টপিকঃ মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

দুঃখে শাহেদের চোখে প্রায় পানি চলে এলো। ক্ষুধায় চোখে আঁধার দেখছে, অথচ খাওয়ার কোনো উপায় নেই! ছলছল চোখে সে জানালার ফাঁক গলে তাকিয়ে রইল ডায়নিং টেবলের দিকে। ওর বউ, প্রীতু সবেমাত্র মাছ ভাজার প্লেটটা রাখল। কী সুবাস ছড়াচ্ছে গো! এই তো আজ সকালে গুচ্ছের টাকা গাপ করে পেল্লায় সাইজের ইলিশটা কিনেই ফেললো। গাদাগুলোর সরষে-বাঁটা ঝাঁল ঝোল, পেটিগুলোর কড়কড়ে মুচমুচে ভাজা – ঢোঁক গিলতে গিলতে বাড়ি ফেরার পুরো রাস্তাটাই পার হয়ে গেলো। কী করবে, শাহেদ যে খেতে বড় ভালোবাসে! আর প্রীতুর রান্নার হাতও সেই রকম! যা-ই রাঁধে, তা-ই ভালোলাগে! কতদিন ভেবেছে – হাতদু’টো সোনা দিয়ে মুড়ে দেয়া উচিত! হাতজোড়া নাকি অধরজোড়া – কোনটিতে সে এযাবৎ বেশি চুম্বন করেছে, মনেই করতে পারলো না! সে যাক গে। আজকের ছুটির দিনটা বেশ একটা রসনা বিলাসের প্রতিশ্রুতি নিয়ে শুরু হলেও আদতে দুঃখজনকভাবে কেঁচে যেতে বসেছে! সবুর করুন – সে কথাই বলছি।

   বৃষ্টি-বাদলার দিন। বাজারের থলেতে উঁকি মারা ইলিশ মহাশয়ের মুড়োটা দেখেই প্রীতু একচিলতে অর্থপূর্ণ হাসি হেসে ফেলেছিলো, যেটার মানে করলে দাঁড়ায় – পারোও বটে, পেটু সাহেব! পেটু সাহেব – হ্যাঁ, এই নামেই প্রীতু হরহামেশা শাহেদকে ক্ষেপিয়ে থাকে। শাহেদ প্রথমটায় রাগলেও শেষে হেসে ফেলে। প্রীতু যে খাওয়াতে খুব ভালোবাসে, এ কথা সবাই জানে। গোপন কথা হলো – পেটু সাহেব নামটা শাহেদের একেবারে মন্দ লাগে না!

   প্রীতু শাড়ির আঁচলটা কোমরে গুঁজে তাড়াতাড়ি কাজে নেমে পড়লো। ফিঙ্গের মত তিড়িংবিড়িং করছে – খুব চটপটে স্বভাবের। শাহেদ কী মনে করে টিপটিপ পায়ে এগিয়ে যায়। পেছন ফিরে আছে প্রীতু – চমৎকার গড়ন মেয়েটার! একরাশ কালো সিল্ক মাথার চূড়ো থেকে উথাল-পাথাল বন্যার মত গড়িয়ে পড়ে খাবি খাচ্ছে প্রীতুর মাখন-মসৃণ পিঠে। গলার কাছটায় ক’টা রোম কোনো খুনসুটে শিকারীর অযাচিত অনুপ্রবেশের সতর্কতা নিয়ে উতকর্ণ হয়ে আছে!  শিকারীর স্পর্শ আরেকটু সাহসী হতে চাইতেই – ক্যত! কনুইয়ের এক রামগুতো খেয়ে পিছিয়ে যায় শাহেদ। তাকিয়ে দেখে পিছু ফেরা প্রীতুর চোখ কৌতুকে ঝিকিমিকি করছে। শাহেদ পিছু হটলেও চোখে পরে দেখে নেবার হুমকি জাতীয় চাউনি থাকে। প্রীতু কিছু বলে না কেবল দুলে দুলে হাসতে থাকে।

   এইসব ছোটখাট ব্যাপারগুলো শাহেদ কিন্তু বরাবরই উপভোগ করে। এইমাত্র স্বাদ নেয়া বঞ্চনা সত্ত্বেও সে মুচকি হাসতে থাকে। প্রীতুর প্রায় সবই ভালো, শুধু একটাই অপ্রীতিকর – শাহেদের ব্যাপারে ও মাত্রাতিরিক্ত ঈর্ষাপরায়ণ। শাহেদের মেয়ে-বন্ধুদের ও মোটেই সহ্য করতে পারে না! বোঝে অমূলক ঈর্ষা, তবুও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না! এ নিয়ে ঝামেলাও অনেক হয়! তা কী আর করা? প্রীতু যে অসামান্য পূর্ণতার স্বাদ দিয়েছে তাকে, সেখানে এই ছোট্ট মূল্যটি সে হাসিমুখেই চুকিয়ে যাচ্ছে। নাথিং কামস উইদাউট আ প্রাইস ট্যাগ!

   মন বড় অদ্ভুত! যেটা করতে মানা, তাই করতেই মন আকুলি-বিকুলি করে। এ এক রহস্য! তো দেখা যাক, আমাদের শাহেদ এখন কী করছে?

   একটানা বৃষ্টি ঝরছে। খবরের কাগজটা চষে পড়ে ফেলেছে। এখন কী করার? কিছু কাজ না থাকাটাও একটা বেদনার। প্রীতুটা পাশে থাকলেও হতো। কিন্তু এখন সে বেজায় ব্যস্ত  রান্না নিয়ে – এখন সে এদিকে আসবেই না!  রান্নার কথা ভাবতেই ইলিশের ঠোঁটে চুমু দেবার ছবিটা ভেসে উঠলো। কী সুন্দর দৃশ্য! প্রীতু বাদে এর থেকে দৃষ্টিনন্দন আর কিছু হওয়াই সম্ভব নয়। সে না হয় হলো, কিন্তু সময় যে কাটছে না।

   বিরক্ত হয়ে সে বহুদিন বাদে ফেইসবুকটা খুলে বসলো। বুকটা দুরুদুরু করে উঠলো – সামাজিকতার এই বিপজ্জনক মাধ্যমটা শাহেদের জন্য যে একরকম নিষিদ্ধ! আদেশক্রমে – প্রীতুলা শাহেদ! সে এক বিরাট ক্যাঁচালে কাহিনী – ফেইসবুকে আলাপচারিতা নিয়ে সেই বিচ্ছিরি ঘটনা শাহেদের মন ইচ্ছে করেই পাশ কাটিয়ে গেলো। কেন কাটিয়ে গেলো, সে বোঝা দুঃসাধ্য – নিয়ম ভাঙতেই যত আনন্দ লুকিয়ে থাকে কিনা!

   এপাশ-ওপাশ দেখে, দরজাটা আলতো ভেজিয়ে দিয়ে সে স্ট্যাটাস লিখতে বসলো। ‘নব ধারা জলে ভাসছে আমার প্রীতুময় জগত! আনন্দ বাহিরে এবং ভেতরে – ইলিশে এবং প্রীতুতে! :বেজায় হাসি:’ নিতান্ত নির্দোষ অবস্থার বর্ণনা। কয়েক সেকেন্ড ঘুরতে না ঘুরতেই পাঁচটা লাইক পড়ে গেলো! মানুষের কি কাজ-কর্ম নেই? ধুত, ছুটির দিনেও কাজ করবে নাকি? নিজের নির্বুদ্ধিতায় ক্ষিপ্ত হয় শাহেদ।তবে,  ষষ্ঠ লাইকটায় ভ্রূ কুঁচকে গেলো। আর রক্ষে নেই – এ যে মিথিলা! কাণ্ড ঘটেই গেলো।

   ‘ কীরে বউয়ের আঁচল-ধরা হারামী, কেমন আছিস? কী মনে করে আসলি? তোকে তো আজকাল দেখাই যায় না :p!’ 

   এ তো সাড়ে সর্বনাশ! মিথিলা? বুকটা ধড়ফড় করে উঠলো শাহেদের। আর সময় পেলো না! গেলবারে যত সমস্যা তো ওকে নিয়েই ঘটেছিলো। সে অফলাইন থাকার ভাণ করবে – সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু বিধি বাম! বেশ কিছুক্ষণ পরঃ

   ‘ তুই এত ভীতু কেন? তোর জন্য মায়াই হয়। আহারে, বড় ভালো ছেলে ছিলি...এখন নিয়মিত প্রীতুর মার খাচ্ছিস। হি হি হি’

   এই রে, কী সব লিখছে! এই শাঁকচুন্নিটা যে সারাজীবন জ্বালিয়ে মারলো! মিথিলা ওর স্কুলবেলার বন্ধু। এত ডানপিটে যে ছেলেরা সবাই ওকে একরকম সমঝে চলতো। মেয়ে ভালো, কিন্তু মুখে কোনো লাগাম নেই। যা খুশি, তাই বলে ফেলে; কারো পরোয়া করে না। আর কে না জানে মিথিলা ওকে পছন্দ করত। হায় রে, এত ছেলে থাকতে ওকে কেনো? শাহেদের রমণীমোহন চেহারাটাই যত নষ্টের গোঁড়া! সে যাক। এখনই একে থামানো উচিত, নইলে আরো কী যা-তা যে বলবে, তাতে মান-সম্মান আর কিছু বাকী থাকবে না। কী মুশকিলে পড়া গেলো!

   অফলাইনে থেকেই সে একটা বার্তা দিলো।

   শাহেদঃ  জল বেশি ঘোলা করিস না, শাঁকচুন্নি। লাগাম টেনে ধর।
   মিথিলাঃ  কীরে স্ত্রৈণ, মুখে বেশ বোল ফুটেছে দেখছি। প্রীতুর আলিঙ্গন থেকে মুক্ত হয়ে চ্যাট করতে পারছিস? স্ট্রেইঞ্জ! হি হি হি।
   শাহেদঃ  হাসি থামা, বেহায়া কোথাকার! একটা ভালো কথা লিখলাম। কোথায় ভালো কথা লিখবি, তা নয় – বাজে বকতে শুরু করলি!
   মিথিলাঃ  বাহ, বাজে কথা কোথায় বললাম? উচিত কথা তেতোই লাগে...:পি। তুই প্রীতু কে এত ভয় পাস কেন? 
   শাহেদঃ  মোটেই না। ভয় পাবো কেন? ওকে আমি ভালবাসি, তাই ব্যথা দিতে চাই না।
   মিথিলাঃ  হাউ রোমান্টিক! তো বীরপুরুষ, ভয় না পেলে আমার সঙ্গে চ্যাট করে যা। সেটা তো আবার পারবি না! হি হি হি।
   শাহেদঃ  আলবৎ পারবো। কিছু হবে না, প্রীতু বুঝবে। তা, এতদিন পর আবার আমার পিছে লাগলি কেন? জায়গা ফাঁকা যাচ্ছে নাকি, ইদানীং? হা হা হা।
   মিথিলাঃ  রামছাগল, জায়গা তো তোর জন্যই কোনোদিন ফাঁকা হলো না! বুঝলিই না তো কোনোদিন...
   শাহেদঃ এই, ইয়ে সেন্টু হয়ে যাচ্ছিস মনে হচ্ছে। তোকে তো সব বুঝিয়ে বলেছিলাম, তাই না? তবে, কেন আবার? যা ছিলো সব একতরফা – তুই –ই...আমি কখনো তোকে সেভাবে দেখি নি রে!’ শাহেদ চেষ্টা করে।
   মিথিলাঃ  শাহেদ, আমার মনটা আজকে ভীষণ খারাপ। একটা দিন, অনন্তপক্ষে একবার ভালোবাসার মিথ্যেটা বললে কি খুব ক্ষতি হয়ে যাবে তোর? বল না একবার? বন্ধুর জন্য এটুকু করতে পারবি না?
    শাহেদঃ  সে হয় না, মিথি। সেই মিথ্যেটাও যে মোটামুটি ভয়ংকর। সেবার তোকে নিয়ে কী ঝামেলাটাই না হলো প্রীতুর সঙ্গে। আমি বিবাহিত – এ কথাটা কেন মেনে নিতে পারিস না? তাছাড়া, তোর মত বিচ্ছু যে এটার কোনো সুযোগ নিবি না, সে কী করে বলা যায়?
    মিথিলাঃ  এত বড় কথাটা বলতে পারলি? থাক, মনটা আরো খারাপ করে দিলি। তোকে তো পাই নি, তাই বলে তোদের কোনো ক্ষতি করবো, সেটা দুঃস্বপ্নেও ভাবি না। বড় কষ্ট দিলি রে!
   শাহেদঃ  আরে, কী মুশকিলে পড়লাম! কী বলবো বল – বেশ ক্ষুধা পেয়েছে, বলেই খেতে যাবো। যে সুবাস দিচ্ছে না, আহ!?
   মিথিলাঃ  বল – মিথি, আমি তোকে ভালোবাসি। সবসময় ভালোবেসে এসেছি। আর দাওয়াত দে, চলে আসি।
   শাহেদঃ  মিথি, আমি তোকে ভালোবাসি। সবসময় ভালোবেসে এসেছি। মেলোড্রামা! মনে মনে হাসতে থাকে শাহেদ। পাগল কোথাকার!
   মিথিলাঃ  শাহেদ, আমিও তোকে এই এত্ত এত্ত ভালোবাসি...উম্মা...চুম্মা...
   শাহেদঃ   উম্মা...চুম্মা...? অলরাইট, উম্মম্মম্মম্ম...হা হা হা ।
শাহেদ খেয়ালের বশে লিখে ফেলে।

   ঠিক তক্ষুণি ঘাড়ের কাছে কে যেন নিঃশ্বাস ফেললো। ঝট করে ঘুরে তাকিয়ে শাহেদ পাথর হয়ে যায়। বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে আছে প্রীতুলা। হাতে একটা কাঠের চামচে কীসের একটা ঝোল... বোধহয় চাখাতে এসেছিলো। সেটা মাটিতে সশব্দে পড়ে যায়।
   
   প্রীতু রাঁধতে ভালোবাসে। বিশেষ করে শাহেদের জন্য রাঁধতে তার অন্যরকম আনন্দ হয়। পছন্দের কিছু করতে দেখলে লোকটা কেমন শিশুর মত খুশী হয় – ভাবতেই চোখে পানি চলে আসে প্রীতুর! সে এত ভালোবাসে কেন? শাহেদও কি ওর মত ভালবাসে? তাদের তো পছন্দের বিয়ে নয়; দেখাদেখির মাধ্যমে বিয়ে। অতঃপর প্রেম। তারপর যত দিন গেছে, একে অপরকে আবিষ্কার করেছে। মেরু কিংবা হিমালয় জয়ের আনন্দও হয়তো সেই আত্মিক প্রাচুর্যের কাছে নিতান্ত ফিকে মনে হবে! তবে, জোরালো প্রেমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই কিনা, প্রবল ঈর্ষাবোধটা এসে জুড়ে গেছে প্রীতুর মনে। সুদর্শন আর সহজ স্বভাবের শাহেদের বন্ধুর অভাব ছিলো না; বিশেষ করে মেয়ে-বন্ধুরা ছিলো ঢের। বিয়ের পরও তাদের যাতায়াত ছিলো অবাধ। তাদের অতি সহজিয়া ভঙ্গীটাকে প্রীতু ঠিক সহজভাবে নিতে পারলো না। শাহেদের জীবনে ওরা আগে থেকেই ছিলো; কত ঘটনা, স্মৃতির শেয়ার ওদের! দুঃখে চোখ ফেটে আসে প্রীতুর। সে কেন বিয়ের আগে শাহেদের জীবনে এলো না? নইলে ঐসব কথা-হাসি-বেদনায় সে থাকতে পারতো। ওর শাহেদের টুকরো টুকরো অজানা ঐসব মেয়েদের মাঝে আছে; অথচ তার কাছে কিছু নেই। এই ধারণাটা ওকে বদলে দিতে থাকলো। শাহেদের মেয়ে-বন্ধুদের কাউকেই সে সহ্য করতে পারলো না; বিশেষ করে মিথিলা- ওহ, ঐ মেয়ে নাকি স্কুল থেকেই শাহেদের প্রতি দুর্বল!

   সেদিন সে খুব কেঁদেছিলো। অক্ষম রাগে শাহেদের বুকে মাথা কুটেছিলো। শাহেদ ফেইসবুকে আলাপ করছিলো মিথিলার সাথে যেমনটা সবসময় করে থাকে। মিথিলার নানান অন্তরঙ্গ কথা প্রীতুলার সহ্য হয় নি। মিথিলা যে সত্যি সত্যি কিছু ভেবে করে না – এটুকু প্রীতু ঠিকই বুঝতে পারে। কিন্তু শুধু সইতে পারে না! সেইদিন থেকেই শাহেদের ফেইসবুকে ঢোকা প্রায় বন্ধ হয়ে গেলো। প্রীতুর কানের কাছে চূর্ণ চুলের গোছা সরিয়ে সরিয়ে দিতে দিতে বলেছিলো, ‘পাগলী কোথাকার, মিথি তো আমার বাল্যবন্ধু এবং শুধুই বন্ধু। আর কিছু নয়। আর ফেইসবুক আমার কাছে কোনো ব্যাপারই না। তুমি না চাইলে ঢুকবো না, ব্যস! এখন আমার প্রাপ্যটা দাও তো ঝটপট’ বলেই কাছে ঘেঁষে। ‘যাও, খালি বাজে কথা আর আবদার। আমার মেলা কাজ আছে’ প্রীতু ছিটকে বেরিয়ে যায়।

   এখুন চলুন দেখা যাক, প্রীতু আর শাহেদের সংঘর্ষটা কেমন হলো?

   ঘটনাগুলি নিমেষে রিওয়াইণ্ড হয়ে গেলো শাহেদের মনে। খুব একটা বাজে সময়ে প্রীতুলার আগমন ঘটেছে। বহুদিন বাদে চ্যাট করতে বসে শাহেদ এমনি তন্ময় হয়ে গেছিলো যে আশেপাশের কোনো কিছুই তার খেয়ালে ছিলো না। প্রীতু শুধু ভালোবাসা-বাসি বলার ঐ জায়গাগুলোই দেখতে পেয়েছে এবং সেটা যে মিথি, তাও বুঝতে পেরেছে। ভুল বুঝেছে মেয়েটা; ওকে সত্যিটা খুব দ্রুত জানাতে হবে এবং দক্ষতার সাথে, মাথা ঠাণ্ডা রেখে। নইলে কী থেকে কী হয়ে যাবে – সেটা ভাবতেই সে শিউরে উঠলো। কিছু বলার জন্য শাহেদ মুখ খুলেছে মাত্র! অমনি বেমক্কা একটা চড় খেয়ে হতভম্ব হয়ে গেলো। অঝোর ধারায় কাঁদছে প্রীতু। কিছু বলছে না; কেবল অপলক তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর, ‘কী করে পারলে? চরিত্রহীণ কোথাকার, লম্পট!’

   নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারলো না কিছুক্ষণ। প্রীতু ওকে এতবড় কথা বলতে পারলো? বিনা দোষে...না, মানে দোষ তো সে একটা করেছে। কিন্তু তাই বলে না জেনে এই বিশ্রী দোষারোপ করবে? সেটা খণ্ডানোর তাগিদেই কিনা সে পিছু ফিরে থাকা প্রীতুর কাঁধে আলতো করে সভয়ে হাত রেখে গলায় মধু মিশিয়ে, ‘ প্রীতু? রাগ করো না – আমার কথাটা একবার শোনো’ কিন্তু প্রীতু ইতোমধ্যে রীতিমত যুদ্ধংদেহী পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ‘ চুপ, একদম চুপ। মিথ্যুক, আর একটা কথাও বলবে না। মিথিকে ভালোই যদি বাসতে তবে আমাকে জড়াতে গেছো কেন?’ বিদ্যুতস্পৃষ্টের মত নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকলো শাহেদ। আহ, ছুটিটাই মাটি হয়ে গেলো। খাওয়াটাও লাটে উঠলো।   আর তখন মিথিলার বাকী বার্তাগুলো দেখে আরো মেজাজ খিচড়ে গেলো।

   মিথিলাঃ  হাঁদারাম, তানিয়ার সাথে রাখা বাজীটা জিতিয়ে দেয়ার জন্য তোকে অজস্র ধন্যবাদ। তোকে দিয়ে প্রেমের ডায়ালগ দেওয়ায় ছাড়লাম। হা হা হা। বাই দ্য ওয়ে, আবার ভেবে বসিস নি তো, যে আই স্টিল হ্যাভ ক্রাশ অন ইয়্যু? গাধাই থেকে গেলি।

   অন্ধ রাগে শাহেদ কেবল দাঁত কিড়মিড় করতে থাকলো। এই ঝড় কীভাবে থামবে, কে জানে?

চলবে....

মানভঞ্জনের এক দিন - শেষ পর্ব

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

অনেক অনেক দিন পর গল্প পড়লাম। পর্ব করে লেখা পড়তে আলসেমি লাগে সত্যি কথা কারণ চলবের পরের টুকু কবে আসে সেই অপেক্ষা ......
আপনার লেখায় চরিত্র বর্ণনা গুলি চমৎকার হয়ে ফুটে ওঠে, এই যেমন প্রীতুর কথা পড়ার সময় তার চেহারাটা কল্পনায় ভাসছিল।
চলুক তবে......

ঘরের কোনে মনের বনে, তোমার সাথে জোছনা স্নান...
তোমার দুহাত থাকলে হাতে; স্বপ্নে জাগে মধুর প্রাণ।
ছড়া সব করে রব

নাদিয়া জামান'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

নাদিয়া জামান লিখেছেন:

আপনার লেখায় চরিত্র বর্ণনা গুলি চমৎকার হয়ে ফুটে ওঠে, এই যেমন প্রীতুর কথা পড়ার সময় তার চেহারাটা কল্পনায় ভাসছিল।
চলুক তবে......

ইয়ে..আয়নায় নিজের চেহারাটা আবার দেখছিলেন না তো? হা হা হা। ধন্যবাদ নাদিয়া। এটা পরের পর্বেই সমাপ্ত হবে, ইনশাআল্লাহ্‌। চরিত্রগুলো যথাসাধ্য চেষ্টা করি যত্ন নিয়ে ফুটিয়ে তুলতে। এই যে আপনি বললেন প্রীতুকে কল্পনায় দেখছেন - এর পর আমার আর চাওয়ার কিছু নেই! সত্যিই ভালো লাগছে।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

চমতকার গল্প ! আশা করি এ সিরিজটা বেশ জমবে।

উদাসীন লিখেছেন:

চলবে....

চলুক।

নাদিয়া জামান লিখেছেন:

এই যেমন প্রীতুর কথা পড়ার সময় তার চেহারাটা কল্পনায় ভাসছিল।

ঠিক তাই।

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

মেলাদিন পরে একটা গল্প পড়লাম  tongue_smile

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

মা গো...  ghusi    এই রকম গল্প পড়লে বিবাহ করতে মঞ্চায়  big_smile




.

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

ইলিয়াস লিখেছেন:

চমতকার গল্প ! আশা করি এ সিরিজটা বেশ জমবে।

ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই hug। এটা বড়জোর আর দু'টো পর্ব পর্যন্ত যাবে।

তারেক হাসান লিখেছেন:

মেলাদিন পরে একটা গল্প পড়লাম  tongue_smile

ধন্যবাদ তারেক hug

ফারহান খান লিখেছেন:

মা গো...  ghusi    এই রকম গল্প পড়লে বিবাহ করতে মঞ্চায়  big_smile
.

হা হা হা ভাইচা, মানা কে করেছে? ইয়ে, তুমারে মেলাদিন বাদে দেখা গেলো; ভালু আচু তো?

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

বেশ ভালো লাগলো।

গল্পের লিখুনিতে ওপার বাংলার একটা ছাপ পাওয়া গেল। আমার ভুলও হতে পারে।

শাহেদ কে পছন্দ হোল না।  দেখছেন কেমন গল্পের চরিত্র বাস্তবে চলে এসেছে। thumbs_up

আর প্রীতুর চরিত্রটা কেমন যেন চেনা চেনা লগলো। tongue কাউকে ভেবে লেখা নাকি?  wink

আশা করছি পরের পর্বের আগে "অবশেষে" কাথাটা লেখা থাকবে না। hehe

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

@আরণ্যক, ওপার বাংলার ছাপ? কিজানি, থেকে থাকবে হয়তো! আমার মাতৃ বংশ আবার মুর্শিদাবাদ থেকে বহুদিন আগে এপারে এসেছিলেন কিনা হা হা হা।

আরণ্যক লিখেছেন:

আর প্রীতুর চরিত্রটা কেমন যেন চেনা চেনা লগলো। tongue কাউকে ভেবে লেখা নাকি?  wink

উহু, সেটা বলা যাবে না lol2
ভালো থাকুন।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

উদাসীন লিখেছেন:

@আরণ্যক, ওপার বাংলার ছাপ? কিজানি, থেকে থাকবে হয়তো! আমার মাতৃ বংশ আবার মুর্শিদাবাদ থেকে বহুদিন আগে এপারে এসেছিলেন কিনা হা হা হা।

জনাব, এই নাদানের মন্তব্য বেশী গুরুত্বের সাথে নিবন না কিন্তু।

উদাসীন লিখেছেন:

আরণ্যক লিখেছেন:

আর প্রীতুর চরিত্রটা কেমন যেন চেনা চেনা লগলো। tongue কাউকে ভেবে লেখা নাকি?  wink

উহু, সেটা বলা যাবে না lol2

বলার কি দরকার? hehe আমি তো বেশ কল্পনা করে নিতে পারছি। dream

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (১৬-০৬-২০১২ ০০:০৬)

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

বহুততো রোমান্টিক গল্প হলো। এবারে অ্যাকশন-প্যাকড থ্রিলার চাই উদাসীনদা:D

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১২

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

আহ সুন্দর smile , নেক্সট চাই তারাতারি ।

"You hate everything you see in me-Have you looked in a mirror'

http://www.priyobd.net/  Live chat with us !!

১৩

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

Neela লিখেছেন:

আহ সুন্দর smile , নেক্সট চাই তারাতারি ।

ধন্যবাদ নীলা। আমি একটু অবাক হয়েছি - আপনি এসব গল্প পড়েছেন wink পরের পর্বও তো দিয়ে দিয়েছি। তারপরেও এই যে এখানে। ভালো থাকুন।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৪

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

রাতে মোবাইলে দুই পর্বই পড়লাম । রোমান্টিক গল্প খুব ভাল লাগে
আর আপনার লেখা অসাধারণ । অনেক ভাল লাগল । শুভকামনা সবসময় । smile smile

আচ্ছা আপনি তো ফেইস বুক ইউজ করেন না...... তাইলে এতসব জানলেন কিভাবে? surprised surprised

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১৫

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

আচ্ছা আপনি তো ফেইস বুক ইউজ করেন না...... তাইলে এতসব জানলেন কিভাবে? surprised surprised

মনে হয় লুকায় লুকায় করে waiting

ঘরের কোনে মনের বনে, তোমার সাথে জোছনা স্নান...
তোমার দুহাত থাকলে হাতে; স্বপ্নে জাগে মধুর প্রাণ।
ছড়া সব করে রব

নাদিয়া জামান'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

আচ্ছা আপনি তো ফেইস বুক ইউজ করেন না...... তাইলে এতসব জানলেন কিভাবে? surprised surprised


আহেম...ছবি আপা, কোনো এক সময় কি আর ইউজাইতাম না নাকি?  hehe
ধন্যবাদ এতবড় করে দেয়া পোস্ট পড়ার জন্য। আমার ধারণা ছিলো আপনি হয়তো পোস্টের আকার দেখেই আর পড়বেন না।

নাদিয়া জামান লিখেছেন:

মনে হয় লুকায় লুকায় করে waiting

দুষ্টু মেয়ে  shame blushing hehe

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৭

Re: মানভঞ্জনের এক দিন - প্রথম পর্ব

এমন লেখা আরো চাই। http://www.pcjobs24.com  এর পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভ কামনা ।