টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৬ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (২)

এ সিরিজের আগের পোষ্টঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৫ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (১)

{আগের পর্বের কিছু অংশ}
ইয়াশ ইবনে মায়াজ বললেন, হে কওম, আপনারা যে উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন, এই দাওয়াত তার চেয়ে উত্তম। প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য আবুল হাছির আনাস ইবনে রাফে একমুঠো খড় ইয়াশের মুখে ছুঁড়ে দিয়ে বললৌ, এসব কথা ছাড়ো। আমার বয়সের শপথ, এখানে আমরা অন্য উদ্দেশ্যে এসেছি। এরপর ইয়াশ আর কোন কথা বলেননি। রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে চলে গেলেন। এদিকে প্রতিনিধিদল কোরাইশদের সাথে মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি করতেও সক্ষম হয়নি। তারা ব্যর্থ হয়ে মদীনায় ফিরে গেল।



(তিন) আবুযর গেফারী, এই ব্যক্তি শহর থেকে দুরে এক জায়াগায় বাস করতেন। সুয়াইদ ইবনে সামেত এবং ইয়াশ ইবনে মায়া’য এর কাছ থেকে আবু যর রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আর্বিভাবের খবর পেয়েছিলেন। এ খবরই ছিল তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ।

তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বোখারী শরীফে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর বর্ণনা মতে আবু যর বলেন, আমি ছিলাম গেফার গোত্রের লোক। আমি শুনলাম এমন একজন লোক আর্বিভূত হয়েছেন, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন। এ খবর শুনে আমার ভাইকে মক্কায় পাঠালাম। তাকে বলে দিলাম, তুমি সেই ব্যক্তির সাথে দেখা করবে এরপর আমার কাছে তার খবর নিয়ে আসবে। আমার ভাই মক্কা থেকে ফিরে আসলে জিজ্ঞাসা করলাম, কি খবর এনেছো ? সে বললো, খোদার কসম, আমি এমন একজন মানুষ দেখেছি, যিনি সৎ কাজের আদেশ দিয়ে থাকেন এবং খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখেন। আমি বললাম, তুমি স্বস্তি পাওয়ার মত খবর দিতে পারনি। এরপর আমি কিছু পাথেয় যোগাড় করে মক্কার পথে রওয়ানা হয়ে সেখানে গিয়ে হাজির হলাম। কিন্ত সেখানে রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চিনতে পারলাম না। কারো কাছে জিজ্ঞাসা করতেও সাহস পেলাম না। যমযমের পানি পান করে মসজিদে হারামে পরে রইলাম। হযরত আলী (রাঃ) দেখে বললেন, আপনাকে অচেনা মনে হচ্ছে। আমি বললাম, জ্বী হা। তিনি বললেন, আমার ঘরে চলুন। আমি তাঁর সাথে গেলাম। তিনি আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেন না আমিও কিছু বললাম না।

সকালে আবার মসজিদে হারামে গেলাম। আশা ছিল যে, রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব। কিন্ত তাঁর সম্পর্কে আমাকে কেউ কিছু বললো না। সন্ধ্যায় হযরত আলী (রাঃ) এসে আমাকে দেখে বললেন, এই লোকটি এখনো নিজের ঠিকানা জানতে পারেনি ? আমি বললাম, হাঁ তাই এখনও পারেনি। তিনি বললেন, চলুন, আমার সাথে চলুন। এরপর তিনি বললেন, কি ব্যাপার আপনার, বলুনতো ? আপনি এ শহরে কেন এসেছেন ? আমি বললাম, আপনি যদি কথাটা গোপন রাখেন, তবে বলতে পারি। তিনি বললেন, ঠিক আছে। আমি বললাম, এখানে একজন লোক নিজেকে নবী বলে দাবী করেছেন বলে আমি খবর পেয়েছি। খবর পাওয়ার পর আমি আমার ভাইকে পাঠিয়েছিলাম কিন্ত সে আমাকে বিস্তারিত খবর জানাতে পারেনি। হযরত আলী (রাঃ) বললেন, আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। আমার সাথে চলুন। যেখানে আমি প্রবেশ করব, আপনিও সেখানে প্রবেশ করবেন। যাওয়ার পথে যদি কোন লোকের কারণে আপনার আশন্খার কারণ দেখা দেয় তবে আমি দোকানের কাছে যাব এবং জুতো ঠিক করার ভান করবো। সে সময় আপনি পথ চলতে থাকবেন। এরপর হযরত আলী (রাঃ) রওয়ানা হলেন, আমিও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম । অবশেষে তিনি ঘরে প্রবেশ করলে, আমিও তাঁর সাথে রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলাম। তাঁকে বললাম, আমাকে ইসলামের দাওয়াত দিন। আল্লাহর রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে ইসলামের দাওয়াত পেশ করলেন। আমি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলাম। এরপর রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে আবু যর, তোমার ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রেখ এবং তোমাদের এলাকায় চলে যাও। আমরা প্রকাশে আত্মপ্রকাশ করছি, এ খবর শোনার পর আমাদের সাথে এসে দেখা করবে। আমি বললাম, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাতে সত্যসহ প্ররেণ করেছেন, আমি কাফেরদের সামনে প্রকাশ্যে আমার ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষনা করবো। এ কথা বলার পর আমি ক্বাবা ঘরের সামনে গেলাম।কোরাইশরা সেখানে উপস্থিত ছিল। আমি তাদের বললাম, তোমরা শোনো, আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতিত কোন মাবুদ নেই এবং আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসুল।

এই ঘোষনার পর কোরাইশরা পরস্পর বলাবলি শুরু কললো যে, উঠো, তোমরা এ বেদ্বীনের খবর নাও। এরপর তারা আমাকে এমনভাবে প্রহার করলো যে, ভেবেছিলাম মরেই যাবো। এ অবস্থায় হযরত আব্বাস (রা) এসে আমাকে বাঁচালেন। তিনি একটুখানি ঝুকে আমাকে দেখলেন, এরপর কোরাইশদের বললেন, এ লোক গেফার গোত্রের। তোমরা ও গোত্রের এলাকার উপর দিয়েই ব্যবসা করতে যাও। এ কথা শুনে পৌত্তলিক কোরাইশরা আমাকে ছেড়ে দিলো। পরদিনও আমি সেখানে গেলাম এবং একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো। এবারও হযরত আব্বাস (রাঃ) এসে আমাকে উদ্দার করলেন।


প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৬ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (২)

ভাল লিখেছেন। বিষয়গুলো জানা আছে। এব কথায় অনেক চমৎকার! এখন পড়ে আরও ভাল লাগল।

::::   নিজের কাজটুকু নিজেকেই করতে হবে, অন্যের আশায় বসে থাকলে হা-হুতাশ ছাড়া কিছুই করার থাকে না  ::::

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৬ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (২)

শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই  smile

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৬ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (২)

ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই ধারাবাহিক ভাবে লিখাগুলো শেয়ারের জন্য। smile

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৬ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (২)

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৬ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (২)

সুন্দর শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ ভাইজান

অফলাইনে থেকে পড়লাম ।

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৬ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (২)

ধন্যবাদ সবাইকে । hug