টপিকঃ একটি আঙ্কের মূল্যায়ন (আমি + আমার আল্লাহ্‌ ও আল্লাহর রাসুল =জান্নাত)

সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য নিবেদিত, যার প্রশংসা ব্যতীত কিছু সূচনা করা হয় না---
অনেক দিন ধরে আমি চিন্তা করছিলাম  কিছু লিখব যদিও আমার কোন যোগ্যতা নেই।কিভাবে লিখতে হয় তাই আমি জানি না নতুন হিসেবে  যদি ভুল করে থাকি ক্ষমা করে দিবেন।
জীবন হল কত মিনিট আর সেকেন্ডের সমষ্টি কোন মানুষ যাই করুক না কেন সকল মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ এই সময় কিন্তু চলে যায় ,যাচ্ছে, যাবে তার নিজের নিয়মে না সে কার জন্য অপেক্ষা করে না কার হুকুমের  খেয়াল করে। যদি এটা কেউ গুরুত্ত মনে নাও করেন তাদের কাছে একটা প্রশ্ন তারা কি এটা চিন্তা করেন তাদের এ সময় কখন শেষ হয়ে যাবে আর যদি সময় শেষ হয়ে যায় তাহলে যিনি এ সময় দিয়েছেন তার সামনে আমাদের যেতে হবে কিনা ? যদি আমি আস্তিক না হয়ে নাস্তিক হয়ে থাকি তাহলে হয়ত এ ভাবে চিন্তা না করলে হয়ত কিন্তু না আমরা মুসলিম আমাদেরকে আল্লাহ তাআলা বলেন,
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ وَإِنَّمَا تُوَفَّوْنَ أُجُورَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ﴿185﴾ (آل عمران:185)
প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন কেবল ধোঁকার সামগ্রী। (আলে ইমরান:১৮৫) এ সম্পক্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لاَ تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ القِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ ، وَعَنْ عِلْمِهِ فِيمَ فَعَلَ ، وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ ، وَعَنْ جِسْمِهِ فِيمَ أَبْلاَهُ».
‘কিয়ামতের দিন বান্দার দুই পা নড়তে পারবে না যাবৎ না তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তার হায়াত সম্পর্কে কিসে তা ব্যয় করেছে, তার ইলম সম্পর্কে তার কতটুকু আমল করেছে, তার সম্পদ সম্পর্কে কোত্থেকে সে কামাই করেছে আর কোথায় তা ব্যয় করেছে এবং তার দেহ সম্পর্কে কোথায় তা কাজে লাগিয়েছে। [তিরমিযী : ২৪১৭]
তাই বলতে চাই জীবন একটি সফর। আর মানুষ সম্পাদনকারী মুসাফির। গন্তব্য একটিই; পরকাল। তবে আবাস দুটি; চিরস্থায়ী জান্নাত, জাহান্নামের অগ্নি। মোটকথা,দুনিয়া ও উহার রূপের ব্যবহার একটা ধোকা ছাড়া কিছু না তাই আমরা যদি আমাদের জীবন যৌবন কে সঠিক সময় মত কাজে লাগাতে পারি তাহলে যোগ অঙ্কের মত আল্লাহ্‌ এবং আল্লাহ্‌ রাসুল আমাদের সাথে যোগ হয়ে যাবে ফলে আঙ্কটি দাঁড়াবে,
                                       আমি  + আমার আল্লাহ্‌ ও আল্লাহর রাসুল =জান্নাত
যে জান্নাতে নেয়ামত কোনদিন শেষ হবে না এরশাদ হচ্ছে :
১-“কেউ জানে না তাদের জন্য কি কি নয়নাভিরাম গোপন রাখা হয়েছে। তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ।-সূরা সাজদাহ ১৭
২-“এতে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে প্রবেশ কর।” -সূরা হিজর ৪৬
৩-সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ ও মুতি দ্বারা তৈরি চুরি দিয়ে সজ্জিত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোষাক হবে রেশমের।”-সূরা হাজ্জ ২৩
৪-তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা এবং জান্নাতের পানে ছুটে যাও, যার সীমানা হচ্ছে আসমান-যমীন, যা তৈরী করা হয়েছে পরহেযগারদের জন্যা-আলে ইমরান ১৩৩
৫-“তাতে রয়েছে দুর্ঘন্ধহীন পানির নহর; সুস্বাদু দুধের নহর; সুপেয় শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। সেখানে তাদের জন্য আরো রয়েছে, রকমারী ফল-মূল এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমা।-মুহাম্মদ ১৫
জান্নাতের বর্ণনা ব্যাপক  যার রহস্য উদঘাটন করা, যার প্রকৃত অবস্থা উপলব্দি করা প্রায় অসম্ভব।

এ হলো জান্নাত। এ হলো তা অর্জন করার পদ্ধতি। এ জান্নাতকে যে স্বপ্নের মত দুনিয়ার জীবনের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, তার ন্যায় ধোকায় পতিত আর কে হতে পারে? আশ্চর্য! জান্নাতুল ফেরদাউস বিক্রি করে, ঘৃনীত দুনিয়ার বিনিময়ে!
যে দুনিয়া সামান্য হাসালে, প্রচুর কাঁদায়। ক্ষণিকের আনন্দের বিনিময়ে দীর্ঘকাল দুঃখে ভোগায়। জান্নাতের বাড়ি-ঘরের বিনিময়ে
চলবে ইনশাল্লাহ

জাহিদ সোহাগ

Re: একটি আঙ্কের মূল্যায়ন (আমি + আমার আল্লাহ্‌ ও আল্লাহর রাসুল =জান্নাত)

জাহিদ সোহাগ লিখেছেন:

যে দুনিয়া সামান্য হাসালে, প্রচুর কাঁদায়। ক্ষণিকের আনন্দের বিনিময়ে দীর্ঘকাল দুঃখে ভোগায়।

একদম সত্যি কথা  thumbs_up

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: একটি আঙ্কের মূল্যায়ন (আমি + আমার আল্লাহ্‌ ও আল্লাহর রাসুল =জান্নাত)

সুন্দর আলোচনা ধন্যবাদ আপনাকে। তবে টপিকটা ভুল বিভাগে পোষ্ট করেছেন, এটার উপযুক্ত বিভাগ বিবিধ অথবা দৈনন্দিন