টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৩ প্রকাশ্য তাবলীগ

সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২২ নামাযের আদেশ

প্রকাশ্য তাবলীগ দাওয়াতের প্রথম নির্দেশ

এ সম্পর্কে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালা এ নির্দেশ নাযিল করেছিলেন যে, “হে নবী, তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দের আল্লাহর আযাম সম্পর্কে ভয় প্রদান করো। এটি হচ্ছে সূরা শোয়ারার একটি আয়াত। এ সূরায় সর্বপ্রথম হযরত মূসা (আ) এর ঘটনা ব্যক্ত করা হয়। অর্থাৎ বলা হয়, কিভাবে হযরত মূসা (আ) নবুয়ত পেয়েছিলেন এবং বনি ইসমাইলসহ হিজরত করে ফেরাউন এবং ফেরাউনের জাতি এবং তার সঙ্গী সাথীদের নীল নদে ডুবিয়ে মারা হয়েছিলো। অন্যকথায় এ সূরায় হযরত মূসা (আ) ফেরাউন এবং বনি ইসরাইলদের কাছে যেভাবে দাওয়াত করেছিলেন, সেই দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে।

আমার ধারণা রসূল্লল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর কওমের মধ্যে প্রকাশ্য তাবলীগের নির্দেশ বলে দেয়ার পর হযরত মূসা (আ) -এর ঘটনা এ কারণে বলা হয়েছে যাতে, একটা উদাহরণ সামনে থাকে। প্রকাশ্যে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার পর হযরত মূসা (আ) কে যেভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলায় করতে হয়েছিলো এবং যে ধরণের বাড়াবাড়ি তাঁর সাথে করা হয়েছিলো রসূল্লল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের সামনে যেন তার একটা নমুনা সব সময় বিদ্যমান থাকে।

অন্যদিকে এ সূরায় যেসব সম্প্রদায় নবীদের মিথ্যাবাদী বলেছিলো, যেমন ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়, নূহের সম্প্রদায়, আদ, সামুদ, ইবরাহীমের সম্প্রদায়, লুতের সম্প্রদায়, আইকার অধিবাসীসহ এদের সবার পরিণাম কিরূপ হয়েছিলো, সে সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। সম্ভবত এর উদ্দেশ্য ছিলো এই যে, যেসব লোক আল্লাহর রসূলকে মিথ্যাবাদী বলবে, তারা যেন বুঝতে পারে যে, এ ধরণের আচরণের ওপর অবিচল থাকতে তাদের পরিণাম এবং আল্লাহর কিরূপ পাকড়াও এর সম্মখীন হতে হবে। এছাড়া ঈমানদাররাও বুঝতে পারবেন যে, উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্যে রয়েছে। পক্ষান্তরে যারা নবীকে মিথ্যাবাদী বলে, তাদের পরিণাম মোটেই ভালো হবে না।

নিকটআত্মীয়দের মধ্যে তাবলীগ

এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বনু হাশেমদের সমবেত করলেন। তাদের সাথে বনু মোত্তালেব ইবনে আবদে মান্নাফের একটি দলও ছিলো। তারা ছিলো মোট পঁয়তাল্লিশ জন। আবু লাহাব কথা লুফে নিয়ে বিরোধিতার সুরে বললো, দেখো, এরা তোমার চাচা এবং চাচাতো ভাই। কথা বললো তবে মুর্খতার পরিচয় দিয়ো না এবং মনে রেখো, তোমার খান্দান সমগ্র আরবের সাথে মোকাবেলা করতে পারবে না। আমিই তোমাকে পাকড়াও করার বেশী হকদার। তোমার জন্যে তোমার পিতৃকূলের লোকেরাই যথেষ্ট। যদি তুমি তোমার কথার ওপর অটল থাকো, তাহলে কোরায়শদের সমগ্র গোত্র তোমার ওপর ঝাপিয়ে পড়বে। আরবের অন্যান্য গোত্রও তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। এরপর কি হবে? তোমার পিতৃকূলের মধ্যে তুমিই হবে সবচেয়ে বেশী ধ্বংসাত্মক কাজের মানুষ। এসব কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে রইলেন, সেই মজলিসে কোন কথা বললেন না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর পনরায় তাদের সমবেত করলেন এবং বললেন, “আল্লাহর জন্যেই সকল প্রশংসা”। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাইছি। তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি। তাঁর ওপর ভরসা করছি। আমি এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত এবাদাতের উপযুক্ত কেউ নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরিক নেই। এরপর রসূল্লল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পদ প্রদর্শক তার পরিবারের লোকদের কাছে মিথ্যা কথা বলতে পারে না। সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই, আমি তোমাদের প্রতি বিশেষভাবে এবং অন্য সব মানুষের প্রতি সাধারণভাবে আল্লাহ রসূল। আল্লাহ শপথ, তোমরা যেভাবে ঘুমিয়ে থেকো, সেভাবেই একদিস মৃত্যুমুখে পতিত হবে। ঘুম থেকে যেভাবে তোমরা জাগ্রত হও, সেভাবেই একদিন উঠানো হবে। এরপর তোমাদের থেকে তোমাদের কৃতকর্মের হিসাব নেয়া হবে। তারপর রয়েছে চিরকালের জন্যে হয়তো জান্নাত নতুবা জাহান্নাম।

একথা শুনে আবু তালেব বললেন, তোমাকে সহায়তা করা আমার কতো যে পছন্দ, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তোমার উপদেশ গ্রহণযোগ্য। তোমার কথা আমি সত্য বলে বিশ্বাস করি। এখানে তোমার পিতৃকূলের সকলে উপস্থিত রয়েছে, আমিও তাদের একজন। কাজেই তুমি যে কাজের নির্দেশ পেয়েছো, আমি অব্যাহতভাবে তোমার হেফাযত এবং সহায়তা করে যাবো। তবে আমার মন আবদুল মোত্তালেবের দ্বীন ছাড়ার পক্ষপাতি নয়। আবু লাহাব বললো, আল্লাহর শপথ এটা মন্দ কাজ। অন্যদিকে আগে তুমিই তার হাত ধরেছো? আবু তালেব বললেন, আল্লাহর শপথ, যতদিন বেঁচে থাকি, ততোদিন আমি তার হেফাযত করতে থাকবো।

সাফা পাহাড়ের ওপর তাবলীগ

নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নিশ্চিতভাবে বুঝলেন যে, আল্লাহর দ্বীনের তাবলীগের ক্ষেত্রে আবু তালেব সহায়তা করবেন, তখন তিনি একদিন সাফা পাহাড়ে উঠে আওয়ায দিলেন, ইয়া সাবাহাহ, অর্থাৎ হায় সকাল। এই আওয়ায শুনে কোরায়শ গোত্র সমূহ তাঁর কাছে সমবেত হলো। তিনি তাদেরকে আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর রেসালাত এবং রোয কেয়ামতের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত দিলেন। এ ঘটনার একটি অংশ সহীহ বোখারীতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (আ) থেকে এভাবে বর্ণিত হয়েছে:

“হে নবী, তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে আল্লাহর আযাম সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করো। এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা পাহাড়ের ওপর আরোহন করে আওয়ায দিলেন, হে বনি ফেহর, হে বনী আদী। এই আওয়ায শুনে কোরায়শদের নেতৃস্থানীয় সকল লোক একত্রিত হলো। যিনি যেতে পারেননি, তিনি একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন সেটা কি ব্যাপারে জানার জন্যে। কোরায়শরা এসে হাজির হলো, আবু লাহাবও তাদের সঙ্গে ছিলো। এরপর তিনি বললেন, তোমরা বলো, যদি আমি বলি যে, পাহাড়ের ওদিকের প্রান্তরে একদল ষোড় সওয়ার আত্মগোপন করে আছে, ওরা তোমাদের ওপর হামলা করতে চায়, তোমরা কি সে কথা বিশ্বাস করবে? সবাই বললো? হাঁ বিশ্বাস করবো, কারণ আপনাকে আমরা কখনো মিথ্যা বলতে শুনেনি। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তবে শোনো, আমি তোমাদেরকে এক ভয়াবহ আযাবের ব্যপারে সাবধান করতে প্রেরিত হয়েছি। আবু লাহাব বললো, তুমি ধ্বংস হও। তুমি আমাদেরকে একথা বলার জন্যে এখানে ডেকেছ?

আবু লাহাব একথা বলার পর আল্লাহ তায়ালা সূরা লাহাব নাযিল করেন। এতে বলা হয় আবু লাহাবের দু’টি হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।

এই ঘটনার আরেক অংশ ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ্য করেছেন। হযরত আবু হোরায়রা (রা) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, নিকটত্মীয়দের আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করো। হে বনি কা’ব, নিজেদের জাহান্নাম রক্ষা করো। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষার ব্যপারে আদিষ্ট হয়েছি। যেহেতু তোমাদের সাথে আমার আত্নীয়তা রয়েছে, কাজেই এই সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে যথাসম্ভব সজাগ করবো।
....................................................চলবে................................................................
সুত্র

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৩ প্রকাশ্য তাবলীগ

অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ টপিক  isee

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ  hug

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-২৩ প্রকাশ্য তাবলীগ

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ টপিক

হুম ঠিক তাই !

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

তোমাকেও ধন্যবাদ ।