টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৮,আকর্ষনীয় নেতৃত্ব

পুর্ববর্তী টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৭, ঈমানের সৌন্দর্য

এ ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু লাহাবের পুত্র ওতাইবাকে বদদোয়া করার পর সে বুঝেছিলো যে, এর পরিনাম থেকে সে রক্ষা পাবে না। সিরিয়া সফরের সময় বাঘ দেখেই সে বলেছিলো, আল্লাহর কসম, মোহাম্মদ মক্কায় থেকেই আমাকে হত্যা করেছেন।

উবাই ইবনে খালফের ঘটনায় রয়েছে যে, এই লোকটি বারবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করার হুমকি দিতো। এ ধরণের হুমকির জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার বলেছিলেন, তুমি নও বরং আমিই তোমাকে হত্যা করবো ইনশাল্লাহ। এরপর ওহুদের যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য একজন সাহাবী হাত থেকে একটি বর্শা নিয়ে উবাইয়ের প্রতি নিক্ষেপ করেন। এতে তার ঘাড়ের কাছের কাছে সামান্য যখম হয়েছিলো। পরে উবাই বারবার বলেছিলো, মোহাম্মদ মক্কায়ই বলেছিলেন, আমি তোমাকে হত্যা করবো। তিনি যদি আমাকে থুথুও নিক্ষেপ করতেন, তবুও আমার প্রাণ বেরিয়ে যেতো। এর বিস্তারিত বিবরণ পরে উল্লেখ করা যায়।

একবার হযরত সা’দ ইবনে মায়ায মক্কার উমাইয়া ইবনে খালফকে বলেছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি বলকে শুনছি যে, মুসলমানরা তোমাকে হত্যা করবে। একথা শুনে উমাইয়া ভীষণ ভয় পেয়ে গেলো। এ ভয় সব সময়েই তার ছিলো। সে প্রতিজ্ঞা করেছিলো যে, মক্কার বাইরে কখনো যাবে না। বদরের যুদ্ধের সময় আবু জেহেলের পীড়াপীড়িতে উমাইয়া যুদ্ধে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সবচেয়ে দ্রুতগামী উট ক্রয় করলো, যাতে বিপদের আশস্কার সময় দ্রুত পালিয়ে আসতে পারে। যুদ্ধে রওয়ানা হওয়ার সময় তার স্ত্রী তাকে বলেছিলো, আবু সফওয়ান, আপনার ইয়াসরেবী ভাই যে কথা বলেছিলেন, আপনি কি সে কথা ভুলে গেছেন? উমাইয়া বললো, না ভুলিনি, আমি তো ওদের সাথে অল্প কিছু দূরে যাবো।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শত্রুদের অবস্থা ছিলো এ রকম। তাঁর সঙ্গী এবং সাহাবাদের অবস্থাতো এমন ছিলো যে, তারা মনে প্রাণে প্রিয় নবীর প্রতি নিবেদিত ছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সাহাবাদের ভালোবাসা এতো তীব্র ছিলো যেন তা পাহাড়ী ঝর্ণার পানির ধারা। লোহা যেমন চুম্বকের প্রতি আকৃষ্ট হয়, সাহাবারাও তেমনি আল্লাহর রাসূল (স) এর প্রতি আকৃষ্ট হতেন।

কবি বলেন, তাঁর চেহারা সব মানব দেহের জন্যে অস্তিত্ব স্বরূপ, তাঁর অস্তিত্ব ছিলো প্রতিটি অন্তরের জন্যে চুম্বকের মতো।
এ ধরণের ভালোবাসা এবং নিবেদিত চিত্ততার কারণেই সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর রসূলের ওপর কারো আঁচর এবং তাঁর পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হওয়াও সহ্য করতে পারতেন না। এর বিনিময়ে তারা নিজেদের মাথা কাটিয়ে দিতেও প্রস্তত থাকতেন।
দুর্বৃত্ত ওতবা ইবনে রবিয়া একদা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা)-কে মারাত্মকভাবে প্রহার করলো। তাঁর চেহারা রক্তাক্ত করে দেয়া হলো। তীব্র প্রহারের এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। খবর পেয়ে তাঁর গোত্র বনু তাইমের লোকেরা তাঁকে কাপড়ে জড়িয়ে বাড়িতে পৌছে দিল। তাঁর বাঁচার আশা সবাই ছেড়ে দিয়েছিলো। দিনের শেষে তাঁর জ্ঞান ফিরে এলো। তিনি প্রথমেই জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেমন আছেন? একথা শুনে বনু তাঈম গোত্রের যারা সেখানে উপস্থিত ছিলো, তারা বিরক্তি প্রকাশ করলো। তারা উঠে যাওয়ার সময় হযরত আবু বকরের মাকে বললো, ওকে কিছু খাওয়াতে পারেন কিনা দেখুন।

আবু বকর (রা) তাঁর মা উম্মুল খায়েরের কাছে আল্লাহর রাসূলের খবর জানতে চাইছিলেন। তিনি বললেন, আমি তো জানি না বাবা। হযরত আবু বরক (রা) বললেন, মা, আপনি উম্মে জামিল বিনতে খাত্তাবের কাছে যান। তাঁর কাছ থেকে আমাকে আল্লাহর রাসূলের খবর এনে ‘দিন। উম্মুল খায়ের উম্মে জামিল বিনতে খাত্তাবের কাছে গেলেন, তাঁকে বললেন, আবু বকর তোমার কাছে মোহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সম্পর্কে জানতে চাইছেন। উম্মে জামিল বললেন , আমি আবু বকরকেও জানি না, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহকেও জানি না। তবে আপনি যদি চান, তাহলে আমি আবু বকরের কাছে যেতে পারি। উম্মুল খায়ের উম্মে জামিলকে তাঁর পুত্রের কাছে নিয়ে এলেন। হযরত আবু বকরের অবস্থা দেখে উম্মে জামিল চিৎকার দিয়ে উঠলেন। বললেন, যে কওমের লোকেরা আপনার এ দুরবস্থা করেছে,নিসন্দেহ তারা দুর্বৃত্ত এবং কাফের। আমি আশা করি, আল্লাহ তায়ালা আপনার পক্ষে ওদের ওপর প্রতিশোধ নেবেন। হযরত আবু বকর(রা) আল্লাহর রাসূলের খবর জানতে চাইলেন। উম্মে জামিল উম্মুল খায়েরর প্রতি ইশারা করলেন। হযরত আবু বকর (রা) বললেন, অসুবিধা নেই। উম্মে জামিল বললেন, তিনি ভালো আছেন এবং ইবনে আরকামের ঘরে আছেন। হযরত আবু বকর বললেন, আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, আমাদকে আল্লাহর রাসূলের কাছে না নেয়া পর্যন্ত আমি কোন কিছুই পানাহার করবো না। উম্মুল খায়ের এবং উম্মে জামিল অপেক্ষা করতে লাগলেন। সন্ধার পর লোক চলাচল কমে গেল এবং অন্ধকার গাঢ় হয়ে এলে হযরত আবু ব্কর সিদ্দিক (রা) তাঁর মা উম্মুল খায়ের এবং উম্মে জামিলের কাঁধে ভর দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হাযির হলেন।
ভালোবাসা এবং নিবেদিতচিত্ততার আরো কিছু বিস্ময়কর ঘটনা এ বইয়ের বিভিন্ন স্থান,বিশেষত ওহুদের যুদ্ধের ঘটনার এবং হযরত যোবায়ের (রা) এর ঘটনায় উল্লেখ করা হয়েছে।


{চলবে}

প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৮,আকর্ষনীয় নেতৃত্ব

ভাল লাগল ভাইজান । শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ । বাকী অংশগুলো পড়ার অপেক্ষায়....

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৮,আকর্ষনীয় নেতৃত্ব

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

ভাল লাগল ভাইজান । শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ । বাকী অংশগুলো পড়ার অপেক্ষায়....

আপনার মত পাঠকের জন্যই সিরিজটি চালুই রেখেছি, না হয় এতদিনে এ সিরিজটি বন্ধ করে দিতাম। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৮,আকর্ষনীয় নেতৃত্ব

ইলিয়াস লিখেছেন:
ছবি-Chhobi লিখেছেন:

ভাল লাগল ভাইজান । শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ । বাকী অংশগুলো পড়ার অপেক্ষায়....

আপনার মত পাঠকের জন্যই সিরিজটি চালুই রেখেছি, না হয় এতদিনে এ সিরিজটি বন্ধ করে দিতাম। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য।

মনে খুব কষ্ট পেলাম ইলিয়াস ভাই কারন আমি নিজেও এই সিরিজের খুব ভক্ত এবং অবশ্যই পড়ার চেষ্টা করি।

আমার জীবনের সব্চেয়ে প্রিয় শব্দগুলো হলঃ (সুবাহান আল্লাহ্, আলহাম্দুলিল্লাহ্, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আল্লাহু আকবার্)

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৮,আকর্ষনীয় নেতৃত্ব

Hafiz13 লিখেছেন:

মনে খুব কষ্ট পেলাম ইলিয়াস ভাই কারন আমি নিজেও এই সিরিজের খুব ভক্ত এবং অবশ্যই পড়ার চেষ্টা করি।

কষ্ট পাওয়ার কিছুই নেই ভাই আমি নিজেও কষ্ট হতেই এমন কমেন্ট করেছি। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।