সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সুজন রায় (১৭-০৪-২০১১ ১৫:২৯)

টপিকঃ অপরাজেয় তারুণ্য পর্ব-১

অপরাজেয় তারুণ্য সিদ্দিকুর রহমান
গলফ মানচিত্রে বাংলাদেশ
http://img193.imageshack.us/img193/6603/201101.jpg

ধামালকোট জায়গাটা ঢাকার খানিকটা বাইরে। কুর্মিটোলা থেকে মাইলখানেক দূরে। ধামালকোটের সিদ্দিক নামের এক কিশোরের কথা শুনুন। নব্বইয়ের দশকের শুরুর ঘটনা। কোনো এক ঝাঁ ঝাঁ রোদের দুপুরে কিশোর সিদ্দিক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ঢুঁ মারছে এলাকার লোহালক্কর আর ঝালাইয়ের দোকানগুলোতে। কী খোঁজে ছেলেটা? লোহার রড! কিশোর সিদ্দিক লোহার রড খুঁজছিল কেন? বিস্তারিত না জেনে আপনি হয়তো সিদ্দিককে ওই কতিপয় দামালের দলেই ফেলতে যাচ্ছেন! উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে বলি, থামুন, এত বড় ভুল করবেন না! এবং জেনে নিন ধামালকোটের ওই কিশোর সিদ্দিক এখন বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতের উজ্জ্বল তারকা—সিদ্দিকুর রহমান, গলফ কোর্টে যাঁর দৌর্দণ্ড প্রতাপ। আর সেই ঝাঁ ঝাঁ রোদের দুপুরে তিনি লোহার রড খুঁজছিলেন একটা অস্ত্র বানানোর আশায়। অস্ত্রের নাম—গলফ ক্লাব! সোজা কথায় গলফ খেলার ব্যাট।
শুরুর পথটা এমন বৈরীই ছিল। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। বাবা স্বাধীনতার পরপরই মাদারীপুর থেকে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে। কিন্তু অভাব যেন কপালে লেখা রইল অমোচনীয় কালি দিয়ে। তারপরও আফজাল হোসেন চাইতেন ছেলেরা তাঁর পড়াশোনা করুক, হোক মানুষের মতো মানুষ। কিন্তু ধামালকোটের হালচাল দেখে শঙ্কায় দিন কাটত তাঁর। একদিন সেই শঙ্কার ঘরে বাসা বাঁধল আশা। পাশের বাড়ির এক ছেলে বলল, ‘চাচা, সিদ্দিকদের গলফ ক্লাবে নিয়ে যাই। বল কুড়িয়ে কিছু টাকা পাবে।’
সেই হলো শুরু। কেউ জানল না, বলবয় হিসেবে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের মাঠে পা রাখা কিশোর সিদ্দিক একদিন গলফের নায়ক হতে যাচ্ছে। সিদ্দিকুর রহমানও কি তা জানতেন? রাতে স্বপ্নও কি দেখতেন না একটু-আধটু?
‘আসলে ওই সময় স্যারদের খেলা দেখেই গলফের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম।’ স্বপ্নের ডানায় আরও পালক যোগ হলো একদিন। যেদিন বলবয় থেকে ‘ক্যাডি’ হলেন সিদ্দিক। ক্যাডি মানে গলফারদের ক্লাবভর্তি ব্যাগ বহন, প্রয়োজনে টুকটাক সহযোগিতা করা।
ক্যাডি হওয়ার পর গলফটা আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলল। মাথায় কেবল একটাই পোকা—গলফ। ছুটলেন ওই ঝালাইয়ের দোকানে। সেখানেই পেয়ে গেলেন ক্লাব! লোহার রড দিয়ে বানানো সেই ক্লাব দিয়ে স্বপ্নযাত্রার শুরু। দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পর ভাতের হাঁড়ি শূন্য, ততোধিক শূন্যদৃষ্টি মা মনোয়ারা বেগমের। এ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তবে ওই শূন্য থেকেই শিখরে ওঠার মন্ত্রণা খুঁজতেন সিদ্দিকুর। ছুটে যেতেন মাঠে। পরিশ্রমের ত্রুটি ছিল না মোটেও। ফলাফল—অবধারিতভাবেই সাফল্য। এই দশকের শুরুর দিকে দেশে প্রতিযোগিতামূলক গলফ শুরুর উদ্যোগ নিলেন গলফ ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। সেখানে নাম লেখা হলো সিদ্দিকুর রহমানেরও। শুরুর দিকে তাঁর উচ্চতা-শক্তি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন অনেকেই। সেই সন্দেহ মিথ্যে প্রমাণ হলো, যখন একে একে ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্টে শিরোপা বগলদাবা করলেন সিদ্দিকুর। বাংলাদেশে জিতলেন পাঁচটি, দুটি করে জিতলেন পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে আর একটি ভারতের মাটিতে। এই সাফল্য তাঁকে নিয়ে গেল পেশাদারদের মাঠে। সেখানেও সাফল্য। ২০০৮-২০০৯ সালে সিদ্দিকুর জিতলেন ভারত ও বাংলাদেশে ভারতীয় সার্কিটের চারটি শিরোপা। আর ২০১০-এ সুযোগ মিলল এশিয়ান ট্যুরে অংশ নেওয়ার, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে। কয়েকটা ট্যুর শেষে এল ব্রুনাই ওপেন। আগস্টের ১ তারিখ, বাংলাদেশের গলফ ইতিহাসে বাঁধাই করে রাখার মতো একটা দিন, সেদিন ব্রুনাই ওপেন জিতলেন সিদ্দিকুর রহমান! বার্তা সংস্থা এএফপিতে লেখা হলো, ‘এই একজন সিদ্দিকুর রহমানের কারণে গলফ-বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের নামটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।’
ব্রুনাই ওপেন জেতার পর এশিয়ান গলফারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে উঠে গেলেন সিদ্দিকুর। খেলে এসেছেন সুইজারল্যান্ডে, মালয়েশিয়ায়। এখন এশিয়ার গলফারদের মধ্যে তাঁর অবস্থান আরও ওপরে—৬! আর এখন পর্যন্ত তাঁর প্রাইজমানি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৬৭৩ ডলারে! ১৯৮৪ সালের ২০ নভেম্বরে জন্ম নেওয়া এই তারকা এতেই তুষ্ট নন। সামনে এখন একটাই নিশানা—মেজর টুর্নামেন্ট। বিশ্বের বাঘা বাঘা গলফারের সঙ্গে জোর লড়াই করেই মেজর টুর্নামেন্টে নাম লেখাতে হবে। সিদ্দিকুর এটা জানেন, জানেন গোটা বাংলাদেশ এখন তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে। তাই হাসিমাখা মুখে বলেন, ‘আরও অনেক কিছু জেতার বাকি।’

                                                                                             

http://www.prothom-alo.com/detail/date/ … ews/146801

অপ্রিয়

Re: অপরাজেয় তারুণ্য পর্ব-১

লেখার সাথে লিংকটা দিয়ে দিলে আরও ভালো হয়।  smile আমার হাতেও এখন শনিবারের ছুটির দিনে। এই লেখাটিই পড়া শুরু করেছি।

Re: অপরাজেয় তারুণ্য পর্ব-১

ধন্যবাদ মাহবুব ভাই ।
জি লিংক দিয়ে দিয়েছি।

অপ্রিয়

Re: অপরাজেয় তারুণ্য পর্ব-১

জটিল