টপিকঃ অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

এই জীবন আর রাখাই যাবে না, বহু জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করেছি, আর না। আজ ওর একদিন তো আমার যতদিন লাগে। আজ একটা কিছু করেই ফেলবো। কথায় কথায় খোটা দেয়। আর মান-বোনা খোটা। মনের মাঝে একটা বিপ্লবী প্রতিভা জাগ্রত করতেই হবে। না হলে বেচে থাকাটাই বৃথা হয়ে যাচ্ছে। আমগাছের নিচে বসে বসে বিড়বিড় করলো ইলিয়াস।

দিনকে দিন অত্যাচার বেড়েই যাচ্ছে বউ-এর। আগে তো খাবারের জন্য খোটা দিতো আর এখন খাবার কেড়ে নেয়। খাবার কেড়ে নেয় তাও মেনে নেওয়া যায়। এক দুই বেলা পেটে পাথর চাপা দিয়ে না হয় থাকা যায় কিন্তু মাঝ রাতে ঘর থেকে বের করে দিলে এটা তো মেনে নেওয়া যায় না।

ইলিয়াস মনের মাঝে বিপ্লবী প্রতিভা জাগ্রত করবার জন্য নিজে নিজেই কথা বলে যাচ্ছে। বিপ্লবী প্রতিভা জাগ্রত করবার জন্যই যে ইলিয়াস একা একা কথা বলছে তা কিন্তু নয়। আরেকটা কারণও আছে। কারণটা হচ্ছে ভূতের ভয়। মাঝ রাতে বউ ঘর থেকে বাহির করে দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে বাড়ির পিছনের আমগাছের নিচে। প্রথম প্রথম ভয় করে নি। মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ ছিল। এখন রাত বাড়ছে, শীত পড়ছে, মেজাজ ঠাণ্ডা হচ্ছে আর ভয় বেড়ে যাচ্ছে। ভয় দূর করবার একমাত্র পন্থা মেজাজ প্রচণ্ড গরম করা। মেজাজ গরম তো অন্য দিকে মনোযোগ যাবে না, ভয় পাওয়াও হবে না। কিন্তু আফসোসের ব্যাপার মেজাজ ক্রমশই ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে, ভয় বেড়েই যাচ্ছে। ইলিয়াস আপ্রাণ চেষ্টা করছে মেজাজকে গরম রাখবার জন্য কিন্তু পারছে না। মেজাজ গরম করাও বিরাট কঠিন ব্যাপার। ইলিয়াস আকাশের পানে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল- “ইয়া মাবুদ! এ কোন বিপদে পড়া গেলো।“

-    তুমি এইখানে কি করো?

ইলিয়াস কথার শব্দ শুনে ধরমরিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো। আম গাছ ছিল নিচু। উঠতে গিয়ে ঠকাস করে গাছের ডালে বাড়ি খেলেন। মাথা কি ভেঙ্গে গেলো নাকি? তিনি একহাতে মাথা চেপে ধরে বড় বড় চোখে তাকালেন।

তার সামনে খুবী অপরূপ এক সুন্দরী দাড়িয়ে আছে। এই মাঝ রাতে এতো সুন্দর মেয়ে আসলো কোথা থেকে? পরী-টরী নয়তো? ইলিয়াস আপ্রাণ চেষ্টা করছে দোয়া-দুরুদ পড়বার জন্য। দোয়া কালামের সামনে নাকি ভূত-প্রেত-পরী-টরি থাকে না। কিন্তু কোনও দোয়া মনে পড়ছে না। যখন যেটা মনে পড়ার প্রয়োজন তখন সেটা মনে পড়ে না, কি আজীব মনরে বাবা! এখন দোয়া কালাম মনে পড়াটা ভীষণ জরুরী ছিল।

মেয়েটি এবার ধমকের সুরে বলল- “তুমি এখানে কি করছ? ঐ দিকে তোমাকে খুঁজে খুঁজে সবাই হয়রান?”
ইলিয়াস আমতা আমতা করে বলল- “আপা! আপনি কি বলছেন ঠিক বুঝতে পারছি না।“
মেয়েটি হাত উঁচু করে থাপ্পড় দেবার ভঙ্গিমা করে বলল- “এক চড় দিয়ে তোর সব কয়টি দাঁত ফেলে দেওয়া উচিত। নিজের খালাকে তুই আপা বলছিস?”
ইলিয়াস অবাক হয়ে বলল- “কি বলছেন আপা? আমার মার তো কোন বোনই নেই, আপনি আমার খালা হবেন কি করে?”
মেয়েটি রেগে গিয়ে বলল- “তোকে তো ঘণ্টা চুক্তিতে থাবড়ানো দরকার। এক থাপ্পড়ে গাল দুইখন্ড করে দেওয়া উচিত। সারাদিন তোকে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান আর তুই এখন ইতরামি করছিস। খালাকে বলছিস আপা! দাড়া তোর খালুকে ডাক দেই। সেই তোকে সায়েস্তা করতে পারবে”। বলেই সুরেলা কণ্ঠে মেয়েটি ডাক দিলো- “ওগো, তুমি কইগো! দেখো মুড়ি সংকট আমাকে আপা বলে ডাকছে!”
ইলিয়াস ভ্রু কুচকিয়ে বলল- “মুড়ি সংকট-টা আবার কে?”
এমন সময় মোটা-সোটা গাট্টা গোট্টা আরেকজন মেয়ে এসে হাজির হল। এসেই প্রথম মেয়ে-টিকে বলল- “কি হয়েছে বল? আমার তাড়া আছে”।
প্রথম মেয়েটি দ্বিতীয় মেয়েটির হাত ধরে ইলিয়াসের দিকে ইশারা করে বলল- “দেখো এ কি সব বলছে? আমাকে আপা ডাকছে। আবার বলছে মুড়ি সংকটটা কে?”
দ্বিতীয় মেয়েটা এক গাল হেসে বলল- “কি অবস্থা মুড়ি সংকট,  খালাকে তো আপা ডাকা উচিত নয়।“
ইলিয়াস বলল- “কি বলছেন আপা? খালাকে আপা বলল কেন? আমার তো কোন খালা নাই?”
প্রথম মেয়েটি আশ্চর্য কণ্ঠে বলল- “তোর কি হয়েছে-রে মুড়ি সংকট চৌধুরী? তুই তোর খালুকেও আপা ডাকছিস?”
ইলিয়াস অবাক হয়ে বলল- “খালু! এই মহিলাটা আমার খালু?”
দ্বিতীয় মেয়েটি ধমক দিয়ে বলল- “আমি মেয়ে হতে যাবো কেন? এটা তো তোর খালার ড্রেস। খালিগায়ে ঘুরঘুর করতে ছিলাম। তোর খালার জরুরী তলব পেয়ে যা সামনে পেয়েছি তাই পড়ে চলে এসেছি।“
ইলিয়াস অবাক হয়ে বলল- “এটা ড্রেস?”
-    “কেন বিশ্বাস হয় না তোর? তুই বুঝি এই প্রথম ড্রেস দেখছিস?”
বলেই মেয়েটি জিপারের মতো তার দেহ চিরে কংকাল সার দেহ নিয়ে বের হয়ে আসলো এবং সবগুলো দাঁত দেখিয়ে বলল- “এবার বিশ্বাস হচ্ছে।“

ইলিয়াস কি বলবে বুঝতে পারলো না। এক মেয়ে যে কিনা তার হাড্ডিসার কংকাল তার শরীরের চামড়া বেধ করে বের হয়ে এসেছে এবং চামড়াটা জামার মতো করে ভাজ করে রেখেছে হাতের উপর এবং হাসিমুখে প্রশ্ন করছে- “এইবার বিশ্বাস হয়?”

এই প্রশ্নের উত্তর ইলিয়াস কি দিবে ভেবে পায় না। মানুষজন ভয়ে নাকি মূর্ছা যায়, জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ইলিয়াস প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছে কিন্তু জ্ঞান হারাচ্ছে না। কি আজীব ব্যাপার, এই টাইমটাতে জ্ঞান হারানো খুবই প্রয়োজন ছিল। যদি জ্ঞান হারিয়ে ফেলত তাহলেও এদের হাত থেকে বাচা যেত। ইলিয়াস আপ্রাণ চেষ্টা করছে জ্ঞান হারানোর জন্য। একজন সুন্দর রমণী এবং একটা কংকাল তার দিতে চেয়ে আছে কৌতূহল দৃষ্টি নিয়ে। ইলিয়াস উপরের দিকে তাকিয়ে বলল- “ইয়া মাবুদ! এ কি বিপদে পড়া গেল?”

আমাকে কোথাও পাবেন না।

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

হুমমমমমম ভাল লাগল
সুন্দর হইছে

ভাইজানের নাম লিখছস ক্যানো হু........

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

হুমমমমমম ভাল লাগল
সুন্দর হইছে

ভাইজানের নাম লিখছস ক্যানো হু........

তার আগে কন এমন সাইক্লোন বেগে পড়লেন কি করে?

আমাকে কোথাও পাবেন না।

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

সুন্দর হইছে, পড়ে বেশ মজা পেলাম big_smile

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

অমিত ০০৭ লিখেছেন:

সুন্দর হইছে, পড়ে বেশ মজা পেলাম big_smile

শুনে খুশাহিত হলাম  blushing

আমাকে কোথাও পাবেন না।

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

smile lol2 ইলিয়াস বেশ বিড়ম্বিত বান্দা দেখা যাচ্ছে! বাই এনি চান্স, এই ইলিয়াস আমাদের ইল্‌শা মার্কা ইলিয়াস ভাই নয়তো? tongue ভূতেদের রুপবতী হওয়া দরকার আছে - প্রত্যেকটা রুপবতীই রহস্যময়ী হা হা হা। তবে তাকে খালা বানানো ঠিক হয় নাই। ইলিয়াসের কি স্বাদ-আহ্লাদ নাই kidding

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

পলাশ মাহমুদ লিখেছেন:
ছবি-Chhobi লিখেছেন:

হুমমমমমম ভাল লাগল
সুন্দর হইছে

ভাইজানের নাম লিখছস ক্যানো হু........

তার আগে কন এমন সাইক্লোন বেগে পড়লেন কি করে?

তেমন তো বড় না মিয়া...........পড়ছি

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (০৭-০৬-২০১২ ১৫:৪৬)

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

যাক, মেলাদিন পর কামব্যাক করলেন। তাও সেরাম গল্প দিয়ে clap দোয়া করি যেন আবার আগের মত ক্লান্তিহীনভাবে আমাদের বিনোদন দিতে পারেন  big_smile

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পলাশ মাহমুদ (০৭-০৬-২০১২ ১৫:৪৭)

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

উদাসীন দা, এই ফোরামে দুইজনের মন্তব্যের উত্তরে কি লিখবো আমি খুজে পাই নাই। আর দুইজন হচ্ছে, মুন আপি এবং আপনি। আপনারা দুইজন এতো সুন্দর করে গুছিয়ে মন্তব্য করেন যে রিপ্লাই খুজে পেতে কস্ট হয়। তাই বেশিরভাগ সময়ই আমি আপনাদের দুইজনের মন্তব্যের উত্তর দেওয়া থেকে বিরতো থাকি hehe ধন্যবাদ বাদে এই দুইজনের মন্তব্যের ফিরতি উত্তর কি লিখবো খুজে পাই না dontsee ধন্যবাদ উদাসীন দা smile

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

তেমন তো বড় না মিয়া........

আমি মিয়া না আমি রহমান  angry

@কাক ভাই ইদানিং এমন বিজি হয়ে পড়ছি যে আমি নিজেই নিজেরে খুজে পাচ্ছি না। মাঝে মাঝেই ফোরাম এবং ফোরামিকদের প্রচন্ড মিস করি neutral

আমাকে কোথাও পাবেন না।

১০

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

মজা পাইলাম  big_smile

ষোল কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালী করে মানুষ করনি।

১১

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

ভাইজানের নাম লিখছস ক্যানো হু........

নাহ এটা আমি না smile

উদাসীন লিখেছেন:

এই ইলিয়াস আমাদের ইল্‌শা মার্কা ইলিয়াস ভাই নয়তো?

পলাশ মাহমুদ লিখেছেন:

আরেকটা কারণও আছে। কারণটা হচ্ছে ভূতের ভয়।

আমি কখনো ভুতে বিশ্বাসী না এবং ভুতকে ভয় করি না।
তয় চাপাবাজির গল্প ভাল হয়েছে।  clap

১২

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

ভালই তো চাপা মারলেন আমারে নিয়া  tongue
তবে ভালই হইছে চাপাবাজিটা big_smile

দেখবার আইলাম দুনিয়াডা!!!

১৩

Re: অমিমাংসিত কাহিনী-০৪

একটা গোপন কথা বলি। পলাশ ভাই সেদিন মুখবইতে নক করে বলল, "বিরাট মসিবতে আছি"। জিগাইলাম কেন? বলে " বাসায় বিয়ার কথা হচ্ছে। ভয়ে, কি সব আজে বাজে স্বপ্ন দেখি।" আমি বললাম, "কি স্বপ্ন দেখেন?"
তিনি কান্নার ইমো দিয়ে বললেন, "বউ প্রতিদিনই পিটায়। বাসা থেকে বের করে দেয়। আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘরের পাশের আম গাছের নিচে বসে কাঁদি।"

এইবার বুঝতে পারছি, পলাশ ভাই এই গল্পের আইডিয়া কই পাইল?  tongue_smile

হুজুর কইছে, "কোরআন শরীফে আছে- তোমরা নামাজ থেকে বিরত থাক।" আমি তাই নামাজ পড়ি না। হুজুর যদি ইচ্ছা করে "অপবিত্র অবস্থায়" শব্দ দুটো বাদ দেয়, তার জন্য তো আমি দায়ী না।