সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইলিয়াস (১১-১১-২০১১ ১১:২৮)

টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩০ (যুলুম নির্যাতন শেষ পর্ব)

সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৯ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-৩)

হযরত ওসমান ইবনে আফফান (রাঃ) ইসলাম গ্রহনের পর তাঁর চাচা তাঁকে খেজুরের চাটাইয়ের মধ্যে জুড়িয়ে ধুয়ো দিতো।
হযরত মসয়াব ইবনে ওমায়ের (রাঃ)এর মা তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর শোনার পর পুত্রের পানাহার করে দেয় এবং তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। হযরত মসয়াব ছোট বেলা থেকে স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে আরাম-আয়েশে জীবন কাটিয়েছিলেন। পরিস্থিতির কারণে তিনি এমন অব্স্থার সম্মুখীন হয়েছিলেন যে, তাঁর গায়ের চামড়া খোলস ছাড়ানো সাপের গায়ের মতো হয়ে গিয়েছিলো।
হযরত বেলাল (রা) ছিলেন উমাইয়া ইবনে খালফের ক্রীতদাস। ইসলাম গ্রহণের পর উমাইয়া হযরত বেলাল (রা) কে গলায় দড়ি বেঁধে উচ্ছৃঙ্খল বালকদের হাতে তুলে দিত। বালকেরা তাঁকে মক্কার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতো। এ রকম করায় তাঁর গলায় দড়ি দাগ পড়ে যেতো। উমাইয়া নিজেও তাকে বেঁধে নির্মম প্রহারে জর্জরিত করতো। এরপর উত্তপ্ত বালির ওপর জোর করে শুইয়ে রাখতো। এ সময় তাকে অনাহারে রাখা হতো, পানাহার কিছুই দেয়া হতো না। কখনো কখনো রোদে মরু বালুকার ওপর শুইয়ে বুকের ওপর ভারি পাথর চাপা দিয়ে রাখতো। এ সময় বলতো, তোমার মৃত্যু হওয়ার পর্যন্ত এভাবে ফেলে রাখা হবে। তবে বাঁচতে চাইলে মোহাম্মদের পথ ছাড়ো। কিন্তু তিনি এমনি কষ্টকর অবস্থাতেও বলতেন, আহাদ, আহাদ। তার ওপর নির্যাতন চলতে দেখে হযরত আবু বকর (রা) এক দিন খুবই ব্যথিত হলেন। তিনি হযরত বেলাল(রাঃ)কে একটি কালো ক্রীতদাসের পরিবর্তে মতান্তরে দুশো দেরহামের পরিবর্তে ক্রয় করে মুক্তি দেন।
হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসের (রা) ছিলেন বনু মাখযুমের ক্রীতদাস। তিনি এবং তার পিতামাতা ইসলাম গ্রহণের পর তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন শুরু করা হলো। আবু জেহেলের নেতৃত্বে পৌত্তলিকরা তাঁদেরকে উত্তপ্ত রোদে বালুকাময় প্রান্তরে শুইয়ে কষ্ট
দিতো । একবার তাদের এভাবে শাস্তি দেয়া হয়েচ্ছিলো। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, হে ইয়াসের পরিবার, ধৈর্যধারণ করো, তোমাদের ঠিকানা জান্নাত। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে হযরত ইয়াসের (রা) ইন্তিকাল করেন। তাঁর স্ত্রী হযরত আম্মারের মা হযরত ছুমাইয়া (রা) এর লজ্জাস্থানে দৃর্বৃত্ত আবু জেহেল বর্শা নিক্ষেপ করে। এতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম শহীদ। হযরত আম্মারের ওপর তখনো অব্যাহতভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছিলো। তাঁকে কখনো উত্তপ্ত বালুকার ওপরে শুইয়ে রাখা হতো, কখনো বুকের ওপর ভারি পাথর চাপা দেয়া হতো, কখনো পানিতে চেপে ধরা হতো। পৌত্তলিকরা তাকে বলতো যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি মোহাম্মদকে গালি না দেবে এবং লাত ওযযা আম্মার (রা) বাধ্য হয়ে তাদের কথা মেনে নেন। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কাঁদতে কাঁদতে হাযির হন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন তখন পবিত্র কোরআনের এই আয়াত নাযিল করেন, “কেউ তারে ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং কুফরীর জন্যে উন্মুক্ত রাখলে তার ওপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তার জন্যে আছে সহজ শাস্তি কিন্তু তার জন্যে নয়, যাকে কুফরীর জন্যে বাধ্য করা হয়। কিন্তু তার চিত্ত ঈমানে অবিচালিত থাকে।
হযরত খাব্বার ইবনে আরত (রা) খোজায়া গোত্রের উম্মে আনসার নামে এক মহিলার ক্রীতদাস ছিলেন। পৌত্তলিকরা তাঁর ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালাতো। তাকে মাটির ওপর টানতো। তাঁর মাথার চুল ধরে টানতো এবং ঘাড় মটকে দিতো। কয়েকবার জ্বলন্ত কয়লার ওপরে তাঁকে শুইয়ে বুকে পাথর চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিলো যাতে, তিনি উঠতে না পারেন।
যিন্নীরাহ নাহদিয়া এবং তাদের কন্যা এবং উম্মে উবাইস ছিলেন ক্রীতদাসী। এরা ইসলাম গ্রহণ করে পৌত্তলিকদের হাতে কঠোর শাস্তি ভোগ করেন। শাস্তির কিছু দৃষ্টান্ত ওপরে তুলে ধরা হয়েছে। বনু আদীর গোত্রের একটি পরিবার বনু মোযাম্মেলের একজন দাসী ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হযনত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) তখনো ইসলাম গোহণ করেননি। তিনি সেই দাসীকে অস্বাভাবিক প্রহার করে বিরতি দিয়ে বলতেন, তোমার প্রতি দয়ার কারণে নয় বরং নিজে ক্লান্ত হয়েই ছেড়ে ছিলাম।
পরিশেষে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) হযরত বেলাল এবং আমের ইবনে ফোহায়রার মতোই এসব দাসীকেও ক্রয় করে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।
পৌত্তলিকরা বীভৎস উপায়েও ইসলাম গ্রহণকারীদের শাস্তি দিতো। তারা কোন কোন সাহাবাকে উট এবং গাভীর কাঁচা চামড়ার ভেতর জড়িয়ে বেঁধে রোদে ফেলে রাখতো। কাউকে লোহার বর্ম পরিয়ে তপ্ত পাথরের ওপর শুইয়ে রাখতো। কারো ইসলাম গ্রহণের পর খবর পেলে দুর্বৃত্ত পৌত্তলিকরা নানা উপায়ে তার ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতন চালাতো। মোটকথা আল্লাহর মনোনীত দ্বীন গ্রহণকারীদের ওপর যে সব নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছিলো তার তালিকা খুবই দীর্ঘ এবং বড়োই বেদনাদায়ক।

সুত্র

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩০ (যুলুম নির্যাতন শেষ পর্ব)

যাক অনেক কিছু জানা গেল এবারের পর্বের ২-১ টা কাহিনী আমি আগেই জানতাম  smile তবু ও শেয়ার করায় ধন্যবাদ  clap

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩০ (যুলুম নির্যাতন শেষ পর্ব)

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

তবু ও শেয়ার করায় ধন্যবাদ  clap

তোমাকেও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩০ (যুলুম নির্যাতন শেষ পর্ব)

অনেক কিছু বিস্তারিত জানতে পারলাম। সুন্দর ও সঠিকভাবে ঘটনাবলী তুলে ধরায় ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ইলিয়াস লিখেছেন:

মোটকথা আল্লাহর মনোনীত দ্বীন গ্রহণকারীদের ওপর যে সব নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন করা হয়েছিলো তার তালিকা খুবই দীর্ঘ এবং বড়োই বেদনাদায়ক।

আসলেই খুব বেদনাদায়ক।