টপিকঃ আমার বন্ধু বৃষ্টি

তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে, আমি বারান্ধায় দাড়িয়ে। গ্রিলের ফাক দিয়ে ডান হাত বের করে অনেক চেষ্টা করছি যাতে বৃষ্টি আমার হাতে এসে পরে। আমার মন খারাপ হয়ে গেল একটুও বৃষ্টি ছুতে পারলাম না।একটু অবাক ও হলাম।

আমাদের বারান্ধাটা তেমন সুন্দর না। আমি মাঝে মাঝে ২/৪ টা টপ এনে ফুল গাছ লাগাতাম। কিন্তু বেশিদিন থাকতো না ওগুলা। একটা রোলিং চেয়ার। আর একটা লোহার বিছানা। শেষ প্রান্তে কিছু কার্টন আর কিছু অব্যবহত মালামাল রাখা।

কিন্তু যখন বৃষ্টি শুরু হয় এটাই আমার কাছে স্বর্গ। কারন চারপাশের পরিবেশ খুব ঠান্ডা হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময়ই খুব কম বৃষ্টিতেই আমাদের বারান্দাটা ভিজে যায়। আমি বিছানাতে বসে সামনের ধানক্ষেত গুলার দিকে তাকিয়ে থাকতাম আর দেখতাম দূরে পিচ্চি ছেলে-মেয়ে গুলো কি আনন্দ নিয়ে বৃষ্টিতে খেলতেছে। একদিন একটা ছেলে খেলতে খেলতে রাগ করে পাশের ছেলেটার প্যান্ট টান দিয়ে খুলে ফেলে। তারপর শুরু হয় দৌড়াদৌড়ী। কাদা মাটিতে বেশিক্ষন দৌড়ানু যায় না। তাই খুব তাড়াতাড়ি তাদের দৌড়ী শেষ হয়। আর খুলা প্যান্ট ছেলেটা অন্য ছেলেটাকে আচ্ছামত কাদায় মেরে ঘষাঘষি করে আরো কাদা লাগিয়ে দেয় নাকে, মুখে, চুলে।

ধানক্ষেতটা একটা অদ্ভুত জায়গা। চারপাশে বন। আর মাঝে কিছু জায়গা জুড়ে ধানক্ষেত আর আমাদের ৪/৫ টা দালান। ৫তলায় থাকার কারনে সব গাছের উপরের অংশটা খুব সহজেই দেখতে পেতাম আমি। সবুজ পাতাগুলা যেন সবুজের শেষপ্রান্তের রঙ ধারন করতো বৃষ্টির সময়। একটু বেশি বাতাস হলেই গাছ গুলো একেবারে নুয়ে পড়তো। তখন পুরো বনটা খুবভালো ভাবে দেখা যেত। খুববেশি বড় বন না। একেবারে ছোট। আমি একাই শুধু বন বলি এটাকে। অন্য কাউকে বন বলতে শুনিনি।

মাঝে মাঝে ছাদে চলে যেতাম আমি। শ্যাওলা পরা ছাদে বৃষ্টির দিনে যাওয়া একেবারেই নিষেধ ছিল। তবুও মন মানতো না। একা একা হালকা হালকা বৃষ্টিতে ভিজার শিহরন আজও অন্য কোন কিছুর মধ্যে খুজে পাইনি।

কম বৃষ্টিতে প্রায়ই দেখা যেত বনের শেষের দিকে ধূয়া উড়ছে। এটা নিয়ে অনেক কথা-রূপকথা চলতো ঘরে ঘরে। কিন্তু আমি জানতাম ওখানে সেই ছেলেগুলা বনের ওপাশের আলু ক্ষেত থেকে আলু এনে পুড়িয়ে খেত। কারন একদিন ওদের সাথে বৃষ্টির সময়টা কাটানুর লোভ আমি সামলাতে পারিনি। সেদিন আমিও তাদের সাথে খেয়েছিলাম।

বৃষ্টির দিনে কাদা মাখামাখি হয়ে ফাজলামি , শয়তানী করার পর নদীতে গোসল করতে যেতাম। মাঝে ইচ্ছা করে এতো কাদা মাখতাম যাতে আমাদের কেউ চিনতে না পারে। নদীতে যেয়ে কয়েক ঘন্টা জাপাজাপি আর ফুটবল দিয়ে হ্যান্ডবল খেলার পর চুপিচুপি এস বাসার দরজা খুলতাম। তার আস্তে করে উকি দিয়ে দেখতাম বসার ঘরে কেউ আছে কিনা। থাকলে তো ধরা। আর না থাকলে এক দৌড়ে বাথরুমে যেয়ে ঢুকতাম মারের ভয়তে।

ক্লাস সিক্সে থাকতে খুব ভালোই ছিলাম আমি। তবে সব মেয়েরা আমাকে ডাকত মিচকা বলে। কারন, আমি নাকি অন্যদের মতো নিজেকে ফোকাস করতাম না কিন্তু মূল হোতা থাকতাম নাকি আমি ই। এটা শুনার পর মাঝে মাঝে নামটা শুনে হাসতাম আর ভাবতাম। তাই ত, আমি কিছু করি না তবে হয় শুরুটা টা করে দিতাম না হয় এমন আইডিয়া বলে দিতাম যে অপর পাশে ঘটনা ১২টার দিকে ছুটতো।

তো একদিন বৃষ্টি হচ্ছে খুব। বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই টিফিন। আমি অনেক খুশি। সাথে সাথেই না খেয়ে মাঠে ভিজতে শুরু করলাম। সবাই আমার দিকে পাগলের মতো চেয়ে আছে। প্রথমে এটা খেয়ালই করি নাই। পরে আমার আনন্দ দেখে সাথে আরো কয়েকজন যোগ দিল। যথারীতি মজাও করলাম। টিফিন শেষ শুর হলো ক্লাস। গিয়ে দেখি বিজ্ঞান ম্যাডাম অলরেডী ক্লাসে এবং টেবিলে বিস্তর জিনিসপত্র। আর একটা মেয়ে তারপাশে দাড়ানু। আমাদের ক্লাসে ঢুকার অনুমতি মিলল না। সবাই বারান্দায় শাস্তি উপভোগ করছি। ম্যাডাম কিসের কিসের নাম বলতেছে আর বলতেছে আগুন উৎপন্ন হবেনা। আমি কি করলাম ক্লাসে ঢূকে একটা দিয়াশালাই দিয়ে একটা তরলের উপর কাগজ দিয়ে ছেড়ে দিলাম। সাথে দাউদাউ করে টেবিলে আগুন ধরে গেল আর পাশের মেয়েটা ওটা দেখেই অজ্ঞান হয়ে গেল। ২০/৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই যেন ক্লাসরুম যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে গেল।

গতবার রাত আনুমানিক ৩টায় বাজে। কানে হেডফোন। ভলিউম মাঝাড়ি। কিন্তু তাও হঠাৎ হেডফোনটা খুলে ফেললাম। আর জানালাটা খুলে দিলাম। একঝাক বাতাস এসে আমার শরীরটা ঠান্ডা করে দিল। কিছুক্ষন পরই আমরা তিনবন্ধু বাড়ির সামনে রাত ৩ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজলাম।

জীবনের অনেক দুঃখের সৃতি আছে বৃষ্টিকে ঘিরেই। সে নাহয় আর একদিন বলবো। তবে বৃষ্টি উপভোগ করি যেন এ আমার বহুচেনা দোস্তেরই মতো যে অনেকদিন পর হারিয়ে যেয়ে আবার ফিরে আসে।

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

thumbs_up  খুব ভাল লেখুনি আপনার হাত চালিয়ে যান

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

jemsbond লিখেছেন:

thumbs_up  খুব ভাল লেখুনি আপনার হাত চালিয়ে যান

রাইত দুপুরে পেট টা ফুলাই দিলেন ত  tongue

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

আপনারে লাইক দিলাম কারন আপনার লেখা আমার পছন্দ হল আর আমি লিখলেই মাইনাস পাই

(আল্লাহু আকবার)

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

mithun3094 লিখেছেন:

আপনারে লাইক দিলাম কারন আপনার লেখা আমার পছন্দ হল আর আমি লিখলেই মাইনাস পাই

কন কি ? মাইনাস প্লাসে দিকে তাকাবেন না। লেখবেন মনের সুখে দেখবেন আপনার ও ভালো লাগবে সবাই পছন্দ ও করবে। smile

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

চমতকার একটি গল্প, পড়ে ভাল লাগলো।  hug

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

ইলিয়াস লিখেছেন:

চমতকার একটি গল্প, পড়ে ভাল লাগলো।  hug

এইডা কিন্তুক গল্প না। বাস্তব।  big_smile

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

বেশ পছন্দ হয়েছে । যদিও পড়াড় সময় কিছুটা নস্টালজিয়ায় ( বানান!) আক্রান্ত হয়েছিলাম  ghusi

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

বৃষ্টি  love love love love

চমৎকার লেখার জন্য আপনাকে সম্মাননা। hug

mithun3094 লিখেছেন:

আপনারে লাইক দিলাম কারন আপনার লেখা আমার পছন্দ হল আর আমি লিখলেই মাইনাস পাই

কি কারনে মাইনাস পেয়েছেন সে গুলি একটু মাথায় রাখেন। তাহলেই দেখবেন + ছাড়া - হচ্ছে না। আর আপনার যদি মনে হয় অকারনে আপনাকে -  দেয়া হয়েছে, তাহলে কোন মডারেটর এর সাথে যোগাযোগ করেন। আপনি অবশ্যই সঠিক ফিডব্যাক পাবেন।  smile

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১০

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

খুব ভালো লাগলো পোস্টটা পরে চরিএ টার মধে্য ঢুকে যাছ্ছিলাম

........Life Is a Long While........

১১

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

I'm just impressed.. !!!  smile

১২

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

ভাল লাগল লেখাটি, প্রফাইলে যাইয়া বুঝতে পারলাম মহাপুরুষখান কেডা, লিখে যাও  thumbs_up

১৩

Re: আমার বন্ধু বৃষ্টি

বাউরে, ধরা খাইয়াল্লাম ।    hairpull