সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন খন্দকার আলমগীর হোসেন (১৮-১০-২০১১ ০৪:৫৩)

টপিকঃ বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা

আগের লেখাগুলো এখানে:

যুবকের ‘মাগনা’ আবিষ্কার
যুবকের ‘আরব্য কন্যা’ দর্শন
গোঁফ না থাকার 'খেসারত'
জিয়ারতের রকমফের

একদিন সকালে অফিসে ঢুকেই মাথা হেঁট হওয়ার উপক্রম হয় যুবকের। মিশরীয় ইঞ্জিনিয়ারটা খিক্ খিক্ করে গা জ্বালা করা একপ্রস্হ হাসি দিয়ে বললো, তুমি না ডাঁট মেরেছিলে, দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ থেকে তুমি এসেছো? বালিকাদের কলেজে নিজ ব্যর্থতায় আর যুবকের কৃতিত্বে তখনও জ্বলছে সে।

-ঠিকই বলেছিতো। যুবক আবার কনফার্ম করে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসের সাথে।
-তাহলে এটা কি হে ম্যান! জেদ্দা থেকে প্রকাশিত সেদিনকার আরবি দৈনিক ‘নাদোয়া’র ভিতরের একটা পাতা সামনে মেলে ধরে লোকটা। হেডলাইনটা পড়ে শোনাতে থাকে জোরে জোরে।

‘ফি বাংগালাদেশ, আল-জাওজা তরফ আল-মোহর’, অর্থাৎ বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা। তার সাথে ছবিও বর এবং বধূর। নীচে আরো খবর। তৎকালীন জাতীয় সংসদে যৌতূক বিরোধী আইন পাশের খবর দিয়ে যার শুরু। বলা হয়েছে এ প্রথার ফলশ্রুতিতে হাজারো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবার কথা। বর্ণিত হয়েছে কৃষক পিতার শেষ সম্বল জমি বিক্রি বা বন্ধক রেখে বর পক্ষের আবদার রক্ষা করার ঘটনা।

http://i1098.photobucket.com/albums/g369/khandaker23/Bor-Kone011.jpg

প্রতিশ্রুত যৌতুক অনাদায়ে দুর্ব্যবহার, শারীরিক নির্যাতন, বিবাহ বিচ্ছেদ, এসব প্রসঙ্গও বাদ যায়নি। এমনকি কয়েকশ’ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে হাজার বছর ধরে প্রচলিত এই প্রথাকে। দৈনিকটি উপসংহারে বলছে, ‘এখানে উল্লেখ্য যে, ইসলাম মোতাবেক স্বামীই সাধ্যমত মোহরানা প্রদান করবে স্ত্রীকে। অথচ ‘বাংগালাদেশে’ এ রেয়াজের উল্টোটা ঘটছে, স্ত্রীরাই দিচ্ছে মোহরানা।

কিভাবে সামাল দেয়া যায় ব্যাপারটা, দ্রতগতিতে ভাবছিলো যুবক। চারিদিকে ততক্ষণে আরো কয়েকজন অনুসন্ধিৎসু সহকর্মী ভীড় করেছে। মিশরীয় ইঞ্জিনিয়ারটারও ত্বর সইছিলোনা যেন!

-দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশের লোক, কিছু একটা বলবে ব্রাদার? দুষ্ট হাসির গাঢ় প্রলেপ তার চোখেমুখে।
-আরে ভাই ওটাতো ‘হিন্দি’দের কালচার। বাংলাদেশে কেঊ কেঊ সেটাকে অনুকরণ করে। ওরা কোনকালেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলোনা।

তর্কের খাতিরে একটা কিছু বলে যুবক কোনমতে নিস্তার পায়। কিন্তু বিষয়টা ওকে কুড়ে কুড়ে খায়। অপবাদটা অসত্যতো নয়। কেন যে এই বৈপরিত্য আমাদের ইসলাম-প্রধান বাংগালী লোকাচারে!

আরবরা ইন্ডিয়াকে ‘হিন্দ’ বলে, আর ইন্ডিয়ানদের ‘হিন্দি’। ওরা বাংলাদেশ আরবিতে লিখলে উচ্চারণে হয়ে যায় ‘বাংগালাদেশে’।

অফিসে মিশরীয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ। দশজনের সাতজনই তারা। ফলে যুবকের আরবি শিক্ষায় ওদের উচ্চারণভঙ্গির প্রভাব পড়তে শুরু করে। মিশরীয়রা আরবি বর্ণমালার ‘জিম’কে বলে ‘গিম’। ফলে ‘মসজিদ’কে ওরা বলে ‘মসগিদ’, শুক্রবারের ‘জুমা’ ওদের কাছে ‘গুমা’ আর শেখ মুজিব হয়ে যায় শেখ মুগিব। এই ‘গিম’এর প্রভাবে পড়ে দু’জন মিশরীর দশ মিনিটের কথোপকথনের হাজারটা শব্দ ব্যবহার করলে অন্ততঃ তার পঞ্চাশবার ‘হাগা’ অর্থাৎ কিছু , ‘হাগগিনা’ মানে আমার, ‘হাগগাক’ অর্থাৎ তোমার এবং ‘হাগগো’ মানে তাহার উচ্চারণ করে একজন বাঙ্গালির শ্রবনযন্ত্র দুর্গন্ধময় করে তোলে। এমনকি তারা হাজীদের সম্বোধন করে ‘ইয়া হাগ’। যুবক প্রথম প্রথম হাসি লুকাতে হিমসিম খেতো। এখন নিজেও ওদের উপর বিভিন্ন প্রকার ‘হাগ’এর প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছে।

১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময়কার একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে যুবকের। বাংলাদেশ আরবদের সাহায্যার্থে প্রেরণ করেছিলো এক লক্ষ পাউন্ড চা। রেডিও টেলিভিশনে সে খবর শুনে বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গিয়েছিলো যুবকের মুখ। মরণপণ যুদ্ধের সময় চা দিয়ে কি হবে ভেবেই পাচ্ছিলো না। জেদ্দায় এসে মিশরীয়দের ব্যাপক চা প্রীতি দেখে পুরনো জিজ্ঞাসার জবাব মিলে গেলো এতদিনে।

এরা চা পান করে একদম দুধ ছাড়া। প্রাতঃরাশ কিংবা মধ্যাহ্নভোজ কি রাতের খাবার, সংগে চা থাকবেই। ধূমপানে আসক্তি নেই এমন মিশরীয় রয়েছে দেদার। ঠাণ্ডা পানীয় পরিহার করে, এদের সংখ্যাও বেশুমার। কিন্তু চা’তে নেশা নেই, এমন মিশরীয় মিলবে না একটিও। কেরানি কলম পিষছে অফিসে, তাকে করিৎকর্মা রাখতে চাইলে চাই ঘণ্টায় ঘণ্টায় চা। পার্কে, রাস্তায়, জমিতে শ্রমিকরা খাটছে। চায়ের ঘন ঘন জোগান থাকলে অনেক ক্লান্তিতেও তার মুখের হাসিটি থাকবে অম্লান।

চায়ের এতো চাহিদা বলেই এ নিয়ে মিশরে কালোবাজারিদের বেধড়ক দৌরাত্ম ছিলো একসময়। যেটা ঠেকাতে ইজিপ্ট সরকার টিসিবি স্টাইলে চায়ের আমদানি ও বণ্টন ব্যবস্হা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলো অনেকদিন পর্যন্ত। শুধুমাত্র সরকার পরিচালিত ন্যায্য মূল্যের দোকানগুলোতে অন্যান্য ভোগ্য পন্যের সাথে বিক্রি হতো চা’ও।

চা কে এরা ‘শ-ঈ’। স্পষ্টতঃ চা থেকেই যার উৎপত্তি। আরবিতে ‘চ’ কিংবা ‘থ’ এবং 'ভ' উচ্চারণের জন্য যথোপযুক্ত বর্ণমালা নেই বলে ওরা টা ‘শিন’ এবং ‘সিন’ দিয়ে সেরে নেয়। যেমন ‘থ্যাঙ্ক ইয়ু’ কে বলবে ‘স্যাঙ্ক ইয়ু’, ‘চেক’ কে ‘শেক’। পেপসি ওদের মুখে ‘বেবসি’ আর সেভেন আপ কিনা ‘সেবেন আব’।

Re: বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা

চমৎকার! অনেক কিছু জানা হলো 'হাগগার'  lol2 চালিয়ে যান ভ্রাতা clap আরবদের সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা নেই। তবে শুনেছি 'পিশাচ' ধরণের! অবশ্যই ভুল ধারণা (সাধারণিকরণ ঠিক নয়)। আপনার ভবিষ্যতের লেখাগুলোয় নিশ্চয়ই এ সম্বন্ধে কিছু জানতে পারবো - মানে, আরবরা সাধারণভাবে মানুষ হিসেবে কেমন ইত্যাদি জানতে চাই। ভালো থাকুন।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা

যৌতুক নেয়া আর নিজেকে বিক্রি করার মাঝে কোন পার্থক্য দেখি না। angry
যৌতুক নেই তো গু খাই। (দুঃখিত)

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা

উদাসীন লিখেছেন:

চমৎকার! অনেক কিছু জানা হলো 'হাগগার'  lol2 চালিয়ে যান ভ্রাতা clap আরবদের সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা নেই। তবে শুনেছি 'পিশাচ' ধরণের! অবশ্যই ভুল ধারণা (সাধারণিকরণ ঠিক নয়)। আপনার ভবিষ্যতের লেখাগুলোয় নিশ্চয়ই এ সম্বন্ধে কিছু জানতে পারবো - মানে, আরবরা সাধারণভাবে মানুষ হিসেবে কেমন ইত্যাদি জানতে চাই। ভালো থাকুন।

কোন জাতিকেই সাধারনিকরণ করলে তাদের প্রতি অন্যায় করা হয়। আমাদের ভুললে চলবে না আরব সিভিলাইজেশন একসময় সারা দুনিয়ায় ঈর্ষার পাত্র ছিল। ইংরেজীতে প্রায় দশ হাজার আরবি শব্দ রয়েছে। এটাও আরব সিভিলাইজেশন এর প্রভাবে।

আপনাকে মন্তব্য করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। আপনারা পাশে থাকুন।  যাতে লেখার অনুপ্রেরণা পেতে থাকি।

Re: বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা

আলমগীর ভাই কি নিজের টপিক ছাড়া আর অন্য কোথাও পোস্ট করেন না surprised নিজের টপিক ছাড়া পোস্ট একেবারেই না করলে আপনার টপিকেও অন্যরা পোস্ট করবে না neutral

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন খন্দকার আলমগীর হোসেন (১৭-১০-২০১১ ১২:৫২)

Re: বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা

আরণ্যক লিখেছেন:

যৌতুক নেয়া আর নিজেকে বিক্রি করার মাঝে কোন পার্থক্য দেখি না। angry
যৌতুক নেই তো গু খাই। (দুঃখিত)


আমাদের সবার  প্রতিজ্ঞা তাই হওয়া উচিত।

দক্ষিণের-মাহবুব আজ ০৯:১৩

আলমগীর ভাই কি নিজের টপিক ছাড়া আর অন্য কোথাও পোস্ট করেন না surprised নিজের টপিক ছাড়া পোস্ট একেবারেই না করলে আপনার টপিকেও অন্যরা পোস্ট করবে না neutral
<দক্ষিণের মাহবুব> <ফ্লিকার>

ভাই মাহবুব, আপনি অন্য পোস্টে মন্তব্য করার কথা বলছেন? সেটা অবশ্যই করব। এইতো সবে এলাম। কেউ মন্তব্য করা দিয়ে শুরু করে। আমি করেছি অন্যভাবে। দুটোর মধ্যে ব্যালেন্স রক্ষা করা কঠিন। চেষ্টা করে যাব।

Re: বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা

নতুন কিছু জেনে ভাল লাগল।

লাইফ ইজ এ ড্রামা

Re: বাংলাদেশে স্ত্রীর তরফ থেকে মোহরানা

Mozahid লিখেছেন:

নতুন কিছু জেনে ভাল লাগল।

ভাল লাগল বলে বাঁচালেন।