সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মুন (১১-১০-২০১১ ২৩:৪৫)

টপিকঃ অমর্যাদা!

কেন জানি হিসেবটা আর মেলাতে পারি না আজ-কাল! একপেশে, আজগুবী সব নীতি! টেকনোলজির উন্নতির দোহাই দিয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতির নগ্ন অনুকরণ! মাঝে মাঝে আজকের এই বাংলাদেশে, নিজের চিরচেনা বাংলাদেশটাকেই কেন জানি কিছুতেই খুজে বের করতে পারি না।

আমি ত ক'দিন আগেও মানুষকে দেখেছি অন্যের অনুভূতির মূল্য দিতে! এই ত কিছুদিন আগেও চায়ের কাপে ঝড় উঠত চমৎকার বুদ্ধিদীপ্ত সব বিষয় নিয়ে। গালাগালি, গলাবাজি না, চমৎকার বিতর্ক! উপভোগ্য! আরও কতই না ভালো ভালো জিনিস দেখেছি, এই দেশেই ত।

মনেহয় বাইরের সবুজের সাথে সাথে মানুষের মনের সবুজও হারিয়ে গেছে এখন! সবুজ নাই বলেই, ঝিরিঝিরি বাতাস আর শুভ্রতার সাথে সাথে মনের গুনগুলোও হারিয়ে যেতে বসেছে... দূষিত বাতাসে কুলষিত হচ্ছে।

আজ-কাল আত্নীয়তার বন্ধন ত চোখেই পড়ে না। এমন কি ভাই-বোন, মা-বাবার সাথেও দূরত্ব আর স্বার্থের প্রয়োজনে সম্পর্কের নাজুক সুতা...।

আগের সেই মাঝরাত জেগে বা লুকিয়ে বই পড়ার রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলো ত এখন বোরিং হয়ে গেছে। এখন ত, হয় ইংরেজী ছবির রংচঙে উদ্যমতায় চক্ষুলজ্জ্বা একবারে গেছে নতুবা সিরিয়ালের আগ্রাসনে সুকুমার বৃত্তিগুলো একেবার পটল তুলেছে। প্রজন্মে ফোরামেই এখন যতটুকু দেখি, মাত্র ২/৩ বছর আগে এগুলো ছিল অকল্পনীয়!

আমি ত আমার পুরো শিক্ষাজীবনে হিন্দু-মুসলমান সম্পৃতিই দেখে এসেছি। আর কেউ যদি পর্দা করত, তাকে কেউ অমর্যাদা কখনই করত না! বরং মুরুব্বীদের সামনে শ্রদ্ধা দেখাতে এটা ছিল প্রশংসনীয় বাঙালি সংস্কৃতি।

আজকে এই পর্দা করাটাই কতটা গাত্রদাহের কারন হয়ে গেছে, আমাদের সেই কনজারভেটিভ বাংলাদেশে দেখে আমার সত্যি মরে যেতে ইচ্ছে করছে। অনেকদিন ত বাঁচলাম। আর কতদিন এই দোজখে থাকতে হবে?

আজকে গিয়েছিলাম পাসপোর্ট অফিসে। আমি আজকে যা যা দেখেছি বা শুনেছি তা বলার হিম্মতও হয়ত জোটাতে পারব না। তবু কিছু বলি।

- ছেলে মেয়ে আলাদা কোন লাইন নেই! তার উপর কেউ যদি ধাক্কা-ধাক্কি করে আগে চলে যেতে পারে ত সেই জিতবে!

- আমার সামনেই একজন ছেলে প্যান্ট এতোটাই নিচে পড়ছে যে আমি মরমে মারা যাচ্ছি কেন এই দৃশ্য পলকের জন্যও আমার চোখের সামনে আসল! হে ধরনী দ্বিধা হও...।

- পাসপোর্টের নতুন নিয়ম, কান খোলা রেখে ছবি তুলতে হবে। (এক্ষেত্রে অন্তত কিছু চুল বের হবেই হবে। যারা ভালবেসে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর প্রদত্ত নিয়মাবলীর মধ্যে থেকে পর্দা করতে চায় তারা ধিকৃত। ব্যাকডেটেড। ইউরোপীয়ান কান্ট্রিগুলোতে হয়ত এগুলো ভিসার রিকয়ারমেন্ট। কিন্তু কেউ হজ্জ্বে যেতে চাইলেও তাকে বাংলাদেশে এখন এভাবে পাসপোর্ট করাতে হবে। সকলের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখি, ন্যাশনাল আইডি কার্ড করার সময় এরকম একটা নিয়ম করতে চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু পরে অনেক লেখালিখি ও আন্দোলনের কারনে এই পদ্ধতি বাতিল হয়, আমরা অন্তত কান,চুল ঢেকেই ছবি তুলতে পেরেছিলাম।)

- ছেলেরাই মেয়েদেরও ছবি তুলছিল একেবারে ওপেনলী, মানে বাইরে থেকে আমরা যে কেউ ভেতরের সবকিছু দেখতে পাচ্ছিলাম। তো নিজের মায়ের বয়েসী একজন মোটামুটি সুন্দরী বোরকাবৃতা মহিলাকে পুরো চুল এমনকি গলা পর্যন্ত খুলিয়েছে। নিজে কানে শুনছি, নিজে চোখে দেখছি। তারপর আবার ৩/৪ বার করে তার মাথায়, মুখে, গায়ে হাত দিয়েছে।

- আমি এতোটুকু দেখেই মাটির সাথে মিশে গেছি। আর যখন নিজে ছবি তুলতে গেছি এবং পর্দা খোলার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছি, তখন যতটুকু বাঁকা সুরে কথা বলছে তাতে নিজের আত্মসম্মানবোধ নিয়ে ছবি না তুলেই ভেগে গেছি। ৬০০০/- জলাঞ্জলিই গেল কিনা আল্লাহ মালুম।

আমাকে নিয়ে কেউ হাসি-ঠাট্টা বিদ্রুপও করতে পারেন। কি বোকা, ব্যাকডেটেপ, আনকালচার্ড, নন-টেকনিক্যাল। এগুলোরই এখন চল। কিন্তু তখন, ঐ সময় আমি আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হই নি। এখনও ভরসা করে আছি একমাত্র আল্লাহরই উপর।

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা য়াফু্‌ঊন - (হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল)
তুহীব্বুল য়াফওয়া - (আপনি মাফ করতে ভালবাসেন)
ফা' ফু আন্নী - (আমাকে মাফ করে দিন।)

Re: অমর্যাদা!

লজ্জার পরিমাণ কতটুকু হবে, সেটা নির্ধারণ করবে সমাজ ব্যাবস্থা! এবং যুগে যুগে তাই হয়ে আসছে।

কি আর করবেন! কলি যুগ মনে হয় এটাকেই বলে। ফ্রডের উপর ফ্রড তার উপরও ফ্রড আছে। পাসপোর্ট ওয়ালারা আর কত সামাল দেবে?

তামিম৬৯'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: অমর্যাদা!

কি আর বলব মুন আপু ।  বসুন্ধরা সিটিতে গেলে তো মনেহয় আমেরিকা চলে এলাম।

এই গরমে স্বাক্ষর আর কি দিমু........

Re: অমর্যাদা!

সামনে সুদিন আসছে আপু। আমরা একটা চক্রের চুড়ার দিকে এগুচ্ছি।

Re: অমর্যাদা!

আমার সত্যি মরে যেতে ইচ্ছে করছে। অনেকদিন ত বাঁচলাম। আর কতদিন এই দোজখে থাকতে হবে?

আপু  shame shame shame

(তোমরা) হতাশ হয়ো না! দুঃখ করো না! তোমরাই জয়ী হবে যদি বিশ্বাসী হও! - আলে ইমরান: ১৩৯

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রণ_এথিক্যাল হ্যাকার (১২-১০-২০১১ ০০:৪৯)

Re: অমর্যাদা!

আপনার বলা কথাগুলা ভাবারই মত।পশ্চিমা সভ্যতার সবই কি খারাপ নাকি আমরাই শুধু বেছে বেছে খারাপটা নিচ্ছি। whats_the_matter আর প্রজন্মের প্রানই ছিল বুদ্ধিদীপ্ত বিতর্ক যা দেখে এখানে এসেছিলাম আর এখন একপেশে যুক্তিহীন তর্ক দেখে দেখে ক্লান্ত। sad আর ধর্মীয় মেলবন্ধন এখনও আছে কিছু মানুষের ধর্মান্ধতাই এখানে প্রতিবন্ধক। thumbs_down আর ছেলেই কি আর মেয়েই কি আজকালকার কিছুকে অতিআধুনিক পোশাকে দেখলে ফার্মের মুরগী লাগে দূর থেকে সবই এক।  isee পর্দা খারাপ নয় কিন্তু বোমাবাজীতে এর অপপ্রয়োগ হলে সাধারণ ও নিরীহ মানুষের হয়রানী বাড়ে।আর সবশেষে আমার এটাই মনে হয় এখনো আশার আলো আছে।আমি ইংরেজী ছবিও দেখি আবার বইও পড়ি isee।আর মর্যাদা দেয়ার মালিক আল্লাহ তাই পাসপোর্ট অফিসের ঘটনায় দু:খ জানানো ছাড়া কিছু বলার নাই  donttell

seeming is being

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ত্রিনিত্রির রাশিমালা (১২-১০-২০১১ ০১:৩২)

Re: অমর্যাদা!

জ্ঞানী পোস্টে ভুল করে ঢুকে পড়েছি । (এরকম কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আমার ও আছে। টাইগার(ভারতী বাংলা) ছবির মত একটা টীম খুলতে পারতাম ।  angry angry angry)
একটা এক্সাম্পলঃ গত মঙ্গলবারে  আব্বুর কাজে  বোর্ড অফিসে গেলাম । বোর্ড অফিসে টাকা ডিডি করার একটা নিয়ম আছে । ডিডি করা কাগজ নিয়ে লাইনে দারাতে হয় । তো দাঁড়িয়ে আছি তো আছি । জিজ্ঞেস করলাম অন্য একজন স্যারকে "স্যার লাইন এগোয় না কেন ?" বললঃ রশিদ জমাদানকারী খেতে গেছেন ।তো যাই হোক আমি জিদে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে লাগলাম । আমার আব্বু একবার স্ট্রোক করেছেন । আমি না থাকলে হয়তো তারই এ লাইনে দারাতে হয় ( কয়েকদিন আগেই তো আমি ছিলাম না ) দেখলাম আমার আব্বু তাও তো সুস্থ অনেক প্রধান শিক্ষক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরছেন । রিটায়ারমেন্টের আগ মুহুর্ত । চিন্তা করলাম এই বয়েসে তারা  রোদের মধ্যে কিভাবে দাঁড়িয়ে থাকে? আমারই যেখানে কালোঘাম ছুটে যাওয়ার মত অবস্থা। আর ওইদিকে বোর্ড কর্মকর্তা ঘড়ি ধরা একঘণ্টা পার করে এলেন । angry angry angry( খাইতে একঘন্টা লাগে নাকি ? ) মনে হল লোকটার মধ্যে কোন মায়াদয়া নাই ।এরপর এসে পান চিবুতে চিবুতে রশিদ ২ টা সই করলেন । এরপর আবার তার ফোন এল । আবার আধাঘন্টা । এবার ফিরে আসার পড়ে তো মনে হইছে "শালারে যাইয়া একটা কানসা মারি  angry angry angry।" এবার উনি শুরু করলেন । আব্বু কি কাজে যেন গিয়েছিল । তিনি আবার এসে আমাকে ৫০ টাকা দিলেন । দিয়ে বললেন " এটা ভাজে  দিয়ে দে?" আমি প্রতিবাদ করতে চাইলাম কিন্তু আমি আমার আব্বুকে চিনি। জিবনে সে সহজে কোনদিন দুর্ণীতির আশ্রয় নেয় না বা দেয় না । কিন্তু কেন দিল সেটা বুঝলাম একটু পরেই । এক বুড়ো মতন লোক টাকা না দেয়ায়  বিনা কারনে নানা ধরনের অবজেকসন শুরু করে দিল । বলল ডি ডী ঠিক নাই ,নম্বার ভুল ,সাইন ঠিক নাই ইত্যাদি ইত্যাদি ...।। এরপর লোকটিকে আবার লাইনের পিছনে যেতে হল । angry তখন মুখ দিয়ে বের হইছিল অকথ্য গালিগালাজ । এরপরের স্টেপে আরেক কাহীনি(বোর্ডের প্রতিটি ঈট ই নাকি দুর্নিতি করে )  sad । আজ আর বলব না । এইটুকুই হজম করুন  neutral
এনিওয়ে লাউজি লেখার জন্য দুঃখিত ।

Re: অমর্যাদা!

আ্ল্লাহ এদেরকে হেদায়েত করুক।

Re: অমর্যাদা!

যারা নষ্ট তাদের কথা না বলি। এতে আমাদের লজ্জা হয়। sad যারা ভাল আছি তারা ভাল কাজ করি। অপর কে ভাল কাজের কথা বলি।

ঝামেলা'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: অমর্যাদা!

প্রত্যেক ক্রিয়ার একটি বিপরীত পতিকৃয়া আছে। আমাদের সমাজ পরিবর্তিত হচ্ছে (আমি ভাল পরিবর্তনের কথা বলছি যেমন: সামাজিক কুসংস্কার পরিত্যাগ, সমাজের সর্বক্ষেত্রে ছেলে মেয়ের সমান অংশগ্রহন, শিক্ষা... ইত্যাদি) আমরাই করছি, আপনি আমি সবাই। এই ভাল পরিবর্তনের বিপরীতে কিছু খারাপ পতিকৃয়া থাকবে বৈকি।
এর কোন সমাধান আছে বলে মনে হয় না। আস্তে আস্তে এর সাথেই আমারা নিজেদের মানিয়ে নেব।
যে ব্যাপারগুলো আপনার কাছে অত্যন্ত খারাপ লাগছে সেই ব্যাপারগুলোই আপনার মেয়ের কাছে অনেকটা সহনীয় মনে হবে, এবং আপনার নাতনীর কাছে স্বাভাবিক মনে হবে।

১১

Re: অমর্যাদা!

নিরাশ হবে না। আমি নিশ্চিত বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে মূল্যবোধের প্রতি সম্মান এখনও আছে। অন্ধ অনুকরণ আমাদের জাতীয় সমস্যা। তবে মুশকিল হচ্ছে গিয়ে আমাদের তরুণ সমাজে পাশ্চাত্যের পঁচা-গলা চাল-চলন আয়ত্ব করার নিষ্ফল চেষ্টা! সবাইকে যে সব মানায় না, এই বোধটাও নাই sad কী আর করা? সবুজ মন আসলেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে। মানুষ করবেটা কী? ক্রমবর্ধমান সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা মানুষের মধ্য থেকে সারল্য কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। অভাব কিংবা সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকবার টেনশান মানুষকে চাতুরীর আশ্রয় নিতে বাধ্য করছে। স্বার্থ সবার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে। সবচে' বড় কথা নৈমিত্তিক জীবন একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে, আমি আশাবাদী - এই আপস্‌ এণ্ড ডাউনস্‌ সাময়িক। সব -ই একসময় থিতু হবে। এই যে আমরা এই পরিবর্তনটা অনুভব করছি, মানিয়ে নেয়া কিংবা প্রতিকারের কথা ভাবছি - এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ। আমাদের মনুষ্যত্ব হয়তো এখনও পুরোপুরি জলাঞ্জলি যায় নি!

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১২

Re: অমর্যাদা!

পাসপোর্ট। অনেক কিছু লিখেছি। কোন লাভ হয় নাই। হবেও না। ৬০০০ টাকা জলে গেলো। জলে না গেলেও পাসপোর্ট হাতে পাবেন ৫০তম দিনে।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৩

Re: অমর্যাদা!

ডেলিভারী সেকশন লাগোয়া ছোট প্রস্থের একটি রুম ছিল ওখানে মহিলাদের জন্য। ওখানে বায়ো-এনরোলমেন্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে থাকবেন মেয়েরাই। এবং পর্দানশীন মহিলাদের বায়ো-এনরোলমেন্টই শুধু ওই কক্ষে হবে। এরকমই জানতাম যখন একেবারে শুরুর দিকে আগারগাঁও আরপিও-তে যেতাম ভিজিট করতে। এখন ওটা উঠিয়ে দেয়া হয়েছে নাকি?

১৪

Re: অমর্যাদা!

সত্যিই এ এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তেমন কারো জন্য যে, আল্লাহকে ভয় করে এবং নিজেকে আল্লাহর দেয়া সীমারেখার মধ্যে রাখার নিরন্তর সাধনা অব্যাহত রাখতে চায়। দেশের যে হাল তাতে সাধারণ কারো জন্য এ ঘটনা নিতান্তই স্বাভাবিক এবং কারো কারো কাছে হয়তবা অপ্রয়োজনীয়ও ঠেকতে পারে।

পাসপোর্ট অফিসে স্ত্রী ও বাচ্চার পাসপোর্ট জমা দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অভিজ্ঞতা আমারো হয়েছিল, তবে আমরা আগে থেকেই ছবি নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেনা কর্মকর্তার সামনে এ ছবি যে এই ব্যক্তিরই তা প্রমাণ করতে নেকাব সরাতে হয়েছে এবং আশপাশ থেকে অনেককেই উঁকি দেয়ার মত ভুল করতে দেখিনি। যদিও সে অফিসে অনেক মহিলা কর্মচারীকে দেখেছি। যারাই দেশের এসব নীতি নির্ধারণ করে থাকেন পর্দার প্রতি তাদের নূন্যতম সম্মান বোধ থাকলে এসব নির্ণায়ক পদে মহিলা নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবতেন।
যাইহোক, আপনার লেখায় যে ভয়াবহতার কথা জানলাম তাতে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে পশ্চিমের কোন দেশের সাথে পার্থক্য করা দুষ্কর হয়ে পড়ে এক কালের শালীন সমাজ বিশিষ্ট এ দেশকে।
যুবকদের পোষাক-ফ্যাশন আজকাল কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়েও শংকিত হচ্ছি। সউদি আরবের মত দেশেও মাঝে মাঝে মসজিদে দেখা যায় কোন যুবক সিজদায় গেল আর তার পেছনের মুসল্লীরা তার শরীরের নূন্যতম আবৃত রাখা অংশের অর্ধেকটাই উন্মুক্ত দেখতে পেল! কারণ, তার গায়ে টিশার্ট বা শার্টে দৈর্ঘ্য তার নাভীর কিঞ্চিৎ নিচ পর্যন্ত। তাতে রুকূতেই অনেকটা অনাবৃত হয়ে যায় আর সিজদায় প্রায় পুরোটাই। পরন্তু ভেতরে গেঞ্জিও পরে না। কাউকে তেমন কিছু বলতে দেখি না। আমি মনে করি এটা উচিত না। বরং আমি সুযোগ পেলে এদেরকে সবার সামনেই তাকে বলে দেই যে, তুমি তো উলঙ্গ হয়ে ছিলে এবং নিজের সালাতের সাথে সাথে সবার সালাতের ক্ষতি করলে।

চিন্তা করুন, যারা অন্ততঃ সালাত আদায় করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে মসজিদে এসেছে, হালের ফ্যাশন ইনফেকশনে তাদের এই হাল। আর যারা দ্বীন থেকে বহু দূরে তাদের অবস্থা কি!

ধন্যবাদ মুন, আপনার পাঠানো লিংকটার সূত্র ধরেই প্রজন্ম ফোরামে বহু আগে রেজিষ্ট্রেশন করা ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড ঝালাই করা হলো।

১৫

Re: অমর্যাদা!

জোস একটা পোস্ট। কিন্তু আমি তো জানি এইরকম অবস্থায় শীথিলতা আছে আমাদের ধর্মে, কারণ পাসপোর্ট টা কিন্তু জরুরী একটা বিষয়। তবে আমি বুঝতে পারছি যে ওরা ছবি তুলার নামে মানুষের সাথে মজা করতেই বেশী আগ্রহী, এক্কেবারে ঠিক কাজটা করেছো আপু। কিন্তুক এখন কি আর পাসপোর্টই করবে না এজন্য??

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৬

Re: অমর্যাদা!

মুন আপু ,টপিকটা অনেক সুন্দর হয়েছে ।যুক্তিগুলোও বেশ শানিত ।আপনাকে এই টপিক পড়ে সম্মাননা না দিলে অন্যায় হবে ।

১৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরাফাত (১২-১১-২০১১ ০৯:১৪)

Re: অমর্যাদা!

অনেকগুলো কথা লিখতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু রাগে দুঃখে ক্ষোভে.... সব হারিয়ে ফেলেছি।

আরাফাত রহমান
Web Application Developer
চি‌ৎকার করতে করতে গলাটা ফাইট্টা গেছে (প্রজন্ম ফোরামে)

আরাফাত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: অমর্যাদা!

ফজল লিখেছেন:

যাইহোক, আপনার লেখায় যে ভয়াবহতার কথা জানলাম তাতে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে পশ্চিমের কোন দেশের সাথে পার্থক্য করা দুষ্কর হয়ে পড়ে এক কালের শালীন সমাজ বিশিষ্ট এ দেশকে।

পশ্চিমের অবস্থা এত খারাপ না যতটা আমাদের অবস্থা। এর কারণ আমাদের দৃষ্টি। কু-দৃষ্টিতে তাকানোই এদের কাজ। এই দৃষ্টির জন্যই এদেশে যেসব বিদেশী মেয়েরা কাজ করে তারা নিজেদের ঢেকে রাখে। একটা টি শার্ট বা হাফ প্যান্ট পড়লে হাতের উপরের অংশ বা ফর্সা উরুতে কয়টা লোম আছে তাও গুনে ফেলে বাঙালীরা।

আমার এক বান্ধবী বাইরে থাকে। তাকে নতুন কারও সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার আগে সবাই বলে নেয় "ও মুসলিম"। এর মানে, "পার্টিতে তাকে হার্ড ড্রিংস অফার করা যাবে না", "তার হাত ধরা যাবে না" ইত্যাদি আরও অনেক কিছু।

আমার ভাইএর (জার্মানি বসবাসরত) এক ফ্রেন্ড এক আলজেরিয়ার মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব করবে। হয়ত পছন্দই করেছে। তো সে তার কলিকগে বলল। তখন কলিগ বলল, "চেষ্টা করে দেখতে পার। কিন্তু সে মুসলমান।"
পশ্চিমে সবাই জানে মুসলিম মানে, পর্দা করা মেয়ে, যে সবার সাথে কথা বলে, কাজ করে, কিন্তু হারাম কিছু করে না। সবাই জানে এরা স্ট্রিক্ট।  আর আমরা?

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

১৯

Re: অমর্যাদা!

শিপলু ভাইকে ধন্যবাদ। এরকম একটা কষ্টকর ভাবনাই আমার মধ্যে কাজ করছিল। অন্যদেরও ধন্যবাদ।

পর্দার বিষয়টাতে নাহয় পরে আসছি; কিন্তু ইউ, এস, এ তে কি এরকম পাসপোর্টের জন্য ছেলেদের-মেয়েদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করা লাগে। জীবনেও না। এমন কি ফ্রান্সেও মনে হয় না, যেখানে হিজাব কি, মাথায় কাপড় দেওয়াই ব্যানড!!! এরকম একটা অবস্থা মনের উপর কতটা প্রেশার তৈরি করতে পারে সেটা হয়ত বলে বোঝাতে পারব না।

আমি যতটুকু দেখলাম, যে কোন ছেলে যে কোন মেয়ের সাথে ওইখানে খারাপ ব্যবহার করতে পারবে। এতোটাই সিস্টেমের অভাব। কিন্তু মানুষ একদম সবাই-ই খারাপ হয়ে যায় নি। খুব অল্প মানুষই ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে গেছে, অনেকে বরং কিছুটা সহানুভূতি দেখিয়েছে...। নইলে এতোক্ষণ পর্যন্ত টিকতে পারতাম না।

আমার আরেকবার ওই জায়গায় যাওয়ারও ইচ্ছে করে না hairpull, কিন্তু হাল ছাড়তেও রাজি না। ওখানে মেয়ে ফটোগ্রাফারও কিছু আছে, এতটুকু ইনফো কালেক্ট করেছি। যেকোন প্রকারে তাদের কাছে যাবো ফটো তুলতে, আল্লাহ চাইলে, যদি কোন উপায় হয়। মুসলিম স্কলারদের মধ্যে অনেক বিষয় নিয়ে মতোভেদ আছে, আমি পারতপক্ষে সেগুলো এড়িয়ে চলি। নিজের ভালোটা কিছুটা নিজের কাছেও ত। সব জিনিসকে যতটা সহজভাবে ব্যাখা করা যায়, সেটাই আমি করি। আমি ত আর জ্ঞানী না। আমার খালি এটাই মনে হয়, যে কম্প্রোমাইজ করতে করতে, মাথা নত করতে করতে আমরা এক সময় নিজের আইডেন্টিটিই হারিয়ে ফেলি। এটা আমি মেনে নিতে পারি না। আমার এটাই মনে হলো যে জাতিগতভাবেই আমরা যথেষ্ট ভীরু, এবং ... ...।

ভাবতে পারেন, যারা হজ্জ্বে যেতে চাচ্ছেন, তাদেরকেও অপদস্থ হতে হচ্ছে। কিন্তু কেন? সব দেশে পাসপোর্ট কিংবা ভিসার রিকয়ারমেন্টও এটা না। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন লোকের সাথে আমার কথা হয়েছে। কোরিয়ার এলিয়েন কার্ডের রিকয়ারমেন্ট কান খোলা কিন্তু তারা এই বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে না, মানে কেউ ঢেকে তুলতে চাইলে সে পারবে। অস্ট্রেলিয়ার ভিসার রিকয়ারমেন্টে কান খোলা লাগে না। তাহলে বাংলাদেশেই কেন এমন হবে। তেলমর্দনকারীদের কি নিজেদেরকে একধাপ এগিয়ে নিতেই এই অবস্থা?

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা য়াফু্‌ঊন - (হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল)
তুহীব্বুল য়াফওয়া - (আপনি মাফ করতে ভালবাসেন)
ফা' ফু আন্নী - (আমাকে মাফ করে দিন।)

২০

Re: অমর্যাদা!

আমি চরম ভুল করে বিজ্ঞদের টপিকে ঢুকে পড়েছি। এখন কি লিখবো খুজে পাচ্ছি না  crying crying

মুন লিখেছেন:

- আমার সামনেই একজন ছেলে প্যান্ট এতোটাই নিচে পড়ছে যে আমি মরমে মারা যাচ্ছি কেন এই দৃশ্য পলকের জন্যও আমার চোখের সামনে আসল! হে ধরনী দ্বিধা হও...।

আপু মরমে মরা ভালো, আজকালতো মেয়েদের মরম একদমই উঠে যাচ্ছে। রাস্তা ঘাটে বেড় হলে তো আমিও মাঝে মাঝে মরম পাই। আর ভুল করে যদি কখনো ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই তাহলে তো মরমের আর কমতি থাকে না। হায়রে হায় বাংলাদেশটা কি হয়ে যাচ্ছে, চারিদিকে শুধু তাকালেই মরম লাগে (মাইন্ড খাওয়া এলাউ নহে  neutral এটার সংক্ষিপ্ত যে কি লিখে তা ভুলে গিয়েছি, এখানে সেটাই হবে)

আমাকে কোথাও পাবেন না।