টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৯ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-৩)

সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৮ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-২)

আবু জাহেল কখনো কখনো রাসুলুল্লাহ (সাঃ)’র কাছে এসে কোরআন তেলওয়াত শুনতো, কিন্ত শুনা পর্যন্তই। সে ঈমানও আনত না ইসলামের শিক্ষাও গ্রহণ করতো না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলে আনুগত্যের পরিচয়ও দিতোনা। বরং সে নিজের কথার দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে কষ্ট দিতো এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করতো। এরপর নিজের একাজের জন্য গর্বের সাথে বুক ফুলিয়ে নিতো। মনে হতো যে, বড় ধরনের কোন কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে ফেলেছে। পবিত্র কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ আল্লাহ তায়ালা তার সম্পর্কে নাযিল করেছেন। আল্লাহ বলেন, যে বিশ্বাস করেনি এবং নামায আদায় করেনি, বরং সত্য প্রত্যাখান করেছিলো এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো। এরপর সে তার পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে গিয়েছিলো দম্ভ ভরে। দুর্ভোগ, তোমার জন্য।
আবু জেহেল প্রথম দিনেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামায আদায় করতে দেখে তাঁকে নামায থেকে ফিরেয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। একবার নবী (সাঃ) মাকামে ইবরাহীমের কাছে নামায আদায় করেছিলেন। আবু জেহেল সে পথ দিয়ে যাচ্ছিলো। সে বললো, মোহাম্মাদ, আমি কি তোমাকে এ কাজ করতে নিষেধ করিনি? সাথে সাথে সে হুমকিও দিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও হুমকি দিয়ে জবাব দিলেন। এরপর আবু জেহেল বললো, মোহাম্মাদ, আমাকে কেন ধমক দিচ্ছো? দেখো এই মক্কায় আমার মজলিস হচ্ছে সবেচেয়ে বড়। আবু জেহেলের এর উদ্ধত কথায় আল্লাহ তায়ালা এই নাযিল করেন, আচ্ছা সে যেন মজলিসকে ডাকে। আমিও শাস্তি দেয়ার ফেরেশতাদের ডাক দিচ্ছি।
এ বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু জেহেলের চাদর গলার কাছে ধরে বললেন, দুর্ভোগ, তোমার জন্যে দুর্ভোগ। আবার দুর্ভোগ, তামার জন্যে দুর্ভোগ।
একথা শুনে আল্লাহর দুশমন আবু জাহেল বললো, হে মোহাম্মাদ, হে আমাকে হুমকি দিচ্ছো? খোদার কসম, তুমি এবং তোমার পরওয়ারদেগার আমার কিছুই করতে পারবে না। মক্কার উভয় পাহাড়ের মাঝে চলাচলকারীদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে বেশী সম্মানিত মানুষ।
পবিত্র কোরআনে ঘোষিত হুমকি সত্তেও আবু জাহেল তার নির্বুদ্ধিতামূলক আচরণ থেকে বিরত থাকেনি। বরং তার দুষ্কৃতি আরো বেড়ে গিয়েছিলো। সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত আছে যে, কোরায়শ সর্দারদের কাছে একদিন আবু জেহেল বললো, মোহাম্মাদ আপনাদের সামনে নিজের চেহারা ধুলার লাগিয়ে রাখে কি? কোরায়শ সর্দাররা বললো, হ্যাঁ। আবু জেহেল বললো, লাত এবং ওযযার শপথ, আমি যদি তাকে এ অবস্থায় দেখি, তবে তার ঘাড় ভেঙ্গে দেবো, তার চেহারা মাটিতে হেঁচড়াবো। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নামায আদায় করতে দেখে তার ঘাঁড় মটকে দেয়ার জন্যে সে অগ্রসর হলো। কিন্তু সবাই দেখলো যে, আবু জেহেল চিৎকাত হয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে এবং চিৎকার করে বলছে, বাঁচাও, বাঁচাও।
পরিচিত লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, আবু হাকাম, তোমার কি হয়েছে? আবু জেহেল বললো, আমি দেখলাম যে, আমার এবং মোহাম্মাদের মাঝখানে আগুনের পরিখা। ভয়াবহ সে আগুনের পরিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথা শুনে বললেন, যদি সে আমার আমার কাছে আসতো, তবে ফেরেশতা তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছেড়ে ফেলতো।
একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এ ধরণের যুলুম অত্যাচারমূলক ব্যবহার করা হচ্ছিলো অন্যদিকে তাঁর প্রতি মক্কার যে সাধারণ মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছিলো, তারা তাঁকে তাঁর মহান ব্যক্তিত্ত্বের কারণে অসাধারণ মর্যাদা ও সম্মানের দৃষ্টিতে দেখতো। উপরন্তু তাঁর চাচা আবু তালেবের সমর্থন ও সহায়তা তাঁর প্রতি ছিলো। তা সত্ত্বের তাঁর প্রতি এসব অত্যাচার করা হচ্ছিলো। ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণকারী মুসলমানদের প্রতি, বিশেষত দুর্বল মুসলমানদের প্রতি পৌত্তলিকদের অত্যাচার নির্যাতন ছিলো আরো ভয়াবহ। প্রত্যেক গোত্র তাদের গোত্রের ইসলাম গ্রহণকারীদের শাস্তি দিচ্ছিলো। যারা মক্কার গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না তাদের ওপর উচ্ছৃঙ্খল এবং নেতৃস্থানীয় লোকেরা নানাপ্রকার অত্যাচার নির্যাতন চালাতো। সেসব অত্যাচারের বিবরণ শুনলে শক্ত মনে মানুষও অস্থির হয়ে উঠতো।
কোন সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত মানুষের ইসলাম গ্রহণের কথা শুনলে আবু জেহেল তাকে গালমন্দ ও অপমান করতো। এছাড়া সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও ক্ষতিগ্রস্থ করার হুমকি দিতো। কোন দুর্বল মানুষ ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে ধরে প্রহার করতো এবং অন্যদেরও প্রহার করতো অন্যদের উৎসাহিত করতো।

সুত্র

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৯ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-৩)

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  thumbs_up thumbs_up

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৯ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-৩)

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য

তোমাকেও ধন্যবাদ সাইদুল।