙ্গার তাদের গুহ্যদ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

নবী করিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদখোরদেরও দেখেছিলেন । তাদের ঠোঁট এতবড় ছিল যে, তারা নাড়াচাড়া করতে পারছিল না। ফেরাউনের অনুসারীদের জাহান্নামে নেয়ার সময় তারা এসব সুদখোরকে মাড়িয়ে যাচ্ছিল।
যেনা কারীদেরও তিনি দেখেছিলেন। তাদের সামনে তাজা গোশত এবং দুর্গন্ধময় পঁচা গোশত ছিল, অথচ তারা তাজা গোশত রেখে পঁচা গোশত খাচ্ছিল।

যেসব নারী স্বামী থাকা সত্তেও নিজ গর্ভে অণ্যের সন্তার ধারন করেছিল, প্রিয় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরও দেখেছিলেন। নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লক্ষ্য করলেন যে, ওই সব মহিলার বুকে বড় বড় কাঁটা বিধিয়ে শুন্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি মক্কার একটি কাফেলাকে দেখেছিলেন। সেই কাফেলার একটি উট পালিয়ে গিয়েছিলতিনি তাদেরকে সেই উটের সন্ধান বলে দিয়েছিলেন। ঢেকে রাখা পাত্রে পানি ছিলো, তিনি সেই পানি থেকে পান করেছিলেন। সে সময় কাফেররা সকলে ঘুমাচ্ছিল। মেরাজের রাতের পরদিন সকালে এই বিবরণ তাঁর দাবীর সত্যতার একটি প্রমাণ হয়েছিলো। বলে দিলেন অমুক সময়ে সে কাফেলা ফিরে আসবে। কাফেলা থেকে পালিয়ে যে উটটি মক্কায় ফিরে আসছিলো তিনি সে উটটির বিবরণও পেশ করলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর সব কথাই সত্য প্রমাণিত হয়। কিন্ত এতকিছু সত্তেও কাফেরদের ঘৃনা আরও বেড়ে গেল এবং তারা তাঁর কথা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালো।

বলা হয়, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) কে নবীজি সেই সময় সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিলেন। কেননা অন্য সবাই যখন অবিশ্বাস করছিলো, তিনি তখন সব কিছুইবিশ্বাস করেছিলেন।

{চলবে}
প্রথম প্রকাশ

Re: মেরাজ এর ঘটনা-৩

মেরাজের ঘটনা শেয়ার করার জন্য ভাইজানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: মেরাজ এর ঘটনা-৩

অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই  smile

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মেরাজ এর ঘটনা-৩

কষ্ট করে মন্তব্য করায় ছবিকে ও আল আমিনকে ধন্যবাদ।