টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৯, দায়িত্ব সচেতনতা

আগের পর্ব সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৮,আকর্ষনীয় নেতৃত্ব

তিন.দায়িত্ব সচেতনতা

সাহাবায়ে কেরাম ভালোভাবেই জানতেন যে, মাটির মানিষের ওপর যেসব দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, সে দায়িত্ব যতো কঠিনই হোক না কেন, উপেক্ষা করার কোন উপায় নেই। কেননা সে দায়িত্ব উপেক্ষার পরিণাম হবে আরো বেশী ভয়াবহ। এতে সমগ্র মানব জাতি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সেই ক্ষতির তুলনায় এ যুলুম অত্যাচার বিপদ মুসিবতের কোন গুরুত্বই নেই।

চার. পরকালের ওপর বিশ্বাস

আখেরাত বা পরকালের জীবনের ওপর বিশ্বাস উল্লিখিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁদের কঠোর সংযমী ও সহিষ্ণু হতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাহাবায়ে কেরাম এ ব্যাপারে সুদৃঢ় ও অবিচল আস্থা পোষণ করতেন যে, তাদেরকে একদিন রব্বুল আলামিন আল্লাহর দরবারে দাঁড়াতে হবে। সেখানে জীবনের ছোট বড় সকল কাজের হিসাব দিতে হবে। এরপর হয়তো নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত অথবা ভয়াবহ শাস্তিভরা জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে। এ বিশ্বাসের বলে সাহাবায়ে কেরাম আশা ও আশষ্কায় পরিপূর্ণ জীবন যাপন করতেন। প্রিয় প্রভু আল্লাহর রহমতের আশা পোষণ করতেন এবং তার আযাবকে ভয় করতেন। তাঁদের অবস্থার কথা পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এভাবে উল্লেখ করেন তারা যা কিছু সম্পাদন করে সেটা করে অন্তরে ভয়ভীতির সঙ্গে। এ কারণে করে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে।
তাঁরা একথাও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, এ পৃথিবীর সকল আরাম-আয়েশ সুখ-স্বাচ্ছন্দ এবং দুঃখষ্টসহ্য পরকালের তুলনায় একটি মশার একটি পাখার সামান মূল্যও রাখে না। এ বিশ্বাস তাঁদের এতো অবিচল এবং অটুট ছিলো যে, এর মোকাবেলায় দুনিয়ার সব বিপদ-আপদ তিক্ততা দুঃখকষ্ট ছিলো তুচ্ছ ।

পাঁচঃ কঠিন থেকে কঠিনতর সে অবস্থা

কোরআনের যেসব আয়াত পর্যায়ক্রমে নাযিল হচ্ছিল, তাতে ইসলামি বুনিয়াদি শিক্ষা ও আদর্শ আকর্ষনীয়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছিল। কোরআনের সেসব আয়াত মানব জাতির সামনে সবচেয়ে সম্মানজনক ও বৈশিষ্টমন্ডিত ইসলামী সমাজের ঈমানের সজিবতা এবং দৃঢ়তাকে আরো শক্তিমান করে তোলা হচ্ছিল। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন উদাহরণ পেশ করছিলেন এবং হেকমত বা কৌশল মুসলমানদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে যদিও এখনো তোমাদের কাছে তোমাদের পুর্ববর্তীদের অবস্থা আসেনি এবং তারা ভীত ও কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসুল ও তার সাথে ঈমান আনয়নকারীরা বলে উঠেছিলো, আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে ? হাঁ আল্লাহর সাহায্য কাছেই”। {সুরা বাক্বারা আয়াত ২১৪}

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, “আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে, আমলা ঈমান এনেছি, একথা বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে অব্যহতি দেয়া হবে ? আমিতো তাদের পুর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছিলাম। আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দিবেন কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী। {সুরা-২৯ আয়াত ১-৩}

পাশাপাশি এমন সব আয়াত নাযিল হচ্ছিল যেসব আয়াতে কাফের মুশরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হচ্ছিল। তাদের কোন অজুহাতই ধোপে টেকার মত ছিল না। সুস্পষ্ট ভাষায় তাদের বলে দেয়া হচ্ছিল যে, যদি তারা তাদের পথভ্রষ্টতা এবং হটকারীতার উপর অঠল থাকে তবে পরিণাম হবে মারাত্মক। উদাহরণ হিসেবে পুর্ববর্তী জাতি সমূহের এমন সব ঘটনা ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে যে, ওতে আল্লাহর রসুল ও কাফেরদের সম্পর্কে আল্লাহর নীতি ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সাথে দয়া ও ক্ষমার কথাও বলা হয়েছে। এবং পথ নির্দেশ ব্যক্ত করা হয়েছে। এসব বলা হয়েছে এ জন্য যে অবিশ্বাসীরা যেন নিজেদের পথ ভ্রষ্টতা ও গোমরাহী থেকে বিরত থাকে।

প্রকৃত পক্ষে কোরআন মুসলামনদেরকে এক ভিন্ন পৃথীবি ভ্রমন করিয়ে এনেছে। তাদ;এর সামনে বিস্ময়কর সব উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। যাতে তারা হত্যোদম হয়ে না পরে কোন বাধা বা প্রতিকুলতাই যেন তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতে না পারে।

এসকল আয়াতে মুসলমানদেরকে এমন সব কথাও বলা হয়েছে, যার দ্বারা মুসলমানরা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও নেয়ামত পুর্ণ জান্নাতের সুসংবাদ পেতে পারে। আর অবিশ্বাসীদের চিত্র এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে , যাতে তারা আল্লাহর দরবারে ফয়সালার জন্য হাযির করার কথা জানতে পারে। তাদের পার্থিব জীবনের পুণ্যের কোন স্থান পাবে না বরং তাদেরকে টেনে হিচরে দোজখে নিক্ষেপ করা হবে এবং বলা হবে, এবার দোজখের স্বাদ গ্রহণ করো চিরদিন ধরে।

{চলবে}

প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৯, দায়িত্ব সচেতনতা

তাঁরা একথাও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, এ পৃথিবীর সকল আরাম-আয়েশ সুখ-স্বাচ্ছন্দ এবং দুঃখষ্টসহ্য পরকালের তুলনায় একটি মশার একটি পাখার সামান মূল্যও রাখে না।

আর আমরা এই সামান্য দু:খ সুখকে কত বড় মনে করি । আল্লাহ যেন আমাদের মাফ করেন

ভাইজান আপনি সওয়াব পাবেন । ধন্যবাদ

এত সুন্দর টপিক কমেন্ট ছাড়া চলে যায় ।

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৯, দায়িত্ব সচেতনতা

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

আর আমরা এই সামান্য দু:খ সুখকে কত বড় মনে করি । আল্লাহ যেন আমাদের মাফ করেন

আল্লাহ রব্বুল আলামীন আপনার দোআ কবুল করুক।

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

এত সুন্দর টপিক কমেন্ট ছাড়া চলে যায় ।

এ কারণেই আমার টপিক করা কমে গেছে sad