টপিকঃ শুভ অপরাহ্ন (খোলা ডায়েরীর শেষ পাতা)

পূর্বের পর থেকে........

বিরক্ত লাগছে, বাসা থেকে বের হতে হতে দেরী হয়ে গেছে অনেকটাই। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় কাউকে শুভ অপরাহ্ন বলা যায় না। তাও একটা চেষ্টা চালালাম। এক বন্ধুকে ফোন দিলাম। "শুভ অপরাহ্ন দোস্ত" ওপাশ থেকে একটু নিরবতার পর শোনা গেল "দোস্ত, সামনে পরীক্ষা, কিন্তু তুই চিন্তা করিস না, পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই তোকে নিয়ে পাবনা রওনা হয়ে যাবো"  এরকম একটা কথার পর কিছুই বলার থাকে না।  সামনে পরীক্ষা, কাজেই তাকে ডেকে বের করাও সম্ভব না। একাই হাটাহাটি করা যাক কিছুক্ষন।

আচ্ছা আমি কি পাগল ? হয়তোবা, গতানুগতিক জীবনধারায় চলাফেরা আমার পছন্দ না। আমার চিন্তাভাবনা হঠাৎ করে কারো সাথে মিলে না, কিংবা আমি নিজেই হয়তো ১০জনের মতো করে ভাবতে পছন্দ করি না, ভাবিও না। অতএব আমাকে পাগল বলা যেতে পারে। সাধারনের মত নহে, অতএব আমি অ-সাধারন, ইংরেজীতে যদি বলা হয় তাহলে হয় হবে জিনিয়াস নাহয় এ্যাবনরমাল। পাগলদের কেউ কি এত হিসেব করে যে তারা কতটুকু পাগল ? কোন পাগল কে জিগেষ করা গেলে ভাল হতো, উত্তরটা জেনে রাখা যেত, ইউনিক একটা তথ্য।

"ওই বিদেশী, দেশ ছাড়সো বইলা কি দেশী মানুষও আর চোখে পড়ে না ?" রাসেলের ডাকে সম্বিত ফিরলো। এসএসসির পর থেকেই ঢাকায়, বাড়িতে আসা হয় কালেভদ্রে। বন্ধুমহলে একরকম নাম হয়েই গেছে "বিদেশী"। অবশ্য অন্তরের সম্পর্কটুকুতে খুব একটু দুরত্ব সৃষ্টি হয় নাই, এখনো সেটা অকৃত্রিমই আছে। "আয়, চা খেয়ে যা", ডাকে সাড়া দিয়ে ঢুকলাম চায়ের দোকানে। চায়ের দোকানে টিভি চলছে, এ্যারাবিয়ান নাইটস জাতীয় কিছু একটা দেখা যাচ্ছে, ছোটবেলায় এইগুলা একদম হুমড়ি খেয়ে পড়তাম। এখন হাসি পায়। চা খেতে খেতে হালকা গল্পগুজব হলো। শেষ করে বাড়ির পথ ধরলাম, বাসায় কেউ নেই, আগেই যেতে হবে।


বাসায় ঢুকে মনটা খারাপ হয়ে গেল, পুরো বাসা খালি, অন্ধকার। ল্যাপটপ আবার কয়েকটা খাবারের বৈয়াম নিয়ে ছাদে চলে গেলাম। হালকা চাঁদের আলো, দূরে নদী দেখা যাচ্ছে। একটু আধটু বাতাস লাগছে,  চমৎকার পরিবেশ। ঢাকায় বসে কাজ করতে করতে এমন একটা পরিবেশ চিন্তা করাও অসম্ভব। 

নদীর নাম সন্ধ্যা নদী। এদিক সেদিক করতে করতে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। এই নদী সাতরে পারি দেয়ার রেকর্ড (!!!) যে হাতে গোনা কয়জনের আছে তার মধ্যে আমি একজন। ভুল করে পাড়ি দিয়ে ফেলেছিলাম। কথা ঠিক হয়েছিল ৪জন মিলে শুরু করবো, যে যতটুকু যেতে পারে। আমি কোনদিক না তাকিয়ে প্রায় ৩/৪ অংশ এসে দেখে বাকি সবাই বহু আগেই ফিরে গেছে। জানের মায়ায় আবার সাতঁরে সাঁতরে কুলে ফিরেছিলাম সেবার। ভাটার টানে আরো ১কিলোমিটার দক্ষিণে গিয়ে ভিড়লাম। পুরা নাম হয়ে গেল ছোট, বড় দের মাঝে আমার। ভাগ্যিস আব্বার কানে যায় নি সে কথা, পিঠের ছাল থাকতো না।

নদীর থেকে চোখ ফেরালাম, ল্যাপটপে কাজ করতে ইচ্ছে করছে না। কাউকে ফোন দেয়া যেতে পারে, আম্মাকে ফোন দিলে কেমন হয় ? ফোন দিয়ে বলবো "শুভ সন্ধ্যা, মা, তুমি এখন কি করছো ? " মা তখন অবাক হয়ে যাবে।  নাহ!, আম্মাকে আমার কখনোই ফোন দেয়া হয় না। আম্মা প্রায়ই অভিযোগ করে আমি ফোন দেই না, খোঁজ নেই না, বিয়ে করলে আমি তার কোন খবরও রাখবো না হ্যান ত্যান ইত্যাদি ইত্যাদি..... । আমি শুধু শুনে যাই, কিছু বলি না। আচ্ছা আম্মু কি জানে, আমি তাকে কতটা মিস করি ? ঢাকায় প্রতিদিন যখন কাজ শেষ করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরি তখন আম্মা দরজা খুলে দেয় না, নিজের পকেট হাতড়ে বাসায় ঢুকে যখন ফ্যান ছেড়ে চেয়ার টেনে বসি, তখন আম্মা এসে বলে না যে হাতমুখ ধুয়ে আয় বাদর কোথাকার, খেতে আয়। মা কে আসলেই খুব মিস করি। যখন ফোন করতে যাই, তখন আরো খারাপ লাগে, কাছে নেই মা। ফোনে কথা বলছি, কিন্তু মা তো সেই সাড়ে ৩০০ কিলো দূরে এক গ্রামে। কথা বলার পর মন আবার খারাপ হয়ে যায়, তাই আর ফোনই দেই না। হালকা পাতলা শরীর খারাপ হলে বাসায় জানাই না, টেনশন করতে থাকে। খামোখা টেনশন করানোর মানেও দেখি না, তাই.........  একটু না হয় পাথরের মত হয়ে থাকলামই বা।


কারেন্ট এসেছে। পাশের বাড়িতে বেশ শব্দে টিভি চলছে। ডায়েরীর দিকে তাকিয়ে হাসি পেল।  কি লিখতে গেছি আর কিসব লেখা হয়ে গেছে। আগের ডায়েরীটা পদ্মায় ফেলে দিয়েছিলাম। কোথায় কি অবস্থায় আছে সেটা ? মাছ কথা বলতে পারলে ভাল হতো, ওদের  জিগেষ করা যেত।

"এই যে ইলিশ, শুভ অপরাহ্ন"
"হেলো, শুভ অপরাহ্ন, তোমার কি অবস্থা ?"
"ভালই বলা যায়, আচ্ছা তুমি কি পদ্মা থেকে এসেছো?"
"হ্যা, ওদিকে প্রায়ই যাওয়া পড়ে, ক্যানো বলোতো ? "
"আমার একটা ডায়েরী ফেলেছিলাম পদ্মায়, সেটা কি অবস্থায় আছে খোঁজ নিতে পারবে?"
"ডায়েরী ???"
"হ্যা, নীল রংয়ের মলাট দেয়া একটা ডায়েরী, নীল কালিতে সব লেখা"
"আমার মনে হয় তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে, তুমি কোন ডাক্তার দেখাও"

মাছের সাথে কথোপোকথনটা আর এগুনো গেল না। মাছ কথা না বলতে পারাটাই বোধহয় ভাল হয়েছে, মাছের কাছ থেকে "পাগল" উপাধিটা ঠিক হজম হতো না।

ডায়েরী এখানেই শেষ, দুই পাতার ছোট্ট ডায়েরী। আচ্ছা রাতে কি বৃস্টি হবে ? বৃস্টি হলে সেই বৃস্টির পানিতে এই কাগজগুলো ভিজিয়ে নিবো। বৃষ্টির ছোঁয়া থাকুক লেখায়, ভালবাসার ছোঁয়া।

--------------------------------------------------------------------------------------------
আচ্ছা, মাছদের মধ্যেও কি পাগল হয় ???

Re: শুভ অপরাহ্ন (খোলা ডায়েরীর শেষ পাতা)

neutral neutral neutral neutral neutral neutral neutral neutral neutral





অফটপিকঃ বিবিধে সবাই আজকাল একটু বেশী পোস্টাইতাছে। কারণ কি? neutral

Re: শুভ অপরাহ্ন (খোলা ডায়েরীর শেষ পাতা)

দক্ষিণের-মাহবুব লিখেছেন:

অফটপিকঃ বিবিধে সবাই আজকাল একটু বেশী পোস্টাইতাছে। কারণ কি? neutral

বিবিধে সবাই কমই পোষ্টাইতেছে, আমি তো বেশী দেখি হাসির বাক্স আর সাহিত্য সংস্কৃতি বিভাগে বেশি। 
বাই দ্যা ওয়ে, আমার লেখালেখি এখানেই বন্ধ।  sleeping

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন স্বপ্নীল (১৯-০৫-২০১১ ১৬:০৮)

Re: শুভ অপরাহ্ন (খোলা ডায়েরীর শেষ পাতা)

পইড়া কেমুন জানি সব বেড়াছেড়া লাইগা গেল।আসলে লেখাগুলো দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিল তাহা বুঝা আমার পক্ষে বোধহয় সম্ভব না।দেখি পরে আরেকবার প্রচেষ্টা নিব বোঝার  dontsee

Re: শুভ অপরাহ্ন (খোলা ডায়েরীর শেষ পাতা)

ভাল লাগল পড়ে।

মেহেদী৮৩ লিখেছেন:

আমার লেখালেখি এখানেই বন্ধ

বন্ধ হলে ডাইরেক্ট মাইনাস।