টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সা)(পর্ব -৩) বিভিন্ন বাদশাহী যুগ

এ লেখাটি মুলত রাসুলে মকবুল (সা) এর জীবকাহিনী নিয়ে রচিত  "আর রাহীকুল মাখতুম" হতে সংকলিত, নবী কারিম (সা) এর জীবনি বুঝতে হলে আপনাকে শুরু হতে পড়তে হবে। আপনার যদি আগের পর্ব পড়া না থাকে তাহলে আগের পর্ব পড়ে আসুন। 

আরবের প্রশাসনিক অবস্থা

ইসলাম পূর্বকালের আরবের অবস্থা আলোচনার প্রসঙ্গে আরবের প্রশাসনিক অবস্থা, সর্দারী এবং ধর্মীয় আর্দশ সম্পর্কে সংক্ষপ্তি চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। এতে ইসলামের আর্বিভাবকালে আরবের অবস্থা সহজে বোঝা যাবে।

জাযিরাতুল আরবে যে সময়ে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিলো, সে সময় আরবে দু’ধুরনের শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত ছিলো। প্রথমত মুকুটধারী বাদশাহ, এরাও আবার পরিপূর্ণ স্বাধীন ছিলো না। দ্বিতীয়ত ছিলো গোত্রীয় সর্দার ব্যবস্থা। এরা মুকুটধারী বাদশাহদের মতোই ক্ষমতা প্রয়োগ করতো এবং এরা বিভিন্ন সিন্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীন ছিলো। প্রকৃত বাদশাহ ছিলো ইয়েমেনের বাদশাহ, সিরিয়ায় গাসসান বংশের বাদশাহরা ও ইরাকের হীরার বাদশাহরা। এছাড়া আরবে অন্য কোন মুকুটধারী বাদশাহ ছিলো না। 

ইয়েমেনের বাদশাহী

আরবে আরোবার মধ্যে প্রাচীন ইয়েমেনী গোত্রের নাম ছিলো কওমে সাবা। ইরাকে আবিষ্কৃত প্রাচীন শিলালিপি থেকে জানা যায়, খৃষ্টপূ্র্ব আড়াই হাজার বছর আগে সাবা জাতির এখানে বসতি ছিলো। তবে এ জাতির উন্নতি অগ্রগতির সূচনা হয়েছিলো খৃষ্টপূর্ব একাদশ শতাব্দীতে। উল্লেখ্যযোগ্য ঐতিহাসিক সময়কাল নিম্নরূপ,

(এক) খৃষ্টপূর্ব ৬৫০ সালের পূর্বেকার সময়। সেই সময়ে সাবার বাদশাহদের উপাধি ছিলো মাকরাবে সাবা। এদের রাজধানী ছিলো সরওয়াহ নামক জায়গায়। এই রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ মা-আবের থেকে পশ্চিমে একদিনের পথের দূরত্বে পাওয়া যায়। সেই জায়গায় বর্তমান নাম খারিবা। সেই যুগে মা-আরেবের বিখ্যাত বাঁধের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিলো। ইয়েমেনের ইতিহাসে এটা এক উল্লেখ্যযোগ্য ঘটনা। সেই সময়ে সাবার বাদশাহদের শাসনামলের বহুলোক আরবের ভেতর এবং বাইরে বিভিন্ন স্থানে নতুন বসতি স্থাপন করেছিলো।   

(দুই) খৃষ্টপূর্ব ৬৫০ খৃষ্টপূর্ব ১১৫ সাল। এ সময়ে সাবার বাদশাহরা মাকরাব উপাধি পরিত্যাগ করে বাদশাহ উপাধি ধারন করে এবং সরওয়াহ এর পরিবর্তে     মায়ারেবকে রাজধানী মনোনীত করে। এই শহরের ধ্বংসাবশেষ সান-য়া থেকে ৬০ মাইল পূর্বে পাওয়া যায়।

(তিন) খৃষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে ১১৫। এ সময়ে সাবার বাদশাহদের ওপর হেমইয়ার গোত্র আধিপত্য বিস্তার  করে এবং তারা মায়া’বের পরিবর্তে রাইদানকে নিজেদের রাজধানী মনোনীত করে। পরবর্তী সময়ে রাইদানের নাম পরিবর্তন করে জেফার রাখা হয়। এর ধ্বংসাবশেষ ইয়মেনের কাছাকাছি একটি পাহাড়ে পাওয়া যায়।

এই যুগে সাবা জাতির পতন শুরু হয়। প্রথমে নাবেতিরা হেজাযের উত্তরাঞ্ঝলে আধিপত্য বিস্তার করে এবং সাবার নতুন জনবসতি উৎখাত করকে শুরু করে। এরপর রোমকরা মিসর, সিরিয়া এবং হেজাযের উত্তরাঞ্ঝলে আধিপত্য বিস্তার করে এতে তাদের স্থলপথে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে কাহতানি গোত্রসমূহ নিজেদের দেশ ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

(চার) খৃষ্টপূর্ব ১১৫ থেকে ইসলামের সূচনাকাল পর্যন্ত। এ সময়ে ইয়েমেনের ক্রমাগত বিভেদ বিশৃঙ্খলা চলতে থাকে। বিপ্লব,গৃহযুদ্ধ এবং বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ চলতে থাকে। এমনি করে এক পর্যায়ে ইয়মেনের স্বাধীনতাও কেড়ে নেয়া হয়। এই সময়ে রোমকরা আদানের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপ করে এবং তাদের সাহয্যে হাবশী অর্থাৎ আবিসিনীয়রা হেমইয়ার ও হামদান গোত্রের পারস্পরিক সংঘাত থেকে লাভবান হয়ে ৩৪০ সালে প্রথমবার ইয়েমেন দখল করে নেয়। এই দখল ৩৭৮ সাল পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকে। এরপর ইয়েমেন স্বাধীনতা লাভ করে বটে, কিন্তু মা’য়ারেবের বিখ্যাত বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ৪৫০ বা ৪৫১ সালে এই বাঁধ ভেঙ্গে যায়। পবিত্র কোরআনের এই ভাঙ্গনকে বাঁধভাঙ্গা বন্যা বলে অভিহিত করা হয়েছিলো। সূরা সাবায় এর উল্লেখ রয়েছে। এটা ছিলো বড় ধরনের একটা দুর্ঘটনা। এ     বন্যায় বহু জনপদ বিরান ও জনশূন্য হয়ে পড়েছিলো এবং বহু গোত্র বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিলো।

৫২৩ ঈসায়ী সালে আরেকটি বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটে। বাদশাহ জুনুয়াস ইয়েমেনের ঈসায়ীদের ওপর হামলা করে তাদের খৃষ্টধর্ম ত্যাগে বাধা করার চেষ্টা করে। তারা রাযি না হওয়ায় তাদেরকে পরিখা খনন করে প্রজ্জলিত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপে করা হয়। পবিত্র কোরআনের সূরা বুরুজে ধ্বংস হয়েছিলো কুন্ডের  অধিপতিরা বলে এই লোমহর্ষক ঘটনার কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে। এতে রোমক বাদশাহদের নেতৃত্বে ঈসায়ী ধর্মের উজ্জীবনকারীরা তৎপর এবং প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ওঠে। আবিসিনীয়রা রোমকদের সমর্থন পেয়ে ৫১৫ সালে আরিয়াতের নেতৃত্বে ৭০ হাজার সৈন্যসহ পুনরায়  ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে ইয়েমেনে অধিকার করে নেয়। অধিকারের পর আবিসিনিয়ার  সম্রাটের গর্ভনর হিসাবে আরিয়াত ইয়মেন শাসন  করতে থাকেন। কিছুকাল পর আরিয়াতের সেনাবাহিনীর এক অধিনায়ক আরিয়াতকে হত্যা করে ক্ষমতা গ্রহণ করে। এ অধিনায়কের নাম ছিলো আবরাহা। ক্ষমতা গ্রহণের পর আবরাহা শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং আবিসিনিয়ার     সম্রাটকেও তার বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করায়।


এই আবরাহাই পরবর্তীকালে কাবাঘর ধবংস করতে চেষ্টা করেছিলো। দুর্ধুর্ষ একদল সৈন্য এবং কয়েকটি হাতী নিয়ে আবরাহা মক্কা অভিযান পরিচলনা করেছিলো। এই অভিযানকে আসহাবে ফীল নামে সূরা ফীলে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

আসহাবে ফীলের ঘটনার আবিসিনীয়দের যে ক্ষতি হয়েছিলো, তার প্রক্ষিতে ইয়মেনের অধিবাসীরা পারস্য সরকারের কাছে সাহায্য চায়। তারা আবিসিনীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্র্রোহ করে এবং সায়ফে যী ইয়াযান ইময়ারীর পুত্র মাদি কারারের নেতৃত্বে আবিসিনীদের দেশ থেকে বের করে দেয়। এরপর তারা একটি স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতি হিসাবে মাদিকারাবকে ইয়েমেনের বাদশাহ বলে ঘোষনা করে। এটা ছিল ৫০৫ সালের ঘটনা।

স্বাধীনতার পর  মাদিকারাব তার সেবা এবং রাজকীয় বাহিনীর সৌন্দর্যের জন্যে কিছূ সংখ্যক হাবশী অর্থাৎ আবিসিনীয়কে রেখে দেয়। তার এ শখ পরবর্তীতে বিপজ্জনক প্রমাণিত হয়।  কর্মরত হাবশীরা একদিন ধোঁকা দিয়ে বাদশাহ মাদিকারাবকে হত্যা করে। এর ফলে যী ইয়াযান পরিবারের রাজত্ব চিরতরে শেষ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে সুবিধা আদায়ের জন্য এগিয়ে আসেন পারস্য সম্রাট কিসরা। তিনি সনয়া’য় পারস্য বংশোদ্ভুত একজন গর্ভণর নিয়োগ করে ইয়েমেনকে পারস্যের একটি প্রদেশে পরিণত করেন। পরবর্তী সময়ে ইয়েমেনে একের পর এক ফরাসী গর্ভণর নিযুক্ত করতে থাকেন। সর্বশেষে গভর্ণর বাযান ৬২৮ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। এর ফলে ইয়েমেনে পারস্য আধিপত্য লোভ পায় এবং ইয়মেন ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

হীরার বাদশাহী
ইরাক এবং তার আশেপাশের এলাকায় কোরোশ কাবির অথবা সায়রাম যুল কারনাইনের (খৃষ্টপূর্ব ৫৭৫ থেকে ৫২৯ সাল পর্যন্ত) সময় থেকেই পারস্যদের রাজত্ব চলে আসছিলো। ফরাশীদের মোকাবেলা করার মতো শক্তি কারো ছিলো না। খৃষ্টপূর্ব ৩২৬ সালে সিকান্দার মাকদুনি প্রথম পরাজিত করে পারস্য শক্তি নস্যাৎ করেন। এর ফলে পারস্য সাম্রাজ্য খন্ড খন্ড হয়ে যায়। এ বিশৃঙ্খল অব্স্থা ২৩০ সাল পর্যন্ত অব্যহত থাকে। এ সময়ে কাহতানি গোত্রসমূহ দেশত্যাগ করে। ইরাকের এক বিস্তীর্ণ সীমান্ত থেকে যেসব আদনীনী দেশত্যাগ করে গিয়েছিলো, তারা এ কারিলায় ফিরে এসে প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করে ফোরাত নদীর উপকূল ভাগের একাংশে বসতি স্থাপন করে।

এদিকে ২২৬ সালে আর্দেশির সাসানি রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার পর ধীরে ধীরে পারস্য শক্তি পুনরায় সংহত হতে শুরু করে। আর্দেশির পারস্যদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং তার দেশের সীমান্তে বসবাসকারী আরবদের প্রতিহত করেন। এর ফলে কোযায়া গোত্র সিরিয়ায় পথে রওয়ানা হয়। পক্ষান্তরে হীরা এবং আনবারের আবর অধিবাসীরা বশ্যতা স্বীকারে সম্মতি জ্ঞাপন করে।

আর্দিশিরের শাসনামলে হীরা, বাদিয়াতুল ইরাক এবং উপদ্বীপবাসীর ওপর রবিয়ী গোত্রের শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। মোদারী গোত্রসমূহের ওপর সরাসরি শাসনাকার্য পরিচলা করা এবং সীমান্তে তাদেরকে লুটতরাজ থেকে বিরত রাখা সম্ভব নয়। বরং ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে এমন কোন আবর নেতাকে শাসক হিসাবে নিযুক্ত করাই হবে বুদ্ধিমত্তার কাজ। এর ফলে একটা লাভ এই হবে যে, প্রয়োজনের সময়রোমকদের বিরুদ্ধে এসব আরবের সাহায্য নেয়া যাবে এবং সিরিয়ার রোমকপন্থী আরব শাসকদের মোকাবেলায় ইরাকের এসব আরব শাসনকর্তাকে দাঁড় করানো যাবে। হীরার বাদশাহদের অধীনে পারস্য সৈন্যদের একটি ইউনিট আবিসিনিয়ায় থাকতো। এদের দ্বারা বিভিন্ন স্থানে আবর বিদ্রোহীদের দমন করা হতো। 

২৬৮ সালে জাযিমা মৃত্যু বরণ এবং আমর ইবনে আদী ইবনে নসর লাখামী হাদরামি তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি ছিলেন লাখাম গোত্রের প্রথম শাসকর্তা। শাবুল কোবাজ ইবনে ফিরোজের যুগ পর্যন্ত একাধারে হীরার ওপর লাখমিদের  শাসন চলতে থাকে। কোবাজের সমসময়িককালে মোজদকের আবির্ভাব ঘটে। তিনি ছিলেন সংস্কারবাদের প্রবক্তা। কোবাজ এবং তার বহু সংখ্যক অনুসারী বাদশাহ মোনযার ইবনে মাউসসামাকে বার্তা পাঠালেন যে, তুমিও এ ধর্ম গ্রহণ করো। মোনযার ছিলো বড়ই দূরদৃষ্টি মানুষ, তিনি অস্বীকার করে বসলেন। ফলে কোবাজ তাকে বরখাস্ত করে তার স্থলে মোজদাকি মতবাদের অন্যতম প্রবক্তা হারেস ইবনে আমর ইবনে হাযার ফিন্দীর হাতে হীরার শাসনভার ন্যস্ত করেন।

কোবাজের পরে পারস্যের শাসনক্ষমতা কেসরা নওশেরও’য়ার হাতে আসে। তিনি এ ধর্মকে প্রচন্ড ঘৃণা করতেন। তিনি মোজদাক এবং তার বহু সংখ্যক সমর্থককে হত্যা করেন। মোনযারকে পুনরায় হীরার শাসনভার ন্যস্ত করেন এবং হারেস ইবনে আমরকে ডেকে পাঠান। কিন্তু হারেস বনু কেনাযের এলাকায় পালিয়ে গেলে তিনি সেখানেই বাকি জীবন কাটিয়ে দেন।

মোনযার ইবনে মোউসসামার পরে নো’মান ইবনে মোনযারের কাল পর্যন্ত হীরার শাসনক্ষমতা তার বংশধরদের মধ্যে আবির্তিত হয়। এরপর যায়েদ আদী এবাদী  কিসরার কাছর নো’মান ইবনে মো্নযারের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে। কেসরা নওশেরওয়া এতে ক্ষেপে যান এবং নো’মানকে ডেকে পাঠান। নো’মান প্রথমই হাযির না হয়ে চুপিসারে বনু শায়বানের সর্দার হানি ইবনে মাসুদের কাছে যান এবং পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সবকিছু তার কাছে রেখে কেসরার দরবারে হাযির হন। কিসরা তাকে বন্দী করেন এবং ঐ অব্স্থায়ই তার মৃত্যৃ হয়।

এদিকে কেসরা নো’মানকে বন্দী করার পর তার স্থলে ইয়াস ইবনে কোবয়সা তাঈকে  হীরার শাসকর্তা নিয়োগ করেন এবং হানি ইবনে মাসুদের নো’মানের জামানত চাওয়ার জন্যে ইয়াসকে নির্দেশ দেন। আত্নমর্যাদাসম্পন্ন হানি যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ইয়াস কেসারার সৈন্যদের নিয়ে এবং মুরযবানদের দল নিয়ে রওয়ানা হন। জিকার ময়দানে তুমুল যুদ্ধে বনু শায়বান জয়লাভ করে এবং ফরাসীরা লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়। এই প্রথম আরবরা অনারবদের ওপর জয়লাভ করেন। এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের কিছুকাল পরে ঘটেছিলো। হীরায় ইরাস এর শাসন পরিচলনার অষ্টম মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেন। ইয়াস এর পরে কেসরা একজন ফরাসী গর্বণর নিয়োগ করেন। কিন্ত ৬৩২ সালে লাখেমিরদের ক্ষমতা পুনর্বহাল হয় এবং মোনযের ইবনে মারুর নামে এক ব্যক্তি শাসন ক্ষমতা দখল করেন। শাসনকার্য পরিচলনার আট মাস পরেই হযরত খালেদ (রা) ইসলামী শক্তির পতাকা নিয়ে হীরায় প্রবেশ করেন।         

সিরিয়ার বাদশাহী

আরব গোত্রসমূহের হিজরত যে সময় চলছিলো, সে সময় কোজায়া গোত্রের কয়েকটি শাখা সিরিয়া সীমান্তে এসে বসবাস শুরু করে। বনু সোলাইম ইবনে হুলওয়ানের সাথে তাদের সম্পর্ক ছিলো। এদের একটি শাখা ছিল বনু জাজআন ইবনে সোলাইম। এরা জাজায়েমা নামে খ্যাত ছিলো। কোজাযার এই শাখাকে রোমনরা আরবের মরু বেদুইনদের লুটতরাজ থেকে রক্ষা পাওয়া এবং পারস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে কাজে টেনে নিয়েছিলো। এই গোত্রের একজনে ওপর শাসনভার ন্যস্ত করা হয়েছিলো। এরপর র্দীঘদিন যাবত তাদের শাসন চলতে থাকে। এদের বিখ্যাত বাদশাহ ছিলেন যিয়াদ ইবনে হিউলা। ধরণা করা হয়ে যে, জাযায়েমের শাসনকাল দ্বিতীয় খৃষ্টীয় শতকের পরো সময় ব্যাপ্ত ছিলো। পরে গাসসান বংশের আর্বিভাব ঘটে এবং জাযায়েমাদের শাসনামলে অবসা ঘটে। গাসসান বংশের লোকেরা বনু জাযয়ামাদের পরাজিত করে তাদের আধিপত্য বিস্তার করে। এ অবস্থা দেখে রোমকরা গাসসানী বংশের শাসককে সিরিয়ার আরব অধিবাসীদের শাসর্কতা হিসাবে মেনে নেয়। গাসসান বংশের     রাজধানী ছিল দওমাতুল জন্দল। রোমক শক্তির ক্রীড়ানক হিসাবে সিরিয়ায় দীর্ঘকাল তাদের শাসন ক্ষমতা অটুট থাকে। ফারুকী খেলাফতের সময় ত্রয়োদশ হিজরীতে ইয়ারমুকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই সময় গাসসান বংশেরে সর্বশেষ শাসনকর্তা জাবলা ইবনে আইহাম ইসলাম গ্রহণ করে। কিন্তু অহংকারের কারণে এই লোকটি ইসলামের ওপর টিকে থাকতে পারেনি। পরে সে ধর্মান্তরিত বা মোরদাত হয়ে যায়।

Re: সীরাতুন্নবী (সা)(পর্ব -৩) বিভিন্ন বাদশাহী যুগ

এর বেশীরভাগ ঘটনায় আগে জানা ছিল না। অনেক কিছু জানতে পারলাম। ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Re: সীরাতুন্নবী (সা)(পর্ব -৩) বিভিন্ন বাদশাহী যুগ

যতই পড়ছি ততই জানছি আর ততই মুগ্ধ হচ্ছি। ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

হুজুর কইছে, "কোরআন শরীফে আছে- তোমরা নামাজ থেকে বিরত থাক।" আমি তাই নামাজ পড়ি না। হুজুর যদি ইচ্ছা করে "অপবিত্র অবস্থায়" শব্দ দুটো বাদ দেয়, তার জন্য তো আমি দায়ী না।

Re: সীরাতুন্নবী (সা)(পর্ব -৩) বিভিন্ন বাদশাহী যুগ

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

আল্লাহ আপনি মহান

Re: সীরাতুন্নবী (সা)(পর্ব -৩) বিভিন্ন বাদশাহী যুগ

শান্ত বালক লিখেছেন:

এর বেশীরভাগ ঘটনায় আগে জানা ছিল না।

গৌরব্বোজ্জল মুসলিম ইতিহাসের কতটুই বা আমরা জানি;

শান্ত বালক লিখেছেন:

অনেক কিছু জানতে পারলাম।

জানানোর জন্যই আমার এ প্রচেষ্টা।

শান্ত বালক লিখেছেন:

ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

তোমাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।

বাংলারমাটি লিখেছেন:

যতই পড়ছি ততই জানছি আর ততই মুগ্ধ হচ্ছি। ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।

মুগ্ধ হবার মতই ঘটনাগুলো। আপনাকেও ধন্যবাদ।

শাহাদাত ০০৮ লিখেছেন:

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

আপনি পড়ে কমেন্ট করায় আমি অত্যন্ত খুশি, ধন্যবাদ।

Re: সীরাতুন্নবী (সা)(পর্ব -৩) বিভিন্ন বাদশাহী যুগ

নতুন অনেক কিছু জানতে পারলাম। ইলিয়াস চাচারে অসংখ্য ধন্যবাদ।  clap

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সা)(পর্ব -৩) বিভিন্ন বাদশাহী যুগ

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

নতুন অনেক কিছু জানতে পারলাম। ইলিয়াস চাচারে অসংখ্য ধন্যবাদ। 

তোমাকেও ধন্যবাদ কাক্কু।