টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-১৯

সীরাতুন্নবী (সাঃ)-১৮

সাময়িকভাবে ওহীর আগমন স্থগিত

ঐ সময় ওহীর আগমন কতোদিন যাবত স্থগিত ছিলো? এ সম্পর্কে ইবনে সা’দ হযরত ইবনে আব্বাসের একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। এতে উল্লেখ রয়েছে যে, ওহী কয়েকদিনের জন্যে স্থগিত ছিলো। সবদিকে বিবেচনা করলে এ বর্ণনাই যথার্থ মনে হয়। একটা কথা বিখ্যাত রয়েছে যে, আড়াই বা তিন বছর ওগী স্থগিত ছিলো, এই বিবরণ সত্য নয়। এ সম্পর্কিত যুক্তি প্রমাণ সম্পর্কে এখানেই আলোচনার দরকার সেই।

ওহী স্থগিত থাকার সময়ে প্রিয় রসূল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিষণ্ণ এবং চিন্তাযুক্ত থাকতেন। তিনি মানসিক অস্থিরতা এবং উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। সহীহ বোখারী শরীফের কিতাবুত তাবীর এর একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, ওহীর আগমন স্থগিত হওয়ার রসূল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতোটা অস্থিরটা এবং চিন্তার মধ্যে ছিলেন যে, কয়েকবার উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছিলেন যেখান থেকে লাফিয়ে নীচে পড়বেন। কিন্তু পাহাড়ে ওঠার পর জিবরাঈল আসতেন এবং বলতেন হে মুহাম্মদ , আপনি আল্লাহর রসূল। এ কথা শোনার পর তিনি থমকে দাঁড়াতেন। তাঁর উদ্বেগ অস্থিরতা কেটে যেতো। প্রশান্ত মনে তিনি ঘরে ফিরে আসতেন। পুনরায় ওহী না আসার কারণে তিনি অস্থির হয়ে উঠতেন এবং পাহাড়ে গিয়ে উঠতেন। সেখানে জিবরাঈল এসে হাযির হতেন এবং বলতেন, হে মোহাম্মদ আপনি আল্লাহর রাসূল।

ওহী নিয়ে পুনরায় জিবরাঈলের আগমন

হাফেজ ইবনে হাজার লিখেছেন, ওহী কিছুকাল স্থগিত থাকার কারণ ছিলো এই যে, তিনি যে ভয় পেয়েছিলেন সে ভয় যেন কেটে যায় এবং পুনরায় ওহী প্রাপ্তির আগ্রহ এবং প্রতিক্ষা যেন তাঁর মনে জাগে।

বিস্ময়ের ঘোর কেটে যাওয়ার পর, বাস্তব অবস্থা তার সামনে প্রকাশ পেলো। তিনি সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন যে, তিনি আল্লাহর নবী হয়েছেন। তিনি আরো বুঝতে সক্ষম হলেন যে, কাছে যিনি এসেছিলেন তিনি ওহীর বাণী বাহণকারী, আসমানী সংবাদবাহক। এইরূপ বিশ্বাস তাঁর মনে দৃঢ় হওয়ার পর তিনি আগ্রহের সাথে ওহীর জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলেন। তিনি সিন্ধান্ত নিলেন যে, তাঁকে দৃঢ় হয়ে থাকতে হবে এবং এ দায়িত্ব বহন করতে হবে। মানসিক অবস্থা এ পর্যায়ে হযরত জিবরাঈল (আ) পুনরায় এসে হাযির হলেন। সহীহ বোখারী শরীফে হযর জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি প্রিয় নবীর মুখে ওহী স্থগিত হওয়ার বিবরণ শুনেছেন। রসূল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি পথ চলছিলাম। হঠাৎ আকাশে থেকে একটি আওয়ায শোনা গেলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি সেই ফেরেশতা যিনি হেরা গুহায় আমার কাছে এসেছিলেন। তিনি আসমান যমীনের মাঝখানে একখানি কুরসীতে বসে আছেন। আমি ভয় পেয়ে চোখ ফিরেয়ে নিলাম। এরপর বাড়িতে এসে আমার স্ত্রী কাছে বললাম, আমাকে চাদার জড়িয়ে দাও, আমাকে চাদর জড়িয়ে দাও। স্ত্রী আমাকে চাদর জড়িয়ে শুইয়ে দিলেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা সূরা মোদাসসের-এর “ ওয়াররুজযা ফাহজুর” পর্যন্ত নাযিল করেন। এ ঘটনার পর থেকে ঘন ঘন ওহী নাযিল হতে থাকে।

[................................................................চলবে...................................................................]


পুর্ব প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-১৯

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।  hug

এই পর্বের কিছু কিছু ঘটনা জানতাম।  yahoo

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-১৯

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শান্ত বালক (১৬-০৮-২০১১ ২০:১৯)

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-১৯

ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ঘটনাবলী বিস্তারিত জানা হচ্ছে। আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।