টপিকঃ নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

পুর্ববর্তী পর্ব
নামাজ-নামাজের ফজিলত
নামাজ- তাহারাত (পবিত্রতা)

ফরয নামায

ইসলাম মুসলমানদের উপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছে। আর এগুলো হল, ফজরের নামায, যোহরের নামায, আসরের নামায, মাগরিবের নামায এবং এশার নামায।
১। ফজরের নামায: ফজরের নামায দুই রাকাত। এর সময় ফজরেসানী অর্থাৎ রাতের শেষাংশে, পূর্বাকাশে, শ্বেত আভা প্রসারিত হওয়া থেকে নিয়ে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।
২। যোহরের নামায: যোহরের নামায চার রাকাত। এর সময় মধ্যকাশ থেকে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর মূল ছায়া ব্যতীত প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমান হওয়া পর্যন্ত।
৩। আসরের নামায: আসরের নামায চার রাকাত। এর সময় যোহরের সময় শেষ হবার পর আরম্ভ হয় যাওয়ালের ছায়া ছাড়া প্রত্যেকটি জিনিসের ছায়া দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত। (এটি সবচে উত্তম ওয়াক্ত) আর জরুরী ওয়াক্ত সূর্য নিস্তেজ হয়ে রোদের হলুদ রং হওয়া পর্যন্ত।
৪। মাগরিবের নামায: মাগরিবের নামায তিন রাকাত। এর সময় সূর্যাস্তের পর থেকে শফক্বে আহমার অর্থাৎ পশ্চিম আকাশে লোহিত রং অদৃশ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত।
৫। এশার নামায: এশার নামায চার রাকাত। এর সময় মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার পর থেকে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। অথবা রাতের প্রথম অর্ধাংশ পর্যন্ত।

নামায যেভাবে আদায় করবেন

উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী নামাযের স্থান ও শরীরের পবিত্রতা অর্জনের পর নামাযের সময় হলে নফল অথবা ফরয, যে কোন নামায পড়ার ইচ্ছা করুন না কেন, অন্তরে দৃঢ়সংকল্প নিয়ে কিব্লা অর্থাৎ পবিত্র মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফের দিকে মুখ করে
একাগ্রতার সাথে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং নিুবর্ণিত কর্মগুলো করবেন:

১। সেজদার জায়গায় দৃষ্টি রেখে তাক্বীরে তাহ্রীমা (আল্লাহু আকবার) বলবেন।
২। তাকবীরের সময় কান বরাবর অথবা কাঁধ বরাবর উভয় হাত উঠাবেন।
৩। তাকবীরের পর নামায শুরুর একটি দু’আ পড়বেন, পড়া সুন্নাত। দু’আটি নিুরূপ:

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلا إلَهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ: সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুকা।
অর্থ: “প্রশংসা এবং পবিত্রতা বর্ণনা করছি আপনার হে আল্লাহ! বরকতময় আপনার নাম। অসীম ক্ষমতাধর ও সুমহান আপনি। আপনি ভিন্ন আর কোন উপাস্য নেই”।

ইচ্ছা করলে উক্ত দু’আর পরিবর্তে এই দোআ পড়া যাবে:

”اَللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اَللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اَللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَايَ بِالْمَاْءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ“

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা বাইদ্ বাইনী ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া কামা বা’আত্তা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিবি, আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতাইয়াইয়া কামা য়ুনাক্কাছ ছাওবুল আবইয়াযু মিনাদ্দানাসি, আল্লাহুম্মাগ্সিল্নী মিন্ খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি ওয়াছ্ ছালজি ওয়াল বারাদি”।

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ও আমার গুনাহের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করুন যতটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ঠিক ঐভাবে পাপমুক্ত করুন যেভাবে সাদা কাপড় ময়লামুক্ত হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহকে পানি দিয়ে ও বরফ দিয়ে এবং শিশির দ্বারা ধুয়ে দিন”। (বুখারী ও মুসলিম)

৪। তারপর বলবেন:

أَعُوْذُ باللهِِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ: “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম”।

অর্থ: “আমি আশ্রয় চাচ্ছি আল্লাহর নিকট অভিশপ্ত শয়তান থেকে। আরম্ভ করছি দয়াবান কৃপাশীল আল্লাহর নামে।” এর পর সূরা ফাতিহা পড়বেন:

الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ * إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ * اهدِنَا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ  آمين

অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টিকুলের রব। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আপনারই আমরা ইবাদত করি এবং আপনারই নিকট সাহায্য চাই। আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন। তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয় নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।”

৫। তারপর কুরআন হতে মুখস্থ যা সহজ তা পড়বেন। যেমন:

إِذَا جَاء نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ * وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا * فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا

অর্থ: “যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার পালককর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল।”

৬। তারপর আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে দুই হাত হাঁটুর উপর রেখে পিঠ সোজা ও সমান করে রুকু করবেন এবং বলবেন

سُبْحَانَ رَبِّيِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ: “সুবহানা রাব্বিয়্যাল আযীম

(পবিত্র মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি) এটি তিনবার অথবা তিনের অধিকবার বলা সুন্নত। তারপর বলবেন:

”سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَه“

“সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ”
(আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে শুনলেন যে তাঁর প্রশংসা করল) বলে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে, ইমাম হোক অথবা একাকী হোক, সোজা দাঁড়িয়ে গিয়ে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে বলতে হবে:

”رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْداً كَثِيراً طَيِّباً مُبَارَكاً فِيهِ مِلْءَ السَّماَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ ما بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ“

উচ্চারণ: রব্বানা ওয়া লাকাল হামদু হামদান কাসীরান তাইয়্যেবান মুবারাকান ফীহ, মিল্ আস্সামাওয়াতি ওয়া মিলআলআরযি, ওয়ামিলআ মা বাইনাহুমা ওয়া মিলআ মা শী’তা মিন শাইয়িন বা’দু”।

অর্থ: “ হে আমার প্রতিপালক! প্রশংসা আপনারই জন্য, প্রচুর প্রশংসা, যে প্রশংসা পবিত্র-বরকতময়, আকাশ ভরে, যমীন ভরে এবং এ উভয়ের মধ্যস্থল ভরে, এমনকি আপনি যা ইচ্ছে করেন তা ভরে পরিপূর্ণরূপে আপনার প্রশংসা”।

আর যদি মুক্তাদী হয় তাহলে রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে উপরোল্লেখিত দু’আ رَبَّنَا ولَكَ الْحَمْد …. (রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদু…) শেষ পর্যন্ত পড়বেন।

৮। তারপর اللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবর) বলে বাহুকে তার পার্শ্বদেশ থেকে এবং ঊরুকে উভয় পায়ের রান থেকে আলাদা রেখে সেজদা করবেন। সেজদা পরিপূর্ণ হয় সাতটি অঙ্গের উপর, কপাল-নাক, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের অঙ্গুলির তলদেশ। সেজদার অবস্থায় তিনবার অথবা তিন বারেরও বেশি এই দুআ পড়বেন।

سُبْحَانَ رَبِّيَ الاَعْلَى

উচ্চারণঃ সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা (পবিত্রতা ঘোষণা করছি আমার মহান প্রতিপালকের) বলবেন এবং ইচ্ছা মত বেশী করে দু’আ করবেন।

৯। তারপর اللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার) বলে মাথা উঠিয়ে পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসে দুই হাত, রান ও হাঁটুর উপর রেখে বলবেন,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَعَافِنِي وَارَزُقْنِي وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِيْ

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মাগর্ফিলী ওর্য়াহামনী ওয়া আফিনী ওয়ারজুকনী ওয়াহ্দিনী ওয়াজবুরনী”।

অর্থ: “ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, দয়া করুন, নিরাপদে রাখুন, জীবিকা দান করুন, সরল পথ দেখান, শুদ্ধ করুন”।

১০। তারপর اللهُ أَكْبَر (আল্লাহু আকবার) বলে দ্বিতীয় সেজদা করবেন এবং প্রথম সেজদায় যা করেছেন তাই করবেন।
১১। তারপর اللهُ أَكْبَر (আল্লাহু আকবার) বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়াবেন। (এই ভাবে প্রথম রাকাত পূর্ণ হবে।)
১২। তারপর দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও কুরআনের কিছু অংশ পড়ে রুকু করবেন এবং দুই সেজদা করবেন, অর্থাৎ
পুরোপুরিভাবে প্রথম রাকাতের মতোই করবেন।

১৩। তারপর দ্বিতীয় রাকাতের দুই সেজ্দা থেকে মাথা উঠানোর পর দুই সাজ্দার মাঝের ন্যায় বসে তাশাহ্হুদের এই দু’আ পড়বেন:

”اَلتَّحِيَاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، اَلسَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، اَلسَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِاللهِ الصَالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ الهُص وأَشهدُ أَنَّ مُحَمَّداً عبْدُهُ وَرَسُولُهُ“

উচ্চারণ:আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্সলাওয়াতু ওয়াত্তাইয়েবাতু, আস্সালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু ওয়া রহ্মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ, আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সলেহীন, আশ্হাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ”।

অর্থ : “সকল তাযীম ও সম্মান আল্লাহর জন্য, সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভাল কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপানার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের উপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল।”

তবে নামায যদি দুই রাকাত বিশিষ্ট হয়। যেমন: ফজর, জুমআ, ঈদ তাহলে আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ….. পড়ার পর একই বৈঠকে এই দরূদ পড়বেন:

”اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ“

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”।

অর্থ: “ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত সম্মানিত।”
আপনি মুহাম্মাদ ও তার বংশধরদের উপর বরকত বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম ও তার বংশধরদের উপর বরকত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, সম্মানিত”।

তারপর চারটি জিনিস থেকে এই বলে পানাহ চাইবেন:

”اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ“

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নামা ওয়া মিন আযাবিল্ ক্বাবরি ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল্মামাতি ওয়া মিন ফিত্নাতিল মাসীহিদ্দাজ্জাল”।

অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি অবশ্যই আপনার নিকট জাহান্নাম ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। দজ্জালের ফিত্না এবং জীবন মৃত্যুর ফিত্না থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”

উক্ত দু’আর পর ইচ্ছেমত দুনিয়া ও আখিরতের কল্যাণ কামনার্থে মাস্নুন দু’আ পড়বেন। ফরয নামায হোক অথবা নফল সকল ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি প্রযোজ্য। তারপর ডান দিকে ও বাম দিকে (গর্দান ঘুরিয়ে)

”اَلسَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ“

উচ্চারণ: “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলবেন।

আর নামায যদি তিন রাকাত বিশিষ্ট হয়, যেমন মাগরিব। অথবা চার রাকাত বিশিষ্ট হয়, যেমন যোহর, আসর ও এশা, তাহলে দ্বিতীয় রাকাতের পর (সালাম না ফিরিয়ে) “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি…. পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে সোজা দাঁড়িয়ে গিয়ে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে প্রথম দু’ রাকাতের মত রুকু ও সাজদা করতে হবে এবং চতুর্থ রাকাতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে (শেষ তাশাহ্হুদে) বাম পা, ডান পায়ের নীচে রেখে ডান পা খাড়া রেখে মাটিতে নিতম্বের (পাছার) উপর বসে মাগরিবের তৃতীয় রাকাতের শেষে এবং যোহর, আসর ও এশার চতুর্থ রাকাতের শেষে, শেষ তাশাহ্হুদ (আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহ……, ও দরূদ পড়বেন। ইচ্ছে হলে অন্য দু’আও পড়বেন। এরপর ডান দিকে (গর্দান) ঘুরিয়ে (আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলবেন। আর এভাবেই নামায সম্পন্ন হয়ে যাবে।

প্রথম প্রকাশ

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

বেশিরভাগ মানুষেরই নামাজে অনেক ভুল থাকে। আপনার এই টপিকে সে সব ভুল আমরা শুধরে নিতে পারব।-ইনশাল্লাহ।
ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

Allah is a better planner... so whenever u'r plan fails, cheer up... Allah has a better plan for you

Shahanur79'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

ইলিয়াস ভাই আপনাকে রেপু দেব না , কারন এই টপিকে রেপু দেওয়ার যোগ্যতা আমার নাই , আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ । আমি কিছু দিন ধরে প্রজন্মে এই জাতীয় টপিক কাউকে লেখার জন্য অনুরোধ করার কথা চিন্তা করেচিলাম , কিন্তু বলার আগেই আপনি দিলেন ......

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

Shahanur79 লিখেছেন:

আপনার এই টপিকে সে সব ভুল আমরা শুধরে নিতে পারব।-ইনশাল্লাহ।

হুম এই কথা মাথায় রেখেই আমার পোষ্ট করা। ধন্যবাদ শাহনুর ভাই।

সাইফুল_বিডি লিখেছেন:

ইলিয়াস ভাই আপনাকে রেপু দেব না , কারন এই টপিকে রেপু দেওয়ার যোগ্যতা আমার নাই , আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ । আমি কিছু দিন ধরে প্রজন্মে এই জাতীয় টপিক কাউকে লেখার জন্য অনুরোধ করার কথা চিন্তা করেচিলাম , কিন্তু বলার আগেই আপনি দিলেন ......

সাইফুল ভাই আমি আমার লেখা/পোষ্ট রেপুর জন্য করিনা। আমার লেখা/ পোষ্টে যদি একজন মানুষও উপকৃত হয় বা হেদায়েত হয় তাহলে আমার মত গোনাহগারের হয়তোবা নাজাতের উসিলা হবে।

তবে মাঝে মাঝে কমেন্ট না পেলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলি । sad  ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।  hug

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

সুন্দর পোষ্টের জন্য ইলিয়াস ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। smile

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই। smile

ঝামেলা'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

আমাদের প্রত্যক মুসলিম দের জন্য অনেক দরকারী এবং আমার মনে হয় এই সকল বিষয়গুলো আমাদের প্রত্যক ব্লগ এবং ফোরামে শেয়ার করা

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

‌টপিকটির জন্য ধন্যবাদ। আরবী লিখছেন কি দিয়া?  thinking thinking

আশিকুর_নূর'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

ধন্যবাদ সবাইকে।  hug

আশিকুর_নূর লিখেছেন:

আরবী লিখছেন কি দিয়া?

ArabicPad নামক একটা সফট দিয়ে।

১১

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

দারুন শেয়ার........ধন্যবাদ ভাইজান

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১২

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

দারুন শেয়ার........ধন্যবাদ ভাইজান

আপনাকেও ধন্যবাদ বোন।  hug

১৩

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

রমজানের আজ ১০ দিন দেখতে দেখতে রহমতের ১০দিন শেষ হয়ে গেল।

টপিকটি আশাকরি নতুনদরে কাজে লাগবেতাই একটু জাগিয়ে দিলাম। smile

১৪

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

ধারাবাহিকভাবে হওয়াতে অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে। নামাজ শিক্ষার্থীদের জন্য খুব সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আরবী লেখার ক্ষেত্রে কিছু হরকত টাইপ মিসটেক হয়েছে।

আল্লাহ ইলিয়াস ভাইয়ের এ প্রচেষ্টা স্বার্থক করুন।

১৫

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

খুব ভালো শেয়ার, ইলিয়াস ভাই। আচ্ছা, বিত্‌র নামাজের ব্যাপারে একটু জানতে চাই। অনেকে বলেন, এটা নাকি ১ রাকাতও পড়া যায়। আর ৩ রাকাত পড়লেও ২য় রাকাতে বসার দরকার নেই। রাসুল (সাঃ) নাকি ৩ রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে ২য় রাকাতের সিজদাদ্বয় শেষে না বসেই উঠে যেতেন। কোথায় জানি দেখেছিলাম, লিংকটা এ মূহুর্তে মনে করতে পারছিনা।

১৬

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

জেলাল লিখেছেন:

অনেকে বলেন, এটা নাকি ১ রাকাতও পড়া যায়। আর ৩ রাকাত পড়লেও ২য় রাকাতে বসার দরকার নেই। রাসুল (সাঃ) নাকি ৩ রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে ২য় রাকাতের সিজদাদ্বয় শেষে না বসেই উঠে যেতেন। কোথায় জানি দেখেছিলাম, লিংকটা এ মূহুর্তে মনে করতে পারছিনা।

আমরা যারা হানাফি মাজহাবের অনুসারী তারা বেতের নামাজ তিন রাকাতই জানি তবে কেউ কেউ ১রাকাত বলেও দাবী করেন।  এ ব্যাপারে আমি বিষদ জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

১৭

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

মাশাআল্লাহ! কাজের পোস্ট; ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

আমি মানুষটা বড় বেশি রংছুট,চাঁদের ঘরে কড়া নেড়ে, চাঁদকে করি লুট

১৮

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

টাট্টুহর্স লিখেছেন:

মাশাআল্লাহ! কাজের পোস্ট; ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

আপনাকেও ধন্যবাদ মিনহাজুল ইসলাম ভাই।

১৯

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

ইলিয়াস লিখেছেন:

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মাগর্ফিলী ওর্য়াহামনী ওয়া আফিনী ওয়ারজুকনী ওয়াহ্দিনী ওয়াজবুরনী”।

সেদিন একটা ইসলামিক অনুষ্ঠানে পড়লাম এটি খুব দুর্বল হাদীস। মহানবী (স:) অন্য একটু দু'আ দুইবার পড়তেন।

ইলিয়াস লিখেছেন:

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নামা ওয়া মিন আযাবিল্ ক্বাবরি ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল্মামাতি ওয়া মিন ফিত্নাতিল মাসীহিদ্দাজ্জাল”।

কিন্তু আমিতো জানতাম দরুদ শরীফ পড়ার পড় দু'আ মাসুরা পড়তে হয়। (বইতেও তেমনটাই পড়েছি)

ইলিয়াস লিখেছেন:

৬। তারপর আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে দু হাত কাঁধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তোলন করে দুই হাত হাঁটুর উপর রেখে পিঠ সোজা ও সমান করে রুকু করবেন এবং বলবেন

এই ব্যাপারটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। বেশীরভাগ মানুষই তো দেখি এমনটা করে না। সূরা পড়া শেষ হলে শুধু আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে চলে যায়!  thinking

OH DEAR NEVER FEAR SAIF IS HERE
BOSS অর্থাৎ সাইফ
Cloud Hosting BossHostBD

২০

Re: নামাজ-নামাজ যেভাবে আদায় করবেন

সাইফ দি বস ৭ লিখেছেন:

কিন্তু আমিতো জানতাম দরুদ শরীফ পড়ার পড় দু'আ মাসুরা পড়তে হয়। (বইতেও তেমনটাই পড়েছি)

এখানে তুমি এ দোআটি ছাড়াও দোআয়ে মাসুরা আবার শুধু এটুকু পড়লেও চলবে। " রব্বানা আতিনা ফিদ্দুইয়া হাসনাতাওঁ ওয়াফিল আখেরাতি হাসনাতাওঁ ওযাকিনা আজাবান্নার।

সাইফ দি বস ৭ লিখেছেন:

এই ব্যাপারটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। বেশীরভাগ মানুষই তো দেখি এমনটা করে না। সূরা পড়া শেষ হলে শুধু আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে চলে যায়! 

আমি যেটা বলেছি সেটা আহলে হাদিস তথা বোখারী শরীফ মতে। আর তুমি যেটা বলছো সেটা হানাফি মাজহাব মতে। ধন্যবাদ তোমার মন্তব্যের জন্য।