টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৫ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (১)

সিরিজের পুর্ববর্তী টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৪ বিভিন্ন গোত্র ও ব্যক্তির কাছে ইসলামের দাওয়াত

রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন গোত্র এবং প্রতিনিধি দলকেই শুধু নয়, বহু ব্যক্তিকেও ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। এদের অনেকে ভাল জবাব ও দিয়েছিলেন। হজ্জ মৌসুমের অল্প কাল পরে কিছু সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করেন। নীচে এ সম্পর্কিত একটি সংক্ষিপ্ত রোয়েদাদ পেশ করা হচ্ছে।

এক) সুয়াইদ ইবনে সামেত, এই লোক ছিল কবি এবং যথেষ্ঠ বুদ্ধি বিবেচনাও রাখতো। সে ছিলো ইয়াসরেবের অধিবাসী। বুদ্ধিমত্তা,কাব্য চর্চা, আভিজাত্য এবং বংশ মর্যাদার কারণে তার কওমের লোকেরা তাকে কামেল উপাধিতে ভূষিত করেছিলো। এই লোকটি হজ্জ বা ওমরাহ করার জন্য মক্কায় এসেছিলো। আল্লাহর রসুল (সাঃ) তাকে ইসলামের দাওয়া দিয়েছিলেন। সে বললো, আমার কাছে যে জিনিস আছে, সম্ভবত আপনার কাছেও সেই জিনিসই রয়েছে। রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার কাছে কি রয়েছে ? সে বললো, লোকমানের হেকমত, রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, শোনাওতো, সুয়াইদ শোনালো। রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এ বাণী উত্তম, কিন্ত আমার কাছে যা রয়েছে, সেটা এর চেয়েও উত্তম। আমার কাছে রয়েছে কোরআন। এই কোরআন আল্লাহ আমার উপর নাযিল করেছেন। এটি হচ্ছে হেদায়েতর নূর। নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর কোরআনের কিছু অংশ লোকটিকে শোনালেন। এরপর তিনি ইসলাম গ্রগণ করে বললেন, এটাতো চমতকার কালাম। নবুয়তের একাদশ বর্ষের প্রথম দিকে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর সুয়াইদ মদীনায় ফিরে এলে বুআস যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

দুই) ইয়াশ ইবনে মায়াজ, এই ব্যক্তিও ছিলেন ইয়াসরেবের অধিবাসী। বয়সে ছিলেন যুবক। নবুয়তের একাদশ বর্ষে বুআস যুদ্ধের কিছুকাল আগে আওসের একটি প্রতিনিধিদল খায়রাজের বিরুদ্ধে কোরাইশদের কাছে সাহায্য পাওয়ার আশায় মক্কায় আসে। ইয়াশও তাদের সঙ্গে ছিলেন। সে সময় এ উভয় গোত্রের মধ্যে শত্রুতার আগুন জ্বলে উঠেছিলো। আওসের লোক সংখ্যা ছিলো খায়রাজের চেয়ে কম। রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রতিনিধিদলের আগমণের সংবাদ শোনার পর দেখা করতে গেলেন। তাদের মাঝখানে গিয়ে নবী করিম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনারা যে উদ্দেশ্যে মক্কায় এসেছেন, এর চেয়ে ভাল কোন জিনিস গ্রহণ করতে রাজী আছেন কি ? তারা বললো, কি সে জিনিস ? আল্লাহর রসুল বললেন, আমি আল্লাহর রসুল। আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর বান্দাদের কাছে এ দাওয়াত দেয়ার জন্য প্রেরণ করেছেন যে, তারা যেন আল্লাহর এবাদত করে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করে। আল্লাহ তাআলা আমার উপর কিতাবও নাযিল করেছেন। এরপর তিনি ইসলামের কথা উল্লেখ করে কোরআন তেওয়াত করেন।

ইয়াশ ইবনে মায়াজ বললেন, হে কওম, আপনারা যে উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন, এই দাওয়াত তার চেয়ে উত্তম। প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য আবুল হাছির আনাস ইবনে রাফে একমুঠো খড় ইয়াশের মুখে ছুঁড়ে দিয়ে বললৌ, এসব কথা ছাড়ো। আমার বয়সের শপথ, এখানে আমরা অন্য উদ্দেশ্যে এসেছি। এরপর ইয়াশ আর কোন কথা বলেননি। রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে চলে গেলেন। এদিকে প্রতিনিধিদল কোরাইশদের সাথে মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি করতেও সক্ষম হয়নি। তারা ব্যর্থ হয়ে মদীনায় ফিরে গেল।



{চলবে}


প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৫ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (১)

আমরা বলি মিলাদুন্নবি

আমার ওয়েব সাইট এ আপনাকে নিমন্ত্রন  এখানে  শিক্ষা এবং তথ্য এখানে বই , ইসলামিক, কবিতা এবং জোকস এখানে সফটওয়্যার এবং গেইম এখানে গান, ছবি এবং ভিডিও এখানে আমার নতুন ব্লগ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৫ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (১)

সুন্দর পোষ্ট ইলিয়াস ভাই। smile

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৫ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (১)

সুন্দর পোষ্ট এর জন্য ধন্যবাদ ভাইজান......

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৫৫ মক্কার বাইরে ইসলামের আলো (১)

মন্তব্য করায় সবাইকে ধন্যবাদ।