টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৮ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-২)

আগের পর্ব সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৭ হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ ১ পর্ব

হযরত খাব্বাব (রা) হযরত ওমর (রা) এর মুখে একথা শুনে ভেতর থেকে বাইরে এলেন এবং বললেন, ওমর খুশি হও, রসুলুল্লাহ (সা) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে যে দোয়া করেছিলেন, আমার মনে এটা তারই ফল। এ সময় রসুলুল্লাহ (সা) সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী এক ঘরে অবস্থান করেছিলেন।
একথা শুনে হযরত ওমর (রা) তলোয়ার হাতে সেই ঘরের সামনে এসে দরোজায় করাঘাত করলেন। একজন সাহাবী দরজায় উঁকি দিয়ে দেখলেন যে, তলোয়ার হাতে ওমর। আশে-পাশেই সবাই একত্রিত হলেন। হযরত হামযা (রা) জিজ্ঞাসা করলেন কি ব্যাপার? তাঁকে বলা হলো যে, ওমর এসেছেন। তিনি বললেন, ওমর এসেছে? দরজা খুলে দাও। যদি ভালোর জন্যে এসে থাকে, তবে ভলোই পাবে। আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে এসে থাকে, তবে তার তলোয়ার দিয়েই আমরা তাকে শেষ করে দেবো। এদিকে রসুলুল্লাহ (সা) ভেতরে ছিলেন, তাঁর ওপর ওহী নাযিল হচ্ছিলো। ওহী নাযিল হওয়ার পর তিনি এদিকের কামরায় হযরত ওমরের কাছে এলেন এবং তার পরিধানের পোশাক এবং তলোয়ারের একাংশ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, ওমর, তুমি কি ততোক্ষণ পর্যন্ত বিরত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তোমার ওপরও ওলীদ ইবনে মুগিরার মতো অবমাননাকর শাস্তি নাযিল না করবেন? হে আল্লাহ, ওমর ইবেন খাত্তাবের দ্বারা দ্বীনের শক্তি ও সম্মান দান করো। একথা বলার সাথে সাথে হযরত ওমর (রা ইসলাম গ্রহণ করে নিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন মাবুদ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। একথা শুনে ঘরে ভেতরে যারা ছিলেন তারা এতো জোরে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলেন যে, কাবাঘরের মধ্যে যারা ছিলেন, তারাও আওয়ায শুনতে পেলেন। আরবে কেউ তার মোকাবেলা করার সাহস পেতো না। এ কারনে তার ইসলাম গ্রহণের সংবাদে পৌত্তলিকদের মধ্যে হৈ চৈ পড়ে গেলো। তারা মারাত্মক সস্কট এবং অবমাননার সম্মুখীন হলো। অন্য দিকে তাঁর ইসলাম গ্রহণের ফলে মুসলমানদের গৌরব, শক্তি, মর্যাদা, সাফল্য ও আনন্দ বেড়ে গেলো। ইবনে ইসহাক তার সনদে হযরত ওমর(রা) এর বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যে, আমি যখন মুসলমান হলাম, তখন ভাবলাম, মক্কায় রসুলুল্লাহ (সা)’র সবচেয়ে ব্ড় শক্র কে? এরপর মনে মনে বললাম, সে হচ্ছে আবু জাহেল। এরপর আমি আবু জেহেলের বাড়ী গেলাম। ঘরের দরজায় করাঘাত করলে আবু জেহেল বেরিয়ে এলো। সে আমাকে দেখে বললো, স্বাগতম সুস্বাগতম। কি কাজে এসেছ ওমর? আমি বললাম, তোমাকে একথা জানাতে এসেছি যে, আমি আল্লাহ তায়ালা এবং তার রসুলুল্লাহ (সা)’র ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি। তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তার উপরও বিশ্বাস পোষন করি, এবং সত্য বলে স্বীকার করেছি। এ কথা শুনে আবু জেহেল দরজা বন্ধ করে দিতে দিতে বললো, আল্লাহ তোমার মন্দ করুন , এবং তুমি যা কিছু নিয়ে এসেছো তারও মন্দ করুন।
ইমাম ইবনে জওজি হযরত ওমর ফারুক (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কেউ যখন ইসলাম গ্রহণ করতো, তখন কোরাইশ কাফেররা তাদের পিছনে লেগে যেতো। তাকে নিমর্মভাবে প্রহার করতো। প্রহৃত ব্যক্তিও প্রহার করতেন। আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর আমার মামা আদী ইবনে হাশেমের কাছে গিয়ে তাকে জানালাম। তিনি কোন কথা না বলে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করলেন। এরপর কোরাইশদের একজন বিশিষ্ঠ লোকের কাছে গেলেন। সম্ভবত আবু জেহের দিকে ঈঙ্গিত করেছেন। আমার মামা আদী কোরাইশের সেই লোককে খবর দেয়ার পর সেও ঘরের ভিতর ঢুকে গেল।
ইবনে হিশাম ইবনে জাওযি বর্ণনা করেছেন যে, হযরত ওমর (রা) ইসলাম গ্রহণের পর জামিল ইবনে মোয়াম্মার মাহমির কাছে গেলেন। কোন কথা প্রচারের ক্ষেত্রে কোরাইশদের মধ্যে এ লোক ছিল বিখ্যাত। হযরত ওমর তাকে জানালে যে, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। একথা শুনার সাথে সাথে সে উচ্স্বরে চিৎকার করে উঠলো যে, খাত্তাবের পুত্র বেদ্বীন হয়ে গেছে। হযরত ওমর (রা) বললেন, তুমি মিথ্যা বলছো, আমি মুসলমান হয়েছি। মোট কথা লোকেরা ওমরের উপর ঝাপিয়ে পরলো এবং তাঁকের প্রহার করতে লাগলো। হযরত ওমর প্রহৃত হচ্ছিলেন আবার নিজেও প্রহার করছিলেন। এক সময় সুর্য্য মাথার উপর এলো। ক্লান্ত হয়ে তিনি বসে পরলেন। এরপর বললনে, যা খুশি করো। আল্লাহর কসম, যদি আমরা সংখ্যায় তিনশজনও হতাম, তাহলে মক্কায় হয় তোমরা থাকতে না হয় আমরা থাকতাম।
পৌত্তলিকরা এর পর হযরত ওমরকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দশ্যে তার বাড়িতে হামলা করলো। সহীহ বোখারীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত ওমর ভীতবিহ্বল হয়ে ঘরের ভিতর ছিলেন। এমন সময় আবু আমর আস ইবনে ওয়ায়েল ছাহমি এলেন। তিনি কারুকাজ করা ইয়েমেনি চাদর এবং রেশমী পোশাক পরিহিত ছিলেন। তিনি ছিলেন ছাহাম গোত্রের অধিবাসী। সেইকালে তিনি ছিলেন আমাদের মিত্র গোত্রের লোক। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কি ব্যাপার ?এত হল্লা কেন ?? হযরত ওমর বললেন, আমি মুসলমান হয়েছি। একারণে ওরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়। আস বললেন, এটা সম্ভব নয়। আস এর এ কথা শুনে আমি স্বস্তিবোধ করলাম। বহু লোক সে সময় আমার বাড়ির আশেপাশে ভীড় করে আছে। আস ভীড় ঠেলে তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলেন, তোমরা সবাই কোথায় চলেছো ? সবাই বললো, ওমর বেদ্বীন হয়ে গেছে, তার কাছে যাচ্ছি। আস বললেন, সেদিকে যাওয়ার কোন পথ নেই। এ কথা শুনে সবাই ফিরে চলে গেলো্। ইবনে ইসহাকের একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, তারা এমনভাবে সমবেত হয়েছিলো, মনে হচ্ছিলো যেন, তারা একই পোশাকের মধ্যে প্রবেশ করেছে।

[চলবে]............

প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৮ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-২)

সুবহান আল্লাহ।.......পড়তে পড়তে শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল ।

ধন্যবাদ ভাইজান শেয়ার করার জন্য ।

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৮ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-২)

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

পড়তে পড়তে শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল ।

ঘটনা প্রবাহ যেই মনযোগ সহ পড়বে তারই আপনার মত গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে। ধন্যবাদ বোন।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৮ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-২)

এই পর্বের কাহিনী কিছুটা আগেই জানতাম তারপর ও ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৮ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-২)

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

এই পর্বের কাহিনী কিছুটা আগেই জানতাম তারপর ও ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

সাথে থাকো, আশাকরি তোমার অজানা তথ্যও জানতে পারবে। ধন্যবাদ তোমাকে।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৮ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-২)

ইলিয়াস ভাইকে ধন্যবাদ। অনেক কিছু বিস্তারিত জানা হচ্ছে।

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

সুবহান আল্লাহ।.......পড়তে পড়তে শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেল ।

আসলেই তাই।

ইলিয়াস লিখেছেন:
সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

এই পর্বের কাহিনী কিছুটা আগেই জানতাম তারপর ও ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

সাথে থাকো, আশাকরি তোমার অজানা তথ্যও জানতে পারবে। ধন্যবাদ তোমাকে।

ভাই, ইনশাল্লাহ সাথে আছি। আরও ঘটনাবলী জানার অপেক্ষায় রইলাম। smile