টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৭ হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ ১ পর্ব

আগের পর্ব সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৬ (হযরত হামযার ইসলাম গ্রহণ)

যুলুম অত্যাচার নির্যাতনের কালো মেঘের সেই গম্ভীর পরিবেশে আলোর একটি ঝলক ছিলো হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা। হযরত হামযা (রা) এর ইসলাম গ্রহণের তিনদিন পর নবুয়্যতের ষষ্ঠ বছরের জিলহজ্ব মাসেই এ ঘটনা ঘটেছিল। রসুলুল্লাহ (সা) তাঁর ইসলাম গ্রহণের জন্য দোআ করেছিলেন।
ইমাম তিরমিযি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) হতে বর্ণনা করেছে এ ঢ়টনাকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম তিবরানি হযরত ইবনে মাসউদ এবং হযরত আনাস (রা) থেকে এ ঘটনা বর্ণনা করেন।
নবী করিম (সা) দোআ করেছিলেন, হে আল্লাহ, ওমর ইবনে খাত্তাব এবং আবু জাহেলের মধ্যে তোমার কাছে যে ব্যক্তি বেশী পছন্দনীয়, তাকে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ দাও এবং তার দ্বারা ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করো।
আল্লাহ তাআলা এ দোআ কবুল করেন এবং হযরত ওমর ইসলাম গ্রহণ করেন। উল্লেখিত দু’জনের মধ্যে আল্লাহর কাছে হযরত ওমর (রা) ছিলেন অধিক প্রিয়।
হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহন সম্পর্কিত সকল বর্ণনার উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ বিচারে প্রমাণিত হয় যে, তাঁর মনে পর্যাক্রমে ইসলাম জায়গা করে নিয়েছিলো। সে বিষয়ে আলোকপাত করার আগে হযরত ওমর (রা) এর মন-মেজাজ ধ্যান-ধারনার প্রতি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত দেয়া জরুরী মনে করছি।
হযরত ওমর (রা) তাঁর রুক্ষ মেজাজ এবং কঠোর স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘকাল যাবত মুসলমানরা তাঁর হাতে নানাভাবে নির্যাতন ভোগ করেন। মনে হয়, তাঁর মধ্যে বিপরীতধর্মী স্বভাবের সমন্বয় সাধিত হয়েছিলো। একিদকে তিনি নিজের পিতা-পিতামহের আবিস্কৃত রুসম-রেওয়াজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, খেলা-ধুলার প্রতিও তাঁর যথেষ্ঠ আগ্রহ ছিলো, অন্যদিকে ঈমান-আকিদার প্রতি মুসলমানদের দৃঢ়তা এবং অত্যাচার নির্যাতনের মুখেও মুসলমানদের ধৈর্য্য সহিষ্ণৃতা তিনি আগ্রহের দৃষ্টিতে দেখতেন। বুদ্ধি বিবেচনার মাধ্যমে তিনি মাঝে মাঝে ভাবতেন যে, ইসলাম ধর্মে যে বিষয়ে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে সম্ভবত সেটাই সত্যি, অধিক পবিত্র, ও উন্নত। এ কারণে হঠাৎ ক্ষেপে গেলেও হঠাৎ শান্ত হয়ে যেতেন।
হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহন সম্পর্কিত সকল বর্ণনার মূলকথা নিম্ন রুপ।
একবার হযরেত ওমরকে ঘরের বাইরে দিন কাটাতে হয়েছিলো। তিনি হারেম শরীফে গমণ করেন এবং ক্বাবা ঘরের পর্দার ভিতরে প্রবেশ করেন। সবী করিম (সা) সে সময় নামাজ আদায় করছিলেন। তিনি সূরা আল হাক্কা তেলওয়াত করছিলেন। হযরত ওমর (রা) কোরআন শুনতে লাগলনে এবং কোরআনের রচরাশৈলীতে মুগ্ধ ও অভিভূত হলেন। মনে মনে বললেন, এই ব্যক্তি দেখছি কবি, কোরাইশদের কথাই ঠিক। এমন সময় রসুল (সা) তেওয়াত করলেন, “নিশ্চয়ই এই কোরআন এক সম্মানীত রসুলের কাছে বহন করে আনা বার্তা, এটা কোন কবির রচনা নয়, তোমরা অল্পই বিশ্বাস করো, ‘হযরত ওমর (রা) বলেন, আমি মনে মনে বললাম, এই ব্যক্তিতো দেখছি জ্যোতিষী,। এমন সময় রসুলুল্লাহ (সা) তেলওয়াত করলেন, “এটা কোন গণকের কথাও নয়, তোমরা অল্পই অনুধাবন করো। এটা জগত সমূহের প্রতিপালকের কাছ হতে অবতীর্ণ” । রসুল (সা) সুরার শেষ পর্যন্ত তেলওয়াত করলেন।
হযরত ওমর (রা) বলেন, সে সময়েই আমার মনে ইসলাম রেখাপাত করে। কিন্ত তখনো তাঁর মনে পুর্ব-পুরুষদের ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ও ভালবাসা ছিল অটুট। এ কারণেই হৃদয়ের গোপন গভীরে ইসলামের ভালোবাসার বীজ রোপিত হলেও ইসলামের বিরোধিতার প্রকাশ্য কাজকর্মে তিনি ছিলেন সোচ্চার।
তাঁর স্বভাবের কঠোরতা এবং রসুলুল্লাহ (সা)’র সাথে শত্রুতার অবস্থা এমন ছিলো যে, একদিন তলোয়ার হাতে নিয়ে রসুল (সা) কে হত্যার উদ্দেশ্যেই বেড়িয়ে পরলেন। পথে নঈম ইবনে আবদুল্লাহ নাহহাম আদবীর বা বনী যোহরা বনি মানজুমের কোন এক লোকের সাথে তাঁর দেখা হলো। সেই লোক তাঁর রুক্ষ চেহারা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ওমর, কোথায় যাচ্ছো ? তিনি বললেন, মোহাম্মদকে হত্যা করতে যাচ্ছি। সেই লোক বললেন, মোহাম্মদকে হত্যা করে হনু হাশেম ও বনু যোহরার হাত থেকে কিভাবে রক্ষা পাবে? তিনি বললেন, মনে হয় তুমিও পুর্ব পুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করে বেদ্বীন হয়ে পরেছো।, সেই লোক বললেন, ওমর, একটা বিস্ময়কর কথা শুনাচ্ছি। তোমার বোন এবং ভগ্নীপতিও তোমাদের দ্বীন ছেড়ে বেদ্বীন হয়ে গেছে। এ কথা শুনে হযরত ওর ক্রোধে দিশেহারা হয়ে সোজা ভগ্নীপতির বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন। সেখানে গিয়ে দেখলেন তারা হযরত খাব্বার ইবনে আরতে কাছে সূরা ত্বা-হা লিখা একটি সহিফা পাঠ করছেন। কোরআন শিক্ষা দেয়ার জন্য হযরত খাব্বাব (রা) সেই বাড়িতে যেতেন। হযরত ওমরের পায়ের আওয়াজ শুনে সবাই নীরব হয়ে গেলেন। হযরত ওমরের বোন সূরা লিখা পাতাটি লুকিয়ে ফেললেন। কিন্ত ঘরের বাইরে থেকেই হযরত ওমর খাব্বাব (রা) এর কোরআন তেলওয়াতের আওয়াজ শুনছিলেন। তাই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কিসের আওয়াজ শুনছিলাম ? তারা বললেন, কই কিছু নাতো ! আমরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলাম। সম্ভবত তোমরা উভয়ে বেদ্বীন হয়ে গেছো। তাঁর ভগ্নীপতি বললেন, আচ্ছা ওমর, ‘সত্য” যদি তোমাদের দ্বীন ছাড়া অন্য কোন ধর্মে থাকে তখন কি হবে ? হযরত ওমর একথা শুনা মাত্র ভগ্নিপতির উপর ঝাপিয়ে পরে, এবং তাকে মারাত্মক প্রহার করলেন। তা২র বোন ছুটে গিয়ে স্বামীকে ভাইয়ের হাত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেন, এক সময় তাকে সরিয়ে দিলেন। হঠাত হযরত ওমর (রা) তাঁর বোনকে এতজোড়ে চড় দিলেন যে, তার চেহারা রক্তাক্ত হয়ে গেল। ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় রয়েছে যে, তার মাথায় আঘাত লেগেছিলো। তার বোন ক্রুদ্ধভাবে বললেন, ওমর, যদি তোমাদের ধর্ম ছাড়া অন্য ধর্মে সত্য থাকে তখন কি হবে ? আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মা’বুদ নাই এবং মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রসুল । এ কথা শুনে হযরত ওমর হতাশ হয়ে পরলেন, বোনের চেহারায় রক্ত থেকে তার লজ্জাও হলো। তিনি বললেন, আচ্ছা, তোমরা যা পাঠ করছিলে আমাকে একটু পড়তে দাওতো। তাঁর বোন বললেন, তুমি নাপাক। এই কিতাব শুধু পাক পবিক্র লোকেই স্পর্শ করতে পারে। যাও গোসল করে এসো। হযরত ওমর গিয়ে গোসল করে এলেন। এরপর কেতাবের সেই অংশবিশেষ হাতে নিয়ে বসলেন, এবং পড়লেন। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। এরপর বললেন এতো দেখি বড়ই পবিত্র নাম।……………………

[চলবে]

প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৭ হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ ১ পর্ব

ইলিয়াস লিখেছেন:

নবী করিম (সা) দোআ করেছিলেন, হে আল্লাহ, ওমর ইবনে খাত্তাব এবং আবু জাহেলের মধ্যে তোমার কাছে যে ব্যক্তি বেশী পছন্দনীয়, তাকে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ দাও এবং তার দ্বারা ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করো।
আল্লাহ তাআলা এ দোআ কবুল করেন এবং হযরত ওমর ইসলাম গ্রহণ করেন। উল্লেখিত দু’জনের মধ্যে আল্লাহর কাছে হযরত ওমর (রা) ছিলেন অধিক প্রিয়।

এখানে আবু জাহেল এর হেদায়ত না হওয়ার পিছে যে কারনটা আলেম ওলামাদের হতে শুনেছি তা হল, আবু জাহেল সব সময়ই নবী করিম (সাঃ) এর সাথে গোস্তাকি আচরন করতো , তাই নসিবে হেদায়েত মিলে নাই।
তো যারাই নবী করিম (সাঃ) এর শানে গোস্তাকি করবে তাদের অবস্থাও ঐ আবু জাহেল মত হবে।

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৭ হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ ১ পর্ব

ভাই ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানলাম  big_smile

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৭ হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ ১ পর্ব

microqatar লিখেছেন:

এখানে আবু জাহেল এর হেদায়ত না হওয়ার পিছে যে কারনটা আলেম ওলামাদের হতে শুনেছি তা হল, আবু জাহেল সব সময়ই নবী করিম (সাঃ) এর সাথে গোস্তাকি আচরন করতো , তাই নসিবে হেদায়েত মিলে নাই।

অনেক সময় দেখা যায় আলেমওলামায়েরা যা বলেন সেটা ঘাটতে গেলে মিলে না sad

microqatar লিখেছেন:

তো যারাই নবী করিম (সাঃ) এর শানে গোস্তাকি করবে তাদের অবস্থাও ঐ আবু জাহেল মত হবে।

একদম হক কথা! ধন্যবাদ কাতার ভাই।

ফারহান খান লিখেছেন:

ভাই ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানলাম 

আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৭ হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ ১ পর্ব

ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে হাল্কা জানতাম এখন বিস্তারিত জানা গেল শেয়ার করায়  hug ধন্যবাদ  thumbs_up

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৭ হযরত ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ ১ পর্ব

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে হাল্কা জানতাম এখন বিস্তারিত জানা গেল শেয়ার করায়  hug ধন্যবাদ  thumbs_up

পরের পর্বে আরো বিস্তারিত আসছে ।