সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইলিয়াস (০২-০৩-২০১২ ১৫:২৫)

টপিকঃ নামাজ-নামাজের ফজিলত

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বরাকাতুহ। কেমন আছেন বন্ধুরা ? নিশ্চয় রহমানুর রহিম, দয়ালু দাতা,সর্ব শক্তিমান আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন। ইসলামের মুল বা স্তম্ভ পাঁচটি,কলেমা, নামাজ,রোযা, হজ্ব ও জাকাত। আজ আমরা নামাজ সম্পর্কিত আলোচনা করব।

ইসলামে নামাযের গুরুত্ব অপরিসীম। নামায ইসলামের দ্বিতীয় রুকন, যা সুপ্রতিষ্ঠিত করা ব্যতীত মুসলমান হওয়া যায় না। নামাযে অবহেলা, অলসতা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা মুতাবিক নামায পরিত্যাগ করা কুফরি, ভ্রষ্টতা এবং ইসলামের গণ্ডীবহির্ভূত হয়ে যাওয়া। সহীহ হাদীসে এসেছে,
بين الرجل وبين الكفر والشرك ترك الصلاة

অর্থ: “মুমিন ও কুফর-শিরকের মধ্যে ব্যবধান হল নামায পরিত্যাগ করা”। (মুসলিম)

এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন:
العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر

অর্থ: “আমাদের ও তাদের মধ্যকার অঙ্গীকার হল নামায। অত:পর যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করবে সে কাফির হয়ে যাবে।

হাদীসটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাসূত্রের নিরিখে হাদীসটিকে হাসান (সুন্দর) বলেছেন।
নামায ইসলামের স্তম্ভ ও বড় নিদর্শন এবং বান্দা ও তার প্রতিপালকের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী। সহীহ হাদীসে এর প্রমাণ।রাসূলুল্লাহ সা. বলেন:
إن أحدكُم إذا صَلَّى يُناجي ربَّه

অর্থ: “নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ যখন নামায আদায় করে তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে (মুনাজাত করে) নির্জনে কথা বলে।

নামায বান্দা ও তার প্রতিপালকের মহব্বত এবং তাঁর দেওয়া অনুকম্পার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক। নামায আল্লাহর নিকট অতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার প্রমাণসমূহের একটি এই যে, নামায হল প্রথম ইবাদত যা ফরয হিসেবে পালনের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মেরাজের রাতে, আকাশে, মুসলিম জাতির উপর তা ফরয করা হয়েছে। তা ছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে, ‘কোন আমল উত্তম’ জিজ্ঞাসা করা হলে তার প্রত্যুত্তরে তিনি বলেছেন:
”الصلاة على وقتها“

অর্থ: “সময় মত নামায আদায় করা”। (বুখারী ও মুসলিম)।

নামাযকে আল্লাহ পাপ ও গুনাহ থেকে পবিত্রতা অর্জনের অসিলা বানিয়েছেন। হাদীসে এসেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
أرأيتُم لو أن نهراً بباب أحدكم يغتسل فيه كل يوم خمس مرات، هل يبقى من درنه شيء؟ قالوا: لا، قال: كذلك مثل الصلوات الخمس يَمْحُوا اللهُ بهنّ الخطايا

অর্থ: “যদি তোমাদের কারো (বাড়ীর) দরজার সামনে প্রবাহমান নদী থাকে এবং তাতে প্রত্যেক দিন পাঁচ বার গোসল করে, তাহলে কি তার (শরীরে) ময়লা বাকী থাকবে? (সাহাবীগণ) বললেন, ‘না’। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘অনুরূপভাবে আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের দ্বারা (বান্দার) গুনাহকে মিটিয়ে দেন’। (বুখারী ও মুসলিম)

এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে আরো হাদীস বর্ণিত হয়েছে:
أنه كان آخر وصيته لأمته، وآخر عهده إليهم عند خروجه من الدنيا أن اتّقوا الله في الصلاة وفيما ملكت أيمانُكم. (أخرجه أحمد والنسائي وابن ماجه)

অর্থ: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুকালে তাঁর উম্মাতের জন্য সর্বশেষ অসিয়ত (উপদেশ) এবং অঙ্গীকার গ্রহণ ছিল, তারা যেন নামায ও তাদের দাস-দাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে।” (হাদীসটি ইমাম আহমাদ, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নামাযের ব্যাপারে খুবই গুরুত্বারোপ করেছেন এবং নামায ও নামাযীকে সম্মানিত করেছেন। কুরআনের অনেক জায়গায় বিভিন্ন ইবাদতের সাথে বিশেষভাবে নামাযের কথা উল্লেখ করেছেন। নামাযকে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে কয়েকটি আয়াত নিুরূপ:
حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُواْ لِلّهِ قَانِتِينَ

অর্থ “তোমরা সমস্ত নামাযের প্রতি যতœবান হও, বিশেষ করে (মাধ্যম) আসরের নামায। আর আল্লাহর সমীপে কাকুতি-মিনতির সাথে দাঁড়াও”। (সূরা আল বাকারাহ, আয়াত: ২৩৮)

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ 

অর্থ: “আর তুমি নামায সুপ্রতিষ্ঠিত কর। নিশ্চয় নামায অশালীন এবং অন্যায় কাজ থেকে বারণ করে”। (সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ

অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা আল বাকারা , আয়াত: ১৫৩)

 إِنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا

অর্থ: “নিশ্চয় নামায মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয।” (সূরা আন নিসা, আয়াত: ১০৩)

নামায পরিত্যাগকারীর জন্য আল্লাহর আযাব অপরিহার্য।
ইরশাদ হয়েছে:
فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا

অর্থ: “অতঃপর তাদের পরে আসল এমন এক অসৎ বংশধর যারা সালাত বিনষ্ট করল এবং কুপ্রত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং তারা শীগ্রই জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে”। (সূরা মারয়াম, আয়াত: ৫৯)

আল্লাহর বিধান অনুযায়ী, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে, তাঁর ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে নামায সুপ্রতিষ্ঠিত করা ও সময়মত তা আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।


{চলবে}

প্রথম প্রকাশ

Re: নামাজ-নামাজের ফজিলত

ধন্যবাদ ভাই শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

Re: নামাজ-নামাজের ফজিলত

শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

Re: নামাজ-নামাজের ফজিলত

jemsbond লিখেছেন:

ধন্যবাদ ভাই শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

আগন্তুক মিলন লিখেছেন:

শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনাদেরকেও ধন্যবাদ ।  smile

Re: নামাজ-নামাজের ফজিলত

অসংখ্য ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য thumbs_up

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: নামাজ-নামাজের ফজিলত

ইলিয়াস ভাই আপনার নামাজ শিক্ষা নিয়ে যে পিডিএফ বানিয়েছেন তা পড়ে কিছু খটকা লাগলো। মানে আমি আপনার ভুল ধরছি না। কিন্তু আমি নিশ্চই ভুল ভাবে পড়ছি। যেমন

আর নামায যদি তিন রাকাত বিশিষ্ট, যেমন মাগিরব। অথবা চার রাকাত বিশিষ্ট হয়, যমন যেহর, আসর ও এশা, তাহলে দ্বিতীয় রাকাতের পর (সালাম না ফিরিয়ে) “আত্তাহিয়াতু লিল্লাহে.... পড়ার পর আল্লাহু আকবার  দুই কাধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তলোন করে সোজা দাড়িয়ে গিয়ে শুধু সুরা ফাতিহা পড়ে....

আমাদের প্রচলিত নামাজ শিক্ষায় এই ব্যপারে কোন উল্লেখ নাই। একটু ব্যাখ্যা দিবেন কি?

এছাড়া এশার নামাজ ত প্রায় সুন্নত (৪)ফরজ (৪) নফল (৪) ও বেতের(৩) নিয়ে মোট ১৫ রাকাত পড়ি নামাজের এ অংশে আপনি শুধু ফরজ ৪ রাকাত আর সুন্নত ২ বলেছেন। আর কোন নফল নামাজের উল্লেখও করেন নি। একটু বিস্তারিত জানতে চাই ভাই। আশা করি আল্লাহ আমাদেরকে সহি শুদ্ধ রুপে এবাদত করার তৌফিক দান করবেন। আমিন।

এক জীবনই সম্পূর্ন নয়।..

My e-mail address

Re: নামাজ-নামাজের ফজিলত

শাহরিয়ার লিখেছেন:

আল্লাহু আকবার  দুই কাধ বরাবর অথবা কান বরাবর উত্তলোন করে সোজা দাড়িয়ে গিয়ে শুধু সুরা ফাতিহা পড়ে...আমাদের প্রচলিত নামাজ শিক্ষায় এই ব্যপারে কোন উল্লেখ নাই। একটু ব্যাখ্যা দিবেন কি?

সুন্দর প্রশ্নের জন্য অনেক ধন্যবাদ শাহরিয়ার ভাইকে। আমরা বাংলাদেশীরা অধিকাংশই ইমাম আবু হানিফা (র) এর অনুসারী তাই এখানে এসে আমাদের খটকা লাগে। আর আমি পিডিএফটা তৈরী করেছি সহীহ বোখারী হাদিস মোতাবেক। নবী (সাঃ) এভাবেই নামাজ পড়েছেন। আমাদের সবরাই চেষ্টা থাকা উচিত সহীহ তালাশ করা এবং সহীহ মোতাবেক নামাজ আদায় করা।

শাহরিয়ার লিখেছেন:

এছাড়া এশার নামাজ ত প্রায় সুন্নত (৪)ফরজ (৪) নফল (৪) ও বেতের(৩) নিয়ে মোট ১৫ রাকাত পড়ি নামাজের এ অংশে আপনি শুধু ফরজ ৪ রাকাত আর সুন্নত ২ বলেছেন।

এশার নামাজ বাধ্যতামুলক ৬ রাকাত, ৪ রাকাত ফরজ ও ২ রাকাত সুন্নতে মোআক্কাদা। এই ৬ রাকাত নামাজ ছাড়া এশা;র নামাজ সম্পুর্ণ হয় না। যেমন ফ রজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত এই ৪ রাকাত সুন্নত আপনার ইচ্ছা পড়লে পড়বেন না পড়লে নাই।

বেতের নামাজ এশার নামাজ হতে আলাদা তাই এখানে বেতের নামাজটি হিসেবে ধরা হয়নি।

Re: নামাজ-নামাজের ফজিলত

সুন্দর পোষ্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ভাইজান........... smile

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: নামাজ-নামাজের ফজিলত

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

সুন্দর পোষ্টের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ভাইজান........... smile

আপনাকেও ধন্যবাদ বোন ।  hug