টপিকঃ ওপেনসোর্স ও ফ্রিওয়্যার

ওপেনসোর্স সফটওয়্যার। বর্তমানের সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুচ্ছ। সাধারণত ওপেনসোর্স বলতে সবাই ফ্রিওয়্যার বুঝে থাকেন। আসলে ওপেনসোর্স আর ফ্রিওয়্যারের মাঝে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। ওপেনসোর্সের মূল অর্থ হচ্ছে সফটওয়্যারের কোডে ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার থাকবে। যা কিনা ফ্রিওয়্যারে সম্ভব নয়। আসুন টার্মগুলো বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা করি।

ফ্রিওয়্যার - এটা এক ধরণের সফটওয়্যার যা কিনা প্রোগ্রামার বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকেন। এ সফটওয়্যারের ব্যবহারকারীর এটাকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন বা অন্যকিছু করার কোন অধিকার থাকে না। প্রোগ্রামার যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সফটওয়্যার তৈরী করেছেন, শুধুমাত্র সে কাজেই এটাকে ব্যবহার করা সম্ভব। সফটওয়্যারটির লেখক এর সোর্সকোড সরবরাহ করেন না। ফলত এ ধরণের সফটওয়্যারের মান ও ভবিষ্যত উন্নয়ন এককভাবে শুধুমাত্র লেখকের উপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে, ওপেনসোর্স সফটওয়্যারে সোর্সকোড ব্যবহারকারীর কাছে উন্মুক্ত থাকে। ফলে সফটওয়্যারে যে কোন ধরণের পরিবর্তন করা ব্যবহারকারীর জন্য সহজ এবং আইনসম্মত। যেহেতু সোর্সকোড উন্মুক্ত, যে কেউ এই সফটওয়্যারের মান নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন সাধন করতে পারবে। প্রয়োজনে এর উপর ভিত্তি করে নতুন সফটওয়্যারও তৈরী করতে পারবে। এর ফলে একই কোড বারবার লেখা হতে রেহাই পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরণের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরী করে এর উপর নতুন ধারণার সফটওয়্যার তৈরী করা সম্ভবপর হয়।

ওপেনসোর্সের মূল শক্তি হচ্ছে কমিউনিটি। একটা ওপেনসোর্স সফটওয়্যারকে ঘিরে প্রোগ্রামার, ডিজাইনার, ব্যবহারকারীর যে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, তারই নাম কমিউনিটি। এ ধরণের কমিউনিটিতে কাউকেই ছোট করে দেখা হয় না। প্রত্যেকের অবদানকেই কৃতজ্ঞতা সহকারে স্বীকৃতি দেয়া হয়। যার ফলে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীও এ কমিউনিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেই বিবেচিত হন।

ওপেনসোর্স সফটওয়্যার মানেই যে বিনামূল্যে পাওয়া যাবে, তা নয়। বাণিজ্যিক ওপেনসোর্স সফটওয়্যারেরও বাজার বেশ ভালো। এরকম সফটওয়্যারের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ এ্যপাচে, মাইএসকিউএল এবং লিনাক্স। ওয়েব সার্ভারে এ্যপাচের জনপ্রিয়তা অতুলনীয়। তেমনি রিলেশন্যাল ডাটাবেস সার্ভারেও মাইএসকিউএল অন্যতম। আর লিনাক্স তো বর্তমানের সার্ভার ওএসে অন্যতম শক্তি।

তবে যে কারণে ওপেনসোর্সের জনপ্রিয়তা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার পেছনের অন্যতম কারণ মোজিলার ফায়ারফক্স এবং লিনাক্সের ডেস্কটপ বাজার দখলের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়া। উবুন্তু লিনাক্স ডেস্কটপে এখন খুবই জনপ্রিয় এবং ব্যবহার বান্ধব অপারেটিং সিস্টেম। মাইক্রোসফটের একচেটিয়া ডেস্কটপ বাজারে ভাগ বসাতে ইতোমধ্যেই উবুন্তু সফল পদক্ষেপ ফেলতে পেরেছে।

আমার ব্লগার থেকে...

Re: ওপেনসোর্স ও ফ্রিওয়্যার

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিকের জন্য ধন্যবাদ।

এর মানে দাড়াচ্ছে, জিপিএল এর অধীনে প্রাপ্ত কোন সফটওয়্যারে ব্যবহারকারীর পরিবর্তনের স্বাধীনতা থাকছে। তবে এটা টাকার কথায় ফ্রি নাও হতে পারে। তাই না? আমি অনেকটা এরকমই জানি। জিপিএলের এর ডেরিভেটিভগুলোও একই লাইসেন্সে প্রকাশ করতে হবে। এলজিপিএলে এ থেকেও মুক্তি দেয়া হয়েছে।

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: ওপেনসোর্স ও ফ্রিওয়্যার

জিপিএল ছাড়াও আরও অনেক লাইসেন্স আছে। জিপিএলে অনেক বাঁধা-নিষেধ আছে সফটওয়্যার ও প্রোগ্রামারকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু বিএসডি লাইসেন্স এ এত কিছু নেই। বিএসডি লাইসেন্সকৃত সফটওয়্যার যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে এবং পরিবর্তন করে অন্য লাইসেন্সও দিতে পারবে। যা কিনা এ্যপল করেছে। এ্যপল ফ্রিবিএসডি থেকে ডারউইন ওএস বানিয়েছে প্রথমে। তারপর একোয়া গ্রাফিক্স বসিয়েছে এটার উপর যা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং ভিন্ন লাইসেন্সে।