সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নীল (২৯-১২-২০১১ ০১:৪৬)

টপিকঃ শেষ দেখা!!

গল্পটার আইডিয়া জেনারেশন হয়েছে ২ মাস আগে যখন আমি মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম, কতদিন ভয়ংকরভাবে শ্বাস আটকে মুখ-চোখ লাল হয়ে যেত, আর আমি পাগলের মত বুকে বার বার হাত দিতাম, মনে মনে সব ঠিক হয়ে যাবার জন্য প্রার্থনা করতাম, মনে হত সবকিছু বোধহয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। তখন হঠাৎ কোনো একজনকে খুব দেখতে ইচ্ছা করত।




- আপনি কি বললেন?

প্রশ্ন শুনে আমি একটু অবাক হয়ে বড় ডাক্তারটার দিকে তাকালাম।
- আমি বলেছি: আমি চলে যাব, কিন্তু হয়ত আবার ফিরে আসব আরেকজনের মাধ্যমে।


রগচটা বয়স্ক ডাক্তারটা সেটা শুনে কেমন যেন আনমনা হয়ে গেলেন। ভাবতে লাগলেন: সেও ঠিক একই কথা বলত। তার ছোট ভাই, খুব অল্প বয়সে মারা গেছে। সে বিশেষ একজনকে দেখতে চেয়েছিল, কিন্তু মেয়েটি আসার আগেই তার ভাই মারা যায়।  সেই একই দৃশ্য, সেই একই কাহিনী। আশ্চর্য!! একই ঘটনা কিভাবে বার বার ঘুরে ফিরে আসছে? ডাক্তারদের জীবন কি এরকমই?


- আপনি নাকি একজনকে খবর দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর চাচ্ছেন না, আমার এসিস্টেন্টকে নিষেধ করে দিয়েছেন?

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।

-কি? কথা বলছেন না কেন?
- আসলে আমি চাই না ও জানুক। প্লিজ, ওকে জানাবেন না।
- ও আচ্ছা।

ডা: সাহেব কি যেন চুপচাপ ভাবতে লাগলেন। আর কিছু বললেন না।

লেখাটি লিখেছেন: স্বপ্নীল - প্রজন্ম ফোরাম
এত বড় ডাক্তার, শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে নিয়ে কেন দৌড়াদৌড়ি করছেন,বুঝতে পারছি না। আমার কাছে খুবই অবাক লাগছে, সেদিন তো ধমক দিয়ে চেম্বার থেকেই বের করে দিয়েছিলেন, এরপর আবার এসিস্টেন্ট দিয়ে ডাকিয়ে আনলেন। সেদিন থেকেই কেমন যেন অন্যরকম হয়ে গেলেন।


ডা: সাহেব বহু কষ্টে মেয়েটিকে ফোনে পেলেন:
-হ্যালো, আপনি তো সব শুনলেন। আসবেন প্লিজ?

মেয়েটি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে তার অপারগতার কথা জানাল।

- আসলে ছেলেটির সাথে আমার কখনো কথা হয়নি। ক্লাসমেট ছিল, পাগলের মত পিছে পিছে ঘুরত, কিন্তু কখনো কিছু বলত না। আমিও আর কিছু বলিনি। তারপর আমার হুট করে বিয়ে হয়ে গেল, তাই এসব নিয়ে ভাবার আর সময় পাইনি। আর.....
- আর??
- আমার শশুর-শাশুরি বিদেশ থেকে এসেছেন, বাসায় অনেক মানুষ, অনেক কাজের চাপ। তাছাড়া আমার স্বামী ও বাসার সবাই একটু অন্যরকম। স্বামীর সংসারে শত দায়িত্বের বেড়াজ্বালে আমি আবদ্ধ, একটুও সময় বের করতে পারি না, তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিছু করতে পারছি না। আই এম রিয়েলি সরি।

লেখাটি লিখেছেন: স্বপ্নীল - প্রজন্ম ফোরাম


ডা: সাহেব আমাকে এসে বললেন: আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। মেয়েটির সাথে আমার কথা হয়েছে। সে আসবে।

মিথ্যাটুকু বলতে গিয়ে ডা: সাহেবের মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল।


রাতে আমার অবস্থা দ্রুত খারাপ হলো। আমি বুঝলাম আমার সময় শেষ। তাকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছে, খুব..আমার এ পৃথিবীতে আর কেউ তো নেই সে ছাড়া। কিন্তু মানুষের সব শখ কি পূরণ হয়?


ডা: সাহেব অস্থিরভাবে অপেক্ষা করছেন।  মেয়েটি শেষ মুহূর্তে বলেছে সে আসছে। সে বাসার গাড়িতে করে রওনা দিয়েছে। গাড়ি ঝড়ের বেগে ছুটে আসছে...


ডা: সাহেব মনে মনে প্রার্থনা করছেন:
-আল্লাহ, একই ঘটনা যেন আবার না ঘটে, মেয়েটি যেন ঠিক সময়ে এসে এই ছেলেটির শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। হে আল্লাহ, তুমি আমার এই একটি কথা রাখো, প্লিজ....


লেখাটি লিখেছেন: স্বপ্নীল - প্রজন্ম ফোরাম
আমার খুব ছোটবেলার কিছু স্মৃতি মনে পড়ে গেলো, আশ্চর্য, কত কিছু ঘটে গেছে আমার জীবনে, কত ভালো লাগা মূহুর্ত, ছোট ছোট কত কষ্ট, সব মিলিয়ে আমি যেন মুক্ত পাখির মত এক স্মৃতি থেকে আরেক স্মৃতিতে ঘুরে বেড়াতে লাগলাম। শরীরের কষ্টটুকু আস্তে আস্তে কমে যেতে লাগল, এর নাম কি মৃত্যু??

আমার চোখের সামনে সব কিছু কেমন ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে....চারপাশে অদ্ভুত কি একটা যেন রিনরিনে শান্ত সুরে বাজছে...আমার ঘুম পাচ্ছে, অনেক ঘুম..............

Re: শেষ দেখা!!

গল্পটা বেশী ছোট হয়ে গেল না wink বরাবরের মতই কষ্টের গল্প cry

Re: শেষ দেখা!!

দুর মনটাই খারাপ করে দিলে ।

লেখাটা ভাল হয়েছে ।

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: শেষ দেখা!!

ইলিয়াস লিখেছেন:

গল্পটা বেশী ছোট হয়ে গেল না wink বরাবরের মতই কষ্টের গল্প cry

ইস!! এটা যে ছোট গল্প বা অনুগল্পই  sad আমি বড় গল্প লিখতে পারি না  hairpull

আমার মাথায় আর কিছু আসতেছে না  worried

Re: শেষ দেখা!!

ভাই, একটা হিডেন লাইন ইউজ করেন। এতো করলে তো ধরা খাইবেন। মুইছা দিবে পেস্ট করার সময় । তই লাভ হইব কি ?  isee

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: শেষ দেখা!!

thumbs_up চমৎকার!

তামিম৬৯'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: শেষ দেখা!!

ফারহান খান লিখেছেন:

ভাই, একটা হিডেন লাইন ইউজ করেন। এতো করলে তো ধরা খাইবেন। মুইছা দিবে পেস্ট করার সময় । তই লাভ হইব কি ?  isee

দিলাম কইরা  wink

তামিম আর ছবিপু, অনেক ধন্যবাদ।

Re: শেষ দেখা!!

সিরিয়াসলি মাইনাস দিমু আপনারে মিয়া। মন খারাপ করা গল্প লিখবেন না প্লিজ। এমনিতেই মন খারাপ। সাইফাইটা লিখতে পারতেছিনা এই কারণে। তার উপর আপনি এই টাইপ গল্প লিখেন।

বাই দ্যা ওয়ে, এই লেখাটার মান বেশ ভালো হয়েছে।  clap

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: শেষ দেখা!!

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

সিরিয়াসলি মাইনাস দিমু আপনারে মিয়া। মন খারাপ করা গল্প লিখবেন না প্লিজ। এমনিতেই মন খারাপ। সাইফাইটা লিখতে পারতেছিনা এই কারণে। তার উপর আপনি এই টাইপ গল্প লিখেন।

বাই দ্যা ওয়ে, এই লেখাটার মান বেশ ভালো হয়েছে।  clap

থ্যাংকস। মন খারাপ কেন? ঘটনা কি?

১০

Re: শেষ দেখা!!

বেশ লাগলো ভাইয়া । এট লিস্ট সময় বের করে লিখতে পারলেন আমার জন্য কিছু..

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: শেষ দেখা!!

চমৎকার thumbs_up জানই তো কষ্টের গল্প আমার সবচে' প্রিয়। যে প্রান্তগুলি মেলে না, তাদের জন্য মন কেমন করা আবেগ জমিয়ে রাখি অহর্নিশ!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নীল (২৮-১২-২০১১ ১৬:৪৭)

Re: শেষ দেখা!!

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

বেশ লাগলো ভাইয়া । এট লিস্ট সময় বের করে লিখতে পারলেন আমার জন্য কিছু..


থ্যাংকস মুজতবা। তোমাকে একদিন বললাম একটা লেখো এমন পিচ্চি নাহলে বড় গল্প, লেখো নাই   isee

উদাসীন লিখেছেন:

চমৎকার thumbs_up জানই তো কষ্টের গল্প আমার সবচে' প্রিয়। যে প্রান্তগুলি মেলে না, তাদের জন্য মন কেমন করা আবেগ জমিয়ে রাখি অহর্নিশ!


হুম..আমার কিন্তু কষ্টের গল্প ভাল লাগে না, অথচ এটাই কিভাবে যেন আমার লেখায় বেশি চলে আসে। আপনার সাথে জরুরী আলাপ আছে। গোবা চেক করেন। বছরের প্রথম দিনই একটা বিশেষ লেখা শুরু করতে চাই।

১৩

Re: শেষ দেখা!!

খুবই কষ্ট পেলাম পড়ে।  sad

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নীল (২৮-১২-২০১১ ১৯:১৪)

Re: শেষ দেখা!!

আল মাহমুদ লিখেছেন:

খুবই কষ্ট পেলাম পড়ে।  sad

ওহ সরি, আমার লেখায় আপনা- আপনি কষ্টের অনুভুতিগুলো চলে আসে। আপনাকে ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য।

১৫

Re: শেষ দেখা!!

সুন্দর লেখা। তবে তোমাকে ঘুমের রাজ্য থেকে জাগিয়ে তোলবার দ্বায়িত্ব কিন্তু তোমারই। আমার নিজের ছোট ছোট দু'য়েকটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। একটু মন দিয়ে পড়বে।

ঘটনাঃ ১, ঘটনাস্থলঃ ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রবীন হাসপাতাল, সময়কালঃ অক্টোবর, ২০০৬ইং
টানা ছয়মাস বিছানাশায়ী হয়ে থাকতে থাকতে নিজের উপরে নিজের আস্থাটুকুই মরে যেতে বসেছে। সারাদিন বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে থাকতে হয়। কোন পাশ ফিরতে গেলেই কারো না কারো সহায়তা দরকার। হাসপাতালের বেডটা জানালার সাথেই হওয়ায় বেশ বাইরের আকাশটা দেখতে পারি। হটাৎই মনে চাইলো -- ""আমি দাঁড়াবো।'' শরীরের ডানপাশটা নিয়ন্ত্রনের বাইরে। তাতে কি? আমি দাঁড়াবোই। কোনমতে বাঁ হাত দিয়ে জানালার রড ধরে মনটাকে শক্ত করলাম। এরপর বাঁ পায়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পুরো শরীরটাকে টেনে নিয়ে চলে এলাম বিছানা আর জানালার ফাঁকটুকুতে। একই সময়ে বাঁহাতে পুরো শরীরটাকে ধরে রেখে বাম পা টাকে সোজা হবার মতো সময় করে দেয়া। বাবা আর ছোট বোন ঐ সময় ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করছিলো। পরামর্শ সেরে এসে দেখে আমি শুধু বাম পাশটাকে কাজে লাগিয়ে জানালার রড ধরে দাঁড়িয়ে আছি।

ঘটনাঃ ২, ঘটনাস্থলঃ কোলকাতার মুকুন্দপুরের আরটিআইআইসিএস, সময়কালঃ ডিসেম্বর, ২০০৭ইং
প্রথমবার বুকের ব্যথার কথা শুনে কোন ডাক্তার আমাকে গায়ের সব জামাকাপড় খুলিয়ে নিয়ে (শুধুমাত্র বক্সারটা রাখার অনুমতি ছিলো) বেডে শুইয়ে কুঁচকি আর কাঁধ ও হাতের সংযোগস্থলে ক্রস করে নিজের হাতের তিনটে করে আঙ্গুল চেপে ধরে কি যেনো পরীক্ষা করে দেখলেন (পরে বুঝেছিলাম ওটা হার্টের আর্টারী চেক করার আদিম প্রক্রিয়া)। তারপর উল্টোদিকের হাত ও কুঁচকিতে একইভাবে পরীক্ষা শেষে স্পষ্টই বলে দিলেন ২টা সেমি ব্লক। কোনরকম ঝুঁকি নয়। ২তলার উপরে সিঁড়ি বাওয়া যাবে না, লাফালাফি দৌড়াদৌড়ি নিষেধ। বাস জার্নি তো নয়ই পারলে একেবারে বেড রেস্ট আর সরাসরি হার্ট চেকাপের প্যাকেজ ধরিয়ে দিলেন। তারপর ফুপা যখন বললেন যে এ ছেলে তো বাংলাদেশ থেকে একা একাই বাসে চেপে এসেছে। শুনে ডাক্তারের চোখ ছানাবড়া। বললেন -- ""তুমি তো আধ পাগল নও হে! পুরো পাগল। একা একা ভিন দেশে আসতে একটুও ভয় করলো না?'' আমার উত্তর ছিলো -- ""নাহ! সাথে করে ৩২টা ম্যাপ নিয়ে এসেছি তো। ৪৫টা এনেছিলাম বর্ডারে ১৩পিস সাপটে দিয়েছে। আর আমি তো কাজ চালাবার মতোন বাংলা, ইংরেজী, হিন্দী এবং উর্দু বলতে ও পড়তে জানি। তো সমস্যা কি?'' ডাক্তার আর একটা প্রশ্নও না করে বলেছিলেন -- ""তোমার কথার ঝাঁঝে পরিষ্কার বুঝলাম কেন তোমরা মাত্র নয় মাসেই বাংলাদেশ পেয়েছিলে?''

ঘটনাঃ ৩, ঘটনাস্থলঃ কোলকাতার মুকুন্দপুরের আরটিআইআইসিএস, সময়কালঃ এপ্রিল, ২০০৮ইং
ব্রেনের এমআরআই স্ক্যানিং ফিল্ম হাতে করে বসে আছেন নিউরোসার্জন ডাঃ অমিতাভ চান্দা। আমার বাবা আর দুলাভাইয়ের দিকে তাকিয়ে কোন মতে হেসে নিয়ে বললেন -- ""এ ছেলে তো বিশাল অভিনেতা। এঁর মাথায় যে পরিমান যন্ত্রনা হচ্ছে তার দশভাগের এক ভাগ যদি আপনাদের কারো হয় তো রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করবেন। আর এ ছেলে রীতিমতো হাসছে, আপনাদের সাথে চলাফেরা করছে। এমনকি কাজকর্ম করার মতো সাহস দেখাচ্ছে।''

২০০৭ সালের মার্চে ডাক্তাররা বাবাকে বলে দিয়েছিলেন -- ""খামোখা আর কষ্ট করে লাভ নেই। বাসায় নিয়ে যান। যে সময়টুকু আছে আপনজনদের মাঝে থাকুক।'' কিন্তু আল্লাহ তা'য়ালার ইচ্ছেয় ওনাদের ভবিষ্যৎ বানীটুকু বিফল আমি বহাল তবিয়তে এখনো দুনিয়ার বুকে আছি।

আমার বর্তমান শারীরিক যা অবস্থা তাতে করে ডাক্তাররাও ভয় পাচ্ছেন (১৫ দিন পরেই হয়তো আমার মগজে তাঁরা ছুরি-কাঁচি চালাবেন), কিন্তু আমি পাচ্ছি না। কারন মরবার আগে মরতে আমি শিখিনি। বঙ্গবন্ধুর একটা উক্তি আমার খুব প্রিয় -- ""আমি বাঙ্গালি, আমি মুসলমান। একবার মরি, দুইবার না।'' যখন সময় হবে দুনিয়া থেকে সরে যেত আমি বাধ্য, তবে তার আগে যতক্ষন আছি, সব প্রতিকূলতাকে জয়ের চেষ্টাটুকু আমি করবোই।

আরেকটা বিষয় হুট করেই মনে আসলো। কোন একটা হাদীসে পড়েছিলাম -- ""আল্লাহ তা'য়ালা রোগ-শোক-জরা'র মাধ্যমে মানুষের ঈমান কে বৃদ্ধি করেন আর ঈমানদারের গোনাহ মাফ করেন। যদি গোনাহ মাফ করবার পরেও কিছু যন্ত্রনা অতিরিক্ত হয়ে থাকে তো তার বিনিময়ে দুনিয়াতে ঐ ব্যক্তির সম্মান বৃদ্ধি করেন।'' আমি এই হাদীসটার বাস্তব প্রতিফলন আমার জীবনে দেখেছি, দেখছি এবং আল্লাহ'র হুকুম থাকলে আরো দেখবো।  smile

রিং'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নীল (২৮-১২-২০১১ ২০:০৯)

Re: শেষ দেখা!!

রিং ভাই, আপনাকে স্যালুট। সত্যি কিছু বলবার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আপনার লেখা যতবারই পড়ি, হাল না ছেড়ে ভালভাবে বেচে থাকার অনুপ্রেরণা পাই। আমি বর্তমানে টুকটাক চলাফেরা করতে পারি, যদিও হার্টে সমস্যা খুব একটা গুরুতর নয়, মূল সমস্যা লাংসে। এখনো অনেক সাবধানে অনেক নিয়ম কানুন মেনেই চলাফেরা করতে হয়, খুব একটা পরিশ্রম করতে পারি না। তবুও কষ্ট করে হলেও বাইরে গিয়ে জমে থাকা কাজগুলো করার চেষ্টা করছি। দোয়া করবেন।

আপনার নাম্বারটা আমাকে গোবা করেন, সময় করে কথা বলব।

আর আপনি দ্রুত সুস্থ হোন- এটা মনে প্রাণে দোয়া করছি।

১৭

Re: শেষ দেখা!!

স্বপ্নীল লিখেছেন:

রিং ভাই, আপনাকে স্যালুট। সত্যি কিছু বলবার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আপনার লেখা যতবারই পড়ি, হাল না ছেড়ে ভালভাবে বেচে থাকার অনুপ্রেরণা পাই।

আমার গুগল অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাসে সবসময় একটা বাক্য আমি ঝুলিয়ে রাখি -- ""আমার কাছে আমি হয়তোবা কিছুই না, কিন্তু অনেকেরই কাছে আমিই হয়তোবা তাঁর সবকিছু।'' এটা আসলে নিজেকে নিজে বুঝ দেবার জন্য। মাথার যন্ত্রনাটা ২৪x৭ আমাকে ভোগায়। অতিরিক্ত মাত্রায় হলে তখন আত্মহত্যা করতে মনে চায়। আর যখনই এই কু-চিন্তা মনে আসে তখনই এই বাক্যটা স্মরন করি। আমার মৃত্যুতে হয়তোবা আমার এই সামান্য যন্ত্রনার অবসান ঘটবে কিন্তু আমার মা-বাবা-ভাই-বোন-আত্মীয়স্বজন-পরিচিতজনদের মনে হারাবার বেদনার আগুনটাতো আমিই জ্বালিয়ে দোব। সেই সার্বিক যন্ত্রনার তুলনায় আমার যন্ত্রনাটুকু যে নিতান্তই তুচ্ছ।

স্বপ্নীল লিখেছেন:

আমি বর্তমানে টুকটাক চলাফেরা করতে পারি, যদিও হার্টে সমস্যা খুব একটা গুরুতর নয়, মূল সমস্যা লাংসে। এখনো অনেক সাবধানে অনেক নিয়ম কানুন মেনেই চলাফেরা করতে হয়, খুব একটা পরিশ্রম করতে পারি না।

বেশতো। আগের চাইতে বেশ উন্নতি হয়েছে জেনে ভালো লাগছে। আর ফুসফুসের সমস্যা হলেওবা, ভয় পেয়ো না। আমার স্কুলজীবনের এক বন্ধু, ক্লাস নাইনে থাকতেই ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলো। সেই সময় ওঁর ফুসফুস অপারেশন করা হয়েছিলো। কিন্তু আজ ও নিয়মমাফিক জীবন ধারন করে চমৎকার আছে।

স্বপ্নীল লিখেছেন:

তবুও কষ্ট করে হলেও বাইরে গিয়ে জমে থাকা কাজগুলো করার চেষ্টা করছি। দোয়া করবেন।

এইতো "নায়কগিরি' শুরু করেছো। এই ঠান্ডায় বাইরে আসবার দরকারটাই বা কি? মাত্র তো দুটো মাস। এতদিন কষ্ট করে বিছানায় ছিলে আর এখন পরবর্তী বছরটাকে সাফল্যময় করে তুলতে এই দুটো মাস নিজেকে নিজে গৃহবন্দী রাখো না। সমস্যা তো নাই? তাই না।  waiting

স্বপ্নীল লিখেছেন:

আপনার নাম্বারটা আমাকে গোবা করেন, সময় করে কথা বলব।

আমার মুঠোফোন নম্বরটা "পাবলিক'। আমার প্রোফাইলে গেলেই পাবে। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে মুঠোফোনে আমার সাথে কথা বলবার সম্ভাবনা নাই। কেননা আমি এখন কোলকাতায়, ব্রেনের একটা অপারেশন আর হার্ট চেকআপ এর জন্য এসেছি। অপারেশন সফল হলে দেশে ফিরবো আর ব্যর্থ হলে নানার সাথে শুয়ে থাকবো পার্ক সার্কাসে।  smile

তোমার নম্বরটাই বরংচ আমাকে গো.বা করে দাও। আমিই তোমার সাথে যোগাযোগ করবো।

স্বপ্নীল লিখেছেন:

আর আপনি দ্রুত সুস্থ হোন- এটা মনে প্রাণে দোয়া করছি।

শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ ভাই। আল্লাহ তোমাকে পুনরায় পুরোপুরি কর্মক্ষম জীবনে ফেরবার সুযোগ দিন এবং তোমার অবশিষ্ট জীবনকাল এহেন কষ্ট ভোগ যেনো তোমায় আর না করতে হয় সেই কামনাই করছি।

রিং'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: শেষ দেখা!!

রিং লিখেছেন:

এইতো "নায়কগিরি' শুরু করেছো। এই ঠান্ডায় বাইরে আসবার দরকারটাই বা কি? মাত্র তো দুটো মাস। এতদিন কষ্ট করে বিছানায় ছিলে আর এখন পরবর্তী বছরটাকে সাফল্যময় করে তুলতে এই দুটো মাস নিজেকে নিজে গৃহবন্দী রাখো না। সমস্যা তো নাই? তাই না।  waiting

ইয়ে মানে, সবাই তো তাই বলে, বলে যে সেমিস্টার গ্যাপ দিয়ে রেস্ট নিতে, কিন্তু আমি কিছুতেই গ্যাপ দিবো না, হোক যত কষ্ট। রিস্ক একটু বেশিই নিয়ে নিচ্ছি, শরীর বিদ্রোহও করছে বেশ, কিন্তু আপনার লেখা পড়ে মনে আরো জোর বেড়ে গেছে।

রিং লিখেছেন:

অপারেশন সফল হলে দেশে ফিরবো আর ব্যর্থ হলে নানার সাথে শুয়ে থাকবো পার্ক সার্কাসে।  smile

কি সব বলেন? এমন খারাপ অবস্থা কখন কিভাবে হলো? আমি বা প্রজন্মের কেউ কি জানে? আপনার অবস্থা তো খুবই খারাপ  surprised

১৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রিং (২৮-১২-২০১১ ২১:১১)

Re: শেষ দেখা!!

স্বপ্নীল লিখেছেন:

ইয়ে মানে, সবাই তো তাই বলে, বলে যে সেমিস্টার গ্যাপ দিয়ে রেস্ট নিতে, কিন্তু আমি কিছুতেই গ্যাপ দিবো না, হোক যত কষ্ট। রিস্ক একটু বেশিই নিয়ে নিচ্ছি, শরীর বিদ্রোহও করছে বেশ, কিন্তু আপনার লেখা পড়ে মনে আরো জোর বেড়ে গেছে।

আমি মনের জোর বাড়াতে বলেছি। গায়ের জোর না।  big_smile

স্বপ্নীল লিখেছেন:

কি সব বলেন? এমন খারাপ অবস্থা কখন কিভাবে হলো? আমি বা প্রজন্মের কেউ কি জানে? আপনার অবস্থা তো খুবই খারাপ  surprised

আমার অবস্থা আজ পাঁচ বছর ধরেই এরকম। এই পোষ্টে আমার প্রথম মেইলটা মন দিয়ে পড়ো নাই মনে হচ্ছে। আর অস্ত্রোপাচারটা ডাক্তাররা এই মূহুর্তে করতে চাইলেও গত কয়েকদিনে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাবার পর পিছিয়ে গেছেন, হার্টের ইকোতে ""গ্রেড ওয়ান ডিসফাংশনিং'' রিপোর্ট পেয়ে।

ব্যাপার না। আমি তো আগেই বলেছি সময় হবে চলে যাবো তবে যতক্ষন আছি নৈতিক ও যৌক্তিকভাবে জীবনের পুরোটা মজাই নোব।  smile

রিং'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২০

Re: শেষ দেখা!!

রিং লিখেছেন:

আমার অবস্থা আজ পাঁচ বছর ধরেই এরকম। এই পোষ্টে আমার প্রথম মেইলটা মন দিয়ে পড়ো নাই মনে হচ্ছে। আর অস্ত্রোপাচারটা ডাক্তাররা এই মূহুর্তে করতে চাইলেও গত কয়েকদিনে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাবার পর পিছিয়ে গেছেন, হার্টের ইকোতে ""গ্রেড ওয়ান ডিসফাংশনিং'' রিপোর্ট পেয়ে।

রংমহলের গেট টুগেদারে আপনার চমৎকার সাবলীল উপস্থাপনা দেখে ভুলেও ভাবি নাই আপনি এরকম জীবন মরণের মাঝখানে দাড়িয়ে আছেন। যাই হোক, আর আপনাকে কমেন্ট করিয়ে কষ্ট দিবো না, রেস্ট নিন। সব মহান আল্লাহর উপর  sad