টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৪ (আবু তালেবের প্রতি হুমকি)

আগের পর্ব  সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৩ (আবিসিনিয়ায় কোরায়াইশদের ষড়যন্ত্র)
আবু তালেবের প্রতি হুমকি
এ প্রস্তাবের পর কোরায়াইশ নেতারা আবু তালেবের কাছে গিয়ে বললেন, হে আবু তালেব, আপনি আমাদের মধ্যে মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। আমরা আপনাকে বলেছিলাম যে, আপনার ভ্রাত্বস্পুত্রকে ফিরিয়ে রাখুন, কিন্ত আপনি রাখেননি। আপনি মনে রাখবেন, আমাদের পিতা-পিতামহকে গালাগাল দেয়া হবে এটা সহ্য করতে পারবোনা। আমাদের বুদ্ধি বিবেক বিচার বিবেচনাকে নির্বুদ্ধিতা বলা হবে এবং উপাস্যদের দোষ বের করা হবে, এটাও আমাদের সহ্য হবে না। আপনি তাঁকে বাধা দিন ও বিরত রাখুন। যদি এতে ব্যর্থ হন, তবে আপনার এবং আপনার ভ্রাতৃস্পুত্রের সাথে এমন লড়াই বাধিয়ে দিব যে, এতে বহু প্রাণহানি ঘটবে।
এ হুমকিতে আবু তালেব প্রভাবিত হলেন। তিনি রসুলুল্লাহ (সাঃ)কে ডেকে বললেন, ভাতিজা, তোমার কওমের লোকেরা আমার কাছে এসে এসব কথা বলে গেছে। কাজেই, তুমি এবার আমার এবং তোমার নিজের প্রতি দয়া করো। তুমি এ বিষয়ে আমার উপর এমন বোঝা চাপিও না, যা আমি বহন করতে পারব না।
এ কথা শুনে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বুঝতে পারলেন যে, এবার তাঁর চাচাও তাঁকে পরিত্যাগ করবে। তাঁকে সাহায্য করার ব্যাপারে তিনিও দুর্বল হয়ে পরেছেন। এ কারণে তিনি বললেন, ‘চাচাজান, আল্লাহর শপথ, যদি আমার ডান হাতে সুর্য্য এবং বাম হাতে চন্দ্র এনে দিয়ে কেউ বলে, এ কাজ ছেড়ে দাও, তবুও আমি তা ছাড়তে পারবোনা। হয়তো এ কাজের পূর্ণতা বিধান করে আমি একে বিজয়ী করবো অথবা এ কাজ করতে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবো। ‘
এ কথা বলে রসুলুল্লাহ (সাঃ) আবেগের আতিশয্যে কেঁদে ফেললেন, এরপর চলে যেতে লাগলেন। চাচা আবু তালেবের মন কেঁদে উঠল। তিনি বললেন, যাও ভাতিজা, তুমি যা চাও তাই করো। আল্লাহর শপথ আমি কোন অবস্থায় তোমাকে ছাড়তে পারবোনা।

খোদার শপথ, তোমার কাছে যেতে ওরা পারবেনা দলে দলে’
যতদিন না দাফন হবো আমি মাটির তলে।
বলতে থাকো, তোমার কথা খোলাখুলি, করোনা আর কোন ভয়,
দু’চোখ তোমার শীতল হউক আর, খুশী হউক তোমার হৃদয়।

আবু তালেবের কাছে পুনরায় প্রতিনিধি দল
মারাত্মক রকমের হুমকি সত্বেও কোরাইশরা যখন দেখলো যে, রসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন তারা বুঝতে পারলো যে, আবু তালেব তাঁর ভ্রাতৃস্পুত্রকে পরিত্যাগ করতে পারবে না। বরং প্রয়োজনে তিনি কোরাইশদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন এবং শত্রুতার জন্যও প্রস্তুত আছেন। এ রপু চিন্তা করে কোরাইশ নেতারা ওলিদ ইবনে মুগিরার পুত্র আম্মারাকে সঙ্গে নিয়ে আবু তালেবের কাছে হাজির হয়ে বললো, হে আবু তালেব আম্মারাকে নিয়ে এলাম। আম্মারা কোরাইশ বংশের সুদর্শন যুবক, আপনি ওকে গ্রহণ করুন। সে আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। সে আপনার হবে আর আপনি আপনার ভাতিজা মোহাম্মদকে আমাদের হাতে তুলে দিন, যে আপনার পিতা-পিতামহের দ্বীনের বিরোধিতা করছে, আপনার জাতিকে ছিন্নভিন্ন করছে এবং তাদের বুদ্ধিমত্তাকে নির্বুদ্ধিতা বলে অভিহিত করছে। আমরা তাকে হত্যা করবো। ব্যস, এটা একজন লোকের পরিবর্তে একজন লোকের হিসাব হবে।
আবু তালেব বললেন, ‘ কি চমতকার সওদা করতে তোমরা আমার কাছে এসেছো। নিজেদের পুত্রকে তোমরা আমার কাছে নিয়ে এসেছো, আমি তাকে পানাহার করাবো, লালন-পালন করবো, আর আমি নিজের পুত্রকে তোমাদের হাতে তুলে দিব, তোমরা তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে। আল্লাহর কসম এটা হতে পারে না’।
এ কথা শুনে নওফেল ইবনে মাতয়ামের পুত্র আদী বললেন, খোদার কসম, হে আবু তালেব, তোমার সাথে তোমার কওম ইনসাফের কথা বলছে এবং তুমি কল্যাণকর অবস্থা থেকে দুরে সরে থাকতে চাইছো। কিন্ত আমি লক্ষ্য করেছি যে, তুমি তাদের কোন কথাই গ্রহণ করতে চাচ্ছো না।
জবাবে আবু তালেব বললেন, খোদার শপথ, তোমরা আমার সাথে ইনসাফের কথা বলোনি, বরং তোমরাও আমার সঙ্গ ছেড়ে আমার বিরুদ্ধে লোকদের সাহায্য করতে উদ্যত হচ্ছো। ঠিক আছে, যা ইচ্ছে করো।
সীরাতের বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠ করেও উল্লেখিত উভয় কথোপকথনের সময় জানা যায়না, কিন্ত সাক্ষ্য প্রমাণ এবং ইঙ্গিত ইশারা থেমে মনে হয়, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বেশী নয়। উভয় কথোপকথন ষষ্ঠ হিজরীর মাঝামঝি কোন এক সময়ে হয়েছিল।

প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৪ (আবু তালেবের প্রতি হুমকি)

ভালই লাগল  hug ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৪ (আবু তালেবের প্রতি হুমকি)

neutral

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৪ (আবু তালেবের প্রতি হুমকি)

অনেক কিছু বিস্তারিত জানা হচ্ছে। নিয়মিত পর্ব চালিয়ে যাওয়ায় ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।