টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৫,হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তেকাল

আগের পর্ব সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৪, দুঃখ বেদনার বছর

হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তেকাল

জনাব আবু তালেবের ইন্তেকালের দু’মাস অথবা শুধু তিনদিন পর উম্মুল মোমেনিন খাদিজাতুল কোবরা (রা) ইহলোক ত্যাগ করেন। নবুয়্যতের দশম বর্ষ রমজান মাসে তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর। রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বয়স তখন পঞ্চাশে পরেছিলো।

রসুলুল্লাহ (সাঃ)’র জন্য হযরত খাদিজা (রা) ছিলেন আল্লাহর এক বিশিষ্ট নেয়ামত। সিকি শতাব্দী যাবত তিনি রসুলুল্লাহ (সাঃ)’র জীবন সঙ্গীনি ছিলেন। এ সময় দুঃখে কষ্টে বিপদের সময় প্রিয় স্বামীর জন্য তাঁর প্রাণ কেঁদে উঠতো, বিপদের সময় তিনি তাঁকে ভরসা দিতেন, তাবলীগে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গী থাকতেন। নিজের জান-মাল দিয়েও তাঁর দুঃখ কষ্ট দূর করতেন। রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “ যে সময় মানুষ আমার সাথে কুফরী করেছিলো, সে সময় খাদিজা আমার উপর ঈমান এনেছিলেন, যে সময় লোকেরা আমাকে অবিশ্বাস করেছিলো, সে সময় খাদিজা আমাকে সত্যবাদী বলে গ্রহণ করেছেন। যে সময় লোকেরা আমাকে বঞ্চিত করেছিলো, সে সময় তিনি আমাকে নিজের ধন-সম্পদের অংশীদার করেছেন। তাঁর গর্ভ থেকে আল্লাহ আমাকে সন্তান দিয়েছেন, অন্য স্ত্রীদের গর্ভ থেকে আমাকে কোন সন্তান দেয়া হয়নি।

সহীহ বোখারীতে হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত জিব্রাইল (আ) রসুলুল্লাহ (সা) এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসুল, দেখুন, খাদিজা আসছেন। তাঁর কাছে একটি বরতন রয়েছে। সেই বরতনে আগুন, খাবার অথবা পানীয় রয়েছে। তিনি আপনার কাছে এলে আপনি তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন এবং জান্নাতে একটি মতিমহলের সু-সংবাদ দিবেন। সেই মহলে কোন শোরগোল থাকবে না এবং ক্লান্তি ও অবসন্নতাও কাউকে গ্রাস করবে না।

দুঃখ, দুঃশ্চিন্তা ও মনোবেদনা

উল্লেখিত দুটি দুঘর্টনা কয়েকদিনের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছিল। এতে রসুলুল্লাহ (সাঃ) শোকে দুঃখে কাতর হয়ে পরেছিলেন। এছাড়া তাঁর স্বজাতীয়দের পক্ষ থেকেও নির্যাতন নিপীড়ন নিস্পেষন চলছিলো। কেননা আবু তালেবের ওফাতের পর তাদের সাহস বেড়ে গিয়েছিলো। তারা খোলাখুলিভাবে রসুলুল্লাহ (সাঃ)কে কষ্ট দিতে লাগলো। রসুলুল্লাহ (সাঃ) এরুপ অবস্থায় তায়েফ গেলেন। মনে মনে আশা করেছিলেন যে, সেখানের জনসাধারণ হয়তো তাঁর প্রচারিদ দ্বীনের দাওয়াত কবুল করবে, তাঁকে আশ্রয় দেবে এবং তাঁ স্বজাতীয়দের বিরোধিতার মুখে তাঁকে সাহায্য করবে।
কিন্ত সেখানে কোন সাহায্যকারী বা আশ্রয়দাতাতো পাওয়া গেলই না বরং উল্টো তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হলো। তাঁর সাথে এমন দুর্ব্যবহার করা হলো যে, তাঁর কওমের লোকেরাও এযাবত ওরকম ব্যবহার করেনি। এ স্মপর্কিত বিবরণ পরে আলোজনা করা যাবে।

এখানে এ কথা বলা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, মক্কার অধিবাসীরা যেভাবে নবী (সাঃ) এর উপর অত্যাচার, নির্যাতন, নিপিড়ন চালিয়েছিলো, তাঁর বন্ধুদের উপরও একই রকম অত্যাচার চালিয়েছিলো। আল্লাহর রসুলের প্রিয় সহচর হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) সেই অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে হাবশা অভিমুখে রওয়ানা হলেন। মক্কার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইবনে দাগানার সাথে পথে দেখা হলো। তিনি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) কে নিজের হেফাজতে রাখার দায়িত্ব নিয়ে মক্কায় ফিরিয়ে আনলেন।
ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে, আবু তালেবকের ইন্তেকালের পর কোরাইশরা রসুল (সাঃ) এর উপর এত বেশী নির্যাতন চালিয়েছিলো যে, তাঁর জীবদ্দশায় চিন্তাও করতে পারেনি। কোরাইশের এক বেকুব সামনে এসে আল্লাহর রসুলের মাথায় মাটি নিক্ষেপ করলো। তাঁর এক মেয়ে ছুটে এসে মাটি পরিস্কার করলো।

মাটি পরিস্কার করার সময় তিনি শুধু কাঁদছিলেন। রসুলুল্লাহ (সা) তাঁকে সে সময় সান্তনা দিচ্ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মা, তুমি কেঁদনা। আল্লাহ তাআলা তোমার আব্বাকে হেফাজত করবেন। এ সময় রসুল (সাঃ) এ কথাও বলেছিলেন যে, কোরাইশরা আমার সাথে এমন কোন খারাপ আচরণ করেনি, যাতে আমার খারাপ লেগেছে। এমনি পরিস্থিতিতে আবু তালেব ইন্তেকাল করেন।
পর্যায়ক্রমে এ ধরনের অত্যাচার নির্যাতনের কারণে রসুলুল্লাহ (সাঃ) সে বছলের নাম রেখেছিলেন “'আমুল হোযন”' অর্থ্যাৎ দুঃখের বছর। সেই বছরটি এ নামেই ইতিহাসে বিখ্যাত।

{চলবে}

পুর্ব প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৫,হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তেকাল

চমৎকার লিখেছেন ইলিয়াস ভাই।  smile আল্লাহ আপনাকে আরও হেদায়াত দেন যেন আমাদের এমন সুন্দর টপিক আরও দিতে পারেন। smile

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৫,হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তেকাল

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

কিন্তু রাসুল(সাঃ) কত কষ্ট করেই না তার দ্বীন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন  sad আর আমরা  sad

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৫,হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তেকাল

অনেক সুন্দর লিখেসেন ইলিয়াস ভাই আল্লাহ আপনাকে অনেক হায়াতে কামেলা দান করুন্। আমিন্।

আমার জীবনের সব্চেয়ে প্রিয় শব্দগুলো হলঃ (সুবাহান আল্লাহ্, আলহাম্দুলিল্লাহ্, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আল্লাহু আকবার্)

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৫,হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তেকাল

ধন্যবাদ সবাইকে।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৫,হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তেকাল

ভাল লাগল ভাইজান । সুন্দর টপিকগুলোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪৫,হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তেকাল

ধন্যবাদ

ঝামেলা'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত