সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইলিয়াস (২১-১২-২০১১ ১০:৪৯)

টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

আগের পর্ব সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৯ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-৩)

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওতবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনার পর বললেন, আবুল ওলীদ, তোমার কথা কি শেষ হয়েছে ? আমার কথা শুনো। এরপর রসুলে খোদা (সাঃ) সূরা হা-মীম-সেজদার প্রথম থেকে তেলওয়াত শুরু করলেন। “পরম করুনাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি” । হা- মীম এই কিতাব দয়াময় আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ। এটি এক কিতাব, বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এর আয়াত সমূহ আরবী ভাষায় কোরআন রুপে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য। সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রুপে। কিন্তু ওদের অধিকাংশই বিমুখ হয়েছে। কাজেই ওরা শুনবে না। ওরা বলে তুমি যার প্রতি আমাদের আহবান করছো। সে বিষয়ে আমাদের অন্তর আবরণ, আচ্ছাদিত, কানে আছে বধিরতা এবং তোমার ও আমাদের মধ্যে কাজ করে অন্তরাল। সুতরাং তুমি তোমার কাজ করো এবং আমরা আমাদের কাজ করি।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তেলওয়াত করে যাচ্ছিলেন আর ওতবা দুহাত পিছনের দিকে রেখে আরাম করে বসে শুনছিলো। সেজদার আয়াত তেলওয়াত করার পর রসুল (সা) উঠে সেজদা করলেন। এরপর বললেন, আবু ওলিদ, তুমি কিছু শুনতে চেয়েছিলে, আমি শুনিয়েছি,এবার তুমি জানো,আর তোমার কাজ জানে।
ওতবা উঠল এবং নিজের সঙ্গীদের কাছে গেলো। তাকে দেখে তার সঙ্গীরা বলাবলি করতে লাগলো যে, খোদার কসম,আবুল ওলিদ যে চেহারা নিয়ে গিয়েছিলো, সে চেহারা নিয়ে কিন্তু ফিরে আসছেনা। ওতবা বসার পর সঙ্গীরা জিজ্ঞেস করলো যে, কি খবর নিয়ে এসেছো ? সে বললো, খবর হচ্ছে, আমি এমন কালাম শুনেছি যা অতিতে কোনদিন শুনিনি। খোদার কসম সেটা কবিতাও নয়, যাদুমন্ত্রও নয়। তোমরা আমার কথা শুনো। ওকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দাও। যে কালাম আমি শুনেছি ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে বড় ধরণের কোন ঘটনা ঘটবে। এরপর যদি ওকে আরবের লোকেরা মেরে ফেলে, তবে তোমাদের কাজ অন্য কেউ করবে। যদি তিনি আরবের উপর জয়লাভ করেন, তবে তার হবে তোমাদের সম্মান, তাঁর বাদশাহী হবে তোমাদের বাদশাহী। তাঁর অস্তিত্ব তোমাদের জন্য সৌভাগ্যের কারণ হবে।

কোরাইশরা বললো, আবু ওলিদ, সে কালামের যাদু তোমাকেও প্রভাবিত করেছে। ওতবা বললো, তার ব্যাপারে আমি যা বুঝেছি তা বলেছি। এখন তোমরা যা ভাল মনে করো, তা করো।
অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন এ আয়াত তেলওয়াত করলেন যে, তবুও যদি ওরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলো, আমিতো তোমাদেরকে সতর্ক করছি এক ধ্বংসকর শাস্তির। যা আ’দ ও সামুদের শাস্তির অনুরুপ। এই আয়াদ তেলওয়াতের সাথে সাথে ওতবা উঠে দাড়াল এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র মুখে হাত চাপা দিয়ে বললো, আমি আপনাকে আল্লাহ ও নিকটাত্মীয়ের দোহাই দিয়ে বলছি যে, আপনি এরুপ করবেন না। ওতবা আশংখা করছিলো যে, ও রকম শাস্তি তার উপর না এসে পরে।

বনু হাশেম ও বনু মোত্তালেবের সাথে আবু তালেবের বৈঠক
ইতিমধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আবু তালেব তখনো ছিলেন শংকিত। পৌত্তলিকদের পক্ষ থেকে তিনি তাঁর ভ্রাতস্পুত্রের ব্যাপারে আশংকা বোধ করছিলেন। তিনি এযাবত সংঘঠিত ঘটনাবলী পর্যালোচনা করছিলেন। পৌত্তলিকরা তাকে মোকাবেলার হুমকি দিয়েছিলো। আম্মার ইবনে ওলিদের বিনিময়ে তার ভ্রাতুস্পুত্রকে নিয়ে হত্যা করার প্রস্তাব করেছিলো। আবু জেহেল একটি ভারী পাথর তাঁর ভাতিজার মস্তক চূর্ণ করার চেষ্টা করেছিলো। ওকবা ইবনে আবু মুঈত গলায় চাদর পেচিয়ে তাঁর ভাতিজাকে শ্বাষরোধ করে হত্যা করতে চেয়েছিলো। খাত্তাবের পুত্র খোলা তলোয়ার হাতে তাঁকে হত্যা করতে বেরিয়েছিলো। পর্যায়ক্রমে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার প্রতি লক্ষ্য করে আবু তালিব এমন গুরুতর বিপদের আশংকা করলেন যে, তাঁর বুক কেঁপে উঠলো।

তিনি ভালভাবে বুঝতে পারলেন পৌত্তলিকরা তাঁর ভাতিজাকে হত্যা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এমতবস্থায় কোন কাফের যদি তাঁর ভাতিজার উপর হঠাৎ করে হামলা চালায় তাহলে বিচ্ছিন্নভাবে হযরত হামযা বা হযরত ওমর বা আন্য কেউ কি করে তাঁকে রক্ষা করবে।
আবু তালেবের এ আমংকা অমুলক ছিলনা। কেন না পৌত্তলিকরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে সংকল্পবদ্ধ ছিলো। তাদের এ সংকল্পের প্রতি ঈঙ্গিত করেই আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ওরা কি কোন ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ? আমিইতো সিদ্ধানতকারী”।

প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরণের পরিস্থিতে আবু তালেবের কি করা উচিত ? তিনি দেখলেন যে, পৌত্তলিকরা চারিদিক থেকে তাঁর ভাতিজাকে নাজেহাল করতে উঠে লেগেছে। তখন তিনি তার পিতামহের দুই বিশিষ্ঠ ব্যক্তিত্য হাশেম ও মোত্তালিবদের একত্রিত করলেন। তিনি সেই সমাবেশে তাঁর ভাতিজাকে রক্ষার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানালেন। তিনি আবেগজড়িত কন্ঠে বললেন, যে দায়িত্ব এতদিন আমি একা পালন করেছি, এবার এসো, আমরা সবাই মিলে সে দায়িত্ব পালন করি। আবু তালেবের এ আহবানে তার দুই পুর্বপুরুষের বংশধররা সাড়া দিলেন। আবু তালেবের ভাই আবু লাহাব শুধু ভিন্নমত পোষন করলো। সে অস্বীকৃতি জানিয়ে পৌত্তলিকদের সাথে গিয়ে মিলিত হলো।

{চলবে}

প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

আবু লাহাব আসলেই বেত্তমিস  angry

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

আবু লাহাব আসলেই বেত্তমিস  angry

সুরা লাহাব অবতির্ণ হয় লাহাব এবং তার স্ত্রীর মৃত্যুর ১০ বছর আগে। বেটা তখনও বুঝে নাই। আল্লাহ তারে কি বলেছে।

বড় ভাই ভাল লাগিল।

স্বাক্ষর তৈরী করা সম্তব নয়..........!!!
খসড়া খাতা

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

খুব ভাল লাগলো। অনেক কিছু বিস্তারিত জানা হচ্ছে। ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

Allah is a better planner... so whenever u'r plan fails, cheer up... Allah has a better plan for you

Shahanur79'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

ধন্যবাদ সবাইকে।

Shahanur79 লিখেছেন:

অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

শাহনুর ভাইকে অনেকদিন পর আমার টপিকে পেলাম। smile

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

ভাইজান কয়েকটা বানান ভুল আছে একটু কারেকশন করলে ভাল হত
যেমন আমংকা -আশংকা হবে
বিণিময়ে -বিনিময়ে হবে
নিচ হতে ছয় নম্বর লাইনে সিদ্ধান্তকারী
এবং নিচের লাইনে অস্বীকৃতি

অনেক কিছু জানলাম । ধন্যবাদ ভাইজান শেয়ার করার  জন্য

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

ভাইজান কয়েকটা বানান ভুল আছে একটু কারেকশন করলে ভাল হত

টাইপিং মিসটেক ছিল ধরিয়ে দেয়ায় ধন্যবাদ।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

ইলিয়াস লিখেছেন:
ছবি-Chhobi লিখেছেন:

ভাইজান কয়েকটা বানান ভুল আছে একটু কারেকশন করলে ভাল হত

টাইপিং মিসটেক ছিল ধরিয়ে দেয়ায় ধন্যবাদ।

আপনাকেও আবারও ধন্যবাদ এত সুন্দর বিষয়গুলো আমাদেরমাঝে তুলে ধরার জন্য

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

১০

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ  smile

১১

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৪০ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-শেষ পর্ব)

ধন্যবাদ ।  clap

ঝামেলা'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত