সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সুজন রায় (১৭-০৪-২০১১ ১৫:৪০)

টপিকঃ অপরাজেয় তারুণ্য পর্ব-২

অপরাজেয় তারুণ্য নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি
গানে যত সুখ
http://img84.imageshack.us/img84/2824/201101h.jpg

বাবা নাইমুল হক সরকারি চাকুরে। দুই ছেলে এক মেয়ে তাঁর। মেয়েটি মেজো। যশোর থেকে ফরিদপুরের আলমডাঙ্গায় যখন নাইমুল হক বদলি হয়ে গেলেন, তখন মেয়েটির বয়স মাত্র তিন। বাবা-মা দেখলেন, এ বয়সেই কোথাও গান শুনলে সেই গান গুনগুনিয়ে গায় মেয়েটি। তাই তারাপদ দাসের কাছে ন্যান্সিকে গানের তালিম নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হলো। সেখান থেকে নিজ গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় বদলি হয়ে এলেন ন্যান্সির বাবা। ন্যান্সি স্কুলে পড়ালেখার পাশাপাশি গানের চর্চা নিয়মিত চালিয়ে গেলেন। কারও কারও পরামর্শে ন্যান্সি নজরুলসংগীত শেখায় মনোনিবেশ করলেন। কিছুদিন পরে যোগ হলো ধ্রুপদি সংগীতও। তারপর একদিন...সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ন্যান্সি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ অনুষ্ঠানে স্কুল থেকে নজরুলসংগীতে অংশ নিলেন। উপজেলা, জেলা ও বিভাগে প্রথম হলেন। এরপর জাতীয় পর্যায়ে নজরুলসংগীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সোনার মেডেল জিতলেন। স্কুলজুড়ে ন্যান্সিকে নিয়ে মাতামাতি। নেত্রকোনা জুড়েও। এরপর যোগ হলো আধুনিক গান। পড়াশোনাও চলল পাশাপাশি। খুব ইচ্ছা, নিজের গানের অ্যালবাম প্রকাশ করবেন। ন্যান্সির মায়ের সিদ্ধান্ত, ‘এখনই নয়। আরও ভালো করে গান শেখো।’ জেলা শহরের মেয়ে, ঢাকায় গিয়ে গান করারও খুব ইচ্ছা, কিন্তু সুযোগ কই?
সেই অপূর্ব সুযোগও এল একদিন। ন্যান্সির মামার বন্ধু ফেরদৌস ওয়াহিদ এলেন নেত্রকোনায়। ন্যান্সি তাঁকে একে একে পাঁচটি গান শোনালেন। ফেরদৌস ওয়াহিদ অভিভূত।
প্রায় ছয় মাস পরের কথা।
একদিন বাবা ন্যান্সিকে জানালেন, ঢাকা থেকে ডাক এসেছে। ফেরদৌস ওয়াহিদের ছেলে হাবীব ওয়াহিদ তোমাকে দিয়ে গান করাবেন। আনন্দে ন্যান্সির চোখে পানি। ঢাকায় এসে হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। সে
সময় হাবীব হূদয়ের কথা নামে একটি ছবির গান করছেন। ‘ভালোবাসব বাসব রে, বন্ধু তোমাকে’ গানটিতে নারী কণ্ঠের প্রয়োজন। অবশ্য তাঁকে পুরো গান গাইতে হবে না। গানটি করা হলো। হূদয়ের কথা মুক্তি পেল এবং ছবিটি সুপারহিট ব্যবসা করল।
ন্যান্সিকে কেউ চিনুক না-চিনুক, হাবীব কিন্তু ন্যান্সির কথা মনে রেখেছিলেন। হাবীব ন্যান্সিকে কথা দিলেন তাঁকে দিয়ে কাজ করানোর।
এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে ন্যান্সি চলে এলেন ঢাকায়। কলেজে ভর্তি হলেন। পড়াশোনা আর গান নিয়ে যখন ব্যস্ত, তখনই হাবীব আবার ন্যান্সিকে ডেকে পাঠালেন। এস এ হক অলীকের আকাশ ছোঁয়া ভালবাসা ছবিতে গাইতে হবে।
‘আমি বলব যে এটাই ছিল আসলে আমার জন্য সবচাইতে বড় সুযোগ। আমার মতো নতুন একজন শিল্পী যে একটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে বড় বড় শিল্পীর সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম, এর জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ হাবীব ভাই এবং ছবির পরিচালক এস এ হক অলীকের কাছে।’ বলছিলেন ন্যান্সি।
আকাশ ছোঁয়া ভালবাসা ছবির ‘পৃথিবীর যত সুখ’ গানটি মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এবার শ্রোতারা চিনে নিল ন্যান্সিকে।
২০০৬ সালে ন্যান্সি বিয়ে করেন তাঁর ভালোবাসার মানুষ সৌরভকে। এরপর চন্দ্রগ্রহণ ছবিতে গান করলেন তিনি। আর হাবীবের সঙ্গে জুটি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেলেন ‘বাহির বলে দূরে থাকুক’ গানটি দিয়ে।
ন্যান্সি বলছিলেন, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার ছবির এ গানটি আসলেই আমাকে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়ার এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয়। এরপর এই তো প্রেম ছবির ‘আমি তোমার মনের ভেতর’ গানটি গেয়েছেন হাবীবের সঙ্গে। ন্যান্সির কথা, ‘আমার প্রতিটি সাফল্যে ছিল হাবীব ভাইয়ের অবদান।’
২০১০-এর ঈদুল ফিতরে ন্যান্সিকে সাত দিনে মোট ১১টি টিভি চ্যানেলে গাইতে হয়েছে।
‘আমার সংগীতজীবন খুবই স্বল্প সময়ের। এই সময়ের মধ্যে যেভাবে শ্রোতাদের কাছাকাছি যেতে পেরেছি, এটি আসলেই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।’
ন্যান্সির একক অ্যালবাম এরই মধ্যে বেরিয়েছে। শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ার পর এখন আবার দ্বিতীয় অ্যালবাম করবেন।
ন্যান্সি যে শুধু হাবীবের সঙ্গেই কাজ করছেন তা নয়, সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী আরেফিন রুমি, এস আই টুটুল, কুমার বিশ্বজিৎসহ সবার সঙ্গেই কাজ করছেন।
গানের বাইরে ন্যান্সি কী করেন? ন্যান্সির জবাব, ‘তেমন কিছু না। চার বছর বয়সী কন্যা রোদেলাকে সময় দিই। সৌরভের ব্যবসা-বাণিজ্যের খবর নিই, এতটুকুই। আসলে গানের বাইরে আমার অন্য কোনো জগৎ নেই।’


http://www.prothom-alo.com/detail/date/ … ews/146800

অপ্রিয়