টপিকঃ সীরাতুন্নবী(সাঃ) পর্ব -৫

পর্ব-৪

আরবের অন্যান্য অংশের প্রশাসনিক অবস্থা

ইতিপূর্বে কাহতানি এবং আদনানী আরবের দেশ ত্যাগের কথা আলোচনা করা হয়েছে এবং উল্লেখ্য করা হয়েছে, সমগ্র দেশ আরবের এসব গো্ত্রের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

এরপর তাদের নেতৃত্ব এবং কর্তৃত্বের অবস্থা এরূপ ছিলো যে, কাবার আশেপাশে যেসব গোত্র বসাবাস করতো, তাদেরকে হীরার অধীনন্থ মনে করা হতো। যেসব গোত্র সিরীয় এলাকায় বসবাস করতো, তাদেরকে আসমানী শাসকদের অধীনন্থ মনে করা হতো। কিন্তু এটা ছিলো নামকাওয়াস্তে, বাস্তবে না। উল্লেখিত দু’টি জায়গা বাদে অন্যান্য এলাকার আরবরা ছিলো সম্পূর্ণ স্বাধীন।

এ সকল গোত্রের মধ্যে সর্দার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো। গোত্রের লোকেরাই নিজেদের সর্দার নিযুক্ত করতো। এ সকল সর্দারদের জন্যে গোত্র হতো ছোট খাট সরকার। রাজনৈতিক অস্তিত্বের নিরাপত্তার ভিত্তি, গোত্রীয় বিবাদ বিশৃঙ্খলা নিরসন এবং নিজেদের ভূখন্ডের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষার সম্মিলিত স্বার্থ এর দ্বারা রক্ষা করা হতো।

সর্দারদের মর্যাদা ছিলো তাদের সমাজে বাদশার মতো। যুদ্ধ সন্ধির ব্যাপারে সর্দারদের ফয়সালাই হতো চূড়ান্ত। এ অবস্থায় কোন পরিবর্তন কোন অবস্থায়ই হতো না। একজন একনায়কের যেরূপ ক্ষমতা দরকার, সর্দারের ক্ষমতা তার চেয়ে কোন অংশেই কম ছিলো না, কোন কোন সর্দারের অবস্থা এমন ছিলো যে, তারা সব দিক থেকে স্বাতন্ত্রের অধিকারী হতেন। একজন কবি একথা এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মধ্যে তোমার জন্যে গণিমতোর মালের এক চতুর্থাংশ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে নির্বাচিত ধন-সম্পদ। তুমি ফয়সালা করে দেবে, সে সম্পদেও রয়েছে তোমার মালিকানা। পথে যা কুড়িয়ে পাওয়া যাবে এবং যা বন্টন না হয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে, সে সম্পদের মালিকও তুমি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি

জাযিরাতুল আরবের সরকার পদ্ধতি এবং শাসনকর্তাদের সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। কাজেই রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা করাই সমীচীন হবে।

জাযিরাতুল আরবের তিনটি সীমান্ত এলাকার জনগন ছিলো ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রতিবেশী। এ তিনটি দেশে অশান্তি বিশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিব অস্থিরতা বিদ্যমান ছিলো। মানুষরা দাস এবং প্রভু্ এক দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো। সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা, নেতা, বিশেষত বিদেশী শাসকদের করতলগত ছিলো। সকল বোঝা ছিলো দাসদের মাথায়। সুস্পষ্ট ভাষায় বললে বলা যায় যে, প্রশাসন ছিল খেত-খামারের মতো। তারা সরকারের আয়ের উৎস হিসাবে পরিগণিত হতো। শাসকবর্গ সেই অর্থ সম্পদ নিজের সুখ-সাচ্ছন্দ, আরাম আয়েশ ঐশ্বর্য এবং বিলাসিতায় ব্যয় করতো। আর জনগন অন্ধকারে হাত পা ছুঁড়াতো। শাসকরা জনগণের ওপর সকল প্রকার যুলুম-অত্যাচার চালিয়ে যেতো, জনগণ যেসব মুখ বুঁজে নির্বিচারে সহ্য করতে হতো। কোন প্রকার অভাযোগ করার তাদের উপায় ছিল না। অসম্মান অবমাননা অত্যাচার তাদের সহ্য করতে হতো। শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা ডিক্টেটরের মতো আচরণ করতো। মানুষের অধিকার বলতে কোন কিছুই তখন ছিল না।

এ সকল এলাকার পাশে বসতি স্থাপনকারী প্রতিবেশীরা সিন্ধান্তহীনতায় ভুগতো। এসব গোত্রের পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখে সিন্ধান্ত পরিবর্তন করতো। তারা কখন ইরাকী, আবার কখনো সিরীয়দের সুরে সুর মেলাতো।

আরবের ভিতরে বসবাসকারী গোত্রসমূহও ছিলো শতধাবিচ্ছিন্ন। চারদিকে ঝগড়া বিবাদ. কলহ কোন্দল এবং বংশগত ও ধর্মীয় বিভেদ বিশৃঙখলা চলছিলো।

এসব অশান্তির মধ্যেও বিচ্ছিন্ন লোকেরা প্রয়োজনের নিজের গোত্রের প্রতিই সমর্থন দিতো। এক্ষেত্রে ন্যায়-অন্যায়ের ধার করতো না। একটি গোত্রের মুখপাত্র একজন কবি বলেন,

“আমি তো গাযিয়া গোত্রের একজন মানুষ। ওরা যদি ভুল পথে চলে, তবে আমিও ভুল পথে চলবো, ওরা যদি সঠিক পথে চলে, তবে আমিও সঠিক পথে চলবো।”

আরবের ভেতর এমন কোন বাদশাহ ছিলো না, যে জনগণের সাথে একাত্নতা প্রকাশ করতো। প্রজাদের কারো কোন আশ্রয় স্থল ছিলো না। দুঃখ কষ্ট, সমস্যা সংকট এবং আপদ বিপদে বিশ্বাস এবং নির্ভর করার মতো কেউই ছিলো না।

হেজাযের শাসককে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হতো এবং কেন্দ্রীয় শাসক হিসাবে তাকে সম্মান করা হতো। হেজাযের শাসক ছিল প্রকৃতপক্ষে দুনিয়াবী এবং দ্বীনী নেতা। ধর্মীয় নেতা হিসাবে আরবদের ওপর তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত ছিলো। কাবাঘর এবং আশেপাশের এলাকায় তার শাসন বিনা প্রতিবাদে মেনে নেয়া হতো। কাবাঘর যেয়ারতের জন্যে যারা আসতো, তাদের দেখাশুনা, প্রয়োজন পূরণ,শরীয়তের বাস্তবায়ন, সংসদীয় পদ্ধতির লালন, বিকাশ ইত্যাদি কাজ সেই শাসনকর্তার ওপর ন্যস্ত থাকতো। কিন্তু সে এমন দুর্বল হতো যে, আরবের অভ্যন্তরীণ সমস্যার বোঝা মাথায় নেয়া অর্থাৎ যাবতীয় সমস্যার সমাধান করার শক্তি তার খাকতো না। আবিসিনীয়দের হামলার সময় এই দুর্বলতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো। {.......চলবে........}

পুর্ব প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী(সাঃ) পর্ব -৫

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

আল্লাহ আপনি মহান

Re: সীরাতুন্নবী(সাঃ) পর্ব -৫

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ  thumbs_up

ইলিয়াস লিখেছেন:

হেজাযের শাসক ছিল প্রকৃতপক্ষে দুনিয়াবী এবং দ্বীনী নেতা।

দুনিয়াবী মানি?  thinking

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী(সাঃ) পর্ব -৫

ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তৎকালীন আরবের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরেকটু বিস্তারিত জানার ইচ্ছা রয়েছে। আশাকরি আগামী পর্বে পাবো।

Re: সীরাতুন্নবী(সাঃ) পর্ব -৫

একটা প্রশ্ন: টপিক টাইটেল মিলাদুন্নবী (স:) হলে ভালো কি ভালো হতো না?

কত কি শিখতে ইচ্ছা করে। এখনও শেখা হলো না কিছুই।

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সীরাতুন্নবী(সাঃ) পর্ব -৫

শাহাদাত ০০৮ লিখেছেন:

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

দুনিয়াবী মানি?

দুনিয়াদারী। বা ইহ জগতের।

শান্ত বালক লিখেছেন:

ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

তোমাকেও ধন্যবাদ।

শান্ত বালক লিখেছেন:

তৎকালীন আরবের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরেকটু বিস্তারিত জানার ইচ্ছা রয়েছে। আশাকরি আগামী পর্বে পাবো।

আল্লাহর ইচ্ছায়  তোমার আশা হয়তো পূরণ করতে পারব।

cslraju লিখেছেন:

একটা প্রশ্ন: টপিক টাইটেল মিলাদুন্নবী (স:) হলে ভালো কি ভালো হতো না?

ধন্যবাদ আপনার প্রস্তাবের জন্য সঙ্গত কারণেই তা সম্ভব নয়।
মিলাদুন্নবী অর্থ ঈদে মিলাদুন্নবী , বা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্ম বার্ষিকী।