টপিকঃ মেরাজ এর ঘটনা-২

আগের পর্ব- মেরাজের ঘটনা-১ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৯
আগের পর্বের কিছু অংশ-

রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এরপর নিয়ে যাওয়া হয় সপ্তম আসমানে। সেখানে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সাথে তাঁর দেখা হয়। তিনি তাঁকে সালাম করেন। তিনি জবাব দেন, মোবারকবাদ দেন এবং তাঁর নবুয়তের কথা স্বীকার করেন।

এবার প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আল্লাহর এত কাছাকাছি পৌঁছেন যে, উভয়ের মধ্যে দুটি ধনুক বা তারও কম ব্যবধান ছিলো। সেই আল্লাহ রহমানুর রহিম তাঁর যা কিছু দেবার দিয়ে দেন, যা ইচ্ছা ওহী নাযিল করেন এবং পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন। ফেরার পথে হযরত মুসা (আঃ) এর সাথে দেখা হলে, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে কি কাজের আদেশ দিয়েছেন ? নবী করিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের আদেশ দিয়েছেন। হযরত মুসা (আঃ) বললেন, আপনার উম্মত এত নামাজ আদায় করার শক্তি রাখে না। আপনি আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে নামাজ কমিয়ে দেয়ার আবেদন করুন। আকায়ে নামদার তাজেদারে মদীনা প্রিয় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জিব্রাঈল (আঃ) এর দিকে তাকালেন, তিনি ঈশারা করলেন। এরপর ফিরে গিয়ে নামাজের সংখ্যা কমিয়ে দেবার আবেদন করলেন। হযরত মুসা (আঃ) এর সাথে ফেরার পথে আবার দেখা, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর কাছ থেকে কি আদেশ নিয়ে যাচ্ছেন ? নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পয়তাল্লিশ ওয়াক্ত নামাজের কথা বললেন। হযরত মুসা (আঃ) বললেন, আপনি ফিরে যান এমনি করে বার বার ফিরে যাওয়ার এবং নামাজ কম করার হার এক পর্যায়ে সংখ্যা দাড়ালো পাঁচ। এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও হযরত মুসা (আঃ) বেশী মনে করলেন এবং আরো কমিয়ে আনার আবেদন জানানোর জন্য ফিরে যেতে বললেন। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার ভীষন লজ্জা লাগছে, আমি আর যেতে চাই না। আমি আল্লাহর এ আদেশের উপরই মাথা নত করলাম। ফেরার পথে কিছুদুর আসার পর আওয়াহ হলো, আমি আমার ফরজ নির্ধারণ করে দিয়েছি এবং আমার বান্দাদের জন্য কমিয়ে দিয়েছি।

আল্লামা ইবনে কাইয়েম এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষন করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আল্লাহ কে দেখেছেন ? ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন, চোখে দেখার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, কোন সাহাবী একথা বর্ণনাও করেননি। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) চোখ এবং অন্তর দ্বারা দেখার যে কথা উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে প্রথম বর্ণনা দ্বিতীয় বর্ণনার বিপরীত নয়। ইমাম ইবনে কাইয়েম যে নৈকট্য এবং নিকটতর হওয়ার হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, এটি মেরাজের সময়ের চেয়ে ভিন্ন সময়ের কথা। সূরা নাজম এ হযরত জিব্রাঈল (আঃ) এর নৈকট্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। হযরত আয়েশা (রাঃ) সেই কথাই বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে মে’রাজের হাদিসে যে নৈকট্যের কথা বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে, এটা আল্লাহরই নৈকট্য। সূরা নাজম এ সম্পর্কে কোন ব্যাপক আলোচনা নেই। বরং সেখানে বলা হয়েছে, প্রিয় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দ্বিতীয়বার “ সেদরাতুল মুনতাহা”র কাছে দেখেছেন। যাঁকে দেখেছেন তিনি জিব্রাঈল (আঃ)। নবী করিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জিব্রাঈল (আঃ) কে তার আসল চেহারায় দু’বার দেখেছেন। একবার পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার “সেদরাতুল মুনতাহা’র কাছে।

{চলবে}

প্রথম প্রকাশ

Re: মেরাজ এর ঘটনা-২

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: মেরাজ এর ঘটনা-২

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মেরাজ এর ঘটনা-২

নবী করিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের আদেশ দিয়েছেন। হযরত মুসা (আঃ) বললেন, আপনার উম্মত এত নামাজ আদায় করার শক্তি রাখে না। আপনি আল্লাহর কাছে ফিরে গিয়ে নামাজ কমিয়ে দেয়ার আবেদন করুন। আকায়ে নামদার তাজেদারে মদীনা প্রিয় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জিব্রাঈল (আঃ) এর দিকে তাকালেন, তিনি ঈশারা করলেন। এরপর ফিরে গিয়ে নামাজের সংখ্যা কমিয়ে দেবার আবেদন করলেন। হযরত মুসা (আঃ) এর সাথে ফেরার পথে আবার দেখা, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর কাছ থেকে কি আদেশ নিয়ে যাচ্ছেন ? নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পয়তাল্লিশ ওয়াক্ত নামাজের কথা বললেন। হযরত মুসা (আঃ) বললেন, আপনি ফিরে যান এমনি করে বার বার ফিরে যাওয়ার এবং নামাজ কম করার হার এক পর্যায়ে সংখ্যা দাড়ালো পাঁচ।

আল্লাহর রহমতে তাই আমরা এই সুযোগটুক পাই । ধন্যবাদ ভাইজান সুন্দর শেয়ারের জন্য

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: মেরাজ এর ঘটনা-২

আরণ্যক লিখেছেন:

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

ধন্যবাদ ভাইজান সুন্দর শেয়ারের জন্য

কষ্ট করে মন্তব্য করায় আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।  hug

Re: মেরাজ এর ঘটনা-২

আবারো ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই! পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম  smile

ওয়েব হোস্টিং | রিসেলার হোস্টিং | অনলাইন রেডিও হোস্টিং
টেট্রাহোস্ট বাংলাদেশ - www.tetrahostbd.com