সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইলিয়াস (২৯-১০-২০১১ ০৯:১৫)

টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৮ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-২)

সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৬ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-১)

ওকবা ইবনে মুঈত ছিল জঘন্য দুবৃর্ত্ত ও দৃস্কৃতিতে ওস্তাদ। সহীহ বোখারীতে আব্দুল ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সাঃ) কাবা ঘরের পাশে নামায আদায় করছিলেন। আবু জাহেল এবং তার কয়জন বন্ধু সেখানে বসা ছিল। এমন সময় একজন অন্যজনকে বললঃ কে আছো অমুকের উটের নাড়িভুড়ি এনে মোহাম্মদ যখন সেজদায় যাবে, তখন তার পিঠে চাপিয়ে দিতে পারবে ? এরপর ওকবা ইবনে আবু মুঈত উটের নাড়িভুড়ি এনে অপেক্ষা করতে লাগলো। নবী কারীম (সাঃ) সেজদায় যাওয়ার পর সেই নাড়িভুড়ি তাঁর উভয় কাঁধের উপর ঝুলিয়ে দিল। আমি সব কিছু দেখছিলাম, কিন্ত কিছু বলতে পারছিলাম না। কি যে ভালো হত হায় যদি আমার মধ্যে তাঁকে রক্ষা করার শক্তি থাকতো।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেনঃ এরপর দৃর্বৃত্তরা হাসতে হাসেতএকজন আরেকজনের গায়ে ঢলে পরছিলো। এদিকে রাসুল (সাঃ) সেজদায় পরে রইলেন মাথা তুললেন না। হযরত ফাতেমা (রা) খবর পেয়ে ছুটে এসে নাড়িভুড়ি সরিয়ে ফেললেন। এরপর রাসুলে আকরাম (সাঃ) সেজদা হতে মাথা উঠালেন। এরপর তিনবার বললেনঃ “আল্লাহুম্মা আলাইকা বে-কোরাইশ” অর্থ্যাৎ হে আল্লাহ তাআ’লা, কোরাইশদের দায়িত্ব তোমার উপর। এই বদদোআ শুনে তারা নাখোশ হলো। কেননা তারা একথা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতো যে, এ শহরে তার দোআ কবুল হয়ে থাকে। এরপর রাসুলে আকরাম (সাঃ) নাম উল্লেখ করে বদদোয়া করলেন, হে আল্লাহ আবু জাহেলকে পাকড়াও করো, ওতবা ইবনে রবিয়া, শায়রা ইবনে রাবিয়া, ওলিদ ইবনে ওতবা, উমাইয়া ইবনে খালফ, এবং ওকবা ইবনে আবু মুঈতকে পাকড়াও করো। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরো কয়েকজনের নাম বলেছিলেন কিন্ত হাদিস বর্ণনাকারী সেসব নাম ভুলে গেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যে সব কাফেরের নাম উচ্চারণ করে বদ-দোআ করেছিলেন,আমি দেখেছি বদরের কুয়োয় সেসব ব্যক্তি লাশ পরে আছে।
উমাইয়া ইবনে খালফ এর অভ্যাস ছিল, সে যখনই রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে দেখতো তখনই নানা কটুক্তি করতো এবং অভিশাপ দিতো। আল্লাহ তাআ’লা তার সম্পর্কে এ আয়াত নাজিল করেনঃ “ওয়াইলুল্লি কুল্লি হুমাজাতিল লুমাযা” অর্থ্যাৎ দুর্ভোগ প্রত্যেকের জন্য,যে পেছনে এবং সামনে লোকের নিন্দা করে। ইবনে হিশাম বলেনঃ “হুমাযা” সেই ব্যক্তিকে বলা হয়, যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে গালাগাল দেয় এবং চোখ বাঁকা করে ইশারা করে। লুমাযা সেই ব্যক্তিকে বলা হয়, যে পশ্চাতে মানুষের নিন্দা করে এবং কষ্ট দেয়।
উমাইয়ার ভাই উবাই ইবনে খালফ ছিলো ওকবা ইবনে আবু মুঈতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ওকবা একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ)’র কাছে বসে ইসলামের কথা শুনছিলো । উবাই এ কথা শুনে ওকবাকে সমালোচনা করলো এবং নির্দেশ দিলো যাও মোহাম্মদের মুখে থুথু দিয়ে এসো। ওকবা তাই করলো। উকবা ইবনে খালফ একবার একটি পুরানো হাড় গুড়ো করলো। এরপর সেই গুড়া বাতাসে ফুঁ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)’র প্রতি উড়িয়ে দিলো।
আখলাস ইবনে শোরাইক ছাকাফিও রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কে কষ্ট দেয়ার কাজে উৎসাহি ছিল। কোরআনে কারিমে তার নয়টি বদ-অভ্যাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ থেকেই তার কর্মতৎপরতা সম্পর্কে ধারনা করা যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেনঃ “এবং অনুসরণ করোনা তার, যে কথায় কথায় শপথ করে, পশ্চাতে নিন্দাকারী,একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়,কল্যাণের কাজে বাধা প্রদান করে, সীমা লঙঘনকারী, পাপিষ্ঠ, রুঢ়স্বভাব, এবং তদুপরি কুখ্যাত”। (১০-১৩/৬৮)

সুত্র

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৮ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-২)

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  hug

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৮ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-২)

ধন্যবাদ ভাইজান শেয়ার করার জন্য..........

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৮ (যুলুম নির্যাতন পর্ব-২)

আপনাদের দুজনকেও ধন্যবাদ ।