সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (১২-১২-২০১১ ১০:৩৬)

টপিকঃ আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

পূর্বেঃ আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৭

চমতকার সব বিল্ডিং এর জঙ্গল, বিশাল একুরিয়াম আর আকাশছোয়া বুর্জখলিফাঃ    
পরেরদিন সকাল সকাল বেরিয়ে পরলাম দুবাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে। বাস টার্মিনাল থেকে দুবাই এর বাসে উঠলাম। এক ইন্ডিয়ান তরুনের বদান্যতায় আমি আর আমার স্ত্রী পাশাপাশি বসার সুযোগ পেলাম। মন কিঞ্চিত খারাপ হলো। কারণ আমাদের সিট ছিলো পিছনের দিকে। আমার কাছে বাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতে না বসতে পারলে খালি মনে হতে থাকে যে ঝাকুনি খেয়ে মারা যাবো। এখানকার রাস্তা যে যাত্রাবাড়ির রাস্তার মত না সেটা বারবার ভুলে যাই। বাসে উঠে চরম একখান ঘুম দিলাম। যখন ঘুম ভাঙল, তখন দেখি দুবাইতে খালি প্রবেশ করতে যাচ্ছি। রাস্তার দুইপাশে বড় বড় সব কারখানা। টাটা, হোন্ডা, টয়োটাসহ বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানীর কারখানা। যতই ভিতরে প্রবেশ করছি ততই দেখি বিল্ডিং এর ভ্যারাইটিজও বাড়ছে। মনে হলো এখানকার বিল্ডিংগুলো আবুধাবির চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্রময়। আর প্রশস্ত রাস্তার দুইপাশে আরো অনেক প্রশস্ত রাস্তা, মাথার উপরে রাস্তা, দীর্ঘ ফ্লাইওভারগুলো দেখে মনে হচ্ছিলো যে আমি মনেহয় জিটিএ টাইপের কোন গেমের ভিতরে ঢুকে গেছি। আমাদের দেশে রাস্তা কম গাড়ি বেশি, ফুটপাত কম পাবলিকের ভীড় বেশি। এখানে একদম বিপরীত সিনারিও। আমার মত বাঙ্গালের জন্য অস্বস্তিকর বটে।

https://lh5.googleusercontent.com/-HIMvwgfz_cg/TuT2lSC7zxI/AAAAAAAAAKM/WcPjn8Er9cw/s640/SAM_1184.jpg

https://lh6.googleusercontent.com/--a4JIq7m3A0/TuT34PiVrmI/AAAAAAAAAKs/1cq2wJmEa2M/s640/SAM_1199.jpg

আমাদের প্ল্যান ছিলো বুর্জখলিফা, দুবাই-মল দেখে চলে যাবো বুর্জাল-আরাব দেখতে। প্রথমে ভেবেছিলাম মেইন বাস টার্মিনালেই নামবো। কিন্তু হঠাত দেখলাম বুর্জখলিফা পার হয়ে চলে যাচ্ছি। তখনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পরের স্টপেজেই নেমে গেলাম। এখানে একটা নতুন জিনিস দেখলাম, সেটা হলো লোকাল বাসের যাত্রীছাউনিগুলো সব এয়ারকন্ডিশন্ড। ট্যাক্সিতে চেপে চলে যাবো ভেবেছিলাম, কিন্তু ততক্ষণে আমরা আবিষ্কার করে ফেলেছি যে আমাদের মাথার উপর দিয়ে যেই রাস্তাটা অনেকক্ষণ ধরে দেখে আসছিলাম সেটা মনোরেল। কাজেই ততক্ষনাত সেটার স্টেশনের দিকে হাটা শুরু করলাম। স্টেশনের ভিতরে ঢুকে দেখি ব্যাপক অ্যাকশন। টিকেটের ভেন্ডিং মেশিন থেকে টিকেট নিতে হবে। তারপর সিড়ি, লিফট বা এস্কেলেটরে চেপে দোতলায় উঠে সেখান থেকে ট্রেনে উঠতে হবে। আমি টিকিটের মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে কিভাবে আমাদের ডেস্টিনেশনে যাবো এবং সেটার সমমূল্যের টিকেট কিনবো। কিন্তু মেয়েদের ধৈয্য মনেহয় একটু কম। ৩-৪ মিনিট পরপর একটা করে ট্রেন আসছে আর যাচ্ছে। তারপরও আমার বৌয়ের কেন জানি মনেহলো যে এইটা ‘একতা এক্সপ্রেস’ টাইপ কিছু , একবার ছেড়ে দিলে আরেকটা ছাড়তে ছাড়তে পরের দিন!! তাই সে তাড়াহুড়ো করে টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট নিয়ে নিলো। টিকেটটা মোবাইল ফোনের প্রিপেইড রিচার্জ কার্ডের মত। সেটা প্রবেশের গেটের পাশের নির্দিষ্ট প্যানেলে ছোয়ালে ‘খুলজা সিমসিম’, আর না ছোয়ালে গেট লকড। দোতলায় উঠে দেখলাম যে , খুব সুন্দর করে মনোরেলের রুটের ম্যাপ দেয়া আছে। যতদুর মনে পড়ছে , সবর্মোট ২২টি স্টপেজ। আমরা দুই স্টপেজ পরেই আমাদের গন্তব্যে পৌছে গিয়েছিলাম। সবর্মোট সময় লেগেছিলো ৭ মিনিট। তবে প্রচন্ড ভিড়ে সিট না পাওয়ায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেতে হয়েছিলো যেটা আমাকে ঢাকার ৯ নম্বর চিটিং গেটলক বাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলো।
https://lh3.googleusercontent.com/-LvDgcmPFr00/TuT22sFUQeI/AAAAAAAAAKU/8C-1bTKGNvI/s640/SAM_1185.jpg

https://lh5.googleusercontent.com/-6-jOn-lf5ss/TuT2_28tEWI/AAAAAAAAAKc/urP8ZlU-xQw/s640/SAM_1190.jpg

আমার একটা স্বপ্ন ছিলো যে, আমি যদি কখনো দুবাই আসি তাহলে যেভাবে হোক বুর্জখলিফা দেখবোই। যখন বুর্জখলিফা চোখের সামনে দেখলাম তখন যে কি আনন্দ হচ্ছিলো তা ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নাই। বুর্জখলিফার সাথেই দুবাই মল। তিনতলা এ মলটির বৈশিষ্ট হচ্ছে এর ভিতরে একটি একুরিয়াম আছে যেটা একসময় গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাই পেয়েছিলো। সেটা ছাড়া বাদবাকি সব জিনিসই আমার কাছে আবুধাবির মলগুলোর মত লাগছিলো। এজন্যে আমার বৌকে একটু রাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিলাম। বললাম,
-    শপিং মলে যে কি দেখার আছে আমি বুঝি না। সব একই রকম। দামী দামী সব ব্র্যান্ড দিয়ে ভরা যেগুলো দেখা যাবে, কিন্তু কেনা যাবে না। হুদাই। আর এই মলটাতো আরো জঘন্য মনে হচ্ছে। ঐ যে দেখো নষ্ট এস্কেলেটর। ব্যাটারা মলের ভিতর একুরিয়াম বানায় মনেহয় ফতুর হয়ে গেছে। তাই এস্কেলেটর ঠিক করার মত পয়সা নাই। হা হা হা।
আমি যে কত বড় বেকুব, সেইটা এস্কেলেটরের কাছে গিয়ে বুঝলাম। যেই কাছে গেলাম সাথে সাথে সেটা চলা শুরু করলো। বেশি ইস্মার্ট হইলে যা হয় আরকি। এইগুলার মধ্যে সেন্সর আছে বুঝবার পারি নাই। আজাইরা সারাদিন চালায় পাওয়ার নষ্ট হয় না এইগুলাতে। আমার বৌ দেখি আমার দিকে তাকায় সেইরকম গা জ্বালানো হাসি দিচ্ছে আর বলছে,
-    হায়রে অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স!!
-    আমার কি দোষ? আমিতো বুঝি নাই যে দুবাইআলারা আমি আসতে আসতে ফকির হয়ে যাবে। হ্যাহ। এদের অবস্থা এতটাই খারাপ যে পাওয়ার সেভিং এর জন্য এইরকম এস্কেলেটর ইউজ করে। শেইম অন দেম।
মনেহয় আমার মেকাপ ডায়ালগটা জুইতের হয় নাই। আমার বৌ হাসতেই থাকলো।

https://lh3.googleusercontent.com/-xRRpT-0EbR8/TuT3QzojlRI/AAAAAAAAAKk/XDIQdEcOks4/s512/SAM_1192.jpg

https://lh5.googleusercontent.com/-vHS6woxxhIc/TuT37UwbbAI/AAAAAAAAAK8/GEkmaTI8Wgg/s640/SAM_1202.jpg

https://lh5.googleusercontent.com/-E5KLKlACY-E/TuT4IF0kpmI/AAAAAAAAALE/qK1QIFJfJYE/s640/SAM_1209.jpg

মলে ঢুকে প্রথমেই গেলাম একুরিয়াম দেখতে। বেশিরভাগ পাবলিক দেখি যে বাইরে থেকেই দেখছে। আমরা অবশ্য টিকেট কেটে ভিতরে ঢুকলাম। ভিতরে একটা ছোট্ট টানেল আছে যেটা থেকে মাছগুলোকে একদম কাছে থেকে দেখা যায়। অ্যাকুরিয়ামটা তিনতলার সমান উচু। আমাদের টিকিটের প্যাকেজে অ্যাকুরিয়ামের ভিতরে বোটিং এর অপশনও ছিলো। আমরা সেটা অনুযায়ী অ্যাকুরিয়ামের ভিতরে বোটিং এও অংশ নিলাম। বোটের নিচের পাটাতন ছিলো স্বচ্ছ। ফলে পায়ের তলায় মাছদের দেখতে অসুবিধা হচ্ছিলো না। আমাদের হাতে ওরা এক কৌটা মাছের খাবার দিয়ে দিয়েছিলো যেটা বোটিং এর সময় মাছদের খাওয়ালাম। ভাগ্য ভালো যে হাঙ্গরগুলো খাবার খাওয়ার পানির উপরের স্তরে উঠে আসেনি। তাহলে ব্যাপারটা মনেহয় সুখকর হত না। 
https://lh4.googleusercontent.com/-lVnSggRQLhI/TuT59XF-0rI/AAAAAAAAALk/QZd3lDqm2p0/s640/SAM_1239.jpg

https://lh5.googleusercontent.com/-XSPjTvxlq7Q/TuT4ngbiOKI/AAAAAAAAALM/OrIHIpUkI1o/s640/SAM_1228.jpg

https://lh3.googleusercontent.com/-OmSxyr-ENfw/TuT484CfxMI/AAAAAAAAALU/58BtkACJTPI/s512/SAM_1231.jpg

https://lh5.googleusercontent.com/-7IINWBppLCI/TuT5cmR6epI/AAAAAAAAALc/grbOebW_8vU/s640/SAM_1237.jpg

অ্যাকুরিয়াম থেকে বের হয়ে হঠাত আমার মাথাব্যাথা করা শুরু করলো। এই দেশে আসার পর থেকেই এই মাথাব্যাথাটা আমার সাথে ছিলো প্রথম সাতদিনের মত। আশেপাশে কোন ফার্মেসী না দেখে আমরা একটা ইনফরমেশন পিলারে গিয়ে সার্চ করে দেখলাম যে ফার্মেসী ঠিক নিচের তলায়। ইনফরমেশন পিলার হচ্ছে প্রায় দুই মানুষ সমান উচু কতগুলো টাচস্ক্রীন যেখানে একটা মলের একটা ম্যাপ দেয়া থাকে এবং মেনু থেকে খুব সহজেই কাঙ্খিত জায়গাটির লোকেশান খুজে বের করা যায়। যাই হোক, আমি একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম আর আমার স্ত্রী ছুটলো ঔষধ আনতে। বেঞ্চগুলোতে তিনজন বসা যায়। আমার থেকে কয়েক মিটার দুরে আরেকটা বেঞ্চ। আমার স্ত্রী ফেরত আসতে আসতে প্রায় মিনিট পচিশ লেগেছিলো। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এর মধ্যে অনেক পাবলিক আসলো-গেলো। বেশির ভাগই আরব। কিন্তু কেউই জায়গা খালি থাকা স্বত্তেও আমার পাশে বসলো না। আমার পাশে এসে বসেছিলো কতগুলো তামিল। রেসিজম কি জিনিস ,তার আচ কিছুটা হলেও গায়ে লাগলো। তবে পরে শুনেছিলাম যে, শুধু ফর্সা আরবরা না, কালো আরবদের মধ্যেও এই ধরনের প্রবলেম আছে। তবে লোকাল বাংলাদেশিরা এটাকে রেসিজম বলতে নারাজ। এটা নাকি অ্যারাবিজম। মাথায় কিছু না থাকলেও আরবদের মধ্যে নাকি ‘হাম বারা’, ‘মুই কি হনুরে’ ভাব প্রকট।

https://lh3.googleusercontent.com/-EaIQfaJJybo/TuT6sOwWCLI/AAAAAAAAALs/jsevUVKBOLE/s640/SAM_1240.jpg

https://lh3.googleusercontent.com/-W-DBqlcabNg/TuT7uHm66XI/AAAAAAAAAL8/eIrp45Sopjg/s640/SAM_1274.jpg

https://lh5.googleusercontent.com/-BNx4osTSidk/TuT74Pb0BvI/AAAAAAAAAME/2JzbHJI9wS4/s640/SAM_1285.jpg

https://lh3.googleusercontent.com/-3DTGYjn1tbg/TuT81I4GT1I/AAAAAAAAAMM/f9WHkxKV-aU/s640/SAM_1287.jpg

https://lh5.googleusercontent.com/-gJ8NX5-TdFI/TuT-XdkzrOI/AAAAAAAAAMk/N9JsFTei5ec/s640/SAM_1300.jpg

এক ফাকে একবার টয়লেটে ঢু মারলাম। এখানেও পেলাম নতুনত্ব। টয়লেটে ফ্লাস করার জন্য কোন বাটন নাই। এর বদলে আছে লেসার সেন্সর। ফ্লাস করার জায়গায় আঙ্গুল রাখলেই ফ্লাস হয়। ব্যাপারটা বেশ মজার আর এই জিনিস আমি আবুধাবিতে পাই নাই। তাই আমি বেশ কয়েকবার হুদাই ফ্লাস করলাম। ওয়াশরুমেও অনেক নতুনত্ব। কল আছে, কিন্তু কলের নব নাই। হাত ধোয়ার জন্য কোন সাবানও দেখতে পেলাম না। এস্কেলেটরের সামনে বেকুব হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এবার আর দুবাই কতৃপক্ষের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ঝুটা ইলজাম লাগালাম না। কলে চাপ দেয়ার বা ঘুরানোর নব না পেয়ে কলের নিচে হাত নিলাম এই আশায় যে, এটা হয়তো হাত শুকানো মেশিনগুলোর মত কাজ করে। আসলেই তাই। কলের নিচে হাত নিতেই পানি বের হলো। পাশে দেখি আরেকটা কল। ভেবেছিলাম এটা মনেহয় গরম পানির কল। কিন্তু এটার নিচে হাত নিয়ে দেখি পানির বদলে লিকুইড সোপ বের হলো। দারুন মজা পেলাম এসব দেখে। তবে একটা জিনিস চিন্তা করে কিছুটা খারাপ লাগলো। আমরা সায়েন্স ফিকশান লিখি, আর এরা সেটাকে প্রায় বাস্তবে পরিণত করে।   

দুবাই মল ঘুরতে ঘুরতে অনেক সময় পার হয়ে গেলো। আমরা যাবো আমার স্বপ্নের বুর্জখলিফা দেখতে। মলের ভিতর থেকেই টিকেট নিতে হয়। কিন্তু সাইন দেখে দেখে আগায় যাই, কিন্তু টিকিটে কেনার জায়গা আর খুজে পাই না। যাকেই জিজ্ঞেস করি, যাকেই জিজ্ঞেস করি সেই বলে, “গো স্ত্রেইত। দেন লেফত”। ভয় ধরে গেলো যে লেফত করতে করতে না আবার আগের জায়গায় ফিরে আসি। বেশ কিছুক্ষণ খোজাখুজি আর হাটাহাটি করার পরে খুজে পেলাম। ঢুকতে গিয়ে দেখি রেগুলার টিকেট নাই। ইমার্ঞ্জেন্সী টিকেট আছে যেগুলোর মূল্য চারগুণ বেশি। আর রেগুলার টিকেট পাওয়া যাবে দুইদিন পরেরটা। দুইদিন পরে আবার আসতে পারবো কিনা কোন গ্যারান্টি নাই। মন খুব খারাপ হলো। টিকেট না কিনেই বাইরে বের হয়ে আসলাম। বেশ কিছুক্ষণ বুর্জখলিফার ঠিক পাশে বসে থাকলাম। তারপর আবুধাবির ফিরতি বাস ধরার জন্য রওনা হলাম। বাস ছেড়ে দিলো। বিশ্বের সবচেয়ে উচু ভবনকে পিছনে ফেলে আমরা ফিরে চললাম আবুধাবির দিকে।
https://lh3.googleusercontent.com/-PQPLpdcNMI0/TuT-oZcty7I/AAAAAAAAAMs/88Zgxvd801s/s512/SAM_1302.jpg 

https://lh5.googleusercontent.com/-endyKtLSZp8/TuT_HELkP9I/AAAAAAAAAM0/vBKQoiozSlI/s640/SAM_1303.jpg     

https://lh4.googleusercontent.com/-7BN1EUDZC_k/TuT9rDIXftI/AAAAAAAAAMc/C3pAYto1gSc/s512/SAM_1295.jpg

(চলবে)

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

প্রতিটা রাইডের মূল্য জানতে পারলে আরও ভাল লাগতো মনে হয়। বুর্জ খলিফার স্বাভাবিক আর ইমার্জেন্সী প্রবেশ মূল্য কত পার্থক্য?  thinking

এয়ার কন্ডিশনড যাত্রী ছাউনি হইলে কার বাদ দিয়ে বাসে যেতে আরও আগ্রহী হবে কারের মালিকরা। বিআরটি'র পোস্টে এই কথাটা বলেছিলাম। আর তুমি এইটার সরাসরি প্রয়োগ দেখে এসেছো।

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন জেলাল (১২-১২-২০১১ ০৯:৪৮)

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

শুনেছি বুর্জ খলিফায় একবার ঢুকে লবিতে জাস্ট একটা খেজুর খাবেন আর এক পাক ঘুরে আসবেন, ১ মিনিটের একটা কারবার - এটার মূল্য ১২০ দিরহাম। খেজুরটা নাকি কমপ্লিমেন্টারি। wink

হাঁছা না মিছা শুনছি?

বিল্ডিং এর ছবিগুলো ভি-রে/মেন্টাল-রে তে রেন্ডার দেয়া আর্কিটেকচারাল ভিজুয়ালাইজেশনের মত লাগছে। ছবি আর বর্ণনায় অসাধারণ হয়েছে।

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

ভ্রমণ পর্ব খুব ভাল লাগল । মাছগুলোকে কেমন জানি ভয়ংকর লাগল

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (১২-১২-২০১১ ১৯:৫৬)

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

শামীম লিখেছেন:

প্রতিটা রাইডের মূল্য জানতে পারলে আরও ভাল লাগতো মনে হয়। বুর্জ খলিফার স্বাভাবিক আর ইমার্জেন্সী প্রবেশ মূল্য কত পার্থক্য?  thinking

একুরিয়ামে ঢোকার তিন ধরণের টিকেট ছিলো।
শুধু একুরিয়াম দেখা= ১২৫ দিরহাম
একুরিয়াম দেখা+বোট রাইড = ১৭৫ দিরহাম
একুরিয়াম দেখা+ আন্ডার ওয়াটার ডাইভিং = ২২৫ দিরহাম (এইটা নিশ্চিত নই)
বুর্জখলিফায় ঢোকার স্বাভাবিক মূল্য হচ্ছে ১০০ দিরহাম = প্রায় ২১০০ টাকা। ইমার্জেন্সী মূল্য ৪০০ দিরহাম= প্রায় ৮৪০০ টাকা।

জেলাল লিখেছেন:

শুনেছি বুর্জ খলিফায় একবার ঢুকে লবিতে জাস্ট একটা খেজুর খাবেন আর এক পাক ঘুরে আসবেন, ১ মিনিটের একটা কারবার - এটার মূল্য ১২০ দিরহাম। খেজুরটা নাকি কমপ্লিমেন্টারি। wink

হাঁছা না মিছা শুনছি?

মনেহয় মিছা শুনেছেন। আমি ঐখানে দেখলাম লেখা এবং ভাবসাব দেখে যা বুঝেছি তা হলো, বুর্জখলিফার টপে ওঠা যাবে। কমপ্লিমেন্টারী খেজুরের কাহিনী জানিনা। মোট সময় লাগে মনেহয় ২৫ মিনিটের মত।

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

ভ্রমণ পর্ব খুব ভাল লাগল । মাছগুলোকে কেমন জানি ভয়ংকর লাগল


সুন্দর সুন্দর মাছও আছে। তবে শার্কগুলো আসলেই ভয়ংকর।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

জোস লাগলো ভাই!!!!!!! কন্টুনিউ কইরা যান

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

দারুন লাগলো ভাইয়া  thumbs_up

One can steal ideas, but no one can steal execution or passion. - Tim Ferriss

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

একটা প্যারা নতুন সংযুক্ত করলাম।

এক ফাকে একবার টয়লেটে ঢু মারলাম। এখানেও পেলাম নতুনত্ব। টয়লেটে ফ্লাস করার জন্য কোন বাটন নাই। এর বদলে আছে লেসার সেন্সর। ফ্লাস করার জায়গায় আঙ্গুল রাখলেই ফ্লাস হয়। ব্যাপারটা বেশ মজার আর এই জিনিস আমি আবুধাবিতে পাই নাই। তাই আমি বেশ কয়েকবার হুদাই ফ্লাস করলাম। ওয়াশরুমেও অনেক নতুনত্ব। কল আছে, কিন্তু কলের নব নাই। হাত ধোয়ার জন্য কোন সাবানও দেখতে পেলাম না। এস্কেলেটরের সামনে বেকুব হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এবার আর দুবাই কতৃপক্ষের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ঝুটা ইলজাম লাগালাম না। কলে চাপ দেয়ার বা ঘুরানোর নব না পেয়ে কলের নিচে হাত নিলাম এই আশায় যে, এটা হয়তো হাত শুকানো মেশিনগুলোর মত কাজ করে। আসলেই তাই। কলের নিচে হাত নিতেই পানি বের হলো। পাশে দেখি আরেকটা কল। ভেবেছিলাম এটা মনেহয় গরম পানির কল। কিন্তু এটার নিচে হাত নিয়ে দেখি পানির বদলে লিকুইড সোপ বের হলো। দারুন মজা পেলাম এসব দেখে। তবে একটা জিনিস চিন্তা করে কিছুটা খারাপ লাগলো। আমরা সায়েন্স ফিকশান লিখি, আর এরা সেটাকে প্রায় বাস্তবে পরিণত করে।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

জোস লাগলো ভাই!!!!!!! কন্টুনিউ কইরা যান

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

অপরিচিত লিখেছেন:

দারুন লাগলো ভাইয়া  thumbs_up

ধন্যবাদ মাসুদ ভাই।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

ঝাক্কাস একটা লেখা উপহার দেবার জন্য ধন্যবাদ

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

আমাদের ইউনি'র টয়লেট গুলাও এমন। আমিও প্রথমে এট্টু কনফুস হয়া গেছিলাম।  tongue_smile

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

দ্যা ডেডলক লিখেছেন:

ঝাক্কাস একটা লেখা উপহার দেবার জন্য ধন্যবাদ

অনেক ধন্যবাদ।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

আমাদের ইউনি'র টয়লেট গুলাও এমন। আমিও প্রথমে এট্টু কনফুস হয়া গেছিলাম।  tongue_smile

সবাই তাইলে কনফিউসড হয় দেহা যায়। আমিতো ভাবছিলাম যে খালি আমিই কনফিউসড হয়া গেছিলাম  big_smile

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১২

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

বাহ্‌ বর্ণনা তো সেইরকম! আমাদের এখানেও কিছু কিছু ওয়াশরুমে ঐ কাণ্ড ঘটে hehe ত্যাগেও শান্তি নাই worried কীভাবে ফ্রেশ হব এই চিন্তায় আবার ত্যাগ করতে মন চায় tongue কিছু কিছু টয়লেটে ফ্লাস বাট্‌নে চাপও দিতে হয় না; হাতটা বাট্‌নের দুই/তিন ইঞ্চ দূরত্বে নিয়ে আসলেই কাজ হয়ে যায়। একবার বার্কবেইক কলেজে গিয়ে কাণ্ড ঘটলো - মনের আনন্দে হাত ধুয়ে হাত শুকানোর কিছু পাই না surprised সাধারণত: হয় টিস্যু থাকবে কিংবা ড্রায়ার(গরম বাতাসে হাত শুকানো আর কী! নীচের দিকে নামানো নলের মুখ দিয়ে গরম বাতাস আসে) কোনোটাই নেই! শেষে দেখলাম: একটা ইউ আকৃতির ছিপছিপে একটা মেশিন - অবশেষে বুঝিলাম মধ্যিখানে ভেজা হাতখানা রাখলে বাকী কার্য সেই করবে হা হা হা।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৩

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

উদাসীন লিখেছেন:

বাহ্‌ বর্ণনা তো সেইরকম! আমাদের এখানেও কিছু কিছু ওয়াশরুমে ঐ কাণ্ড ঘটে hehe ত্যাগেও শান্তি নাই worried কীভাবে ফ্রেশ হব এই চিন্তায় আবার ত্যাগ করতে মন চায় tongue কিছু কিছু টয়লেটে ফ্লাস বাট্‌নে চাপও দিতে হয় না; হাতটা বাট্‌নের দুই/তিন ইঞ্চ দূরত্বে নিয়ে আসলেই কাজ হয়ে যায়। একবার বার্কবেইক কলেজে গিয়ে কাণ্ড ঘটলো - মনের আনন্দে হাত ধুয়ে হাত শুকানোর কিছু পাই না surprised সাধারণত: হয় টিস্যু থাকবে কিংবা ড্রায়ার(গরম বাতাসে হাত শুকানো আর কী! নীচের দিকে নামানো নলের মুখ দিয়ে গরম বাতাস আসে) কোনোটাই নেই! শেষে দেখলাম: একটা ইউ আকৃতির ছিপছিপে একটা মেশিন - অবশেষে বুঝিলাম মধ্যিখানে ভেজা হাতখানা রাখলে বাকী কার্য সেই করবে হা হা হা।

আপনার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা সিরিজ লিখেন।
অটঃ আপনার সিগনেচারের মাজেজা কি?

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৪

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

পড়লাম সবকটা সিরিজ। অসাধারন। পরের পর্বের ওয়েটিং এ থাকলাম।  lol

হে হে হে ,দুবছর আগে বেংগালুরু এয়ার পোর্টে পরেছিলাম সেন্সর লাগানো পানির কলের পাল্লায়। প্রথমে ট্যাপরে উপর নিচে, ডানে বামে চড় থাপ্পর মেরেও পানি বের করতে পারি নাই।  lol

I am not far, but alone. Like a pair of rail tracks in winter morning.............

১৫

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

অ.ট.

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:

আপনার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা সিরিজ লিখেন।
অটঃ আপনার সিগনেচারের মাজেজা কি?

আমার ভুলে যাবার প্রবণতা আছে ভাই। কিছুদিন গেলেই সব ভাসা ভাসা হয়ে যায় crying তাই অভিজ্ঞতাগুলো ওভাবে ভালো বলতে পারব না মনে হয়। আমার সিগনেচারটা আমার 'নাগরিক বিচ্ছিন্নতা এবং প্রশ্নমূখর আমি' কবিতার থেকে নেয়া। কেউই কাউকে সত্যিকার অর্থে না বুঝতে পারার কষ্টটা থেকে কথাটা উঠে এসেছে।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

অবশেষে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙলো...
এই পর্বে ভাবীর সাথে ২-১ লাইন খোশগল্প ছাড়া তেমন কোন আলাপচারিতা নেই তবুও পুরো লেখাটাই অনেক উপভোগ্য ।
আর ঘুম দিবেন না, পরের পর্বের জন্য অধীর অপেক্ষায় রইলাম...

You are the one who thinks that i didn't get the point, so do i think of you...what a coincidence!!

১৭

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

রাশ লিখেছেন:

পড়লাম সবকটা সিরিজ। অসাধারন। পরের পর্বের ওয়েটিং এ থাকলাম।  lol

হে হে হে ,দুবছর আগে বেংগালুরু এয়ার পোর্টে পরেছিলাম সেন্সর লাগানো পানির কলের পাল্লায়। প্রথমে ট্যাপরে উপর নিচে, ডানে বামে চড় থাপ্পর মেরেও পানি বের করতে পারি নাই।  lol

সবাই ফাপরে পড়ে কিন্তু কেউ কয় না। দেখছেন আমি কতো ভালু। ধরা খায়া সেইটা আবার লিখি  big_smile

faysal_2020 লিখেছেন:

অবশেষে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙলো...
এই পর্বে ভাবীর সাথে ২-১ লাইন খোশগল্প ছাড়া তেমন কোন আলাপচারিতা নেই তবুও পুরো লেখাটাই অনেক উপভোগ্য ।
আর ঘুম দিবেন না, পরের পর্বের জন্য অধীর অপেক্ষায় রইলাম...

ধন্যবাদ। ভাই ব্যস্ততা আমারে দেয় না অবসর, তাই বলে ভাইবেন না আমায় স্বার্থপর। চেষ্টা করি লেখার। সময় হয়ে ওঠে না। তবে আপনাদের উতসাহ এ ব্যাপারে আসলেই টনিকের কাজ করে।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৮

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

শামীম লিখেছেন:

এয়ার কন্ডিশনড যাত্রী ছাউনি হইলে কার বাদ দিয়ে বাসে যেতে আরও আগ্রহী হবে কারের মালিকরা। বিআরটি'র পোস্টে এই কথাটা বলেছিলাম। আর তুমি এইটার সরাসরি প্রয়োগ দেখে এসেছো।

ওখানে এয়ার কন্ডিশন্ড ছাড়া কিছু নেই মনে হয়। ফুটওভার ব্রীজও এয়ারকন্ডিশন্ড হবার কথা। এট লিস্ট আমার ভাই তাই দেখে এসছিল।

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

শিপলু লিখেছেন:

ওখানে এয়ার কন্ডিশন্ড ছাড়া কিছু নেই মনে হয়। ফুটওভার ব্রীজও এয়ারকন্ডিশন্ড হবার কথা। এট লিস্ট আমার ভাই তাই দেখে এসছিল।

দুবাইতে যে কয়টা বাস স্টপ দেখেছি সবগুলোই ছিলো এয়ারকন্ডিশন্ড। কিন্তু আবুধাবিতে কোন বাস স্টপই এয়ার কন্ডিশন্ড পাই নাই।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

২০

Re: আমার আরব আমিরাত সফর পর্ব-৮

(চলবে)...
চলতে থাকুক, পড়ে ভালই লাগছে।

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত