২১

Re: মহাবিশ্ব এবং ঈশ্বর - একটি দার্শনিক আলোচনা , অভিজিৎ রায়

invarbrass লিখেছেন:

দুনিয়ার প্রতিটি মানুষই নাস্তিক।  tongue
আপনার মতে নাস্তিকের সংজ্ঞা কি?

আরেকটু বুঝিয়ে বলেন।
নাস্তিকের সংঙ্গা যতটুকু মনে আছে, নাস্তিক হল "ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাষ নাই যার"।
ছোটবেলায় যখন ধর্ম বইয়ে যখন এই সংগা পড়েছি, তখন একটা "নাস্তিক" দেখার ইচ্ছে ছিল (অনেকটা বাঘ, ভালুক দেখার ইচ্ছের মত)। কখনো ভাবিনি জীবনে সত্তিকারের নাস্তিকের দেখা পাব। অথচ এখন আমার আধা-আধি বন্ধু নিবন্ধিত নাস্তিক! মানে কোন অফিসিয়াল ফরমে রিলিজিয়ন লিখে "এথিয়েস্ট"!

সে যাইহোক, "দুনিয়ার প্রতিটি মানুষই নাস্তিক" এটার ভিউ পয়েন্ট ধরতে পারছিনা। এক ধর্মালম্বীর মতে অন্য ধর্মালম্বী নাস্তিক... এভাবে?

২২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২৩-১২-২০১১ ০২:৫৭)

Re: মহাবিশ্ব এবং ঈশ্বর - একটি দার্শনিক আলোচনা , অভিজিৎ রায়

সদস্য_১ লিখেছেন:

সে যাইহোক, "দুনিয়ার প্রতিটি মানুষই নাস্তিক" এটার ভিউ পয়েন্ট ধরতে পারছিনা। এক ধর্মালম্বীর মতে অন্য ধর্মালম্বী নাস্তিক... এভাবে?

আপনি ঠিকই ধরেছেন!  thumbs_up

আন্দাজ করছি আপনি মুসলিম (যেকোনো ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রেই এ ব্যাপারটি প্রযোজ্য)। ঈসলামী গড তথা আল্লাহ ছাড়া আপনি অন্য কোনো গডের ওপর আস্থা রাখেন না। আপনি খ্রিস্টান টৃনিটি বা ইসরায়লী গড ইয়াওয়ে বা এলোহিম - এদের ব্যাপারে স্কেপটিক। হিন্দু, শিখ, শিন্টো বা অন্য যেকোনো ধর্মের ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়েও আপনি ঘোরতর সন্দিহান। ইন্টারনেটের Flying Spaghetti Monster (FSM) নামক "গড"-কে আপনার গরম পানিতে নুডলস সিদ্ধ করে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছা করে। আর বলা বাহূল্য, প্রাচীন গ্রীক হেলেনিস্টিক দেবদেবী, ভাইকিং বা নর্ডিকদের ভ্যালহাল্লা, রোমানদের প্যান্থিয়ন, মিশরীয় ফ্যারো, মেসোপটেমিয়ান ডেইটী বা এমনকি কোরায়শদের ঈশ্বরের ৩ কন্যা - এগুলো নিছক গালগপ্পো ছাড়া কিছু মনে করেন না।

কাজেই, মানুন বা নাই মানুন, অন্যান্য বাকিসব ধর্মমত অনুযায়ী আপনিও একজন নাস্তিক।  lol

কেইস ডিসমিসড।  donttell

রিচার্ড ডকিন্সের একটি বিখ্যাত উক্তি:

We are all atheists about most of the gods that humanity has ever believed in.

Some of us just go one god further.
                                           — Richard Dawkins on militant atheism

সদস্য_১ লিখেছেন:

ছোটবেলায় যখন ধর্ম বইয়ে যখন এই সংগা পড়েছি, তখন একটা "নাস্তিক" দেখার ইচ্ছে ছিল (অনেকটা বাঘ, ভালুক দেখার ইচ্ছের মত)। কখনো ভাবিনি জীবনে সত্তিকারের নাস্তিকের দেখা পাব। অথচ এখন আমার আধা-আধি বন্ধু নিবন্ধিত নাস্তিক! মানে কোন অফিসিয়াল ফরমে রিলিজিয়ন লিখে "এথিয়েস্ট"!

কোথায় পড়েছিলাম মনে নাই, তবে বাংলাদেশে নাস্তিকরা বিরল প্রজাতির প্রাণী। বহু প্রজন্ম ধরে আমরা প্রভুভক্ত জনগোষ্ঠী। প্রাচীন বংগদেশের (বাংলাদেশ, পশ্চিমবংগ, আসাম, বিহার ইত্যাদি) অধিবাসীদের এথনোগ্রাফী সম্পর্কে জানলে দেখবেন আমাদের পূর্বপুরুষরা বহু ঘাটের পানি খেয়েছেন। বংগদেশের দূর প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়না; প্রাচীন ভারতীয় কিছু পুথিঁতে এ অন্চলের মানুষরা কুয়া থেকে পানি টানতো, নিরামিষভোজী ছিলো, প্যাগান দেবদেবীতে বিশ্বাস করতো এবং নিরীহ গোবেচারা ছিলো - এ ধরণের কিচু অস্পষ্ট (এবং অবমাননাকর) তথ্য পাওয়া যায়। সপ্তম থেকে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ভারতে পাল বংশের রাজত্য শুরু হয়। পাল সম্রাটরা অধিবাসীদের বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেন - দলেদলে মানুষ নতুন ধর্ম গ্রহণ করে। এরপরে ক্ষমতায় আসে কম্বোজ-পাল সম্রাটরা - এরাও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলো। তারপর, দ্বাদশ শতাব্দীতে পাল বংশ দূর্বল হয়ে পড়লে সাম্রাজ্য বিস্তার করে কর্ণাটকের সেন বংশ। সেন সম্রাটরা কট্টর হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছহিলেন। বলা হয়, সেন বংশের শাসকরা এখানকার অধিবাসীদের জোর পূর্বক হিন্দু ধর্মে কনভার্ট করান - সবাই দলেদলে হিন্দু হয়ে যায়। সেন বংশের কোনো একজন সম্রাট (সম্ভবত: বল্লাল সেন) ঢাকেশ্বরী মন্দির তৈরী করেছিলেন - বাংলাদেশের রাজধানীর নামটি কিন্তু এই বিখ্যাত মন্দির থেকেই এসেছে। সেন সাম্রাজ্য পতনের পরে দেব সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, এরাও হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এ পর্যন্ত ইতিহাস জানে না, বা জানলেও বিব্রত বোধ করে। তবে তারপরের কাহিনী সবার জানা - দ্যা মোগল কনকুয়েস্ট অব ইন্ডিয়া। সিলেট দখলের মাধ্যমে বাংলাদেশে মোঘলদের সাম্রাজ্য বিস্তার... ইসলামের আগমণ, অত:পর বংগবাসীর দলেদলে পুনরায় ধর্ম পরিবর্তন।

আমার পরিচিত অনেকেই নিজের ধর্ম ছাড়া ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন। তাদের আমাদের পূর্বপুরুষদের আদি ইতিহাস সম্পর্কে জানিয়ে যখন প্রশ্ন করি, "আপনার প্রপিতামহে কপালে তো দোযখের আগুন ছাড়া আর কিছু নাই, তা সে ব্যাপারে আপনার কি মতামত?" তখন দীর্ঘ নীরবতা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না....  roll

Calm... like a bomb.

২৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (২৩-১২-২০১১ ০১:০৬)

Re: মহাবিশ্ব এবং ঈশ্বর - একটি দার্শনিক আলোচনা , অভিজিৎ রায়

বুঝলাম  big_smile

hit like thunder and disappear like smoke

২৪

Re: মহাবিশ্ব এবং ঈশ্বর - একটি দার্শনিক আলোচনা , অভিজিৎ রায়

lol সেটা ঠিক আছে। তবে নাস্তিকে সংঙ্গা অনুযায়ী এদের কে নাস্তিক বলা ঠিকনা। বড়জোর বিধর্মী বা বিপথগামী(!) বলাযায়। যারা অন্তত কোন একটা ঐশ্বরিক কিছুতে বিশ্বাষ করে তাদের নাস্তিক বলা যাবে না। নতুবা যারা কোনটাতেই বিশ্বাষ করে না তাদের জন্য আরেকটা নাম(শব্দ) লাগবে। while() আর do-while() কখনো একই জিনিস হতে পারেনা।

২৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন @m0N (২৩-১২-২০১১ ০২:২২)

Re: মহাবিশ্ব এবং ঈশ্বর - একটি দার্শনিক আলোচনা , অভিজিৎ রায়

সদস্য_১ লিখেছেন:

lol সেটা ঠিক আছে। তবে নাস্তিকে সংঙ্গা অনুযায়ী এদের কে নাস্তিক বলা ঠিকনা। বড়জোর বিধর্মী বা বিপথগামী(!) বলাযায়। যারা অন্তত কোন একটা ঐশ্বরিক কিছুতে বিশ্বাষ করে তাদের নাস্তিক বলা যাবে না। নতুবা যারা কোনটাতেই বিশ্বাষ করে না তাদের জন্য আরেকটা নাম(শব্দ) লাগবে। while() আর do-while() কখনো একই জিনিস হতে পারেনা।

ভাই আপাত দৃষ্টিতে আস্তিক বলতে আমরা সাধারণভাবে বুঝে থাকি ঈশ্বর বিশ্বাসী এবং নাস্তিক বলতে বুঝি ঈশ্বর অবিশ্বাসী। কিন্তু একটু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- শব্দ দুটি সবসময় একই অর্থ ধারণ করে না। বেশ কিছু ধর্মে যেখানে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই (জৈন, প্রথম অবস্থায় বৌদ্ধ, বিভিন্ন টোটেমদের ধর্ম) সেগুলোকে নিশ্চয় নাস্তিকধর্ম বা ঐ সব ধর্ম পালনকারীদের সাধারণভাবে নাস্তিক বলার রেওয়াজ নেই।এরা আবির্ভূত হয়েছিল তৎকালীন প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বর বিশ্বাসী ধর্মগুলার প্রতিবাদী ধর্ম হিসাবে এদের কি বলবেন ধর্মদ্রোহী।মূলত প্রচলিত অর্থে প্রতিষ্ঠিত ধর্মমতের বিরুদ্ধাচরণই নাস্তিকতা।তাই ইনভারব্রাসের লেখাটাও ঐ দৃষ্টিভ্ঙ্গীতেই দেখুন।
এখন যদি কেউ বলে- সে প্রচলিত কোন ধর্মের অনুশাসন মানে না, বিশ্বাসও করে না; কিন্তু সে জগত-সংসারের সৃষ্টিকর্তা একজন কেউ আছে বলে বিশ্বাস করে- তবে তাকে কি বলে আখ্যায়িত করা হবে? আস্তিক না নাস্তিক?
কিংবা যখন কেউ তার পৈত্রিক ধর্মের বিভিন্ন বিশ্বাস নিয়ে ক্রমাগত প্রশ্ন তুলতে থাকে এবং নতুন কোন ধর্মে নিজেকে সমর্পিতও না করে- তখন  waiting
আর সুনীল চট্টোপাধ্যায়ের 'প্রাচীন ভারতের ইতিহাসেই' বাংলাদেশে ধর্মের বিবর্তন সুন্দরভাবে লেখা আছে।

hit like thunder and disappear like smoke

২৬

Re: মহাবিশ্ব এবং ঈশ্বর - একটি দার্শনিক আলোচনা , অভিজিৎ রায়

ঠিক ঈশ্বর বিশ্বাসী হতে হবে সেটা নয় বরং কোন একটা ঐশ্বরিক/আলৌকিক কিছুতে বিশ্বাষের কথা বলেছি। যেমন পাপ/পূর্ন, জন্মান্তর ইত্যাদি কোন একটাতে যারা বিশ্বাস করে তাদের কে নাস্তিক বিবেচনা না করার জন্য বলেছি।
তাহলে যারা কোনটাতেই বা কোনকিছুতেই বিশ্বাষ করেনা তাদের সাথে পার্থক্য করা যাবে না।

২৭

Re: মহাবিশ্ব এবং ঈশ্বর - একটি দার্শনিক আলোচনা , অভিজিৎ রায়

@m0N লিখেছেন:

এখন যদি কেউ বলে- সে প্রচলিত কোন ধর্মের অনুশাসন মানে না, বিশ্বাসও করে না; কিন্তু সে জগত-সংসারের সৃষ্টিকর্তা একজন কেউ আছে বলে বিশ্বাস করে- তবে তাকে কি বলে আখ্যায়িত করা হবে? আস্তিক না নাস্তিক?

এরা ডিঈস্ট (deist)। প্রচলিত ধর্মগুলোতে যে ঈশ্বরের ধারণা আছে - তাকে সাধারণভাবে "ব্যক্তিগত ঈশ্বর" বলা হয়। ডিঈস্টরা পার্সোনাল গডে (তথা অর্গানাইযড ধর্মবিশ্বাসে) বিশ্বাস করেন না, তবে তারা ক্রিয়েটর গড/ইন্টেলিজেন্ট বিইং/সুপ্রিম আর্কিটেক্ট বলে একটি সুপারন্যাচারাল সত্বায় বিশ্বাস করেন। তারা মনে করেন, ঈশ্বর (supernatural deity) মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, এরপর মহাবিশ্বকে নিজের মত চলতে দিয়ে রিটায়ার করেছেন। ডিঈযম ১৬শ শতাব্দীর দিকে ইউরোপে প্রচলিত ছিলো - এখন এদের ব্যাপারে তেমন শোনা যায় না।

আরো একটি গ্রুপ আছে - এ্যাগনস্টিক (agnostic)। এরা এ্যাথেইস্ট এবং ডিঈস্টদের মাঝামাঝি - এরা মনে করেন ঈশ্বর থাকতেও পারেন, আবার নাও থাকতে পারেন - ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব কোনোটাই মানুষের পক্ষে প্রমাণ করা সম্ভব নয়।

Calm... like a bomb.