টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪১ সর্বাত্মক বয়কট

আগের পর্ব সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

সর্বাত্মক বয়কট
চার সপ্তাহ বা তারচেয়ে কম সময়ের ভিতর পৌত্তলিকরা চারটি বড় ধরণের ধাক্কা খেলো। হযরত হামযা এবং হযরত ওমর (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন। সর্বোপরি হনু হাশেম ও বনু মোত্তালিব একত্রিত হয়ে আল্লাহর রসুলকে রক্ষা করার ব্যাপারে একমত হলো। পৌত্তলিকরা এতে অস্থির হয়ে উঠলো।অস্থির হবে না কেন, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিলো যে, এখন যদি মোহাম্মদ (সা) কে হত্যা করার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে তাঁকে রক্ষা করতে যে রক্তপাত হবে, এতে মক্কার প্রান্তর লাল হয়ে যাবে।তাদের নিজেদের ধ্বংস হয়ে যাবারও সম্ভাবনা ছিলো। এ কারণে আল্লাহর রসুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করে পৌত্তলিকরা অত্যাচার নির্যাতনের একটি নতুন পথ আবিস্কার করলো। এটি ছিলো ইতিপুর্বে গৃহিত সব পদক্ষেপের চেয়ে আরো বেশী মারাত্মক।

ইবনে কাইয়েম লিখেছেন যে, বলা হয়ে থাকে, এই দলিল মনসুর ইবনে একরামা ইবনে আমের ইবনে হাশেম লিখেছিলো। কারো কারো মতে নযর ইবনে হারেস লিখেছিলো। কিন্ত সঠিক কথা হচ্ছে, এই দলিল বোগাইজ ইবনে আমের ইবনে হাশেম লিখেছিলো। এতে রসুলুল্লাহ (সা)’র জন্য বদদোআ করায় তার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিলো।
লেখার পর দলিল ক্বা ঘরে টাঙ্গিয়ে দেয়া হলো। তাতে আবু লাহাব ব্যতিত বনু হাশেম ও বনু মোত্তালিবের মুসলিম, অমুসলিম নারী-পুরুষ সবাই শা’বে আবু তালেব নামক স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে পরলেন। এটি ছিলো নবী করিম (সা) নবী হিসেবে আর্বিভাবের সপ্তম বছরের ঘটনা।

শা’বে আবু তালেবে তিন বছর
এ বয়কটে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলো। খাদ্য সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল। যাও বা মক্কায় আসতো, পৌত্তলিকরা তাড়াতাড়ি সেগুলো কিনে নিতো। ফলে অবরুদ্ধ মুসলিম অমুসলিম কারো কাছে কোন কিছু স্বাভাবিক উপায়ে পৌঁছতো না। তারা গাছের পাতা ও চামড়া খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। ক্ষুধার কষ্ট এত মারাত্মক ছিলো যে, ক্ষুধার্থ নারী ও শিশুর কাতর কান্না শা’বে আবু তালেব বা আবু তালেব ঘাটির বাইরে থেকে শুনা যেতো। তাদের কাছে কোন খাদ্য সামগ্রী পৌছার সম্ভাবনা ছিল ক্ষীন। যা কিছু পৌঁছাতো তা গোপনভাবেই পৌঁছাতো। নিষিদ্ধ মাস সূহ ছাড়া প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য তারা ঘাটির বাইরে বেরও হতোনা বাইরে থেকে মক্কায় আসা জিনিস কেনার চেষ্টা করেও অনেক সময় তারা সক্ষম হতেন না। কারণ পৌত্তলিকরা সেসব জিনিসের দাম অনেক বাড়িয়ে দিতো।

হাকিম ইবনে হাজাম ছিলেন হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা) ভাতিজা। মাঝে মাঝে তিনি ফুফুর জন্য গম পাঠাতেন। একবার গম পাঠানোর উদ্যোগ নিতেই আবু জেহেল তাতে বাধা দিলো। কিন্ত আবুল বাখতারী হাকিম ইবনে হাজামের পক্ষালম্বন করে গম পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিলেন।

এদিকে আবু তালেব সব সময় রসুলুল্লাহ (সা)’কে নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। রাতে সবাই শুয়ে পরার পর তিনি ভাতিজাকে বলতেন, যাও, তুমি এবার তোমার বিছানায় শুয়ে পরো। তিনি এ কথা এজন্যই বলতেন যাতে, কোন গোপন আততায়ী থাকলে বুঝতে পারে যে তিনি কোথায় শয়ন করেছেন। এরপর সবাই ঘুমিয়ে পরলে আবু তালেব তাঁর প্রিয় ভাতিজার শোয়ার স্থান বদলে দিতেন। ভাতিজার বিছানায় নিজের পুত্র বা অন্য কাউকে শয়ন করাতেন। রাত্রিকালে প্রিয় ভাতিজা আল্লাহর রসুল (সা) কে নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে কাটাতেন।

এ ধরণের কঠিন অবরোধের সত্ত্বেও রসুলুল্লাহ (সা) এবং অন্যান্য মুসলমান হজ্জের সময় বাইরে বের হতেন এবং হজ্জে আসা লোকজনের মাঝে দাওয়াত দিতেন। এ সময় আবু লাহাব রসুলুল্লাহ (সা) এবং মুসলমানদের সাথে যেরুপ আচরণ করতো তা ইতিপুর্বে আলোচনা করা হয়েছে।
{চলবে}

প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪১ সর্বাত্মক বয়কট

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪১ সর্বাত্মক বয়কট

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

তোমাকেও ধন্যবাদ সাইদুল ।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪১ সর্বাত্মক বয়কট

ধন্যবাদ ভাইজান শেয়ার করার জন্য.........সুন্দর টপিকটির জন্য

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ) ৪১ সর্বাত্মক বয়কট

ধন্যবাদ ।

ঝামেলা'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত