টপিকঃ অনেক দিন পর কেনিয়া-দুঃস্বপ্ন

কেনিয়া একসময় বাংলাদেশের কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। আতঙ্কও কি ছিল না! সেই দিনগুলোকে বাংলাদেশ পেছনে ফেলে এসেছে বলেই মনে হচ্ছিল। ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়ার কাছে হারার পর দুই দেশের খেলা ৭টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচই জিতেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার আগে চার জাতি টোয়েন্টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টেও কেনিয়াকে কেনিয়ার মাটিতে হারিয়েছে আশরাফুলের দল। অথচ টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামার আগে সেই কেনিয়ার কাছেই বড় একটা ধাক্কা খেল বাংলাদেশ দল। কাল বেনোনিতে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে কেনিয়া।
পরাজয়ের কারণটা খুব স্পষ্ট−ব্যাটিং-ব্যর্থতা। টোয়েন্টি-টোয়েন্টিতে অলআউট হওয়া খুব কঠিন, অথচ সেই কঠিন কাজটিই করেছে বাংলাদেশ। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ১৬.৩ ওভারে ১১৬ রানেই অলআউট! টোয়েন্টি-টোয়েন্টিতে এটিই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের এই ক্রিকেটে ১১৬ কোনো রানই নয়, তারপরও এই পুঁজি নিয়েও দারুণ লড়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। কেনিয়া ৬ উইকেটে জিতলেও সেই জয় এসেছে মাত্র ১ বল বাকি থাকতে।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবাল ছাড়া অন্য সবাই ব্যর্থ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ৮ চার ও ১ ছয়ে ৫৬ রান করেছেন তামিম, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আফতাবের ১০ বলে ১৭। ব্যাটে রানখরা অব্যাহত রেখে আশরাফুল প্রথম বলে সিঙ্গেল নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলেই কট বিহাইন্ড। সে ওভারেই সাকিব আল হাসান তাঁর অনুগামী হলে ৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৩৮। টোয়েন্টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা হয়ে যাওয়া নাজিমউদ্দিনকে দিয়ে শুরু হয়েছিল উইকেটে যাওয়া-আসার মিছিল, নাজিম কাল করতে পেরেছেন মাত্র ৫। তামিমের সঙ্গে কেউ দাঁড়িয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশ হয়তো ২০ ওভার খেলতে পারত। কিন্তু আফতাবের পর নাদিফ চৌধুরী (১২) ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কই ছুঁতে পারেননি।
কেনিয়ার দুই ওপেনার (দুই ভাই ডেভিড ও কলিন্স ওবুইয়া) ৭.৫ ওভারেই ৪১ রান তুলে ফেলার পর তিন বল ও ১ রানের মধ্যে দুজনকেই ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা হলেও ম্যাচে ফিরেছিল। কিন্তু এরপরই তন্নয় মিশ্র ও স্টিভ টিকোলো ৫০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। ২ রানের মধ্যে দুজনই ফিরে গেলেও ততক্ষণে বাংলাদেশের ললাটে পরাজয় লেখা হয়ে গেছে। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন আশরাফুল। ফরহাদ রেজার ৪ ওভারেও এসেছে মাত্র ১৯, উইকেটও নিয়েছেন ১টি।
টোয়েন্টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভারে ১৯ রান অসাধারণ এক কৃতিত্ব। কিন্তু এই ম্যাচে সেসব কে মনে রাখবে! মনে থাকবে শুধু পরাজয়টাই। আগামী বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেই স্নৃতিই সঙ্গী হচ্ছে বাংলাদেশের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১৬.৩ ওভারে ১১৬ (তামিম ৫৬, নাজিমউদ্দিন ৫, আফতাব ১৭, আশরাফুল ১, সাকিব ২, অলক ৩, নাদিফ ১২, মুশফিকুর ২, মাশরাফি ৫, ফরহাদ ৩*, রাসেল ৪; ওডোয়ো ২/২১, অনগন্ডো ০/১৩, অধিয়াম্বো ৩/৩৭, অনিয়াঙ্গো ২/১৯, বুধিয়া ২/২৪)।
কেনিয়া: ১৯.৫ ওভারে ১১৭/৪ (ডেভিড ২১, কলিন্স ১৬, মিশ্র ১৬, টিকোলো ৩৬, ওডোয়ো ১৩*, ওবান্দা ৯*; মাশরাফি ৪-০-৩১-০, রাসেল ৪-০-২২-১, ফরহাদ ৪-০-১৯-১, আশরাফুল ৪-০-১৯-২, সাকিব ৩.৫-০-২৫-০)।
ফল: কেনিয়া ৬ উইকেটে জয়ী।

সূত্রঃ প্রথম আলো ১০/৯/২০০৭ খেলাধুলা
কৃতজ্ঞতাঃ মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক ১.৭.২ (এপ্রিল ২৫, ২০০৭)

Re: অনেক দিন পর কেনিয়া-দুঃস্বপ্ন

আমি বারবার বলতাম এদের দিয়ে কিছু আশাকরা যায় না, অনেকেই তখন বলেছেন- "আউল ভাই এত নিরাশ হচ্ছেন কেন" এখন তো বুঝতে পারছেন এদের দিয়ে কিছু আশা করা মানে বোকামী।

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: অনেক দিন পর কেনিয়া-দুঃস্বপ্ন

সব ভালো দলই একদিন না একদিন হারে। বাংলাদেশ ভালো দল বলেই হেরেছে।
যাদের বাংলাদেশ-এর প্রতি মমতা কম তারাই বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়