টপিকঃ সফর অবস্থায় রোযা রাখা না রাখা........

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত,হামজাহ ইবনে আমর আসলামী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করলেন, সফর অবস্থায় আমি কি রোযা রাখব? উল্লেখ্য তার অধিক রোযা রাখার অভ্যাস ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন :

তোমার ইচ্ছা, রাখতে পার, নাও রাখতে পার। [বুখারী ১৮৪১ মুসলিম ১১২১]

ইবনে আব্বাস রা. থেকে রা. বর্ণিত,

রমজানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা অবস্থায় সফর করে আসফান নামক স্থানে পৌঁছলেন। অতঃপর পান পাত্র চাইলেন দিনের বেলায় মানুষকে দেখায়ে পান করলেন। রোযা না রাখা অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করলেন।
ইবনে আব্বাস রা. বলতেন: সফর অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা রেখেছেন এবং ভেঙ্গেছেন, দুটিই করেছেন। অতএব যার ইচ্ছে হবে রোজা রাখবে, যার ইচ্ছে হবে না রোজা রাখবে না। [বুখারী৪০২৯ মুসলিম ১১১২]

আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন:

আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফর করছিলাম, রোযাদার এবং ভোজদার কেউ কাউকে কিছু বলেনি। [বুখারী ১৮৪৫ মুসলিম ১১১৮]

আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন:

আমরা রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যুদ্ধ করছিলাম আমাদের মধ্যে কেউ রোযা রেখে ছিল কেই রোযা রাখেনি। রোযাদার বেরোযাদার কেউ কাউকে কিছু বলেনি। তারা মনে করছিল যার শক্তি আছে সে রোযা রাখবে, বরং তার জন্য এটাই ভাল, আর যে দুর্বলতা অনুভব করবে সে রোযা ভঙ্গ করবে, বরং তার জন্য এটাই ভাল। [মুসলিম ১১১৬ তিরমিজী ৭১৩ আহমাদ ১২/৩]

আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন :

আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রোযা অবস্থায় মক্কায় গমণ করলাম, আমরা এক স্থানে অবতরন করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : তোমরা তোমাদের শত্র“দের কাছাকাছি পৌঁছে গেছ এখন রোজা না রাখা তোমাদের শক্তি বৃদ্ধির কারণ হবে। রাসূলের এ কথা অনুমতি ছিল, আমাদের ভিতর কেউ রোযা রাখল কেউ ভেঙ্গে ফেলল। অতঃপর আর এক স্থানে আমরা অবতরন করলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : তোমরা তোমাদের শত্র“দের সামনা সামনি হচ্ছো রোযা ভেঙ্গে ফেলা তোমাদের শক্তির কারণ হবে তোমরা রোযা ভেঙ্গে ফেল আর এ নির্দেশ ছিল কঠোর, আমরা রোযা ভেঙ্গে ফেললাম। আবু সাঈদ রা. বলেন, এরপরও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফরে আমরা রোযা রাখতাম। [মুসলিম ১১২০ আবু দাউদ ২৪০৬ আহমাদ ২৮৪/৩]

হাদীসে থেকে যা শিখলাম :

১. ইসলামের মহানুভবতা এবং ইসলামী শরীয়াতের ছাড় ও বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিতদের জন্য আলাদা সুযোগ।

২. রোযা রাখা না-রাখা মুসাফির ব্যক্তির ইচ্ছাধীন। যা সহজ তাই তার জন্য সুন্নত।

৩. সফর অবস্থায় রোযা রাখতে কষ্ট হলে ভেঙ্গে ফেলাই উত্তম। আর সফর অবস্থায় রোযাতে সমস্যা না হলে, রোযা রাখাই উত্তম।

৪. বিভিন্ন কাজের দরুন, যিনি সর্বদা সফরে থাকেন বা অধিক হারে সফর করেন, যেমন যানবাহনে যারা চাকরী করেন, তারা সফর অবস্থায় ফরজ রোযা রাখবেন, যদি রোযা তাদের জন্য কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকর না হয়, নতুবা তারা দায়মুক্ত হবে কিভাবে? বরং তাদের কাজা করার সুযোগ না থাকলে সফর অবস্থায় রোযা রাখা ফরজ। সে ব্যক্তির সফর করাই যার পেশা।

৫. দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তির উচিত শরীয়তের দায়িত্ব যথাসাধ্য পালনের চেষ্টা করা।

৬. সফর অবস্থায় রোযা রাখা বা না-রাখার ক্ষেত্রের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নত অনুসরণ করাই উত্তম।

৭. হামজাহ আসলামী রা. এর হাদীস দ্বারা এ কথারও প্রমাণ মিলে যে, হালাল হারাম বিষয়ে যে ব্যক্তি জানে তার কাছে প্রশ্ন করে জেনে নেয়া। এটাই সাহাবাদের অভ্যাস ছিল।

৮. মুসলিম শাসক কোন বৈধ কাজের নির্দেশ দিলে তা পালন করা ফরজ। হ্যা, গোনাহের নিদের্শ হলে তার আনুগত্য করা যাবে না।

৯. ইমামের দায়িত্ব হল অধীনদের প্রতি নম্রতা দেখানো এবং তাদের
দুর্বলদের প্রতি লক্ষ রাখা। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলকে রোজা না রাখার কথা বলেছেন, যাতে শত্র“র মোকাবেলায় সকলে শক্তি পায়, যদিও তাদের মধ্যে এমন লোক ছিল রোজার কারণে যাদের ক্ষতি হত না।

১০. যে সব বিধি-বিধানে দু’ধরেনর সুযোগ সুবিধা রয়েছে, সেখানে একটিতে অবদারিত করে দেয়ার অধিকার কারো নেই। তদ্রুপ মত বিরোধপূর্ণ মাসআলার বিষয়টিও। যার নিকট যে বিষয়টি স্পষ্ট নয় সে তা করতে বাধ্য নয়।

১১. শরীয়তের রুখসত বা কোন আয়াত বা হাদিসের দুর্বোধ্য বিষয়ে কারো সাথে শত্র“তা পোষণ করা যাবে না।

১২. এ হাদীসগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সাহবাদের পরস্পরের মাঝে ভাতৃত্ববোধ ও ভালবাসা বিদ্যমান ছিল, আরো ছিল তাদের দ্বীনের ব্যাপ্যারে গভীর জ্ঞান। যেমন রোজাদার ভোজদার কেউ কাউকে দোষারূপ করেনি। যেহেতু সকলেই শরীতের উপর নির্দেশিত পন্থা অনুসরণ করেছে।

১৩. রমজান মাসে সফর করা বৈধতার প্রমাণ মিলে। যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইুহ ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের জন্য রমজান মাসেই সফর করেছিলেন। [আত্ তামহীদ ৪৮/ ২২]

১৪. যে ব্যক্তি আগামীকাল সফর করবে তার জন্য রোজা না রাখার নিয়তে রাত্রিযাপন সঠিক নয়, কেননা নিয়তের দ্বারা মুসাফের হবে না যতক্ষণ না সে সফরে বের হবে।

১৫. সফরের নিয়ত করে ঘরে অবস্থানরত অবস্থায় রোজা ভঙ্গ করা বৈধ নয়। তখনই রোযা তার ইচ্ছাধীন হবে যখন সে সফরের জন্য বের হবে বা বাহনে আরোহন করবে।[ আত্ তামহীদ ৪৯/ ২২]

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: সফর অবস্থায় রোযা রাখা না রাখা........

গুরুত্বপুর্ণ টপিকের জন্য ছবিকে ধন্যবাদ।

Re: সফর অবস্থায় রোযা রাখা না রাখা........

গুরুত্বপূর্ন টপিকের জন্য ছবি আপুকে ধন্যবাদ। তবে সফর অবস্থায় যদি রোজা ভাঙ্গা হয় তবে তার পরবর্তিতে কি করতে হবে। এটা জানালে খুব ভাল হত।

এই গরমে স্বাক্ষর আর কি দিমু........

Re: সফর অবস্থায় রোযা রাখা না রাখা........

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  hug

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শান্ত বালক (০১-০৮-২০১১ ১৩:৫৯)

Re: সফর অবস্থায় রোযা রাখা না রাখা........

খুবই গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার তুলে ধরেছেন। এটা জানা আমার জন্য খুব দরকারী ছিল। কারন এবার রোজার মাসে কয়েকবার আমাকে খুলনায় দিনে গিয়ে কাজ সেরে আবার দিনে ফিরে আসতে হতে পারে। আমি ব্যাপারটা ভেবে খুব টেনশনে ছিলাম। এখন ব্যাপারটা ক্লিয়ার হলো। তারপরও সেসময় রোজা রাখার ইচ্ছা রয়েছে। হাদিসের আলোকে বিষয়টা সুন্দরভাবে বিশ্লেষন করে তুলে ধরায় ছবি আপুকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Re: সফর অবস্থায় রোযা রাখা না রাখা........

জানার বিষয়...
শেয়ার দেওয়ায় ধন্যবাদ রইলো।

আমার মৃত্যু নেই কারণ আমি মানুষ।
আল্লাহ মানুষকে অমর বানিয়েছেন তবে এ দেহের মৃত্যু হবে।

facebookকে

Re: সফর অবস্থায় রোযা রাখা না রাখা........

ইলিয়াস লিখেছেন:

গুরুত্বপুর্ণ টপিকের জন্য ছবিকে ধন্যবাদ।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইজান

আশরাফুল আলম লিখেছেন:

গুরুত্বপূর্ন টপিকের জন্য ছবি আপুকে ধন্যবাদ। তবে সফর অবস্থায় যদি রোজা ভাঙ্গা হয় তবে তার পরবর্তিতে কি করতে হবে। এটা জানালে খুব ভাল হত।

পরবর্তীতে রোযা রাখতে হবে

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  hug

আপনাকেও ধন্যবাদ

শান্ত বালক লিখেছেন:

খুবই গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার তুলে ধরেছেন। এটা জানা আমার জন্য খুব দরকারী ছিল। কারন এবার রোজার মাসে কয়েকবার আমাকে খুলনায় দিনে গিয়ে কাজ সেরে আবার দিনে ফিরে আসতে হতে পারে। আমি ব্যাপারটা ভেবে খুব টেনশনে ছিলাম। এখন ব্যাপারটা ক্লিয়ার হলো। তারপরও সেসময় রোজা রাখার ইচ্ছা রয়েছে। হাদিসের আলোকে বিষয়টা সুন্দরভাবে বিশ্লেষন করে তুলে ধরায় ছবি আপুকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আন্তরিক ধন্যবাদ শান্ত ভাই

এস,এম,ও,রাজু লিখেছেন:

জানার বিষয়...
শেয়ার দেওয়ায় ধন্যবাদ রইলো।


আপনাকেও ধন্যবাদ

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর