টপিকঃ ট্রেনে একদিন পর্ব-১

আড্ডাটা একটু বেশিই হয়ে গেলো। অনেকদিন পর বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাওয়া হয়েছিল অনসূয়ার। রাত বেড়ে যাচ্ছে অথচ কিছুতেই ছাড়ছে না। নাহ, কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়; অনসূয়ারও উঠতে মন চাইছিল না। বিদেশ-বিভূঁইয়ে একরকম নিঃসঙ্গ জীবনে হঠাত হঠাত করে এরকম আড্ডাবাজি...ভালোই লাগে। নিজে যে সামাজিক জীব, এটা নিজেকেই মনে করিয়ে দেবার ভালো উপলক্ষ্য নিঃসন্দেহে। মিলির বর শাবাবও বেশ মানুষ...তবে কিনা খালি পঁচা পঁচা কথা বলে। বলে কিনা আমার চিকন কোমরে আপাতত কয়টি উল্লুক ঝুলছে? কেউ না ঝুললে সেই নাকি...? কী অসভ্য রে বাবা!  সে যাইহোক, এই ভালোমানুষেরা তাকে খুব থেকে যেতে বলল। কিন্তু থাকে কীভাবে? ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট! অগত্যা অনসূয়ার উঠতেই হলো।

রাত্রি বারোটা বেজে সতেরো মিনিট। ঝটপট কাঁধে হাতব্যাগটা ঝুলিয়ে বিদায় নিয়ে একরকম দৌঁড়ে চলল। পথ বেশি দূরের নয়। কব্জি উল্টিয়ে মিনিটের কাটাটিকে গ্রেফতার করে দেখতে পেলো হাতে আর চার মিনিটের মত সময় আছে। দীর্ঘাঙ্গি, নির্মেদ শরীর ওর। এই চার মিনিট দৌঁড়ে যেতে মোটেই বেশি কষ্ট হবে না।  বারোটা বিশের ট্রেনটি কী মনে করে মিনিটখানেক আগেই এসে স্টেশানে হাঁফাচ্ছে। দূর থেকে দেখেই অনসূয়ার গতি বেড়ে গেলো...এটাকে কোনোমতেই ফেল করা যাবে না...পরের সার্ভিসটি ঝাড়া বিশ মিনিট পর। দৌঁড়...দৌঁড়...ওকে পারতেই হবে। ঘোষণা হয়ে গেছে; স্লো মোশনে ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় দরজাগুলি বন্ধ হয়ে আসছে। কোনোকিছু ভালোভাবে না দেখেই সেকেন্ডের ব্যবধানে নিজেকে গলিয়ে দিয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে ধপ করে সীটে গিয়ে বসে পড়ল। যাক, বাঁচা গেলো। ছোট্ট একটা স্বস্তির হাসি পাতলা ঠোঁট গড়িয়ে বেরিয়ে গেলো। আসলেই কি তাই? তাড়াহুড়োয় অনেক কিছুই চোখ এড়িয়ে গেলো!

ট্রেনটা বেশ জোরেই যাচ্ছে। একটু জিরিয়ে নিয়ে এলোমেলো দীর্ঘ চুলের রাশি আঙ্গুল চালিয়ে পোষ মানাতেই ব্যাপারটা খেয়াল করল।  হচ্ছেটা কী? এত শুনশান কেন? এই রুট ব্যস্ততম একটি; ঘরফেরতা শহরতলিমুখী মানুষের জ্বালায় আর হলে বসাই দায় হয়ে যায়। অথচ আজকে একটি মানুষও দেখা যাচ্ছে না। হাল্কা গোলাপি ইন্টেরিয়রের বিশাল কামরাখানায় সব আসনগুলি গভীর নীরবতা নিয়ে বসে আছে। কোথাও কেউ নেই। সে আর হুহু শব্দে ছুটে চলা ট্রেন। কেমন একটা ভয়ভয় করতে লাগলো! কিন্তু হাল ছেড়ে দেবার পাত্রী সে নয়। উঠে গিয়ে পাশাপাশি দু’বগির সংযোগস্থলে উঁকি মেরে আরো অবাক হয়ে গেলো। নেই, কেউ নেই; একদম ফাঁকা! হাতল ঘুরিয়ে ভারী দরজা গলিয়ে মোট পাঁচটি কামরার সবটিতে গিয়ে থ হয়ে গেলো। অজান্তে চেঁচিয়ে উঠলোঃ

-হ্যালো, হ্যালোওও...এনিবডি দেয়ার? এই যে কেউ কি আছেন?

কেউ থাকলে তো সাড়া দেবে? ঝিমঝিমে ভয়টা একটু একটু করে গ্রাস করছে। যুক্তি দিয়ে কিছুতেই মেলানো যাচ্ছে না। ঘুরে গিয়ে চালকের দরজায় বেশ জোরে কষিয়ে ধাক্কা দিয়ে বললোঃ 

-হেই ড্রাইভার, ক্যান ইয়্যু হিয়ার মি? আয় নিড সাম হেল্প, আয়, আ’ম বিট টেরিফায়েড...কান্ট সী এনিওয়ান... কোনো সাড়া নেই কেবল প্রবল ছুটে চলার শব্দ ছাড়া। কোনো উপায় নেই, দরজার পাশে কাচের ঢাকনি দেয়া বাক্সে রাখা লাল চাবিটি বলছে, ‘ টেনে ফেল, টেনে ফেল...হা করে দেখছিস কী? আর দেরী করিস না ...ট্রেন টা জলদি থামাতে হবে...নইলে বিপদ...’ হ্যাঁ, হ্যাঁ ঠিক তাই। কিন্তু তার আগে কাচটা ভাঙ্গতে হবে তো। কী করা যায়? এই তো পাশে আগুন নেভানোর লাল সিলিন্ডারটা। কখন হাতে তুলে নিয়েছে অনসূয়া বলতে পারে না...কুলকুল করে ঘামছে...হ্যাঁ একটা বাড়ি দিলেই তো ভেঙ্গে যাবার কথা...

-দাঁড়ান, করছেন কী?

ঝট করে অনসূয়া ঘুরে গিয়ে হঠাত মাতৃভাষায় চেঁচিয়ে উঠলঃ

-কে, কে আপনি? কোথা থেকে আসলেন? পরক্ষণে ইংরেজিতেও বলল।

-আপনি বাংলাতেই বলুন না কেন? বাংলাটা আমি ভালোই পারি জানতাম। আপনাকে বেশ বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। কী হয়েছে বলুন তো? আগে এই যে এখানটায় এসে বসুন তো।

মুখোমুখি সীটের একটিতে কাঁপতে কাঁপতে অনসূয়া বসে পড়ল। আ...আপনি কীভাবে বুঝলেন আমি বাঙ্গালী? তাকিয়ে দেখে বিপরীতে বসে আছে লেট টুয়েন্টিসের এক যুবক। উস্কোখুস্কো চুল; চোখে একটা ঢাউস চশমা। উদাস উদাস ভাব। মিটমিট হাসছে।

চলবে
ট্রেনে একদিন পর্ব-২
ট্রেনে একদিন শেষ পর্ব

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ট্রেনে একদিন পর্ব-১

হেহেহে..চশমা পড়া লোকটাকে চিনতে পারছি  big_smile

Re: ট্রেনে একদিন পর্ব-১

তারপরের জন্য অপেক্ষা  dream

ঘরের কোনে মনের বনে, তোমার সাথে জোছনা স্নান...
তোমার দুহাত থাকলে হাতে; স্বপ্নে জাগে মধুর প্রাণ।
ছড়া সব করে রব

নাদিয়া জামান'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ট্রেনে একদিন পর্ব-১

ধুরর, ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম প্রায়  ghusi

তারাতারি নেক্সট পর্ব  smile

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তার-ছেড়া-কাউয়া (০২-০৭-২০১১ ০১:৫৪)

Re: ট্রেনে একদিন পর্ব-১

শুরুতো ভালোই হইলো  thumbs_up

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: ট্রেনে একদিন পর্ব-১

স্বপ্নীল লিখেছেন:

হেহেহে..চশমা পড়া লোকটাকে চিনতে পারছি  big_smile

  hehe  কে সে?

নাদিয়া জামান লিখেছেন:

তারপরের জন্য অপেক্ষা  dream

লিখেছি।

বেঙ্গল বয় লিখেছেন:

ধুরর, ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম প্রায়  ghusi

তারাতারি নেক্সট পর্ব  smile

লেখালেখি খুবই কঠিন কর্ম। তোমাদের উৎসাহে লিখছি আর কী!

@কাউয়া ভাই, ধন্যবাদ  hug

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ট্রেনে একদিন পর্ব-১

হরর-রোমান্টিক গল্প big_smile

Re: ট্রেনে একদিন পর্ব-১

ভাল লাগল উদাসিন ভাইয়া......

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: ট্রেনে একদিন পর্ব-১

দারুন উত্তেজনায় আছি ২য় পর্বটা পড়তে যাই  smile